ভাইরাল রোগনির্ণয় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হবে—এমন পরিস্থিতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পেটব্যথায় ভুগছিলেন ব্রিটিশ কনটেন্ট নির্মাতা অ্যামি। কয়েক মাসের অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকার বদলে তিনি বিমানে বেইজিং যান, যেখানে আগে বসবাস করেছিলেন। ১৩ দিনের মধ্যে তাঁর পূর্ণাঙ্গ রোগনির্ণয় হয়—গ্যাস্ট্রিক আলসার। চিকিৎসাও নেন, খরচ হয় প্রায় ২,৮০০ ইউয়ান বা প্রায় ৪০০ ডলার। বিমানভাড়াসহ মোট খরচ ব্রিটেনের কোনো বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে যা হতো, তার চেয়েও কম ছিল। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর ভিডিও-অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের কাছ থেকে একই ধরনের অসংখ্য বিবরণ সামনে আনে। এতে আলোচনার ঝড় ওঠে যে চীনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চিকিৎসার মানে আপস না করেই দ্রুত ও সাশ্রয়ী সেবা দিতে পারে।
সূচিপত্র
এই একটিমাত্র অভিজ্ঞতা এমন এক ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে স্পষ্ট করে, যাকে শিল্পখাতের পর্যবেক্ষকেরা এখন “বিপরীত চিকিৎসা পর্যটন” বলছেন। কয়েক দশক ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধনী চীনা রোগীরা পশ্চিমা দেশগুলোতে যেতেন, যা তাঁদের দেশে পাওয়া যেত না। এখন এই যাত্রার দিক পাল্টাচ্ছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদেশি রোগীরা ক্রমেই চীনা হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিচ্ছেন। তাঁদের আকর্ষণ করছে পশ্চিম ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার তুলনায় প্রায়ই ৩০% থেকে ৭০% কম খরচ এবং মাসের বদলে ঘণ্টায় মাপা অপেক্ষার সময়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা থেকে বাস্তব পরিসংখ্যান
বিচ্ছিন্ন ভাইরাল ঘটনা থেকে এই প্রবণতা এখন পরিমাপযোগ্য বাজারগত পরিবর্তনে রূপ নিয়েছে। স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোতে “চিকিৎসা পর্যটন” ট্যাগযুক্ত কনটেন্টে ভরে গেছে। এসব ভিডিওতে বিদেশি দর্শনার্থীদের বেইজিং ও সাংহাইয়ের ঝকঝকে হাসপাতালের করিডরে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তাঁরা একই দিনে চিকিৎসকের পরামর্শ, ১৯ ডলারের এক্স-রে এবং ১৫ ডলারের দাঁত পরিষ্কারের অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করছেন। এতে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার অভিজ্ঞতার এমন এক ডিজিটাল সংগ্রহ তৈরি হচ্ছে, যা একই সঙ্গে ভ্রমণকাহিনি ও ভোক্তা নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করছে।
সরকারি পরিসংখ্যানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করছে। ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের বিভিন্ন বড় হাসপাতালে প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার আন্তর্জাতিক রোগী চিকিৎসা নেন। তিন বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা ৭৩.৬% বেশি। শুধু সাংহাইয়ের ১৩টি নির্ধারিত হাসপাতালে বিদেশি রোগীদের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ভিজিট নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫% বেশি। শেনঝেনে বিদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার এসেছেন হংকং ও ম্যাকাও থেকে; বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও জাপান থেকে।
স্বাস্থ্যসেবার অসম্ভব ত্রিভুজের সমাধান
চিকিৎসা অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, স্বাস্থ্যসেবার আকর্ষণ নির্ভর করে এর “অসম্ভব ত্রিভুজের” ওপর: একই সঙ্গে উচ্চমান, কম খরচ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব। চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের শিক্ষাবিদ ওয়াং জিয়ানআনের দাবি, চীন এই ত্রিমুখী সমস্যার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে।
উচ্চমান, সাশ্রয়ী খরচ ও স্বল্প অপেক্ষার সময়—বিশ্বের স্বাস্থ্যসেবার এই অসম্ভব ত্রিভুজে চীন ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছে।
খরচের ব্যবধান স্পষ্ট। চীনে প্রায় ৭৫ ডলারে করা যায় এমন পূর্ণাঙ্গ হৃদ্রোগ পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রে বিমাহীন রোগীর ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলারের বিল তৈরি করতে পারে। চীনের বড় শহরগুলোতে অ্যাম্বুলেন্সে পরিবহন, রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসাসহ জরুরি সেবার খরচ প্রায়ই ১৫০ ডলারের নিচে থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পৌর এলাকায় শুধু একবার অ্যাম্বুলেন্সে যেতেই কয়েক হাজার ডলার খরচ হতে পারে। যেসব দেশে চিকিৎসকের কাছে সময়মতো যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজ পকেটের উচ্চ ব্যয় বা বিশেষজ্ঞের অ্যাপয়েন্টমেন্টের দীর্ঘ সারি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেসব দেশের মধ্যম আয়ের রোগীদের কাছে এই ব্যবধান বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসার ফল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমান বা তার চেয়েও ভালো। দক্ষিণ আফ্রিকার অলিম্পিক কায়াকিং দলের সাবেক অধিনায়ক অস্কার চালুপস্কির ছয় বছর আগে উচ্চ ঝুঁকির মাল্টিপল মায়েলোমা ধরা পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল ও জার্মানির চিকিৎসকেরা তাঁর রোগের চিকিৎসা খুব কঠিন বলে জানানোর পর তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে সাংহাইয়ের রুইজিন হাসপাতালকে রক্তরোগবিদ্যায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে শনাক্ত করেন। হাসপাতালের দল তাঁকে সিএআর-টি কোষ থেরাপি দেয়। এই উন্নত চিকিৎসায় রোগীর নিজের রোগপ্রতিরোধী কোষকে পুনঃপ্রোগ্রাম করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজে লাগানো হয়।
শুধু একবার চেষ্টা করে দেখার জন্য আমি সাংহাইয়ের এই হাসপাতালে আসিনি। চীনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি।
চালুপস্কির সফল চিকিৎসা এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার দৃষ্টান্ত, যেখানে বিদেশি রোগীরা এখন সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার বদলে জটিল চিকিৎসার জন্যই বিশেষভাবে চীনে আসছেন।
চিকিৎসার কেন্দ্র: হাইনান ও তার বাইরে
বিশেষায়িত ক্যানসার ও অস্ত্রোপচারের চিকিৎসার জন্য বেইজিং ও সাংহাই রোগীদের আকর্ষণ করলেও, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপপ্রদেশ হাইনান বিশেষায়িত চিকিৎসা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বোয়াও লেচেং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পর্যটন পাইলট জোনটি উচ্চগতির রেলস্টেশন থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। এটি বিশেষ নিয়ন্ত্রক পরীক্ষাগার হিসেবে কাজ করে, যেখানে আন্তর্জাতিক ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশজুড়ে ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার আগেই ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের জন্য দ্রুত অনুমোদন পায়।
এই নীতিকাঠামোর ফলে হাইনানে বসবাসকারী গ্রিক প্রকৌশলী আলেকজান্ডার ভোরাসিডেনিব নিতে পেরেছেন। গ্লিওমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই পরীক্ষামূলক ওষুধটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেলেও তাঁর নিজ দেশে পাওয়া যায়নি। এশিয়ায় প্রথম দিককার রোগীদের একজন হিসেবে তিনি এই চিকিৎসা নেন।
বিকিরণ ও কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আমি ভীত ছিলাম। তবে এই নতুন ওষুধটির কথা পড়ে মনে হয়েছিল, এতে আমার ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। চীন এত দ্রুত ওষুধটি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ায় আমি ভাগ্যবান। এখানে পৌঁছানোর পর থেকে সবকিছু নির্বিঘ্নে হয়েছে। কর্মীরা আন্তরিক ছিলেন, সরঞ্জাম আধুনিক ছিল, আর সবকিছুতেই আশার অনুভূতি ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশটিরও বেশি দেশের ১৮০টির বেশি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে এই জোন কাজ করেছে। চীনের অন্য কোথাও তখনো অনুমোদন না পাওয়া ৪৭০টির বেশি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সেখানে চালু করা হয়েছে। এখন মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা থেকে রোগীরা এখানে আসেন। ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসা পর্যটন গোষ্ঠীগুলোর হিসাবে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুনর্বাসন ও প্রসাধনমূলক চিকিৎসাসহ পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ ১২ হাজার ইউয়ান বা ১,৬৫০ ডলারের বেশি।
হাইনানের মডেলে উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসার সমন্বয় রয়েছে। দর্শনার্থীরা আধুনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি আকুপাংচার, কাপিং থেরাপি ও ভেষজ চিকিৎসার পরামর্শ নেন। ইন্দোনেশীয় ভ্লগার নোভি বাসুকি বলেন, হাসপাতালগুলোকে প্রচলিত হাসপাতালের চেয়ে মনোরম দর্শনীয় স্থানের মতো মনে হয়। রুশ রোগী লিনা পানভকিনা ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির পেশাদার সমন্বয়ের প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে, এই বাজারে বিদেশি বিনিয়োগও আসছে। সিঙ্গাপুরের হাসপাতাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পেরেনিয়াল হোল্ডিংস এ বছরের শুরুতে তিয়ানজিনে চীনের প্রথম সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন তৃতীয় স্তরের সাধারণ হাসপাতাল চালু করেছে। ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের এই হাসপাতাল প্রথম বছরের আয়ের ৩০% অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আসা আন্তর্জাতিক রোগীদের কাছ থেকে। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও জাপানের মতো প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক গন্তব্যের সঙ্গে চীন প্রতিযোগিতা করতে পারবে, এ বিষয়ে এটি আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভাষাগত বাধা ও আইনি ঝুঁকি সামলানো
প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও, চীনে চিকিৎসা পর্যটনে উল্লেখযোগ্য কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলো সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হয়। ভাষাগত বাধাই সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা। বড় হাসপাতালের আন্তর্জাতিক বিভাগগুলোতে সাধারণত ইংরেজিভাষী কর্মী থাকলেও, হাসপাতালের সাধারণ বিভাগে মূলত ম্যান্ডারিন ভাষায় কাজ চলে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে রোগীর সন্তুষ্টি কমতে পারে, এমনকি রোগনির্ণয় ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় ভুলও হতে পারে। জটিল আলোচনা বা পরামর্শের সময় রোগীদের পেশাদার চিকিৎসা অনুবাদক কিংবা চীনা ভাষায় কথা বলতে পারেন এমন সঙ্গীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে অনুবাদ অ্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রতিষ্ঠানভেদে মানের বড় পার্থক্য রয়েছে। শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোর জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল স্বীকৃতি আছে এবং সেগুলো পশ্চিমা হাসপাতালের সমমানের প্রোটোকল অনুসরণ করে। তবে কম পরিচিত ক্লিনিকগুলোতে একই ধরনের তদারকি নাও থাকতে পারে। আইনি ক্ষেত্রেও জটিলতা রয়েছে। চীনের দেওয়ানি আইনে চিকিৎসায় অবহেলার মামলা নিষ্পত্তির কাঠামো আছে, তবে একাধিক দেশের বিচারব্যবস্থার মধ্যে মামলা চালাতে গেলে কোন দেশের আইন প্রযোজ্য হবে এবং রায় কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে জটিল প্রশ্ন দেখা দেয়। ভ্রমণের আগে রোগীদের পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা করা উচিত। কারণ চীনের অনেক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পুরো খরচ আগাম নগদে দিতে হয় এবং সব বিদেশি বিমা পরিকল্পনা সেখানে গ্রহণ করা হয় না।
পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নিয়েও নৈতিক উদ্বেগ রয়েছে। স্টেম সেল থেরাপির মতো ক্ষেত্রে চীন এগিয়ে থাকলেও কিছু ক্লিনিক মরিয়া রোগীদের কাছে অপ্রমাণিত চিকিৎসার প্রচার করে। এসব স্টেম সেল পর্যটন সেবার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাও থাকতে পারে এবং যথাযথ পরবর্তী পরিচর্যা ছাড়া জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নতুন কোনো উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার আগে রোগীদের অবশ্যই নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া চীনের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট বা যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রয়োজন হলে, ভ্রমণকারীদের পৌঁছানোর আগেই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ইনস্টল করা উচিত।
ভিসানীতি ও ডিজিটাল অবকাঠামো
সরকারি নীতির মাধ্যমে চিকিৎসা পর্যটনের পথে বাধা সক্রিয়ভাবে কমানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য ও চীন ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত ভ্রমণব্যবস্থা ঘোষণা করে। এতে অ্যামির মতো রোগীদের জন্য একটি বড় আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর হয়েছে। চিকিৎসার জন্য চীন “এম-ভিসা”ও দেয়। পাশাপাশি রয়েছে ২৪০ ঘণ্টার ভিসামুক্ত ট্রানজিট সুবিধা, যার আওতায় রোগীরা চিকিৎসার সঙ্গে ভ্রমণও যুক্ত করতে পারেন।
আগে যেসব ব্যবহারিক বাধা দর্শনার্থীদের নিরুৎসাহিত করত, ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নতিতে সেগুলোও দূর হচ্ছে। চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসনের নতুন নির্দেশিকায় মোবাইল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার, উচ্চগতির রেলের টিকিট কেনা এবং টেলিযোগাযোগ সেবা নেওয়ার সময় বিদেশি দর্শনার্থীরা যেসব বাধার মুখে পড়েন, সেগুলো লক্ষ্য করা হয়েছে। এই উদ্যোগে পরিবহন অ্যাপের বহুভাষিক ইন্টারফেস, শহুরে রেলব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক ব্যাংক কার্ড গ্রহণ এবং বড় বিমানবন্দরগুলোতে সহজে সিম কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা উৎসাহিত করা হচ্ছে।
চিকিৎসা পর্যটকদের জন্য এসব পরিবর্তনের অর্থ হলো, অ্যাপয়েন্টমেন্টের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া আরও সহজ হবে। উইচ্যাট পে ও আলিপের মতো মোবাইল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে এখন আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাচ্ছে আরও সহজে। হাসপাতাল প্রশাসকেরা আন্তর্জাতিক সেবাকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে দেখছেন। এসব সেবা সরকারি বিমাব্যবস্থার বাইরে পরিচালিত হয় এবং মোট সেবাসক্ষমতার ১০%-এর বেশি হতে পারে না, যাতে দেশের রোগীরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেবা পান।
মূল কথা
উন্নত চিকিৎসাপ্রযুক্তি, কম খরচ এবং সহজতর ভিসানীতির সমন্বয়ে বৈশ্বিক চিকিৎসা পর্যটন বাজারে চীন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভাষা, আইনি প্রতিকার ও মানের ধারাবাহিকতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও, এই খাতটি সীমিত পরিসরের কৌতূহল থেকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবার সুসংগঠিত বিকল্পে রূপ নিচ্ছে।
- বেইজিংয়ে ৪০০ ডলারে আলসারের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা নিয়ে এক ব্রিটিশ রোগীর ভাইরাল ভিডিও চীনের বিকল্প স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ বাড়ায়।
- ২০২৪ সালে চীন ১২ লাখ ৮০ হাজার আন্তর্জাতিক রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যা তিন বছরে ৭৩.৬% বৃদ্ধি; সাংহাই ও শেনঝেনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
- চীনে চিকিৎসার খরচ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় ৩০% থেকে ৭০% কম; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য অপেক্ষার সময়ও কম।
- হাইনানের বোয়াও লেচেং পাইলট জোনে চীনের অন্য কোথাও পাওয়া যায় না এমন পরীক্ষামূলক ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে; সেখানে আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসার সমন্বয় করা হয়।
- সিঙ্গাপুরের পেরেনিয়াল হোল্ডিংস তিয়ানজিনে চীনের প্রথম সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন হাসপাতাল চালু করেছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক রোগীদের কাছ থেকে ৩০% আয় করা।
- ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসামুক্ত ব্যবস্থা এবং ২৪০ ঘণ্টার ট্রানজিট নীতি চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ সহজ করছে; ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়নে পেমেন্ট ও পরিবহন ব্যবস্থাও আরও সুবিধাজনক হচ্ছে।
- রোগীদের ভাষাগত বাধা সামলাতে, হাসপাতালের স্বীকৃতি যাচাই করতে, পূর্ণাঙ্গ বিমা করতে এবং পরীক্ষামূলক চিকিৎসার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।






