বুকানান রোডে আটকে পড়া চালকের কাছে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল কয়েক সেকেন্ড
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ব্রিসবেনের উত্তরে মোরেফিল্ডের বুকানান রোডে প্রবল বৃষ্টিতে এলাকা প্লাবিত হলে এবিসি প্রতিবেদক উইল মারে ও পথচারী ড্যানিয়েল হেইনি ডুবতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করেন। মারে বলেন, পুরো ঘটনাটি ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে। চালক বেরিয়ে আসার আগেই পানি তাঁর থুতনি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
সূচিপত্র
- বুকানান রোডে আটকে পড়া চালকের কাছে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল কয়েক সেকেন্ড
- জানালার নড়াচড়ায় বোঝা যায়, ভেতরে কেউ আছেন
- পেছনের দরজাই হয়ে ওঠে বেরিয়ে আসার পথ
- যেভাবে এগিয়েছিল উদ্ধার অভিযান
- পানি যতটা বিপজ্জনক ছিল, দেখতে ততটা মনে হয়নি
- বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানে ঝড়ের তীব্রতা স্পষ্ট
- মাঝারি স্রোতও কেন বিপজ্জনক
- উদ্ধার অভিযানে সবার জন্যই ছিল ঝুঁকি
- আরও ঝড়ের আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধারকারীদের স্বস্তি
- মূল বিষয়গুলো
দুই সারি আসন ও ফোর-হুইল ড্রাইভযুক্ত ধূসর ইউটটি প্লাবিত সড়কে ঢোকার পর বন্ধ হয়ে যায় এবং স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে। মারে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি নম্বর ট্রিপল জিরোতে ফোন করেন, তারপর ফোনটি ক্যামেরা অপারেটর লিজ পিকারিংয়ের হাতে দিয়ে গাড়ির দিকে সাঁতরে যান। এর মধ্যে চালক তাঁর দৃষ্টির আড়ালে চলে যান।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় মোরেফিল্ডে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের মধ্যে এ উদ্ধার অভিযান চলে। দক্ষিণ-পূর্ব কুইন্সল্যান্ডজুড়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আকস্মিক বন্যায় সড়ক ও স্কুল বন্ধ হয়ে যায়, একটি শপিং সেন্টারে যাতায়াত সীমিত হয় এবং জরুরি সহায়তা চেয়ে শত শত ফোন আসে।
মারে ও হেইনি গাড়িটির কাছে পৌঁছে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পেছনের যাত্রীর দরজা দিয়ে চালককে বের করেন। এরপর ইউটটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
জানালার নড়াচড়ায় বোঝা যায়, ভেতরে কেউ আছেন
হেইনি পরিবারের সঙ্গে বাইরে ছিলেন, তখন তিনি ইউটটি দেখতে পান। প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি যে গাড়ির ভেতরে কেউ আছেন। জানালায় নড়াচড়া দেখে তিনি আটকে পড়া চালককে খেয়াল করেন। ততক্ষণে গাড়িটি আরও গভীরে ডুবে যাচ্ছিল এবং স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল।
প্রবল বৃষ্টি নিয়ে পিকারিংয়ের সঙ্গে কাজ করার সময় মারে চালককে পানিতে নামতে দেখেন। সাহায্যের জন্য ফোন করার মুহূর্তটি তিনি এভাবে বর্ণনা করেন:
আমি তাকে গাড়ি চালিয়ে পানিতে নামতে দেখলাম, আর সঙ্গে সঙ্গেই তার গাড়ি স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করল। তাই আমি ট্রিপল জিরোতে ফোন করলাম।
জরুরি সেবার অপারেটর মারের কাছে জানতে চান, তিনি চালককে দেখতে পাচ্ছেন কি না এবং লোকটি বেরিয়ে আসতে পারবেন বলে মনে হয় কি না। প্রথমে মারে তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন, কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা বদলে যায়।
পানিতে নামার কারণ ব্যাখ্যা করে মারে বলেন:
প্রথমে তাকে দেখতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে আমার চোখের আড়ালে চলে যায়। তাই আমি পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
পিকারিং প্লাবিত সড়কের পাশে ফোন হাতে থেকে যান এবং উদ্ধারকাজের ভিডিও ধারণ করেন। তাঁর ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে ঢোকার পথ খুঁজতে গিয়ে দুই ব্যক্তি গলা পর্যন্ত পানির মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন।
পেছনের দরজাই হয়ে ওঠে বেরিয়ে আসার পথ
মারে ও হেইনি প্রথমে কাছের দরজাটি খোলার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেটি খোলেনি। এরপর তাঁরা ইউটটির পেছনে যান এবং পেছনের জানালা ভেঙে ফেলার কথা ভাবেন। হেইনি বলেন, তিনি হ্যাচটি খোলার চেষ্টা করেন এবং জানালায় লাথি মারেন। পরে তিনি জানান, জানালা ভাঙার চেষ্টা করার সময় মুষ্টির চারপাশে জড়ানোর জন্য তিনি নিজের হাফপ্যান্ট খুলে নেন।
এরপর মারে যাত্রীর পাশের পেছনের দরজাটি খোলার চেষ্টা করেন। দরজাটি টেনে খোলার জন্য গাড়িতে পা ঠেকিয়ে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন, তা তিনি বলেন:
আমি প্রথমে যাত্রীর পাশের পেছনের দরজাটি চেষ্টা করার কথা ভাবলাম। গাড়িতে পা ঠেকিয়ে যত জোরে পারি টান দিলাম। ভাগ্যক্রমে দরজাটি খুলে গেল।
মারের ধারণা, গাড়ির ভেতরে পানি ঢোকার চাপে দরজাটি খুলতে সাহায্য হয়ে থাকতে পারে। দরজা খোলার পর চালক সেটির দিকে এগিয়ে যান। দুই উদ্ধারকারী তাঁকে টেনে বের করে অগভীর পানিতে পৌঁছাতে সাহায্য করেন।
হেইনি বলেন, চালক খুবই ভাগ্যবান ছিলেন। তাঁকে হতবিহ্বল মনে হলেও তিনি কৃতজ্ঞ ছিলেন। উদ্ধারকাজের পরপরই স্বস্তির কথা স্মরণ করে মারে বলেন:
আমরা তিনজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছিলাম, আর ভীষণ স্বস্তি পেয়েছিলাম।
যেভাবে এগিয়েছিল উদ্ধার অভিযান
জরুরি সেবা পৌঁছানোর আগেই বিপদ দ্রুত বাড়তে থাকে। মারে বলেন, চালককে নিরাপদে তোলার প্রায় ১০ মিনিট পর জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনাক্রমে দেখা যায়, গাড়ি নিয়ে পানি পার হওয়ার চেষ্টা কত দ্রুত উদ্ধার অভিযানে রূপ নেয়:
- বৃহস্পতিবার সকাল: মারে ও পিকারিং আবহাওয়ার খবর সংগ্রহ করার সময় প্রবল বৃষ্টিতে মোরেফিল্ডের বুকানান রোড প্লাবিত হয়।
- ইউটটি পানিতে নামে: ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, আর গাড়িটি স্রোতে ভেসে ও ডুবতে শুরু করে।
- মারে ট্রিপল জিরোতে ফোন করেন: কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চালক তাঁর দৃষ্টির আড়ালে চলে যান। তিনি ফোনটি পিকারিংয়ের হাতে দেন।
- মারে ও হেইনি ইউটটির কাছে পৌঁছান: কাছের দরজা খোলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পেছনের যাত্রীর দরজাটি খোলে।
- চালক বেরিয়ে আসেন: গাড়িটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আগে দুই ব্যক্তি তাঁকে টেনে বের করে অগভীর পানিতে পৌঁছান।
- প্রায় ১০ মিনিট পর: মারের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
উদ্ধারকাজের ভিডিও ধারণ করা এবিসির ক্যামেরা অপারেটর পিকারিং বলেন, তাঁদের হস্তক্ষেপে চালকটির প্রাণ বেঁচেছে:
ওই দুজন নিশ্চিতভাবেই লোকটির জীবন বাঁচিয়েছেন।
পানি যতটা বিপজ্জনক ছিল, দেখতে ততটা মনে হয়নি
চালক পরে মারেকে বলেন, তিনি কোনো সতর্কবার্তা দেখেননি এবং পানির গভীরতা বুঝতে পারেননি। মারে বলেন, সড়কের দিকে তাকিয়েও তিনি নিজে পানির গভীরতা আন্দাজ করতে পারেননি।
গাড়িটি তলিয়ে যাওয়ার পর পানির গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা শুধু পানির উপরিভাগ দেখে বোঝা যায়নি। সড়কের পাশ থেকে বন্যাকে মারের কাছে তেমন গুরুতর মনে হয়নি। কিন্তু ইউটটি গভীর পানিতে ঢোকার পর ভেসে ওঠে, ডুবতে থাকে এবং পুরোপুরি তলিয়ে যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বন্যা নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছে, গাড়িচালকদের পক্ষে পানির গভীরতা, স্রোতের শক্তি এবং পানির নিচে সড়কের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা কঠিন হতে পারে। তাই পরিচিত পথেও একই সঙ্গে একাধিক বিপদ থাকতে পারে: গভীর পানি, প্রবল স্রোত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কপৃষ্ঠ।
মারে চালকদের তাঁর দেখা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান:
এইমাত্র দেখলাম, কত দ্রুত পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এটা আতঙ্কজনক। দয়া করে বন্যার পানির মধ্যে গাড়ি চালাবেন না।
বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানে ঝড়ের তীব্রতা স্পষ্ট
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় মোরেফিল্ডে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে কাছের কাবুলচারে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৫৯ মিলিমিটার। মোরেফিল্ডে ওই তিন ঘণ্টায় গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ অ্যাঙ্গাস হাইনস বলেন, কাবুলচার এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি; ছয় ঘণ্টায় সেখানে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কাবুলচার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বিভিন্ন সময়সীমার এই পরিমাপ থেকে টানা বৃষ্টি এবং অল্প সময়ের প্রবল বর্ষণ, দুইয়েরই চিত্র পাওয়া যায়। দৈনিক মোট বৃষ্টিপাতে জমা হওয়া পানির পরিমাণ বোঝা যায়। আর তিন ঘণ্টার মোট হিসাব থেকে বোঝা যায়, সকালে পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলেছিল।
সানশাইন কোস্টের অন্তর্দেশীয় এলাকার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বিয়ারারামে অক্টোবরে রেকর্ডে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে; পরিমাণ ১৭০ দশমিক ৮ মিলিমিটার। সেখানে অক্টোবর মাসের গড় বৃষ্টিপাত ৮১ দশমিক ৪ মিলিমিটার। এক দিনে তারা মাসিক গড়ের প্রায় ২ দশমিক ১ গুণ বৃষ্টি পেয়েছে।
ব্রিসবেন, কাবুলচার ও ইপসউইচসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি ছিল। পুরো অঞ্চলে বন্যায় যাতায়াত ও সেবা পাওয়া ব্যাহত হয়। এরই মধ্যে রাত ও সকালের বৃষ্টিতে আগে থেকেই ভেজা এলাকাগুলোতে আরও ঝড়ের আশঙ্কা ছিল।
মাঝারি স্রোতও কেন বিপজ্জনক
কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্টের বন্যার পানিতে নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা অনুযায়ী, ঘণ্টায় ২ কিলোমিটারের বেশি বেগে চলা পানিকে দ্রুতগতির স্রোত বলা হয়। বিভাগটি বলেছে, এই গতির পানি মানুষ ও যানবাহনকে সড়ক থেকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
যানবাহনের গতির সঙ্গে তুলনা করলে ঘণ্টায় ২ কিলোমিটারকে ধীর মনে হতে পারে। কিন্তু মানুষ বা গাড়ির গায়ে চলমান পানির বল, পা রাখার অনিশ্চয়তা এবং অদৃশ্য গভীরতা মিলিয়েই বিপদ তৈরি হয়। মারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুকানান রোডে বন্যার পানিতে ঢোকার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ইউটটি স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে।
বিভাগটি বলেছে, ঘূর্ণিঝড়ের মতো বড় আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে হওয়া ছোট পরিসরের বৃষ্টিতেও দ্রুতগতির স্রোত তৈরি হতে পারে। পানিতে ডুবে যাওয়া সড়ক, ফুলে ওঠা খাল ও নদী এমন সাধারণ স্থান, যেখানে মানুষ এর মুখোমুখি হয়।
কুইন্সল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বন্যার পানি থেকে দূরে থাকতে এবং সেখানে সাঁতার না কাটতে পরামর্শ দেয়। বিভাগের জনসতর্কবার্তাটি সহজ: "প্লাবিত হলে, ভুলে যান।" গাড়িচালকদের জন্য এর অর্থ হলো অন্য পথ বেছে নেওয়া এবং বন্যার পানি পেরোনোর চেষ্টা না করে সড়ক বন্ধের চিহ্ন মেনে চলা।
উদ্ধার অভিযানে সবার জন্যই ছিল ঝুঁকি
নিজের গাড়ির ভেতরে তলিয়ে যেতে থাকা এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে মারে ও হেইনি গভীর বন্যার পানিতে নেমেছিলেন। তাঁদের সফল উদ্ধার অভিযানে নিজেদের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি ছিল। এ কারণেই কুইন্সল্যান্ডের ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বন্যার পানিতে সাঁতরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেয়।
ফায়ার ডিপার্টমেন্টের নিরাপত্তাবিষয়ক ওয়েবপেজে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডে দ্রুতগতির স্রোতে উদ্ধারকাজের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লেভেল ২ পর্যায়ের ৪০০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার রয়েছেন। পেজটি সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছিল ১৩ মার্চ ২০২৫। তাঁদের মধ্যে ১২০ জনের বেশি মোটরচালিত উদ্ধারযান পরিচালনার প্রশিক্ষণও পেয়েছেন।
২০২২ থেকে ২০২৩ সালের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মৌসুমে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ৭০টির বেশি উদ্ধার অভিযানে সাড়া দিয়েছিলেন। কুইন্সল্যান্ড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বলেছে, অন্য যেকোনো ধরনের উদ্ধারকাজের তুলনায় তারা দ্রুতগতির স্রোত-সংক্রান্ত ঘটনায় বেশি সাড়া দেয়। ভারী বৃষ্টিতে সড়ক ও জলপথ বিপজ্জনক হয়ে উঠলে বিশেষজ্ঞ দলগুলোর ওপর কী ধরনের চাপ পড়ে, এই পরিসংখ্যান তা তুলে ধরে।
মারে বলেন, এ অভিজ্ঞতার পর এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত কাজ করা জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা বেড়েছে। গোসল ও দুপুরের খাবারের পরও উদ্ধার অভিযানের প্রভাব অনুভব করছিলেন বলে জানান তিনি:
শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা এখনো খুব, খুব বেশি। মানুষ কীভাবে নিয়মিত এমন কাজ করে, তা আমার জানা নেই।
আরও ঝড়ের আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধারকারীদের স্বস্তি
শুক্রবার মারে বলেন, কাউকে প্রায় ডুবে যেতে দেখা ছিল আতঙ্কজনক। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির নাম বা ফোন নম্বর তিনি নেননি; লোকটি ভালো আছেন বলে আশা করেন। চালকের পরিচয় বা পরে তাঁর কোনো চিকিৎসা মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উদ্ধার অভিযানের পর আলিঙ্গনকে জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেন মারে। হেইনি বলেন, বাড়ি ফিরে ভিডিওটি দেখার পর ঘটনাটির ভয়াবহতা তাঁর কাছে আরও স্পষ্ট হয়।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জরুরি সেবাকর্মীরা শত শত বিপদসংকেতের ফোনে সাড়া দিতে থাকেন। আবহাওয়াবিদ জেস মিসকেলি বলেন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভেজা আবহাওয়া চলতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার এবং আবার সোমবার, ২৬ অক্টোবর ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
বুকানান রোডের উদ্ধার অভিযান বিপদটি স্পষ্ট করে তুলেছে: একটি গাড়ি পানিতে ঢুকে শক্তি হারায় এবং চালক ভেতরে থাকা অবস্থাতেই স্রোতে ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে যাতায়াতকারী বাসিন্দাদের জন্য তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ছিল হালনাগাদ সতর্কবার্তা দেখা, সড়ক বন্ধের নির্দেশ মানা এবং প্লাবিত সড়ক এড়িয়ে চলার পথ বেছে নেওয়া।
মূল বিষয়গুলো
- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, মোরেফিল্ডে ডুবতে থাকা একটি ইউট থেকে চালককে উদ্ধার করেন উইল মারে ও ড্যানিয়েল হেইনি।
- বুকানান রোডে বন্যার পানিতে ঢোকার পর গাড়িটি বন্ধ হয়ে স্রোতে ভেসে যায়।
- ইউটটি পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার আগে পেছনের যাত্রীর দরজা দিয়ে চালককে বের করেন তাঁরা।
- লিজ পিকারিং উদ্ধার অভিযানের ভিডিও ধারণ করেন। গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
- মোরেফিল্ডে তিন ঘণ্টায় ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; আঞ্চলিক বন্যায় সড়ক ও স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।
- কুইন্সল্যান্ডের ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বন্যার পানিতে গাড়ি চালানো বা সাঁতার কাটার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।






