উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রেখে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এআই আইন প্রণয়ন করল দক্ষিণ কোরিয়া

পড়তে 12 মিনিট
উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রেখে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এআই আইন প্রণয়ন করল দক্ষিণ কোরিয়া

এআই বেসিক অ্যাক্টের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইনসমষ্টি প্রণয়ন করেছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ছয় অধ্যায় ও ৪৩টি ধারার ‘এআই বেসিক অ্যাক্ট’ বৃহস্পতিবার আইনে পরিণত হয়েছে। এতে এআই কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিস্তৃত পরিসরজুড়ে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ক্রমেই এআইনির্ভর হয়ে ওঠা সমাজে নাগরিকদের সুরক্ষা এবং কর্মকর্তাদের ভাষায় ‘আস্থার ভিত্তি’ গড়ে তোলাই আইনটির লক্ষ্য।

সূচিপত্র
  1. এআই বেসিক অ্যাক্টের মাধ্যমে বিশ্বে নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া
  2. উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই ব্যবস্থা নির্ধারণ
  3. স্বচ্ছতার শর্ত ও এআই লেবেলিং
  4. পরিচালন কাঠামো ও শিল্পখাতে সহায়তা
  5. আইন মেনে চলার শর্ত ও জরিমানা
  6. শিল্পখাতের প্রতিক্রিয়া ও স্টার্টআপের উদ্বেগ
  7. আন্তর্জাতিক পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা
  8. বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
  9. মূল কথা

এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে এআই পরিচালনায় সমন্বিত পদ্ধতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া অন্যান্য বড় অর্থনীতির চেয়ে এগিয়ে গেল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর এআই-সংক্রান্ত কিছু বিধি বাস্তবায়ন শুরু করলেও, তাদের এআই আইনের মূল অংশ ধাপে ধাপে কার্যকর হবে আগস্টে। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কোনো ফেডারেল এআই আইন নেই। তবে এআই উদ্ভাবনে বাধা সৃষ্টি করছে বলে বিবেচিত ‘কঠোর’ অঙ্গরাজ্য আইনগুলোর বিরুদ্ধে গত মাসে হোয়াইট হাউস একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। চীন ভিন্ন পথ নিয়েছে; বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনে নীতিশাস্ত্র বা ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের কিছু বিধান যুক্ত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এআই বেসিক অ্যাক্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আইনটির দুটি পরিপূরক লক্ষ্য রয়েছে: দক্ষিণ কোরিয়ার এআই শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা এবং এআই ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে নাগরিকদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করা।

বিশ্বজুড়ে যে ঐকমত্যের সবচেয়ে মৌলিক ভিত্তি রয়েছে, আমরা সেখান থেকেই এগোচ্ছি। নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এআইয়ের বিকাশ থামানো লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য হলো, মানুষ যেন আস্থার সঙ্গে এটি ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এআই নীতিবিষয়ক দপ্তরের উপমন্ত্রী কিম কিয়ং-মানের এই মন্তব্যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে বাধা না দিয়ে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ মোকাবিলায় ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরির দক্ষিণ কোরিয়ার অভিপ্রায় তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই ব্যবস্থা নির্ধারণ

দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন আইনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই’-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া। এ ধরনের ব্যবস্থা মানুষের জীবন, নিরাপত্তা বা মৌলিক অধিকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আইনে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এআই ব্যবস্থার ওপর বাড়তি নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে:

  • জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা
  • পানীয় জলের উৎপাদনপ্রক্রিয়া
  • স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা
  • চিকিৎসা সরঞ্জামের উন্নয়ন ও ব্যবহার
  • পারমাণবিক উপাদান ও স্থাপনা ব্যবস্থাপনা
  • অপরাধ তদন্তে বায়োমেট্রিক তথ্য বিশ্লেষণ
  • কর্মসংস্থান ও ঋণ মূল্যায়ন
  • পরিবহনব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা
  • জনসেবাকে প্রভাবিত করে এমন সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  • শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন
  • মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও অধিকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে এমন অন্যান্য ক্ষেত্র

উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। জানতে চাওয়া হলে তাদের এআই ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণের যুক্তি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হতে হবে, প্রয়োজনের সময় মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখতে হবে এবং ব্যবহারকারীদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তারা এআইচালিত সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ঋণ বা চাকরির আবেদনকারীদের বাছাইয়ে ব্যবহৃত ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।

আইনটিতে ‘উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষায় ‘উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন এআই’-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বিধিতে প্রধানত নির্দিষ্ট প্রয়োগক্ষেত্রের ঝুঁকির ওপর গুরুত্ব দেয়। দক্ষিণ কোরিয়া ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রযুক্তিগত সীমামান প্রয়োগ করে নির্ধারণ করেছে, কোন ব্যবস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়বে। এসব সীমামানের মধ্যে প্রশিক্ষণে মোট গণনাশক্তির ব্যবহারের মতো সূচক রয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তার শর্তের আওতায় পড়বে কেবল খুব সীমিতসংখ্যক উন্নত মডেল।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দেশি বা বিদেশি কোনো এআই মডেলই উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন এআই-সংক্রান্ত এই ধারায় নিয়ন্ত্রণের শর্ত পূরণ করে না। একইভাবে কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশে বর্তমানে কোনো সেবাই ‘উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন’ শ্রেণিতে পড়ে না। তবে ভবিষ্যতে লেভেল ৪ বা তার বেশি পর্যায়ের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এই শর্ত পূরণ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্বচ্ছতার শর্ত ও এআই লেবেলিং

দক্ষিণ কোরিয়ার এআই নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো এআই-তৈরি কনটেন্টে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার শর্ত। নতুন আইনে, বাস্তব বলে ভুল হতে পারে এমন এআই-তৈরি কনটেন্টে কোম্পানিগুলোকে স্পষ্ট বা শ্রবণযোগ্য লেবেল দিতে হবে, যেমন ওয়াটারমার্ক। এই শর্তের লক্ষ্য বিশেষ করে ডিপফেক কনটেন্ট এবং ভুল তথ্য বা প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করে এমন অন্যান্য এআই-তৈরি উপাদান।

কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী লেবেল দেওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন হবে। নিরাপত্তা বা সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য বাস্তব ও এআই-তৈরি কনটেন্টের পার্থক্য বোঝা জরুরি হলে দৃশ্যমান লেবেল বাধ্যতামূলক। তবে গেম, অ্যানিমেশন বা ওয়েবটুনের মতো এআই-নির্মিত সৃজনশীল কনটেন্টের ক্ষেত্রে আইনটি কম দৃশ্যমান পদ্ধতিতে তথ্য জানানোর সুযোগ রেখেছে। এর মধ্যে মেটাডেটায় লেবেল রাখা অন্তর্ভুক্ত, যা শেষ ব্যবহারকারীর চোখে তাৎক্ষণিকভাবে নাও পড়তে পারে।

এই সূক্ষ্ম পদ্ধতি ওয়েবটুন তৈরির মতো শিল্পে প্রশ্ন তুলেছে। প্ল্যাটফর্ম ও নির্মাতারা ‘এআই-তৈরি’ কনটেন্টের সংজ্ঞা কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে অনিশ্চিত। ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি, রং করা বা সম্পাদনার মতো কাজে আংশিকভাবে এআই ব্যবহার করলেও তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কেবল এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করেন এমন ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের আইনটি নিয়ন্ত্রণ করে না। তবে এআইচালিত সৃজনশীল সরঞ্জাম সরবরাহকারী বা এআই-তৈরি কাজ বিতরণকারী প্ল্যাটফর্ম ও কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।

ডিপফেক কনটেন্টের মতো এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে সৃষ্ট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঠেকানোর ন্যূনতম সুরক্ষাব্যবস্থা হলো এআই-তৈরি কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক দেওয়া।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার এই বক্তব্যে এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে মৌলিক সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে লেবেল দেওয়ার ওপর সরকারের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। কনটেন্টে লেবেল দেওয়ার বাইরেও এ স্বচ্ছতার শর্ত এআইচালিত সেবার সঙ্গে ব্যবহারকারীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক তথ্য প্রকাশ অন্তর্ভুক্ত করে। উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন বা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা সরবরাহের সময় কোম্পানিগুলোকে আগেই ব্যবহারকারীদের জানাতে হবে। সাধারণত পপ-আপ সতর্কবার্তা বা চোখে পড়ার মতো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পরিচালন কাঠামো ও শিল্পখাতে সহায়তা

এআই বেসিক অ্যাক্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই নীতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এআই নীতি বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্বে রয়েছে বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। আর জাতীয় এআই কমিটি প্রেসিডেন্টের অধীনে বৃহত্তর এআই নীতির দিকনির্দেশনা পর্যালোচনা ও নির্ধারণ করে। নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় আইনটির আওতায় এআই নীতি কেন্দ্র ও এআই নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটও গঠন করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় এআইয়ের বিকাশ ও প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য আইনটিতে বহু বিধান রাখা হয়েছে। এসব সহায়ক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে এআই গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা, এআই প্রযুক্তির মান নির্ধারণ, এআই প্রশিক্ষণের তথ্যভান্ডার তৈরি এবং কোম্পানিগুলোকে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহারে সহায়তা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং এআই খাতের দক্ষ জনবল উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এআই প্রযুক্তি বিকাশের নীতিগত রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে এমন ‘এআইয়ের মৌলিক পরিকল্পনা’ প্রণয়নের আইনি ভিত্তিও আইনটি তৈরি করেছে। এই পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে, সফল এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবল বিধিনিষেধ নয়, বৈশ্বিক এআই পরিমণ্ডলে উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার সক্রিয় বিকাশও প্রয়োজন।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক চাপ কমাতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার অন্তত এক বছরের অবকাশকাল চালু করেছে। এ সময়ে কর্তৃপক্ষ তথ্য অনুসন্ধানী তদন্ত বা প্রশাসনিক জরিমানা করবে না; বরং পরামর্শ ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেবে। কোম্পানিগুলোকে তাদের ব্যবস্থা আইনের আওতায় পড়ে কি না এবং যথাযথভাবে কীভাবে সাড়া দিতে হবে, তা নির্ধারণে সহায়তার জন্য এআই আইনবিষয়ক বিশেষ সহায়তা ডেস্ক গঠন করা হয়েছে।

এআই নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট ও জাতীয় তথ্য সমাজ সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এআই ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাক্ট সহায়তা ডেস্ক নতুন বিধি মেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম তৈরি, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার বা ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গোপনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়।

বিজ্ঞাপন

আইন মেনে চলার শর্ত ও জরিমানা

দক্ষিণ কোরিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী বা কোরীয় ব্যবহারকারীদের সেবা দেওয়া কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন আইনে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বৈশ্বিক বার্ষিক আয় ১ ট্রিলিয়ন ওন (৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার) বা তার বেশি, দেশে বিক্রি ১০ বিলিয়ন ওন বা তার বেশি, অথবা দেশটিতে দৈনিক অন্তত ১০ লাখ ব্যবহারকারী থাকলে বিদেশি এআই কোম্পানিগুলোকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। বর্তমানে ওপেনএআই ও গুগলের মতো বড় কোম্পানি এই শর্তের আওতায় রয়েছে।

এআই পরিচালনাকারীদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে: যারা এআই তৈরি ও সরবরাহ করেন, সেই এআই উন্নয়ন পরিচালনাকারী; এবং যারা উন্নয়নকারীদের সরবরাহ করা এআই ব্যবহার করে এআই পণ্য বা সেবা দেন, সেই এআই ব্যবহার পরিচালনাকারী। উভয় শ্রেণির ওপর স্বচ্ছতার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণের মূল নজর উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই ও জেনারেটিভ এআই ব্যবস্থার ওপর।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে প্রয়োগের পদ্ধতি অন্যান্য বিচারব্যবস্থার তুলনায় ইচ্ছাকৃতভাবেই নমনীয়। এতে ফৌজদারি শাস্তির বিধান নেই। বরং আইন না মানলে সংশোধনমূলক আদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; সেই আদেশ অমান্য করলেই কেবল সর্বোচ্চ ৩০ মিলিয়ন ওন (২৬ হাজার ২০০ ডলার) জরিমানা করা হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শাস্তিমূলক নয়, বরং আইন মেনে চলায় উৎসাহ দেওয়ার পদ্ধতি।

তুলনায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় লঙ্ঘনের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মাত্রার কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা রয়েছে। জরিমানার মাত্রায় এই বড় পার্থক্য প্রতিফলিত করে, ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ রেখে মৌলিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার যে অভিপ্রায় দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে জরিমানাযোগ্য নির্দিষ্ট তিনটি লঙ্ঘন হলো: উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন বা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা দেওয়ার সময় এআইভিত্তিক কার্যক্রমের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানানো, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগ না করা এবং বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রীর জারি করা স্থগিতাদেশ বা সংশোধনী আদেশ না মানা।

বিজ্ঞাপন

শিল্পখাতের প্রতিক্রিয়া ও স্টার্টআপের উদ্বেগ

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনে সহায়তাকারী ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে সরকার এআই বেসিক অ্যাক্টকে তুলে ধরলেও প্রযুক্তি শিল্পের সবাই এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত নন। দক্ষিণ কোরিয়ার স্টার্টআপগুলো নতুন বিধির কারণে সম্ভাব্য আইন মেনে চলার বাড়তি চাপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে, অন্যান্য দেশের অনুরূপ কাঠামোর চেয়ে আইনটি আগে কার্যকর হওয়ায় এ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্টার্টআপ অ্যালায়েন্সের এক জরিপে দেখা গেছে, এআইনির্ভর স্টার্টআপের মাত্র ২ শতাংশের আনুষ্ঠানিকভাবে আইন মেনে চলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠান স্বীকার করেছে, নতুন আইনের শর্তগুলো তারা পুরোপুরি বোঝে না। এই অস্পষ্টতা প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, আইনের অস্পষ্ট ভাষার কারণে নিয়ন্ত্রণমূলক ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক উন্নয়ন কৌশল নিতে বাধ্য হতে পারেন তাঁরা।

কিছুটা ক্ষোভ আছে—এটা প্রথম আমাদেরই করতে হবে কেন?

দক্ষিণ কোরিয়ার স্টার্টআপ অ্যালায়েন্সের সহ-প্রধান লিম জং-উকের এই মন্তব্যে বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের আগে পূর্ণাঙ্গ এআই বিধির আওতায় পড়া নিয়ে কিছু উদ্যোক্তার হতাশা ফুটে উঠেছে। এআই নিয়ন্ত্রণে প্রথম হওয়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া সুবিধা পাবে, নাকি আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির কোম্পানিগুলো অসুবিধায় পড়বে, তা নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠাতার প্রশ্ন রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এসব উদ্বেগ স্বীকার করেছেন। তিনি নীতিনির্ধারকদের শিল্পখাতের মতামত শুনতে এবং ভেঞ্চার কোম্পানি ও স্টার্টআপগুলোকে পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি সহযোগীদের সঙ্গে এক বৈঠকে লি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আগেভাগে মোকাবিলার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে শিল্পখাতের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অবকাশকালীন সময়ে কোম্পানিগুলোর জন্য দিকনির্দেশনা প্ল্যাটফর্ম ও বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা করে এসব উদ্বেগের জবাব দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, শিল্পখাতের চাপ কমাতে সরকার পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। দেশি ও বিদেশি শিল্পখাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় অবকাশকাল বাড়ানোর কথাও ভাবছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা

দক্ষিণ কোরিয়ার এআই বেসিক অ্যাক্টে এমন একটি স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে, যা অন্যান্য বড় অর্থনীতির পদ্ধতির থেকে আলাদা। আইনটিতে বেসরকারি খাতের স্বায়ত্তশাসনে গুরুত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মডেল এবং নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতায় গুরুত্ব দেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ মডেল—দুটিরই উল্লেখ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত, বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থানীয় দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এআইয়ের বিকাশের সমন্বয় ঘটানোর এক অনন্য পথ বেছে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ইইউর এআই আইনের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার কাঠামোতেও এআই ব্যবস্থা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মৌলিক অধিকার প্রভাব মূল্যায়ন (এফআরআইএ) অন্তর্ভুক্ত। তবে নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট মাত্রা ভবিষ্যতের অধীনস্থ আইন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে, যা ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রকাশিত হওয়ার কথা।

দক্ষিণ কোরিয়া ও ইইউর পদ্ধতির একটি বড় পার্থক্য হলো বাধ্যবাধকতাগুলো কীভাবে সাজানো হয়েছে। ইইউর এআই আইনে এআই মূল্যশৃঙ্খলে অংশগ্রহণকারীদের ধরন অনুযায়ী আলাদা বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এআই ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাক্ট বিভিন্ন ধরনের অংশগ্রহণকারীর মধ্যে পার্থক্য না করে সামগ্রিকভাবে বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে। এ সহজ পদ্ধতিতে জটিলতা কমতে পারে, তবে বৈচিত্র্যপূর্ণ এআই পরিমণ্ডলের বিভিন্ন অংশে যথাযথ নজরদারি প্রয়োগেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই নির্ধারণের পদ্ধতিতেও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইইউর পার্থক্য রয়েছে। ইইউ যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, নিয়োগ ও আইন প্রয়োগের মতো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এআইকে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট প্রয়োগক্ষেত্রের ঝুঁকিতে গুরুত্ব দেয়, দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে প্রযুক্তিগত সীমামান প্রয়োগ করে কোন ব্যবস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়বে তা নির্ধারণ করে। প্রশিক্ষণে মোট গণনাশক্তির ব্যবহারের মতো সূচকও এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে বর্তমান প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থার সংখ্যা অনেক কম হতে পারে।

লঙ্ঘনের জন্য নির্ধারিত শাস্তিতেও নিয়ন্ত্রণ দর্শনের এই পার্থক্য স্পষ্ট। ইইউ বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির বিধান করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাঠামোয় প্রশাসনিক জরিমানা সর্বোচ্চ ৩০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ২৬ হাজার ২০০ ডলার)। এই বড় পার্থক্য শাস্তির বদলে আইন মেনে চলা ও সংশোধনের ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ণাঙ্গ এআই আইন প্রণয়নের বৈশ্বিক এআই পরিমণ্ডলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর পূর্ণাঙ্গ এআই নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গ্রহণকারী দ্বিতীয় দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া এমন একটি নতুন আইনগত দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা এআই পরিচালনায় নিজস্ব পদ্ধতি গড়ে তোলার সময় অন্য দেশগুলো বিবেচনা করতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সামরিক আইন জারি এবং পরবর্তী অভিশংসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আইনটি পাস হওয়া এআই নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন দলের ঐকমত্যের প্রমাণ। ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিপুল দ্বিদলীয় সমর্থনে আইনটি পাস হয়। এআই-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য এতে স্পষ্ট হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, বর্তমান আইনটি চূড়ান্ত কাঠামো নয়, বরং সূচনা। অনেক বিধানের বিস্তারিত বাস্তবায়ন নির্ভর করবে অধীনস্থ আইন ও খাতভিত্তিক নির্দেশিকার ওপর। আইনটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগের এক বছরের প্রস্তুতিমূলক সময়ে এগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণাধীন লক্ষ্য বা খাতের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচেষ্টায় জাতীয় এআই কমিটির সমন্বয়মূলক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ব্যক্তিগত তথ্য ও কপিরাইট থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরক্ষা—সব খাতে এআই ছড়িয়ে পড়ায় কার্যকর পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সতর্ক সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

এআই নিয়ে বৈশ্বিক মানদণ্ড ও পরিচালনা-সংক্রান্ত আলোচনা জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এআইয়ের বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করতে বিধিতে আন্তর্জাতিক সামঞ্জস্য ও সহযোগিতার প্রয়োজন আরও বেড়েছে। বিশেষ করে এআই পরিচালনায় উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পদ্ধতি আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মূল কথা

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন, প্রয়োগ ও ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এআই আইন, এআই বেসিক অ্যাক্ট, প্রণয়ন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
  • আইনে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, পরিবহন ও সরকারি সেবাসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ‘উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন এআই’ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে; এসব ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি ও মানুষের হস্তক্ষেপের সক্ষমতা থাকতে হবে।
  • এআই-তৈরি কনটেন্টে লেবেল দিতে হবে। বাস্তব বলে ভুল হতে পারে এমন কনটেন্টে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক এবং ওয়েবটুন ও অ্যানিমেশনের মতো সৃজনশীল কাজে তুলনামূলক কম দৃশ্যমান লেবেল দিতে হবে।
  • নির্ধারিত আয় বা ব্যবহারকারীর সীমামান পূরণকারী বিদেশি এআই কোম্পানিগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে।
  • আইন না মানলে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিয়ন ওন (২৬ হাজার ২০০ ডলার) জরিমানা হবে। বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এমন ইইউর জরিমানার তুলনায় এটি অনেক কম।
  • শাস্তির বদলে দিকনির্দেশনায় গুরুত্ব দিয়ে আইনটিতে এক বছরের অবকাশকাল রাখা হয়েছে। আইন মেনে চলতে সহায়তা চাওয়া কোম্পানিগুলোর জন্য রয়েছে বিশেষ সহায়তা ডেস্ক।
  • আইন মেনে চলার বাড়তি চাপ ও আইনের অস্পষ্ট ভাষা নিয়ে স্টার্টআপগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে; মাত্র ২ শতাংশ বলেছে, তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আইন মেনে চলার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • এআই প্রযুক্তির জন্য আস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশ্বের শীর্ষ তিন এআই শক্তির একটিতে পরিণত করাই আইনটির লক্ষ্য।
  • উন্নত এআই ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে ইইউর নির্দিষ্ট প্রয়োগক্ষেত্রের ঝুঁকিনির্ভর পদ্ধতির বদলে দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগত সীমামানে গুরুত্ব দিয়েছে।
  • অধীনস্থ আইন ও বিস্তারিত নির্দেশিকা তৈরির এক বছরের প্রস্তুতিকাল শেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আইনটির পূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হবে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে