কম বেতন সত্ত্বেও কেন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির দিকে ঝুঁকছেন তরুণ সিঙ্গাপুরীয়রা

পড়তে 13 মিনিট
কম বেতন সত্ত্বেও কেন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির দিকে ঝুঁকছেন তরুণ সিঙ্গাপুরীয়রা

নতুন প্রজন্মের কৃষিতে পদার্পণ

সিঙ্গাপুরে কৃষিকাজের পরিচিতি কম বেতন, কঠিন লাভের হিসাব এবং উন্নতির সীমিত সুযোগের জন্য। তবু অল্পসংখ্যক তরুণ নতুন করে এ পেশায় আসছেন। তাঁদের বাজি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও নতুন উৎপাদনপদ্ধতি শহরটিতে মাছ ও সবজি উৎপাদনের ধরন বদলে দিতে পারে। ২৬ বছর বয়সী নিকোলাস লি এখন কিয়ান হু ফিশ ফার্মে জলজ চাষের কাজে নিয়োজিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখা বিজ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি মাছের স্বাস্থ্য ও পানির গুণমান নিয়ে কাজ করছেন। ২৫ বছর বয়সী লিওনার্ড তেও মহামারির সময় ছাদে সবজি চাষ শুরু করে সেটিকে ছোট একটি খামারে পরিণত করেছেন। ভার্টিক্যাল ওশানসে সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক ক্রিস্টাল লিম, ২৯, কারিগরি কর্মী থেকে পদোন্নতি পেয়ে এখন কার্যক্রমের পরিসর বাড়ানোর কাজ তদারক করেন। তাঁর সহকর্মী ২৫ বছর বয়সী লিওং জিয়া শেং মনে করেন, আধুনিক সরঞ্জাম কৃষি সম্পর্কে জনসাধারণের ধারণা বদলে দিতে পারে। তাঁদের কর্মজীবনের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে, খাদ্যনিরাপত্তার চাহিদা একদিকে এবং ব্যয় ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপ অন্যদিকে থাকায় খাতটি দ্রুত বদলাচ্ছে।

সূচিপত্র
  1. নতুন প্রজন্মের কৃষিতে পদার্পণ
  2. আজকের কৃষিতে কী বদলেছে?
  3. স্থল ও সমুদ্রে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
  4. অর্থ, ইজারা ও বাজারের বাস্তবতা
  5. যে খরচগুলো চাপে ফেলে
  6. দক্ষতা, বেতন ও কর্মী ধরে রাখা
  7. বেতন, কর্মজীবনের পথ ও দক্ষতা
  8. সরকারি কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনায়
  9. নীতি ও প্রকল্প
  10. টিকে থাকতে উদ্ভাবনে এগোচ্ছে স্টার্টআপ ও খামার
  11. উদ্ভাবনের উদাহরণ
  12. তরুণ প্রজন্ম, ধারণা ও প্রযুক্তির আকর্ষণ
  13. শ্রেণিকক্ষ ও গেম থেকে বাস্তব খামারে
  14. জমিস্বল্প শহর সিঙ্গাপুরে কি আরও বেশি খাদ্য উৎপাদন সম্ভব?
  15. ঘনবসতিপূর্ণ শহরের মডেল
  16. এক নজরে

সিঙ্গাপুর তার প্রয়োজনীয় খাবারের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। তবে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে স্থানীয় খামারগুলোই প্রতিরক্ষার প্রথম সারি। সরকার খাদ্য-সহনশীলতার কৌশল এগিয়ে নিয়েছে এবং নতুন পদ্ধতি গ্রহণে কৃষকদের সহায়তার জন্য দক্ষতা কাঠামো ও অনুদান চালু করেছে। তরুণ কর্মীরা বলছেন, এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ, তবে প্রতিদিনের বাস্তবতা কঠিন। ভাড়া ও পরিষেবার খরচ এখনো বেশি, সরঞ্জাম ব্যয়বহুল, আর স্থানীয় পণ্যের সঙ্গে কম দামের আমদানিপণ্যের প্রতিযোগিতা চলে। তবু শহরের মানুষের খাবার জোগানোর মতো মৌলিক কাজে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল প্রয়োগের সম্ভাবনা অনেককে এ খাতে ধরে রেখেছে।

তাঁদের প্রেরণা বাস্তব ও ব্যক্তিগত। কেউ কেউ হাতে-কলমে কাজের সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত ও জীববিজ্ঞানের সমন্বয়ে কর্মজীবন গড়তে চান। অন্যরা অপচয় কমিয়ে পণ্যের সতেজতা ও স্বাদ বাড়ানোর তাগিদে কাজ করছেন। অনেকেই জলবায়ু-সহনশীল, জায়গা-সাশ্রয়ী কৃষির মাধ্যমে দেশে আরও বেশি খাদ্য উৎপাদনের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন। বৃহত্তর এই লক্ষ্য এমন একটি চাকরিতে অর্থবহতা এনে দেয়, যা প্রথম দেখায় অর্থ ও প্রযুক্তির কেন্দ্র সিঙ্গাপুরে খুবই সীমিত পরিসরের পেশা বলে মনে হতে পারে।

আজকের কৃষিতে কী বদলেছে?

এখানকার খামারগুলো গ্রামাঞ্চলের মাঠের মতো নয়। কোথাও ঘরের ভেতরে একটির ওপর আরেকটি করে সাজানো উল্লম্ব তাক, কোথাও জলবায়ু-নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস, আবার কোথাও সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত উপকূলীয় খাঁচা। সেন্সর, ক্যামেরা ও অ্যালগরিদম পানির রাসায়নিক গঠন, তাপমাত্রা, আলো, পুষ্টি উপাদান ও বৃদ্ধির হার পর্যবেক্ষণ করে। কম পানি, জমি ও শক্তি ব্যবহার করে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্যভাবে ফসল তুলতে পরিচালকেরা পরিবেশের নানা শর্ত সমন্বয় করেন। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষি এবং আধুনিক জলজ চাষের এটাই সম্ভাবনা; এতে খামারের কাজ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা—দুটিই বদলে যাচ্ছে।

জলজ চাষে পুনঃসঞ্চালন ব্যবস্থা পানি পরিশোধন করে পুনর্ব্যবহার করে, আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার হওয়া ট্যাংকে বেশি ঘনত্বে মাছ পালন করা হয়। ঘরের ভেতরের খামারে দক্ষ এলইডি বাতির সারির নিচে এবং বহুস্তর কাঠামোয় গাছ জন্মায়, যা গুদামঘর কিংবা ছাদেও স্থাপন করা যায়। বীজ বপন, চারা স্থানান্তর ও ফসল তোলার মতো কাজে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করলে মানুষের ভুল কমে এবং উৎপাদনে ধারাবাহিকতা বাড়ে। এসব সরঞ্জাম কাজের প্রক্রিয়া থেকে মানুষকে সরিয়ে দেয় না। বরং কাজের ধরন বদলে দিয়ে এমন কারিগরদের সুযোগ তৈরি করে, যাঁরা ড্যাশবোর্ডের তথ্য বুঝতে, যন্ত্রপাতির ত্রুটি খুঁজে বের করতে এবং ব্যবস্থার সমন্বয় করতে পারেন।

স্থল ও সমুদ্রে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি

স্থানীয় উদাহরণগুলো দেখায়, চাষের পদ্ধতি কত দ্রুত বদলাচ্ছে। গ্রোগ্রেস বহুস্তর কাঠামো ও শুষ্ক হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় সারা বছর নানা ধরনের পাতাযুক্ত সবজি উৎপাদন করে। ৩০ বাই ৩০ এক্সপ্রেস অনুদানের সহায়তায় সম্প্রসারিত গোফার্ম উল্লম্ব তাক, পুষ্টিসমৃদ্ধ দ্রবণের পাতলা প্রবাহ এবং উন্নত গ্রো লাইট ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত কেজি সবজি উৎপাদন করে। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এতে অনেক কম পানি ও বিদ্যুৎ লাগে। মাছ চাষে প্রতিষ্ঠানগুলো ঘরের ভেতরে পুনঃসঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, যা পানি পরিষ্কার ও স্থিতিশীল রাখে; এতে রোগ কমে এবং খাদ্যকে মাছের ওজনে রূপান্তরের দক্ষতা বাড়ে। এসব ব্যবস্থায় জায়গার সংকট থাকা শিল্প এলাকাতেও খামার চালানো সম্ভব।

প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে কৃষিকে তথ্যনির্ভর কর্মজীবন হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। তরুণদের এ খাতে আকৃষ্ট করার জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। এতে বোঝা যায়, কাজটি আর শুধু কায়িক শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও ডিজিটাল সরঞ্জামে প্রশিক্ষণ থাকলে তা কাজে লাগে। জলজ চাষ পরিচালনা, খামারে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং খাদ্যনিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে কর্মজীবনের পথ নির্ধারণে সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একটি দক্ষতা কাঠামো নিয়ে কাজ করছে। এতে পদোন্নতি ও অগ্রগতির পথ আরও স্পষ্ট হচ্ছে, যা চাকরিতে থাকবেন কি না সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তরুণ কর্মীরা প্রায়ই খোঁজেন।

বিজ্ঞাপন

অর্থ, ইজারা ও বাজারের বাস্তবতা

নতুন সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, ভাড়া ও শ্রমের খরচ বেশি। উৎপাদন বাড়াতে পারে এমন সরঞ্জামের পেছনে বিনিয়োগ তুলে আনতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। লিওনার্ড তেও নিজে নিজে চাষ শিখেছেন এবং অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেন, তবে শিগগিরই লাভ-লোকসান সমান হবে বলে তিনি আশা করেন না। ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া ইজারার মেয়াদ তাঁর বিকল্পগুলো সীমিত করে দিয়েছে; ফলে সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা কঠিন। অনেক সবজি খামারের ক্ষেত্রেও সময়সীমা একই রকম, আর জমির দখল নিয়ে অনিশ্চয়তা উন্নয়নে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ধীর করে দিতে পারে।

আমদানিপণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সব সময়ই বড় পরীক্ষা। বিদেশি উৎপাদকদের জমি ও শ্রমের খরচ কম, আর ব্যাপক উৎপাদনের সুবিধায় দামও কমে। দক্ষতা বেশি হলেও স্থানীয় খামারগুলোর পক্ষে প্রতিটি পণ্যে আমদানির সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সচরাচর সম্ভব হয় না। তাই সতেজতা, নির্ভরযোগ্যতা, স্বাদ ও টেকসই উৎপাদনের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করতে হয়। সরাসরি বিক্রি ও সাবস্ক্রিপশন মডেল সহায়ক; একই সঙ্গে স্থিতিশীল ও কাছাকাছি উৎস থেকে পণ্য পেতে আগ্রহী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করাও কাজে দেয়। যৌথ ব্র্যান্ডিং ও সমন্বিত বিপণনে আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো এবং ন্যূনতম অর্ডারের পরিমাণ পূরণ করা সহজ হয়।

যে খরচগুলো চাপে ফেলে

বিদ্যুৎ ও মূলধনি ব্যয় আর্থিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও পানির প্রবাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ লাগে। খাদ্য উৎপাদনের উপযোগী স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল। বড় ব্যবস্থার নিয়মিত প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ কারিগর প্রয়োজন। কিছু খামার পানির ব্যবহার কমিয়ে, সহজ সরঞ্জাম বেছে নিয়ে এবং সম্প্রসারণ পিছিয়ে দিয়ে খরচ কমায়, তবে তাতে উৎপাদন সীমিত হতে পারে। বাস্তবে লাভজনকতা সাধারণত উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, অপচয় কমানো, বিক্রির উন্নত পথ তৈরি এবং বাস্তবসম্মত শর্তে অর্থায়ন পাওয়ার সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে। এসব উপাদান না থাকলে আবেগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুফলও নির্দিষ্ট খরচের চাপে ঢাকা পড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দক্ষতা, বেতন ও কর্মী ধরে রাখা

প্রারম্ভিক পর্যায়ের বেতন প্রায়ই প্রকৌশল বা অর্থনীতিতে সদ্য স্নাতকদের বেতনের চেয়ে কম, ফলে কর্মী ধরে রাখা কঠিন হয়। ক্রিস্টাল লিম বলেন, তরুণ কর্মীরা উৎসাহ নিয়ে কাজে যোগ দেন, কিন্তু পদোন্নতির সুযোগ কম দেখলে চলে যান। এর অর্থ এই নয় যে খাতটিতে কাজের বৈচিত্র্য নেই। আধুনিক কৃষিতে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ, জৈবনিরাপত্তা, মান নিশ্চিতকরণ ও পণ্য উন্নয়নের কাজও জড়িত। প্রশ্ন হলো, খামারগুলো এমনভাবে বড় হতে পারবে কি না, যাতে উচ্চমূল্যের কাজের সুযোগ ও অগ্রগতির সুস্পষ্ট পথ তৈরি হয়।

এটি সম্ভব করার উদ্যোগ চলছে। শিল্প খাতের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি কৃষি-খাদ্য দক্ষতা কাঠামো খামারে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, জলজ প্রাণীর স্বাস্থ্য ও কৃষিবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের দিশা দিতে চায়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন কোর্স ও ইন্টার্নশিপ বাড়াচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের খামার ও কৃষি-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে। লক্ষ্য হলো এমন কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা, যাদের জীববিজ্ঞান ও কোড—দুটির সঙ্গেই স্বচ্ছন্দ পরিচয় রয়েছে; পাশাপাশি আধুনিক কৃষি যে দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবন হতে পারে, স্বল্পমেয়াদি বিরতি নয়, সেই বার্তাও দেওয়া।

বেতন, কর্মজীবনের পথ ও দক্ষতা

কর্মীরা যখন দায়িত্ব বাড়তে এবং ব্যবস্থাপনা বা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পদে যাওয়ার পথ দেখতে পান, তখন তাঁদের ধরে রাখা সহজ হয়। উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ থেকে কর্মীদের অব্যাহতি দিয়ে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এতে সহায়তা করতে পারে; ফলে তাঁরা প্রক্রিয়া প্রকৌশল, পণ্যের মান বা বিক্রির প্রকল্পে দায়িত্ব নিতে পারেন। কিছু খামার এমন দল গড়ছে, যারা কার্যক্রম ও ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। ফলে জীববিজ্ঞান সম্পর্কে যাঁদের ধারণা আছে, তাঁরাই পণ্য কীভাবে বাজারে পৌঁছাবে, তা গড়ে তুলতে পারেন। শেখা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ চান—এমন তরুণ পেশাজীবীদের কাছে এ ধরনের বহুমুখী ভূমিকা আকর্ষণীয়।

সরকারি কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনায়

একসময় সিঙ্গাপুর ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের পুষ্টির চাহিদার ৩০ শতাংশ নিজস্ব উৎপাদনে পূরণের পরিকল্পনা করেছিল। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের পরিবর্তন এবং জমির সীমাবদ্ধতার মুখে এখন লক্ষ্যটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মোট ভোগের ১০ শতাংশেরও কম স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়, তবু বৈশ্বিক সংকটের বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে। বৃহত্তর খাদ্যনিরাপত্তা কৌশল এখনো প্রায় ১৮৭টি উৎস থেকে আমদানি বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম স্থানীয় খামার এবং উদ্ভাবনশীল খাদ্য কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল।

খামারগুলোকে টিকে থাকতে ও বেড়ে উঠতে সহায়তার জন্য কর্মকর্তারা সরকারি সহায়তা পরিমার্জন করছেন। ২০২১ সালে চালু হওয়া ৬ কোটি ডলারের অ্যাগ্রি-ফুড ক্লাস্টার ট্রান্সফরমেশন ফান্ড প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সম্প্রসারণে বিপণন, ব্র্যান্ডিং এবং ফসল তোলার আগের ও পরের কাজের স্থাপনার খরচ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্পের সর্বোচ্চ মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে, ফলে খামারগুলো নতুন ব্যবস্থা শিখতে আরও সময় পাবে। শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দেখাতে পারবে—এমন উৎপাদকদের জন্য সুংগেই তেংগাহ ও লিম চু কাংয়ে নতুন জমি বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে পূর্ব জোহর প্রণালিতে আরও জলজ চাষের স্থান চালু হবে। সেখানকার সামুদ্রিক খাবারের উৎপাদন বছরে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ টনে উন্নীত করাই লক্ষ্য।

নীতি ও প্রকল্প

বিদেশ থেকে আসা পোনা মানে অসামঞ্জস্য থাকায় মাছ চাষে মৃত্যুহার বেশি ছিল। এ সমস্যা সমাধানে এশীয় সিবাস ও সামুদ্রিক তেলাপিয়ার জন্য জাতীয় ব্রুডস্টক কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যাতে নির্ভরযোগ্য মানের পোনা সরবরাহ করা যায়। এতে মাছের বেঁচে থাকার হার ও বৃদ্ধির গতি বাড়ার কথা, যা খামারের আয় ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে। বিক্রির ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা খামারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা নিশ্চিত করতে এবং বড় খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ও উৎপাদনের পরিসর বাড়াতে যৌথ ব্র্যান্ডের অধীনে পণ্য বিক্রিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। মোট জমির প্রায় ১ শতাংশ কৃষিজমি। ২০২০ সালে ঘোষিত লিম চু কাংয়ের ৩৯০ হেক্টরের উচ্চপ্রযুক্তির কৃষি-খাদ্য কেন্দ্রের কাজ পিছিয়ে গেছে; পরিকল্পনাকারীরা কীভাবে তা সবচেয়ে ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন শুধু বড় লক্ষ্যমাত্রা নয়, আর্থিকভাবে টেকসই হওয়া ও উৎপাদনশীলতার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

টিকে থাকতে উদ্ভাবনে এগোচ্ছে স্টার্টআপ ও খামার

অনেক উৎপাদক নতুন পণ্য ও ব্যবসার ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। তিন বছর ধরে সক্ষমতা গড়ে তোলার পর গ্রোগ্রেস সরাসরি বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। পাশাপাশি হোটেল গোষ্ঠীগুলোকে আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য দিতে অন্য খামারের সঙ্গে কাজ করছে; এতে একক খামারের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন অর্ডারও মেটানো যায়। ব্লু ওশান অ্যাকুয়াকালচার টেকনোলজি অতীতে পাওয়া সরকারি অর্থায়নের সহায়তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষ্কার হওয়া ট্যাংকসহ ঘরের ভেতরের পুনঃসঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য উৎপাদন ও সরঞ্জাম নকশার কাজেও হাত বাড়াচ্ছে। ফিলে, স্যুপ ও নুডলসের মতো খাওয়ার জন্য প্রস্তুত মাছের খাবার সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ায় এবং উৎপাদন বেশি হলে মজুত সামলাতে সহায়তা করে।

এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসার বৈচিত্র্য আনা নয়। এগুলো নগদ অর্থের প্রবাহ স্থিতিশীল করে এবং পণ্য নকশা, মান নিয়ন্ত্রণ ও বিপণনের মতো কাজে তরুণ কর্মীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। ছোট বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি এ গল্পের অংশ, তবে সহযোগিতাও সমানভাবে জরুরি। যৌথ ব্র্যান্ডে বিপণন করা বা একটি সাধারণ পরিচয়ে একসঙ্গে পণ্য বিক্রি করা খামারগুলো বড় খুচরা বিক্রেতা ও প্রাতিষ্ঠানিক রান্নাঘরে পৌঁছাতে পারে, যাদের সঙ্গে ছোট সরবরাহকারীদের লেনদেন সচরাচর হয় না।

উদ্ভাবনের উদাহরণ

উল্লম্ব খামারে বহুস্তর তাক একই মেঝের জায়গায় উৎপাদন বাড়ায়। পুষ্টিদ্রবণের পাতলা প্রবাহে পানির ব্যবহার কমে। বুদ্ধিমান আলো গাছের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায় অনুযায়ী আলোর বর্ণালি ও তীব্রতা সমন্বয় করে। জলজ চাষে সফটওয়্যার অক্সিজেন, পিএইচ ও অ্যামোনিয়ার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বায়ুপ্রবাহ বা পরিশোধন ব্যবস্থার সমন্বয় করতে পারে। এসব ব্যবস্থায় কৃষিকাজ আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য হয়, যা অর্থায়ন ও দক্ষ কর্মী আকর্ষণের ভিত্তি। কোড ও সেন্সরের সঙ্গে পরিচিত তরুণ কর্মীরা এ পরিবেশে কার্যক্রম উন্নত করার স্পষ্ট সুযোগ দেখতে পান।

তরুণ প্রজন্ম, ধারণা ও প্রযুক্তির আকর্ষণ

বিশ্বজুড়ে অনেক তরুণ এখনো কৃষিকে নোংরা, কম প্রযুক্তিনির্ভর ও কম বেতনের কাজ বলে মনে করেন। খাদ্যব্যবস্থায় ডিজিটাল সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধারণা বদলাচ্ছে—স্যাটেলাইটে ফসল পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে কৃষকদের সঙ্গে সরঞ্জাম ও ক্রেতার যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া মোবাইল প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত। কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে গবেষণায় বারবার একই প্রবণতা দেখা যায়। প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও সাশ্রয়ী সরঞ্জাম যখন মূল্যশৃঙ্খলের বাস্তব কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তরুণদের আগ্রহ বাড়ে। এর মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পণ্য নকশা ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণও রয়েছে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতাও এ ধারার সঙ্গে মেলে।

স্থানীয় উদ্যোগগুলো সংস্কৃতি ও শিক্ষার মাধ্যমেও ছোট বয়স থেকেই আগ্রহ গড়ে তুলছে। স্মার্ট ফার্ম ও কারখানার প্রযুক্তি কেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদনের যোগসূত্র দেখায়। সৃজনশীল গোষ্ঠীগুলো ডিজিটাল গেম ও অগমেন্টেড রিয়েলিটির অভিজ্ঞতা তৈরি করছে, যা শহরের শিশুদের বাড়ি ও স্কুলে বাগান করা এবং খাবার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করে। একটি কর্মসূচির লক্ষ্য, খেলাধুলা, শেখা ও হাতে-কলমে ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর সমন্বয়ে দশকের শেষ নাগাদ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১০ লাখ শিশুকে বাগান করার কাজে যুক্ত করা। এসব উদ্যোগ মাছের ট্যাংক ও উল্লম্ব তাক থেকে অনেক দূরের বিষয় বলে মনে হতে পারে, তবে এগুলো এমন ভবিষ্যৎ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার বীজ বুনছে, যারা বিজ্ঞান ও মাটি—দুটির সঙ্গেই স্বচ্ছন্দ।

শ্রেণিকক্ষ ও গেম থেকে বাস্তব খামারে

এই কর্মী তৈরির ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খামারে গিয়ে বাস্তব যন্ত্রপাতি ও জীবন্ত ব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষে শেখা বিষয় কাজে লাগাতে পারেন। জীববিজ্ঞান, তথ্য-উপাত্ত ও যান্ত্রিক ব্যবস্থায় দক্ষ স্নাতকেরা এখন কার্যক্রম পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমনকি সফটওয়্যারের কাজেও সুযোগ পাচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে এই দক্ষতার মিশ্রণ কম প্রারম্ভিক বেতন ও কর্মী ধরে রাখার প্রয়োজনের মধ্যকার টানাপোড়েন কমাতে পারে। দক্ষ দল উৎপাদন বাড়ায় এবং অপচয় কমায়; তাতে লাভের মার্জিন উন্নত হয় ও ভালো বেতনের সুযোগ তৈরি হয়। আরও বেশি খামার টিকে থেকে সম্প্রসারিত হলে কর্মজীবনের পথও প্রসারিত হয়, যা কর্মী ধরে রাখতে সহায়ক।

জমিস্বল্প শহর সিঙ্গাপুরে কি আরও বেশি খাদ্য উৎপাদন সম্ভব?

জায়গার সীমাবদ্ধতাই মূল সমস্যা। সিঙ্গাপুরের বড় এলাকাজুড়ে কখনোই প্রচলিত মাঠের চাষ করা সম্ভব হবে না। সমাধান হিসেবে উল্লম্ব কাঠামো, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও পুনঃসঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বর্গমিটার জমি ও প্রতি লিটার পানিতে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। শহর পর্যায়ে পরিকল্পনাকারীরা খামারগুলোকে গুচ্ছ আকারে সাজাচ্ছেন, যাতে পানি ও বর্জ্য পরিশোধন ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা যায় এবং উপজাতকে উৎপাদনের উপকরণে রূপান্তরের মতো চক্রাকার পদ্ধতিতে উৎসাহ দেওয়া যায়। উৎপাদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেটজাতকরণের স্থাপনা কাছাকাছি থাকলে পরিবহনের সময় কমে এবং পণ্য নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায়।

বিদেশের উন্নত গ্রিনহাউসের নকশা দেখায়, প্রকৌশল ও কৃষির সমন্বয়ে কতটা সম্ভব। ইংল্যান্ডে একটি বড় কাচঘেরা খামারে রোবট ব্যবস্থা, ঘূর্ণায়মান চাষের কাঠামো এবং খামারেই শক্তি পুনরুদ্ধার পদ্ধতি ব্যবহার করে আলো ও জলবায়ু কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফল উৎপাদন করা হয়। সেন্সরের তথ্য অনুযায়ী উপকরণ সরবরাহ করা হয় এবং ফসল তোলা ও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের মতো কাজে রোবট সহায়তা করে। এ মডেলগুলো সবই সিঙ্গাপুরের প্রেক্ষাপটে খাটবে না, তবে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ স্পষ্ট। সফটওয়্যার, পরিচ্ছন্ন শক্তি, নির্ভুল সেচ ও উদ্ভিদবিজ্ঞান একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরেও সম্পদের ব্যবহার কমানো এবং পণ্যের মান বাড়ানো সম্ভব।

ঘনবসতিপূর্ণ শহরের মডেল

সিঙ্গাপুরের কৌশলে আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা, স্থানীয় উৎপাদনকে সহনশীল করে তোলা এবং উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার সমন্বয় রয়েছে। এ কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছেন তরুণ কৃষকেরা। তাঁরা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পরিচালনা করতে, প্রক্রিয়ার দুর্বলতা চিহ্নিত করতে এবং নতুন পণ্য ও বিক্রির পথ তৈরি করতে পারেন। খামারগুলো নিয়মিত ক্রেতা, শক্তিশালী কার্যক্রম এবং উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য মূলধন পেলে তাঁদের কর্মজীবন টেকসই হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে নীতি, শিক্ষা ও বেসরকারি উদ্যোগ—সব কিছুরই ভূমিকা রয়েছে।

এক নজরে

  • বেতন ও লাভের মার্জিন অন্যান্য খাতের তুলনায় কম হলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগাতে তরুণ সিঙ্গাপুরীয়রা কৃষিতে আসছেন।
  • আধুনিক খামারে সেন্সর, বহুস্তর তাক ও পুনঃসঞ্চালন জলজ চাষব্যবস্থা ব্যবহার করে কম জমি ও পানিতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।
  • উচ্চ খরচ ও স্বল্পমেয়াদি ইজারায় লাভের মুখ দেখা কঠিন; তাই বিক্রি ও ব্র্যান্ডিংয়ে খামারগুলোকে সহযোগিতা করতে হচ্ছে।
  • কম প্রারম্ভিক বেতন ও পদোন্নতির সীমিত সুযোগ দক্ষ কর্মীদের নিরুৎসাহিত করে; তাই স্পষ্ট কর্মজীবনের পথ ও প্রশিক্ষণ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
  • সরকার ৩০ বাই ৩০ লক্ষ্য পর্যালোচনা করছে এবং অনুদান, নতুন খামারের জায়গা ও গুরুত্বপূর্ণ মাছের প্রজাতির জন্য ব্রুডস্টক কেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা বাড়াচ্ছে।
  • উদ্ভাবনী খামারগুলো নগদ অর্থের প্রবাহ উন্নত ও নতুন কাজের সুযোগ তৈরির জন্য খাওয়ার উপযোগী প্রস্তুত খাবার, যৌথ বিপণন এবং সরঞ্জাম নকশার দিকে এগোচ্ছে।
  • শিক্ষা ও ডিজিটাল উদ্যোগের লক্ষ্য কৃষি সম্পর্কে ধারণা বদলানো; এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফার্মিং ও বাড়িতে বাগান করার সঙ্গে পরিচিত করার কর্মসূচিও রয়েছে।
  • জমির দাম বেশি হওয়ায় স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং সম্পদের ব্যবহার কম রাখার ক্ষেত্রে উল্লম্ব কৃষি ও ঘরের ভেতরের জলজ চাষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে