নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মুখে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে

পড়তে 7 মিনিট
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মুখে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে

বছরের শেষ প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিত গতি

২০২৫ সালের শেষ কয়েক মাসে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে। প্রবৃদ্ধির গতি পূর্বাভাসকারীদের হিসাব ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশটির নতুন প্রশাসনের জন্য সময়োপযোগী স্বস্তি এনেছে। ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনইএসডিসি) সোমবার প্রকাশিত তথ্যে জানিয়েছে, চতুর্থ প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২.৫% বেড়েছে। ব্লুমবার্গ নিউজের জরিপে বিশ্লেষকদের মধ্যম পূর্বাভাস ছিল ১.৩%; প্রকৃত প্রবৃদ্ধি তা সহজেই ছাড়িয়ে গেছে।

সূচিপত্র
  1. বছরের শেষ প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিত গতি
  2. খাতভিত্তিক চিত্রে বিস্তৃত পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাজারের আস্থা বাড়ছে
  4. কাঠামোগত বাধা রয়ে গেছে
  5. জলবায়ু ঝুঁকিতে কৃষি খাতের পুনরুদ্ধার
  6. বাণিজ্য উত্তেজনায় রপ্তানি পুনরুদ্ধার অনিশ্চিত
  7. সতর্ক আশাবাদের প্রতিফলন পূর্বাভাসে
  8. মূল কথা

প্রান্তিকভিত্তিক হিসাব আরও বেশি চমকপ্রদ। মৌসুমি প্রভাব সমন্বয়ের পর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থনীতি ১.৯% বেড়েছে। এর ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে সংশোধিত হিসাবে ০.৩% সংকোচনের পর প্রবৃদ্ধি ফিরেছে এবং ০.৬% বৃদ্ধির পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। চার বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি। এতে ইঙ্গিত মিলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি দুই দশক ধরে জেঁকে বসা স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে পারে।

খাতভিত্তিক চিত্রে বিস্তৃত পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত

একাধিক খাত একসঙ্গে গতি পাওয়ায় প্রান্তিকের শক্তিশালী ফল এসেছে। শিল্প কার্যক্রম ও খুচরা বাণিজ্য প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে, যা কৃষি খাতের অব্যাহত দুর্বলতা পুষিয়ে দিয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে বিনিয়োগ ৮.১% বেড়েছে, আগের তিন মাসে যা ছিল ১.৪%। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সাময়িকভাবে কমায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা ফিরেছে বলে এই ত্বরণ ইঙ্গিত দেয়।

পরিবারগুলোর ভোগব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৩% বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে সংকুচিত হওয়ার পর সরকারি ভোগব্যয়ও ঘুরে দাঁড়িয়ে ১.৩% প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে থাই অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করা রপ্তানি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১১.৯% বেড়েছে। বছরের শুরুর দিকে ৪.৪% প্রবৃদ্ধির তুলনায় এটি বড় উন্নতি। বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কের আশঙ্কা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে থাইল্যান্ডের পণ্য রপ্তানি গতি পেয়েছে।

তবে পুরো বছরের চিত্র তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৪%, যা ২০২৪ সালের ২.৯% থেকে কম। এই মন্থরতা দেশটির সম্ভাবনাকে সীমিত করে চলা বৃহত্তর কাঠামোগত সমস্যারই প্রতিফলন। এর মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে আসা, পরিবারের ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এসব কারণে একসময় সম্ভাবনাময় ‘টাইগার অর্থনীতি’ হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ড এখন বিশ্লেষকদের ভাষায় আঞ্চলিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশ।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাজারের আস্থা বাড়ছে

অর্থনীতির এই ঘুরে দাঁড়ানোর সময় প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক। ৮ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তাঁর ভূমজাইথাই পার্টি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে। বছরের পর বছর খণ্ডিত রাজনীতি ও সামরিক হস্তক্ষেপের পর কিছুটা স্থিতিশীলতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি এখন জোট সরকার গঠনের কাজ চূড়ান্ত করছে।

অনুতিন অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত চাপ মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। পরিবার ও কর্মসংস্থান সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। জিডিপির শক্তিশালী পরিসংখ্যান তাঁর নতুন প্রশাসনকে আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মার্কিন বাণিজ্য বাধা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্থরতার মতো নানা বাহ্যিক ঝুঁকি মোকাবিলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভূমজাইথাই পার্টির শক্তিশালী ফল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারে।

স্থিতিশীল প্রশাসন গঠনের সম্ভাবনায় বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। থাইল্যান্ডের স্টক এক্সচেঞ্জের (এসইটি) সূচক ১,৪০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জোট গঠন নির্বিঘ্নে এগোলে সূচক ১,৪৫০ ছুঁয়ে দেখতে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে স্থগিত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, এমন প্রত্যাশায় ডেল্টা ইলেকট্রনিকস, মাইনর ইন্টারন্যাশনাল ও এয়ারপোর্টস অব থাইল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কাঠামোগত বাধা রয়ে গেছে

চতুর্থ প্রান্তিকের উচ্ছ্বাস সত্ত্বেও অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, এই পরিসংখ্যানকে দীর্ঘস্থায়ী ত্বরিত প্রবৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। থাইল্যান্ডের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২%, যা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের প্রবৃদ্ধির অর্ধেকেরও কম এবং ভিয়েতনামের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। দুই দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা স্থবির হয়েছে, বৈষম্য বেড়েছে এবং দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যার কারণে জনমিতিক সংকট তৈরি হয়েছে।

পরিবারের ঋণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে, ফলে সামগ্রিক ভোগব্যয়ের পরিসংখ্যান উন্নত হলেও মানুষের ব্যয় করার সামর্থ্য সীমিত হচ্ছে। উৎপাদন খাতে বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রাণচাঞ্চল্যের লক্ষণ দেখা গেলেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নগদ অর্থের টান এবং বেশি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ-প্রণোদনা দেওয়া আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। উচ্চ পরিবারের ঋণ, দুর্বল বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং মহামারিপূর্ব পর্যায়ের তুলনায় পর্যটন খাতের অসম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের কথা উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ১.৬%-এ নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে।

শুল্ক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ইতিমধ্যে ১.৩% থেকে ২%-এ নামিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ও ২০২৫ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৩% থেকে কমিয়ে ২.১% করেছে। বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির ওপর বাহ্যিক চাপের বড় প্রভাব পড়বে বলে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে।

বিজ্ঞাপন

জলবায়ু ঝুঁকিতে কৃষি খাতের পুনরুদ্ধার

অর্থনৈতিক পূর্বাভাসকে আরও জটিল করে তুলেছে জলবায়ুজনিত বাড়তে থাকা ঝুঁকি। এতে কৃষি খাতের অর্জন মুছে যেতে পারে এবং সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। আবহাওয়াবিষয়ক সূচকগুলো বলছে, থাইল্যান্ড লা নিনা পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এর ফলে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে গড়ের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ও জোরালো বাতাস হতে পারে।

ক্রুংস্রি রিসার্চের পূর্বাভাস, ২০২৫ সালে বন্যাকবলিত এলাকার পরিমাণ ৯৫ লাখ রাইয়ে পৌঁছাতে পারে। এতে সম্পদ ও কৃষি খাতে সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৩৬০ কোটি বাথ, যা জিডিপির আনুমানিক ০.১৩%। তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে উত্তর, উত্তর-পূর্ব, উচ্চ মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণের উপসাগরীয় উপকূল বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকবে। হাট ইয়াই জেলায় সাম্প্রতিক বন্যায়ই আনুমানিক ৪০০০ কোটি বাথের বেশি ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে জিডিপি প্রায় ০.২২% কমেছে।

বড় বাঁধগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার ৫৭.১% পানি রয়েছে। এই পরিমাণ ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে বেশি হলেও এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে তীব্র মৌসুমি বৃষ্টিপাত মিললে চাও ফ্রায়া নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে শিল্পাঞ্চল ও পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যাহত হয়ে বিদ্যমান অর্থনৈতিক দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে।

বাণিজ্য উত্তেজনায় রপ্তানি পুনরুদ্ধার অনিশ্চিত

চতুর্থ প্রান্তিকে রপ্তানিতে ১১.৯% প্রবৃদ্ধির চমকপ্রদ ফল বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য সুরক্ষাবাদ বাড়ার কারণে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। থাইল্যান্ড থেকে আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছু পরিস্থিতিতে শুল্কের হার ৩৬% পর্যন্ত হতে পারে। থাই কর্মকর্তারা আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ১০%-এ সীমিত রাখার আশা করলেও অনিশ্চয়তার জেরে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৪.৪% থেকে কমিয়ে ২.০% করেছে।

অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ পর্যটনেও চাপের লক্ষণ দেখা গেছে। ২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৩ কোটি ৬৫ লাখে পৌঁছাবে বলে এখন ধারণা করা হচ্ছে, আগের পূর্বাভাস ছিল ৩ কোটি ৮৫ লাখ। পর্যটকেরা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ায় মাথাপিছু খরচও কমেছে। কোভিড-১৯ মহামারির আগে বছরে যে ৪ কোটি পর্যটক থাইল্যান্ডে আসতেন, সেই পর্যায়ে এখনো ফিরতে পারেনি দেশটি। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আকাশপথে যোগাযোগ বাড়ানো প্রতিদ্বন্দ্বী গন্তব্যগুলোর কাছে পিছিয়ে পড়ছে থাইল্যান্ড।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকস এশিয়ার অর্থনীতিবিদ শিভান ট্যান্ডন বলেন, নির্বাচনের ফল নিকট মেয়াদে রাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে কঠিন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে তেমন উন্নতি আনবে না। কঠোর আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা নতুন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করবে। পাশাপাশি চক্রাকার প্রতিকূলতা ও কাঠামোগত বাধা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আটকে রাখবে।

বিজ্ঞাপন

সতর্ক আশাবাদের প্রতিফলন পূর্বাভাসে

চতুর্থ প্রান্তিকের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলের পর এনইএসডিসি ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ১.২% থেকে ২.২% সীমা বাড়িয়ে ১.৫% থেকে ২.৫% করেছে। পরিকল্পনা সংস্থাটির ধারণা, আগামী বছর রপ্তানি ২.০% বাড়বে। এর আগে ০.৩% কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। বাণিজ্য বিরোধ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বৈশ্বিক চাহিদা ধীরে ধীরে ফিরবে, এমন অনুমানের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জিডিপির তথ্য প্রকাশের পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে থাই বাথের মান কিছুটা বেড়েছে। তবে মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধি রপ্তানি প্রতিযোগিতার জন্য নিজেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। আগামী বছর বেসরকারি ভোগব্যয় ও সরকারি ব্যয় প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে এনইএসডিসি। পর্যটনসংশ্লিষ্ট খাতগুলোর পুনরুদ্ধারও অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থাটির ধারণা।

এনইএসডিসির মহাসচিব দানুচা পিচায়ানান বলেন, বেসরকারি ভোগব্যয় ও সরকারি ব্যয়ের সম্প্রসারণ এবং পর্যটনের পুনরুদ্ধার নতুন পূর্বাভাসের পেছনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, উচ্চ পরিবারের ঋণ, সম্ভাব্য বাণিজ্য বাধা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাইল্যান্ডকে সতর্কভাবে এগোতে হবে। এসব কারণে নাজুক পুনরুদ্ধার আবারও ভেস্তে যেতে পারে।

মূল কথা

  • ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে থাইল্যান্ডের জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৫% এবং আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১.৯% বেড়েছে। পূর্বাভাস ছিল যথাক্রমে ১.৩% ও ০.৬%।
  • ২০২৫ সালের পুরো বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.৪%, যা ২০২৪ সালের ২.৯% থেকে কম; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সমস্যা।
  • বছরের শেষ প্রান্তিকে বিনিয়োগ ৮.১% এবং পরিবারের ভোগব্যয় ৩.৩% বেড়েছে, আর রপ্তানি বেড়েছে ১১.৯%।
  • প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের ভূমজাইথাই পার্টি নির্বাচনে জয় পেয়েছে এবং জোট সরকার গঠনের কাজ করছে।
  • ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৫% থেকে ২.৫%; তবে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ১.৬% এবং ব্যাংক অব থাইল্যান্ডের পূর্বাভাস ১.৩% থেকে ২%।
  • প্রধান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্ক, লা নিনা-সংশ্লিষ্ট বন্যায় জিডিপির ০.১৩% সমপরিমাণ সম্ভাব্য ক্ষতি, পরিবারের উচ্চ ঋণ এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা।
  • বার্ষিক ২% প্রবৃদ্ধি নিয়ে থাইল্যান্ড আঞ্চলিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে; মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি এর চেয়ে বেশি।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে