জাপানে ভিয়েতনামের কলার বাজার বাড়ছে: এশিয়ার কলা বাণিজ্যে পরিবর্তন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের মুদিপণ্যের দোকানে ফল কিনতে গিয়ে ক্রেতারা নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে দেখতে পাচ্ছেন: ভিয়েতনামের কলা। একসময় জাপানের কলার বাজার প্রায় পুরোপুরি ফিলিপাইন থেকে আসা আমদানির দখলে ছিল। তবে ভিয়েতনামের কলা দ্রুত বাজারের অংশ বাড়ানোয় সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। এই ঘটনা শুধু এশিয়ার বাণিজ্যিক গতিপ্রকৃতিকেই বদলে দিচ্ছে না, বৈশ্বিক কৃষি, বাণিজ্যনীতি ও ভোক্তাদের পছন্দের বৃহত্তর প্রবণতাও তুলে ধরছে।
সূচিপত্র
- জাপানে ভিয়েতনামের কলার বাজার বাড়ছে: এশিয়ার কলা বাণিজ্যে পরিবর্তন
- জাপানে ভিয়েতনামের কলা জনপ্রিয় হচ্ছে কেন?
- শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি: প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা
- ভিয়েতনামের কলাশিল্প: স্থানীয় প্রধান খাদ্য থেকে বৈশ্বিক রপ্তানি
- ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকদের চ্যালেঞ্জ
- বাজারের অংশ ধরে রাখতে লড়ছে ফিলিপাইন
- শিল্পসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: ন্যায্য প্রতিযোগিতার দাবি
- আঞ্চলিক পরিবর্তন: ভিয়েতনামের উত্থান ও এশীয় বাণিজ্যে প্রভাব
- বাণিজ্য চুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্ব
- এশিয়ার কলা বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ কী?
- সংক্ষেপে
জাপানে ভিয়েতনামের কলা জনপ্রিয় হচ্ছে কেন?
জাপানের কলার বাজারে ভিয়েতনামের উত্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৩ সালের প্রথম সাত মাসে জাপানে ভিয়েতনামের কলা রপ্তানি পরিমাণে ৬২ শতাংশ এবং মূল্যে ৮০.২ শতাংশ বেড়েছে। এই দ্রুত প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে ওই সময়ে জাপানের মোট কলা আমদানির মাত্র ১.৩ শতাংশ ছিল ভিয়েতনামের কলা।
স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে জাপানি ক্রেতারা ভিয়েতনামের কলার প্রতি ক্রমেই আকৃষ্ট হচ্ছেন। কয়েকটি জাপানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের ক্রেতারা ফিলিপাইনের কলার চেয়ে ভিয়েতনামের কলার স্বাদ বেশি পছন্দ করেন। ভোক্তাদের পছন্দের এই পরিবর্তনের ফলে বড় জাপানি সুপারমার্কেট চেইনগুলো ভিয়েতনাম থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে, যদিও ফিলিপাইন এখনো প্রধান সরবরাহকারী।
২০২৪ সালেও জাপানের কলার প্রায় ৭৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে ফিলিপাইন। তবে এক দশকেরও বেশি আগে দেশটির বাজারের অংশ ছিল ৯০ শতাংশ, তাই বর্তমান হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অনুকূল বাণিজ্য চুক্তি ও ভোক্তাদের রুচির পরিবর্তনের কারণে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও পেরুর মতো দেশগুলো ধীরে ধীরে ফিলিপাইনের আধিপত্য কমিয়ে আনছে।
শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি: প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা
জাপানের কলার বাজারে ভিয়েতনামের উপস্থিতি বাড়ার পেছনে শুল্কহারের পার্থক্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আসিয়ান-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ভিয়েতনামের কলায় শুল্কহার শূন্য; এর আগে হার ছিল ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ফিলিপাইন-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (PJEPA) আওতায় ফিলিপাইনের কলায় এখনো গ্রীষ্মকালে ৮ শতাংশ এবং শীতকালে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়।
শুল্কের এই ব্যবধান ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকদের দামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেয়। ফিলিপাইন ব্যানানা গ্রোয়ার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (PBGEA) বলেছে, ভিয়েতনামের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য কম শুল্ক থাকায় জাপানের বাজারে দামের দিক থেকে ফিলিপাইনের কলার পক্ষে প্রতিযোগিতা করা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সমান করতে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত নতুন করে আলোচনার জন্য PBGEA ফিলিপাইন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।
মেক্সিকো ও পেরুর মতো অন্য দেশগুলোর সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সেসব দেশও শূন্য শুল্কে কলা রপ্তানি করতে পারে, যা প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে জাপানের কলার বাজারে বৈচিত্র্য বাড়ছে এবং নতুন সরবরাহকারীরা ক্রমাগত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
ভিয়েতনামের কলাশিল্প: স্থানীয় প্রধান খাদ্য থেকে বৈশ্বিক রপ্তানি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামের কলাশিল্পে দ্রুত রূপান্তর ঘটেছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে ১ লাখ ৬১ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কলা চাষ হয়েছে, উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টন। ভিয়েতনামের কলার সবচেয়ে বড় বাজার এখনো চীন, যেখানে দেশটির অধিকাংশ রপ্তানি যায়। তবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
কলা রপ্তানি বাড়াতে ভিয়েতনামের সাফল্যের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- উন্নত চাষপদ্ধতি: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মতো এলাকায় আধুনিক কৃষিপদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৪.৫ টন পর্যন্ত হয়েছে।
- মান নিয়ন্ত্রণ ও পণ্য অনুসরণযোগ্যতা: জাপানের মতো বাজারের কঠোর মান পূরণ করতে ভিয়েতনামের উৎপাদকেরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সনদ ও পণ্য অনুসরণযোগ্যতা ব্যবস্থায় ক্রমেই বেশি বিনিয়োগ করছেন।
- বাণিজ্য চুক্তি: আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তিতে ভিয়েতনামের অংশগ্রহণের ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে শুল্ক কমেছে বা উঠে গেছে, যা দেশটির কলাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করেছে।
এই অগ্রগতি সত্ত্বেও ভিয়েতনামের অধিকাংশ কলা এখনো সামান্য প্রক্রিয়াজাত করে তাজা অবস্থায় রপ্তানি করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনো কলার চিপস বা কলার গুঁড়ার মতো মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করলে রপ্তানি আয় আরও বাড়তে পারে এবং কম দামের প্রতিযোগিতা এড়াতে ভিয়েতনামের উৎপাদকদের সহায়তা হতে পারে।
ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকদের চ্যালেঞ্জ
উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হলেও ভিয়েতনামের কলা রপ্তানিকারকদের বেশ কিছু বাধার মুখে পড়তে হয়। খাদ্যনিরাপত্তা, গুণগত মান ও স্বাদ নিয়ে জাপানি ক্রেতাদের উচ্চ মানদণ্ডের সুনাম রয়েছে। জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে ভিয়েতনামের কলা কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সনদ মেনে উৎপাদন করতে হয়। পাশাপাশি, পণ্য অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল উৎপাদনের এলাকাগুলো নিবন্ধন ও কোডভুক্ত করতে হয়।
আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো জৈব কলার চাহিদা। জাপানি আমদানিকারকেরা জৈব পণ্যে ক্রমেই বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তবে প্রচলিত পদ্ধতি ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, এমন উদ্ভিদরোগের বিস্তারের কারণে ভিয়েতনামে বড় পরিসরে জৈব কলা উৎপাদন সীমিত।
বাজারের অংশ ধরে রাখতে লড়ছে ফিলিপাইন
কয়েক দশক ধরে জাপানে কলা সরবরাহে অবিসংবাদিত শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফিলিপাইন। দেশটির অর্থনীতিতে কলাশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাত থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় হয় এবং ৭ লাখেরও বেশি ফিলিপিনোর জীবিকা নির্ভর করে; বিশেষ করে মিন্দানাও অঞ্চলে। তবে জাপানের বাজারে দেশটির অংশ ক্রমাগত কমেছে: ২০১২ সালের ৯০ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে নেমে এসেছে ৭৫ শতাংশে।
এই পতনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- শুল্কের প্রতিকূলতা: আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ভিয়েতনাম ও পেরুর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় জাপানে ফিলিপাইনের কলায় বেশি শুল্ক দিতে হয়।
- উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ: ফিউজারিয়াম উইল্ট (পানামা রোগ)–এর মতো রোগের বিস্তারে কলার ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র চাষিদের ক্ষেত্রে।
- ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা: পশ্চিম ফিলিপাইন সাগর নিয়ে বিরোধের কারণে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এতে ওই বাজারে ফিলিপাইনের কলা রপ্তানি তীব্রভাবে কমেছে এবং জাপানের বাজারের অংশ ধরে রাখার গুরুত্ব বেড়েছে।
- নতুন সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতা: ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশ উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়েছে; কম শুল্ক ও উন্নত সরবরাহব্যবস্থা থেকে তারা সুবিধা পাচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো তিউ লরেল জুনিয়রসহ ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা PJEPA পর্যালোচনা এবং শুল্ক কমানোর দাবিতে জাপানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করেছেন। লরেল দারিদ্র্য বিমোচন ও মিন্দানাওয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কলাশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে জাপানকে তার বাণিজ্যনীতির বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: ন্যায্য প্রতিযোগিতার দাবি
আরও ন্যায্য বাণিজ্যিক শর্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ফিলিপাইনের কলাচাষি ও রপ্তানিকারকেরা সরব হয়েছেন। PBGEA সতর্ক করে বলেছে, শুল্ক না কমালে শুধু জাপানেই নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও ফিলিপাইন তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংগঠনটি সরকারকে কলা নিয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং রোগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জাপানি আমদানিকারকেরা ফিলিপাইনের কলার সতেজতা ও স্বাদকে এখনো মূল্য দেন। জাপানের কাছাকাছি হওয়াকে তারা সুবিধা হিসেবে দেখেন। তবে শুল্ক ও উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা অব্যাহত থাকায় স্থিতিশীল সরবরাহ ও প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করতে জাপানের খুচরা বিক্রেতারা ক্রমেই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করছেন।
আঞ্চলিক পরিবর্তন: ভিয়েতনামের উত্থান ও এশীয় বাণিজ্যে প্রভাব
জাপানে ভিয়েতনামের কলার উত্থান কলা বাণিজ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক পরিবর্তনেরই অংশ। উৎপাদন বৃদ্ধি, ভালো দাম ও উন্নত সরবরাহব্যবস্থার কারণে চীনে কলা সরবরাহে ভিয়েতনাম ফিলিপাইনকেও ছাড়িয়ে গেছে। কম্বোডিাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিনিয়োগ এশিয়ার কলার বাজারে ভিয়েতনামের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
এই পরিবর্তনে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিম ফিলিপাইন সাগর নিয়ে বিরোধের কারণে ২০২৩ সালে চীনের ফিলিপাইন থেকে কলা আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। এদিকে চীনে ভিয়েতনামের কলা রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে বাজারের ৪২ শতাংশ দখল করে। এসব পরিবর্তনের ফলে ফিলিপাইনের রপ্তানিকারকেরা নতুন বাজার খুঁজতে এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজেদের বাজারের অংশ ধরে রাখার প্রচেষ্টা জোরদার করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাণিজ্য চুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্ব
আসিয়ান-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (RCEP)–এর মতো বাণিজ্য চুক্তি এশিয়াজুড়ে কলাসহ কৃষিপণ্যের চলাচল সহজ করেছে। ভিয়েতনাম ও চীনের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় পরিবহনে সময় ও খরচ কমেছে, ফলে চীন ও জাপানের ক্রেতাদের কাছে ভিয়েতনামের কলা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তবে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনকে মান নিয়ন্ত্রণ, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।
এশিয়ার কলা বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ কী?
জাপানের কলার বাজারে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলোতে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশ থেকে আমদানি করা কলায় শুল্ক শূন্য করার পরিকল্পনা রয়েছে জাপানের। একই ধরনের ছাড় না পেলে এতে ফিলিপাইনের বাজারের অংশ আরও কমে যেতে পারে।
ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ গুণগত মান ধরে রাখা এবং জাপানের কঠোর মানদণ্ড পূরণ করা। আর ফিলিপাইনের অগ্রাধিকার হবে উন্নত বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে আলোচনা, গবেষণা ও রোগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ এবং কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের বাজারে সাফল্য একটি দেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার শক্তিশালী নির্দেশক। বিচক্ষণ রুচি এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও গুণগত মান নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশার জন্য জাপানি ক্রেতাদের সুনাম রয়েছে। ভিয়েতনামের কলা জাপানি ক্রেতাদের মন জয় করে যেতে পারলে বিশ্বের অন্যান্য কঠিন বাজারেও সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।
সংক্ষেপে
- জাপানে ভিয়েতনামের কলার বাজারের অংশ দ্রুত বাড়ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিপাইনের আমদানিনির্ভর আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে।
- ভিয়েতনামের কলায় অনুকূল শুল্ক, ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
- গত এক দশকে জাপানে ফিলিপাইনের বাজারের অংশ ৯০ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ শতাংশ হয়েছে। এ কারণে শুল্ক কমানো এবং কলাশিল্পে আরও বিনিয়োগের দাবি উঠেছে।
- আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি ও উন্নত সরবরাহব্যবস্থা জাপান, চীন ও অন্যান্য বাজারে ভিয়েতনামের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
- গুণগত মান বজায় রাখা, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কঠোর মানদণ্ড পূরণে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন—উভয় দেশকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
- চলমান বাণিজ্য আলোচনা ও শিল্পে বিনিয়োগের ফল এশিয়া ও এর বাইরের কলা বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।






