ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজায় ঐতিহাসিক সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

পড়তে 8 মিনিট
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজায় ঐতিহাসিক সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া

ঐতিহাসিক অঙ্গীকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে উচ্চাভিলাষী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া গাজায় সর্বোচ্চ ৮,০০০ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত এই ভূখণ্ডে সেনা পাঠাতে অঙ্গীকার করা প্রথম দেশ হবে ইন্দোনেশিয়া। সেনাপ্রধান জেনারেল মারুলি সিমানজুনতাক নিশ্চিত করেছেন, এই বাহিনীর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ১৯৬৭ সালের পর গাজায় বিদেশি সেনা মোতায়েনের প্রথম ঘটনা হবে এটি। বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবে। প্রস্তাবিত স্থিতিশীলতা কাঠামোয় নিজেদের ভূমিকা নিয়ে মুসলিম দেশগুলো যখন ভাবছে, তখন এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি হয়েছে।

সূচিপত্র
  1. ঐতিহাসিক অঙ্গীকার
  2. বোর্ড অব পিস কাঠামো
  3. দেশীয় চাপ ও কূটনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
  4. নিরস্ত্রীকরণের চ্যালেঞ্জ
  5. জোট গঠনের উদ্যোগ
  6. কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা
  7. মূল বিষয়গুলো

এই পরিকল্পিত মোতায়েন গাজার সংঘাত-পরবর্তী ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার এক নাটকীয় বৃদ্ধি। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র প্রসেতিও হাদির ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অবদানকারী দেশের প্রায় ২০,০০০ সেনা নিয়ে বহুজাতিক বাহিনী গঠিত হতে পারে। এতে সবচেয়ে বড় একক বাহিনী দিতে পারে ইন্দোনেশিয়া। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের বদলে সেনারা মূলত মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ দেবেন। এর মধ্যে থাকবে চিকিৎসাসেবা ও প্রকৌশল কার্যক্রম।

ইসরায়েল ও হামাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যখন পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন এই অঙ্গীকার এলো। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার কার্যকর কাঠামো প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীরা হিমশিম খাচ্ছেন। ইন্দোনেশীয় বাহিনী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) ম্যান্ডেটের অধীনে কাজ করবে। সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করা, ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা এবং ভূখণ্ডটির নিরস্ত্রীকরণ তদারকির দায়িত্ব থাকবে তাদের। তবে মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও কার্যক্রমের শর্তাবলি নিয়ে জাকার্তা, ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

বোর্ড অব পিস কাঠামো

ইন্দোনেশিয়ার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা সরাসরি যুক্ত প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে। গাজা এবং সম্ভাব্যভাবে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংঘাত নিরসন তদারকির জন্য এই নতুন কূটনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বোর্ডটির প্রথম বৈঠক হবে। ঐতিহ্যবাহী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কাঠামোর পাশাপাশি গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা প্রচেষ্টায় সেনা ও অর্থায়ন দেবে।

বিজ্ঞাপন

বোর্ড অব পিসের পাশাপাশি কাজ করবে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী। গাজার সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং হামাসকে নিরস্ত্র করাসহ ভূখণ্ডটির নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। গত মাসে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে আলোচিত পরিকল্পনা নথি অনুযায়ী, নতুন করে প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মিলে এই বাহিনী মানবিক সহায়তার করিডর সুরক্ষিত করবে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো পুনর্গঠন ঠেকাবে।

তবে বোর্ড এবং জাতিসংঘের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর সম্পর্ক কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ইন্দোনেশিয়াকে ১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে বলে খবর রয়েছে। তবে মুখপাত্র প্রসেতিও হাদি জানিয়েছেন, অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করার আগে জাকার্তা এই অর্থের বিষয়ে আলোচনা করতে চায়। ফেব্রুয়ারির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও, তবে তিনি এখনো উপস্থিতি নিশ্চিত করেননি। ফলে তাঁর অংশগ্রহণের পরই চূড়ান্ত মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দেশীয় চাপ ও কূটনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা

২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়া সাবেক সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট প্রবোওর কাছে গাজায় সেনা পাঠানো বিশ্বমঞ্চে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান জোরদার করার পাশাপাশি জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এক উচ্চঝুঁকির প্রচেষ্টা। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতা হিসেবে প্রবোওর যুক্তি, গাজাকে স্থিতিশীল করতে ও ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ লাঘবে সহায়তা করার বিশেষ দায়িত্ব ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে। তিনি এই মিশনকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চূড়ান্ত দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ইন্দোনেশিয়ায় উল্লেখযোগ্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে দেশটির জনগণের ক্ষোভ এখনো তীব্র। ইসলামী গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের উদ্যোগের সঙ্গে প্রবোওর একাত্মতার সমালোচনা করেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কাঠামোয় অংশ নিলে ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষা হবে, নাকি চলমান ইসরায়েলি দখলদারিত্বই বৈধতা পাবে। ‘জাকার্তা গ্লোব’ সম্পাদকীয়তে বলেছে, ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ একটি কূটনৈতিক জুয়া। শুধু প্রতীকী ভূমিকা নয়, প্রকৃত প্রভাব তৈরি করতে পারলেই কেবল তা সার্থক হবে। পত্রিকাটি সতর্ক করেছে, ইন্দোনেশিয়া এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছে, যেটি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার নেই।

ফিলিস্তিনিদের প্রতি কয়েক দশকের সংহতির ভিত্তিতে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রবোও। গত বছর তিনি বলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে জাকার্তা সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করবে। এই সূক্ষ্ম অবস্থানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় বাস্তববাদী সম্পৃক্ততার সঙ্গে ফিলিস্তিনপন্থী ঐতিহ্যবাহী অবস্থানের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের যুক্তি, ট্রাম্পের বোর্ডে যোগ দিলে সেই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নিরস্ত্রীকরণের চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর ম্যান্ডেটের কেন্দ্রে রয়েছে হামাসকে নিরস্ত্র করার জটিল প্রশ্ন। শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এই শর্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দেওয়ার হুমকি তৈরি করেছে। বাহিনী অনুমোদনকারী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র স্থায়ীভাবে অপসারণের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সেনাদের দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হামাস প্রকাশ্যে অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, গাজায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী থাকা অবস্থায় এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে তারা অস্ত্র ছাড়বে না।

সবাই বলে, “ওরা নিরস্ত্র হবে না।” তারা নিরস্ত্র হবে। আমি হামাসের সঙ্গে কথা বলেছি, বলেছি, “তোমরা নিরস্ত্র হবে, তাই তো?” তারা বলেছে, “জি, স্যার, আমরা নিরস্ত্র হব।” তারা আমাকে এটাই বলেছে। তারা নিরস্ত্র হবে, নয়তো আমরা তাদের নিরস্ত্র করব। বুঝেছেন?

হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী এই বক্তব্য হামাস নেতাদের মন্তব্য এবং আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তীব্রভাবে সাংঘর্ষিক। ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌমত্বের দিকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ছাড়া নিরস্ত্রীকরণের সময়সীমাকে তারা অবাস্তব বলে মনে করেন। এই ব্যবধান ইন্দোনেশীয় সেনা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা হামাসের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না, তবে প্রয়োজন হলে নিরস্ত্রীকরণের জন্য বলপ্রয়োগের অনুমতি রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোতায়েনের পরিকল্পনাকে আরও জটিল করছে। অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীগুলোর হিসাবে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনের ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বাকি এলাকায় কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে হামাস। স্থিতিশীলতা বাহিনী প্রথমে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মোতায়েন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বিদেশি সেনাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক নয়, বরং দখলদারিত্বের সহযোগী হিসেবে দেখতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

জোট গঠনের উদ্যোগ

প্রকাশ্যে সেনা পাঠানোর অঙ্গীকারে ইন্দোনেশিয়া নেতৃত্ব দিলেও আরও কয়েকটি দেশ স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নেওয়া নিয়ে আলোচনা করছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে শর্ত দিয়েছে, তাদের সেনারা শুধু শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করবে এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে অংশ নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, আজারবাইজানও সম্ভাব্য অবদানকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ছাড়া কোনো দেশই দৃঢ় অঙ্গীকার করেনি।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা পাঠানোর অঙ্গীকার করা দ্বিতীয় দেশ হতে পারে মরক্কো। বাংলাদেশ, মিসর ও কাতারও অংশগ্রহণে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সৌদি আরব ও জর্ডানসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা কোনো পরিস্থিতিতেই সেনা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রতি আঞ্চলিক সমর্থনের সীমাবদ্ধতা এবং মিশনের জন্য বৃহত্তর মুসলিম জোট গঠনের কঠিনতা স্পষ্ট হয়েছে।

গাজার উত্তরে একটি সমন্বয়কেন্দ্র থেকে স্থিতিশীলতা প্রচেষ্টা পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে ২০০ সেনা মোতায়েন করেছে। সেখানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মীরা মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করছেন। ইন্দোনেশিয়া ও আজারবাইজানের বাহিনী সেন্টকমের প্রচলিত দায়িত্ব এলাকার বাইরে পড়ে। ফলে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের জন্য জটিল লজিস্টিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে, যা মোতায়েনের সময়সূচি পিছিয়ে দিতে পারে।

থাইল্যান্ড স্বাস্থ্যসেবা ও নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ ২০,০০০ সেনা দেওয়ার প্রস্তাব আলাদাভাবে দিয়েছে। এতে ইন্দোনেশীয় বাহিনীর মানবিক সহায়তামূলক ভূমিকা আরও জোরদার হতে পারে। প্রস্তাবিত অবদানের বৈচিত্র্য স্থিতিশীলতা বাহিনীর পরীক্ষামূলক চরিত্র তুলে ধরে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিরক্ষা ইতিহাসে এর কোনো নজির নেই। সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এমনভাবে কাজ করার কোনো প্রতিষ্ঠিত নীতিমালাও নেই, যেখানে প্রধান সশস্ত্র গোষ্ঠীটি নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা

কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও মোতায়েনের সময়সূচি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। জেনারেল মারুলি সিমানজুনতাক বলেছেন, সেনাসংখ্যা এখনো পরিবর্তন হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে, কিছুই নিশ্চিত নয়। তাই এখন পর্যন্ত সংখ্যার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।” ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সেই প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল, রাফাহ ও খান ইউনিসের মধ্যবর্তী একটি নির্দিষ্ট স্থানে ইন্দোনেশীয় সেনাদের ব্যারাক নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, কার্যক্রমসংক্রান্ত বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরই তা জানানো হবে।

উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী দনি হেরমাওয়ান জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে বোর্ড অব পিসের বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ প্রেসিডেন্ট প্রবোওর চূড়ান্ত রাজনৈতিক অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা মোতায়েনের আকার নিয়ে বিভিন্ন হিসাব দিয়েছেন। কারও মতে, সেনাসংখ্যা ৬০০ জনের মতো হতে পারে। অন্যরা মনে করেন, চূড়ান্ত ম্যান্ডেটের ওপর নির্ভর করে ৮,০০০ সেনার পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেড পাঠানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি পরিষদের কমিশন ১ গাজার ছোট ভূখণ্ডের কথা বিবেচনায় নিয়ে বড় বাহিনী না পাঠানোর সুপারিশ করেছে বলে খবর রয়েছে। পুরো ভূখণ্ডের আয়তন ৪৫ বর্গকিলোমিটারেরও কম, যা ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাকার্তা জেলার প্রায় সমান। ফলে ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি হাজার হাজার বিদেশি সেনার থাকার ব্যবস্থা করা নিয়ে বাস্তব প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি দখলদারিত্ব চলতে থাকা অবস্থায় হামাস নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, আর প্রায় প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশীয় সেনারা হয়তো এমন এক শান্তি রক্ষার দায়িত্বে মোতায়েন হবেন, যে শান্তির অস্তিত্ব এখনো নেই।

বিজ্ঞাপন

মূল বিষয়গুলো

  • ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০,০০০ সদস্যের আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে সর্বোচ্চ ৮,০০০ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
  • ১৯৬৭ সালের পর গাজায় এটিই হবে প্রথম বিদেশি সামরিক উপস্থিতি এবং জাতিসংঘ অনুমোদিত স্থিতিশীলতা বাহিনীতে প্রথম সুনির্দিষ্ট সেনা পাঠানোর অঙ্গীকার
  • ইন্দোনেশিয়ার প্রকৌশল ও চিকিৎসা ইউনিটের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত মোতায়েনের সময় ও স্থান নিয়ে আলোচনা চলছে এবং রাজনৈতিক অনুমোদন এখনো বাকি
  • প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসে যোগ দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে বোর্ডটির প্রথম বৈঠক হবে
  • ইসরায়েলি দখলদারিত্ব চলতে থাকা অবস্থায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক সেনাদের কার্যক্রমের ম্যান্ডেট চূড়ান্ত না হওয়াসহ বড় বাধাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি
  • পাকিস্তান, তুরস্ক, আজারবাইজান ও মরক্কোসহ আরও কয়েকটি দেশ অংশগ্রহণের কথা ভাবছে। সৌদি আরব ও জর্ডান অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে