চীনে আইসক্রিমের উত্থান: বদলে যাওয়া বাজার
একসময় গরমের দিনে শীতল হওয়ার সহজ উপায় ছিল আইসক্রিম। কিন্তু চীনে এটি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। সাধারণ, সাশ্রয়ী এই খাবার এখন উদ্ভাবন, নান্দনিকতা, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সাংস্কৃতিক সৃজনশীলতায় গড়ে ওঠা প্রাণবন্ত শিল্পে রূপ নিয়েছে। আজ চীনা ভোক্তারা—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—আইসক্রিমের নতুন যুগের চালিকা শক্তি। এ যুগে প্রিমিয়াম ও সাশ্রয়ী—দুই ধরনের পণ্যই পাশাপাশি রয়েছে, আর সাধারণ এই হিমায়িত মিষ্টান্ন হয়ে উঠেছে শিল্প, স্মৃতিকাতরতা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম।
সূচিপত্র
- চীনে আইসক্রিমের উত্থান: বদলে যাওয়া বাজার
- প্রিমিয়াম আইসক্রিমের উন্মাদনার পেছনে কী?
- প্রিমিয়াম পণ্যের দিকে ঝোঁক ও উচ্চমানের ব্র্যান্ডের উত্থান
- সাশ্রয়ী ভোগের আনন্দ: পাঁচ ইউয়ানের যুগে ফেরা
- মিশুয়ে ও ছোটখাটো আনন্দের সংস্কৃতির শক্তি
- স্বাস্থ্য, স্বচ্ছতা ও উপকরণের উদ্ভাবন
- প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উৎপাদন
- সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
- অনুঘটক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
- চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতার চিত্র
- অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
- সংক্ষেপে
প্রিমিয়াম আইসক্রিমের উন্মাদনার পেছনে কী?
২০১৪ সাল থেকে চীন বিশ্বের বৃহত্তম আইসক্রিমের বাজার। ২০২৪ সালে এ বাজারের রাজস্ব দাঁড়ায় ১৩৭.৪ বিলিয়ন ইউয়ানে (প্রায় ১৯.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ধারণা করা হচ্ছে, বাজারটি আরও বাড়বে এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে ২৩৭.১ বিলিয়ন ইউয়ানে (৩৩.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পৌঁছাতে পারে। এই বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি শুধু পরিমাণের বিষয় নয়—চীনা ভোক্তাদের রুচি ও প্রত্যাশার পরিবর্তনও এর পেছনে রয়েছে।
১৭ বছর বয়সী পান ইয়াংয়ের মতো তরুণেরা দৃষ্টিনন্দন আইসক্রিমের প্রতি আকৃষ্ট হন: পাপড়ি দিয়ে সাজানো ম্যাচা-স্বাদের আইসক্রিম, কিংবা ফুল ও ফলের আদলে তৈরি কোন। শিয়াওহংশু (রেডনোট)-এর মতো লাইফস্টাইল-শেয়ারিং অ্যাপে ব্যবহারকারীরা নিয়মিত এসব শৈল্পিক আইসক্রিমের ছবি পোস্ট করেন, ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জাদুঘর ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোও এই ধারায় যোগ দিয়েছে। তারা সাংস্কৃতিক নিদর্শন থেকে অনুপ্রাণিত আইসক্রিম বিক্রি করছে—কখনো ‘ব্লাইন্ড বক্স’ হিসেবেও, যেখানে স্বাদ থাকে চমক হিসেবে; এতে কেনার মধ্যে যোগ হয় উত্তেজনা ও সংগ্রহের আকর্ষণ।
খাদ্যশিল্প বিশ্লেষক ঝু দানপেংয়ের মতে, এই প্রবণতা আবেগিক ও আত্মিক তৃপ্তির গভীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। অনেক তরুণ ভোক্তার কাছে আইসক্রিম আর নিছক নাশতা নয়—এটি একটি অভিজ্ঞতা, সামাজিক মর্যাদার প্রতীক এবং বন্ধু ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরির উপায়।
প্রিমিয়াম পণ্যের দিকে ঝোঁক ও উচ্চমানের ব্র্যান্ডের উত্থান
চিচিক্রিমের মতো ব্র্যান্ডগুলো চীনে উচ্চমানের আইসক্রিমের বাজার গড়ে তুলতে পথিকৃৎ ভূমিকা রেখেছে। মান, স্বতন্ত্র স্বাদ ও পরিশীলিত ব্র্যান্ডিংয়ে মনোযোগ দিয়ে তারা দ্রুত সাফল্য পেয়েছে। চিচিক্রিমের দ্রুত উত্থান বৃহত্তর পরিবর্তনেরই প্রতীক: জীবনযাত্রার মান ও ব্যয়যোগ্য আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভাবন, স্বকীয়তা ও বিলাসিতার অনুভূতি দেয়—এমন পণ্যের জন্য বেশি দাম দিতে ভোক্তারা আগ্রহী হচ্ছেন।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত রোমানলিন আইসক্রিম আরেকটি উদাহরণ। স্থানীয় রুচি অনুযায়ী ৩০টিরও বেশি স্বাদ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চীন ও মালয়েশিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মা ঝিচাও জানান, স্বাদ অটুট রেখে কম চিনি ও চর্বিযুক্ত আইসক্রিম তৈরি করতে উন্নত যন্ত্রপাতি ও উন্নতমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়, যাতে স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো যায়।
ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞ ঝান জুনহাওয়ের মতে, উচ্চমানের ব্র্যান্ডগুলোর দাম বেশি হলেও পণ্যের প্রতিশ্রুতি রক্ষা হলে ভোক্তারা মান ও সৃজনশীলতার জন্য ক্রমেই বেশি দাম দিতে প্রস্তুত। ২৩ বছর বয়সী এক ভোক্তা, যার পদবি ডং, যেমন বলেন: উন্নতমানের উপকরণের জন্য তিনি বেশি দাম দেবেন, কিন্তু নিম্নমানের পণ্যের জন্য নয়।
সাশ্রয়ী ভোগের আনন্দ: পাঁচ ইউয়ানের যুগে ফেরা
প্রিমিয়াম আইসক্রিমের বাজার বাড়লেও ২০২৪ সালে সাশ্রয়ী বিকল্পগুলোর জনপ্রিয়তা অপ্রত্যাশিতভাবে আবার বেড়েছে। ‘পাঁচ ইউয়ানের যুগ’—প্রায় ৫ ইউয়ান (১ মার্কিন ডলারেরও কম) দামের নামানুসারে—ফিরে এসেছে। অতিরিক্ত দামের জাঁকজমকপূর্ণ পণ্যের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন ভোক্তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো দিনের সস্তা আইসক্রিমের স্মৃতিচারণা এবং প্রকৃত মূল্য না দিয়েই বেশি দাম নেওয়া ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি সংশয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই পরিবর্তনের একটি কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আরেকটি হলো ভেবে-চিন্তে বেছে খরচ করার প্রবণতা। গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমূল্যের আইসক্রিমের জনপ্রিয়তা কমে আসা বাজারের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত। ভোক্তারা শুধু মর্যাদার চেয়ে দাম অনুযায়ী মূল্য, স্বাদ ও স্বাস্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক আবহের আইসক্রিম, বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্র ও জাদুঘরে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো জনপ্রিয় রয়েছে—তবে সেগুলোতে প্রকৃত মান ও তৃপ্তি থাকতে হবে।
মিশুয়ে ও ছোটখাটো আনন্দের সংস্কৃতির শক্তি
দেশীয় বাবল টি ও আইসক্রিম ব্র্যান্ড মিশুয়ে সাশ্রয়ী ভোগের আনন্দের সফল উদাহরণ। বিশ্বজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি বিক্রয়কেন্দ্র নিয়ে বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যার হিসাবে মিশুয়ে এখন সবচেয়ে বড় ফাস্টফুড ও পানীয়ের চেইন; ম্যাকডোনাল্ডস ও স্টারবাকসকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় প্রায়ই ২০ শতাংশ কম দাম এবং দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে ছোট ছোট দৈনন্দিন আনন্দ খোঁজা ভোক্তাদের কাছে এটি প্রিয় হয়ে উঠেছে। এ প্রবণতিই ‘ছোটখাটো আনন্দের সংস্কৃতি’ নামে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতি পাওয়া এই সংস্কৃতি সহজলভ্য, বারবার উপভোগ করা যায়—এমন আনন্দের মুহূর্তের চাহিদা তুলে ধরে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে ভোক্তারা আইসক্রিম ও বাবল টির মতো সাশ্রয়ী বিলাসের দিকে ঝোঁকেন। বড় অঙ্কের কেনাকাটার বদলে ছোটখাটো উপভোগে তাঁরা স্বস্তি ও নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি পান।
স্বাস্থ্য, স্বচ্ছতা ও উপকরণের উদ্ভাবন
জীবনযাত্রার মান বাড়ার সঙ্গে স্বাস্থ্যসচেতনতাও বাড়ছে। চীনা ভোক্তারা উপকরণের তালিকা খুঁটিয়ে দেখছেন এবং কম চিনি, কম চর্বি, প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি কিংবা দুগ্ধজাত উপকরণবিহীন আইসক্রিম খুঁজছেন। আইমিডিয়া রিসার্চের ২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা স্বাদকে অগ্রাধিকার দিলেও আইসক্রিম বাছাইয়ের সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যগুণ, কম চর্বি ও উপকরণের স্বচ্ছতাও বিবেচনা করেন।
মেংনিউ, ব্রাইট ইউবেই ও ইলি শুজিনহুয়ানের মতো বড় দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো স্বাস্থ্যকর উপ-ব্র্যান্ড চালু করে এবং প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি পণ্য বাজারে এনে সাড়া দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসকেরাও চিনি ছাড়া ও কম ক্যালরির আইসক্রিমের কথা বলছেন ও সুপারিশ করছেন, যা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন ভোক্তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। প্রকৃত উপকরণে তৈরি ছোট আকারের ও ফলের স্বাদের আইসক্রিমেরও চাহিদা রয়েছে; এতে সচেতনভাবে খাবার খাওয়ার বৃহত্তর প্রবণতা প্রতিফলিত হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উৎপাদন
বিশেষ স্বাদ ও প্রিমিয়াম আইসক্রিমের বাজার বৃদ্ধির ফলে উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামে বিনিয়োগ বেড়েছে। কম চর্বিযুক্ত, ভেগান ও অর্গানিক আইসক্রিম দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদনে নির্মাতারা নমনীয়, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ও সেন্সরসমৃদ্ধ স্মার্ট কারখানা পরিচ্ছন্নতা ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে। খাদ্যনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলতে স্টেইনলেস স্টিলের ব্যবস্থা ও পণ্য শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে।
কারুশিল্পভিত্তিক ও স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো ছোট পরিসরে উৎপাদনের জন্য কমপ্যাক্ট, আধা-স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের চাহিদা বাড়াচ্ছে। এতে তারা নতুন স্বাদ ও নকশা নিয়ে পরীক্ষা করতে পারছে। টেট্রা পাক ও কারপিজিয়ানির মতো শীর্ষ সরঞ্জাম নির্মাতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত হিমায়ন ও জ্বালানিসাশ্রয়ী পাস্তুরাইজেশন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে, যা শিল্পটির চলমান বিবর্তনে সহায়তা করছে।
সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
চীনে আইসক্রিম এখন আর শুধু স্বাদের বিষয় নয়—এতে রয়েছে গল্প বলা, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতা। প্রতিষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যবাহী চীনা সংস্কৃতি, দর্শনীয় স্থান ও উৎসব থেকে অনুপ্রাণিত আইসক্রিম তৈরি করছে। পর্যটনকেন্দ্র ও জাদুঘরে পান্ডা, প্রাচীন নিদর্শন কিংবা বিখ্যাত ভবনের আদলে তৈরি আইসক্রিম জনপ্রিয় স্মারক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী কুল্যাব নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন, যেখানে চীনা নকশা থেকে অনুপ্রাণিত ত্রিমাত্রিক আইসক্রিম তৈরি হয়। তাঁদের লক্ষ্য স্কটল্যান্ডের বাজারে খাওয়া যায় এমন শৈল্পিক স্মারকের ধারণা পরিচিত করা, যা চীনের আইসক্রিম-সৃজনশীলতার বৈশ্বিক প্রভাব তুলে ধরে।
অনুঘটক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
শিয়াওহংশু (রেডনোট)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম আইসক্রিমের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবহারকারীরা নতুন স্বাদ ও নকশার ছবি এবং পর্যালোচনা শেয়ার করেন। ফলে আইসক্রিম হয়ে উঠেছে আত্মপ্রকাশের মাধ্যম এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায়। চমকপ্রদ স্বাদের ‘ব্লাইন্ড বক্স’ আইসক্রিমের মতো ভাইরাল প্রবণতা আনন্দ ও অপেক্ষার অনুভূতি যোগ করে, যা চাহিদা আরও বাড়ায়।
চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতার চিত্র
বাজার দ্রুত বাড়লেও প্রতিযোগিতাও তীব্র। ইলি ও মেংনিউয়ের মতো দেশীয় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য বাজার অংশ রয়েছে। তবে হ্যাগেন-ডাজস ও নেসলের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডও বড় শহরগুলোতে জনপ্রিয় এবং বেশি দাম সত্ত্বেও প্রিমিয়াম অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু আমেরিকান ও পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো কখনো কখনো স্থানীয় বাজারের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খেয়েছে; অনেক সময় তারা পণ্যে স্থানীয় বৈশিষ্ট্য আনতে বা চীনা ভোক্তাদের আচরণের সূক্ষ্ম দিকগুলো বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
চীনের আইসক্রিম বাজারে সফল হতে শুধু উন্নতমানের উপকরণ যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা, উদ্ভাবনী বিপণন এবং স্বাদ, ধরন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানসিকতা। দাম, স্বাস্থ্যগুণ ও সৃজনশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারা ব্র্যান্ডগুলো এই গতিশীল বাজারে এগিয়ে থাকার ভালো অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
আইসক্রিমের মতো ছোট, সাশ্রয়ী বিলাসের দিকে ঝোঁক চীনা ভোক্তাদের আচরণের বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আবাসন খাতের সংকট ও নিয়ন্ত্রক কঠোরতার কারণে পারিবারিক ব্যয় চাপে পড়ায় অনেক ভোক্তা বড় অঙ্কের বিলাসপণ্যের বদলে সাধ্যের মধ্যে থাকা ছোটখাটো আনন্দ বেছে নিচ্ছেন। কারুশিল্পভিত্তিক খাবার ও পানীয় বিক্রেতারা এটিকে সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন; অনিশ্চিত সময়ে তাঁরা স্বস্তি ও আনন্দ দিচ্ছেন।
সংক্ষেপে
- চীনের আইসক্রিম বাজার বিশ্বের বৃহত্তম এবং ক্রমেই বাড়ছে; প্রিমিয়াম পণ্যের প্রসার ও সাশ্রয়ী বিকল্পে ফেরার প্রবণতা—দুই-ই এ প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি।
- তরুণ ভোক্তারা দৃষ্টিনন্দন, সাংস্কৃতিক আবহের ও স্বাস্থ্যসচেতন আইসক্রিমের চাহিদা বাড়াচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন।
- চিচিক্রিম ও রোমানলিনের মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড মান, উদ্ভাবন ও গল্প বলায় মনোযোগ দিয়ে সফল হয়েছে; অন্যদিকে মিশুয়ের মতো সাশ্রয়ী চেইন ‘ছোটখাটো আনন্দের সংস্কৃতি’র সুবাদে এগিয়ে চলেছে।
- স্বাস্থ্য, স্বচ্ছতা ও উপকরণের উদ্ভাবন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে; ব্র্যান্ডগুলো কম চিনিযুক্ত, প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি ও দুগ্ধজাত উপকরণবিহীন পণ্য আনছে।
- উৎপাদনে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক প্রাসঙ্গিকতার ওপর জোর শিল্পটিকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।
- অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভোক্তাদের পছন্দ সরে যাচ্ছে দাম অনুযায়ী মূল্য, তৃপ্তি এবং ছোট, সহজলভ্য বিলাসের দিকে।
- চীনের আইসক্রিম বাজারে সফল হতে মান, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং দ্রুত বদলে যাওয়া প্রবণতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা—সবকিছুর সমন্বয় দরকার।






