বিতর্কিত জলসীমায় দেখা গেল জাহাজের প্রাচীর
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে পূর্ব চীন সাগরজুড়ে নজিরবিহীন সামুদ্রিক মোতায়েনের চিত্র উঠে এসেছে। জাপানের প্রশাসনাধীন জলসীমার কাছে ঘন গ্রিডের মতো বিন্যাসে চীনা পতাকাবাহী হাজারো জাহাজ দেখা গেছে। সামুদ্রিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘন বিন্যাস বাণিজ্যিক মাছ ধরার কার্যক্রমের সঙ্গে মেলে না। জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের তোলা ছবিতে জাহাজগুলোকে ঘন গুচ্ছে একাধিক দিন একই স্থানে অবস্থান করতে দেখা যায়। স্রোত, পানির গভীরতা বা মাছের বিচরণস্থলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলো ছড়িয়ে পড়েনি।
সূচিপত্র
ছবিতে এই দৃশ্য নিশ্চিত হওয়ার পরপরই আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ছবি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাগাসাকি প্রিফেকচারের উপকূলীয় জলসীমায় প্রবেশ করে জাপানের মৎস্য আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে একটি চীনা মাছ ধরার জাহাজ জব্দ করে জাপানি কর্তৃপক্ষ। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুর প্রায় ১২টা ২৩ মিনিটে জাহাজটির ক্যাপ্টেনকে আটক করে জাপান কোস্ট গার্ড। ২০২২ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা মাছ ধরার নৌকার ক্যাপ্টেনকে আটক করা হলো। মৎস্য সংস্থা জানিয়েছে, তল্লাশি এড়াতে জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করার পর সেটিতে উঠে তল্লাশি চালানো হয়।
সামুদ্রিক টানাপোড়েনের কয়েক দশক
বিতর্কিত জলসীমার মধ্যে রয়েছে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের এলাকা। জনবসতিহীন এই দ্বীপগুলো টোকিওর প্রশাসনাধীন, তবে বেইজিং এগুলোর মালিকানা দাবি করে এবং দিয়াওয়ু দ্বীপপুঞ্জ নামে উল্লেখ করে। তাইওয়ানের প্রায় ১০৫ মাইল পূর্বে এবং ওকিনাওয়ার ২৫৪ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত পাথুরে এই দ্বীপগুলো এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এশিয়ার দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে উত্তেজনার স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে আছে। সম্ভাব্য তেল ও গ্যাসের মজুতের কাছাকাছি হওয়ায় সার্বভৌমত্বের বিরোধে অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত।
জাপান কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনা সরকারি জাহাজ সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছের সংলগ্ন অঞ্চলে ৩৫৭ বার প্রবেশ করে, যা টানা চতুর্থ বছরের মতো নতুন রেকর্ড। জাপানের ১১তম আঞ্চলিক কোস্ট গার্ডের কমান্ডার সেইশিরো সাকামোতো ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কার্যক্রমের তীব্রতা সম্পর্কে মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে এবং তা এখনো অনিশ্চিত। সামান্যতম পরিবর্তনও যেন আমাদের নজর এড়িয়ে না যায়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব এবং আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা রক্ষায় সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেব।
আঞ্চলিক জলসীমার ১২ মাইল সীমার বাইরে আরও ২৪ মাইল পর্যন্ত সংলগ্ন অঞ্চল বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সেখানে দেশগুলো সীমিত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করতে পারে। গত বছর চীনা জাহাজ ২৭ বার জাপানের আঞ্চলিক জলসীমায়ও প্রবেশ করে। এর মধ্যে আটটি ঘটনায় জাপানি মাছ ধরার নৌকাকে আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে পর্যন্ত ধাওয়া করা হয়। অতীতের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে উত্তেজনা চক্রাকারে বাড়ে; প্রতিটি সংকটের পর নতুন কার্যকরী বাস্তবতা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা কখনোই পুরোপুরি সংকট-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যায় না। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বীপগুলোর কাছে একটি চীনা মাছ ধরার ট্রলারের সঙ্গে জাপান কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়ে এবং বেইজিং বিরল মৃত্তিকা উপাদান রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর দুই বছর পর ব্যক্তিমালিকানাধীন তিনটি দ্বীপ জাতীয়করণের টোকিওর সিদ্ধান্তের জবাবে চীন আশপাশের জলসীমায় নিয়মিত কোস্ট গার্ড টহল শুরু করে, যা সামুদ্রিক স্থিতাবস্থা আমূল বদলে দেয়।
সংসদে বক্তব্য থেকে সরাসরি সংঘাতে
বর্তমান সংকটের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সংসদীয় অধিবেশনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দেওয়া বক্তব্য থেকে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তাকাইচি বলেন, তাইওয়ানে চীনের সম্ভাব্য সামরিক হামলা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে টোকিওর নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে যৌথ আত্মরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্বশাসিত তাইওয়ানকে বেইজিং নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং পুনরেকত্রীকরণে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাকাইচির বক্তব্যকে ‘বিস্ময়কর’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, জাপান সীমা অতিক্রম করেছে। জাপানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক প্রচার শুরু করে বেইজিং। এতে জাপানের নীতির সমালোচনা করে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানো এবং চীনের একাধিক সরকারি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত বিবৃতি দেওয়াও ছিল। চীনা কর্তৃপক্ষ জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানিতে কার্যত নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করে এবং নাগরিকদের জাপান ভ্রমণের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বলে। তবে ২০১০ সালের সংকটে ব্যবহৃত বিরল মৃত্তিকা উপাদান রপ্তানির বিধিনিষেধ আরোপ করেনি।
বাগ্যুদ্ধ ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর সামুদ্রিক পদক্ষেপে রূপ নেয়, যখন সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে দুই দেশের কোস্ট গার্ডের জাহাজ মুখোমুখি হয়। চীনের দাবি, তারা চীনের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে একটি জাপানি মাছ ধরার নৌকাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে জাপান জানায়, তারা একটি জাপানি মাছ ধরার নৌকার কাছে আসা চীনের দুটি কোস্ট গার্ড জাহাজকে বাধা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। একই ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষ পরস্পরবিরোধী বিবৃতি দেয়। চীনা মুখপাত্র লিউ দেজুন বলেন, চীনা জাহাজ প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। জাপান কোস্ট গার্ডের বক্তব্য, জাপানের ভূখণ্ডে মালিকানা দাবি করে চীনা জাহাজ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
বাণিজ্যিক যুক্তির সঙ্গে অসংগত বিন্যাস
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাহাজবহরের আকার ও বিন্যাস একে মৌসুমি মাছ ধরার তৎপরতা থেকে আলাদা করেছে। আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২,০০০ জাহাজের বহর ঢিলেঢালা ও চলমান সারি না করে সমন্বিত দলে অবস্থান নেয়। ট্রলিং কার্যক্রমে সাধারণত এমন চলমান সারি দেখা যায়। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রের ধারাবাহিক তুলনা করে বিশ্লেষকেরা দেখতে পান, আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভেসে যাওয়া, মাছ ধরা বা ছড়িয়ে পড়ার বদলে জাহাজগুলো একাধিক দিন গুচ্ছবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
সামুদ্রিক গতিবিধির তথ্য অনুযায়ী, অনেক জাহাজ বেসামরিক স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস)-এর সংকেত সম্প্রচার করছিল। সংঘর্ষ এড়াতে এবং সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের পরিচয় জানাতে জাহাজগুলো এই ব্যবস্থা ব্যবহার করে। তবে এআইএস ব্যবহার থেকে সমন্বয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। পূর্ব চীন সাগরে মাছ ধরার বহর সাধারণত মাছের খোঁজে ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা স্থির গ্রিডের সঙ্গে সেই কার্যক্রমের ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা।
এ অঞ্চলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন সমন্বিত সামুদ্রিক প্রদর্শনের নজির আছে। ২০১৬ সালের আগস্টে ২০০টির বেশি চীনা মাছ ধরার নৌকা এবং চীনের কোস্ট গার্ডের সাতটি জাহাজ সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে জড়ো হয়। জাপানি কর্তৃপক্ষের সতর্কতা সত্ত্বেও তারা বারবার সংলগ্ন অঞ্চল ও আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করে। ঘটনাটি আগের রীতিনীতি থেকে গুরুতর বিচ্যুতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এর পাঁচ দিনে ওই এলাকায় চীনের যত সরকারি জাহাজ প্রবেশ করে, তার সংখ্যা আগের তিন বছরের যেকোনো একটি পূর্ণ মাসের মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি ছিল।
টোকিওর কঠোর অবস্থান
১২ ফেব্রুয়ারির জাহাজ জব্দের ঘটনা নিষ্ক্রিয় নজরদারি থেকে সক্রিয় আইন প্রয়োগের দিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। জাপানের আইন অনুযায়ী, আঞ্চলিক জলসীমায় অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ আটক করা যায়। গত এক দশকে এমন পদক্ষেপ মাঝেমধ্যে নেওয়া হয়েছে, সাধারণত অল্পসংখ্যক নৌকার ক্ষেত্রে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাপ্টেন আটক থাকবেন। তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদে সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি কৌঁসুলিদের কাছে পাঠানো হবে কি না, তা জাপানি কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করছে।
স্যাটেলাইটের ছবিতে বহরের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ওই এলাকায় টহল বাড়ায় জাপান কোস্ট গার্ড। জাহাজ ও বিমান মোতায়েন করে তারা বহরগুলোর ওপর নজরদারি চালায় এবং জাহাজ আঞ্চলিক জলসীমার কাছে এলে রেডিওতে সতর্ক করে। জাপানি কর্মকর্তারা কার্যক্রমকে ব্যাপক আকারের বলে বর্ণনা করেছেন, তবে বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নির্দেশে এই মোতায়েন হয়েছে বলে প্রকাশ্যে দাবি করেননি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দ্বীপগুলো ও আশপাশের জলসীমায় দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট স্যাটেলাইট চিত্র নিয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।
দুই রাজধানীর মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা আছে। কথিত অনুপ্রবেশের ঘটনার পর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সম্পর্ক এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। চীনের চাপ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির প্রতি জনসমর্থনের হার প্রায় ৭৫ শতাংশে রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রতি অধিকাংশ জাপানি নাগরিকের সমর্থন রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপের হিসাব
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনা জাপান-চীন সম্পর্ক এবং পূর্ব চীন সাগরের কার্যক্রমে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। অতীতের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, ২০১০ ও ২০১২ সালের প্রতিটি বড় সংকটের পর বেইজিং বিতর্কিত জলসীমায় নতুন আচরণকে স্বাভাবিক করে তোলে এবং নিয়মিত উপস্থিতি গড়ে তোলে, যা আর কখনো সংকট-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে যায়নি। ২০১২ সালের জাতীয়করণের পর চীন নিয়মিতভাবে আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে জাহাজ ও অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদ মোতায়েন শুরু করে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে সাগরের কিছু অংশের ওপর আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলও প্রতিষ্ঠা করে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে টোকিও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে এবং চীনা সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। বিরল মৃত্তিকা উপাদানের জন্য জাপানের চীনের ওপর নির্ভরতা ২০১০ সালে প্রায় ৯০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে প্রায় ৬০ শতাংশে দাঁড়ায়। বর্তমান উত্তেজনার পর এ নির্ভরতা আরও কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদারের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্কও জোরদার করেছে জাপান। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে এবং সামুদ্রিক অনুপ্রবেশ নজরদারি ও মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে।
তাইওয়ান নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার উদ্বেগকে দুই দেশই পূর্ব চীন সাগরে নিজেদের ভূখণ্ডগত দাবির সঙ্গে যুক্ত করায় আরও উত্তেজনা ছড়ানোর ঝুঁকি যথেষ্ট। চীনা কর্মকর্তারা তাকাইচির সরকারকে সামরিকতাবাদে উৎসাহ দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে অস্পষ্ট হুমকি দিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জাতিসংঘ সনদের ধারার উল্লেখ করেছেন। জাপান এখনো জোর দিয়ে বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা অনুযায়ী সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিঃসন্দেহে জাপানের ভূখণ্ড।
মূল বিষয়
- ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাপানের জলসীমার কাছে গ্রিডের মতো বিন্যাসে চীনের হাজারো মাছ ধরার নৌকার উপস্থিতি স্যাটেলাইট চিত্রে নিশ্চিত হয়েছে
- ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাপানি কর্তৃপক্ষ একটি জাহাজ জব্দ করে এবং এর ক্যাপ্টেনকে আটক করে; ২০২২ সালের পর এ ধরনের প্রথম আটক
- জাহাজগুলো সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছে দেখা যায়; দ্বীপগুলো জাপানের প্রশাসনাধীন হলেও চীন এগুলোকে দিয়াওয়ু বলে দাবি করে
- তাইওয়ান পরিস্থিতিতে জাপানের সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ২০২৫ সালের নভেম্বরের মন্তব্যের পর উত্তেজনা বাড়ে
- ২০২৫ সালে চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজ সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের কাছের সংলগ্ন অঞ্চলে রেকর্ড ৩৫৭ বার প্রবেশ করে
- বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজগুলো এমন বিন্যাসে স্থির ছিল, যা বাণিজ্যিক মাছ ধরার কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়






