২০৪৫ সালের মধ্যে এশিয়ার পরবর্তী ‘টাইগার অর্থনীতি’ হতে ভিয়েতনামের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু

পড়তে 11 মিনিট
Vietnam’s reform challenge | Asialink

২০৪৫ সালের মধ্যে এশিয়ার পরবর্তী ‘টাইগার অর্থনীতি’ হতে ভিয়েতনামের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু

দুই দশকের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নকে লক্ষ্য করেছে উচ্চাভিলাষী জাতীয় কৌশল।

২০২৪ সালের শেষ দিকে হ্যানয়ে বিপ্লবী নেতা হো চি মিনের সোনালি আবক্ষ মূর্তি ও লাল ব্যানারের সামনে কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লাম ‘উন্নয়নের নতুন যুগ’ শুরুর ঘোষণা দেন। কয়েক দশকের মধ্যে ভিয়েতনামের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির সূচনা করে এই ঘোষণা। এর সুস্পষ্ট লক্ষ্য, দেশটিকে এশিয়ার পরবর্তী ‘টাইগার অর্থনীতিতে’ রূপান্তর করা এবং স্বাধীনতার শতবর্ষে—২০৪৫ সালের মধ্যে—উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়া।

সূচিপত্র
  1. ২০৪৫ সালের মধ্যে এশিয়ার পরবর্তী ‘টাইগার অর্থনীতি’ হতে ভিয়েতনামের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু
  2. দুই দশকের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নকে লক্ষ্য করেছে উচ্চাভিলাষী জাতীয় কৌশল।
  3. ভিয়েতনাম কেন টাইগার অর্থনীতি হতে চায়
  4. ভিয়েতনামের ২০৪৫ কৌশল: প্রবৃদ্ধির একাধিক চালিকাশক্তি
  5. অতীত থেকে শিক্ষা: মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়ানো
  6. ২০৪৫-এর পথে চ্যালেঞ্জ
  7. চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভিয়েতনামের পরিকল্পনা
  8. আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব
  9. প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: প্রবৃদ্ধির পরবর্তী চালিকাশক্তি
  10. জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি
  11. প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: দক্ষতার জন্য কাঠামো সরলীকরণ
  12. যা ঝুঁকিতে: ভিয়েতনাম কি সফল হবে?
  13. মূল বিষয়গুলো

তথাকথিত ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো উন্নত এশীয় অর্থনীতির কাতারে যোগ দিতে ভিয়েতনামের নেতারা শিল্পের আধুনিকায়ন, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সাহসী সমন্বয়ের ওপর ভরসা করছেন। ভিয়েতনামের প্রচলিত রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির মডেল যখন গতি হারাচ্ছে, তখনই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা, বয়স্ক জনসংখ্যা ও জলবায়ু ঝুঁকি থেকে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে দেশটি।

ভিয়েতনাম কেন টাইগার অর্থনীতি হতে চায়

‘টাইগার অর্থনীতি’ বলতে বিশ শতকের শেষভাগে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো পূর্ব এশীয় অর্থনীতিগুলোর দ্রুত ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে বোঝায়। রপ্তানিনির্ভর শিল্পায়ন, শিক্ষা ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ এবং অর্থনীতিতে সরকারের কৌশলগত হস্তক্ষেপের সমন্বয়ে এসব দেশ উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জন করেছিল।

১৯৮৬ সালের Đổi Mới (সংস্কার) কর্মসূচির পর ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক রূপান্তর ছিল উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত ব্যবস্থা থেকে দেশটি ‘সমাজতান্ত্রিক অভিমুখী বাজার অর্থনীতিতে’ রূপান্তরিত হয়েছে; বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। স্থানীয় মূল্য অনুযায়ী সমন্বয় করলে, গড় বার্ষিক আয় ১৯৯০ সালের প্রায় ১,২০০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৬,০০০ ডলারেরও বেশি হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। ভিয়েতনাম এখন বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র। শান্ত শহরতলির জায়গায় গড়ে উঠছে শিল্পাঞ্চল, আর ইলেকট্রনিকস থেকে পোশাক—বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলো ভিয়েতনামের কারখানার ওপর নির্ভর করছে।

তবে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি স্বল্প ব্যয়ের উৎপাদন ও রপ্তানিনির্ভর মডেলটি গতি হারাচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং নতুন বাণিজ্য বাধা—যেমন ভিয়েতনামের পণ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক—সস্তা শ্রম ও বিদেশি চাহিদার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। স্থবিরতা এড়িয়ে উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জন করতে হলে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে, মূল্য সংযোজনের উচ্চতর ধাপে উঠতে এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে বলে মনে করছেন ভিয়েতনামের নেতারা।

ভিয়েতনামের ২০৪৫ কৌশল: প্রবৃদ্ধির একাধিক চালিকাশক্তি

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইলেকট্রনিকস, তাইওয়ানে সেমিকন্ডাক্টর এবং সিঙ্গাপুরে অর্থায়নের মতো একটি খাতে মনোযোগী ছিল এশিয়ার আগের টাইগার অর্থনীতিগুলো। কিন্তু ভিয়েতনামের অর্থনীতি এখন এতটাই জটিল ও পরস্পরনির্ভর যে শুধু একটি ‘বিজয়ী’ শিল্পের ওপর ভরসা করা সম্ভব নয়। বরং সরকারের ২০৪৫ কৌশল তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:

  • শিল্পের আধুনিকায়ন: সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো উচ্চপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভিয়েতনাম। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হ্যানয়, হো চি মিন সিটি ও দানাংয়ের মতো বড় শহরে কৌশলগত করছাড়, গবেষণায় সহায়তা ও প্রণোদনা চালু করা হচ্ছে।
  • অবকাঠামোয় বিনিয়োগ: উত্তর-দক্ষিণ উচ্চগতির রেলপথসহ বড় প্রকল্পে জিডিপির ১০ শতাংশের সমপরিমাণ—প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার—বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। এই রেলপথ হ্যানয় থেকে হো চি মিন সিটির যাত্রার সময় আট ঘণ্টারও কমিয়ে আনবে। শিল্প প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নতুন সরবরাহ করিডর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
  • আর্থিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বেসরকারি খাতকে ক্ষমতায়ন: হো চি মিন সিটি ও দানাংয়ে বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে চায় ভিয়েতনাম। সেখানে সহজতর নিয়মকানুন, করছাড় এবং আর্থিক প্রযুক্তির (ফিনটেক) স্টার্টআপের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। বড় নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যবসাকে এখন অর্থনীতির ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঋণ পাওয়া সহজ করা, সরকারি চুক্তিতে অগ্রাধিকার এবং বড় প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে তাদের।

কমিউনিস্ট পার্টির মে মাসে গৃহীত রেজোলিউশন ৬৮ এই নতুন দিককে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রতিভার ভিত্তি ও আরও দক্ষ প্রশাসন গড়তে মন্ত্রণালয় একীভূত করা হচ্ছে, আমলাতান্ত্রিক স্তর কমানো হচ্ছে এবং প্রদেশের সংখ্যা ৬৩ থেকে কমিয়ে ৩৪ করা হচ্ছে।

অতীত থেকে শিক্ষা: মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়ানো

‘মধ্যম আয়ের ফাঁদ’ বলতে সেই পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে দেশগুলো দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও উচ্চ আয়ের মর্যাদায় পৌঁছানোর আগেই থমকে যায়। চীনের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক লিন ইফুর মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ সফলভাবে এই উত্তরণ ঘটাতে পেরেছে। উদ্ভাবনের অভাব, সস্তা শ্রমের ওপর অতিনির্ভরতা কিংবা প্রতিষ্ঠান সংস্কারে ব্যর্থতার কারণে বেশির ভাগ দেশ আটকে যায়।

অধ্যাপক লিনের মতে, রাষ্ট্রের সমন্বয় ও বাজারের স্বাধীনতার সমন্বয়ে গড়া বাস্তববাদী পদ্ধতিই ভিয়েতনামের সেরা সম্ভাবনা। তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের ‘উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র’ মডেলের কথা বলেন। এ মডেলে সরকার কৌশলগত শিল্পকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিয়েছে, পাশাপাশি প্রতিযোগিতার চালিকাশক্তি হিসেবে বাজারকে কাজ করতে দিয়েছে। অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত, নিয়ন্ত্রণহীন উদারীকরণ—দুটির বিরুদ্ধেই সতর্ক করেছেন লিন; অন্য অঞ্চলে এসবের ফলে স্থবিরতা বা সংকট তৈরি হয়েছে।

ভিয়েতনামের বর্তমান মাথাপিছু জিডিপি ২০০৫ সালে চীনের যে পর্যায়ে ছিল, তার কাছাকাছি। প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত রূপান্তরে চীনের গতি অনুসরণ করতে পারলে ভিয়েতনাম ২০৪৫ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জন করতে পারে। লিনের মতে, মূল বিষয় হলো দেশের নিজস্ব শক্তি শনাক্ত ও বিকশিত করা, উদ্ভাবনে সহায়তা দেওয়া এবং নমনীয়, লক্ষ্যনির্ভর শিল্পনীতি বজায় রাখা।

২০৪৫-এর পথে চ্যালেঞ্জ

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও টাইগার অর্থনীতি হওয়ার পথে বড় বাধার মুখে রয়েছে ভিয়েতনাম। এর মধ্যে রয়েছে:

  • রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমা ও বাণিজ্য উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা থেকে ভিয়েতনামের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি লাভবান হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশটির বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। তবে এ সাফল্য নজরদারিও বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভিয়েতনামের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১২৩.৫ বিলিয়ন ডলার, যার জেরে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি আসে। আলোচনার পর বেশির ভাগ ভিয়েতনামি পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত হয়; আর পুনঃরপ্তানির সন্দেহে থাকা পণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক বসে (যুক্তরাষ্ট্রের চীনবিষয়ক বিধিনিষেধ এড়াতে ভিয়েতনাম হয়ে পাঠানো পণ্য)। আঞ্চলিক সমপর্যায়ের দেশগুলোর মতোই শর্ত আদায় করতে পেরেছে ভিয়েতনাম, তবে এই ঘটনা বিদেশি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে।
  • বেসরকারি খাতের সীমাবদ্ধতা: সরকার এখন বেসরকারি উদ্যোগকে সমর্থন করলেও স্থানীয় কোম্পানিগুলো ঋণ, বাজার ও প্রযুক্তিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো (SOE) গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ওপর আধিপত্য বজায় রেখেছে, যার ফলে অদক্ষতা ও স্বজনপ্রীতির সৃষ্টি হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর প্রতিরোধ সংস্কারের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
  • জনমিতিক পরিবর্তন: ভিয়েতনামের ‘জনসংখ্যাগত সুবর্ণ সময়’—যখন নির্ভরশীল মানুষের চেয়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি—২০৩৯ সালের মধ্যে শেষ হবে। এর মাত্র তিন বছর পর শ্রমশক্তির সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জনমিতিক পরিবর্তনে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া ও সামাজিক সেবার ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষত পরিবার—এবং বিশেষ করে নারীরা—যখন প্রধান পরিচর্যাকারীর ভূমিকা পালন করেন। শ্রমশক্তির ঘাটতি সামলাতে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ধাপে ধাপে অবসরের বয়স বাড়ানো এবং আনুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি নারীকে উৎসাহিত করছে।
  • জলবায়ু ঝুঁকি: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যা মেকং বদ্বীপের মতো শিল্পাঞ্চল ও কৃষি অঞ্চলকে হুমকির মুখে ফেলছে। ২০২৪ সালে টাইফুন ইয়াগির কারণে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় এবং জিডিপি ০.১৫ শতাংশ কমে যায়। বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা, শক্তিশালী অভিযোজন ব্যবস্থা না থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের বার্ষিক জিডিপি সর্বোচ্চ ১৪.৫ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যে পড়তে পারে। বন্যা মোকাবিলার সক্ষমতা ও টেকসই চর্চায় বিনিয়োগ করছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো, তবে চ্যালেঞ্জের ব্যাপকতা বিশাল।

বিজ্ঞাপন

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভিয়েতনামের পরিকল্পনা

বৈশ্বিক উন্নয়নের সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিয়েতনামের সংস্কার নকশা একই সঙ্গে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তববাদী। এর প্রধান উপাদানগুলো হলো:

  • অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা: একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত সেবাখাতে ‘একাধিক বড় বাজি’ ধরছে ভিয়েতনাম। গবেষণা ও উন্নয়নে প্রণোদনা দিচ্ছে, স্টার্টআপকে সহায়তা করছে এবং অত্যাধুনিক শিল্পে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে সরকার।
  • অবকাঠামোর আধুনিকায়ন: ৬৭ বিলিয়ন ডলারের উত্তর-দক্ষিণ উচ্চগতির রেলপথ পরিবহন, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থা আধুনিকায়নের বৃহত্তর উদ্যোগের মূল প্রকল্প। বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিল্প প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীলতা—দুটিকেই সহায়তা করার জন্য এসব বিনিয়োগ নেওয়া হচ্ছে।
  • বেসরকারি খাতকে ক্ষমতায়ন: রেজোলিউশন ৬৮ অর্থনৈতিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে; বেসরকারি ব্যবসাকে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে স্থান দিয়েছে। নিয়মকানুন সহজ করছে, অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বাড়াচ্ছে এবং বড় প্রকল্পে বেসরকারি দরপত্রের সুযোগ দিচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ভিয়েতনামের, যাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম ‘জাতীয় চ্যাম্পিয়ন’ গড়ে ওঠে।
  • প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: আরও দক্ষ ও সমন্বিত আঞ্চলিক অর্থনীতি গড়তে মন্ত্রণালয় একীভূত করা, আমলাতন্ত্রের নিচের স্তর বিলুপ্ত করা এবং প্রদেশগুলোকে একীভূত করার কাজ চলছে। পুনরাবৃত্তি কমানো, সুশাসন উন্নত করা ও দক্ষ জনবলের শক্তিশালী ভিত্তি গড়াই এর লক্ষ্য।
  • সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রমনীতি: জনমিতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ, অবসরের বয়স বৃদ্ধি এবং নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছে ভিয়েতনাম। জনসংখ্যা বয়স্ক হওয়ার সঙ্গে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা ও সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করাই এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব

ভিয়েতনামের দ্রুত উত্থান প্রতিবেশীদের নজর এড়ায়নি। থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, প্রমাণভিত্তিক সংস্কার ও অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ও প্রবৃদ্ধিতে ভিয়েতনাম থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া উৎপাদন ও বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে ভিয়েতনামকে ক্রমেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ভিয়েতনামের নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হুমকির জবাবে দেশটি নমনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, বাণিজ্য অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য এনেছে এবং আসিয়ান-দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও ট্রান্স-প্যাসিফিক অংশীদারত্বের জন্য সমন্বিত ও অগ্রগামী চুক্তির (CPTPP) মতো আঞ্চলিক চুক্তিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। কোনো একক অংশীদারের ওপর অতিনির্ভরতা কমানো এবং আঞ্চলিক নেতা হিসেবে ভিয়েতনামের ভূমিকা জোরদার করাই এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য।

থাই গবেষক কাভি চংকিত্তাভর্নের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ভিয়েতনামের অংশীদারত্ব আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি আদর্শ উদাহরণ। এতে ভিয়েতনামের গতিশীল উৎপাদনভিত্তি ও তরুণ কর্মশক্তির সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার পুঁজি, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটেছে। এ সহযোগিতা অর্থনীতির বাইরেও প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বিস্তৃত, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভিয়েতনামের উদীয়মান নেতৃত্বকে আরও জোরদার করছে।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: প্রবৃদ্ধির পরবর্তী চালিকাশক্তি

ভিয়েতনামের ২০৪৫ কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা। দেশটি দ্রুত প্রযুক্তি খাতের বিকাশ ঘটাচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে চারটি ইউনিকর্ন তৈরি হয়েছে এবং উদ্যোগ মূলধন হিসেবে ২.৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে। স্যামসাং ও অ্যাপলের মতো বড় বৈশ্বিক কোম্পানি উল্লেখযোগ্য উৎপাদনকেন্দ্র গড়েছে; স্যামসাংয়ের বিশ্বজুড়ে বৃহত্তম উৎপাদনভিত্তি এখন ভিয়েতনামে।

ভিয়েতনাম ইনোভেশন নেটওয়ার্ক ও নির্দেশনা নং ০৫/CT-TTg-এর মতো সরকারি উদ্যোগের লক্ষ্য ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে নেওয়া এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তা দুই অঙ্কে পৌঁছানো। ২০২৫ সালের মধ্যে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং বাজার ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে, যা বিভিন্ন শিল্পে ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে। ভিয়েতেল গ্রুপের মতো কোম্পানির সামরিক প্রযুক্তির অগ্রগতি ও উচ্চপ্রযুক্তি রপ্তানিও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।

ভিয়েতনামকে ‘উদীয়মান বাজার’ মর্যাদায় উন্নীত করা হলে আরও বেশি বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় দেশটির কৌশলগত অবস্থান—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে—উৎপাদন ও উদ্ভাবনকেন্দ্র হিসেবে এর আকর্ষণ বাড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি

জলবায়ু পরিবর্তন ভিয়েতনামের জন্য শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, সরাসরি অর্থনৈতিক হুমকিও। দেশটির দীর্ঘ উপকূলরেখা, নিচু বদ্বীপ অঞ্চল এবং কৃষি ও উৎপাদনশিল্পের ওপর নির্ভরতা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

শিল্পাঞ্চলগুলো এখন বন্যা মোকাবিলার ব্যবস্থা নিচ্ছে, আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের নিয়মকাঠামোর অংশ হিসেবে জলবায়ু অভিযোজনে বিনিয়োগ করছে। উদাহরণস্বরূপ, জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বড় এক বিনিয়োগকারীকে হারানোর পর উত্তর ভিয়েতনামের ডিপ সি শিল্পাঞ্চল তাদের বন্যা মোকাবিলার পরিকল্পনা নতুন করে সাজায়। টাইফুন ইয়াগি আঘাত হানার সময় তাদের শিল্পাঞ্চলগুলো শুকনো ছিল, অন্যদিকে অন্য এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পকে আকৃষ্ট করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও স্বল্প-কার্বন অবকাঠামোতেও বিনিয়োগ করছে। বৈশ্বিক বাজারে ভিয়েতনামের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহকে অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: দক্ষতার জন্য কাঠামো সরলীকরণ

ভিয়েতনামের সংস্কার কর্মসূচিতে সরকারি কাঠামোর ব্যাপক পুনর্গঠন রয়েছে। মন্ত্রণালয় একীভূত করে, প্রশাসনের নিচের স্তর বিলুপ্ত করে এবং প্রদেশগুলোকে একীভূত করে সরকার পুনরাবৃত্তি কমাতে, দক্ষতা বাড়াতে ও শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়তে চায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নত জনসেবা—দুটিকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এ কাঠামো সরলীকরণ করা হচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ব্যবসার পরিবেশেও বিস্তৃত। সরকার নিয়মকানুন সহজ করছে, স্বচ্ছতা বাড়াচ্ছে এবং উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিচ্ছে। স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে মূল্য সংযোজনের উচ্চতর ধাপে উঠতে ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে এসব পরিবর্তন নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

যা ঝুঁকিতে: ভিয়েতনাম কি সফল হবে?

ভিয়েতনামের রূপান্তর কৌশল বড় ঝুঁকির এক বাজি। দেশটি দ্রুত পুঁজিবাদী প্রবৃদ্ধির সঙ্গে একদলীয় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ের চেষ্টা করছে—যার নজির খুব বেশি নেই। মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী—বড় ও ক্রমেই দক্ষ হয়ে ওঠা কর্মশক্তি, কৌশলগত অবস্থান এবং বাড়তে থাকা ভোক্তা গোষ্ঠী—তবে সাফল্য নিশ্চিত নয়।

বাস্তবায়নের ঝুঁকি অনেক। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অংশীজন, রাজনৈতিক রক্ষণশীল এবং বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে সুবিধাভোগীদের প্রতিরোধে সংস্কার ধীর হতে পারে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন বা জলবায়ু বিপর্যয়ের মতো বাহ্যিক অভিঘাত অগ্রগতি থামিয়ে দিতে পারে। জনমিতিক পরিবর্তন ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সামলাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় সতর্ক ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক বিনিয়োগ দরকার হবে।

তবু আশাবাদ প্রবল। ২০৩০ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের মধ্যবিত্তের সংখ্যা বেড়ে ৭ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর বিদেশি বিনিয়োগ আসা অব্যাহত রয়েছে। সংস্কারের গতি ধরে রাখতে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে এবং জনমিতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি সামলাতে পারলে দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

মূল বিষয়গুলো

  • কয়েক দশকের মধ্যে ভিয়েতনাম সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছে; লক্ষ্য এশিয়ার পরবর্তী ‘টাইগার অর্থনীতি’ হওয়া এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জন।
  • সরকারের কৌশলে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, অবকাঠামো বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতকে ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেজোলিউশন ৬৮ বেসরকারি ব্যবসাকে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
  • প্রধান চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি কমা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা, জলবায়ু ঝুঁকি, বয়স্ক জনসংখ্যা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অংশীজনদের প্রতিরোধ।
  • শিল্প প্রবৃদ্ধি ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করতে ভিয়েতনাম ৬৭ বিলিয়ন ডলারের উচ্চগতির রেলপথ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে।
  • দক্ষতা বাড়াতে ও শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনীতি গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি কাঠামো সরল করা, আমলাতন্ত্র কমানো এবং প্রদেশ একীভূত করা হচ্ছে।
  • ভিয়েতনামের জনমিতিক সুবিধা ২০৩৯ সালের মধ্যে শেষ হবে। তাই স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, অবসরের বয়স বাড়ানো এবং কর্মশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
  • দেশটির দ্রুত উত্থান আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলছে। তাল মেলাতে থাইল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিজেদের সংস্কার ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
  • সাফল্য নির্ভর করবে সংস্কারের গতি ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভারসাম্য রক্ষা, বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং কাঠামোগত চ্যালেঞ্জকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধায় রূপান্তরের সক্ষমতার ওপর।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে