থাইল্যান্ডের উচ্চাভিলাষী বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কর্মসূচি: যা জানা দরকার
থাইল্যান্ড নজিরবিহীন এক পর্যটন উদ্যোগ চালু করছে: আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য ২ লাখ বিনা মূল্যের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট টিকিট। “আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কিনুন, থাইল্যান্ডে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বিনা মূল্যে” শিরোনামের এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির লক্ষ্য পর্যটন আয় বাড়ানো, দেশের জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর বাইরেও ভ্রমণে উৎসাহ দেওয়া এবং পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল সারা দেশে আরও সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা কর্মসূচিটি সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা। ৭০ কোটি বাথ সরকারি বরাদ্দ থেকে ৮৮০ কোটি বাথের বেশি আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূচিপত্র
- থাইল্যান্ডের উচ্চাভিলাষী বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কর্মসূচি: যা জানা দরকার
- বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের কর্মসূচি যেভাবে কাজ করবে
- কারা সুবিধা পাবেন?
- থাইল্যান্ড কেন বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দিচ্ছে?
- লক্ষ্য গন্তব্য: পরিচিত পথের বাইরে
- বিশেষজ্ঞদের মতামত ও শিল্প খাতের প্রতিক্রিয়া
- বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা ও চ্যালেঞ্জ
- তুলনা ও আন্তর্জাতিক অনুপ্রেরণা
- ভ্রমণকারীদের যা জানা দরকার
- সম্ভাব্য প্রভাব ও বৃহত্তর তাৎপর্য
- সংক্ষেপে
সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিঘ্ন কাটিয়ে বৈশ্বিক পর্যটনশিল্প যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন আরও আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ এবং বিশেষ করে কম পরিচিত অঞ্চলগুলোর স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা করতে থাইল্যান্ড সরকার এই বহুল আলোচিত কর্মসূচির ওপর ভরসা করছে। এই উদ্যোগ কীভাবে কাজ করবে, এর লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ কী এবং ভ্রমণকারী ও থাই পর্যটন খাতের জন্য এর অর্থ কী—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের কর্মসূচি যেভাবে কাজ করবে
কর্মসূচিটির মূল ধারণা সহজ: থাইল্যান্ডগামী ফ্লাইট বুক করা আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা দেশটির ভেতরে একটি বিনা মূল্যের যাওয়া-আসার ফ্লাইটের যোগ্য হবেন, যার সঙ্গে ২০ কেজি ওজনের ব্যাগ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। যারা এখনো থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বুক করেননি, শুধু তারাই এই সুবিধা পাবেন। ফলে নতুন ভ্রমণ পরিকল্পনাকে লক্ষ্য করে কর্মসূচিটির প্রভাব সর্বাধিক করা যাবে।
থাইল্যান্ডের ছয়টি বড় বিমান সংস্থা এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে:
- থাই এয়ারওয়েজ
- থাই এয়ারএশিয়া
- ব্যাংকক এয়ারওয়েজ
- নক এয়ার
- থাই লায়ন এয়ার
- থাই ভিয়েতজেট
যোগ্য ভ্রমণকারীরা বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরাসরি অথবা এক্সপিডিয়া, বুকিং ডটকম ও স্কাইস্ক্যানারের মতো বড় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বুক করার সময় বিনা মূল্যের অভ্যন্তরীণ টিকিট দাবি করতে পারবেন। প্রত্যেক ভ্রমণকারী একটি যাওয়া-আসার (অথবা দুটি একমুখী) অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পাবেন। একমুখী প্রতিটি টিকিটে সরকার ১,৭৫০ বাথ ভর্তুকি দেবে; যাওয়া-আসার টিকিটের জন্য ভর্তুকির পরিমাণ ৩,৫০০ বাথ।
কর্মসূচিটি যথাসম্ভব সবার জন্য সহজলভ্য করে সাজানো হয়েছে। থাইল্যান্ডের সব প্রদেশ এতে অন্তর্ভুক্ত, তবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় সারির গন্তব্য, ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত স্থান এবং সাধারণত যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা কম—এমন অঞ্চলগুলোকে।
কারা সুবিধা পাবেন?
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত, জাপান এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। সাধারণত থাইল্যান্ডের সঙ্গে ভিসামুক্ত প্রবেশ বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার চুক্তির ওপর যোগ্যতা নির্ভর করবে। ফলে বেশির ভাগ ভ্রমণকারীর অংশ নেওয়া সহজ হবে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় পর্যটকেরা পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিন ভিসা ছাড়া থাইল্যান্ডে থাকতে পারবেন।
থাইল্যান্ড কেন বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দিচ্ছে?
থাইল্যান্ডের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ পর্যটন খাত। এটি মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জোগায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আগের বছরের তুলনায় আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ৭ শতাংশ কমে যাওয়া। আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২ কোটি ৮ লাখ বিদেশি পর্যটক থাইল্যান্ডে এসেছেন। ২৯ লাখ পর্যটক নিয়ে চীন এখনো সবচেয়ে বড় উৎসবাজার।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য একাধিক:
- আরও আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ করে সামগ্রিক পর্যটন আয় বাড়ানো।
- ব্যাংকক, ফুকেট ও চিয়াং মাইয়ের বাইরের দ্বিতীয় সারির গন্তব্যগুলোতে ভ্রমণে উৎসাহ দেওয়া, যাতে অর্থনৈতিক সুফল আরও বিস্তৃতভাবে ছড়ায়।
- কম পরিচিত অঞ্চলে ভ্রমণের প্রচার করে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত ভিড় কমানো।
- উদীয়মান গন্তব্যগুলোর স্থানীয় ব্যবসা ও জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা।
- দর্শনার্থীর সংখ্যা ও ব্যয় আরও সমানভাবে ছড়িয়ে দিয়ে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনকে উৎসাহিত করা।
এই কর্মসূচির অনুপ্রেরণা জাপানের একই ধরনের একটি উদ্যোগ, যা পর্যটকদের বড় শহরের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখতে উৎসাহিত করতে সফল হয়েছিল। সেই মডেল অনুসরণ করে থাই কর্মকর্তারা দেশটির অসাধারণ বৈচিত্র্য তুলে ধরতে চান—শান্ত নদীতীরের শহর ও নির্জন দ্বীপ থেকে শুরু করে ঐতিহ্যসমৃদ্ধ নগরী এবং সবুজ গ্রামীণ প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যন্ত।
লক্ষ্য গন্তব্য: পরিচিত পথের বাইরে
থাইল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত সমুদ্রসৈকত, মন্দির ও নগরকেন্দ্রগুলোতে বরাবরই পর্যটকদের ভিড় থাকবে। তবে সরকার দেশটির ‘লুকানো রত্ন’গুলো তুলে ধরতে আগ্রহী। কর্মসূচিতে বিশেষভাবে যেসব স্থানে ভ্রমণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে:
- ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত শহর ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান
- চিয়াং রাই ও নানের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ উত্তরের প্রদেশগুলো
- বুরি রামের মতো ক্রীড়া পর্যটনের কেন্দ্র
- উবন রাতচাথানিতে মেকং নদীর তীরবর্তী শহরগুলো
- কোহ সামুই ও ক্রাবিসহ দক্ষিণের দ্বীপ ও সমুদ্রসৈকত
- উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উদীয়মান নগরকেন্দ্র, যেমন খন কায়েন ও উদন থানি
দর্শনার্থীদের এসব গন্তব্য ঘুরে দেখতে উৎসাহিত করে কর্মসূচিটি পর্যটক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীরতর সম্পর্ক গড়ে তোলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়তা করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও শিল্প খাতের প্রতিক্রিয়া
পর্যটনশিল্পের নেতারা সাধারণত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কেউ কেউ গঠনমূলক সমালোচনা ও উন্নতির পরামর্শও দিয়েছেন। চিয়াং মাই চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুনলপ সায়েউ বলেছেন, কর্মসূচিটি পর্যটন খাতে সহায়তা করবে ঠিকই, তবে পর্যটকের সংখ্যা সাধারণত কমে যাওয়া মন্দা মৌসুমে চালু করা হলে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, অভ্যন্তরীণ আকাশপথে ভাড়ার উচ্চমূল্য এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।
থাই হোটেলস অ্যাসোসিয়েশনের নিম্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শাখার সভাপতি রুংরোজ সান্তাদভানিতের মতে, কম আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগ্রহের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ কিছু অঞ্চল এই কর্মসূচি থেকে ততটা উপকৃত নাও হতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকায় পর্যটক আকর্ষণে লক্ষ্যভিত্তিক বিপণন কৌশল ও অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। যেমন, বুরি রামে ক্রীড়া আয়োজনের প্রচার করা, অথবা উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক আকর্ষণ তুলে ধরা।
দুই বিশেষজ্ঞই ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোন কোন এলাকায় যাওয়া নিরাপদ সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়ার গুরুত্বের সঙ্গে একমত হয়েছেন। প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পুনলপ সায়েউ বলেন, “মন্দা মৌসুমে চালু করা হলে কর্মসূচিটি আরও কার্যকর হতো। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের উচ্চ ভাড়া অনেক ভ্রমণকারীর জন্য এখনো বাধা; তাই তা কমাতে সরকারকে তহবিল বরাদ্দের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।”
রুংরোজ সান্তাদভানিত আরও বলেন, “বিনা মূল্যের ফ্লাইটের পাশাপাশি প্রতিটি স্থানের লক্ষ্যবাজার অনুযায়ী বিপণন কৌশল ও কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা উচিত কর্তৃপক্ষের। উদাহরণস্বরূপ, ক্রীড়া পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে বুরি রামে খেলাধুলা ও ম্যারাথনের প্রচার করা উচিত। অন্যদিকে, উবন রাতচাথানি মেকং নদীর তীরের আকর্ষণগুলো তুলে ধরতে পারে।”
বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা ও চ্যালেঞ্জ
কর্মসূচিটির সাফল্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে:
- মন্ত্রিসভার অনুমোদন: পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে ৭০ কোটি বাথ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এই অনুমোদন ছাড়া কর্মসূচি এগোতে পারবে না।
- বিমান সংস্থা ও ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয়: টিকিট বিতরণ, যোগ্যতা যাচাই ও প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের কাছে পৌঁছাতে অংশগ্রহণকারী বিমান সংস্থা ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
- অবকাঠামোর প্রস্তুতি: দ্বিতীয় সারির গন্তব্যগুলোতে বাড়তি পর্যটক সামলানোর মতো পরিবহন, আবাসন ও পর্যটনসেবা থাকতে হবে। সরকার সড়ক, রেল, ফেরি ব্যবস্থা, বিমানবন্দরের টার্মিনাল এবং দর্শনার্থী কেন্দ্র উন্নয়নেও বিনিয়োগ করছে।
- বিপণন ও যোগাযোগ: আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীরা যেন এই সুবিধার কথা জানতে পারেন এবং কীভাবে বিনা মূল্যের ফ্লাইট পাবেন তা বুঝতে পারেন, সে জন্য কার্যকর প্রচার জরুরি। বহু ভাষায় সহায়তা এবং নিরাপত্তা ও ভ্রমণের শর্তাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া বিনা মূল্যের ফ্লাইট ভাউচার ন্যায্যভাবে বিতরণ, অপব্যবহার রোধ এবং চাহিদা সামলানোর মতো ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কর্মসূচির কারণে স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া বা কোনো কোনো গন্তব্যে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হওয়া ঠেকানোও জরুরি।
তুলনা ও আন্তর্জাতিক অনুপ্রেরণা
থাইল্যান্ডের কর্মসূচিটি আংশিকভাবে জাপানের সফল ‘বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট’ উদ্যোগের আদলে তৈরি। বড় শহর থেকে পর্যটকদের অন্যান্য গন্তব্যে ছড়িয়ে দিতে ওই উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করা হয়। এই উদাহরণ অনুসরণ করে থাই কর্মকর্তারা একই ধরনের ফল আশা করছেন—জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি ঐতিহাসিকভাবে কম পর্যটক যাওয়া অঞ্চলগুলোকে চাঙা করা।
এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশও ভ্রমণ প্রণোদনার নানা উদ্যোগ পরীক্ষা করেছে। তবে থাইল্যান্ডের কর্মসূচিটি এর ব্যাপকতা, উচ্চাভিলাষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আলাদা। এটি সরকারের বৃহত্তর নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই নীতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালকে ‘অ্যামেজিং থাইল্যান্ড গ্র্যান্ড ট্যুরিজম অ্যান্ড স্পোর্টস ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খাতটিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বিশ্বসেরা গন্তব্য হিসেবে দেশটির প্রচারে নতুন করে অঙ্গীকারের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ভ্রমণকারীদের যা জানা দরকার
কর্মসূচি চলাকালে থাইল্যান্ড ভ্রমণের কথা ভাবছেন এমন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা দরকার:
- যোগ্যতা: অংশগ্রহণকারী কোনো বিমান সংস্থার মাধ্যমে অথবা বড় কোনো অনলাইন ট্রাভেল এজেন্টের সাহায্যে থাইল্যান্ডগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বুক করুন। যারা এখনো অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বুক করেননি, শুধু তারাই এই সুবিধা পাবেন।
- সুবিধা পাওয়ার উপায়: বুকিংয়ের পর ভ্রমণকারীরা ২০ কেজি চেক-ইন ব্যাগেজসহ বিনা মূল্যের একটি যাওয়া-আসার (অথবা দুটি একমুখী) অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাউচার বা কোড পাবেন।
- অংশগ্রহণকারী বিমান সংস্থা: থাই এয়ারওয়েজ, থাই এয়ারএশিয়া, ব্যাংকক এয়ারওয়েজ, নক এয়ার, থাই লায়ন এয়ার ও থাই ভিয়েতজেট।
- ভ্রমণের সময়: কর্মসূচিটি সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই সময়সীমার মধ্যেই ভ্রমণ সম্পন্ন করতে হবে।
- গন্তব্য: সব প্রদেশে এই সুবিধা প্রযোজ্য, তবে দ্বিতীয় সারির শহর ও কম পরিচিত আকর্ষণগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- ভিসার শর্ত: প্রধান উৎসবাজারগুলোর বেশির ভাগ ভ্রমণকারী ভিসামুক্ত প্রবেশ বা পৌঁছানোর পর ভিসা পাওয়ার যোগ্য। যাত্রার আগে সর্বশেষ শর্তাবলি দেখে নিন।
- ভ্রমণ পরামর্শ: মন্দিরে গেলে শালীন পোশাক পরুন, স্থানীয় বাজারে কেনাকাটার জন্য কিছু নগদ টাকা রাখুন এবং প্রচলিত ভ্রমণ-প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। পর্যটন এলাকায় ইংরেজি ব্যাপকভাবে প্রচলিত, তবে থাই ভাষার কয়েকটি সাধারণ বাক্য শিখে নিলে স্থানীয়রা খুশি হন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বৃহত্তর তাৎপর্য
বিনা মূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের কর্মসূচি সফল হলে থাইল্যান্ডের পর্যটনশিল্প ও অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। আরও আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ করে এবং পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরেও ঘুরে দেখতে উৎসাহিত করে কর্মসূচিটি যেসব লক্ষ্য অর্জন করতে চায়:
- পর্যটন আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা
- উদীয়মান গন্তব্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসায় গতি আনা
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো
- আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনচর্চায় উৎসাহ দেওয়া
- বৈচিত্র্যময় ও অতিথিপরায়ণ গন্তব্য হিসেবে থাইল্যান্ডের সুনাম বাড়ানো
পর্যটন খাত পুনরুজ্জীবিত করা এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াত আরও কার্যকরভাবে সামলানোর উদ্ভাবনী উপায় খুঁজছে—এমন অন্যান্য দেশের জন্যও এই উদ্যোগ একটি পরীক্ষামূলক দৃষ্টান্ত। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের ধরন বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থাইল্যান্ডের এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের দিকে শিল্প খাতের নেতা ও নীতিনির্ধারকেরা নিবিড়ভাবে নজর রাখবেন।
সংক্ষেপে
- বড় পর্যটন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের ২ লাখ বিনা মূল্যের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট টিকিট দিচ্ছে থাইল্যান্ড।
- পর্যটন আয় বাড়ানো, দ্বিতীয় সারির গন্তব্যগুলোর প্রচার এবং অর্থনৈতিক সুফল আরও সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
- থাইল্যান্ডগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বুক করা যোগ্য ভ্রমণকারীরা ছয়টি অংশগ্রহণকারী বিমান সংস্থার যেকোনো একটির মাধ্যমে বিনা মূল্যের যাওয়া-আসার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট দাবি করতে পারবেন।
- কর্মসূচিটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা।
- শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞরা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া কমানো এবং অঞ্চলভিত্তিক বিপণনের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
- জাপানের সফল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কর্মসূচি থেকে অনুপ্রাণিত এই উদ্যোগ থাইল্যান্ডের পর্যটন উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- সফল হলে এ উদ্যোগ অঞ্চলটিতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যটনের মডেল হতে পারে।






