কে-কালচারের উত্থান: স্থানীয় ঘটনা থেকে বৈশ্বিক শক্তি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়া সাংস্কৃতিক এক শক্তিধর দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, সৌন্দর্যপণ্য ও খাবার দিয়ে দেশটি বিশ্বজুড়ে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করছে। তথাকথিত ‘কোরিয়ান ওয়েভ’ বা হাল্লিউ—একসময় যা ছিল আঞ্চলিক কৌতূহলের বিষয়—এখন আন্তর্জাতিক পপ সংস্কৃতির অন্যতম নির্ধারক শক্তি। বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংকের মতো কে-পপ দল বিশ্বজুড়ে স্টেডিয়াম মাতাচ্ছে, কোরিয়ান নাটক স্ট্রিমিং তালিকায় আধিপত্য করছে, আর ‘প্যারাসাইট’-এর মতো চলচ্চিত্র সেরা চলচ্চিত্রের অস্কারসহ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছে। কোরিয়ান সৌন্দর্যপণ্য (কে-বিউটি) ও খাবারের রপ্তানি বেড়েছে, এমনকি কোরিয়ায় তৈরি ভিডিও গেমও বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন তুলছে।
সূচিপত্র
- কে-কালচারের উত্থান: স্থানীয় ঘটনা থেকে বৈশ্বিক শক্তি
- কোরিয়ার ‘নেক্সট কে’ কৌশল কেন দরকার
- রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে বৈশ্বিক কৌশল: হাল্লিউর বিবর্তন
- ‘নেক্সট কে’ কৌশলের প্রধান স্তম্ভ
- উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি: কে-কালচারের পরবর্তী দিগন্ত
- বৈচিত্র্য: কে-পপ ও নাটকের বাইরেও
- সফট পাওয়ার ও জাতীয় ব্র্যান্ডিং: বৃহত্তর প্রভাব
- চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
- বিশ্বের জন্য শিক্ষা: সাংস্কৃতিক সাফল্যে কোরিয়ার নকশা
- সংক্ষেপে
তবে বিশ্ব যখন কে-পপের সর্বশেষ হিট গান উপভোগ করছে এবং নতুন কে-ড্রামা একের পর এক দেখছে, তখন কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছেন: চলমান কে-কালচার জোয়ারের পর কী আসবে? তাঁদের মতে, এর উত্তর নিহিত রয়েছে এক সাহসী নতুন ভাবনায়—‘নেক্সট কে’ কৌশলে। আগামী কয়েক দশক ধরে কোরিয়ার সাংস্কৃতিক প্রভাব টিকিয়ে রাখা ও আরও বিস্তৃত করাই এর লক্ষ্য।
কোরিয়ার ‘নেক্সট কে’ কৌশল কেন দরকার
কে-কালচারের বৈশ্বিক সাফল্য অনস্বীকার্য হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করছেন, কে-পপ ও নাটকের জনপ্রিয়তার ওপর এককভাবে নির্ভর করলে বিশ্বজুড়ে রুচির পরিবর্তন এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। ভক্তদের আগ্রহে ভাটা, কিছু বাজারে হাল্লিউবিরোধী মনোভাব এবং নেটফ্লিক্স ও ইউটিউবের মতো আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
কোরিয়ান কনটেন্ট ও তথ্যপ্রযুক্তি নীতির শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ কো সামসক সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ‘নেক্সট কোরিয়ান ওয়েভ: বিনোদন ও প্রযুক্তির হাত ধরে হাল্লিউর ভবিষ্যৎ’। বইটিতে তিনি হাল্লিউর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কনটেন্টের বৈচিত্র্যের অভাব এবং ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজন। তাঁর যুক্তি, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে কোরিয়াকে সাংস্কৃতিক রপ্তানিতে নতুনত্ব আনতে হবে এবং বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে।
কো সামসক লিখেছেন, “জেনারেটিভ এআই ও উন্নত প্রযুক্তির উত্থান কনটেন্ট তৈরি, প্রযোজনা ও গ্রহণের ধরন বদলে দিচ্ছে। এআই যুগে হাল্লিউর টেকসই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বিনোদন ও প্রযুক্তিকে কোরিয়া কীভাবে একীভূত করে, তার ওপর।”
সরকারি কর্মকর্তারাও একই মত দিচ্ছেন। সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটনমন্ত্রী ইউ ইন-চন বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক পরিসরে কোরিয়ার নেতৃত্ব ধরে রাখতে দূরদর্শী নীতি ও সৃজনশীল উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে বৈশ্বিক কৌশল: হাল্লিউর বিবর্তন
কোরিয়ার সাংস্কৃতিক উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ার পর থেকে নেওয়া সুপরিকল্পিত সরকারি কৌশলের ফল এটি। সাংস্কৃতিক রপ্তানির সম্ভাবনা উপলব্ধি করে সরকার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে এবং কে-পপের অবকাঠামো, শিক্ষাক্রম ও বিদেশে কোরিয়ান কনটেন্টের প্রচারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে। করছাড়, ভর্তুকি এবং শিল্পীদের সামরিক সেবা পিছিয়ে দেওয়ার মতো সরকারি প্রণোদনা শিল্পের দ্রুত বিকাশে সহায়তা করেছে।
কোরিয়া ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট এজেন্সি (কোকা) এবং কোরিয়া ট্রেড ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (কে-শিওর)-এর মতো সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তারা কনটেন্ট স্টার্টআপ ও সৃজনশীল ব্যবসায় আর্থিক সহায়তা এবং রপ্তানি নিশ্চয়তা দিয়েছে। এসব উদ্যোগ কে-কালচারকে বড় রপ্তানি শিল্পে পরিণত করেছে, যার ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিলিয়ন ডলারের অবদান যুক্ত হয়েছে এবং কোরিয়ার জাতীয় ভাবমূর্তি শক্তিশালী হয়েছে।
আজ কোরিয়ার সাংস্কৃতিক নীতি একটি “মহাপরিকল্পনা”; চলচ্চিত্র, সম্প্রচার, গেমিং, সংগীতসহ নানা খাতে সহায়তার জন্য উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ করা হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, কনটেন্টে বৈচিত্র্য আনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও বিকশিত হয়েছে।
‘নেক্সট কে’ কৌশলের প্রধান স্তম্ভ
২০২৪ সালের মে মাসে সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (এমসিএসটি) আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক নীতি প্রসার কৌশল প্রকাশ করে। বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কোরিয়ার অবস্থান শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য। কৌশলটি চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:
- আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক নীতিতে সহায়তা ব্যবস্থার উদ্ভাবন
- আরও দক্ষতার জন্য সহায়তা প্রকল্পের পুনর্গঠন
- বিদেশে কে-কালচারের প্রসারে সহায়তা
- আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক নীতিতে সহযোগিতা জোরদার
শিল্পকলা, কনটেন্ট, পর্যটন ও ক্রীড়াসহ কে-কালচারের সব ক্ষেত্রকে ‘কোরিয়া সিজন’, ‘ট্যুরিং কে-আর্টস’ ও ‘কোরিয়া এক্সপো’র মতো সমন্বিত ব্র্যান্ড উদ্যোগের আওতায় আনতে চায় এমসিএসটি। ৩৪টি দেশে কোরিয়ান কালচারাল সেন্টারকে (কেসিসি) সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনের মতো উদীয়মান বাজারে নতুন কনটেন্ট ব্যবসাকেন্দ্র চালু হচ্ছে।
আর্থিক সহায়তাও বাড়ানো হচ্ছে। কোকা ও কে-শিওরের চালু করা কালচারাল ইন্ডাস্ট্রি গ্যারান্টি কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন ওন (প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার) রপ্তানি নিশ্চয়তা পাবে। ২০২৫ সালে মোট অর্থায়ন ১৫ বিলিয়ন ওনে (১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার) পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ দেশের ভেতরের সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে সম্প্রসারণের জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা দিচ্ছে এবং কনটেন্ট স্টার্টআপগুলোকে চুক্তি পেতে ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সাহায্য করছে।
উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি: কে-কালচারের পরবর্তী দিগন্ত
‘নেক্সট কে’ কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনকে গ্রহণ করা। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের পরিকল্পনায় রয়েছে এআই যুগের কনটেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ কৌশল, যেখানে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কোরিয়ার এআই কনটেন্টের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। কনটেন্ট তৈরি, প্রযোজনা ও বিতরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিশ্চিত করে কোরিয়ার সাংস্কৃতিক পণ্যকে প্রযুক্তির সর্বাধুনিক পর্যায়ে রাখাই এই কৌশলের লক্ষ্য।
কে-কনটেন্ট কালচারাল কমপ্লেক্স, গ্লোবাল ভিডিও সিটি এবং পপুলার কালচার অ্যান্ড আর্টসের হল অব ফেমের মতো বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। বিনোদন, প্রযুক্তি ও নিমগ্ন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে আগামী ৩০ বছরে কে-কনটেন্টের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য।
ইনচনের সংদো ফ্রি ইকোনমিক জোনে নতুন এন্টারটেক প্ল্যাটফর্ম মেটাকিউব স্কয়ার এই প্রবণতার উদাহরণ। বিশ্বজুড়ে কে-কন অনুষ্ঠানের সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, নিমগ্ন নতুন-মাধ্যমের শিল্প, ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্ট ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে মেটাকিউব স্কয়ার গড়ে তোলা হচ্ছে। লক্ষ্য হলো এমন একটি স্থায়ী গন্তব্য তৈরি করা, যেখানে সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও গল্প বলার মেলবন্ধন ঘটবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতা ও দর্শক আকৃষ্ট হবেন।
বৈচিত্র্য: কে-পপ ও নাটকের বাইরেও
অল্প কয়েকটি সাংস্কৃতিক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে কোরিয়া সক্রিয়ভাবে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনছে। সরকার গেমিং, ওয়েবটুন (ডিজিটাল কমিকস), অ্যানিমেশন, এমনকি কে-ফুড ও কে-বিউটির মতো খাতে বিনিয়োগ করছে। পিসিতে ‘স্টেলার ব্লেড’-এর মতো গেমের সাফল্য বৈশ্বিক গেমিং শিল্পে কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পরিচায়ক। অন্যদিকে, ওয়েবটুন ও অ্যানিমেশনও আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে উৎসব, ব্যবসাকেন্দ্র ও যৌথ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। জাপান, চীন, কানাডা ও ইতালির মতো দেশকে নিয়ে আসন্ন ‘বিয়ন্ড কে ফেস্তা’ এবং ‘পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বছর’ এই বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ।
সফট পাওয়ার ও জাতীয় ব্র্যান্ডিং: বৃহত্তর প্রভাব
কোরিয়ার সাংস্কৃতিক কৌশল শুধু বিনোদনকেন্দ্রিক নয়; এটি এমন এক সফট পাওয়ার, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করে। সাংস্কৃতিক রপ্তানি এখন বাণিজ্য, কূটনীতি ও জাতীয় ব্র্যান্ডিংয়ের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। পিএসওয়াইয়ের ‘গ্যাংনাম স্টাইল’, বিটিএসের বৈশ্বিক সফর এবং ‘স্কুইড গেম’-এর আন্তর্জাতিক সাফল্যের মতো বড় ঘটনাগুলো সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী দেশ হিসেবে কোরিয়ার ভাবমূর্তি আরও জোরালো করেছে।
ভূরাজনৈতিক গতিশীলতাও কে-কালচারের প্রভাবে বদলাচ্ছে। ২০১৭ সালে আরোপিত কোরিয়ান সাংস্কৃতিক পণ্যের ওপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতি তুলে নেওয়ার চীনের সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চাওয়ায়, হাল্লিউর অনুষ্ঠান ও কনটেন্ট অনুমোদন আবার শুরু হওয়াকে কূটনৈতিক সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
সাফল্য সত্ত্বেও কোরিয়ার সাংস্কৃতিক শিল্পকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। হাল্লিউবিরোধী মনোভাব, কনটেন্টে একঘেয়েমি এবং বৈশ্বিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের আধিপত্য এর টেকসই ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। কপিরাইট, নির্মাতাদের অধিকার এবং কনটেন্ট তৈরিতে এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারসংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলোও শিল্পকে সামলাতে হবে।
দেশের ভেতরেও সাংস্কৃতিক নীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা ভিন্নমুখী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন: এক পক্ষের লক্ষ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কোরিয়াকে শীর্ষ পাঁচ সাংস্কৃতিক শক্তির একটিতে পরিণত করা; অন্য পক্ষ জোর দিচ্ছে সাংস্কৃতিক ন্যায্যতা, অঞ্চলভিত্তিক সুযোগ এবং ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ওপর।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কপিরাইট আইনের সংশোধনী আনছে, পাবলিসিটি রাইটস আইন প্রণয়ন করছে এবং শিল্পীদের জন্য সামাজিক বিমা ও সহায়তার আওতা বাড়াচ্ছে। এ বছর কার্যকর হওয়া হাল্লিউ শিল্প প্রসারসংক্রান্ত মৌলিক আইন শিল্পের উন্নয়নে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করবে।
বিশ্বের জন্য শিক্ষা: সাংস্কৃতিক সাফল্যে কোরিয়ার নকশা
অর্থনৈতিক সংকট থেকে সাংস্কৃতিক পরাশক্তিতে কোরিয়ার উত্তরণের অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর জন্য মূল্যবান শিক্ষা দেয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে যেমন তুলে ধরা হয়েছে, কোরিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো সংস্কৃতিকে সহজে সম্প্রসারণযোগ্য পণ্যে রূপান্তরের সক্ষমতা। এর পেছনে রয়েছে নীতিগত সহায়তা, মেধাস্বত্বে বিনিয়োগ এবং গল্প বলা ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব।
উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় স্টার্টআপগুলোকে কোরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সাংস্কৃতিক শিল্পে গল্প বলার অবকাঠামো, রপ্তানির প্রস্তুতি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কোরিয়ার মডেল দেখায়, কৌশলগতভাবে বিকশিত ও সমর্থিত হলে সংস্কৃতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রভাবের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
সংক্ষেপে
- চলমান কে-কালচার জোয়ারের পরও বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রভাব ধরে রাখা ও বিস্তৃত করাই কোরিয়ার ‘নেক্সট কে’ কৌশলের লক্ষ্য।
- বিশ্বের প্রবণতার অগ্রভাগে কোরিয়ান কনটেন্টকে রাখতে সরকার প্রযুক্তি, এআই ও বৈচিত্র্যকরণে বিনিয়োগ করছে।
- আর্থিক সহায়তা, রপ্তানি নিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নতুন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- কোরিয়ার সাংস্কৃতিক রপ্তানি সফট পাওয়ার, কূটনীতি ও জাতীয় ব্র্যান্ডিংয়ের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
- কনটেন্টে একঘেয়েমি, হাল্লিউবিরোধী মনোভাব এবং নীতিতে উদ্ভাবনের প্রয়োজনসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
- অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য সংস্কৃতিকে কাজে লাগাতে চাওয়া অন্য দেশগুলোর জন্য ‘নেক্সট কে’ কৌশল একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।






