চীনের জনমিতিক সন্ধিক্ষণ: আসন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন এমন এক জনমিতিক সংকটের মুখে, যা দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিতে পারে। ছয় দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের জনসংখ্যা কমছে; এর প্রভাব পড়ছে দেশটির শ্রমশক্তি, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর। দেশটির জন্মহার নেমে এসেছে ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে, অন্যদিকে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ নাগরিকদের অনুপাত। এসব প্রবণতা শুধু চীনের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে না, তবে এর গতি ও ব্যাপকতা—এক সন্তান নীতির উত্তরাধিকার এবং সীমিত অভিবাসনের প্রভাবসহ—চীনের পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সূচিপত্র
- চীনের জনমিতিক সন্ধিক্ষণ: আসন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
- চীনের জনসংখ্যা কমছে কেন?
- অর্থনৈতিক পরিণতি: প্রবৃদ্ধি, শ্রমশক্তি ও প্রবীণ অর্থনীতি
- ভোগব্যয় ও উদ্ভাবনে প্রভাব
- নীতিগত পদক্ষেপ: চীন কি এই প্রবণতা বদলাতে পারবে?
- জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা: স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন
- বিশ্বজুড়ে প্রভাব: চীনের জনমিতিক পরিবর্তনে বিশ্ব কীভাবে প্রভাবিত হবে
- বয়স্ক হওয়ার আগে কি ধনী হতে পারবে চীন?
- সংক্ষেপে
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে চীনের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। নীতিনির্ধারকেরা প্রতিক্রিয়া জানাতে তৎপর, তবে তাঁদের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে তা এখনো অনিশ্চিত। এর ঝুঁকি অনেক বড়—শুধু চীনের জন্য নয়, বরং চীনের প্রবৃদ্ধি ও চাহিদার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও।
চীনের জনসংখ্যা কমছে কেন?
চীনের জনমিতিক সংকটের শিকড় গভীর এবং বহুমুখী। সবচেয়ে তাৎক্ষণিক কারণ হলো জন্মহারে নাটকীয় পতন। ২০২৪ সালে চীনে প্রজনন হার ছিল আনুমানিক নারীপ্রতি মাত্র ১.২টি সন্তান—স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিস্থাপন-হারের ২.১-এর অনেক নিচে। সাংহাইয়ের মতো কিছু নগরকেন্দ্রে এই হার ০.৬-এ নেমেছে। অর্থাৎ, প্রতি ছয়টি মৃত্যুর বিপরীতে এখন জন্ম নিচ্ছে একটি শিশু; এই প্রবণতা ঠেকানো না গেলে জনসংখ্যা হ্রাসের গতি আরও বাড়বে।
এই প্রবণতার সূত্রপাত ১৯৭৯ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে চালু হওয়া এক সন্তান নীতিতে। জন্মহার কমাতে নীতিটি সফল হলেও এর অনিচ্ছাকৃত পরিণতিও ছিল: দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা সমাজ, পুত্রসন্তানের প্রতি পক্ষপাতের কারণে নারী-পুরুষের সংখ্যায় ভারসাম্যহীনতা, এবং মৌলিক সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত লাখ লাখ অনিবন্ধিত শিশু (হেইহাইজি)। নীতি শিথিল করে প্রথমে ২০১৬ সালে দুই সন্তান এবং পরে ২০২১ সালে তিন সন্তানের অনুমতি দেওয়ার পরও জন্মহার কমতে থাকে। অর্থনৈতিক চাপ ও বদলে যাওয়া সামাজিক মনোভাব দম্পতিদের বেশি সন্তান নিতে নিরুৎসাহিত করে।
অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নগরায়ণ, দেরিতে বিয়ে, এবং নারীদের জন্য শিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ বৃদ্ধি। কোভিড-১৯ মহামারি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে এবং পরিবার গঠনে নিরুৎসাহিত করে এই প্রবণতাকে আরও তীব্র করেছে।
অর্থনৈতিক পরিণতি: প্রবৃদ্ধি, শ্রমশক্তি ও প্রবীণ অর্থনীতি
জনমিতিক পরিবর্তন ইতিমধ্যেই চীনের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও বয়স্ক হয়ে ওঠার অর্থ হলো—কর্মীর সংখ্যা কমবে, নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত বাড়বে এবং পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের হিসাবে, চলতি শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চীনের সম্ভাব্য উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ২০২০-এর দশকের স্তরের অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। ২০৩০-এর দশকে তা ৪ শতাংশের নিচে এবং ২০৪০-এর দশকে ৩ শতাংশেরও কম হতে পারে—২০০০-এর দশক ও ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকের অর্থনৈতিক উত্থানের সময়ের দ্বি-অঙ্কের হার থেকে যা অনেক কম। ২০৫০-এর দশকে প্রবৃদ্ধি বার্ষিক মাত্র ২ শতাংশের কিছু বেশি হতে পারে।
চীনের বার্ধক্য-নির্ভরতা অনুপাত—কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সংখ্যা—২০১৩ সালের ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ কোটিরও বেশি মানুষ (জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ) ৬০ বছরের বেশি বয়সী হবে। ফলে কমসংখ্যক কর্মীকে ক্রমবর্ধমান অবসরপ্রাপ্ত মানুষের ভরণপোষণ করতে হবে; এতে দেশটির সীমিত সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে এবং পেনশন ব্যবস্থার টেকসই হওয়া হুমকিতে পড়বে। এর আর্থিক বোঝা ইতিমধ্যেই প্রকট: ২০৩৫ সালের মধ্যে পেনশন ঘাটতি জাতীয় শ্রম-আয়ের প্রায় ১২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
শ্রমশক্তি সংকুচিত হলে উৎপাদন ও নির্মাণের মতো শিল্প, যেগুলো তরুণ ও কম খরচের শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোকে বাড়তি মজুরি ও সম্ভাব্য শ্রমিক সংকটের মুখে পড়তে হবে। একই সময়ে, তথাকথিত “প্রবীণ অর্থনীতি” সম্প্রসারিত হচ্ছে; এতে স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণদের পরিচর্যা, ওষুধশিল্প এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে প্রবীণদের পরিচর্যা-সংক্রান্ত বাজারের আকার ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশি ও বিদেশি—উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।
ভোগব্যয় ও উদ্ভাবনে প্রভাব
জনমিতিক পরিবর্তন ভোক্তাদের চাহিদার ধরনও বদলে দিচ্ছে। শিশুর সংখ্যা কমায় শিশুযত্ন, শিক্ষা ও খেলনার মতো খাত সংকুচিত হচ্ছে; অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত পরিচর্যা এবং প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন সেবায় ব্যয় বাড়ছে। নেচার-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জনমিতিক লভ্যাংশের পরিবর্তন—শ্রমশক্তির সংখ্যার বদলে জনসংখ্যার গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া—মাথাপিছু ভোগব্যয় বাড়িয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ বাসিন্দাদের মধ্যে। এর কারণ হলো, মানুষের ব্যবহারযোগ্য আয় বাড়ছে এবং ভোগের ধরন উন্নত হচ্ছে; তাঁরা শুধু টিকে থাকার জন্য নয়, আনন্দ ও ব্যক্তিগত বিকাশের জন্যও বেশি ব্যয় করছেন।
তবে বয়স্ক শ্রমশক্তি উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে মানুষ সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবনী হন। জনসংখ্যা বয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বয়সসীমার কর্মীর অনুপাত কমবে। এতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ধীর হতে পারে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীনের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
নীতিগত পদক্ষেপ: চীন কি এই প্রবণতা বদলাতে পারবে?
ঝুঁকি স্বীকার করে চীনের নীতিনির্ধারকেরা জন্মহার বাড়ানো এবং বয়স্ক সমাজের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- এক সন্তান নীতির অবসান এবং পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ তিন সন্তানের অনুমতি
- নগদ ভর্তুকি দেওয়া (তিন বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য ৩,৬০০ ইউয়ান; অতিরিক্ত সন্তানের ক্ষেত্রে কিছু প্রদেশে আরও বেশি)
- মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো; কিছু অঞ্চলে মাতৃত্বকালীন ছুটি সর্বোচ্চ ১৫০ দিন করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে
- বিয়ের নিবন্ধন সহজ করা এবং দম্পতিদের বিয়ে ও সন্তান নিতে প্রণোদনা দেওয়া
- শিশুযত্ন, প্রবীণদের পরিচর্যা এবং বেসরকারি পেনশন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ
- ধাপে ধাপে অবসরের বয়স বাড়ানো (২০৩৫ সালের মধ্যে ৬৫ বছরে পৌঁছানোর কথা)
- শ্রমিকের ঘাটতি সামাল দিতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, এআই ও রোবোটিকসের প্রসার
এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ফলাফল সীমিত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সন্তান লালন-পালনের উচ্চ ব্যয় ও সামাজিক চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ভর্তুকি ও প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে শহুরে তরুণদের মধ্যে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিরোধী মনোভাব জোরালো হচ্ছে। অনেক নারী মাতৃত্ব পিছিয়ে দেওয়া বা তা থেকে বিরত থাকার কারণ হিসেবে পেশাগত উদ্বেগ ও সহায়তার অভাবের কথা বলছেন। সরকারের নিজস্ব গবেষণায়ও ইঙ্গিত মিলেছে, সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও প্রবীণদের অনুপাত বাড়তে থাকবে এবং ২০৮৪ সালে ৩৬ শতাংশে পৌঁছাবে।
জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা: স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন
এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া প্রথম দেশ চীন নয়। জাপানের অভিজ্ঞতায় সতর্কবার্তার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানের দিকও রয়েছে। একই ধরনের জনমিতিক সংকটের মুখে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও রোবোটিকসে ব্যাপক বিনিয়োগ করে, ফলে শ্রমশক্তি কমলেও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। বয়স্ক জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে তারা রোবট সহকারী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের মতো প্রবীণ-পরিচর্যা প্রযুক্তিরও পথিকৃৎ হয়ে ওঠে।
উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন ও এআইয়ে চীন ইতিমধ্যেই বিশ্বনেতাদের একটি, এবং নীতিনির্ধারকেরা এসব খাতে আরও বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছেন। প্রবীণদের পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন এগিয়ে নিয়ে চীন জনমিতিক চ্যালেঞ্জকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপ দিতে পারে। তবে এ জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; পরিবারকে সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার উন্নতি এবং স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোতে শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে নীতিগত সংস্কারও জরুরি।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব: চীনের জনমিতিক পরিবর্তনে বিশ্ব কীভাবে প্রভাবিত হবে
চীনের জনমিতিক সংকট শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; বিশ্ব অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ এবং বৈশ্বিক চাহিদার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চীনের জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন পণ্যের দাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন—সবকিছুকে প্রভাবিত করবে।
শ্রমশক্তি সংকুচিত ও বয়স্ক হলে আমদানির চাহিদা—বিশেষ করে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে—কমতে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা প্রভাবিত হবে এবং রপ্তানিকারকদের সুযোগ কমবে। চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারের ওপর নির্ভরশীল বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে এবং বয়স্ক, বেছে কেনাকাটা করা ক্রেতাদের উপযোগী হয়ে ওঠার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
একই সময়ে, প্রবীণ অর্থনীতির উত্থান স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শিক্ষাখাতে বিদেশি ব্যবসার জন্য সুযোগ তৈরি করছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই চীনা কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে পেশাগত প্রশিক্ষণ, প্রবীণদের পরিচর্যার সমাধান এবং বয়স্ক বাজারের উপযোগী এআই-চালিত পণ্য সরবরাহ করছে।
বয়স্ক হওয়ার আগে কি ধনী হতে পারবে চীন?
সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নগুলোর একটি হলো, জনমিতিক সুযোগের জানালা বন্ধ হওয়ার আগে চীন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করতে পারবে কি না। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া উন্নত দেশের মর্যাদা পাওয়ার পর বয়স্ক হয়েছে; বিপরীতে, চীন মাথাপিছু সম্পদের অনেক কম স্তরে থেকেই দ্রুত বার্ধক্যের মুখে পড়ছে। ফলে ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে উদ্ভাবন, সামাজিক সেবা ও বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে বিনিয়োগের সক্ষমতা চীনের সীমিত হতে পারে।
চীন এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না, তা নিয়ে গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা একমত নন। কারও মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, অবসরের বয়স বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর মতো কার্যকর সংস্কার চীনকে জনমিতিক ফাঁদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। অন্যরা মনে করেন, গ্রামীণ শ্রমিকদের শিক্ষার নিম্নমান এবং স্থায়ী লিঙ্গবৈষম্যের মতো কাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা আরও কঠিন হবে।
একটি বিষয় স্পষ্ট: জনমিতি কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। নীতি, প্রযুক্তি ও সামাজিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চীন এখন যে সিদ্ধান্ত নেবে, তার ওপর নির্ভর করবে দেশটি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখতে পারবে কি না।
সংক্ষেপে
- জন্মহার কমে যাওয়া এবং এক সন্তান নীতির উত্তরাধিকারের কারণে চীনের জনসংখ্যা দ্রুত কমছে ও বয়স্ক হচ্ছে।
- জনমিতিক সংকট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর করতে, শ্রমশক্তি সংকুচিত করতে এবং পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
- জন্মহার বাড়ানো এবং বার্ধক্যের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সরকারের নীতিগুলো এখন পর্যন্ত সীমিত সাফল্য পেয়েছে; প্রবণতা বদলাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি।
- স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, এআই এবং প্রবীণদের পরিচর্যায় উদ্ভাবন সম্ভাব্য সমাধান, তবে এর জন্য বড় বিনিয়োগ ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন।
- চীনের জনমিতিক পরিবর্তন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিশ্বজুড়ে ব্যবসার সুযোগকে প্রভাবিত করে বৈশ্বিক পরিণতি ডেকে আনবে।
- নজিরবিহীন জনমিতিক পরিবর্তনের মুখে চীন কতটা খাপ খাইয়ে নিতে, সংস্কার করতে এবং উদ্ভাবন করতে পারবে, তার ওপর নির্ভর করছে বয়স্ক হওয়ার আগে দেশটি ধনী হতে পারবে কি না।






