বাজার উন্মুক্ত, স্বর্ণ কিনতে হুড়োহুড়ি
স্বর্ণের বারের ওপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার ভিয়েতনামের সিদ্ধান্তে শুক্রবার দেশজুড়ে দোকানগুলোতে হাজারো ক্রেতার ভিড় জমে। শনিবার দামও রেকর্ড গড়ে। বেসরকারি উৎপাদকদের অনুমতি দেওয়ার প্রথম দিনে আংটি ও স্বর্ণের বার কিনতে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে সারি পড়ে যায়, তবে অনেকেই খালি হাতে ফেরেন। খুচরা বিক্রেতারা কেনাকাটায় সীমা বেঁধে দেন, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মজুত কমে যায়। নতুন উৎপাদকদের লাইসেন্সের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রেখেছে ভিয়েতনামের স্টেট ব্যাংক। ফলে চাহিদার আকস্মিক ঊর্ধ্বগতি সামলানোর দায় পড়েছে সাইগন জুয়েলারি কোম্পানি, সংক্ষেপে এসজেসি, এবং হাতে গোনা কয়েকটি বড় খুচরা বিক্রেতার ওপর।
সূচিপত্র
- বাজার উন্মুক্ত, স্বর্ণ কিনতে হুড়োহুড়ি
- কী বদলেছে, আর এখন কেন
- নতুন বিধিমালার সংক্ষিপ্ত চিত্র
- সরবরাহের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে দাম
- নতুন লাইসেন্স ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করবে
- কারা অংশ নিতে পারবে
- যেসব নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে
- ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এর অর্থ
- পরিবর্তনের সময় কীভাবে কেনাকাটা করবেন
- সংস্কৃতি, মুদ্রা ও ছায়াবাজারের ভূমিকা
- আগামী কয়েক সপ্তাহে যা নজরে রাখবেন
- মূল কথা
হো চি মিন সিটিতে এসজেসির সদর দপ্তরের বাইরে সারি পুরো ব্লকজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মজুত করে রাখার প্রবণতা ঠেকাতে কর্মীরা প্রত্যেক ক্রেতার জন্য কেনাকাটা ০.৩ তাইলে সীমাবদ্ধ করেন। এক তাইল সমান ৩৭.৫ গ্রাম, বা প্রায় ১.২ আউন্স। কয়েক দিন ধরে বিপুল চাহিদার পর ভিড় সামলাতে এসজেসি তাদের ওয়েবসাইটে আগে নিবন্ধন করা গ্রাহকদের কাছেই স্বর্ণের বার বিক্রি সীমিত রাখে। বার কেনার সময় না পেয়ে অনেক ক্রেতা সাধারণ আংটির দিকে ঝোঁকেন।
হ্যানয়ের ট্রান ন্যান তং স্ট্রিটে বাও তিন মিন চৌ সকালে আংটির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন আগে দেওয়া অগ্রিম অর্ডার পূরণে মনোযোগ দেয়। আশপাশের দোকানগুলোতে বার ও আংটির মজুত শেষ হওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। কিছু দোকানে শুধু গয়না পাওয়া যাচ্ছিল, আর নতুন সরবরাহের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় তারা নতুন অর্ডার নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
বাও তিন মিন চৌয়ের এক কর্মী বলেন, সকালের ভিড়ে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত তাক খালি হয়ে যায়।
আজ অনেক ক্রেতা এসেছিলেন, কিন্তু সরবরাহ দিয়ে চাহিদা মেটানো যায়নি।
কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর কিছু ক্রেতা হাল ছেড়ে দেন। ৬২ বছর বয়সী ওয়ান বলেন, বাজারের ওঠানামা থেকে সঞ্চয় রক্ষা করতে তিনি অন্য সম্পদের চেয়ে হাতে রাখা স্বর্ণকেই বেশি পছন্দ করেন।
আমি স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করি। আমার বয়সে অন্য সম্পদ সামলানো বা সেগুলো নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া কঠিন।
হো চি মিন সিটির ডিস্ট্রিক্ট ৫-এর বাসিন্দা হান দুই দিন ধরে অনলাইনে একটি বার সংরক্ষণের চেষ্টা করেও সফল হননি। পরিমাণের সীমা থাকা সত্ত্বেও তিনি আংটির দিকে ঝোঁকেন।
স্বর্ণের বার কেনা খুব কঠিন, তাই পরিমাণের সীমা থাকলেও আমি সাধারণ আংটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এই হুড়োহুড়ির মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাম লাফিয়ে রেকর্ড গড়ে। বাজারে পরিবর্তনের সময় সরবরাহ কম থাকার সঙ্গে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কেনার চাহিদা মিলিত হওয়ার ইঙ্গিত এটি।
কী বদলেছে, আর এখন কেন
সরকার ১৩ বছরের এমন একটি ব্যবস্থা অবসান করেছে, যাতে স্বর্ণের বার উৎপাদন ও আমদানি ভিয়েতনামের স্টেট ব্যাংক এবং তাদের মনোনীত উৎপাদক এসজেসির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। ডিক্রি ২৩২-এর অধীনে নতুন বিধিমালা (কার্যকর ১০ অক্টোবর, ২০২৫) কঠোর মূলধন ও বিধিপালনের শর্ত পূরণকারী লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য স্বর্ণের বার বা বুলিয়নের বাজার উন্মুক্ত করেছে। নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য, ভিয়েতনামের দাম ও বিশ্ববাজারের বেঞ্চমার্কের ব্যবধান কমানো, চোরাচালান হ্রাস, বাজার আধুনিক করা এবং স্বচ্ছতা বাড়ানো, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। স্থানীয় বাজারে বছরের পর বছর ধরে উচ্চ প্রিমিয়াম অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছে এবং ভোক্তাদের কেনাকাটা কঠিন করে তুলেছে। দুর্বল মুদ্রার সময়ে মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের প্রতি অব্যাহত চাহিদাও এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে।
নতুন কাঠামোতে তদারকির ভূমিকা রাষ্ট্রের হাতেই থাকছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের লাইসেন্স দেবে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি কোটা নির্ধারণ করবে এবং নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করবে। প্রতিদিন জনপ্রতি ২ কোটি ডং বা তার বেশি মূল্যের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের ইলেকট্রনিক চালান দিতে এবং গুণমানের মানদণ্ড ঘোষণা করতে হবে। আমদানি করা অপরিশোধিত স্বর্ণ বার বা গয়না তৈরিতে ব্যবহারের আগে উচ্চ বিশুদ্ধতার মান পূরণ করবে; সাধারণত তা ৯৯.৫ শতাংশের বেশি হতে হবে।
নতুন বিধিমালার সংক্ষিপ্ত চিত্র
- একচেটিয়া ব্যবস্থার বদলে লাইসেন্স। যোগ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে স্বর্ণের বার বা বুলিয়ন উৎপাদন, বাণিজ্য, আমদানি ও রপ্তানি করতে পারবে।
- মূলধনের শর্ত কঠোর। প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত মূলধন কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডং হতে হবে। ব্যাংকের লাগবে কমপক্ষে ৫০ ট্রিলিয়ন ডং, স্বর্ণ বাণিজ্যের লাইসেন্স এবং বিধিপালনের স্বচ্ছ রেকর্ড।
- অর্থ পরিশোধ হবে আনুষ্ঠানিকভাবে। প্রতিদিন জনপ্রতি ২ কোটি ডং বা তার বেশি মূল্যের কেনাবেচা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে করতে হবে; পাশাপাশি দিতে হবে ইলেকট্রনিক চালান এবং লেনদেনের তথ্য জানাতে হবে।
- আমদানি নিয়ন্ত্রিত। মুদ্রানীতির লক্ষ্য ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিয়েতনামের স্টেট ব্যাংক আমদানি কোটা বরাদ্দ করবে।
- গুণমানের মানদণ্ড নির্দিষ্ট। লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদকদের বিশুদ্ধতা ও গুণমানের মান প্রকাশ এবং লেনদেনের বিস্তারিত নথি সংরক্ষণ করতে হবে।
- সীমাবদ্ধতা রেখে ব্যাংকগুলো ফিরছে। লাইসেন্স পেলে ব্যাংক স্বর্ণের বার উৎপাদন বা আমদানি করতে পারবে, তবে অতীতের ঝুঁকি ঠেকাতে স্বর্ণের আমানত সংগ্রহ বা স্বর্ণঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে।
সরবরাহের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে দাম
বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। শনিবার সকালে এসজেসি প্রতি তাইল স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১৪২.৮ মিলিয়ন ডং, অর্থাৎ প্রায় ৫,৪২১ ডলার নির্ধারণ করে। বছরের শুরু থেকে দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এর আগে আগস্টের শেষ দিকে দাম বাড়তে বাড়তে প্রতি তাইল ১২৬ থেকে ১২৮ মিলিয়ন ডংয়ের কাছাকাছি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। বাজার খোলার উদ্দেশ্য সরবরাহ বাড়ানো এবং বিশ্ববাজারের দামের তুলনায় প্রিমিয়াম কমানো। তবে স্বল্প মেয়াদে বাজারের রূপান্তরের সময় বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং নতুন উৎপাদকেরা লাইসেন্সের অপেক্ষায় থাকায় সরবরাহে টান পড়েছে। ব্র্যান্ডভেদে প্রিমিয়াম এবং নিকট ভবিষ্যতের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় দামের ব্যবধানও বেশি রয়েছে।
ভিয়েতনামে স্বর্ণের চাহিদা গভীর। শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশটি প্রায় ৫৫ টন স্বর্ণের বার, গয়না ও মুদ্রা আমদানি করেছে, যা এটিকে এশিয়ার অন্যতম বড় বাজারে পরিণত করেছে। স্বর্ণ দেশটির সংস্কৃতিতে মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম এবং ডং দুর্বল হলে সুরক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; মহামারির পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ডং দুর্বল হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাজারেও স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ দাম আরও বাড়িয়েছে। স্থানীয় সরবরাহ চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দামের ব্যবধান বাড়তে পারে, যা অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করে। নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য বৈধ পথে চাহিদা মেটানো এবং সময়ের সঙ্গে এই ব্যবধান কমানো।
নতুন লাইসেন্স ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করবে
ভিয়েতনামের স্টেট ব্যাংক এখনো আবেদনগুলো প্রক্রিয়া করছে। কোন নতুন প্রতিষ্ঠান স্বর্ণের বার উৎপাদন করবে, কর্মকর্তারা তা এখনো ঘোষণা করেননি। কিছু খুচরা বিক্রেতা বলছে, নতুন করে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে তারা নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। একক উৎপাদক থেকে একাধিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বাজারে রূপান্তরের সময় চাহিদা ও সরবরাহের সাময়িক অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। অনুমোদিত উৎপাদক ও ব্যাংকের কাছ থেকে বার সরবরাহের অপেক্ষায় দোকানগুলো বিক্রির পরিমাণ সীমিত করছে, অগ্রিম অর্ডারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ক্রেতাদের আংটি বা গয়না কেনার পরামর্শ দিচ্ছে।
কারা অংশ নিতে পারবে
- প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বর্ণ বাণিজ্যের লাইসেন্স থাকতে হবে, কোনো নিষ্পত্তি না হওয়া নিষেধাজ্ঞা থাকা চলবে না এবং নিবন্ধিত মূলধন কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডং হতে হবে।
- বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্বর্ণ বাণিজ্যের লাইসেন্স ও বিধিপালনের স্বচ্ছ রেকর্ড থাকতে হবে; নিবন্ধিত মূলধনও কমপক্ষে ৫০ ট্রিলিয়ন ডং হতে হবে।
- যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো অপরিশোধিত স্বর্ণ আমদানি, বুলিয়ন উৎপাদন ও বার বাণিজ্য করতে পারবে এবং অনুমতি থাকলে হিসাবভিত্তিক স্বর্ণপণ্য তৈরি করতে পারবে।
- লাইসেন্স পেলে এসজেসির পাশাপাশি পিএনজে ও ডিওজেআইয়ের মতো বড় গয়না প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনের প্রাথমিক প্রার্থী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- মূলধনের শর্ত পূরণকারী বড় ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ভিয়েটকমব্যাংক, বিআইডিভি, ভিয়েটিনব্যাংক, আগ্রিব্যাংক, ভিপিব্যাংক, টেককমব্যাংক, এমবি ও এসিবি।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক উৎপাদনের লাইসেন্স ও আমদানি কোটা ঘোষণা করবে এবং ইলেকট্রনিক চালান ও তথ্য বিনিময় বাধ্যতামূলক করবে।
যেসব নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে
ব্যাংকগুলো আবার স্বর্ণের বার উৎপাদন ও আমদানির অনুমতি পেলেও স্বর্ণের আমানত সংগ্রহ বা স্বর্ণঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে। অতীতে বাজারের অস্থিরতায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পড়েছিল; এই সীমা সেই ঝুঁকি মোকাবিলা করে। কোটা অনুযায়ী আমদানি করা হবে এবং বড় সব লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। এই কাঠামোর লক্ষ্য, জল্পনা-কল্পনা ঠেকানো এবং চোরাচালানের প্রণোদনা কমানোর পাশাপাশি বৈধ সরবরাহ বাড়ানো।
ব্যাংকিং ও অর্থ বিশেষজ্ঞ ড. নগুয়েন ত্রি হিয়েউ বলেন, সরবরাহ বাড়লে এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকলে এই পরিবর্তন বাজারকে স্থিতিশীল করতে পারে।
নির্বাচিত ব্যাংক ও বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ আমদানির অনুমতি দিলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল করতে এবং জল্পনা কমাতে সহায়তা হবে। সরকার সরবরাহ বাড়ালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্বর্ণের দামের ব্যবধান কমতে পারে। স্থানীয় বাজার বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে দামের পার্থক্য কমবে।
ভিয়েতনাম গোল্ড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধি বলেন, কঠোর তদারকি এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত অংশগ্রহণকারীদের পরিচিতি বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
ব্যাংকগুলো নিয়ম ভাঙবে—এমন উদ্বেগ এখন আর নেই।
নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিযোগিতার সুযোগ দিচ্ছে, তবে নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতেই রাখছে। লাইসেন্স কত দ্রুত দেওয়া হয়, কতটা অপরিশোধিত স্বর্ণ আমদানি করা হয় এবং বাজার কঠোর প্রতিবেদন ও অর্থ পরিশোধের নিয়মের সঙ্গে কতটা খাপ খায়—তার ওপর সাফল্য নির্ভর করবে।
ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এর অর্থ
ভোক্তাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা বদলাবে। একাধিক ব্র্যান্ড বিক্রির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, বড় অঙ্কের লেনদেনে নগদের বদলে ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবহৃত হবে এবং ইলেকট্রনিক চালান হয়ে উঠবে বাধ্যতামূলক। একটি ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর না করে ক্রেতারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম ও প্রিমিয়াম তুলনা করতে পারবেন। সময়ের সঙ্গে স্বচ্ছ আমদানি এবং উৎপাদকের সংখ্যা বাড়লে ঘাটতি কমার পাশাপাশি বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে ব্যবধানও কমার কথা, যদিও প্রথম কয়েক সপ্তাহ বাজারে অস্থিরতা থাকতে পারে।
পরিবর্তনের সময় কীভাবে কেনাকাটা করবেন
- কেনার আগে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম তুলনা করুন। প্রতি তাইলে বিশ্ববাজারের দামের তুলনায় প্রিমিয়াম জেনে নিন এবং বিক্রয়মূল্য ও পুনঃক্রয়মূল্যের ব্যবধান যাচাই করুন।
- বিশুদ্ধতা ও হলমার্কের মান নিশ্চিত করুন। বার ও আংটিতে স্পষ্ট চিহ্ন এবং সনদ থাকা উচিত।
- ইলেকট্রনিক পেমেন্টের প্রস্তুতি রাখুন। প্রতিদিন জনপ্রতি ২ কোটি ডং বা তার বেশি মূল্যের লেনদেনে ব্যাংক ট্রান্সফার করতে হবে।
- ইলেকট্রনিক চালান সংরক্ষণ করুন। এগুলো মালিকানার প্রমাণ এবং পুনর্বিক্রয় বা ওয়ারেন্টির দাবিতে কাজে লাগে।
- ব্যস্ত দোকানে বিক্রির পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে। নতুন উৎপাদকদের উৎপাদন বাড়ানোর সময় অগ্রিম অর্ডার ও পরিমাণের সীমা থাকতে পারে।
- সরবরাহ কতটা বাড়ছে তা বুঝতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদক ও আমদানি কোটা নিয়ে সরকারি হালনাগাদ তথ্য দেখুন।
খুচরা বিক্রেতাদের সামনে মানিয়ে নেওয়ার সময় আসছে। কত দ্রুত লাইসেন্স দেওয়া হয় এবং আমদানি কোটা কীভাবে নির্ধারিত হয়, তার ওপর মজুত পরিকল্পনা নির্ভর করবে। ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা লাভের হার কমাতে পারে, তবে অপরিশোধিত স্বর্ণে সহজ প্রবেশাধিকার সময়ের সঙ্গে গয়না প্রস্তুতকারকদের খরচ কমাতে পারে। উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য অপরিশোধিত স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স না থাকায় গয়না নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কথা বলে আসছেন। সরবরাহ স্থিতিশীল হলে উন্নত আমদানি সুবিধা রপ্তানি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। উচ্চ কাঁচামাল ব্যয়ে চাপে থাকা উৎপাদনকারীদের স্বস্তি দিতে স্বর্ণের গয়না রপ্তানিতে ১ শতাংশ কর শূন্যে নামানোর প্রস্তাব করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
ডিজিটাল নথি ও ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ জাল পণ্যের ঝুঁকি কমাতে এবং পণ্যের উৎস শনাক্ত করার সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে নতুন ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং পণ্য তুলনা করার সময় ক্রেতারা আরও নিশ্চিন্ত বোধ করবেন।
সংস্কৃতি, মুদ্রা ও ছায়াবাজারের ভূমিকা
ভিয়েতনামের আর্থিক অভ্যাস ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে স্বর্ণ জড়িয়ে আছে। বিয়ে, উৎসব ও সঞ্চয়ের জন্য মানুষ স্বর্ণ কেনে। ডং দুর্বল হলে বা ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কমলে স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। অতীতে কর্তৃপক্ষ দৈনন্দিন আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বর্ণের প্রভাব কমাতে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করেছে। নতুন পদ্ধতিতে স্বীকার করা হচ্ছে যে চাহিদা প্রবলই থাকবে; তাই আর্থিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত রেখে নিয়ন্ত্রিত পথে সেই চাহিদা মেটানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাজারে দীর্ঘদিনের উচ্চ প্রিমিয়াম চোরাচালান ও অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেছে। বাধ্যতামূলক ব্যাংক ট্রান্সফার ও ইলেকট্রনিক চালানের মাধ্যমে লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে অঘোষিত বেচাকেনার সুযোগ কমানোই নতুন কাঠামোর লক্ষ্য। সময়ের সঙ্গে বাজারে হিসাবভিত্তিক স্বর্ণ, পণ্যের সত্যতা যাচাইয়ের উন্নত প্রযুক্তি এবং এমনকি দাম নির্ধারণের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মও যুক্ত হতে পারে। এতে ব্র্যান্ডভেদে প্রিমিয়াম কমবে, তারল্য বাড়বে এবং ব্যস্ত মৌসুমে দামের অস্থিরতা কমবে।
আগামী কয়েক সপ্তাহে যা নজরে রাখবেন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হবে স্বর্ণের বার উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রথম তালিকা এবং আমদানি কোটার প্রাথমিক বরাদ্দ। এতে বোঝা যাবে দেশে কতটা অপরিশোধিত স্বর্ণ আসতে পারবে এবং নতুন বার কত দ্রুত দোকানে পৌঁছাবে। খুচরা বিক্রেতারা বিক্রির সীমা শিথিল করছে কি না, দোকানে সরাসরি গিয়ে কেনার জন্য আংটি ও বার আবার মজুতে ফিরছে কি না এবং বড় শহরের দোকানগুলোতে সারি ছোট হচ্ছে কি না—সেদিকে নজর রাখুন।
দামও পরিস্থিতির আরেকটি মাপকাঠি হবে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দামের ব্যবধান কমলে বোঝা যাবে, বৈধ সরবরাহ চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে। প্রিমিয়াম বেশি থাকলে তা লাইসেন্স পেতে বিলম্ব বা সতর্কভাবে নির্ধারিত কোটার ইঙ্গিত হতে পারে। ভোক্তারাও ব্যাংক ট্রান্সফার ও ডিজিটাল চালানে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। অপেক্ষার সময় কমাতে এবং দোকানে ভিড় সামলাতে বিক্রেতারা অনলাইনে আগাম নিবন্ধনের ব্যবস্থা বদলাতে পারেন।
মূল কথা
- স্বর্ণের বারের ওপর ১৩ বছরের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে ভিয়েতনাম লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের জন্য উৎপাদন ও আমদানির সুযোগ খুলেছে।
- প্রথম দিনেই সরবরাহ সীমিত থাকা অবস্থায় চাহিদা বেড়ে যায়; দোকানে দীর্ঘ সারি, বিক্রির সীমা এবং সর্বত্র মজুত শেষ হওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়।
- ভিড় সামলাতে এসজেসি ক্রেতাপ্রতি কেনাকাটা ০.৩ তাইলে সীমিত করে এবং আগে নিবন্ধন করা গ্রাহকদের কাছেই বার বিক্রি করেছে।
- নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ কেনার আরেক দফা হুড়োহুড়ির পর দাম রেকর্ড ১৪২.৮ মিলিয়ন ডং, অর্থাৎ প্রায় ৫,৪২১ ডলারে পৌঁছেছে।
- নতুন ব্যবস্থায় মূলধনের শর্ত, আমদানি কোটা ও ইলেকট্রনিক চালানসহ কঠোর তদারকি বজায় থাকবে।
- প্রতিদিন জনপ্রতি ২ কোটি ডং বা তার বেশি মূল্যের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে করতে হবে।
- ব্যাংকগুলো আবার স্বর্ণের বুলিয়ন উৎপাদন ও আমদানির সুযোগ পাবে, তবে স্বর্ণের আমানত সংগ্রহ বা স্বর্ণঋণ দিতে পারবে না।
- কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে ব্যবধান কমানো, চোরাচালান হ্রাস এবং বৈধ সরবরাহ বাড়ানো।
- লাইসেন্সের ঘোষণা ও আমদানির প্রথম কোটা ঘাটতি কত দ্রুত কমবে, তার গতি নির্ধারণ করবে।
- পরিবর্তনের সময় ভোক্তাদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম তুলনা, ব্যাংক ট্রান্সফারের প্রস্তুতি এবং ইলেকট্রনিক চালান সংরক্ষণ করা উচিত।






