করপোরেট ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিশ্বের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ-সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ছে ফিলিপাইন

পড়তে 8 মিনিট
করপোরেট ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিশ্বের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ-সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ছে ফিলিপাইন

আকার নিচ্ছে সৌরশক্তির বিশাল প্রকল্প

ম্যানিলার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে নুয়েভা এসিহা ও বুলাকান প্রদেশের ঢেউখেলানো সমতলভূমিতে নির্মাণকর্মীরা পৃথিবীর বৃহত্তম সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলছেন। শেষ প্যানেলটি বসানো এবং শেষ ব্যাটারি মডিউলটি স্থাপনের পর টেরা সোলার প্রকল্পটি, যা এমটেরা সোলার নামেও পরিচিত, ৩.৫ গিগাওয়াট ফটোভোলটাইক সক্ষমতার সঙ্গে ৪.৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টা শক্তি সংরক্ষণব্যবস্থা নিয়ে কাজ করবে। ৩,৫০০ হেক্টর জমিজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা প্রায় ৮৩ হাজার বাস্কেটবল কোর্টের সমান।

সূচিপত্র
  1. আকার নিচ্ছে সৌরশক্তির বিশাল প্রকল্প
  2. নজিরবিহীন পরিসরে প্রকৌশলকাজ
  3. বিনিয়োগে শতকোটি ডলার, বদলেছে মালিকানা
  4. নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও গ্রিডে সংযোগের বাধা
  5. জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
  6. নির্মাণের সময়সূচি ও কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি
  7. মূল তথ্য

এই কেন্দ্র কেবল একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়। এটি ফিলিপাইনের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা করছে। আমদানি করা কয়লা ও অস্থির জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারের বদলে দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে দেশটি, যা প্রায় ২৪ লাখ পরিবারের জন্য পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের নভেম্বরে, আর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে। প্রকল্পটি দ্রুত এগোচ্ছে, যদিও এতে রয়েছে প্রযুক্তিগত বাধা ও করপোরেট সুশাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, যা আধুনিক জ্বালানি রূপান্তরের জটিলতা তুলে ধরে।

বিজ্ঞাপন

নজিরবিহীন পরিসরে প্রকৌশলকাজ

টেরা সোলারের পরিসংখ্যান নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেও ছাড়িয়ে যায়। প্রকল্পটি একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ সৌর প্যানেল চালাবে। বছরে আনুমানিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা ফিলিপাইনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশের সমান। প্রকল্পের ব্যাপ্তি বোঝার জন্য বলা যায়, ৩.৫ গিগাওয়াট সক্ষমতা কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদনের সমান। আর ৪.৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একটানা ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। ফলে দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার মধ্যবর্তী ব্যবধান কার্যকরভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটির মূল উপাদান ব্যাটারি শক্তি সংরক্ষণব্যবস্থা, যা সরবরাহ করছে হুয়াওয়ে। এটি এ পর্যন্ত কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় বিইএসএস চুক্তি। ব্যবস্থাটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নত বিদ্যুৎ রূপান্তর প্রযুক্তিসহ কনটেইনারে স্থাপিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে। কম চাহিদার সময় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় গ্রিডে ফেরত পাঠাতে পারে এই ব্যবস্থা। ফলে টেরা সোলার পরিবর্তনশীল উৎপাদনক্ষমতার একটি কেন্দ্র থেকে এমন বিদ্যুৎ উৎসে রূপ নেবে, যেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। ২০ বছরের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির আওতায় ম্যানিলা ইলেকট্রিক কোম্পানিকে (মেরালকো) ভিত্তিগত বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে কেন্দ্রটি।

১১.৫ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য ড্রোন প্রযুক্তি ও উন্নত ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে নির্মাণ ব্যবস্থাপনা সেবা দিচ্ছে জ্যাকবস ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ। অন্যদিকে, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ চুক্তির কাজ করছে চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং পাওয়ারচায়না। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ প্রদেশগুলো থেকে মহানগর ম্যানিলায় বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চভোল্টেজ সঞ্চালন অবকাঠামো স্থাপন।

বিজ্ঞাপন

বিনিয়োগে শতকোটি ডলার, বদলেছে মালিকানা

বিশ্বের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ ও সংরক্ষণকেন্দ্র গড়তে প্রয়োজন বিপুল পুঁজি। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ৩.৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার (২০০ বিলিয়ন ফিলিপাইন পেসো), যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিনিয়োগগুলোর একটি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অবকাঠামো বিনিয়োগকারী অ্যাক্টিস ৪০ শতাংশ মালিকানা অংশের জন্য প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। ফিলিপাইনের গ্রিনফিল্ড অবকাঠামো প্রকল্পে এটিই সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ। ২০২৫ সালের মার্চে বিনিয়োগটি সম্পন্ন হয়। এতে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তহবিল আসে এবং অংশীদারদের মধ্যে যুক্ত হয় আন্তর্জাতিক অবকাঠামো খাতের অভিজ্ঞতা।

প্রকল্প শুরুর পর থেকে মালিকানার কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। শুরুতে সোলার ফিলিপাইনস নিউ এনার্জি করপোরেশন (এসপিএনইসি) ৫০০ মেগাওয়াটের একটি ছোট প্রকল্প হিসেবে এটি পরিকল্পনা করেছিল। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়া ও জ্বালানিনীতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি আট গুণ বড় হয়। পরে ফিলিপাইনের বৃহত্তম বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার বিদ্যুৎ উৎপাদন শাখা মেরালকো পাওয়ারজেন করপোরেশন (এমজেন) এসপিএনইসির নিয়ন্ত্রণমূলক মালিকানা পায়। এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমগ্রিন রিনিউয়েবল এনার্জি ইনকের মাধ্যমে ভোটাধিকারসম্পন্ন শেয়ারের ৫৫ শতাংশের বেশি রয়েছে তাদের হাতে।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বড় ধরনের পরিচালনাগত পরিবর্তন ঘটে। সোলার ফিলিপাইনসের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রকল্পটির প্রস্তাবক বাতাঙ্গাসের প্রতিনিধি লিয়ান্দ্রো লেভিস্তে টেরা সোলার ফিলিপাইনস ইনকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এমজেনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমানুয়েল রুবিও। কোম্পানিটি এই পরিবর্তনকে কার্যক্রম পরিচালনার দিকে স্বাভাবিক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করে। পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে রুবিও বলেন:

এমটেরা সোলার কমিশনিংয়ের দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক অগ্রগতির সূচনা করছে। এই পর্যায়ে পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব জোরদার হলে কৌশলগত তদারকি, ব্যবস্থার সমন্বয় এবং কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সামঞ্জস্য নিশ্চিত হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা গ্রিডে পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

লেভিস্তের অন্যান্য ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের মধ্যেই নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর হোল্ডিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জ্বালানি বিভাগের আরোপ করা ২৪ বিলিয়ন পেসোর জরিমানা। টেরা সোলারের সঙ্গে সম্পর্কহীন পৃথক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সেবা চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এই জরিমানা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও গ্রিডে সংযোগের বাধা

এত বড় প্রকল্পকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ব্যাপক নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন টেরা সোলারের ১৪.২৫ বিলিয়ন ফিলিপাইন পেসো ব্যয়ে নির্দিষ্ট পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণের আবেদন অনুমোদন করে। এর মধ্যে রয়েছে নাগসাগ-সান হোসে সঞ্চালন লাইনের পাশে ৫০০ কিলোভোল্টের একটি সাবস্টেশন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এসব অবকাঠামোর নির্মাণকাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছিল। এতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম পর্যায় চালুর লক্ষ্যে এগোনোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর হয়।

তবে গ্রিডে সংযোগের ক্ষেত্রে রয়েছে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, যা বেসরকারি খাতের দ্রুত উন্নয়ন ও সরকারি অবকাঠামোর সক্ষমতার মধ্যে টানাপোড়েন তুলে ধরে। ফিলিপাইনের ন্যাশনাল গ্রিড করপোরেশন ফ্রিকোয়েন্সির স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, আবহাওয়ার কারণে ৩,৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটির উৎপাদন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াটেরও বেশি কমে যেতে পারে। ফিলিপাইনের বিধি অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎকে গ্রিডে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্ত করতে হয়। তাই ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থার মাধ্যমে সতর্কভাবে সামাল না দিলে উৎপাদনের দ্রুত ওঠানামায় লুজনের গ্রিড অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বিগ্ন গ্রিড পরিচালকেরা।

বিজ্ঞাপন

সরকারি অবকাঠামো পরিকল্পনা অনুযায়ী, সান ইসিদ্রোর ৫০০ কিলোভোল্ট সাবস্টেশনে স্থায়ী সংযোগ ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রস্তুত হবে। তত দিন টেরা সোলারকে বিদ্যমান সঞ্চালন নেটওয়ার্কে অস্থায়ী বাস-ইন সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হবে। এর ফলে আশপাশের এলাকায় ভোল্টেজের ওঠানামা ও যন্ত্রপাতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনজিসিপি। পর্যায়ক্রমে ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা চালু করে এসব উদ্বেগ মোকাবিলা করছে প্রকল্পটি। প্রথম পর্যায়ে সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণক্ষমতা রাখা হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব

ফিলিপাইনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেশির ভাগের জন্য দেশটি আমদানি করা কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের অস্থিরতা ও মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার প্রভাব পড়ে ভোক্তাদের ওপর। এশিয়ায় ফিলিপাইনের পরিবারগুলোকে অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম বাড়লেই এই খরচ বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত খরচে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করে টেরা সোলার এসব মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি কমাতে পারে। এতে ভোক্তারা আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্যের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে দেশের ব্যয়ও কমতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক সুফলের বাইরেও প্রকল্পটি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্য এগিয়ে নিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৩৫ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ জ্বালানি সংগ্রহের অঙ্গীকার করেছে ফিলিপাইন। দেশটির ২৮ গিগাওয়াট স্থাপিত সক্ষমতার মধ্যে বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের অংশ মাত্র ৫.৫ শতাংশ। টেরা সোলারের অবদান দেশটিকে এসব লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে এবং সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ঝুঁকিতে থাকা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর বাইরেও পরিবেশগত সুফল রয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রটি বছরে আনুমানিক ৪৩ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়াবে, যা সড়ক থেকে ৩০ লাখেরও বেশি গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সমান। নির্মাণকাজে ইতিমধ্যে ৯,৫০০-এর বেশি কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন। কেন্দ্রটি চালু হলে প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রিড ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি স্থাপনের মতো স্থানীয় কর্মসূচির লক্ষ্য, আশপাশের পৌরসভাগুলো যেন সরাসরি প্রকল্পের সুফল পায়।

বিজ্ঞাপন

নির্মাণের সময়সূচি ও কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি

পরিসর বিশাল হলেও অনেক দিক থেকেই নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই নাগাদ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আট মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ ৫৪ শতাংশ শেষ করেন কর্মীরা। তাঁরা ৭৭৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন করেছেন, যা এরই মধ্যে টেরা সোলারকে ফিলিপাইনের সবচেয়ে বড় চালু সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সম্প্রতি ৫০০ কিলোভোল্ট সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত মাইলফলক। এর ফলে গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় পরীক্ষা শুরু করতে পারবে কেন্দ্রটি।

দুই পর্যায়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। প্রথম পর্যায়ে থাকবে ২.৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা ও ৩.৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে অবশিষ্ট সক্ষমতা যুক্ত হবে; পুরো প্রকল্প চালুর লক্ষ্য ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি। কাজ শেষ হলে কেন্দ্রটি এমগ্রিন ব্যানারে পরিচালিত হবে। এসপিএনইসি তাদের করপোরেট নাম বদলে এমজেন রিনিউয়েবল এনার্জি হোল্ডিংস ইনক. করার আবেদন করেছে, যা মেরালকোর নবায়নযোগ্য জ্বালানি পোর্টফোলিওতে প্রকল্পটির পূর্ণ একীভবনের প্রতিফলন।

বিজ্ঞাপন

মূল তথ্য

  • টেরা সোলার (এমটেরা সোলার) ফিলিপাইনের নুয়েভা এসিহা ও বুলাকান প্রদেশে ৩.৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ৪.৫ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্প। এটি ম্যানিলার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
  • ৩.৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের নভেম্বরে। প্রথম পর্যায়ের ২.৫ গিগাওয়াট সক্ষমতা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে চালু হওয়ার কথা, আর দ্বিতীয় পর্যায় চালু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
  • প্রকল্পটির উন্নয়নকারী টেরা সোলার ফিলিপাইনস ইনকের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মেরালকো পাওয়ারজেনের (এমজেন) হাতে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাক্টিস ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ৪০ শতাংশ মালিকানা পেয়েছে। ফিলিপাইনের গ্রিনফিল্ড অবকাঠামো প্রকল্পে এটিই সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ।
  • সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণে ১৪.২৫ বিলিয়ন ফিলিপাইন পেসোর অনুমোদন পেয়েছে প্রকল্পটি। তবে ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে স্থায়ী সাবস্টেশন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রিডে সংযোগের চ্যালেঞ্জ থাকবে।
  • চালু হলে ২০ বছরের চুক্তির আওতায় মেরালকোকে ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে কেন্দ্রটি। প্রায় ২৪ লাখ পরিবার এর সুবিধা পাবে এবং বছরে আনুমানিক ৪৩ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো যাবে।
  • প্রতিষ্ঠাতা লিয়ান্দ্রো লেভিস্তে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পরিচালনা পর্ষদ ছাড়েন। তাঁর অন্যান্য কোম্পানির ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরিমানার মধ্যে প্রকল্পটি চালুর পথে এগিয়ে নিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন এমজেনের প্রধান নির্বাহী এমানুয়েল রুবিও।
  • প্রধান ঠিকাদারদের মধ্যে রয়েছে হুয়াওয়ে (ব্যাটারি সংরক্ষণ), জ্যাকবস ইঞ্জিনিয়ারিং (নির্মাণ ব্যবস্থাপনা) এবং চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন/পাওয়ারচায়না (প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণসেবা)।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে