চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে শির সঙ্গে যোগ দেবেন পুতিন ও কিম: ঐক্য ও শক্তির দৃপ্ত প্রদর্শন
ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ ও পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রদর্শনীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে স্বাগত জানাবেন। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এই আয়োজন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে হবে। স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কয়ার। কয়েক বছরের মধ্যে চীনের অন্যতম বৃহৎ এই কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন কয়েক হাজার সেনা, প্রদর্শিত হবে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র; আর অতিথিদের তালিকায় ফুটে উঠবে বিশ্বজুড়ে জোটের বদলে যাওয়া সমীকরণ।
সূচিপত্র
- চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে শির সঙ্গে যোগ দেবেন পুতিন ও কিম: ঐক্য ও শক্তির দৃপ্ত প্রদর্শন
- কেন এই কুচকাওয়াজ গুরুত্বপূর্ণ: প্রেক্ষাপট ও প্রতীকী তাৎপর্য
- অতিথিদের তালিকা: কারা আসছেন, কারা আসছেন না
- ‘অস্থিরতার অক্ষ’: পশ্চিমকে চ্যালেঞ্জ জানানো নতুন জোট?
- সামরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব
- কিম জং উনের বিরল সফর: কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ
- প্রদর্শনীতে চীনের সামরিক আধুনিকায়ন
- ইতিহাসের অনুরণন ও জাতীয়তাবাদী বার্তা
- পশ্চিমা নেতাদের অনুপস্থিতি: বিভক্ত বিশ্বব্যবস্থা
- বিশ্বনিরাপত্তা ও কূটনীতিতে প্রভাব
- সংক্ষেপে
কেন এই কুচকাওয়াজ গুরুত্বপূর্ণ: প্রেক্ষাপট ও প্রতীকী তাৎপর্য
এই কুচকাওয়াজ শুধু ইতিহাস স্মরণের আয়োজন নয়—পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতার মুখে থাকা দেশগুলোর সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক সংহতির পরিকল্পিত প্রদর্শনী। পুতিন ও কিম—দুজনই কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের নেতা—শির পাশে উপস্থিত থাকবেন; এতে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে সম্মিলিত চ্যালেঞ্জের বার্তা রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টার জবাব হিসেবেও এই আয়োজনকে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে।
চীনের ‘বিজয় দিবস’ কুচকাওয়াজ এশিয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি, বিশেষ করে ১৯৪৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের আত্মসমর্পণকে স্মরণ করে। চীনের জন্য যুদ্ধটি ছিল বিপুল দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের সময়; জাপানি দখলদারত্বের সময় লাখো মানুষ নিহত হন। জাতীয় ঐক্য জোরদার এবং সহনশীলতা ও শক্তির ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কমিউনিস্ট পার্টি এ ধরনের বার্ষিকীকে কাজে লাগিয়ে আসছে।
অতিথিদের তালিকা: কারা আসছেন, কারা আসছেন না
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৬টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বড় পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা থাকছেন না। একমাত্র ব্যতিক্রম স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিৎসো; তাঁর উপস্থিতি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তাঁর সরকারের তুলনামূলক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন। অন্য উল্লেখযোগ্য অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন:
- বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো
- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো
- সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ
- মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং
- দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদের স্পিকার উ ওন-শিক
- জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হাতোয়ামাও উপস্থিত থাকবেন। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্য অক্ষশক্তি ইতালি ও জার্মানির কোনো সরকারি প্রতিনিধি থাকবেন না।
‘অস্থিরতার অক্ষ’: পশ্চিমকে চ্যালেঞ্জ জানানো নতুন জোট?
বেইজিংয়ে নেতাদের এই সমাবেশকে বিশ্লেষকেরা ‘অস্থিরতার অক্ষ’ বলে অভিহিত করেছেন—এমন এক জোট, যার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধ করতে চায়। চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া—প্রতিটি দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মুখে পড়েছে, তবে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো জোট গঠন করেনি। বরং পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে একে অপরকে সহায়তা করার অভিন্ন স্বার্থে তাদের সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক।
২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত রাশিয়া অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য চীনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে; এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি রপ্তানি ও প্রযুক্তি। পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া তার অধিকাংশ বাণিজ্যের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল—বাণিজ্য-তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরান ও মিয়ানমারও চীনকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে পেয়েছে।
সামরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব
এই দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রেক্ষাপটে কুচকাওয়াজটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে পিয়ংইয়ংয়ে পুতিন ও কিম একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন; এতে যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক সামরিক সহায়তার অঙ্গীকার করা হয়। ইউক্রেনে যুদ্ধে রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়া গোলাবারুদ, এমনকি সেনাও সরবরাহ করেছে বলে খবর রয়েছে; বিনিময়ে পেয়েছে খাদ্য, তেল ও অস্ত্রপ্রযুক্তি। ইউক্রেন সংঘাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ থাকলেও চীন রাশিয়ার জ্বালানি কেনা অব্যাহত রেখেছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করতে পারে এমন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহ করছে।
সিউলের ইহা ওমেনস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক অধ্যয়নের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলি বলেন, “মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের অবৈধ সহযোগিতার কারণে চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কে প্রভাব পড়েছে, যদিও উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার জন্য চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
কিম জং উনের বিরল সফর: কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ
কিম জং উনের উপস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি খুব কমই বিদেশ সফর করেছেন এবং এ ধরনের বৃহৎ বহুপক্ষীয় কোনো অনুষ্ঠানে কখনো অংশ নেননি। ২০১৯ সালে তিনি সর্বশেষ চীন সফর করেন। মহামারির পর উত্তর কোরিয়ার বাইরে তিনি গেছেন মাত্র একবার—২০২৩ সালে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে পুতিনের সঙ্গে এক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে।
কিমের জন্য এই কুচকাওয়াজ বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত হওয়ার বিরল সুযোগ; এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে পারবেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো যতটা চায় উত্তর কোরিয়া ততটা বিচ্ছিন্ন নয়। এতে মস্কো ও বেইজিং—উভয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করার সুযোগও মিলবে, যাতে কোনো এক পক্ষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে না হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, কিম আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের মর্যাদা বাড়াতে এবং তাঁর শাসনব্যবস্থার জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করতে চাইছেন, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়া যখন বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এনপিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রাশিয়াপন্থী ও চীনপন্থী দেশগুলোর সঙ্গে সংহতি দেখানো এবং নিজেকে একটি স্বাভাবিক দেশের নেতা হিসেবে তুলে ধরাই কিমের লক্ষ্য।”
এমন ধারণাও রয়েছে যে কিমের এই সফরের সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার যোগ থাকতে পারে; এর আগে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, শক্ত অবস্থান থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করতে কিম শির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছেন।
প্রদর্শনীতে চীনের সামরিক আধুনিকায়ন
কুচকাওয়াজটি হবে কঠোরভাবে পরিকল্পিত এক প্রদর্শনী, যা চীনের দ্রুত অগ্রসরমান সামরিক প্রযুক্তির বিরল ঝলক দেখাবে। ১০ হাজারের বেশি সেনা, ১০০টিরও বেশি উড়োজাহাজ এবং শত শত স্থলযান তিয়ানআনমেন স্কয়ার দিয়ে মার্চ করবে। চীনা কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রদর্শিত সব সরঞ্জাম দেশেই তৈরি এবং বর্তমানে বাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে; অনেক ব্যবস্থাই জনসমক্ষে প্রথমবারের মতো দেখানো হবে।
প্রত্যাশিত উল্লেখযোগ্য সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- হাইপারসনিক অস্ত্র
- উন্নত যুদ্ধবিমান
- ইলেকট্রনিক জ্যামিং ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র
- ড্রোনবিরোধী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি
বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি সেনাদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন; এতে চীনের সামরিক আধুনিকায়নের রূপকার হিসেবে তাঁর ভাবমূর্তি আরও জোরদার হবে। শির নেতৃত্বে পিপলস লিবারেশন আর্মিতে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে, যেখানে উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ এবং চীনের সীমানার বাইরেও শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইতিহাসের অনুরণন ও জাতীয়তাবাদী বার্তা
কুচকাওয়াজের সময় ও প্রতীকী তাৎপর্য চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে গভীরভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন বয়ানের ভিত্তি—এটি জাতীয় বিপর্যয় ও বিজয়, দুয়েরই প্রতীক। জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী স্মরণের মাধ্যমে শি ঐতিহাসিক নিয়তি ও ঐক্যের চেতনা জাগিয়ে তুলছেন এবং একই সঙ্গে বার্তা দিচ্ছেন, বিদেশি শক্তির কাছে চীন আর কখনো অপমানিত হবে না।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হং লেই বলেন, “চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে হাতে হাত রেখে কাজ চালিয়ে যেতে, বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করতে, সমাজতান্ত্রিক নির্মাণ এগিয়ে নিতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।”
পশ্চিমা নেতাদের অনুপস্থিতি: বিভক্ত বিশ্বব্যবস্থা
কুচকাওয়াজে পশ্চিমা নেতাদের অনুপস্থিতি বর্তমান ভূরাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন, আবার তা এই বিভাজনকে আরও জোরদারও করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের বিরোধিতা এবং চীনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছে। উপস্থিত একমাত্র ইইউ নেতা হবেন স্লোভাকিয়ার রবার্ট ফিৎসো; পুতিনের কর্মকাণ্ডের ব্যাপক ইউরোপীয় নিন্দা সত্ত্বেও তিনি মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
এটি ২০১৫ সালে চীনের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করছে, যেখানে পশ্চিমা কয়েকটি দেশসহ আরও অনেক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। এবারের অতিথিদের তালিকা দেখিয়ে দিচ্ছে, গত এক দশকে বিশ্বপরিস্থিতি কতটা বদলেছে; চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া ক্রমেই পশ্চিমা দেশগুলোর ‘ঘেরাও’ ও শাসনব্যবস্থা বদলের প্রচেষ্টা বলে বিবেচিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে।
বিশ্বনিরাপত্তা ও কূটনীতিতে প্রভাব
কুচকাওয়াজ ও অতিথিদের তালিকা এমন এক দেশগোষ্ঠীর উত্থান তুলে ধরছে, যারা প্রকাশ্যে পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। তাদের সহযোগিতায় মতবিরোধ নেই, এমন নয়—রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতায় চীনের সঙ্গে তার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে খবর রয়েছে। তবু অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে মতপার্থক্য পাশে সরিয়ে রাখার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই আয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এই কুচকাওয়াজ নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সীমাবদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বছরের পর বছর চাপের পরও রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া নতুন অংশীদার খুঁজে পেয়েছে এবং বিধিনিষেধ এড়ানোর পথ বের করেছে। এসব দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত কেন্দ্র হিসেবে চীনের ভূমিকা আন্তর্জাতিক নিয়ম কার্যকর করার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।
সংক্ষেপে
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে বড় ধরনের সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করবে চীন।
- পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে ঐক্য প্রদর্শনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এতে যোগ দেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
- কুচকাওয়াজে কয়েক হাজার সেনা ও চীনের সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান শক্তিকে তুলে ধরবে।
- অধিকাংশ পশ্চিমা নেতা অনুষ্ঠানটি বর্জন করছেন; ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে শুধু স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
- এই সমাবেশ পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানো নতুন এক দেশজোটের উত্থান তুলে ধরছে, যাকে কখনো কখনো ‘অস্থিরতার অক্ষ’ বলা হয়।
- কিম জং উনের উপস্থিতি তাঁর প্রথম কোনো বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানে যোগদান; এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে মর্যাদা বাড়ানো এবং চীন ও রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার উত্তর কোরিয়ার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হচ্ছে।
- অন্তর্নিহিত টানাপোড়েন ও স্বার্থের সংঘাত থাকা সত্ত্বেও চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে—এই আয়োজন তা তুলে ধরছে।
- এই কুচকাওয়াজ একই সঙ্গে ইতিহাস স্মরণ ও বিশ্বকে বার্তা দেওয়ার আয়োজন: চীন ও তার অংশীদাররা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সমালোচনায় বিচ্ছিন্ন বা ভীত হবে না।






