পরিকল্পনার মেয়াদ ২০৪০ পর্যন্ত, পানিপ্রবাহে স্থিতিশীল বালখাশ
২০২৪ সালের শুরু থেকে বালখাশ হ্রদে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি প্রবেশ করেছে বলে কাজাখস্তানের পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর জানিয়েছে। এদিকে, দেশটি ও ফ্রান্সের বিশেষজ্ঞরা ২০৪০ সাল পর্যন্ত কার্যকর একটি সংরক্ষণ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
সূচিপত্র
- পরিকল্পনার মেয়াদ ২০৪০ পর্যন্ত, পানিপ্রবাহে স্থিতিশীল বালখাশ
- বার্ষিক হিসাব থেকে কী বোঝা যায়
- নদী ও হ্রদের সংযোগে জলাধারের ভূমিকা
- হ্রদের পানির স্তরের পরিমাপ বোঝা
- ফরাসি ও কাজাখ বিশেষজ্ঞদের অববাহিকা সমীক্ষা
- সংরক্ষণ পরিকল্পনায় কী থাকবে
- চীনের সঙ্গে সহযোগিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- অতীতের পানি হ্রাসে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের গুরুত্ব
- অববাহিকার জন্য এখন কী পরিবর্তন আসছে
- মূল বিষয়গুলো
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হ্রদে প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার, ২০২৫ সালে প্রায় ১৩.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার এবং ২০২৬ সালের শুরু থেকে ৯.৭ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি পানি প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে পরিমাণটি প্রায় ৩৯.৫ বিলিয়ন ঘনমিটার। পানিপ্রবাহ হ্রদের পানির স্তর স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ইলি নদী দিয়ে আসা পানি নিয়ন্ত্রণ করে কাপ্তশাগাই জলাধার; সেখান থেকে পানি ছাড়া হলে তা বালখাশের দিকে যায়। ২০২৬ সালে জলাধারটির ধারণক্ষমতার ৯৮ শতাংশ পানি জমা হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এটি পুরোপুরি ভরে গিয়েছিল। ইলি নদী চীন থেকে কাজাখস্তানে প্রবেশ করায় উজানের পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সহযোগিতা হ্রদের পানির সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী নুরজান নুরঝিগিতভ বলেন, নদীটি ঐতিহাসিক গড় হারে পানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
"ইলি নদী থেকে পানিপ্রবাহ দীর্ঘমেয়াদি গড় পর্যায়ে রয়েছে। বাল্টিক উচ্চতা পদ্ধতি অনুযায়ী, এটি বালখাশ হ্রদের পানির স্তর ৩৪১ মিটারের সর্বোত্তম উচ্চতায় রাখতে সহায়তা করছে," বলেন পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী নুরজান নুরঝিগিতভ।
কাজাখস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বালখাশ একটি বদ্ধ হ্রদ। অর্থাৎ, এর পানি সাগরে নিয়ে যায় এমন কোনো নদী নেই। হ্রদের পশ্চিমাংশের পানি প্রায় মিঠা, আর পূর্বাংশের পানি লোনা বা সামান্য নোনতা। হ্রদে পানিপ্রবাহ বজায় থাকলে এই ব্যতিক্রমী পরিবেশ টিকে থাকে, যদিও কৃষক ও অন্য ব্যবহারকারীরাও আশপাশের অববাহিকা থেকে পানি নেন।
বার্ষিক হিসাব থেকে কী বোঝা যায়
মন্ত্রণালয়ের হিসাব থেকে দেখা যায়, পরপর দুই পূর্ণ বর্ষপঞ্জি বছর এবং তৃতীয় বছরের একটি অংশজুড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মোট হিসাবটি অক্টোবরের ঘোষণার আগের সময় পর্যন্ত, তাই পরবর্তী বার্ষিক হিসাবে আরও দীর্ঘ সময় অন্তর্ভুক্ত হবে।
- ২০২৪: বালখাশ হ্রদে প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি প্রবেশ করেছে।
- ২০২৫: হ্রদে প্রায় ১৩.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি প্রবেশ করেছে।
- ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবরের ঘোষণা পর্যন্ত: হ্রদে ৯.৭ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি পানি প্রবেশ করেছে।
২০২৫ সালের পানিপ্রবাহ ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন ঘনমিটার কম ছিল, অর্থাৎ প্রায় ১২.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। তবে দুই বছরেই কাপ্তশাগাই জলাধার পূর্ণ ধারণক্ষমতায় পৌঁছেছিল। এতে বোঝা যায়, জলাধারের ভরাটের হার এবং হ্রদের দিকে ছেড়ে দেওয়া পানির পরিমাণ আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
সময়ের সঙ্গে হ্রদে আসা পানির পরিমাণ বোঝায় মোট পানিপ্রবাহ। হ্রদে সঞ্চিত পানির পরিমাণ নির্ভর করে সামগ্রিক পানির ভারসাম্যের ওপর: কত পানি ঢুকছে, কতটা বাষ্পীভূত হচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে কতটা পানি বিনিময় হচ্ছে। তাই বাষ্পীভবনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি বেরিয়ে গেলেও বেশি পানিপ্রবাহ হ্রদকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
নদী ও হ্রদের সংযোগে জলাধারের ভূমিকা
কাপ্তশাগাই জলাধার ইলি নদী ও বালখাশ হ্রদের মাঝখানে পানি নিয়ন্ত্রণের একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। পরিচালকেরা আসা পানি ধরে রাখতে পারেন এবং ভাটির দিকে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে নদীর অবস্থা এবং কখন হ্রদের দিকে পানি যাবে, সেই সিদ্ধান্তের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়।
২০২৪ সালে কাপ্তশাগাই জলাধার এক দশকের মধ্যে প্রথমবার পুরোপুরি ভরেছিল। ২০২৫ সালে আবারও এটি পূর্ণ ধারণক্ষমতায় পৌঁছায়, আর ২০২৬ সালে ভরাটের হার ছিল ৯৮ শতাংশ। সর্বশেষ এই হার আগের দুই বছরের সর্বোচ্চ মাত্রার চেয়ে ২ শতাংশ-পয়েন্ট কম।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই বছরের শুরু থেকে বালখাশের দিকে ভাটিতে প্রায় ৮.৫২ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি ছাড়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী হিসাবে ২০২৫ সালে মোট ১৩.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার পানির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বছরের বাকি সময়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি হ্রদে পৌঁছেছিল।
অববাহিকার ব্যবস্থাপকদের জন্য বাস্তব কাজ হলো নদীব্যবস্থা জুড়ে পানি সংরক্ষণ, ছাড়া এবং ব্যবহার সমন্বয় করা। জলাধারে কত পানি আছে, তার ভরাটের হার একটি নির্দিষ্ট সময়ের সঞ্চিত সরবরাহের চিত্র দেয়; আর হ্রদ নির্ভর করে বিভিন্ন ঋতুতে ভাটির দিকে প্রবাহিত পানির ওপর।
হ্রদের পানির স্তরের পরিমাপ বোঝা
বর্তমান পানিপ্রবাহের সহায়তায় বাল্টিক উচ্চতা পদ্ধতিতে ৩৪১ মিটারকে সর্বোত্তম উচ্চতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন নুরঝিগিতভ। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বার্ষিক হিসাবে পানির স্তর ৩৪১.৫২ মিটার থেকে বেড়ে ৩৪১.৬৪ মিটার হয়েছে, অর্থাৎ ১২ সেন্টিমিটার বেড়েছে; একই সঙ্গে সঞ্চিত পানির পরিমাণ বেড়েছে ২ বিলিয়ন ঘনমিটার। এই বার্ষিক হিসাবের শুরুর ও শেষের তারিখ জানানো হয়নি।
উচ্চতা বোঝাতে বাল্টিক উচ্চতা পদ্ধতি একটি প্রচলিত মানদণ্ড। এই পদ্ধতিতে হ্রদের পৃষ্ঠের উচ্চতা ৩৪১ মিটার বলা হলে, সেটিকে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের তুলনায় উল্লম্ব অবস্থান হিসেবে বোঝানো হয়; হ্রদের গভীরতা ৩৪১ মিটার বলা হয় না।
২০২৫ সালের জুলাইয়ের এক হালনাগাদ তথ্যে ওই বছরের জানুয়ারি থেকে পানির স্তর গড়ে ৩২ সেন্টিমিটার বেড়েছিল বলে জানানো হয়। এসব পরিমাপ বুঝতে শুরুর তারিখ খেয়াল রাখা জরুরি: জানুয়ারি থেকে পরিবর্তন এবং অন্য কোনো বার্ষিক সময়সীমার পরিবর্তন হ্রদের ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়কে নির্দেশ করে।
১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধিও বালখাশের বিশাল আকারের ধারণা দেয়। বিস্তৃত জলপৃষ্ঠে পানির স্তর সামান্য বাড়লেও তাতে কয়েক বিলিয়ন ঘনমিটার অতিরিক্ত পানি যোগ হতে পারে।
ফরাসি ও কাজাখ বিশেষজ্ঞদের অববাহিকা সমীক্ষা
কাজাখস্তানের সংরক্ষণ প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এএফডি এবং ফ্রান্সের ভূতাত্ত্বিক ও খনি গবেষণা ব্যুরো, বিএরজিএম। বালখাশ অববাহিকা যৌথভাবে গবেষণা এবং সংরক্ষণের মহাপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে তিন পক্ষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
ফরাসি একটি বৈজ্ঞানিক কনসোর্টিয়াম ২০২৫ সালে কাজাখস্তানের আলমাটি অঞ্চলের বালখাশ জেলায় বড় ধরনের এক অভিযানে অংশ নেয়। গবেষকেরা ভূ-পৃষ্ঠের পানি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সেচের জমি পরীক্ষা করেন এবং অববাহিকার পানির ভারসাম্যের মডেল তৈরির জন্য পরিমাপ সংগ্রহ ও যাচাই করেন।
গবেষণা কর্মসূচিতে কূপ, নদীর পানির স্তর মাপার কেন্দ্র এবং সেচের জমি পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কূপ থেকে ভূগর্ভস্থ পানির তথ্য পাওয়া যায়, আর পরিমাপকেন্দ্রগুলো নদীর অবস্থা মাপে। কৃষিজমি নিয়ে গবেষণা করলে অববাহিকা জুড়ে পানির প্রবাহ ও ব্যবহারব্যবস্থায় সেচের ভূমিকা বোঝা যায়।
নুরঝিগিতভ বলেন, মাঠপর্যায়ের গবেষণা শেষ হয়েছে এবং এর ফলাফল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কর্মপথে আরও তথ্য সংগ্রহ ও পরিদর্শনের কথাও রয়েছে, অর্থাৎ সম্পন্ন মাঠকাজটি বৃহত্তর গবেষণা কর্মসূচিরই অংশ।
সংরক্ষণ পরিকল্পনায় কী থাকবে
মহাপরিকল্পনার মেয়াদ ২০৪০ সাল পর্যন্ত। কর্মপথে বালখাশ হ্রদের পানির স্তর পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, পানিসম্পদ স্থাপনা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জলকাঠামোর স্বয়ংক্রিয়করণ এবং ইলি-বালখাশ অববাহিকার পানিসম্পদের অবস্থা ও গুণমান বিশ্লেষণের কথা রয়েছে।
এই কাজের অংশ ভূ-পৃষ্ঠের পানি ও ভূগর্ভস্থ পানি, দুটিই। নদী, জলাধার ও হ্রদ ব্যবস্থাটির দৃশ্যমান অংশ; কত পানি পাওয়া যায় এবং তা কীভাবে প্রবাহিত হয়, তা হিসাব করতে ভূগর্ভে সঞ্চিত পানিও মাপতে হবে।
ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পরিমাপ একত্র করা হবে, যাতে ব্যবস্থাপকেরা পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। স্বয়ংক্রিয়করণের ফলে কিছু পরিমাপ বা যন্ত্র পরিচালনার কাজ প্রতিবার কর্মীকে ঘটনাস্থলে না গিয়েও করা সম্ভব হবে।
সম্পূর্ণ মহাপরিকল্পনা প্রকাশের তারিখ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেনি। আপাতত মাঠপর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণ করাই প্রধান কাজ; এই ফলাফলের ভিত্তিতেই ২০৪০ সাল পর্যন্ত অববাহিকা ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব তৈরি হবে।
চীনের সঙ্গে সহযোগিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বালখাশ হ্রদে আসা পানির বেশির ভাগই ইলি নদী থেকে আসে। ২০২৫ সালে মন্ত্রণালয়ের এক হালনাগাদ তথ্যে নদীটির অবদান প্রায় ৭০ শতাংশ বলা হয়েছিল; এর আগে অববাহিকাবিষয়ক এক বিশ্লেষণে তা ৮০ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। উভয় হিসাবেই হ্রদের পানির সরবরাহে নদীটির কেন্দ্রীয় ভূমিকা স্পষ্ট।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে চীন থেকে আসা নদীগুলোর মাধ্যমে কাজাখস্তান ১০.২ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি পেয়েছে। এর মধ্যে ৫.৬ বিলিয়ন ঘনমিটার এসেছে ইলি নদী দিয়ে এবং ৪.৬ বিলিয়ন ঘনমিটার ইর্তিশ নদী দিয়ে। মোট পানির প্রায় ৫৫ শতাংশ এসেছে ইলি নদী থেকে।
কাজাখস্তান ও চীন ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আন্তঃসীমান্ত নদীর ব্যবহার ও সুরক্ষায় সহযোগিতাবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে পানিসহযোগিতা নিয়ে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পানিসহযোগিতা বিভাগের প্রধান নাগিমা আজিগুলোভা বলেন, মার্চের চুক্তিতে টেকসই পানির ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তি, পানির বিকল্প উৎস, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রশিক্ষণের বিষয় রয়েছে।
বালখাশের জন্য এসব সমঝোতা কূটনীতিকে একটি বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে: জাতীয় সীমান্ত পেরিয়ে হ্রদে পৌঁছানোর আগে নদীতে পানিপ্রবাহ বজায় রাখা। কাজাখস্তানের ভেতরে জলাধার পরিচালনা এবং চীনের উজান এলাকায় পানির ব্যবহার একই অববাহিকার অংশ।
অতীতের পানি হ্রাসে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের গুরুত্ব
সাম্প্রতিক সময়ে সেন্টিমিটারে মাপা বৃদ্ধির তুলনায় বালখাশে আরও বড় পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৭০ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এর পানির স্তর ২.২ মিটার কমেছিল এবং পানির পরিমাণ প্রায় ৩০ ঘনকিলোমিটার বা ৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার কমে গিয়েছিল। ১৯৮৭ সালে হ্রদটির পানির স্তর সর্বনিম্ন ৩৪০.৬৫ মিটারে নেমে আসে।
২০০৫ সালের জানুয়ারিতে এর পানির স্তর বেড়ে ৩৪২.৫ মিটার হয়। এই ইতিহাস দেখায়, কয়েকটি অনুকূল বছরের বাইরেও পরিকল্পনা করতে গিয়ে ব্যবস্থাপকদের পরিবর্তনের ব্যাপকতা বিবেচনায় নিতে হয়।
সীমান্তের দুই পাশ থেকেই পানির চাহিদা রয়েছে। ধান ও তুলা চাষসহ সেচনির্ভর কৃষি অববাহিকার পানি ব্যবহার করে; জলাধার ও শিল্পকারখানাও পানি নেয়। জলবায়ুর অবস্থাও বাষ্পীভবন এবং পাহাড়ের তুষার ও হিমবাহ থেকে পানির সরবরাহে প্রভাব ফেলে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় অববাহিকার উন্নয়নের ৭৩৮টি সম্ভাব্য ধরনকে জলবায়ুর ৮০টি পরিস্থিতির বিপরীতে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। গবেষণার প্রায় সব ফলাফলে হ্রদটি রক্ষার জন্য চীনের পানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পানির ব্যবহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভবিষ্যতের পানিপ্রাপ্যতার সম্পর্কও এই ফলাফল তুলে ধরে।
কাজাখস্তানের চলমান গবেষণায় সেচের জমিকে একই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নদী, কূপ ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের পাশাপাশি খামার পরীক্ষা করে প্রকল্পটি পানির সরবরাহের সঙ্গে চাহিদারও একটি চিত্র তৈরি করছে।
অববাহিকার জন্য এখন কী পরিবর্তন আসছে
মন্ত্রণালয়ের অক্টোবরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অব্যাহত পানিপ্রবাহের কারণে হ্রদের পানির স্তর স্থিতিশীল হয়েছে। সংরক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যেখানে বার্ষিক জলাধার ভরাটের পাশাপাশি ২০৪০ সাল পর্যন্ত অববাহিকার অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া হবে।
বালখাশের আশপাশের কৃষক, পানিব্যবস্থাপক ও জনগোষ্ঠী এই সংযুক্ত ব্যবস্থাজুড়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। উন্নত পরিমাপের মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে, কত পানি হ্রদে পৌঁছায়, পথে কতটা ব্যবহৃত হয় এবং সারা বছর নদীর প্রবাহে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
পরবর্তী ধাপে মাঠপর্যায়ের পরিমাপ থেকে পানির ভারসাম্যের মডেল ও সংরক্ষণ প্রস্তাব তৈরি করা হবে। এই কারিগরি কাজে ফ্রান্সের সঙ্গে কাজাখস্তানের সহযোগিতা রয়েছে, আর সীমান্ত পেরিয়ে আসা নদীর পানির সরবরাহের বিষয়টি দেখছে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবরের হালনাগাদ পর্যন্ত বালখাশ হ্রদে প্রায় ৩৯.৫ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি প্রবেশ করেছে।
- ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পুরোপুরি ভরে যাওয়ার পর ২০২৬ সালে কাপ্তশাগাই জলাধার ধারণক্ষমতার ৯৮ শতাংশে পৌঁছায়।
- পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ইলি নদীর পানিপ্রবাহ ঐতিহাসিক গড় পর্যায়ে রয়েছে এবং হ্রদকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
- কাজাখ ও ফরাসি বিশেষজ্ঞরা ২০৪০ সাল পর্যন্ত মেয়াদের সংরক্ষণ মহাপরিকল্পনার জন্য মাঠপর্যায়ের গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করছেন।
- পরিকল্পনায় রয়েছে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ, স্বয়ংক্রিয়করণ এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সেচের জমি নিয়ে গবেষণা।
- ইলি নদীর প্রধান অবদানের কারণে বালখাশের পানির সরবরাহে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।






