২২ বছরের মধ্যে প্রথমবার মাথাপিছু জিডিপিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়াল তাইওয়ান

পড়তে 7 মিনিট
২২ বছরের মধ্যে প্রথমবার মাথাপিছু জিডিপিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়াল তাইওয়ান

পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন

দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে তাইওয়ান। পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তির ভারসাম্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। দক্ষিণ কোরিয়া যখন মন্থর অর্থনীতি ও দুর্বল মুদ্রার চাপে রয়েছে, তখন সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক উত্থানের জোরে প্রবল প্রবৃদ্ধির ঢেউয়ে এগিয়ে চলেছে তাইওয়ান। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ২২ বছরের এমন এক সময়ের অবসান হলো, যখন দ্বীপ প্রতিবেশীটির তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল।

সূচিপত্র
  1. পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন
  2. পার্থক্যের পেছনের চালিকাশক্তি
  3. সেমিকন্ডাক্টর ও এআইয়ের উত্থান
  4. দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
  5. বিনিময় হারের ভূমিকা
  6. সামনের পথ: ভবিষ্যৎ গতিপথ
  7. সংখ্যার বাইরের প্রেক্ষাপট ও সূক্ষ্মতা
  8. মূল কথা

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংক অব কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির ডলারভিত্তিক নামমাত্র জিডিপি ১.৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৫ শতাংশ কম। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি আনুমানিক ৩৬,১০৭ ডলার হবে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১১৬ ডলার কম। বিপরীতে, তাইওয়ানের পরিসংখ্যান সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৩৮,৭৪৮ ডলারে পৌঁছাবে। এই ব্যবধানে ২০০৩ সালের পর প্রথমবার দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে এগিয়ে থাকছে তাইওয়ান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনেও এই পরিবর্তনের সত্যতা মেলে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাথাপিছু জিডিপিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বৈশ্বিক অবস্থান ২০২৪ সালের ৩৪তম স্থান থেকে ২০২৫ সালে ৩৭তম স্থানে নেমে যাবে, আর তাইওয়ান ৩৮তম থেকে উঠে আসবে ৩৫তম স্থানে। এটি নিছক পরিসংখ্যানগত সাময়িক বিচ্যুতি নয়; বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দুই অর্থনীতির কর্মক্ষমতার গভীর কাঠামোগত পার্থক্যও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পার্থক্যের পেছনের চালিকাশক্তি

এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হলো রপ্তানি কার্যক্রম ও মুদ্রার বিনিময়মূল্যে দুই দেশের সম্পূর্ণ ভিন্ন গতিপথ। উভয় দেশই বড় রপ্তানিকারক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে তাইওয়ান। এর বড় কারণ, সেমিকন্ডাক্টর ফাউন্ড্রি বাজারে তাইওয়ানের আধিপত্য। এই খাতই তাইওয়ানের অর্থনৈতিক উত্থানের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে।

গত বছর তাইওয়ানের রপ্তানি রেকর্ড ৬৪০.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪.৯ শতাংশ বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানিও ৭০৯.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছে, তবে প্রবৃদ্ধির হার ছিল অনেক কম। দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি ২৬.১ বিলিয়ন ডলার বাড়লেও তাইওয়ানের বেড়েছে ১৬৫.৮ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে মাত্র এক বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় তাইওয়ানের রপ্তানির মূল্য ৬৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তাইওয়ানের সামগ্রিক অর্থনীতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় অর্ধেক হওয়ায়, রপ্তানির এই উচ্চমাত্রা মাথাপিছু সম্পদ বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি।

সেমিকন্ডাক্টর ও এআইয়ের উত্থান

তাইওয়ানের সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, যার নেতৃত্বে আছে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিষেবা উন্নয়নে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে তাইওয়ানে তৈরি উন্নত চিপের চাহিদা বিপুলভাবে বেড়েছে। এনভিডিয়া, এএমডি ও অ্যামাজনের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টরা স্থানীয় প্রযুক্তি-পরিবেশের সুবিধা নিতে দ্বীপটিতে গবেষণাকেন্দ্র ও ডেটা স্থাপনা গড়ে তুলছে এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।

এই খাতের শক্তির ফলে তাইওয়ানের প্রকৃত জিডিপিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, এআইয়ের উত্থানের জোরে ২০২৫ সালে তাইওয়ানের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭.৪ শতাংশে পৌঁছাবে। আগামী বছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও বড় বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর ধারণা, তাইওয়ানের গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ থাকবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ২ শতাংশ সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তাইওয়ান ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিসার্চের পরিচালক গর্ডন সান সম্প্রতি তাইওয়ানের অর্জিত বিশেষ সুবিধাগুলো তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবর্তন, মহামারির সময় ডিজিটাল রূপান্তরের গতি বৃদ্ধি এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং ও এআইয়ের চাহিদার ধারাবাহিক সম্প্রসারণ থেকে তাইওয়ান উপকৃত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

তাইওয়ানের প্রবৃদ্ধি যখন গতি পাচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি তখন একাধিক প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতাকে দুর্বল করেছে। টানা চার বছর ধরে দেশটির প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশের নিচে রয়েছে। গত বছর প্রবৃদ্ধি সম্ভবত মাত্র ১ শতাংশে নেমে আসে, যা মহামারির কারণে ২০২০ সালের সংকোচনের পর সবচেয়ে দুর্বল ফল।

ডলারভিত্তিক দক্ষিণ কোরীয় জিডিপি কমে যাওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো কোরীয় ওনের দুর্বলতা। গত বছর গড় বিনিময় হার আগের বছরের তুলনায় ৪.৩ শতাংশ কমেছে। মুদ্রার এই অবমূল্যায়নের অর্থ, স্থানীয় মুদ্রায় অর্থনীতি বাড়লেও ডলারে রূপান্তরের সময় এর মূল্য কমে যায়। ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওনে পরিমাপ করা জিডিপি প্রায় ২৯ শতাংশ বাড়লেও একই সময়ে ডলারভিত্তিক জিডিপি বেড়েছে মাত্র ৭ শতাংশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার এমন কিছু কাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে, যেগুলোর সমাধান স্বল্পমেয়াদে কঠিন। দেশটির জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে এবং বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের দেশগুলোর একটি এটি। কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার জন্য হুমকি। এ ছাড়া, গাড়ি, জাহাজ ও মেমোরি চিপের মতো ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী খাতগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা ও প্রযুক্তিগত স্থবিরতার মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির মতো বহিরাগত ঝুঁকিও দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানির সম্ভাবনাকে মেঘাচ্ছন্ন করছে। জনমিতিক ও শিল্প খাতের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কাঠামোগত সংস্কারের অভাব, প্রযুক্তি খাতে তাইওয়ানের সুনির্দিষ্ট ও গতিশীল অগ্রযাত্রার তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিনিময় হারের ভূমিকা

এই অবস্থান নির্ধারণে মুদ্রার বিনিময়মূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোরীয় ওনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও জাপানি ইয়েন ও কোরীয় ওনের তুলনায় নতুন তাইওয়ান ডলারের অবমূল্যায়ন হয়েছে অনেক ধীরগতিতে। এই আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা ডলারে রূপান্তরের সময় তাইওয়ানের জিডিপির মূল্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। ওনের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় আমদানি করা কাঁচামালের খরচ বেড়ে যায়, ফলে দেশটির পণ্যের মূল্য-প্রতিযোগিতা কমে।

শিনহান ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ বেক সোক-হিয়ন জিডিপি হিসাবের ওপর বিনিময় হারের উল্লেখযোগ্য প্রভাবের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ ভোগ পুনরুদ্ধারে বিলম্বের মতো কারণও পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখলেও, ডলারভিত্তিক জিডিপির পরিমাণ কমে যাওয়ার পেছনে ওনের অবমূল্যায়ন একটি বড় চালিকাশক্তি।

সামনের পথ: ভবিষ্যৎ গতিপথ

বর্তমান পূর্বাভাস বলছে, অদূর ভবিষ্যতে তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। মাথাপিছু জিডিপি ৪০,০০০ ডলারে পৌঁছানোর প্রতীকী মাইলফলক দক্ষিণ কোরিয়ার আগে অর্জনের পথে রয়েছে তাইওয়ান। চীন প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে তাইওয়ানের মাথাপিছু জিডিপি ৪০,৯২১ ডলারে পৌঁছাবে। কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে তাইওয়ান ৫০,০০০ ডলারের স্তরে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে ৪০,০০০ ডলারের সীমায় পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; মুদ্রা দুর্বল থাকলে তা ২০২৮ সাল বা তার পরেও হতে পারে। আইএমএফ প্রথমে পূর্বাভাস দিয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৭ সালে এই মাইলফলকে পৌঁছাবে, কিন্তু পরে সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছে। এই বিলম্ব জোরালো প্রবৃদ্ধির গতি ফিরিয়ে আনতে দেশটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোরই ইঙ্গিত দেয়।

নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ পার্ক জং-উ সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার সম্পর্কে সতর্ক মূল্যায়ন দিয়েছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে, আর তাইওয়ানের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের আয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে থাকবে।

বিজ্ঞাপন
"মাথাপিছু জিডিপিতে এই পরিবর্তন মূলত ওনের দুর্বলতা এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু বিকৃতির প্রতিফলন; তাই একে অতিরিক্ত হতাশাবাদী দৃষ্টিতে দেখার প্রয়োজন নেই। তবে তাইওয়ানের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পেছনে থাকা নীতিগত সহায়তা ও করপোরেট বিনিয়োগ কৌশল দক্ষিণ কোরিয়ার নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা এবং সেগুলোকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।"

— হুন্দাই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক গবেষণাবিষয়ক উপপরিচালক জু ওন

সংখ্যার বাইরের প্রেক্ষাপট ও সূক্ষ্মতা

মাথাপিছু জিডিপির অবস্থান অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও, একে সমৃদ্ধি বা জীবনযাত্রার মানের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাথাপিছু জিডিপি একটি গড় হিসাব; এতে আয়ের বৈষম্য আড়াল হতে পারে, আর স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতিও এতে বিবেচনায় আসে না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তাইওয়ানের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হলেও দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের গড় মজুরি তাইওয়ানের চেয়ে বেশি। এর ইঙ্গিত, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে তাইওয়ানের অর্থনীতি বিপুল সম্পদ সৃষ্টি করলেও সেই সম্পদের বণ্টন ভিন্ন হতে পারে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নিক মারো উল্লেখ করেছেন, অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় তাইওয়ানে পারিশ্রমিকের মাত্রা এখনো বেশ কম, যা আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকৃষ্ট করা ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

এ ছাড়া, মাথাপিছু হিসাবের অবস্থান নির্ধারণে জনসংখ্যার আকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ গাণিতিক বিষয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৫১.৭ মিলিয়ন, যা তাইওয়ানের ২৩.৪ মিলিয়নের দ্বিগুণেরও বেশি। এই বড় জনসংখ্যার কারণে মাথাপিছু হিসাবের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া কাঠামোগতভাবে অসুবিধায় পড়ে, যদিও সামগ্রিক আকারে দেশটির অর্থনীতি বড়। মোট পরিমাণে দক্ষিণ কোরিয়ার নামমাত্র জিডিপি এখনো তাইওয়ানের প্রায় দ্বিগুণ।

তাইওয়ানের বাসিন্দারাও উল্লেখ করেছেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উত্থানের সুফল সমাজের সব অংশে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। কারও কারও মতে, প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ হলেও সেবা খাত ও গড় মজুরি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি, ফলে উন্নয়নের ভারসাম্যহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে, দক্ষিণ কোরিয়ার চ্যালেঞ্জগুলোও অতিক্রম করা অসম্ভব নয়; দেশটির উল্লেখযোগ্য শিল্প-সামর্থ্য ও অত্যন্ত দক্ষ কর্মীবাহিনী রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মূল কথা

মাথাপিছু জিডিপিতে তাইওয়ানের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার পিছিয়ে পড়া একটি মাইলফলক ঘটনা, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজেদের অবস্থান কাজে লাগিয়ে কীভাবে তাইওয়ান দ্রুত সম্পদ বাড়িয়েছে, তা এতে স্পষ্ট হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এই পরিবর্তন বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলের দুর্বলতা এবং মুদ্রার ওঠানামার প্রভাব সম্পর্কে সতর্কবার্তা।

  • ২০০৩ সালের পর প্রথমবার মাথাপিছু জিডিপিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়িয়েছে তাইওয়ান; তাইওয়ানের পরিমাণ প্রায় ৩৮,০৬৬ ডলার, আর দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৭,৪৩০ ডলার।
  • তাইওয়ানের রেকর্ড সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি ও এআই খাতের উত্থানের বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার মন্থর প্রবৃদ্ধি ও দুর্বল মুদ্রা এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।
  • তাইওয়ানের রপ্তানি প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।
  • কোরীয় ওনের মূল্য ৪ শতাংশের বেশি কমেছে, ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উৎপাদনের ডলারমূল্য হ্রাস পেয়েছে।
  • দক্ষিণ কোরিয়ার আগে ২০২৬ সালে তাইওয়ানের মাথাপিছু জিডিপি ৪০,০০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
  • মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়ার গড় মজুরি তাইওয়ানের চেয়ে বেশি, যা সম্পদ বণ্টনের পার্থক্য নির্দেশ করে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে