সাংস্কৃতিক আত্মীকরণের ওপর আইনি সিলমোহর
বেইজিংয়ের বার্ষিক সংসদীয় আনুষ্ঠানিকতায় গ্রেট হল অব দ্য পিপলে হাজারো প্রতিনিধি জড়ো হন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের আগে থেকেই চূড়ান্ত করা সিদ্ধান্ত অনুমোদন করতে। ২০২৬ সালের মার্চে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের এই অধিবেশনও সেই রীতি মেনেই চলছে। তবে রাবার-স্ট্যাম্প অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা আইনটির প্রভাব বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ মানুষের জন্য সুদূরপ্রসারী। জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি প্রসার আইন নামের ৬২ ধারার নথিটি চূড়ান্ত আলোচনার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। এতে কয়েক দশকের অনানুষ্ঠানিক আত্মীকরণবাদী চাপকে বাধ্যতামূলক আইনি বিধানে রূপ দেওয়া হয়েছে, যা চীনের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ৫৫টি জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করবে।
সূচিপত্র
প্রতিনিধিরা ‘দুই অধিবেশন’-এ যোগ দিতে আসার সময় আইনটি সামনে এসেছে। ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) এবং চীনা গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের এই বার্ষিক বৈঠকগুলো দেশের নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে ভোট দিলেও ফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে; বিতর্ক করার বদলে দলীয় নির্দেশনাকে বৈধতা দেওয়াই এ সংস্থার কাজ। তবে এই আইনটি প্রক্রিয়াগত দিক থেকে ব্যতিক্রমী মনোযোগ পেয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে পলিটব্যুরোর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে খসড়াটি পর্যালোচনা করা হয়। প্রায় চার দশকের মধ্যে দলের শীর্ষ সংস্থার আইন প্রণয়নে যুক্ত থাকার এমন তথ্য প্রথমবার প্রকাশ করা হলো। ২০২৪ সালের তৃতীয় প্লেনামের সিদ্ধান্তে ‘চীনা জাতির জন্য একটি শক্তিশালী অভিন্নতার বোধ গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়া উন্নত করতে’ আইনটি প্রণয়নের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে জরুরি আধুনিকায়ন হিসেবে তুলে ধরছেন। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনপিসি অধিবেশনের মুখপাত্র লৌ চিনচিয়াং আইনটির পক্ষে কথা বলেন।
এর লক্ষ্য হলো জাতিগত বিষয়ে দলের সার্বিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা, চীনা জাতির অভিন্নতার বোধ জোরদারের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জাতিগত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত হতে সহায়তা করা।
এই বয়ানে আইনটিকে সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসনের আগের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থেকে বিচ্যুতি নয়, বরং চীনের ইতিহাসের স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো নথিটিকে ভিন্নভাবে দেখে। তাদের মতে, এটি দমন-পীড়নের আইনি বর্ম; স্বতন্ত্র ভাষা, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষয়কে বৈধতা দেওয়া একটি আদর্শিক কাঠামোকে এটি আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়। ১৯৮৪ সালের আঞ্চলিক জাতিগত স্বায়ত্তশাসন আইন সংখ্যালঘু ভাষা ও রীতিনীতির কাগুজে সুরক্ষা দিয়েছিল; নতুন আইন সেটির জায়গায় আত্মীকরণের নির্দেশনা বসিয়েছে। শিনজিয়াংয়ের উইঘুর, উচ্চ মালভূমির তিব্বতি এবং উত্তরাঞ্চলের তৃণভূমির মঙ্গোলদের জন্য এই আইন এমন নীতিকে সংহত করছে, যেগুলো ইতিমধ্যে মসজিদে যাতায়াত সীমিত করেছে, মঠ বন্ধ করেছে এবং সরকারি স্কুলে মাতৃভাষার পাঠদানের বদলে মান্দারিন পাঠ্যক্রম চালু করেছে।
আইনি নির্দেশনায় রূপ নিচ্ছে শি চিনপিংয়ের ভাবনা
এই আইনে সংহত আদর্শিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বয়ং সাধারণ সম্পাদক শি চিনপিং। খসড়া আইনটি তাঁর ‘জাতিগত কাজের উন্নয়ন ও জোরদার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারা’ স্পষ্টভাবে বাস্তবায়ন করছে। ‘বারোটি অবশ্যকরণীয়’ নামে পরিচিত এই মতবাদে রয়েছে বারোটি শর্ত। এর মধ্যে আছে ‘চীনা জাতির জন্য একটি শক্তিশালী অভিন্নতার বোধ’ গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, একটি অভিন্ন আধ্যাত্মিক আবাস গড়ে তোলা এবং জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপক ‘মিথস্ক্রিয়া, আদান-প্রদান ও মেলবন্ধন’ এগিয়ে নেওয়া। নথিতে শির ‘চার জোড়া সম্পর্ক’ ‘সঠিকভাবে উপলব্ধি’ করার ধারণারও উল্লেখ রয়েছে, যা হান সংস্কৃতি ও সংখ্যালঘু ঐতিহ্যের মধ্যে একটি স্তরবিন্যাস প্রতিষ্ঠা করে।
বর্তমান আইনটির দিকনির্দেশনা দেওয়া ২০২১ সালের এক ভাষণে শি এই স্তরবিন্যাস ব্যাখ্যা করতে উদ্ভিদসংক্রান্ত উপমা ব্যবহার করেন। হানকেন্দ্রিক ঝংহুয়া সংস্কৃতিকে তিনি জাতীয় বৃক্ষের ‘কাণ্ড’ বা মেরুদণ্ড হিসেবে দেখান, আর জাতিগত সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতিকে অধস্তন ‘শাখা ও পাতা’ বলেন। আইনটি সরাসরি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বিধিবদ্ধ ভাষায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
শিকড় গভীর এবং কাণ্ড শক্ত হলেই কেবল শাখা-পাতা বিকশিত হতে পারে।
সংখ্যালঘু সংস্কৃতিকে কেন হানকেন্দ্রিক জাতীয় পরিচয়ের অধীন থাকতে হবে, তা ব্যাখ্যা করতে শি চিনপিং এই উপমা ব্যবহার করেন। চীনের জাতিগত নীতি নিয়ে গবেষণাকারী পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যারন গ্লাসারম্যানের মতে, আইনটি আত্মীকরণের লক্ষ্য নিয়ে আগের অস্পষ্টতা দূর করেছে। চীনের বিস্তৃত আমলাতন্ত্রজুড়ে আইনটি কীভাবে প্রতিক্রিয়াকে একরূপ করে তুলবে, তা তিনি ব্যাখ্যা করেন।
ভাবুন, এই কর্মকর্তার এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো যতটা সম্ভব কম সমস্যা তৈরি করা, যাতে তিনি পদোন্নতি পান, বা অন্তত চাকরি না হারান। এই কর্মকর্তা হয়তো চুপিসারে পরিস্থিতি এমনভাবে সামলাবেন, যাতে বিয়েটা না হয়—সে জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই আইন অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এমনটা ঘটানো কঠিন করে তুলছে এবং ইমাম, যাজক বা মা-বাবাকে ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করতে নিষেধ করার সুযোগ না দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
গ্লাসারম্যান এখানে বৈবাহিক স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ৪০ নম্বর ধারার কথা বলছেন, তবে তাঁর পর্যবেক্ষণ আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই আইন বৈচিত্র্য নিয়ে শির নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে; স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়কে জাতীয় সমৃদ্ধির উৎস নয়, বরং স্থিতিশীলতার সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখে। নথিতে জাতিগত অঞ্চলগুলোকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সম্পদ নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; এতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে মূলত কৌশলগত সম্পদের রক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মান্দারিনের আধিপত্য ও মাতৃভাষায় শিক্ষার অবসান
খসড়া আইনের ১৫ নম্বর ধারা সংখ্যালঘু সংস্কৃতির টিকে থাকার পথে সবচেয়ে প্রত্যক্ষ আঘাতটি হেনেছে: প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই চীনা মান্দারিনকে শিক্ষার বাধ্যতামূলক ভাষা করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক শিক্ষা শেষ হওয়ার মধ্যে, সাধারণত ১৫ বছর বয়সে, শিশুদের জাতীয় সাধারণ ভাষায় ‘মোটামুটি দক্ষতা’ অর্জন করতে হবে। এটি ১৯৮৪ সালের আঞ্চলিক জাতিগত স্বায়ত্তশাসন আইনের সরাসরি বিরোধী। ওই আইনে জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিজেদের ভাষা ব্যবহার ও বিকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীরা কখন মান্দারিন শেখা শুরু করবে, সে বিষয়ে নমনীয়তার সুযোগ ছিল।
ভাষাসংক্রান্ত বিধানগুলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থাজুড়ে বিস্তৃত। ১৯৮৪ সালের আইনে সংখ্যালঘু অঞ্চলের সরকারি সংস্থাগুলোকে দাপ্তরিক কাজে স্থানীয় ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো নথি একাধিক ভাষায় প্রকাশিত হলে মান্দারিন সংস্করণকে প্রাধান্য দিতে হবে। আগে যেসব স্কুল মাতৃভাষার পাঠ্যবই ব্যবহার করে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থী ভর্তি করত, সেগুলোকে এখন প্রতিটি বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের ধারণা যুক্ত করা পাঠ্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক অধিকার সংগঠন ক্যাম্পেইন ফর উইঘুরস সতর্ক করে বলেছে, এই আইন নিশ্চিত করছে যে “উইঘুর, তিব্বতি ও মঙ্গোলরা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আর মাতৃভাষায় বিষয় পড়ার অধিকার পাবে না।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক সহযোগী পরিচালক মায়া ওয়াংয়ের মতে, আগে নিশ্চিত করা ভাষার অধিকার মুছে ফেলাই এসব বিধানের লক্ষ্য।
জাতিগত ঐক্য প্রসারে চীনা সরকারের খসড়া আইনটি মানবাধিকারের বিনিময়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে আমলাতন্ত্র ও সমাজকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
তিব্বতে মঠগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও শিক্ষাজীবনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। নতুন আইনি কাঠামো সেখানে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংস সম্পূর্ণ করছে। ১৮ বছরের কম বয়সী সবাইকে এখন রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে মান্দারিন শিখতে হবে এবং বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়নের সুযোগ থাকবে না; ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তিব্বতি ভাষায় সাক্ষরতা বজায় রাখার প্রধান পথটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আইনটি ভৌত পরিসরেও হস্তক্ষেপ করছে। সরকারি কর্তৃপক্ষকে জনসাধারণের স্থাপনা, স্থাপত্য ও পর্যটনকেন্দ্রে “চীনা সাংস্কৃতিক প্রতীক স্থাপন ও তুলে ধরার” নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো স্থানের নাম বা সাইনবোর্ড মান্দারিন ও সংখ্যালঘু ভাষা—দুই লিপিতেই থাকলে চীনা অক্ষরকে বেশি দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
ধর্ম ও পারিবারিক জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ
ভাষার বাইরে আইনটি সংখ্যালঘুদের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত পরিসরেও প্রবেশ করেছে। ২০ নম্বর ধারায় মা-বাবা ও অভিভাবকদের জন্য সুস্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের “চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে ভালোবাসতে শিক্ষিত ও পরিচালিত” করতে হবে এবং সব জাতিগোষ্ঠী যে একটি পরিবারের অংশ, সেই ধারণা গড়ে তুলতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের “জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর ধারণা” শেখানো মা-বাবার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে চীনা জাতি থেকে স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয়ের ওপর জোর দেওয়া সাংস্কৃতিক জ্ঞান বা ধর্মীয় বিশ্বাসের উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়াকে কার্যত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
৪০ নম্বর ধারায় বিয়ে ও পারিবারিক কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন বৈবাহিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। একে বৈষম্যবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ধর্মীয় নেতা বা পরিবারের প্রবীণদের আন্তঃজাতিগত বিয়ের বিরোধিতা ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগে কর্মজীবনে উন্নতির আশায় কর্মকর্তারা হয়তো অনানুষ্ঠানিক চাপ প্রয়োগ করে হান চীনা ও সংখ্যালঘু নারীদের মধ্যে বিয়ে আটকাতে দিতেন, বিশেষ করে ধর্মীয় নেতারা আপত্তি জানালে। নতুন আইন আমলাতন্ত্রের এই নমনীয়তা সরিয়ে দিচ্ছে; পরিবার গঠনের মাধ্যমে আত্মীকরণের বিরোধিতায় স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষে সম্প্রদায়ের আপত্তি মেনে নেওয়া কঠিন হবে।
‘সভ্যতা ও অগ্রগতি’ নিশ্চিত করতে বিয়ে ও পারিবারিক জীবনে ‘রীতিনীতি ও অভ্যাসের রূপান্তর’ও আইনটিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ভাষা হান আধুনিকতার তুলনায় সংখ্যালঘু সংস্কৃতিকে পশ্চাৎপদ মনে করার বিষয়ে পার্টির দীর্ঘদিনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। নথিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনকে দলীয় আদর্শ প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফলে স্বাধীন ধর্মীয় নেতৃত্বের কোনো জায়গা থাকছে না। ১২ নম্বর ধারায় ইতিহাস, জাতি, সংস্কৃতি ও ধর্ম সম্পর্কে সব জাতিগোষ্ঠীকে ‘সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণে পরিচালিত করার জন্য শিক্ষা আয়োজন করতে রাষ্ট্রকে কাজে লাগানো হয়েছে।
এসব বিধান ইতিমধ্যে ক্ষতিসাধন করেছে এমন অনুপ্রবেশমূলক কর্মসূচিগুলোকে আইনি আচ্ছাদন দেয়। শিনজিয়াংয়ে ‘পরিবারে পরিণত হওয়া’ উদ্যোগে জাতিগত সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে বাড়িতে দলীয় কর্মকর্তাদের আতিথ্য দিতে হতো; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের সঙ্গে একই বিছানাও ভাগ করতে হতো। এসব কর্মসূচির ফলে ওই পরিবারগুলোর নারীরা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। রীতিনীতি বদলানো আইনত বাধ্যতামূলক করে এবং আত্মীকরণবাদী নীতির বিরোধিতা নিষিদ্ধ করে এই আইন এমন নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, পাশাপাশি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পরিবারগুলো যে ঐতিহ্যবাহী চর্চা বজায় রেখেছে, সেগুলোকে অপরাধে পরিণত করছে।
কৌশলগত সম্পদ ও সীমান্ত নিরাপত্তা
ভূগোল ও অর্থনীতি এই আইন প্রণয়নের তাগিদ আংশিকভাবে ব্যাখ্যা করে। কমিউনিস্ট চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং একবার বলেছিলেন, হান জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বেশি হলেও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলোর ভূখণ্ড বিস্তৃত এবং সম্পদ সমৃদ্ধ। এই পর্যবেক্ষণ এখনো রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক। তিব্বতি, উইঘুর ও মঙ্গোলদের আবাসভূমিতে রয়েছে বিশাল সীমান্ত অঞ্চল, যেখানে মূল্যবান খনিজ, কৃষিজমি এবং চীনকে মধ্য এশিয়া ও তার বাইরের অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগত বাণিজ্যপথ রয়েছে।
নতুন আইনটি এসব কৌশলগত স্বার্থকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে। ৩৪ নম্বর ধারায় জাতিগত অঞ্চলগুলোকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সম্পদ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা রক্ষার “মিশন ও দায়িত্ব” দেওয়া হয়েছে। এই বয়ানে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে মূলত কৌশলগত সম্পদের রক্ষক হিসেবে দেখা হয়েছে, যাদের স্থানীয় সাংস্কৃতিক উদ্বেগের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষণা উদ্যোগ চায়না পাওয়ার প্রজেক্ট জাতীয় উন্নয়নে এসব ভূখণ্ডের অব্যাহত গুরুত্ব তুলে ধরতে মাওয়ের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করেছে।
বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই এসব অঞ্চলে জনসংখ্যাগত প্রকৌশল চালিয়েছে। সরকারি প্রণোদনায় হান চীনাদের তিব্বত ও শিনজিয়াংয়ে অভিবাসনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক রাজধানীগুলোর জাতিগত গঠন নাটকীয়ভাবে বদলে দিয়েছে। লাসা ও উরুমছিতে হান সংস্কৃতি ও মানুষের ব্যাপক আগমন ঘটেছে, ফলে শহরগুলোর আদিবাসী বৈশিষ্ট্য ক্ষীণ হয়েছে। আন্তঃআঞ্চলিক জনসংখ্যা চলাচল, কর্মসংস্থান স্থানান্তর এবং শিক্ষার্থী বিনিময় সহজ করার নীতির মাধ্যমে নতুন আইন এই একীভবন ত্বরান্বিত করছে। ২২ নম্বর ধারায় ‘পরস্পর-সংযুক্ত সম্প্রদায় পরিবেশ’ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী একসঙ্গে বসবাস, পড়াশোনা, কাজ ও আনন্দ করবে। এর ফলে স্বতন্ত্র সংস্কৃতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক ভৌত বিচ্ছিন্নতা কার্যত মুছে যাবে।
জাতিগত বৈচিত্র্য যে স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি, তা দেখাতে পার্টি ঐতিহাসিক সহিংসতার কথা তুলে ধরে এসব পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দেয়। কর্মকর্তারা লাসায় ২০০৮ সালের তিব্বতি অভ্যুত্থান এবং উরুমছিতে ২০০৯ সালের দাঙ্গার কথা উল্লেখ করেন। বেইজিংয়ের দাবি, তিব্বতের অস্থিরতায় ২২ জন নিহত হয়েছিলেন; তবে নির্বাসিত গোষ্ঠীগুলোর হিসাব প্রায় ২০০। সরকার উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সন্ত্রাসী হামলার কথাও তুলে ধরে; এর মধ্যে ২০১৩ সালের একটি ঘটনা রয়েছে, যখন বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি তিয়েনআনমেন স্কয়ারের দিকে চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনায় প্রকৃত সহিংসতা ঘটেছিল। তবে সমালোচকদের মতে, নতুন আইন সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির শান্তিপূর্ণ পথগুলো বন্ধ করে দেয় এবং স্বতন্ত্র পরিচয়ের সব চিহ্নকে নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রয়োগ ও আইনি স্ববিরোধিতা
আইনটির শেষ ধারাগুলো সীমান্তের বাইরেও বয়ান নিয়ন্ত্রণে বেইজিংয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয়। ৬১ নম্বর ধারায় বিদেশি সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখতিয়ার দাবি করা হয়েছে, যারা “জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতিকে ক্ষুণ্ন করে বা জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করে—এমন চীনবিরোধী কর্মকাণ্ডে” যুক্ত হন। ১৭ নম্বর ধারায় বিদেশি শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজ ও থিংক ট্যাংকের সঙ্গে বিনিময়ের মাধ্যমে আইনটির আদর্শ প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নথিতে বিশেষভাবে ‘তাইওয়ানের স্বদেশবাসী’ ও প্রবাসী চীনাদের লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের প্রকৃত নাগরিকত্ব বা বসবাসের স্থান যা-ই হোক, তারা যে চীনা জাতির অন্তর্ভুক্ত—এ বিষয়ে তাদের উপলব্ধি জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
সীমান্তের বাইরে প্রয়োগের এই পরিধি আন্তর্দেশীয় দমন-পীড়নের নথিবদ্ধ প্রবণতার সঙ্গে মেলে। তিব্বতের অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ বিদেশে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করেছে, দেশে থাকা পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে প্রবাসীদের হয়রানি করেছে এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘তিব্বত’-এর বদলে ‘শিজাং’-এর মতো মান্দারিন নাম ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিদেশে পড়াশোনা করার সময় তিব্বতের অধিকারের পক্ষে কথা বলায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদে উসকানি’ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে এক চীনা শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। নতুন আইন এসব পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি দেয় এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বদলে জাতিগত ঐক্য রক্ষার কাজ হিসেবে সেগুলোকে তুলে ধরে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব বিধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চীন ২০০১ সালে জাতিগত বৈষম্যের সব রূপ বিলোপবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুমোদন করে। এতে চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। খসড়া আইনটি দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাব্যবস্থাকেও ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিচ্ছে, যেগুলো একসময় মৌলিক বলে বিবেচিত হতো। ১৯৮৪ সালের আঞ্চলিক জাতিগত স্বায়ত্তশাসন আইন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জাতিগত সংখ্যালঘুদের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও ভাষা ব্যবহারের অধিকার দিয়েছিল। নতুন আইন এর বদলে আত্মীকরণের নির্দেশনা এনেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং চীনের নিজস্ব সাংবিধানিক নিশ্চয়তা—দুইয়েরই লঙ্ঘন।
চীনের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণকারী এনপিসি অবজারভার এই পরিবর্তনকে ‘প্রথম প্রজন্মের’ জাতিগত নীতির জায়গায় ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ সংস্কার হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রথম প্রজন্মের নীতিতে হান-প্রধান রাষ্ট্রের ভেতরে কাগুজে স্বায়ত্তশাসন ছিল। দ্বিতীয় প্রজন্মের নীতি আইনি নির্দেশনার মাধ্যমে স্বতন্ত্র পরিচয়গুলো সক্রিয়ভাবে ভেঙে দিচ্ছে। প্রাক্-প্রাথমিক পর্যায় থেকে মান্দারিন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে এবং ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে নতুন আইন এমন আইনি স্তরবিন্যাস তৈরি করেছে, যেখানে সাংবিধানিক সুরক্ষা তত্ত্বে আছে, কিন্তু জাতীয় ঐক্যকে অন্য সব অধিকারের ওপরে স্থান দেওয়া সুনির্দিষ্ট ধারাগুলো বাস্তবে সেগুলোকে অকার্যকর করে দেয়।
সরকারি প্রশংসা, কর্মীদের উদ্বেগ
গ্রেট হল অব দ্য পিপলের ভেতরে জাতিগত অঞ্চলগুলোর প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে আইনটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। শিনজিয়াংয়ের আলতাই অঞ্চলের কাজাখ এনপিসি প্রতিনিধি এবং আঞ্চলিক জাদুঘরের কর্মী জোয়া বাকিত আইনটিকে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য “ভিত্তিমূলক নির্দেশিকা” বলে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতা একীভবনের সুফল দেখিয়েছে।
আমরা একে অন্যের উৎসব উদ্যাপন করতাম, পরস্পরের বাড়ি যেতাম এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ভাগ করে খেতাম।
ইলি কাজাখ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গভর্নর ও আরেক এনপিসি প্রতিনিধি ইয়ারশাত তুরসোনবে বলেন, আইনের শাসন জোরদার হলে বহুজাতিক অঞ্চলে শাসনব্যবস্থার উন্নতি হয়। তাঁর মতে, আইনি কাঠামো আরও স্পষ্ট হলে সংঘাতের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে বিরোধ মেটানো সম্ভব। এই সরকারি বক্তব্যগুলো পার্টির সেই বয়ানের প্রতিফলন, যেখানে বলা হয় আইনটি পার্থক্যকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নেয় এবং খসড়ার প্রস্তাবনায় উল্লিখিত “জাতিগত বিষয় মোকাবিলায় চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সঠিক পথের” আইনি ভিত্তি তৈরি করে।
নির্বাসিত সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা সম্পূর্ণ ভিন্ন মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। নির্বাসিত তিব্বতিদের অর্থায়নে পরিচালিত ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফায়ুল আইনটিকে দ্রুততর সিনিকরণ অভিযানের সর্বশেষ পর্যায় বলে বর্ণনা করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চীনবিষয়ক গবেষক ইয়ালকুন উলুইয়োলের মতে, আইনটি সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পার্টির নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করছে।
এটি শিক্ষা, ধর্ম, ইতিহাস, সংস্কৃতি, পর্যটন, গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটজুড়ে ‘চীনা জাতির অভিন্ন চেতনা’ সম্পর্কিত একটি আদর্শিক কাঠামোকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই আদর্শ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়।
ধর্মীয় চর্চা সংকুচিত হতে, ভাষার ওপর বিধিনিষেধ আসতে এবং সাংস্কৃতিক পরিসর ছোট হতে দেখেছেন এমন লাখ লাখ উইঘুর, তিব্বতি, মঙ্গোল ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষের কাছে এই আইন প্রতিরোধের আইনি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতীক। আত্মীকরণের অনানুষ্ঠানিক চাপ যা দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা এখন মৌলিক আইনের শক্তি পেয়েছে। আইনটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শি চিনপিংয়ের চীনে জাতিগত বৈচিত্র্য কেবল বাহ্যিক সাজসজ্জা হিসেবে সহ্য করা হবে; আর প্রকৃত সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলার মুখে পড়বে।
সারকথা
- জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি প্রসার আইন শি চিনপিংয়ের আত্মীকরণবাদী নীতিকে জাতীয় আইনে সংহত করেছে এবং ১৯৮৪ সালের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন কাঠামোর জায়গা নিয়েছে।
- ১৫ নম্বর ধারায় প্রাক্-প্রাথমিক পর্যায় থেকেই চীনা মান্দারিন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; এর ফলে উইঘুর, তিব্বতি, মঙ্গোল ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
- মা-বাবাকে সন্তানদের কমিউনিস্ট পার্টিকে ভালোবাসতে শেখাতে হবে এবং জাতিগত ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত ধারণা শেখানো যাবে না; এতে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়াকে অপরাধে পরিণত করা হচ্ছে।
- ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আন্তঃজাতিগত বিয়েতে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে; এতে পরিবার গঠনের মাধ্যমে আত্মীকরণ উৎসাহিত হচ্ছে এবং ধর্মীয় বিরোধিতায় বিধিনিষেধ আসছে।
- ৬১ নম্বর ধারায় বিদেশি সংগঠন ও ব্যক্তিদের ওপর চীনের এখতিয়ার বিস্তৃত হয়েছে; সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলা প্রবাসী সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক সমালোচকেরা এর লক্ষ্য।
- মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইনটির নিন্দা করে বলেছে, জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার অজুহাতে এটি জোরপূর্বক আত্মীকরণকে বৈধতা দিচ্ছে এবং সংখ্যালঘু সংস্কৃতি মুছে ফেলছে।






