চীনে এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবার উত্থান
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক সততা নিয়ে যাচাই-বাছাই জোরদার করায় একটি নতুন ধূসর শিল্পের উত্থান হয়েছে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-তৈরি কনটেন্টের (এআইজিসি) শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবা। তাওবাওয়ের মতো বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য এসব পরিষেবা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রবন্ধে এআই-তৈরি লেখার শনাক্তযোগ্য হার কমাতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। স্নাতক সমাপনী মৌসুমে এ প্রবণতা ব্যাপক বেড়েছে। একাডেমিক মানদণ্ড এবং এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তির কার্যকারিতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সূচিপত্র
- চীনে এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবার উত্থান
- এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবা কীভাবে কাজ করে?
- এই শিল্পের উত্থান কেন?
- শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা: চাপ, উদ্বেগ ও বিকল্প পথ
- এআই শনাক্তকরণ সরঞ্জাম কীভাবে কাজ করে, আর সেগুলো কি নির্ভরযোগ্য?
- নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ: এআই কনটেন্টে লেবেল দেওয়ার উদ্যোগ চীনের
- একাডেমিক নৈতিকতা, আইনি ঘাটতি ও শিক্ষাঙ্গনে এআইয়ের ভবিষ্যৎ
- ভোক্তা ঝুঁকি ও ধূসর শিল্পের অন্ধকার দিক
- সংক্ষেপে
এই শিল্পের কেন্দ্রে রয়েছে “ম্যানুয়াল সংশোধন” ও “২৪ ঘণ্টা অনলাইন পরামর্শ”-এর বিজ্ঞাপন দেওয়া বিক্রেতারা, যাদের অনেকেরই নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য নেই। অনেকেই কথাবার্তা ও অর্থ লেনদেন উইচ্যাটের মতো ব্যক্তিগত মাধ্যমে সরিয়ে নিতে বলেন। এতে লেনদেনের সূত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন হয় এবং ভোক্তা সুরক্ষার উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়ে। এসব পরিষেবার বিস্তার একদিকে একাডেমিক লেখালেখিতে এআই সরঞ্জামের দ্রুত প্রসার, অন্যদিকে ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা এআই শনাক্তকরণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তে থাকা চাপের প্রতিফলন।
এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবা কীভাবে কাজ করে?
এসব পরিষেবার দাবি, লেখা নতুন করে লিখে বা বদলে সেটিকে মানুষের লেখার মতো দেখানোর মাধ্যমে একাডেমিক প্রবন্ধে এআই শনাক্তকরণের হার কমানো যায়। কিছু বিক্রেতা নিজস্ব ডেটাবেস ও অ্যালগরিদম থাকার কথা বলে, যা এআই শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় সাধারণত চিহ্নিত শব্দভান্ডার বা বাক্যগঠন শনাক্ত করে সেগুলো বদলে দিতে পারে। দামেও ব্যাপক তারতম্য রয়েছে: ৫,০০০ শব্দের একটি সাধারণ থিসিসের জন্য খরচ হতে পারে মাত্র ৩২ ইউয়ান (প্রায় ৪.৪৫ ডলার), আর আরও ব্যক্তিনির্ভর, অ্যালগরিদম-চালিত সংশোধনের খরচ পৌঁছাতে পারে ২০,০০০ ইউয়ান পর্যন্ত।
“ম্যানুয়াল সংশোধন” বলা হলেও কাজের বড় অংশই এখনো এআই-নির্ভর। বিক্রেতারা সাধারণত একাডেমিক ডেটাবেসে প্রবেশ করে, লেখার সঙ্গে সেগুলোর তুলনা করেন এবং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে বাক্য ও শব্দভান্ডার বদলান। চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যবহৃত ভিআইপি পেপার চেক সিস্টেম ও সিএনকেআইয়ের মতো জনপ্রিয় এআই শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এড়ানোর উদ্দেশ্যে এ প্রক্রিয়া তৈরি করা হয়েছে। তবে সংশোধনের মান একরকম নয়। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সংশোধিত লেখায় বাক্য খাপছাড়া, ভাষা অপেশাদারসুলভ এবং যুক্তিতে অসংগতি থাকে।
এই শিল্পের উত্থান কেন?
এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবার উত্থান একাডেমিক লেখালেখিতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচেষ্টার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। একাডেমিক জালিয়াতি এবং চ্যাটজিপিটি, বাইদুর আর্নি বট ও আলিবাবার টংই ছিয়েনওয়েনের মতো জেনারেটিভ এআই সরঞ্জামের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের জবাবে চীনের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এমন নীতি চালু করেছে, যাতে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারের কথা জানাতে হয় এবং থিসিসে এআই-তৈরি কনটেন্টের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে থিসিস উত্তীর্ণ হতে এআইজিসি হার ২০ থেকে ৪০ শতাংশের নিচে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যরা তত্ত্বাবধায়কদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এ হারকে একটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করে।
গুয়াংডং মডার্ন আরবান ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ লুও শুয়েমিংয়ের ভাষায়, এ নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগ “ছদ্ম-চাহিদা” তৈরি করেছে। এআইজিসি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর ফলে শুধু শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবারই বিকাশ ঘটেনি, বরং ভূতলেখন ও পাওয়ারপয়েন্ট তৈরির মতো কাজও যুক্ত হয়ে ধূসর শিল্পের পরিধি বেড়েছে। এআই দিয়ে ভাষা ঘষেমেজে নেওয়া, চৌর্যবৃত্তি এবং অভিযোজনের মধ্যে একাডেমিক নৈতিকতার স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় এসব পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের ধূসর এলাকায় বিকশিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা: চাপ, উদ্বেগ ও বিকল্প পথ
অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এআই শনাক্তকরণের মান পূরণের চাপ তীব্র। গুয়াংডংয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়েন সুয়ু তাঁর অভিসন্দর্ভের এআই শনাক্তকরণের হার কমাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংশোধন করেছেন, কিন্তু উন্নতি হয়েছে সামান্যই। মরিয়া হয়ে তিনি শনাক্তকরণের হার কমানোর একটি পরিষেবার সাহায্য নেন। এতে শনাক্তকরণের হার কমলেও তাঁর লেখার ভাষা অস্বাভাবিক ও যান্ত্রিক হয়ে যায়। চীনের হাজারো শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতায়ও একই চিত্র দেখা যায়; তারা শিয়াওহংশুর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরামর্শ ও উদ্বেগ ভাগ করে নেন।
এআই শনাক্তকরণের হার কমানোর প্রচলিত কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- এআই-তৈরি লেখার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ধরন, যেমন একই ধরনের বাক্যগঠন ও নির্দিষ্ট সংযোগকারী শব্দের ব্যবহার এড়াতে বাক্য নতুন করে লেখা।
- ভাষা ও শৈলীতে বৈচিত্র্য আনতে একাধিক এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করা, যাতে শনাক্তকরণ অ্যালগরিদমে লেখা চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমে।
- এআই-তৈরি খসড়ায় ব্যক্তিগত লেখার ধরন ও অনিয়মিত বৈশিষ্ট্য যোগ করতে হাতে সম্পাদনা করা।
এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থীর কাছে প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং ফলাফল অনিশ্চিত মনে হয়। বিভিন্ন ব্যবস্থায় শনাক্তকরণের ফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে। একই লেখা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা করে এআই শনাক্তকরণের হারে ৫০ শতাংশেরও বেশি পার্থক্য পেয়েছেন বলে কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছেন।
এআই শনাক্তকরণ সরঞ্জাম কীভাবে কাজ করে, আর সেগুলো কি নির্ভরযোগ্য?
এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী লেখা বিশ্লেষণ করে এর ধরন, বাক্যগঠন, শব্দভান্ডারের বৈচিত্র্য এবং মানুষের লেখা থেকে যন্ত্রে তৈরি লেখাকে আলাদা করে এমন অন্যান্য বৈশিষ্ট্য খোঁজে। চীনে বহুল ব্যবহৃত ভিআইপি পেপার চেক সিস্টেম ও সিএনকেআইয়ের মতো ব্যবস্থা বড় এআই মডেল দিয়ে তৈরি লেখা শনাক্ত করার দাবি করে এবং সন্দেহভাজন এআইজিসি হার নির্ধারণ করে। তবে এসব সরঞ্জামের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে।
চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব অটোমেশনের গবেষক জং ছিংছিংয়ের মতে, এআই-তৈরি লেখা বড় মডেলের গণনাকৃত গাণিতিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও একই ধরনের গাণিতিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে দেখে, কোনো লেখা যন্ত্রে তৈরি কনটেন্টের পরিসংখ্যানগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে কি না। কিছু বিশেষজ্ঞ শনাক্তকরণের নির্ভুলতার হার ৮০ শতাংশের বেশি বলে দাবি করলেও বাস্তবে ফলাফল ততটা ধারাবাহিক নয়।
চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রকাশনা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলি সতর্ক করেছে, এআই শনাক্তকরণ সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা “প্রযুক্তিগত কুসংস্কার”। প্রকাশনাটি এমন কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরেছে, যেখানে ধ্রুপদি প্রবন্ধ ও মৌলিক গবেষণাকে ভুলভাবে এআই-তৈরি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে এসব সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা এবং ভুলভাবে শনাক্ত করার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়েছে। বহুল উদ্ধৃত একটি উদাহরণে, ১০০ বছরের পুরোনো একটি চীনা প্রবন্ধকে জনপ্রিয় একটি শনাক্তকরণ সরঞ্জাম ৬০ শতাংশের বেশি এআই-তৈরি বলে চিহ্নিত করেছিল।
সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলির সম্পাদকীয়তে সতর্ক করা হয়েছে:
"আমরা স্পষ্ট ও সরাসরি সমাধানের মাধ্যমে এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে চাই। কিন্তু এআই দিয়ে এআই শনাক্ত করা মূলত এখনো এক ধরনের প্রযুক্তিগত কুসংস্কার।"
এসব চ্যালেঞ্জের কারণে চীন ও অন্য দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এআই শনাক্তকরণ সরঞ্জামের ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করছে, এমনকি তা পুরোপুরি বাদও দিচ্ছে। তারা একাডেমিক কাজের মূল্যায়নে শিক্ষকদের বিবেচনা ও সামগ্রিক মূল্যায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ: এআই কনটেন্টে লেবেল দেওয়ার উদ্যোগ চীনের
এআই-তৈরি কনটেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট ধূসর শিল্পের বিস্তার রুখতে চীন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মে লেখা, ছবি, অডিও ও ভিডিওসহ সব এআই-তৈরি কনটেন্টে স্পষ্টভাবে লেবেল দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএসি) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থা এআই কনটেন্টের জন্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্য, দুই ধরনের চিহ্ন নির্ধারণ করেছে। নিয়ম না মানলে শাস্তির বিধানও রয়েছে।
নতুন নিয়মের প্রধান বিধানগুলো হলো:
- ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন এমন স্পষ্ট লেবেল এবং মেটাডেটায় যুক্ত অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক।
- কনটেন্ট প্রকাশের আগে অনলাইন পরিষেবা প্রদানকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
- এআই-তৈরি কনটেন্ট পোস্ট করা পরিষেবা প্রদানকারী ও ব্যবহারকারীদের জন্য তথ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা।
- এআই কনটেন্টের লেবেল সরানো বা বদলানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
ভুল তথ্য, একাডেমিক জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণা রুখতে বৃহত্তর অভিযানের অংশ এসব নিয়ম। তবে বাস্তবায়ন এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়, বিশেষ করে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে থাকা কনটেন্টের জন্য। ওয়াটারমার্ক ও মেটাডেটার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং সহজে লেবেল সরানো বা বদলে ফেলার সুযোগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।
একাডেমিক নৈতিকতা, আইনি ঘাটতি ও শিক্ষাঙ্গনে এআইয়ের ভবিষ্যৎ
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নৈতিক কাঠামো তৈরির গতিকে ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষা, বাজার তদারকি, ইন্টারনেট নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দায়িত্বে থাকা একাধিক কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকায় এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর শিল্পের ওপর নজরদারি জটিল হয়ে পড়েছে। গ্রহণযোগ্য এআই সহায়তা আর একাডেমিক অসদাচরণের মধ্যে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও পরিষেবা প্রদানকারীদের অস্পষ্ট এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে।
চায়না ন্যাশনাল একাডেমি অব এডুকেশনাল সায়েন্সেসের গবেষক ছু ঝাওহুইয়ের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একাডেমিক নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষাকে জোরদার করা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি বাস্তবসম্মত উপায়। শুধু শনাক্তকরণ সরঞ্জামের ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চিন্তা, গবেষণার দক্ষতা ও সততা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা গবেষক ছু ঝাওহুইয়ের পরামর্শ:
"একটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতি হতে পারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক নৈতিকতা বিষয়ে শিক্ষা জোরদার করা।"
সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক লি জুয়ানের হিসাব, এ বছর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের থিসিসে এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করেছেন; বাক্য পরিমার্জন থেকে শুরু করে লেখার বড় অংশ তৈরি করা পর্যন্ত নানা কাজে। ভাষার মান উন্নত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও তিনি এআইয়ের তৈরি “হ্যালুসিনেশন”—বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও মিথ্যা পরিসংখ্যান বা আইনি মামলার তথ্য—নিয়ে ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত, চিহ্নিত কনটেন্ট যাচাই এবং সংশোধনের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়কদের ভূমিকায় তিনি জোর দেন।
ভোক্তা ঝুঁকি ও ধূসর শিল্পের অন্ধকার দিক
জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবায় ভোক্তাদের জন্য নানা ঝুঁকি রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী টাকা ফেরত পেতে অসুবিধা, নিম্নমানের সংশোধন এবং অর্থ দেওয়ার পর পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগ বা আইনি পদক্ষেপের জন্য ভোক্তারা যাতে প্রমাণ সংগ্রহ করতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত যোগাযোগমাধ্যম ও শনাক্ত করা কঠিন এমন অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
এসব চর্চা শুধু ভোক্তা অধিকারই ক্ষুণ্ন করে না, বরং অবিশ্বাস ও অসন্তোষের চক্রও টিকিয়ে রাখে। শিল্পটি যত গোপনে বিস্তৃত হচ্ছে, ততই জোরদার তদারকি এবং আরও স্পষ্ট নৈতিক মানদণ্ডের দাবি বাড়ছে।
সংক্ষেপে
- একাডেমিক প্রবন্ধে এআই শনাক্তকরণ সরঞ্জাম চালুর ফলে চীনে এআইজিসি শনাক্তকরণের হার কমানোর ধূসর শিল্প দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে।
- এআই-তৈরি কনটেন্টের শনাক্তযোগ্য হার কমাতে এসব পরিষেবা এআই ও হাতে সম্পাদনার মিশ্র পদ্ধতি ব্যবহার করে, তবে মান ও নির্ভরযোগ্যতায় ব্যাপক তারতম্য রয়েছে।
- এআই শনাক্তকরণের মান পূরণে শিক্ষার্থীদের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ রয়েছে; ফলে এআই সরঞ্জাম এবং শনাক্তকরণের হার কমানোর পরিষেবা দুটিই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এআই শনাক্তকরণ সরঞ্জামও বিতর্কিত। ভুল শনাক্তকরণ, অসামঞ্জস্যপূর্ণ ফল এবং প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
- এআই-তৈরি সব কনটেন্টে স্পষ্ট লেবেল দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চীন নতুন নিয়ম চালু করছে, তবে বাস্তবায়ন ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
- বিশেষজ্ঞরা একাডেমিক নৈতিকতা বিষয়ে আরও জোরালো শিক্ষার পক্ষে এবং শুধু শনাক্তকরণ সরঞ্জামের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষকদের বিবেচনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
- ধূসর শিল্পে ভোক্তাদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য; অনেক শিক্ষার্থী নিম্নমানের পরিষেবা এবং প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ না থাকার কথা জানিয়েছেন।






