মিতসুবিশির প্রত্যাহারে জাপানের অফশোর বায়ুবিদ্যুতের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ধাক্কা
অফশোর বায়ুবিদ্যুতে বৈশ্বিক নেতৃত্বে পৌঁছানোর জাপানের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক গোষ্ঠী মিতসুবিশি করপোরেশন তিনটি বড় অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আকিতা ও চিবা প্রিফেকচারের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত প্রকল্পগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে ১.৭৬ গিগাওয়াট (GW) বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানের রূপান্তরে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে আবার নিলাম এবং বিধিমালা সংশোধনের সরকারি উদ্যোগ জাপানের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ ও দৃঢ়তা—দুটিই তুলে ধরছে।
সূচিপত্র
- মিতসুবিশির প্রত্যাহারে জাপানের অফশোর বায়ুবিদ্যুতের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ধাক্কা
- মিতসুবিশি কেন প্রকল্পগুলো ছেড়ে দিল?
- প্রকল্পগুলো কী ছিল এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
- মিতসুবিশি ও অংশীদারদের আর্থিক ও নীতিগত পরিণতি
- জাপান সরকারের প্রতিক্রিয়া: পুনরায় নিলাম ও বিধিমালা সংস্কার
- বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: বিশ্বজুড়ে প্রতিকূলতার মুখে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ
- এরপর কী? জাপানের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ খাতের সামনে পথ
- বৃহত্তর তাৎপর্য: জ্বালানি নিরাপত্তা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও বাজারের আস্থা
- সংক্ষেপে
মিতসুবিশি কেন প্রকল্পগুলো ছেড়ে দিল?
মিতসুবিশি ও এর অংশীদারদের প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল ব্যয়ের নাটকীয় বৃদ্ধি। ২০২১ সালে কনসোর্টিয়ামটি বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মাণের অধিকার পাওয়ার সময় ব্যবসায়িক পরিবেশ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। এরপর নির্মাণব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, সরবরাহব্যবস্থা সংকুচিত হয়েছে এবং কোভিড-১৯ মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার আকাশচুম্বী হয়েছে। এসব কারণ মিলেই প্রকল্পগুলোকে আর্থিকভাবে অলাভজনক করে তুলেছে।
মিতসুবিশির প্রধান নির্বাহী কাৎসুয়া নাকানিশি ব্যাখ্যা করেছেন, সরবরাহব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং প্রকল্পের সময়সূচি পুনর্মূল্যায়নসহ সব ধরনের সম্ভাব্য প্রতিকার খতিয়ে দেখার পরও রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়সহ মোট খরচ বিদ্যুৎ বিক্রির প্রত্যাশিত আয় ছাড়িয়ে যেত। প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে কোম্পানিটি ইতিমধ্যে ৫২.২ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩৫৪ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় দেখিয়েছে। অংশীদার চুবু ইলেকট্রিক পাওয়ার প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইয়েন (১১৫ মিলিয়ন ডলার) লোকসানের আশঙ্কা করেছিল।
মিতসুবিশির প্রধান নির্বাহী বলেন, “ব্যয় বৃদ্ধি পূর্বাভাসকে অনেক ছাড়িয়ে গেছে। ২০২১ সালের দরপত্রের সময়ের তুলনায় নির্মাণব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও মোট খরচ বিদ্যুৎ বিক্রির আয়ের চেয়ে বেশি হতো, ফলে প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বৈশ্বিক অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ শিল্পও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে ডেনমার্কের অরস্টেড ও শেলের মতো কোম্পানিও জাপানসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকল্পের পরিসর কমিয়েছে বা সরে গেছে।
প্রকল্পগুলো কী ছিল এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
প্রকল্প তিনটি হলো:
- আকিতা প্রিফেকচারের উপকূলের কাছে ৮১৯ মেগাওয়াটের ইউরিহোনজো বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র
- আকিতা প্রিফেকচারের উপকূলের কাছে ৪৭৮.৮ মেগাওয়াটের নোশিরো মিতানে ওগা প্রকল্প
- চিবা প্রিফেকচারের উপকূলের কাছে ৩৯০.৬ মেগাওয়াটের চোশি বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র
২০২১ সালের ডিসেম্বরে জাপানের প্রথম স্থির-ভিত্তির অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ নিলামে মিতসুবিশির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামগুলোকে এসব স্থানের অধিকার দেওয়া হয়। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ গিগাওয়াট এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৪৫ গিগাওয়াট অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জনে জাপানের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করাই ছিল উদ্দেশ্য। তুলনার জন্য বলা যায়, জাপানে বর্তমানে চালু অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা মাত্র প্রায় ২৮৮–৩০০ মেগাওয়াট। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিসর বাড়ানো এবং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রকল্পগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তা একটি জরুরি উদ্বেগ। চীনের পর দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানিকারক। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর অধিকাংশ পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশটির নির্ভরতা বেড়েছে। জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য অর্জনে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎকে জাপানের জ্বালানি কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।
মিতসুবিশি ও অংশীদারদের আর্থিক ও নীতিগত পরিণতি
মিতসুবিশির সরে যাওয়ার আর্থিক ও সুনামগত প্রভাব উল্লেখযোগ্য। সরকার মিতসুবিশির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর জমা রাখা ২০ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৩৬ মিলিয়ন ডলার) বাজেয়াপ্ত করবে। পরবর্তী নিলাম পর্বে অংশ নেওয়া থেকেও কনসোর্টিয়ামটিকে বিরত রাখা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে জাপান সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এই শাস্তি তা প্রতিফলিত করে।
শিল্পখাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রথম নিলামে মিতসুবিশির আগ্রাসী দরপত্র কৌশল—বিদ্যুতের জন্য কম দর প্রস্তাব—প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২১ সালে নিশ্চিত হওয়া দর প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় (MWh) ১১,৯৯০ থেকে ১৬,৪৯০ জাপানি ইয়েনের মধ্যে ছিল। এখন মনে হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে ব্যয় ও বাজারের অস্থিরতা যে মাত্রায় বাড়বে, তা হয়তো ওই দরে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
রিচার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, “জাপানের প্রথম অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ দরপত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অনেক কম দর দেওয়ার কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ায় মিতসুবিশি ও এর কনসোর্টিয়াম অংশীদাররা ১৩৬ মিলিয়ন ডলারের জমা অর্থ হারিয়েছে এবং পরবর্তী নিলাম পর্বে অংশ নিতে পারবে না।”
জাপান সরকারের প্রতিক্রিয়া: পুনরায় নিলাম ও বিধিমালা সংস্কার
মিতসুবিশির সরে যাওয়ার পরের পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে জাপান সরকার। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনুমোদন সাপেক্ষে পরিত্যক্ত তিনটি স্থানে আবার নিলাম করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ভবিষ্যৎ নীতি ও নিলামের কাঠামো নির্ধারণে সহায়তার জন্য মিতসুবিশির সরে যাওয়ার কারণও পর্যালোচনা করছে সরকার।
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (METI) বায়ুবিদ্যুৎ নীতিবিষয়ক পরিচালক ইউইচি ফুরুকাওয়া মিতসুবিশির সরে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যৎ নিলামের কাঠামো উন্নত করতে এবং এ ধরনের ধাক্কা এড়াতে তদন্তের ফল ব্যবহার করা হবে।
রয়টার্সকে ফুরুকাওয়া বলেন, “ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত করা হচ্ছে, তবে মিতসুবিশির সরে যাওয়া দেশের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ বাজারের অগ্রগতিতে বাধা হবে না।”
বিবেচনাধীন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনগুলোর একটি হলো অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকাল বাড়ানো। বর্তমানে সাধারণত ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল কোম্পানিগুলোকে আরও ১০ বছরের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, এতে মোট মেয়াদ হবে ৪০ বছর। এই মেয়াদ বাড়ালে নগদ প্রবাহ ও বিদ্যুৎ বিক্রি বাড়বে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকায় প্রকল্পগুলো বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হবে।
এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করছে শুধু জাপান নয়। প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বাড়াতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ধরে রাখতে ডেনমার্কের মতো ইউরোপীয় দেশও বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইজারার মেয়াদ বাড়ানো শুরু করেছে। এসব পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ শিল্পে বেশি ব্যয় ও অনিশ্চয়তাই এখন “নতুন স্বাভাবিক” হয়ে উঠছে—এ কথা ক্রমেই স্বীকৃত হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: বিশ্বজুড়ে প্রতিকূলতার মুখে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ
মিতসুবিশির সরে যাওয়া বিশ্বব্যাপী অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ শিল্পকে প্রভাবিত করা বৃহত্তর একটি প্রবণতার অংশ। ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হারের ওঠানামায় প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে ও বাজেটের মধ্যে শেষ করা উন্নয়নকারীদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিরোধিতা ও প্রকল্পের বিলম্বও অগ্রগতিতে বাধা দিয়েছে। বিপি, আরডব্লিউই, অরস্টেড ও শেলের মতো বড় প্রতিষ্ঠান এসব চ্যালেঞ্জের প্রতিক্রিয়ায় অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিসর কমিয়েছে বা স্থগিত করেছে।
জাপানের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা। স্থির-ভিত্তির টারবাইনের উপযোগী উপকূলের কাছাকাছি স্থান দেশটিতে সীমিত। ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এসব টারবাইনের খরচ কম এবং প্রযুক্তি বেশি পরিণত। ২০৪০ সালের মধ্যে ৪৫ গিগাওয়াট অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতার লক্ষ্য পূরণে জাপানকে ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। প্রযুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে ব্যয় ও কারিগরি ঝুঁকি বেশি।
এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাপান সরকার। কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, দেশের জ্বালানি রূপান্তরের জন্য অফশোর বায়ুবিদ্যুতের বাজার এখনো শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ। মিতসুবিশির সরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য আরও সহনশীল ও আকর্ষণীয় পরিবেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার।
এরপর কী? জাপানের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ খাতের সামনে পথ
তাৎক্ষণিক পরবর্তী পদক্ষেপ হলো তিনটি স্থানে পুনরায় নিলামের আগে আকিতা ও চিবা প্রিফেকচারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনুমোদন নিশ্চিত করা। জাপানে স্থানীয় জনগণের সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিরোধিতা বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিলম্ব ঘটাতে বা সেগুলো ভেস্তে দিতে পারে।
অনুমোদন পাওয়ার পর সরকার স্থানগুলোতে নতুন দরপত্র আহ্বান করবে। তবে পুনরায় নিলামের প্রক্রিয়া কঠিন হতে পারে। ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারের অনিশ্চয়তায় উন্নয়নকারীরা আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে, আর কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে। যেমন, আরডব্লিউইর প্রধান নির্বাহী মার্কুস ক্রেবার বলেছেন, মিতসুবিশির প্রকল্পগুলোতে জার্মান কোম্পানিটির কোনো আগ্রহ নেই।
দরদাতাদের আকৃষ্ট করতে সরকার আরও কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্কারের কথা বিবেচনা করছে, যেমন:
- প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বাড়াতে ইজারার মেয়াদ বাড়ানো
- অনুমতিপত্র ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা
- ভবিষ্যৎ নিলামে আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত ব্যয়ের হিসাব দেওয়া
- ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া
জাপানের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোকে আর্থিকভাবে টেকসই করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাই এসব ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
বৃহত্তর তাৎপর্য: জ্বালানি নিরাপত্তা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও বাজারের আস্থা
অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে মিতসুবিশির সরে যাওয়া একটি ধাক্কা, তবে জাপান ও বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি শিল্পের জন্য এতে মূল্যবান শিক্ষাও রয়েছে। এ ঘটনা বাস্তবসম্মত ব্যয় অনুমান, নমনীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সরকার, শিল্পখাত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে।
জাপানের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি। কঠিন ব্যবসায়িক পরিবেশের বাস্তবতার সঙ্গে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জরুরি প্রয়োজনের ভারসাম্য দেশটিকে বজায় রাখতে হবে। আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য নির্গমনের লক্ষ্য অর্জনের কৌশলে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ এখনো একটি ভিত্তি।
শিল্পমন্ত্রী ইয়োজি মুতো মিতসুবিশির সরে যাওয়াকে “গভীরভাবে দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, এতে খাতটির ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। তবে তিনি এবং অন্যান্য কর্মকর্তা আশাবাদী যে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে জাপানের অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ বাজার ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে।
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন, “এই সিদ্ধান্ত দুঃখজনক এবং শিল্পখাতের আস্থায় আঘাত হানতে পারে। সরে যাওয়ার কারণ পর্যালোচনা করে এর ফল ভবিষ্যৎ নিলামে কাজে লাগাব।”
সবশেষে, জাপানের অফশোর বায়ুবিদ্যুতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, ভাসমান বায়ুবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং বিনিয়োগকারী, উন্নয়নকারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আস্থা ধরে রাখার সক্ষমতার ওপর।
সংক্ষেপে
- ব্যয় ব্যাপক বেড়ে যাওয়া ও প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে মিতসুবিশি করপোরেশন জাপানের তিনটি বড় অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সরে গেছে।
- মোট ১.৭৬ গিগাওয়াট সক্ষমতার প্রকল্পগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ গিগাওয়াট এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৪৫ গিগাওয়াট অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জনে জাপানের লক্ষ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনুমোদন সাপেক্ষে পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে আবার নিলাম করবে জাপান সরকার। মিতসুবিশি ও তার অংশীদারদের ওপর আর্থিক জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে।
- ভবিষ্যৎ প্রকল্প বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে ইজারার মেয়াদ বাড়ানো ও প্রক্রিয়া সহজ করাসহ নিয়ন্ত্রক সংস্কারের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
- ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ শিল্প একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
- নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাপান এই ধাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সহনশীল অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ খাত গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।






