অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবহৃত পোশাক আমদানির বিরুদ্ধে দমন অভিযান জোরদার করল সরকার
আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযান আরও জোরদার করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয় প্রধান ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে তলব করে আমদানি করা পুরোনো পোশাক বিক্রির তালিকা সরিয়ে ফেলতে এবং অনলাইন দোকান বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে। ৭ নভেম্বরের ওই বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ান ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অংশ নেয়। এর সদস্যদের মধ্যে রয়েছে শোপি, টোকোপিডিয়া, টোকোপিডিয়া পরিচালিত টিকটক শপ, লাজাদা, ব্লিবলি এবং অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান। কর্মকর্তারা বলেন, স্থানীয় উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করা অবৈধ আমদানি ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সরাসরি নির্দেশের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূচিপত্র
নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাক বিক্রি করা যাবে না। ডিজিটাল অর্থনীতির কিছু অংশ যে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছে, এই নির্দেশ তারই পরিধি বাড়িয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তলবের পর কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম সংশ্লিষ্ট পণ্যের তালিকা সরাতে শুরু করেছে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে পরবর্তী পরিদর্শনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের যুক্তি, এই নীতি ইন্দোনেশিয়ার বস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের স্থিতিশীল চাহিদার ওপর নির্ভরশীল লাখো ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেয়। ভোক্তা সুরক্ষার ব্যবস্থাও হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অভিযানকে, কারণ আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের উৎস ও স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থা সহজে যাচাই করা যায় না। অবৈধ মজুত থেকে বিক্রেতাদের সরে আসতে সহায়তা করার পাশাপাশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় পণ্যের প্রচার আরও বাড়াতে উৎসাহিত করেছে মন্ত্রণালয়।
আইনে কী বলা আছে
বাণিজ্য আইন ও এর বাস্তবায়ন বিধিমালার আওতায় ইন্দোনেশিয়ায় অধিকাংশ ব্যবহৃত পণ্য আমদানি ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ৩১ নম্বর বিধিমালায় বিধিনিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা রয়েছে। এতে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকসহ আইন লঙ্ঘনকারী পণ্যের বিক্রি ঠেকাতে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অবৈধ পণ্যের তালিকা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং একই পণ্য পুনরায় তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা পুনরাবৃত্তি-লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিষিদ্ধ ব্যবহৃত পোশাক আমদানির শাস্তি কঠোর। আমদানিকারকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০০ কোটি রুপিয়াহ জরিমানা হতে পারে। কর্মকর্তারা বলছেন, চোরাচালানকারী বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে পণ্য কিনলে কী আইনি ঝুঁকি হতে পারে, তা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের অনেকেই জানেন না। প্রথমে আমদানিকারক ও বড় সরবরাহকারীদের লক্ষ্য করে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। বৈধ পণ্য বিক্রিতে রাজি হওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও পরামর্শ।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, ইন্দোনেশিয়ার ভেতর থেকে সংগ্রহ করা ব্যবহৃত পোশাক পুনরায় বিক্রি করা বৈধ। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা প্রি-লাভড পোশাক ও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পণ্য কেনাবেচা করা যাবে। লক্ষ্য হলো ব্যবহৃত পোশাকের এমন আন্তসীমান্ত প্রবাহ ঠেকানো, যা শুল্ক পরীক্ষা, কর ও পণ্য নিরাপত্তা বিধি এড়িয়ে আসে।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী মামান আবদুর রহমান অনলাইনে এই অভিযানকে দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। জাকার্তায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অবৈধ থ্রিফট পোশাকের তালিকায় প্রবেশ বন্ধ করতে হবে প্ল্যাটফর্মগুলোকে।
আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের প্রবাহ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ধ্বংস করছে। আমরা স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা দিতে এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো যেন অবৈধ বিক্রির সুযোগ বন্ধ করে, তা নিশ্চিত করতে চাই,
প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে নিয়ম কার্যকর করছে
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধ পণ্যের তালিকা সরিয়ে ফেলছে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ নাগাদ ই-কমার্স ও সামাজিক বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের বিজ্ঞাপনসংবলিত প্রায় ৪০ হাজার লিংক সরানো হয়েছিল। বিক্রেতারা শনাক্তকরণ এড়াতে কীওয়ার্ড, ছবি ও পণ্যের শিরোনাম বদলে ফেলায় আইন প্রয়োগকারী দলগুলো একে বিড়াল-ইঁদুরের নিরন্তর খেলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভোক্তা সুরক্ষা ও বাণিজ্যবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোগা সিমাতুপাং বলেন, বিক্রেতারা ক্রমাগত কৌশল বদলাচ্ছেন। তিনি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
একবার সরিয়ে ফেলার পর এটি অন্য নামে আবার দেখা দিতে পারে। বিষয়টি সামলাতে ই-কমার্স দলের সহায়তা দরকার,
প্ল্যাটফর্মগুলো বলছে, ধরা এড়ানোর চেষ্টা করা পণ্যের তালিকা শনাক্ত করতে তারা হাতে করা তদন্তের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা সন্দেহজনক লিংকের তালিকা দ্রুত সরবরাহের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দলগুলো একসঙ্গে সেগুলো সরাতে পারে। বৈধ দেশীয় পুনর্বিক্রয় যেন ভুল করে বন্ধ না হয়, সে জন্য অবৈধ মজুত বলতে কী বোঝায় তার স্পষ্ট সংজ্ঞাও চান প্রতিষ্ঠানগুলো।
শোপি ইন্দোনেশিয়ার জনসংযোগবিষয়ক উপপ্রধান রাদিনাল নাতাপ্রাবিরা বলেন, নিয়ম মেনে চলা ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য কোম্পানিটি নির্বিচার কীওয়ার্ড ফিল্টারের বদলে পর্যালোচকদের ওপর নির্ভর করে।
ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে প্রক্রিয়াটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নয়, হাতে করা হয়,
অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানও বলেছে, তারা এই নীতির সঙ্গে একমত। টোকোপিডিয়া ও টোকোপিডিয়া পরিচালিত টিকটক শপ জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাক নিষিদ্ধ এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী পণ্যের তালিকা সরিয়ে ফেলা হয়। লাজাদা জানিয়েছে, তারা সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করবে এবং নিজেদের মার্কেটপ্লেসে ইন্দোনেশিয়ার নিয়ম কার্যকর করবে। ইন্দোনেশিয়ান ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, নিষিদ্ধ পণ্য কমাতে এর সদস্যরা ২০২৩ সাল থেকে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় চালিয়ে যাবে।
ইন্দোনেশিয়ান ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হিলমি আদ্রিয়ান্তো ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও স্থানীয় ফ্যাশন খাতকে শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে এই কঠোর ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
সুস্থ অনলাইন বাণিজ্য পরিবেশকে শক্তিশালী করতে এবং ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় ফ্যাশনশিল্পের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ,
এখনই কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
ইন্দোনেশিয়ার বস্ত্র উৎপাদক ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর চাপ বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে তৈরি বস্ত্রপণ্য ও ব্যবহৃত পোশাক আমদানির পরিমাণ ৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশের বেশি। প্রধান উৎস ছিল চীন, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবহৃত পোশাক আমদানির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এ ধরনের পোশাকের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬০০ টন এবং ২০২৫ সালের আগস্ট নাগাদ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টন। আগের বছরগুলোতে পরিমাণ ছিল অনেক কম। অনেক খুচরা বিক্রেতা ও কারখানার মালিকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই তথ্য মিলে যায়: অনলাইনে ও দোকানে অবৈধ ব্যবহৃত পোশাক খুঁজে পাওয়া ক্রমেই সহজ হয়েছে।
নীতিনির্ধারকেরা আরও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করছেন। সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গত এক দশকে ব্যবহৃত পোশাকের আমদানি দ্রুত বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বাণিজ্যের বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন প্রয়োগ করা যায়নি। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ইন্দোনেশিয়া ব্যবহৃত পোশাকের বড় চালানের গন্তব্যে পরিণত হতে পারে, যা লাখো কর্মী নিয়োগ করা স্থানীয় তাঁত, রং ও পোশাক কারখানাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের অবৈধ বিক্রি বন্ধ করার পাশাপাশি আগে আমদানি করা পোশাকের গাঁটের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প পণ্য গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ফ্যাশনপণ্যের দিকে ঝোঁক বাড়ানো, যাতে দাম, নকশা ও চলতি ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেগুলো প্রতিযোগিতা করতে পারে।
থ্রিফট অর্থনীতিতে লাভবান ও ক্ষতিগ্রস্ত কারা
ইন্দোনেশিয়ার অনেক শহরে থ্রিফট কেনাকাটা নগরজীবনের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। মধ্য জাকার্তার পাসার সেনেনের মতো বাজার বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা ব্যবহৃত পোশাকের সারির জন্য পরিচিত। কম দাম ও অনন্য পোশাক পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে; অনেকের কাছে পুনর্ব্যবহার বর্জ্য কমানোর উপায়। আমদানি করা পোশাকের গাঁট নিয়ে ব্যবসা করা বিক্রেতারা বলেন, এ ব্যবসা তাদের নিয়মিত আয় দেয় এবং ঐতিহ্যবাহী বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায়।
আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের বৃদ্ধি স্থানীয় পোশাক উৎপাদকদের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ধরা দেয়। তাদের মতে, এতে বুননশিল্পী, সেলাইশ্রমিক ও ছোট ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা কমে যায়; বিদেশের বড় উৎপাদকদের তুলনায় তাদের খরচ এমনিতেই বেশি। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রীর যুক্তি, সস্তা ব্যবহৃত পোশাকের অবিরাম প্রবাহ দেশের বাজারকে দুর্বল করে এবং ইন্দোনেশিয়ার ছোট ব্র্যান্ডগুলোকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য করতে পারে।
থ্রিফট পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদের শাস্তি এড়াতে সরকার একটি রূপান্তর পরিকল্পনা দিচ্ছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয় শত শত স্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডের সঙ্গে বিক্রেতাদের যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে, যাতে তারা পুনর্বিক্রেতা বা আনুষ্ঠানিক পরিবেশক হিসেবে কাজ করতে পারেন। থ্রিফট কেনাকাটায় আগ্রহী ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে দাম রাখতে স্থানীয় উৎপাদকদের অর্থায়ন পাওয়া সহজ করা এবং উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগও নিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্র উদ্যোগবিষয়ক উপপ্রধান তেমি সত্যা পারমানা বলেন, রাষ্ট্রের নির্দেশনায় ব্যবসায়ীদের বৈধ বিকল্পের দিকে নেওয়ার সময় তাদের পেছনে ফেলে রাখা হবে না।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের ব্যবসায়ীদের আয় হারাতে দেব না। স্থানীয় ব্র্যান্ড, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও বিক্রেতাদের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি করছি, যাতে তারা বৈধ পণ্য বিক্রি চালিয়ে যেতে পারেন,
কর্মকর্তারা বলছেন, পাসার সেনেনের কিছু থ্রিফট বিক্রেতা স্থানীয় সরকারের সহায়তায় দেশীয় পোশাক বিক্রিতে ঝোঁকার আগ্রহ দেখিয়েছেন, যাতে তাদের ব্যবসা টিকে থাকে। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা ব্যবহৃত পণ্য দেশের ভেতরে পুনরায় বিক্রি করা এখনো বৈধ বলে স্পষ্ট করেছে মন্ত্রণালয়। আমদানি করা পোশাকের গাঁটের ওপর নির্ভরশীল নয় এমন ভিনটেজ পোশাকের দোকান ও দাতব্য বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
ই-কমার্সে বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ
থ্রিফট পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল বাণিজ্য বিধি নতুন করে ঢেলে সাজানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। আন্তসীমান্ত খুচরা বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে কর্তৃপক্ষ, করমুক্ত আমদানির সীমা খুব নিচু রেখেছে এবং নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তি নেই এমন দেশ থেকে আসা পণ্য স্থানীয় আমদানিকারকদের মাধ্যমে আনতে বাধ্য করেছে। এতে বিদেশের গুদাম থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠানো অনেক কঠিন হয়েছে।
স্থানীয় মধ্যস্থতাকারী ছাড়া বিদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পাঠানোর ওপর নির্ভরশীল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। অনেক বাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া টেমুকে বাইরে রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের ব্যবসার ধরন দেশীয় বিক্রেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কর আদায় জটিল করে তোলে। আন্তসীমান্তে ছোট পার্সেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল দ্রুত ফ্যাশনের প্রতিষ্ঠানগুলোও বাধার মুখে পড়েছে। তবে শোপি, টোকোপিডিয়া ও লাজাদার মতো স্থানীয় আমদানিকারক নেটওয়ার্ক থাকা প্ল্যাটফর্মগুলো ইন্দোনেশিয়ার নিয়ম মেনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ডিজিটাল খাতে কর আদায় কঠোর করার পরিকল্পনা করছেন নীতিনির্ধারকেরা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা একটি বিধিমালায় নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সামান্য আয়কর কেটে রাখার বাধ্যবাধকতা মার্কেটপ্লেসগুলোর ওপর দেওয়া হবে। নিয়ম মানার হার বাড়ানো এবং অনলাইন বিক্রেতা ও সরাসরি দোকান চালানো খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই এ প্রস্তাবের লক্ষ্য। থ্রিফটবিরোধী অভিযান ও কর পরিকল্পনার লক্ষ্য একই: এমন একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ অনলাইন বাজার, যেখানে সব বিক্রেতাকে একই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ
বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জজুড়ে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো সহজ নয়। চোরাকারবারিরা ছোট বন্দর দিয়ে চালানের পথ ঘুরিয়ে দিতে পারে। আবার বড় পোশাকের গাঁট দেশে ঢোকার পর ভাগ করে নতুন লেবেল লাগানো হতে পারে। অনলাইনে বিক্রেতারা দ্রুত এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেকটিতে চলে যান, দোকানের নাম বদলান, শনাক্তকরণ এড়াতে কীওয়ার্ড ও ছবি পাল্টান। ব্যবহৃত শব্দটির বদলে প্রি-লাভডের মতো পরোক্ষ শব্দ ব্যবহার করা এবং আমদানি করা পণ্য প্রকাশ করে দিতে পারে এমন মূল বস্তার ছবি এড়ানোর কৌশলের কথাও নথিবদ্ধ করেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
মার্কেটপ্লেসে অবৈধ পণ্য ঠেকাতে ধারাবাহিক নজরদারি এবং সরকার ও প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে আরও ভালো তথ্য আদান-প্রদান দরকার। স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জাম কাজে আসতে পারে, তবে মানুষের পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা প্রায়ই অপভাষা ও সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করেন। কোনো ব্যবহৃত পোশাক আমদানি করা, নাকি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা, তা যাচাই করা বিশেষ চ্যালেঞ্জ। বড় পরিসরে ব্যবসা করা বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্ল্যাটফর্মগুলোকে উৎসের প্রমাণ চাইতে হতে পারে। পাশাপাশি বৈধ দেশীয় পুনর্বিক্রয় যেন ভুল করে বন্ধ না হয়, সে জন্য দ্রুত আপিলের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
দামের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্রেতা কম দামের জন্য থ্রিফট পণ্য কেনেন। চাহিদা স্থানীয় পণ্যের দিকে নিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কাজ করে দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখবে এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ফ্যাশন ধারার সঙ্গে মানানসই নকশার পরিসর বাড়াবে। অর্থায়ন এবং ব্যবসায়ী ও স্থানীয় উৎপাদকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভর করবে, অবৈধ আমদানি ঠেকাতে গিয়ে মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত না করে এই নীতি কার্যকর করা যায় কি না।
আইন প্রয়োগের কাজ চলতে থাকায় ভোক্তাদের স্থানীয়ভাবে তৈরি পোশাক কিনতে এবং সন্দেহজনক পণ্যের তালিকা সম্পর্কে জানাতে উৎসাহিত করেছে সরকার। আমদানিকারকদের প্রতি বার্তা স্পষ্ট: অবৈধ ব্যবহৃত পোশাক জব্দ করে ধ্বংস করা হবে এবং দায়ীদের জরিমানা ও কারাদণ্ড হতে পারে। প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছেও প্রত্যাশা পরিষ্কার: মার্কেটপ্লেসে অবৈধ থ্রিফট পোশাকের তালিকা ঠেকাতে হবে এবং ব্যবসায়ীদের বৈধ, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত পণ্যের দিকে যেতে সহায়তা করতে হবে।
জেনে রাখুন
- ৭ নভেম্বর শিল্প সমিতির সঙ্গে বৈঠকের পর আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের তালিকা সরাতে প্রধান ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
- এর আইনি ভিত্তির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য আইন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ৩১ নম্বর বিধিমালা, যেখানে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাককে বিধিনিষিদ্ধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
- স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা ব্যবহৃত পণ্যের দেশীয় পুনর্বিক্রয় বৈধ; নিষেধাজ্ঞাটি অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাক বিক্রির প্রায় ৪০ হাজার লিংক সরানো হয়েছিল; নজরদারি চলছে।
- কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে আমদানি করা ব্যবহৃত পোশাকের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টন এবং ২০২৫ সালের আগস্ট নাগাদ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টন।
- আমদানিকারকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০০ কোটি রুপিয়াহ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
- ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রণালয় থ্রিফট বিক্রেতাদের স্থানীয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত করছে, অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের খরচ কমাতে কাজ করছে।
- এই অভিযান ই-কমার্সে বৃহত্তর পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে আন্তসীমান্ত বাণিজ্যে কঠোর নিয়ম, সরাসরি পণ্য পাঠানো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ রাখা এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিক্রেতাদের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা।






