চীনের কিছু শৌচাগারে নতুন এক কৌতূহলোদ্দীপক নিয়ম
চীনের কিছু গণশৌচাগারে এমন একটি ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে, যেখানে টয়লেট পেপার রাখা হয়েছে পর্দার আড়ালে। অল্প কিছু পেপার পেতে দর্শনার্থীদের ফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে একটি ছোট বিজ্ঞাপন দেখতে হয়। বিজ্ঞাপন দেখতে না চাইলে ০.৫ ইউয়ান, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত সেন্ট, দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পেপার পাওয়া যায়। নগর কর্মকর্তারা বলছেন, অপচয় কমানো এবং মানুষকে গণসুবিধা থেকে বেশি পরিমাণে পেপার নিয়ে যাওয়া ঠেকানোই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য। তবে এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে অনলাইনে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যন্ত্রগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে বিভ্রান্ত বা বিরক্ত হওয়া মানুষের ভিডিওও ছড়িয়ে পড়ছে।
সূচিপত্র
- চীনের কিছু শৌচাগারে নতুন এক কৌতূহলোদ্দীপক নিয়ম
- কিউআর কোড ডিসপেনসার যেভাবে কাজ করে
- কতটা পেপার, কত ঘন ঘন
- কর্মকর্তারা কেন বলছেন, এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
- প্রতিক্রিয়া ও শৌচাগারে মর্যাদার প্রশ্ন
- গোপনীয়তা, তথ্য ও বিজ্ঞাপনের মডেল
- প্রবেশগম্যতা ও স্বাস্থ্যবিধির ঝুঁকি
- রেশনিংয়ের প্রথম পরীক্ষা নয় এটি
- বিদেশের সঙ্গে চীনের ব্যবস্থার তুলনা
- মূল কথা
কতগুলো যন্ত্র বসানো হয়েছে বা কোথায় পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি সম্প্রসারিত হবে, তা স্থানীয় সরকারগুলো জানায়নি। ডিসপেনসার ও এর সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলো কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে, কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য বেনামি করা হয় কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। স্বচ্ছতার এই ঘাটতিই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে, পাশাপাশি আছে কিছু সাধারণ ব্যবহারিক প্রশ্ন। ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে, মোবাইল ডেটা ঠিকমতো কাজ না করলে বা কেউ স্মার্টফোনে পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার না করলে কী হবে? সমালোচকদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা মানুষকে বিপাকে ফেলতে পারে, কিংবা একটি সহজ গণসেবাকে বিপণনকারীদের জন্য আটকে রাখা দর্শকগোষ্ঠীতে পরিণত করতে পারে।
ব্যস্ত পার্ক ও যাতায়াতকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা থেকে এই ধারণার জন্ম। চুরি ও অতিরিক্ত ব্যবহারের অভিযোগে ব্যবস্থাপকেরা সরবরাহ সীমিত করতে বাধ্য হয়েছেন। চীনের অনেক গণশৌচাগারে একেবারেই পেপার রাখা হয় না। তাই বাসিন্দারা সাধারণত সঙ্গে টিস্যু রাখেন। যেসব স্থানে বিনা মূল্যে রোল দেওয়া হয়, সেগুলো থেকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞাপন-নির্ভর নতুন ডিসপেনসার এবং টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন এড়ানোর বিকল্প—অপচয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খরচ জোগানোর আধুনিক চেষ্টা। তবে অনেক ব্যবহারকারীর মতে, এর বিনিময়ে কমছে সুবিধা ও মর্যাদা।
কিউআর কোড ডিসপেনসার যেভাবে কাজ করে
যন্ত্রগুলো শৌচাগারের দেয়ালে, বেসিন বা টয়লেটের কেবিনের কাছে বসানো হয়। ছোট একটি পর্দা বা অপটিক্যাল সেন্সরে কিউআর কোড দেখা যায়। স্ক্যান করার পর ব্যবহারকারীর ফোন এমন একটি সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়, যা ছোট একটি প্রচারমূলক ভিডিও চালু করে। প্রতিবেদন ও ভিডিও অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনগুলো কয়েক সেকেন্ড চলে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ সেকেন্ড। ভিডিও শেষ হলে যন্ত্র থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টয়লেট পেপার বের হয়। আরও পেতে হলে ব্যবহারকারীকে প্রক্রিয়াটি আবার করতে হয়, অথবা টাকা দেওয়ার বিকল্পটি বেছে নিতে হয়। ফি সামান্য, তবে নীতিটি এবং এর সময় নির্বাচন নিয়েই অনেকের আপত্তি।
ভেতরে, প্রতিটি ডিসপেনসার কম বিদ্যুৎ-খরচের একটি ওয়্যারলেস মডিউলের মাধ্যমে এমন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখায়। এ নকশার ফলে কোনো টেকনিশিয়ান না পাঠিয়েই পরিচালকেরা বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন বিজ্ঞাপন চালাতে পারেন। আগে থেকে নির্ধারিত পেপারের পরিমাণ এবং অনুরোধের মধ্যে ব্যবধান অতিরিক্ত ব্যবহার ঠেকাতে সহায়তা করে। আগের রেশনিং যন্ত্রগুলোতে সাধারণত প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা এক ফালি পেপার দেওয়া হতো, আর একই ব্যক্তি আবার পেপার পাওয়ার আগে নয় থেকে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হতো। নতুন বিজ্ঞাপনভিত্তিক যন্ত্রগুলো মুখ স্ক্যান করে না এবং অপেক্ষার সময়ও কম হতে পারে; তবে মডেল ও শহরভেদে বিস্তারিত ভিন্ন।
কতটা পেপার, কত ঘন ঘন
প্রতি বিজ্ঞাপন দেখার বিনিময়ে ঠিক কতটা পেপার দেওয়া হবে, তা সর্বজনীনভাবে নির্ধারিত নয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অল্প একমুঠো পেপার দেওয়া হয়; ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি, যাতে মানুষ যুক্তিসংগত পরিমাণ ব্যবহার করেন। কারও তাৎক্ষণিকভাবে আরও পেপার দরকার হলে, টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন এড়িয়ে আরেক দফা পেপার পাওয়া যায়। তত্ত্বগতভাবে, এতে সংরক্ষণ ও নমনীয়তার ভারসাম্য থাকে। বাস্তবে ফল নির্ভর করে প্রতিবার যন্ত্রটি কতটা পেপার দেয়, অপেক্ষার সময় কত নির্ধারিত এবং ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি সামলাতে কোনো কর্মী উপস্থিত আছেন কি না—এসবের ওপর।
কর্মকর্তারা কেন বলছেন, এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
নগর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপকেরা বহুদিনের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। বেশি লোকসমাগম হয় এমন পার্ক, জাদুঘর ও যাতায়াতকেন্দ্রে বিনা মূল্যের সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কর্মীরা জানিয়েছেন, দর্শনার্থীরা রোল ব্যাগে ভরে নিয়ে যান, কিংবা শৌচাগারের বাইরের কাজে ব্যবহার করার জন্য গজের পর গজ পেপার টেনে নেন। বাজেটের চাপও সমস্যাটি বাড়ায়। সারাদিন বারবার সরবরাহ পূরণ করা ব্যয়বহুল, আর অপচয় হওয়া পেপার আবর্জনার পাত্রে জমে—যা সংগ্রহ করতেও বাড়তি খরচ হয়। কম ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে চালানো জনসচেতনতামূলক প্রচার একা সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।
প্রশাসকের দৃষ্টিতে প্রযুক্তিনির্ভর রেশনিং একটি বাস্তবসম্মত উপায়। যন্ত্রগুলো প্রত্যেকের ব্যবহার সীমিত করে, হঠাৎ করে পেপার নিয়ে যাওয়া নিরুৎসাহিত করে এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন আয়ের উৎস তৈরি করে, যা পেপার ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ জোগাতে সহায়তা করে। শৌচাগার পরিষ্কার ও সরবরাহপূর্ণ রাখার দায়িত্বে থাকা নগর বিভাগের কাছে কাগজে-কলমে পদ্ধতিটি দক্ষ মনে হয়। সমর্থকেরা আরও বলেন, চলমান পরীক্ষাগুলোতে মুখ স্ক্যান করা হয় না; এর বদলে সাধারণ ডিজিটাল স্ক্যান ব্যবহার করা হয়, যা চালু ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ।
তবে এর জন-প্রতিক্রিয়া সামলানো কঠিন। শৌচাগার জনপরিসরের সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থানগুলোর একটি। কোনো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর মাঝখানে বাণিজ্যিক বার্তা ঢুকিয়ে দেয়—এমন যেকোনো ব্যবস্থাই নজর কাড়বে। এ কারণেই পরীক্ষামূলক উদ্যোগগুলো গণপরিকাঠামোর ভেতরে বাণিজ্যিকীকরণ কত দূর পর্যন্ত যাওয়া উচিত, তা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও শৌচাগারে মর্যাদার প্রশ্ন
চীন ও চীনের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। কেউ কেউ ব্যবস্থাটিকে ডিস্টোপিয়ান বলেছেন। অন্যদের মতে, যন্ত্রগুলো একটি হাস্যকর ব্যবস্থা, যা মানুষকে নিজেদের সরবরাহ সঙ্গে রাখতে বাধ্য করবে। রসিকতার আড়ালে রয়েছে একটি গুরুতর কথা: ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঠিক সেই মুহূর্তে মানুষকে বাদ দিতে পারে, যখন তাদের দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন। শৌচাগারের তুলনায় শপিং মলে এ ধরনের অসুবিধা মানুষ বেশি সহজে মেনে নেন।
সবচেয়ে বেশি ছড়ানো সমালোচনাগুলোর একটি এসেছে এক্সের এক ব্যবহারকারীর কাছ থেকে। তিনি বিজ্ঞাপন দেখার বিনিময়ে আত্মমর্যাদা হারানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করেন। কয়েকটি তীক্ষ্ণ কথায় বিতর্কের আবহ তুলে ধরায় মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
চীনে টয়লেট পেপার পেতেও বিজ্ঞাপন দেখতে হয়। মর্যাদা আর বিনা মূল্যে মেলে না, সেটি এখন বিজ্ঞাপনের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে।
অনেক মন্তব্যে ব্যবহারিক উদ্বেগও উঠে এসেছে। বিজ্ঞাপন সার্ভার আটকে গেলে, ফোনের সংকেত চলে গেলে কিংবা কোনো পর্যটকের স্থানীয় পেমেন্ট অ্যাপ না থাকলে, প্রযুক্তির সামান্য ত্রুটি বড় অসুবিধায় পরিণত হয়। কর্মী থাকা পরীক্ষামূলক স্থানগুলোতেও এসব উদ্বেগ দূর হয় না, কারণ কর্মীরা সব সময় প্রবেশপথে থাকেন না, আর ব্যবস্থা ঠিকমতো চললেই কেবল সারি দ্রুত এগোয়।
গোপনীয়তা, তথ্য ও বিজ্ঞাপনের মডেল
মুখ শনাক্তকারী যন্ত্রের বদলে কিউআর কোড স্ক্যান চালু করায় এক ধরনের ঝুঁকি কমেছে, কিন্তু এসেছে আরেকটি: এখন মনোযোগ ও তথ্যই মুদ্রা। কিউআর কোড স্ক্যান করলে সাধারণত কোনো প্ল্যাটফর্মে থাকা লিংক বা মিনি প্রোগ্রাম খোলে। অল্প সময়ের মিথস্ক্রিয়াতেও সময়, ডিভাইসের ধরন ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যের লগ তৈরি হতে পারে। বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায়ই ভিডিও কতক্ষণ চলে এবং এরপর দ্বিতীয়বার অনুরোধ করা হয় কি না, তা অনুসরণ করে। পরিচালকেরা দাবি করতে পারেন যে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায় এমন কোনো তথ্য রাখা হয় না, কিন্তু এই লগ কীভাবে ব্যবহৃত হয়, তা জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট নয়।
চীনের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহারের উদ্দেশ্য সীমিত রাখা এবং সম্মতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বাস্তবে, তাড়াহুড়ো করে স্ক্যান করতে গিয়ে মানুষ হয়তো এসব তথ্য পড়েন না। হার্ডওয়্যার, স্থান পরিচালনাকারী এবং বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মধ্যে পেছনের ব্যবস্থায় তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, তা যাচাই করতে পারেন খুব কম মানুষই। তথ্য কত দিন রাখা হয়, কীভাবে বেনামি করা হয় এবং স্বতন্ত্র শনাক্তকারী ব্যবহার করা হয় কি না—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা আস্থা গড়তে সহায়তা করবে। সেই স্পষ্টতা না থাকলে, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হবেন যে শৌচাগারে দ্রুত একবার যাওয়ার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী ডিজিটাল চিহ্ন থেকে যেতে পারে।
এখানে ব্যবসায়িক একটি প্রশ্নও রয়েছে। বিজ্ঞাপনের আয় যদি পেপারের খরচ মেটাতে সাহায্য করে, তবে পরিচালনাকারী ও বিজ্ঞাপন অংশীদারদের বিজ্ঞাপন দেখার সংখ্যা বাড়ানোর প্রণোদনা থাকে। এতে আরও ঘন ঘন বিজ্ঞাপন দেখানো বা প্রতিবার বিজ্ঞাপন দেখার বিনিময়ে কম পেপার দেওয়ার মতো সেটিংস বেছে নেওয়ার ঝোঁক তৈরি হতে পারে। সংরক্ষণের সঙ্গে সুবিধার ভারসাম্য রাখা নকশা এবং বিজ্ঞাপন দেখানোর সংখ্যা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া নকশা এক হবে না। চুক্তির শর্তে যেন শুধু বিজ্ঞাপনের পরিমাণ নয়, সেবার মানকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা জনসেবা সংস্থাগুলোকে দেখাতে হবে।
প্রবেশগম্যতা ও স্বাস্থ্যবিধির ঝুঁকি
সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ন্যায্যতার প্রশ্ন। অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, টাকা বাঁচাতে ডেটা বন্ধ রাখেন, অথবা ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়। প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য স্ক্যান করা অসুবিধাজনক বা ধীর হতে পারে। শিশু ও বয়স্ক বাসিন্দারা প্রায়ই ডিজিটাল কাজের জন্য সঙ্গীর ওপর নির্ভর করেন। ইন্টারনেট সংযোগসহ চার্জ দেওয়া ফোন আছে—এমনটি ধরে নেওয়া শৌচাগারের ব্যবস্থা এই গোষ্ঠীগুলোকে ঠিক তখনই ব্যর্থ করতে পারে, যখন তাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিজ্ঞাপনের পর্দা আটকে গেলে বা কিউআর কোড না খুললে দেরির কারণে ডিসপেনসারের কাছে সারি জমতে পারে। শৌচাগারে প্রবেশের একটিমাত্র জায়গায় ভিড় হওয়া ভালো নয়। আগের রেশনিং পরীক্ষাগুলোতে ব্যবস্থাপকেরা কখনো কখনো জরুরি অবস্থায় বাড়তি পেপারের জন্য কর্মীদের বলতে দর্শনার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন। কাছে একজন কর্মী থাকলে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি সামলানো যায়, তবে তার জন্য নিয়মিত কর্মী থাকা এবং দ্রুত ও গোপনীয়ভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা জরুরি। এ কারণেই চীনের অনেক ভ্রমণকারী আগে থেকেই টিস্যু ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখেন; পুরোনো স্থাপনাগুলোতে সাবান ও পেপার নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায় না।
রেশনিংয়ের প্রথম পরীক্ষা নয় এটি
টয়লেট পেপার চুরি ঠেকাতে এর আগেও চেষ্টা করেছে চীন। ২০১৭ সালে বেইজিংয়ের টেম্পল অব হেভেন পার্কে এমন ডিসপেনসার বসানো হয়েছিল, যা বারবার পেপার পাওয়া সীমিত করতে মুখ স্ক্যান করত। প্রতিবার স্ক্যানে যন্ত্রগুলো প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পেপার দিত এবং একই মুখকে পরবর্তী নয় মিনিট পেপার পাওয়া থেকে বিরত রাখত। ২০১৯ সালের মধ্যে কিছু স্থানে অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে দশ মিনিট করা হয়। পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি ক্ষেত্রে কর্মীরা অতিরিক্ত পেপার দেবেন। এর মধ্য দিয়ে স্বীকার করা হয় যে কঠোর নিয়ম সব প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খায় না।
বর্তমান পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় মুখ স্ক্যানের বদলে ফোন স্ক্যান করা হয় এবং স্ক্যান ও পেপার পাওয়ার মাঝখানে একটি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। সমর্থকদের মতে, এতে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় না বলে ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ কম। সমালোচকদের জবাব, নতুন ধাপটিও একটি মৌলিক প্রয়োজনকে লেনদেনে পরিণত করে এবং তথ্য ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করে। স্মার্ট সিটি প্রকল্পগুলোতে এ টানাপোড়েন বারবার দেখা যায়: অপব্যবহারের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি কাজে লাগালে, নতুন কিছু সমঝোতার প্রশ্নও তৈরি হতে পারে, যার ভারসাম্য সতর্কতার সঙ্গে রক্ষা করতে হয়।
বিদেশের সঙ্গে চীনের ব্যবস্থার তুলনা
ইউরোপের কিছু অঞ্চলে শৌচাগার ব্যবহারে টাকা নেওয়া সাধারণ ব্যাপার। সেখানে টার্নস্টাইল বা কর্মীরা সামান্য প্রবেশমূল্য নেন। এসব ব্যবস্থা স্থাপনাগুলোর খরচ জোগাতে ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করে, তবে টাকা নেওয়া হয় প্রবেশের আগে এবং এর জন্য ফোনের দরকার হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে গণশৌচাগার সাধারণত বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়; সরবরাহের খরচ মেটানো হয় পৌর বাজেট বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় থেকে। ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা সেখানেও ঘটে, তবে পরিচালকেরা ব্যবহারের সময় সরাসরি পেপার রেশন করার বদলে রাতে শৌচাগার বন্ধ করে দেওয়া বা কোড চাওয়ার মতো উপায়ে প্রবেশ সীমিত করেন।
গ্যাস পাম্পের পর্দা থেকে ট্যাক্সির ডিসপ্লে পর্যন্ত, বহু গণপরিসরে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, জরুরি প্রয়োজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। গাড়ির ট্যাংক ভরার সময় বিজ্ঞাপন দেখা ঐচ্ছিক, কারণ মানুষ অন্যদিকে তাকাতে পারেন। শৌচাগার ব্যবহারের সময় পেপার পেতে ভিডিও দেখা তুলনামূলকভাবে কম ঐচ্ছিক মনে হয়, যদিও টাকা দিয়ে এড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ কারণেই বিতর্কটি উত্তপ্ত হয়েছে। মানুষ সহায়ক স্মরণ করিয়ে দেওয়া আর চাপিয়ে দেওয়া নকশার মধ্যে একটি সীমারেখা অনুভব করেন, আর শৌচাগারের সরবরাহ সেই সীমার খুব কাছাকাছি।
মূল কথা
- চীনের কিছু গণশৌচাগারে এমন ডিসপেনসার পরীক্ষা করা হচ্ছে, যেখান থেকে সীমিত পরিমাণ টয়লেট পেপার পেতে কিউআর কোড স্ক্যান করে ছোট বিজ্ঞাপন দেখতে হয়।
- বিজ্ঞাপন এড়িয়ে সঙ্গে সঙ্গে পেপার পেতে ব্যবহারকারীরা ০.৫ ইউয়ান, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত সেন্ট, দিতে পারেন।
- বেশি লোকসমাগম হয় এমন স্থাপনার অপচয় কমানো ও চুরি ঠেকানোই এ পরীক্ষার উদ্দেশ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
- কতগুলো যন্ত্র চালু আছে বা স্ক্যান ও বিজ্ঞাপন দেখার তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হয়, তা কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
- জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া বেশির ভাগই নেতিবাচক; অনেকে ব্যবস্থাটিকে ডিস্টোপিয়ান বলেছেন এবং মর্যাদা ও সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
- স্মার্টফোন, চার্জ থাকা ব্যাটারি, ডেটা সংযোগ বা খুচরা টাকা নেই—এমন মানুষের জন্য প্রবেশগম্যতার ঝুঁকি তুলে ধরেছেন সমালোচকেরা।
- এই উদ্যোগের আগে ২০১৭ সালে বেইজিংয়ে মুখ শনাক্তকারী ডিসপেনসার দিয়ে পেপার রেশন করার চেষ্টা হয়েছিল; তাতে অপেক্ষার সময় ছিল নয় থেকে দশ মিনিট।
- নতুন ব্যবস্থায় মুখ স্ক্যানের বদলে ফোন স্ক্যান করা হয়, তবে এতে পেপার পাওয়ার সঙ্গে বিজ্ঞাপন যুক্ত হওয়ায় গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- অন্য দেশেও ব্যবহারভিত্তিক অর্থ নেওয়া শৌচাগার আছে, তবে সেখানে সাধারণত পেপার দেওয়ার আগে বিজ্ঞাপন না দেখিয়ে প্রবেশপথে ফি নেওয়া হয়।
- এই পরীক্ষাগুলো সম্প্রসারিত হবে কি না, তা সম্ভবত নির্ভর করবে ব্যবহারকারীদের গ্রহণযোগ্যতা, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং সংরক্ষণের সঙ্গে ন্যায্য প্রবেশাধিকারের ভারসাম্য রাখা চুক্তির শর্তের ওপর।






