আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত বালি
প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে সড়কগুলো দ্রুতগতির স্রোতে পরিণত হওয়ার পর বালিতে অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, বালির রাজধানী দেনপাসারসহ জেমব্রানা, গিয়ানয়ার, বাদুং, ক্লুংকুং ও তাবানানে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। প্রতিবেশী পূর্ব নুসা তেঙ্গারাতেও পৃথক বন্যা ও ভূমিধসে জাতীয় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। দুই প্রদেশে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ১৫-তে পৌঁছেছে, আর কর্তৃপক্ষ অন্যদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে এক দশকের মধ্যে দ্বীপটির সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা বলে বর্ণনা করেছেন। ব্যস্ত পর্যটন মৌসুমের মাঝেই এই সংকট দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে বৃষ্টি শুরু হয়ে বুধবার পর্যন্ত চলে। এতে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উপচে পড়ে এবং উপকূলের পর্যটন এলাকা থেকে শুরু করে ভেতরের শহর পর্যন্ত বিভিন্ন জনপদ প্লাবিত হয়। বালি জলবায়ু পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের হিসাবে, জেমব্রানায় রাতারাতি ৩৮৫.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা চরম দৈনিক বৃষ্টিপাতের প্রচলিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। দেনপাসারের একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৮৮.৪ মিলিমিটার। স্থানীয় সংস্থার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বাদামি পানির স্রোতে যানবাহন ভেসে যাচ্ছে। দক্ষিণ দেনপাসারে স্রোতে নিচতলার মাটি সরে যাওয়ায় একটি দোকান ভবন ধসে পড়েছে। দ্বীপ সরকার এক সপ্তাহের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্যুৎ পুনরায় চালু, সড়ক পরিষ্কার এবং নিখোঁজদের খোঁজে কর্মীরা কাজ করছেন। পরে বৃষ্টি কমে এলে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে।
যেসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি
দেনপাসারে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক কিছু দৃশ্য দেখা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ বাদুং বাজারের কাছে পাওয়া গেছে। কুম্বাসারি বাজার এলাকার কাছে একটি ভবন স্রোতের তোড়ে ভেঙে পড়লে চারজনের মৃত্যু হয়। বিমানবন্দর ও কুটা যাওয়ার যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল সিমপাং দেবা রুচি আন্ডারপাসে প্রায় ৩ মিটার গভীর পানি জমে। এতে যানবাহন ডুবে গেলে সেগুলো ফেলে যেতে হয়। বাদুং, গিয়ানয়ার ও উবুদের কিছু এলাকায় সড়কগুলো দ্রুতগতির নদীর মতো হয়ে ওঠে। দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে জেমব্রানায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে; মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ছয়টি জেলা ও শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থার হিসাবে, শতাধিক জনপদ প্লাবিত হয়েছে। কারাঙ্গাসেম, গিয়ানয়ার ও বাদুংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় শত শত মানুষ হল, মন্দির ও মসজিদে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছেন। জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, সড়ক প্লাবিত হওয়া এবং বিপুলসংখ্যক স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর কারণে দলগুলোর চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বৃষ্টি কমতে শুরু করলেও উঁচু এলাকা থেকে নেমে আসা পানি নিচের দিকে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বইতে থাকে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় চাংগু ও সেমিনিয়াকও এর মধ্যে রয়েছে।
কারা কীভাবে সাড়া দিচ্ছেন
প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো শোক প্রকাশ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জরুরি তৎপরতার সমন্বয় করতে বালিতে গেছেন। পানি নিষ্কাশন এবং জলকপাট ও জলাধার থেকে ধ্বংসাবশেষ সরাতে গণপূর্ত ও আবাসন মন্ত্রণালয় পাম্প, খননযন্ত্র ও দ্রুত পদক্ষেপকারী দল মোতায়েন করেছে। মন্ত্রী দোদি হাঙ্গোদো বলেছেন, বালি পেনিদা নদী অববাহিকা কার্যালয়, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন, যাতে সানসেট রোড, লেগিয়ান স্ট্রিট, এনগুরাহ রাই বাইপাস এবং চাংগু ও কেরোবোকানের কিছু সড়ক আবার চালু করা যায়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুয়ারা জলাধারের পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার এটি একটি ইঙ্গিত।
মন্ত্রিসভার সচিব টেডি ইন্দ্রা বিজায়া প্রেসিডেন্টের নির্দেশনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, বালি ও পূর্ব নুসা তেঙ্গারা—উভয় স্থানেই বিলম্ব না করে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে।






