ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে মিক্সু
কম দামের দুধ চা ও আইসক্রিমের জন্য পরিচিত চীনা পানীয় জায়ান্ট মিক্সু মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কথা জানানোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় কম পারফরম্যান্সের বেশ কয়েকটি আউটলেট বন্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দক্ষতা বাড়ানো এবং দোকানের নেটওয়ার্ক আরও কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে ইঙ্গিত মিলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলো থেকে সরে না এসে বরং দুর্বল অবস্থানের দোকানগুলো ছাঁটাই করছে চেইনটি।
সূচিপত্র
- ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে মিক্সু
- সংখ্যায়
- দোকানগুলো কেন বন্ধ করা হলো?
- মিক্সুর ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার অর্থনীতি
- আরও ভালো অবস্থানের দোকানে জোর
- বিদেশি দলের জন্য প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও সরবরাহ
- মিক্সুর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে ভিয়েতনামের অবস্থান
- প্রতিদ্বন্দ্বী, উপস্থিতি ও কফি নিয়ে মিক্সুর পরিকল্পনা
- যে ঝুঁকিগুলো নজরে রাখতে হবে
- যা জানা জরুরি
সিদ্ধান্তটির সঙ্গে এসেছে আশাব্যঞ্জক আর্থিক ফলাফল। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মিক্সুর নিট মুনাফা ছিল ২.৭২ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান (সিএনওয়াই), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি। এ সময় রাজস্ব দাঁড়ায় ১৪.৮৭ বিলিয়ন ইউয়ানে, যা বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে। কঠোরভাবে পরিচালিত সরবরাহব্যবস্থা এবং বেশি বিক্রি হয় এমন কম দামের পণ্যনির্ভর মেনুর সহায়তায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও বিদেশে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে তারা।
২০২৫ সালের জুনের শেষ নাগাদ চীনের বাইরে মিক্সুর আউটলেট ছিল ৪,৭০০টির বেশি। ২০২৪ সালের শেষের তুলনায় এই সংখ্যা ১৬২টি কম, কারণ ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু দোকান বন্ধ বা অন্যত্র সরানো হয়েছে। দোকানের সংখ্যার বিচারে এই দুই দেশই এখনো কোম্পানির বৃহত্তম বিদেশি বাজার। এর আগে মিক্সু জানিয়েছিল, চীনে তাদের প্রায় ৪৮,৩০০টি দোকান রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি দ্রুত বেড়েছে: গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ৪৫,৩০২টি আউটলেট থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বজুড়ে সংখ্যা ৫৩,০০০ ছাড়ায়।
এই সম্প্রসারণে ভিয়েতনাম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। শিল্প খাতের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত মোমেন্টাম ওয়ার্কসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ভিয়েতনামে মিক্সুর দোকান ছিল প্রায় ১,৩০৪টি। চীনের বাইরের বাজারগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ২,৬৬৭টি দোকানের পরই ছিল ভিয়েতনামের অবস্থান। দেশটিতে মিক্সুর জনপ্রিয়তার ভিত্তি আগ্রাসী মূল্যনীতি। লেমোনেড, দুধ চা ও ফলের চা সাধারণত ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ভিয়েতনামি ডংয়ে বিক্রি হয়। সাশ্রয়ী দামের খোঁজে থাকা শিক্ষার্থী ও তরুণ কর্মীদের লক্ষ্য করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ঘন ঘন কেনাকাটায় উৎসাহ জোগায়।
সংখ্যায়
সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা মিক্সুর প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। পণ্যের উপকরণের দামে ওঠানামা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি মোট মুনাফার হার ৩০ শতাংশের নিম্ন প্রান্তের কাছাকাছি রাখতে পেরেছে। বিদেশে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাদের দোকান ছিল ৪,৭৩৩টি। ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় দোকান কমানোকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে সরে যাওয়ার বদলে নেটওয়ার্ক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কম দামে বেশি বিক্রির মডেলের সুবাদে পুরো ব্যবস্থায় বছরে এখনো কয়েক শ কোটি কাপ পানীয় বিক্রির কথা জানায় ব্র্যান্ডটি।
দোকানগুলো কেন বন্ধ করা হলো?
ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় দোকান বন্ধ ও স্থানান্তরের বিষয়টিকে কর্মকর্তারা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নেওয়া সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ক্রেতা চলাচল কম এমন দোকান এবং কাছাকাছি মিক্সুর অন্য দোকানের সঙ্গে যেগুলোর বড় ধরনের ওভারল্যাপ ছিল, সেগুলোই মূল লক্ষ্য। উদ্দেশ্য হলো একই ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর মধ্যে গ্রাহক ভাগাভাগি কমানো, প্রতি দোকানে গড় বিক্রি বাড়ানো এবং প্রতিটি বাণিজ্যিক এলাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আয় উন্নত করা।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বাজারের বাস্তবতা। ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকায় দ্রুত দোকান খোলার ফলে এমন কিছু গুচ্ছ তৈরি হয়েছিল, যেখানে দোকানগুলো একই দাম-সংবেদনশীল গ্রাহকদের জন্য প্রতিযোগিতা করছিল। ভাড়া ও মজুরি বৃদ্ধি এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তনশীল ফি কম বিক্রির দোকানগুলোর সীমিত মুনাফায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিছু দোকানের অবস্থানও দৃশ্যমানতার দিক থেকে অনুকূল নয়, কিংবা বসার জায়গা সীমিত। ভিয়েতনামে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে দুধ চা শুধু পথে চলতে চলতে পান করার পানীয় নয়, সামাজিকভাবে সময় কাটানোরও উপলক্ষ। এসব সমস্যা সমাধান এবং ভালো পারফরম্যান্সের সড়ক ও এলাকায় সম্পদ সরাতেই দোকান বন্ধ ও স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মিক্সুর ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার অর্থনীতি
মিক্সুর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের ভিত্তি ফ্র্যাঞ্চাইজিং। ফ্র্যাঞ্চাইজিরা সরঞ্জামের খরচ বহন করেন এবং কোম্পানির অনুমোদিত উপকরণ ও প্যাকেজিং কেনেন। এই সরবরাহব্যবস্থা থেকে মূল কোম্পানি রাজস্বের উল্লেখযোগ্য অংশ পায়, যা পণ্যের মানে সামঞ্জস্য বজায় রেখে মেনুর দাম কম রাখতে সহায়তা করে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সাফল্য নির্ভর করে দোকানে বেশি ক্রেতা আসা ও দ্রুত বিক্রির ওপর, কারণ প্রতি কাপের মুনাফা কম।
২০২৩ সালের শেষ দিকে ভিয়েতনামে ব্যবসার টানাপোড়েন সামনে আসে। খুচরা বিক্রির দাম কমানোর প্রতিবাদে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কয়েকটি দল হ্যানয়ে জড়ো হয়। তাদের দাবি ছিল, এই মূল্যছাড় সামাল দেওয়া কঠিন। বাজারের আরও অংশ পেতে কোম্পানি পণ্যের খুচরা দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমায়। একই সময়ে কাঁচামালের দাম কমানো হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ। কয়েকজন ফ্র্যাঞ্চাইজির যুক্তি ছিল, ভাড়া, শ্রম ও ইউটিলিটি খরচ হিসাব করার পর স্বল্পমেয়াদে এতে ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ লোকসান হতে পারে। দোকানের ঘনত্ব এবং কাছাকাছি ফ্র্যাঞ্চাইজি আউটলেটগুলোর সরাসরি প্রতিযোগিতা থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা না পাওয়া নিয়েও অভিযোগ ওঠে। বিরোধগুলো চেইনটির প্রবৃদ্ধি থামাতে পারেনি, তবে কম দামের মডেলে প্রতি দোকানের আয়-ব্যয়ের হিসাব কতটা সংবেদনশীল হতে পারে তা স্পষ্ট করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে কম পারফরম্যান্সের দোকান বন্ধ করা এবং অন্যগুলো স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা কমানো ও ভিয়েতনামের নেটওয়ার্কের আয়ের চিত্র উন্নত করা। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর অবস্থানের দোকানকে অগ্রাধিকার দিতে কোম্পানি যে নেটওয়ার্কের মানচিত্র বদলাতে প্রস্তুত, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে সেটিও স্পষ্ট হচ্ছে।
আরও ভালো অবস্থানের দোকানে জোর
কোম্পানির নেতারা বর্তমান কৌশলকে দুর্বল অবস্থান থেকে ভালো অবস্থানে দোকান সরানোর প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে না নিয়ে মিক্সু আউটলেট সরাচ্ছে বেশি দৃশ্যমান সড়কে, কিংবা এমন এলাকায় যেখানে শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষের ঘনত্ব বেশি এবং ব্র্যান্ডটির সাশ্রয়ী দামের প্রস্তাব সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
ফ্রন্টএন্ড সরবরাহব্যবস্থার প্রধান ও নির্বাহী পরিচালক কাই ওয়েইমিয়াও সাম্প্রতিক মন্তব্যে দোকান স্থানান্তরের প্রভাব তুলে ধরেন।
কিছু দোকানের বদলে অন্য স্থানে নতুন দোকান খোলা হয়েছে, এতে দৈনিক বিক্রি ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
কম দামের পানীয়ের খুচরা ব্যবসায় অবস্থান বরাবরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি কেনাকাটায় গড় ব্যয় কম এমন ঘন ঘন বিক্রি হওয়া পণ্যের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থান, অপেক্ষার সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা এবং স্কুল, যাতায়াতকেন্দ্র ও আবাসিক এলাকার কাছে দোকানের ঘন উপস্থিতি জরুরি। চীনের অভ্যন্তরেও সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে মিক্সু। নিম্নস্তরের শহর ও ছোট শহরগুলোতে তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী, যেখানে ভাড়া কম এবং সাশ্রয়ী পানীয়ের চাহিদা স্থিতিশীল। এখন বিদেশের বাজারেও মানের ওপর জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি: নেটওয়ার্ক বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি দোকানের পারফরম্যান্স আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিদেশি দলের জন্য প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও সরবরাহ
সেবা উন্নত করা ও কার্যক্রমে মানসমতা আনতে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে মিক্সু বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য চীনে নিয়ে যাচ্ছে। এ বছর একটি বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সহায়তাকেন্দ্র খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে কোম্পানিটির। এ ধরনের বিশেষায়িত সহায়তাকেন্দ্রের মাধ্যমে কেনাকাটা, দোকান নিরীক্ষা, বিপণন নির্দেশিকা ও ডিজিটাল সরঞ্জাম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। দ্রুত বাড়তে থাকা বাজারে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় এসব সহায়তা কাজে লাগে।
সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। হাইনানে নতুন উৎপাদনকেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রপ্তানি চাহিদা পূরণ শুরু হয়েছে। এতে সিরাপ ও পাউডারের মতো পণ্যের সরবরাহের সময় কমবে এবং পরিবহন খরচও হ্রাস পাবে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে চিনি ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমায় কোম্পানির মুনাফার হার ভালো ছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে কেনাকাটা করায় খরচ নিয়ে দর-কষাকষিতেও মিক্সু সুবিধা পেয়েছে। প্রতি কাপের দাম কম রেখেও প্রতিটি দোকানের লাভজনকতা বজায় রাখাই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।
মিক্সুর বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে ভিয়েতনামের অবস্থান
মিক্সুর প্রথম বিদেশি বাজার ছিল ভিয়েতনাম। ২০১৮ সালে হ্যানয়ে একটি দোকান খোলার মাধ্যমে সেখানে যাত্রা শুরু করে ব্র্যান্ডটি। দোকানের সংখ্যার বিচারে দেশটি তখন থেকে চেইনটির অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বাজারে পরিণত হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ শিল্প খাতের পর্যবেক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামে মিক্সুর আউটলেট ছিল প্রায় ১,৩০৪টি। বিদেশি বাজারগুলোর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়ায় ছিল এর চেয়ে বেশি দোকান।
এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্ট। ভিয়েতনামের বড় শহরগুলোতে তরুণ গ্রাহকের সংখ্যা বেশি, যাদের দুধ চা, ফলের চা ও সফট সার্ভ আইসক্রিমের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। প্রতিদিনের ছোটখাটো আনন্দের পণ্যে দাম নিয়ে সংবেদনশীলতা বেশি। মিক্সুর ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ডংয়ের পণ্যের পরিসর তাই ঘন ঘন কেনাকাটার বাধা কমায়। স্মার্টফোনের ব্যবহার ব্যাপক হওয়ায় প্রচারণা ও ডেলিভারি সহজে সমন্বয় করা যায়। অভিজাত বিপণিবিতানের সড়ক থেকে শুরু করে পাড়ার প্রধান সড়ক ও প্রাদেশিক শহর পর্যন্ত ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি রয়েছে। এসব এলাকার ভাড়া তুলনামূলক কম এবং ক্রেতার চলাচল স্থিতিশীল।
দুর্বল পারফরম্যান্সের দোকান বন্ধ হলেও এই মৌলিক সমীকরণ বদলানোর সম্ভাবনা কম। সারা দেশে এখনো শত শত স্থানে চেইনটির দোকান রয়েছে। প্রশিক্ষণ, উন্নত সরবরাহব্যবস্থা এবং আরও কঠোর স্থান নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, সামনের মাসগুলোতে নেটওয়ার্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী, উপস্থিতি ও কফি নিয়ে মিক্সুর পরিকল্পনা
আকারের বিচারে মিক্সুর নেটওয়ার্ক এখন বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যসেবা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ মিক্সুর দোকান ছিল ৪৫,৩০২টি। সে সময় ম্যাকডোনাল্ডসের ছিল প্রায় ৪৩,০০০টি এবং স্টারবাকসের ৪০,০০০টির কিছু বেশি। সব ব্র্যান্ড মিলিয়ে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি বিশ্বজুড়ে ৫৩,০০০টির বেশি অবস্থান থেকে ব্যবসা পরিচালনার কথা জানায় মিক্সু। তবে দোকানে বিক্রির পরিমাণ এখনো স্টারবাকসের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কম। তা সত্ত্বেও খুব কম দামে বেশি পরিমাণ পানীয় বিক্রির ওপর নির্ভরশীল তাদের মডেল ক্রেতাদের বড় ভিড় টানছে।
বিনিয়োগকারীরা মিক্সুর কফি ব্র্যান্ড লাকি কাপের দিকেও নজর দিয়েছেন। ২০২৫ সালের জুলাই নাগাদ ব্র্যান্ডটির ৭,০০০টির বেশি দোকানের চুক্তি হয়েছিল; বছরের লক্ষ্য ১০,০০০টি। চীনের প্রথম সারির শহরগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই ধারণা, যেখানে দোকানগুলো সাধারণত দ্রুত বিনিয়োগ ফেরত দিয়ে লাভজনক হয়। বড় পরিসরে কফির বিন কিনতে পারার সক্ষমতা এবং তরুণ শহুরে গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় ফলের কফির মতো মেনু উদ্ভাবন থেকে লাকি কাপ সুবিধা পায়। মালয়েশিয়ায় প্রথম বিদেশি আউটলেট খুলেছে ব্র্যান্ডটি। এতে ইঙ্গিত মিলছে, কফির ব্যবসা চীনের বাইরেও নিয়ে যেতে চায় মিক্সু।
আন্তর্জাতিক বাজারে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালিয়ে যাচ্ছে মিক্সু। কাজাখস্তানে প্রথম দোকান খুলেছে এবং ব্রাজিলের বাজারে আগ্রহের কথাও জানিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দুর্বল দোকান ছাঁটাই করলেও কোম্পানিটি যে প্রবৃদ্ধির সুযোগ দেখছে, এসব পদক্ষেপে তা স্পষ্ট।
যে ঝুঁকিগুলো নজরে রাখতে হবে
ভিয়েতনাম ও অঞ্চলটিতে মিক্সুর পরবর্তী পদক্ষেপ ঘিরে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এর একটি হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্ক। দাম সমন্বয় করে ব্র্যান্ড বাজারে নিজেদের অংশ বাড়াতে পারে, তবে সরবরাহের খরচ, ভাড়া ও মজুরি একই দিকে না কমলে দোকানমালিকদের মুনাফাও কমে যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট করা এবং বিপণন, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে সহায়তা বাড়ালে কাছাকাছি দোকানগুলোর দ্বন্দ্ব কমানো সম্ভব।
নিয়ন্ত্রক ঝুঁকিও রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা বিধি প্রয়োগ এবং ভবিষ্যতে চিনির ওপর কর আরোপের মতো পদক্ষেপ দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ও পণ্যের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাজারে হালাল সনদ ও বিধি মেনে চলা অপরিহার্য। ব্র্যান্ড সম্পর্কে মানুষের ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অঞ্চলে চীনা ভোক্তা ব্র্যান্ড নিয়ে মাঝেমধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। পণ্যের মান বা শ্রমচর্চায় কোনো ভুল হলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে এবং বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা, স্থানীয় ও নতুন চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং সরবরাহকেন্দ্র ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির স্থায়ী খরচও নজরে রাখতে হবে।
যা জানা জরুরি
- নেটওয়ার্ক আরও কার্যকর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় কম পারফরম্যান্সের দোকান বন্ধ করেছে মিক্সু।
- ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে রাজস্ব ছিল ১৪.৮৭ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান এবং নিট মুনাফা ২.৭২ বিলিয়ন ইউয়ান; আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৩৯ ও ৪৪ শতাংশ বেশি।
- ২০২৫ সালের জুনের শেষ নাগাদ বিদেশে দোকানের সংখ্যা ছিল ৪,৭০০টির বেশি। দোকান বন্ধ ও স্থানান্তরের পর ২০২৪ সালের শেষের তুলনায় এই সংখ্যা ১৬২টি কমেছে।
- চীনের বাইরে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াই মিক্সুর বৃহত্তম বাজার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ভিয়েতনামে দোকান ছিল প্রায় ১,৩০৪টি এবং ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ২,৬৬৭টি।
- কিছু দোকান আরও ভালো অবস্থানে সরানো হয়েছে। কোম্পানির দাবি, কিছু ক্ষেত্রে স্থানান্তরের ফলে দৈনিক বিক্রি ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
- ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য চীনে নিয়ে যাচ্ছে মিক্সু। ২০২৫ সালে একটি বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সহায়তাকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
- হাইনানে নতুন উৎপাদনকেন্দ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানিতে সহায়তা করছে, যা খরচ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কাজে লাগে।
- দোকানের সংখ্যার বিচারে মিক্সুর নেটওয়ার্ক বৈশ্বিক জায়ান্টদের ছাড়িয়ে গেছে, তবে দোকানে বিক্রির পরিমাণ এখনো স্টারবাকসের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কম।
- মিক্সুর কফি ব্র্যান্ড লাকি কাপের ৭,০০০টির বেশি দোকানের চুক্তি হয়েছে এবং বিদেশেও সম্প্রসারণ শুরু করেছে।
- ভিয়েতনামে দাম ও দোকানের ঘনত্ব নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অসন্তোষ দোকান বন্ধ ও স্থানান্তরের প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে।






