চীনের দহনকেন্দ্রের অতিরিক্ত সক্ষমতা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক অদৃশ্য সংকট
দ্রুত শিল্প সম্প্রসারণ ও উচ্চাভিলাষী অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত চীন এখন এক অপ্রত্যাশিত সমস্যার মুখে: বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত দহনকেন্দ্রের সংখ্যা এত বেশি যে পোড়ানোর মতো পর্যাপ্ত আবর্জনা নেই। ইস্পাত, সৌর প্যানেল ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে চীনের অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায়ই আলোচনা হলেও, বর্জ্য পোড়ানোর শিল্পটি নীরবে অতিরিক্ত আশাবাদ, নীতির অসংগতি এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জটিল চ্যালেঞ্জের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সূচিপত্র
- চীনের দহনকেন্দ্রের অতিরিক্ত সক্ষমতা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক অদৃশ্য সংকট
- কীভাবে দহন সক্ষমতায় বিশ্বনেতা হলো চীন?
- নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা
- বাধ্যতামূলক বর্জ্য বাছাই ও পুনর্ব্যবহারের প্রভাব
- নীতির অসংগতি ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা
- আর্থিক ও পরিচালনাগত চাপ
- পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
- জনবিরোধিতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা
- বিদেশের অভিজ্ঞতা: চীনের পরিস্থিতির তুলনা
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নতুন করে ভাবা: বৃত্তাকার অর্থনীতির পথে
- সংক্ষেপে
সমস্যার মূলে রয়েছে দহন সক্ষমতায় বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে প্রক্রিয়াকরণের জন্য বাস্তবে পাওয়া পৌর কঠিন বর্জ্যের পরিমাণের অসামঞ্জস্য। নগরায়ণের গতি কমে আসা, অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা এবং বর্জ্য বাছাই ও পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগের সাফল্য মিলিয়ে এই বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এর ফল: অলস পড়ে থাকা দহনকেন্দ্র, বিনিয়োগের অপচয় এবং চীনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কৌশলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তে থাকা প্রশ্ন।
কীভাবে দহন সক্ষমতায় বিশ্বনেতা হলো চীন?
গত এক দশকে চীন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের (WtE) দহনকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রাসী নীতি অনুসরণ করেছে। এর লক্ষ্য ছিল দুটি: শহুরে বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলা করা এবং আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ল্যান্ডফিল ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো। ২০২৩ সাল নাগাদ চীনের দহন সক্ষমতা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি ছিল। দেশটিতে ১,০১০টিরও বেশি দহন প্রতিষ্ঠান ছিল এবং দৈনিক প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ছিল প্রায় ১১ লাখ ১০ হাজার টন—মাত্র চার বছর আগের ঘোষিত সক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।
সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ও ভর্তুকি এই দ্রুত সম্প্রসারণে গতি জুগিয়েছে। আবাসন ও নগর-পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (MoHURD) দহনের হার বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এতে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে দ্রুত বিনিয়োগে নামে। দহনকেন্দ্রগুলোকে দেশের বর্জ্য সংকটের আধুনিক ও দক্ষ সমাধান হিসেবে দেখা হয়, আর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এ শিল্পে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আসে।
তবে এই উত্থানের পেছনে থাকা আশাবাদ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিতে পারেনি, যা শিগগিরই এ খাতের কার্যকারিতা দুর্বল করে দেয়।
নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসা
চীনের নগরায়ণের হার, যা বর্জ্য উৎপাদনের বড় চালিকাশক্তি ছিল, এখন স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। শহর সম্প্রসারণের গতি কমার পাশাপাশি অর্থনীতি প্রতিকূলতার মুখে পড়ায় পৌর কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ পূর্বাভাস অনুযায়ী বাড়েনি। পরিবেশ ও প্রতিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীন ২৬ কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি পৌর কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন করেছে—২০১৯ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। অথচ একই সময়ে দহন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
এই অসামঞ্জস্যের অর্থ, চীনের দহনকেন্দ্রগুলো গড়ে তাদের নকশাগত সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশে চলছে। কোনো কোনো অঞ্চলে পর্যাপ্ত বর্জ্য না থাকায় কেন্দ্রগুলো টানা কার্যক্রম চালানোর যৌক্তিকতা খুঁজে পায় না; ফলে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ থাকে।
বাধ্যতামূলক বর্জ্য বাছাই ও পুনর্ব্যবহারের প্রভাব
অতিরিক্ত সক্ষমতার সংকটে সবচেয়ে বড়—এবং সম্ভবত সবচেয়ে পরিহাসের—কারণ হলো চীনের নিজস্ব বর্জ্য বাছাই ও পুনর্ব্যবহার নীতির সাফল্য। ২০১৯ সালে সাংহাই দেশটির সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী আবর্জনা পৃথকীকরণ কর্মসূচি চালু করে। এতে বাসিন্দাদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য, ভেজা বর্জ্য, বিপজ্জনক বর্জ্য ও অবশিষ্ট বর্জ্যসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে আবর্জনা যত্নসহকারে বাছাই করতে বলা হয়। এখন অধিকাংশ বড় শহরে চালু হওয়া এ কর্মসূচি পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ও জৈব বর্জ্য পুনরুদ্ধারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, ফলে এসব বর্জ্য দহনকেন্দ্র ও ল্যান্ডফিলে যাওয়া কমেছে।
উদাহরণস্বরূপ, সাংহাইয়ে দহন বা ল্যান্ডফিলে না যাওয়া বর্জ্যের অনুপাত ২০১৮ সালের ২১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২১ সালে ৫৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ফলে শহরটিসহ অন্যান্য এলাকার দহনকেন্দ্রগুলো চালু রাখার মতো পর্যাপ্ত “জ্বালানি” খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। শুধু ২০২৩ সালের মে মাসেই দেশজুড়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলোতে ৮,৪৯৯টি নির্ধারিত বিরতি ছিল; কোনো কোনো স্থাপনা মাসের অর্ধেকেরও বেশি সময় বন্ধ ছিল।
এই বৈপরীত্য—যেখানে পরিবেশগত অগ্রগতি দহনের অর্থনৈতিক কার্যকারিতাকে দুর্বল করে—সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও স্তরের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতির সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে।
নীতির অসংগতি ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা
অতিরিক্ত সক্ষমতার সংকট কেবল ভুল হিসাবের ফল নয়; পরস্পরবিরোধী নীতিগত প্রণোদনা ও অবিশ্বস্ত তথ্যও এর কারণ। পরিবেশ তদারকির দায়িত্ব পরিবেশ ও প্রতিবেশ মন্ত্রণালয়ের (MEE), আর বর্জ্য সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব MoHURD-এর। দুই মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য ও পরিমাপক কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যের প্রধান পরিমাপক “পুনর্ব্যবহারের হার” থেকে বদলে “সম্পদ পুনরুদ্ধারের হার” করা হয়, যার মধ্যে পুনর্ব্যবহার ও দহন—দুটিই অন্তর্ভুক্ত। এতে পুনর্ব্যবহারের হার বাড়লেও অনিচ্ছাকৃতভাবে আরও দহনকেন্দ্র নির্মাণে উৎসাহ তৈরি হয়। লক্ষ্য পূরণ ও ভর্তুকি পাওয়ার তাগিদে স্থানীয় সরকারগুলো কখনো কখনো বর্জ্য সংগ্রহের পরিমাণ বেশি দেখিয়েছে, অথবা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে, কিন্তু সেই চাহিদা আর তৈরি হয়নি।
পুনর্ব্যবহৃত বর্জ্যের পরিমাণের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করে শুধু সাংহাই। তাই দেশজুড়ে সমস্যার প্রকৃত ব্যাপ্তি নিরূপণ করা কঠিন। গবেষকদের মতে, ২০২২ সাল নাগাদ দহনকেন্দ্রের জাতীয় অতিরিক্ত সক্ষমতা ১০০ শতাংশের বেশি ছিল; অন্তত ১২টি প্রাদেশিক-স্তরের অঞ্চল এতে প্রভাবিত হয়েছিল।
আর্থিক ও পরিচালনাগত চাপ
চীনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো লাভজনক থাকতে সরকারি ভর্তুকির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে অনেক কেন্দ্র সময়মতো ভর্তুকির অর্থ পেতে সমস্যায় পড়েছে, যা তাদের আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। বর্জ্যের পরিমাণ কমে যাওয়া, ভর্তুকির অর্থ বকেয়া থাকা এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতের লাভজনকতা নিয়ে ক্রমেই সংশয় দেখা দিচ্ছে।
এ ছাড়া দ্রুত দহনকেন্দ্র নির্মাণের ফলে কখনো কখনো সম্পদের ভাগাভাগি ঠিকমতো হয়নি এবং কেন্দ্রের অবস্থানও অদক্ষভাবে নির্ধারিত হয়েছে; এতে অঞ্চলভেদে সক্ষমতার ব্যবহারে বৈষম্য আরও বেড়েছে।
পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
দহন চীনের শহরগুলোতে ল্যান্ডফিলের বিস্তার কমাতে সহায়তা করলেও নতুন পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। আধুনিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো নির্গমন আটকানো ও পরিশোধনের জন্য তৈরি হলেও ডাইঅক্সিন, ফিউরান ও ভারী ধাতুর মতো বিষাক্ত পদার্থ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়ে গেছে। গবেষণায় দহনকেন্দ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে; এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা ও ক্যানসারের হার বৃদ্ধিও রয়েছে।
দহনকেন্দ্র থেকে ফ্লাই অ্যাশ ও বটম অ্যাশের মতো বিপজ্জনক উপজাতও তৈরি হয়, যেগুলোর সতর্ক ব্যবস্থাপনা ও নিষ্পত্তি জরুরি। এসব অবশিষ্টাংশ পরিশোধনে চীনের মানদণ্ড এখনো বিকাশমান; যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হলে মাটি ও পানি দূষিত হতে পারে।
জলবায়ুর দিক থেকেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো দেখতে যতটা পরিবেশবান্ধব মনে হয়, ততটা নয়। দহনের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের কার্বন নিঃসরণের তীব্রতা প্রায়ই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি, বিশেষত প্লাস্টিক ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি অন্যান্য উপকরণ পোড়ালে।
জনবিরোধিতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা
দহনকেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনবিরোধিতা চীনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিতে বারবার দেখা গেছে। নতুন দহন প্রকল্পের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকে উহানের মতো শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এর জবাবে কিছু স্থানীয় সরকার কেন্দ্র নির্মাণ স্থগিত বা বিলম্বিত করেছে, ফলে এ খাতের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়েছে।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের সাফল্যের জন্য সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত জরুরি। নেতিবাচক অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছতার অভাব ও অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিরোধিতা বাড়িয়েছে।
বিদেশের অভিজ্ঞতা: চীনের পরিস্থিতির তুলনা
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দহনকেন্দ্র স্থাপনের চ্যালেঞ্জে চীন একা নয়। ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও ক্রমবর্ধমান বর্জ্য সমস্যার সমাধান হিসেবে WtE কেন্দ্রে বিনিয়োগ করেছে; তবে সেখানেও অতিরিক্ত সক্ষমতা, উচ্চ ব্যয় ও পরিবেশগত উদ্বেগের মতো একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ভিয়েতনাম সরকার ল্যান্ডফিলের ব্যবহার কমানো ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় হিসেবে WtE-কে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে সহায়ক নীতির অভাব, উচ্চ বিনিয়োগ ব্যয় এবং জনসাধারণের সীমিত ধারণার মতো বাধায় অগ্রগতি ধীর হয়েছে। বিশেষত নির্গমন নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই—এমন পুরোনো কেন্দ্রগুলোর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বড় উদ্বেগের বিষয়। জনবিরোধিতা ও আইনি চ্যালেঞ্জও নতুন স্থাপনা চালুর প্রক্রিয়াকে জটিল করেছে।
প্লাস্টিক বর্জ্য সংকটে থাকা ইন্দোনেশিয়া বড় শহরগুলোতে দহনকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে সমালোচকদের মতে, বিষাক্ত নির্গমন ও সামগ্রিক বর্জ্য হ্রাসে সীমিত প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে আবর্জনা পোড়ানো টেকসই সমাধান নয়। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এমনকি দহনকে উৎসাহিত করা বিধিমালা বাতিল করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে এবং এর বদলে বর্জ্য হ্রাস ও পুনর্ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোতেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ বর্জ্য ও জ্বালানির চাহিদা—দুটিই মোকাবিলার উপায় হিসেবে দহনকে দেখেন; অন্যরা পরিবেশগত ঝুঁকি এবং পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য হ্রাসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশ পুনর্ব্যবহারের হার বাড়াতে ও নির্গমন কমাতে নতুন দহনকেন্দ্র নির্মাণে এখন বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নতুন করে ভাবা: বৃত্তাকার অর্থনীতির পথে
চীনে দহনকেন্দ্রের অতিরিক্ত সক্ষমতার সংকট বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সামগ্রিক ও সমন্বিত পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশক নীতি হওয়া উচিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রাধিকারক্রম: প্রথমে বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিসের পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার; আর দহন ও ল্যান্ডফিল হবে সর্বশেষ উপায়।
আরও দহনকেন্দ্র নির্মাণ ল্যান্ডফিলের সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে, কিন্তু এতে শহরগুলো অতিরিক্ত সক্ষমতা, আর্থিক ক্ষতি ও পরিবেশগত ক্ষতির চক্রে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর বদলে নীতিনির্ধারকদের উচিত:
- বাস্তব বর্জ্যের পরিমাণের সঙ্গে সক্ষমতার ভালোভাবে সামঞ্জস্য আনতে তথ্য সংগ্রহ ও স্বচ্ছতা বাড়ানো
- পরস্পরবিরোধী প্রণোদনা এড়াতে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নীতির সমন্বয় করা
- সম্পদ পুনরুদ্ধার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে পুনর্ব্যবহারের অবকাঠামো ও জনসচেতনতায় বিনিয়োগ করা
- বর্তমান ও ভবিষ্যতের দহনকেন্দ্রের জন্য কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড ও নজরদারি নিশ্চিত করা
- সক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে স্থাপনা ভাগাভাগি এবং গ্রামীণ বর্জ্য সংগ্রহ উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনা করা
শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত বৃত্তাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে বর্জ্য কমানো হয়, সম্পদ পুনর্ব্যবহার করা হয় এবং পরিবেশগত প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
সংক্ষেপে
- চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দহন সক্ষমতা গড়ে তুলেছে। তবে নগরায়ণের গতি কমে আসা, অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সফল বর্জ্য বাছাই নীতির কারণে এর বড় অংশই অলস পড়ে আছে।
- নীতির অসংগতি ও অবিশ্বস্ত তথ্য অতিরিক্ত সক্ষমতা বাড়িয়েছে; অনেক কেন্দ্র তাদের নকশাগত সক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশে চলছে।
- পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জনবিরোধিতা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কৌশল হিসেবে দহনের ভবিষ্যৎকে জটিল করে তুলেছে।
- এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য দেশও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে, যা সতর্ক পরিকল্পনা, কঠোর মানদণ্ড এবং বর্জ্য হ্রাস ও পুনর্ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
- টেকসই ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষজ্ঞরা বর্জ্য হ্রাস, পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহারকে অগ্রাধিকার এবং দহনকে সর্বশেষ উপায় হিসেবে রাখার পরামর্শ দেন।






