সড়কে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
প্রায় ছয় দশক আগে সিউলের সড়ক থেকে হারিয়ে যাওয়া এক পরিবহনব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে শহরটি। ফেব্রুয়ারি থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে উইরিয়ে লাইন ট্রামের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। ১৯৬৮ সালের পর এই প্রথম শহরটিতে সড়কপথে রেল চলাচল দেখা যাবে। এটি কেবল নস্টালজিয়ার টানে পুরোনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা নয়; নতুন ট্রামটি প্রযুক্তিগতভাবেও বড় অগ্রগতি, কারণ এটি দেশের প্রথম তারবিহীন, ব্যাটারিচালিত সড়ক ট্রামব্যবস্থা।
সূচিপত্র
৫.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইন সিউল মেট্রোর ৫ নম্বর লাইনের মাচেওন স্টেশনের সঙ্গে ৮ নম্বর লাইন ও সুইন-বুন্দাং লাইনের সংযোগস্থল বকজং স্টেশনকে যুক্ত করবে। পাশাপাশি ৮ নম্বর লাইনের নামউইরিয়ে স্টেশনেও যাতায়াতের সুযোগ দেবে। রুটটি দক্ষিণ-পূর্ব সিউলের বিকাশমান আবাসিক এলাকা উইরিয়ে নিউ টাউনের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্তমানে তিনটি প্রধান পাতালরেল লাইনের মধ্যে যাতায়াতে যে জটিল বদল বা বাসের সংযোগ নিতে হয়, এই ট্রাম সেই সংযোগ সহজ করবে।
২৭ জানুয়ারি ভোরে নগর কর্তৃপক্ষ প্রথম ট্রামটি উইরিয়ে ডিপোতে নিয়ে যায়। যান চলাচলে বিঘ্ন কমাতে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে এটি পরিবহন করা হয়। রুটে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনে সংপা পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। এই সতর্ক পরিকল্পনা সিউলের বৃহত্তর নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। শহরটি এমন যান ফিরিয়ে আনছে, যেগুলো সড়কের জায়গা গাড়ি ও পথচারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবে।
গণপরিবহনের সংযোগঘাটতি পূরণ
সিউলের নগর রেল নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত। মহানগর এলাকাজুড়ে ২৩টি মেট্রো লাইনে ৭৬৮টি স্টেশন রয়েছে। এত ঘন নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও কিছু এলাকায় সংযোগের ঘাটতি রয়ে গেছে, বিশেষ করে উইরিয়ে নিউ টাউনের মতো নতুন আবাসিক এলাকায়। সিউল, সংনাম ও হানামের অংশজুড়ে বিস্তৃত এলাকাটির বাসিন্দারা বৃহত্তর গণপরিবহন নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে বাস এবং ঘুরপথের পাতালরেল সংযোগের ওপর নির্ভর করে আসছেন।
উইরিয়ে লাইন সরাসরি এই সংযোগের সমস্যার সমাধান করবে। ৫ ও ৮ নম্বর লাইনের মধ্যে নির্বিঘ্ন সংযোগ তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যেতে আর কেন্দ্রীয় সিউল পর্যন্ত যেতে হবে না। গাংদং ও সংপা জেলার মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য নতুন এই সেবা যাত্রার সময় কমাবে এবং ভিড়ভাট্টার বাসের তুলনায় আরামদায়ক বিকল্প দেবে।
৫.৪ কিলোমিটার রুটে রয়েছে ১২টি স্টপ। ট্রামগুলো পাঁচটি অংশবিশিষ্ট, নিচু মেঝের আর্টিকুলেটেড নকশায় তৈরি। এতে একই সমতল থেকে ওঠানামা করা যায়, ফলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী, বয়স্ক যাত্রী এবং শিশুর স্ট্রলার নিয়ে চলাচলকারী অভিভাবকদের জন্য ব্যবস্থা সহজলভ্য হয়। পুরোনো ট্রামব্যবস্থার তুলনায় নিচু মেঝের এই নকশা উল্লেখযোগ্য উন্নতি; পুরোনো ট্রামে উঁচু ধাপ থাকায় চলাচলে অসুবিধা আছে এমন যাত্রীদের বাধার মুখে পড়তে হতো।
ব্যাটারিচালিত প্রযুক্তি ও নগর নকশা
প্রচলিত ট্রামব্যবস্থা থেকে উইরিয়ে লাইনকে আলাদা করেছে এর যুগান্তকারী শক্তিব্যবস্থা। সাধারণ ট্রাম যেখানে ওপরের তারের (ক্যাটেনারি ব্যবস্থা) মাধ্যমে বিদ্যুৎ নেয়, উইরিয়ে লাইনের ট্রাম চলে ছাদে বসানো বড় ধারণক্ষমতার ব্যাটারিতে। এই তারবিহীন নকশায় ওপরের তারের দৃশ্যমান জটলা থাকে না; পাশাপাশি অবকাঠামোগত ব্যয় ও নির্মাণের জটিলতাও কমে।
ব্যাটারিপ্রযুক্তিটি টেকসই নগর পরিবহনের বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওপরের তার সরিয়ে দেওয়ায় ঐতিহাসিক ও আবাসিক এলাকায় দৃশ্যগত প্রভাব কমে, অথচ বিদ্যুৎচালিত পরিবহনের পরিবেশগত সুবিধা বজায় থাকে। স্টেশন বা ডিপোতে ট্রামগুলো ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। ফলে ঐতিহ্যবাহী তারযুক্ত ব্যবস্থার শিল্পঘেঁষা চেহারা ছাড়াই গাছসারির পাশের সড়ক দিয়ে নীরবে চলতে পারে।
উন্নত শক্তিব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রযুক্তিও রয়েছে। প্রতিটি ট্রামে রাডার ও ক্যামেরা সেন্সরসম্বলিত সামনের সংঘর্ষ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আছে, যা সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ শনাক্ত হওয়ার পর চালক সাড়া না দিলে ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি ব্রেক চালু করে। সড়কপথের ট্রাম নিয়ে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের—রেলযান ও অনিশ্চিত নগর যান চলাচলের পারস্পরিক ক্রিয়া—সমাধানে এই বৈশিষ্ট্য সহায়তা করবে।
হুন্দাই রোটেমের সঙ্গে অংশীদারত্বে উজিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিস্টেমস নির্মিত ট্রামগুলো দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতায় বড় বিনিয়োগের প্রতিনিধিত্ব করে। পরিকল্পিত ১০টি ট্রেনসেটের প্রতিটিতে ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থা ও সংঘর্ষ এড়ানোর প্রযুক্তি থাকবে। এতে আধুনিক নিরাপত্তামান পূরণ করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সীমাও এগিয়ে নেওয়া হবে।
জননিরাপত্তায় কঠোর পরীক্ষা
একজন যাত্রী ওঠার আগেই উইরিয়ে লাইনে সিউলের সাম্প্রতিক গণপরিবহন ইতিহাসের অন্যতম বিস্তৃত পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালানো হবে। প্রথম ট্রামটি ২০২৫ সালে উত্তর চুংচং প্রদেশের ওসংয়ে কোরিয়া রেলওয়ে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি চলেছে। এসব পরীক্ষায় ত্বরণ, ব্রেক, বাঁক নেওয়ার সক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থা, যাত্রার আরাম এবং শব্দের মাত্রা যাচাই করা হয়।
ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নগর কর্তৃপক্ষ ১৬টি পৃথক কর্মদক্ষতা ও নিরাপত্তা বিষয় যাচাই করতে মূল রুটে পরীক্ষামূলক চলাচল করবে। এসব পরীক্ষায় চলাচলের নিরাপত্তা, ভূমিভিত্তিক অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং বিদ্যমান যান চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। একই সময়ে, এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রেলব্যবস্থা পরীক্ষায় সব স্থাপনার স্থিতিশীলতা ও সংযোগ যাচাই করা হবে। নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিচালন পরিস্থিতির অনুকরণও করা হবে।
ট্রামটি একই সড়কপথে অন্য যানবাহনের সঙ্গে চলবে বলে পরীক্ষাকালে সিউল বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। পুরো রুটের ১৩টি মোড় ও ৩৫টি পথচারী পারাপারের স্থানে নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্বে থাকবেন। প্রয়োজনে তাঁরা হাতে সংকেত দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবেন। নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে এবং যেকোনো ঘটনায় সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে। এই যাচাইপর্বে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণে পরীক্ষামূলক যানগুলোর জন্য বিশেষ বিমার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ট্রামের সঙ্গে একই সড়ক ব্যবহার করবেন এমন পথচারী ও চালকদের জন্য নগর কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। পথচারীদের ট্রাফিক সংকেত ও নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। রেললাইন পার হওয়ার সময় কানে ইয়ারফোন দিয়ে হাঁটার মতো অমনোযোগী আচরণ এড়াতে হবে। চালকদের ট্রামের সঙ্গে একই লেনে চলার সময় গতি কমাতে, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে এবং মোড়ে ট্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সংকেত মানতে হবে।
নগরীর আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার সদর দপ্তরের প্রধান লিম চুন-গুন এই পদ্ধতিগত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
নাগরিকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এই সেবা ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য আমরা পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও যাচাই নিশ্চিত করব।
কর্মকর্তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ নগর পরিবেশে নতুন গণপরিবহন চালু করতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি জনসাধারণের আস্থাও জরুরি—সিউল তা ভালোভাবেই উপলব্ধি করছে।
১৮৯৯ থেকে ২০২৬: ইতিহাসের আবর্তন
সিউলে ট্রামের প্রত্যাবর্তনের বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। শহরটিতে ১৮৯৯ সালে প্রথম সড়ক ট্রাম চালু হয়। প্রায় ৭০ বছর চলার পর ১৯৬৮ সালে নেটওয়ার্কটি বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় ট্রাম ছিল গণপরিবহনের মেরুদণ্ড। ঐতিহ্যবাহী এশীয় রাজধানী থেকে আধুনিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত হতে থাকা শহরটির লাখো বাসিন্দাকে এটি পরিবহন করত।
১৯৬৮ সালে ট্রাম বন্ধের সিদ্ধান্তটি সে সময়ের পরিবহন পরিকল্পনার চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করেছিল। নগর পরিকল্পনাবিদেরা মনে করতেন, ট্রাম গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং বাস ও পাতালরেল আরও দক্ষভাবে যাত্রী পরিবহন করতে পারে। সড়কের ট্র্যাক তুলে ফেলায় মূলত ব্যক্তিগত গাড়ির কথা মাথায় রেখে তৈরি সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হয়। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বের বহু শহরেই একই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
ট্রাম ফিরিয়ে আনা সেই মধ্য-শতাব্দীর যুক্তির উল্টো পথে যাত্রা। নগর পরিকল্পনাবিদেরা এখন বুঝতে পারছেন, বিশেষ করে মাঝারি ঘনত্বের রুটে, যেখানে পূর্ণাঙ্গ মেট্রো নির্মাণের ব্যয় অত্যধিক, সড়কপথের রেল পাতালরেলের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে পরিপূরক হতে পারে। ২৬১.৪ বিলিয়ন ওন (প্রায় ১৯৪ মিলিয়ন ডলার) ব্যয়ের উইরিয়ে লাইন প্রকল্পটি পাতালরেল সম্প্রসারণের তুলনায় সাশ্রয়ী বিকল্প। একই সঙ্গে বাস র্যাপিড ট্রানজিটের চেয়ে বেশি যাত্রী বহন ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেবে।
প্রকল্পটি ২০০৮ সালে বেসরকারি বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও সম্ভাব্যতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্থগিত হয়। ২০১৮ সালে সিউল মেট্রোপলিটন সরকার পরিকল্পনাটি পুনরুজ্জীবিত করে এবং নির্মাণের সরাসরি দায়িত্ব নেয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় দুই দশকের পরিকল্পনা ও বিলম্বের পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে বাণিজ্যিকভাবে লাইনটি চালুর কথা রয়েছে।
আধুনিক পরিবহনে সাংস্কৃতিক প্রতীক
ব্যবহারিক ভূমিকার বাইরে উইরিয়ে লাইনের গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও রয়েছে। ট্রামগুলোর স্বতন্ত্র বেগুনি রঙের বহিরাবরণ প্রাচীন বেকজে রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা ওঞ্জোর রাজকীয় পোশাক থেকে অনুপ্রাণিত। রাজা ওঞ্জো উইরিয়েতে তাঁর প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। তাই খ্রিষ্টপূর্ব ১৮ শতক থেকে চলে আসা এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই রং বেছে নেওয়া হয়েছে।
বেগুনি রঙটির আরেকটি প্রতীকী অর্থ রয়েছে: এটি তিনটি পৌর এলাকার ঐক্য বোঝায়। সিউল, সংনাম ও হানামের সিউল মহানগর এলাকায় আলাদা পরিচয় রয়েছে, যা ঐতিহ্যগতভাবে লাল ও নীল রঙে প্রকাশ করা হয়। এই দুই রঙের মিশ্রণে তৈরি বেগুনি রং উইরিয়ে নিউ টাউনের মধ্য দিয়ে তিন শহরের একীভূত হওয়ার চিত্র তুলে ধরে।
সিউলের এম-ভোটিং প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত জরিপ এবং সরেজমিন মতামত গ্রহণের বৈঠকসহ বিস্তৃত জনপরামর্শের ভিত্তিতে নকশাটি তৈরি হয়েছে। এই অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ নিশ্চিত করেছে, যানগুলো যেন এলাকার নিজস্ব পরিচয় বহন করে; পাড়ায় চাপিয়ে দেওয়া সাধারণ গণপরিবহন সরঞ্জাম বলে মনে না হয়। এর ফলে এমন একটি পরিবহনব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যা চলমান জনশিল্পের মতো কাজ করে এবং বাসিন্দাদের শুধু পাতালরেল স্টেশনের সঙ্গেই নয়, তাঁদের অভিন্ন ঐতিহ্যের সঙ্গেও যুক্ত করে।
ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের মডেল
উইরিয়ে লাইনের সাফল্য দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়কপথের রেলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির অন্যান্য শহরতলিতে ট্রামপথ উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি একটি সম্ভাব্য আদর্শ হতে পারে। সিউলের চ্যালেঞ্জপূর্ণ নগর পরিবেশে ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে অন্য শহরগুলোও নিজেদের গণপরিবহন নেটওয়ার্কের ঘাটতি পূরণে একই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে।
উচ্চব্যয়ের পাতালরেল ও কম ধারণক্ষমতার বাস রুটের মধ্যে মাঝারি ধারণক্ষমতার পরিবহন কীভাবে সংযোগ তৈরি করতে পারে, প্রকল্পটি তার উদাহরণ দিচ্ছে। শহরের প্রান্তে দ্রুত গড়ে ওঠা নতুন জনপদের জন্য উইরিয়ে মডেল এমন একটি মধ্যপন্থা, যা মেট্রো নির্মাণের টানেল খননের ব্যয় ছাড়াই রেল পরিবহনের সুবিধা দেয়। তারবিহীন প্রযুক্তিটি বিশেষত আবাসিক এলাকায় সড়কপথের রেল প্রকল্প থমকে যাওয়ার পেছনে থাকা সৌন্দর্যগত উদ্বেগের সমাধান করে।
ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হলে দুই প্রজন্ম ধরে ট্রাম না থাকা সিউলের গাড়িচালকেরা স্টিলের চাকার সঙ্গে সড়ক ভাগ করে নিতে কীভাবে অভ্যস্ত হন, তা পর্যবেক্ষকেরা নিবিড়ভাবে দেখবেন। সংঘর্ষ এড়ানোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের মধ্য দিয়ে এই পরিবহনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এতে স্বীকার করা হয়েছে, নতুন অবকাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নগরবাসীর চলাচলের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে।
একনজরে
- ১৯৬৮ সালের পর ৫৮ বছরের বিরতি শেষে উইরিয়ে লাইন সিউলে সড়কপথের ট্রাম ফিরিয়ে আনছে
- ৫.৪ কিলোমিটার রুটটি মাচেওন স্টেশন (৫ নম্বর লাইন) এবং বকজং ও নামউইরিয়ে স্টেশনের (৮ নম্বর লাইন) মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে
- এটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম ক্যাটেনারিবিহীন ট্রামব্যবস্থা; ওপরের তারের বদলে ছাদে বসানো ব্যাটারিতে চলবে
- নিচু মেঝের ১০টি ট্রামসেট ১২টি স্টেশনে চলবে; ২০২৬ সালের শেষ দিকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সেবা শুরু হওয়ার কথা
- উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে রাডার ও ক্যামেরাভিত্তিক সংঘর্ষ সতর্কীকরণ এবং স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেক
- ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরুর পর ১৩টি মোড় ও ৩৫টি পথচারী পারাপারের স্থানে নিরাপত্তাকর্মীরা নজর রাখবেন
- বেগুনি রঙের ট্রাম নকশাটি বেকজে রাজ্যের রাজা ওঞ্জোকে সম্মান জানায় এবং সিউল, সংনাম ও হানামের ঐক্যের প্রতীক






