বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি
ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। চুক্তিটি নিয়ে অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন। অসম শর্তের এই চুক্তিতে চলতি মাসের শেষের দিকে সই হওয়ার কথা। চুক্তি চূড়ান্ত করতে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো হোয়াইট হাউসে যাবেন। ইন্দোনেশীয় সরকার দ্রুত মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিতে এগিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিতে শূন্য শতাংশ শুল্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজে প্রবেশাধিকার। তবে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানির ক্ষেত্রে শর্তগুলো অনেক কম সুবিধাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করা ইন্দোনেশীয় পণ্যে ১৯ শতাংশ শুল্ক বসবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না—এমন পণ্য, যেমন পাম তেল ও কোকো, এর ব্যতিক্রম হবে।
সূচিপত্র
দ্রুত এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় মাত্র ছয় মাসে ওয়াশিংটনের জন্য আরও ভালো শর্ত নিশ্চিত হয়েছে। অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে প্রায় এক দশক লেগেছিল। এ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে বিস্ময় দেখা দিয়েছে। ইন্দোনেশীয় সরকার আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য এবং ৫০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে। এতে মার্কিন পক্ষের জন্য চুক্তিটি আরও আকর্ষণীয় হয়েছে। তবে এই একতরফা ব্যবস্থা অন্য প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের—বিশেষ করে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের—সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা
প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইএসের নির্বাহী পরিচালক ইয়োসে রিজাল দামুরি চুক্তিটি ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে বলে জোরালো উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর সতর্কতা, যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অন্য দেশগুলোকেও একই শর্ত দাবি করতে উৎসাহিত করতে পারে, এমনকি তারা সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপও নিতে পারে। চুক্তির কাঠামোতে স্পষ্ট বৈষম্য রয়েছে, যা বাণিজ্য অংশীদারদের কাছে বৈষম্যমূলক বলে মনে হতে পারে।
"[ইন্দোনেশিয়া] অন্য দেশগুলোর চাপের মুখে পড়বে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো একই সুবিধা চাইবে। ... চীন এটিকে একই সুবিধা দাবি করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নও তা করতে পারে। ... মনে রাখবেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে আমাদের প্রায় ১০ বছর লেগেছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৬ মাসে আরও ভালো শর্ত আদায় করেছে," ইয়োসে বলেন।
উদ্বেগটা শুধু এই নয় যে অন্য দেশগুলো সমান সুবিধা চাইবে; ওয়াশিংটনকে দেওয়া ছাড়ের কারণে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নিতে পারে। ইয়োসে জোর দিয়ে বলেন, এমন পাল্টা পদক্ষেপ ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এই মনোভাব বৃহত্তর এক উদ্বেগের প্রতিফলন—ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি সুবিধা পেতে গিয়ে জাকার্তা হয়তো দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলছে, আর এতে বহু বছর ধরে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অংশীদারেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চীনের সঙ্গে জ্বালানি ও গ্যাস খাত বাদে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য ঘাটতি ১৯.২৮ বিলিয়ন ডলার হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তির আওতায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় রপ্তানি কার্যক্রমে বর্তমানে শূন্য শুল্ক রয়েছে। এর ফলে ব্যাপক বাণিজ্যের জন্য একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিতে বেইজিং বড় বিনিয়োগকারী। আশঙ্কা হলো, এভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিলে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এমন এক প্রতিবেশীর সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে, যে দেশটি ইন্দোনেশিয়ার সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইয়োসে রিজাল দামুরি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটিকে ভিত্তি করে চীনও অভিন্ন সুবিধা দাবি করতে পারে। এমন দাবি পূরণ না হলে বেইজিং জাকার্তার ওপর চাপ দিতে তার অর্থনৈতিক প্রভাব কাজে লাগাতে পারে; যেমন নিজস্ব বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা বা বিনিয়োগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন এই চুক্তিতে তা এখন বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউরোপের অসন্তোষ
সম্ভাব্য বিরোধের আরেকটি ক্ষেত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জ্বালানি ও গ্যাস খাত বাদে ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৬.৫৫ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় বাজারের গুরুত্ব এই অঙ্কে স্পষ্ট। দুই পক্ষই একটি ব্যাপক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে, যার ফলে একে অপরের পণ্যে কার্যত সব শুল্ক উঠে যাবে। চুক্তিটি আগামী বছর থেকেই কার্যকর হতে পারে। দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনার ফল এই সম্ভাব্য চুক্তি।
তাই যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্দোনেশিয়ার দ্রুত দেওয়া ছাড়ের বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নজরে এসেছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ শতাংশ শুল্ককে অন্য দেশগুলোর জন্য ট্রাম্পের হুমকি দেওয়া হারের তুলনায় কম মনে করতে পারেন। তবে ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পণ্যের আমদানিতে পাল্টা শুল্ক না থাকাটাই আপত্তির মূল বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে মার্কিন পণ্যকে কোনো শুল্ক ছাড়াই ইন্দোনেশিয়ার বাজারে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পুরোপুরি এই সুবিধা আদায়ের জন্য এখনো আলোচনা চালাচ্ছে। এই অসামঞ্জস্যের কারণে ব্রাসেলস ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে, অথবা জাকার্তার সঙ্গে নিজেদের বাণিজ্য উদারীকরণের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
দেশীয় শিল্পের উদ্বেগ
ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়ী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু খাত যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জ্বালানি চুক্তি থেকে লাভবান হতে পারে। তবে অন্যরা উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানিতে প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। নতুন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জুতা ও বস্ত্রের মতো ইন্দোনেশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যে ১৯ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল থাকবে। এতে দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠন আপিন্দো আশা করছে, শেষ পর্যন্ত এসব উৎপাদিত পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
ইন্দোনেশিয়ায় বস্ত্র ও জুতা শিল্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। শুল্ক বাধা বহাল থাকলে লাভজনক মার্কিন বাজারে এসব শিল্পের প্রবৃদ্ধি সীমিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চুক্তিটিকে "পারস্পরিক সুবিধা থেকে অনেক দূরে" বলে মনে করায় দেশের ভেতরের সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, জ্বালানি ও খনিজের মতো কৌশলগত খাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি অর্থনীতির বড় অংশ চালানো শ্রমনির্ভর উৎপাদন খাতগুলো সমতুল্য সুবিধা পায়নি। চুক্তিতে সইয়ের প্রস্তুতির সময় এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সরকারের কৌশলকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ট্রাম্পের বৃহত্তর বাণিজ্য কৌশল
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতির বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে "পারস্পরিক" শুল্ক আরোপ করেছেন। তাঁর লক্ষ্য, যেসব বাণিজ্যচর্চাকে তিনি অন্যায্য মনে করেন সেগুলোর মোকাবিলা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। এই কৌশলে বাণিজ্য অংশীদারদের আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য উচ্চ শুল্কের—কখনো কখনো ৫০ শতাংশ পর্যন্ত—হুমকি দেওয়া হয়।
ট্রাম্প ভিয়েতনামসহ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে একই ধরনের কাঠামোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার চুক্তির কথাও ঘোষণা করেছেন। তিনি এগুলোকে মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থের বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য ও ৫০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে। তিনি চুক্তিটিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়ার পুরো বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের চুক্তি প্রায়ই তাড়াহুড়ো করে করা হয় এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদাররা কূটনৈতিকভাবে নাজুক অবস্থায় পড়তে পারে। আলোচনার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে শুল্কের হুমকি ব্যবহারে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অংশীদাররা নিশ্চিত হতে পারছে না, আজ হওয়া চুক্তি কালও বহাল থাকবে কি না।
ভূরাজনৈতিক প্রভাব
তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরেও এই বাণিজ্য চুক্তির উল্লেখযোগ্য ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ঐতিহ্যগতভাবে জোটনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মতো বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখেছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন শর্তের জন্য চাপ দিয়েছে, যা চীনের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক সীমিত করতে পারে; বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে।
এতে জাকার্তা কঠিন অবস্থানে পড়েছে। স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং বৃহত্তম প্রতিবেশীর সঙ্গে সংঘাত এড়াতে এসব দাবি প্রতিহত করা জরুরি। কিন্তু তা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দিনো পাত্তি জালাল জাকার্তার অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের ফলে ইন্দোনেশিয়া যেন "নীতির সঙ্গে আপস করা অনুগত দেশে" পরিণত না হয়। তাঁর মন্তব্যে এই উদ্বেগ ফুটে উঠেছে যে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সুফল নাও দিতে পারে এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে দরকষাকষি চলছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সন্ধিক্ষণে
এই পরিস্থিতি বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল চিত্র তুলে ধরেছে। বহুপক্ষীয় চুক্তি এবং ধীরগতির, ঐকমত্যভিত্তিক আলোচনার যুগের জায়গা নিচ্ছে লেনদেননির্ভর দ্বিপক্ষীয় পদ্ধতি, যেখানে শুল্কের হুমকি বড় ভূমিকা রাখছে। এতে ছোট অর্থনীতিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে পড়ছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে তাদের প্রায়ই কোনো এক পক্ষ বেছে নিতে হচ্ছে, অথবা প্রতিকূল শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার চ্যালেঞ্জ হলো, ঐতিহ্যবাহী অংশীদারদের থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। ইয়োসে রিজাল দামুরির মতো বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা এক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্যগুলোকে উপেক্ষা করার ঝুঁকি তুলে ধরেছে। চুক্তিতে সইয়ের তারিখ যত এগিয়ে আসছে, বেইজিং ও ব্রাসেলসের প্রতিক্রিয়া জাকার্তা কীভাবে সামাল দেয় এবং ওয়াশিংটনের দেখানো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি সম্ভাব্য কূটনৈতিক মূল্য দেওয়ার মতো কি না, সেদিকেই সবার নজর থাকবে।
মূল বিষয়গুলো
- ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করছে। এতে ইন্দোনেশীয় রপ্তানিতে ১৯ শতাংশ শুল্ক বসবে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কমুক্তভাবে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করবে।
- জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়োসে রিজাল দামুরি সতর্ক করেছেন, চুক্তির একতরফা প্রকৃতির কারণে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।
- চীন ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এই চুক্তি জাকার্তার অর্থনৈতিক কূটনীতির সূক্ষ্ম ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের বাণিজ্যিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্দোনেশিয়ার দেওয়া ছাড়কে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাধা হিসেবে দেখতে পারে।
- আপিন্দোর মতো দেশীয় শিল্প সংগঠনগুলো উদ্বিগ্ন যে নতুন চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানিতে শুল্ক বহাল থাকবে।
- ট্রাম্প প্রশাসন ছাড় আদায়ে বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে শুল্কের হুমকি ব্যবহার করছে, যা বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।






