গবেষণার জন্য একটি অনুমোদনে খুলল শর্তসাপেক্ষ রপ্তানির পথ
২০২৬ সালের অক্টোবরে চালু করা নতুন নির্দেশিকার আওতায় গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য প্রক্রিয়াজাত না করা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানির একটি আবেদন অনুমোদন করেছে মালয়েশিয়া। এর ফলে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর বিধিনিষেধের মধ্যে সীমিত রপ্তানির একটি পথ খুলেছে।
সূচিপত্র
প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়ার খনিজ ও ভূবিজ্ঞান বিভাগ। নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্প্রসারণে বিনিয়োগ ও কারিগরি জ্ঞান আকর্ষণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, এ সিদ্ধান্তে এক চালান কাঁচামাল পরীক্ষার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারী কে, চালানের পরিমাণ বা গন্তব্য কোথায়, কবে সেটি রওনা হবে কিংবা অনুমতিপত্রে কী কী বিস্তারিত শর্ত রয়েছে, তা মন্ত্রণালয় জানায়নি। ঘোষণাটি রপ্তানির অনুমতি নিয়ে; চালানটি ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চয়তা এতে নেই।
নতুন কাঠামোর আওতায় এটিই প্রথম অনুমোদন। এর আগে কেরেনিং, হুলু পেরাকের একটি বিশেষ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল মালয়েশিয়া। তাই সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষ রপ্তানির নতুন পথ, বিধিনিষেধে দেশের প্রথম ব্যতিক্রম নয়।
খনিজ সম্পদকে বৃহত্তর দেশীয় শিল্পে রূপান্তর করাই মালয়েশিয়ার মূল লক্ষ্য। গবেষণা বা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দেশের বাইরে উপাদান পাঠানোর অনুমতি কোম্পানিগুলোকে সেটি কীভাবে ব্যবহার করা যায় তা যাচাই করতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে সরকার মালয়েশিয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম ও কারিগরি দক্ষতা গড়ে তোলার অঙ্গীকার চাইছে।
রপ্তানি বিধিতে কী অনুমোদন রয়েছে
অক্টোবরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক শর্তসাপেক্ষে গবেষণা ও উন্নয়ন অথবা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রক্রিয়াজাত না করা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানির আবেদন করা যায়। অনুমোদিত আবেদনটি ছিল বিশেষভাবে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য।
অনুমোদনের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া জবাবে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা জানিয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব মন্ত্রণালয়:
"প্রাসঙ্গিক নিয়ন্ত্রক শর্ত মেনে চলা সাপেক্ষে বিদেশি কোম্পানিসহ যোগ্য আবেদনকারীরা নির্দেশিকা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন," মন্ত্রণালয় জানায়।
কুলিম বান্দার বাহারু আসনের সংসদ সদস্য রোসলান হাশিমকে দেওয়া লিখিত সংসদীয় জবাবে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: শর্তের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনকারী অন্যান্য কার্যক্রম গড়ে তোলার অঙ্গীকার। ওই জবাবে অনুমোদিত উদ্দেশ্যগুলো ব্যাখ্যা করে মন্ত্রণালয় বলেছে:
"সরকার দুই উদ্দেশ্যে কাঁচা বিরল মৃত্তিকা উপাদান রপ্তানির অনুমতি দেয়—গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ," এতে বলা হয়।
মন্ত্রণালয় বলেছে, অনুমোদিত আবেদনের সংখ্যা নয়, বরং বিনিয়োগের গুণমান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সময়ের সঙ্গে মূল্য সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রযুক্তি হস্তান্তর বলতে শিল্পকার্য স্থানীয়ভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান, পদ্ধতি ও দক্ষতা ভাগ করে দেওয়াকে বোঝায়; সেই দক্ষতা বিদেশি কোনো প্রক্রিয়াজাতকারীর হাতে সীমাবদ্ধ রাখা নয়।
তাই বিদেশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়, আর স্থানীয় উন্নয়নের শর্ত রপ্তানির পথটিকে মালয়েশিয়ার শিল্প পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে। অনুমতিপত্রের পর কী ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম ও সক্ষমতা গড়ে ওঠে, তার ওপর কাঠামোটির সাফল্য নির্ভর করবে।
নীতিটি যেভাবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে
নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা করতে মালয়েশিয়া রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ চালু করে, যাতে সম্পদ প্রধানত কাঁচামাল হিসেবে দেশের বাইরে চলে না যায়। পরে সরকার বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত সীমিত ব্যতিক্রম বিবেচনা করলেও সেই লক্ষ্য বজায় রাখে।
সংসদীয় জবাব দেওয়ার দুই মাস আগে উপপ্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্বমন্ত্রী সাইয়েদ ইব্রাহিম সাইয়েদ নোহ বলেছিলেন, সীমিত রপ্তানির জন্য রাজ্য সরকার ও বিনিয়োগকারীরা চাপ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের রপ্তানি মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে; বিদেশে গবেষণা ও উন্নয়নও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
- ১ জানুয়ারি ২০২৪: কাঁচা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানিতে মালয়েশিয়ার স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়।
- অক্টোবর ২০২৪: মন্ত্রণালয় জানায়, কেরেনিং, হুলু পেরাকের মন্ত্রিসভা-অনুমোদিত পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি বিরল মৃত্তিকার কার্বনেট রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে।
- ৫ ফেব্রুয়ারি: প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্বমন্ত্রী আর্থার জোসেফ কুরুপ সংসদে বলেন, দেশে মূল্য সংযোজন বাড়াতে কাঁচা পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ বজায় রাখা হচ্ছে।
- ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে: গবেষণা ও উন্নয়ন অথবা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য শর্তসাপেক্ষ রপ্তানির অনুমতিসংবলিত নির্দেশিকা চালু করে মালয়েশিয়া।
- ২২ অক্টোবর ২০২৬ নাগাদ: নতুন কাঠামোর আওতায় গবেষণা ও উন্নয়নের একটি অনুমোদনের কথা নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় এর আগে বলেছিল, ২০২৫ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে এবং মধ্যমেয়াদেও তা অব্যাহত থাকবে। এখন শর্তসাপেক্ষ এই পথের মাধ্যমে নির্দিষ্ট চালানের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব, যদিও নীতির লক্ষ্য এখনো স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলা।
পেরাকে আগের ব্যতিক্রম
অক্টোবরের কাঠামোর আগেই হুলু পেরাকের কেরেনিংয়ে রপ্তানির বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে মন্ত্রণালয় জানায়, পেরাক সরকারের সঙ্গে পরিচালিত পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি বিরল মৃত্তিকার কার্বনেট রপ্তানির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। সে সময় মন্ত্রণালয় বলেছিল, আর কোনো রপ্তানি অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিরল মৃত্তিকার কার্বনেট হলো একটি মধ্যবর্তী উপাদান, যাতে বিরল মৃত্তিকার উপাদান থাকে। শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করতে এসব উপাদান আলাদা ও পরিশোধনের জন্য আরও প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। ফলে আগের অনুমতিটি ছিল নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার অধীনে প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি বিশেষ পর্যায়ের উপাদান রপ্তানির জন্য।
পেরাকের মুখ্যমন্ত্রী সারানি মোহাম্মদ পরে ডিসেম্বরে বলেছিলেন, পরীক্ষামূলক প্রকল্পটির বিশেষ অনুমতি বহাল ছিল এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর অনুমোদন দেওয়া হতো। এই ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, বৃহত্তর স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও কীভাবে রপ্তানি সম্ভব হয়েছিল।
২০২৬ সালের অক্টোবরের সিদ্ধান্তে ওই একক পরীক্ষামূলক প্রকল্পের গণ্ডি ছাড়িয়ে শর্তসাপেক্ষ আবেদন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। প্রকল্প বিবেচনাকারী কোম্পানিগুলোর জন্য এখন মূল বিষয় হলো, তাদের গবেষণা বা প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রস্তাব নিয়ম এবং দেশে বিনিয়োগের সরকারি চাহিদার সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
খননের মতো প্রক্রিয়াজাতকরণও কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিরল মৃত্তিকা হলো এমন একদল উপাদান, যা ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক যান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষা খাতসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। এর কয়েকটি দিয়ে শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা হয়, যা মোটর ও অন্যান্য সরঞ্জামকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সাহায্য করে।
খননের মাধ্যমে এসব উপাদানযুক্ত পদার্থ পাওয়া যায়, কিন্তু নির্মাতাদের প্রয়োজন ব্যবহারযোগ্য রূপের উপাদান। প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পৃথকীকরণের মাধ্যমে মিশ্রণ থেকে আলাদা আলাদা বিরল মৃত্তিকার পণ্য তৈরি করা হয়। এ কাজে বিশেষ সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদ্ধতি ও কারিগরি জ্ঞান প্রয়োজন।
বিরল মৃত্তিকা খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ—দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে চীনের আধিপত্য রয়েছে। নির্মাতারা যাতে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে আরও বেশি উৎস বেছে নিতে পারেন, সে জন্য মালয়েশিয়াসহ অন্য দেশগুলো নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
মালয়েশিয়ার রপ্তানি শর্তের লক্ষ্য হলো সম্পদের মালিক হওয়া আর সেটি প্রক্রিয়াজাত করতে পারার মধ্যকার ব্যবধান কমানো। বিদেশে গবেষণা উপযুক্ত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে। এরপর স্থানীয় বিনিয়োগ সেই জ্ঞানকে দেশের শিল্পকার্যক্রমে রূপ দিতে পারে। এ কারণেই অনুমতিপত্রের সংখ্যার চেয়ে বিনিয়োগের গুণমানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
চলমান কার্যক্রম ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ
মালয়েশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার লাইন্যাস রেয়ার আর্থসের পরিচালিত প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম রয়েছে। চীনের বাইরে বিরল মৃত্তিকার অন্যতম প্রধান উৎপাদক এই কোম্পানি। তাদের উপস্থিতির ফলে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে মালয়েশিয়ার ইতিমধ্যে একটি ভূমিকা রয়েছে, আর অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সুযোগ যাচাই করছে।
ফ্রান্সের কেয়ারস্টার এসএএস মালয়েশিয়ার মালাকো মাইনিং গ্রুপের সঙ্গে পেরাকে বিরল মৃত্তিকা পৃথকীকরণ কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। জুলাইয়ে ঘোষিত তাদের অংশীদারত্বের মেয়াদ ১০ বছর, এতে প্রযুক্তি হস্তান্তরও রয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত কারখানাটি স্থানীয় দক্ষতা গড়ে তোলার সরকারি লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন ও পৃথকীকরণ প্রযুক্তি নিয়ে ফরাসি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করতে মালয়েশীয় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে। পরিশোধনের মাধ্যমে অবাঞ্ছিত উপাদান সরানো হয়, আর পৃথকীকরণের মাধ্যমে বিরল মৃত্তিকার মিশ্রণকে বিভিন্ন উপাদানে ভাগ করা হয়।
মালয়েশীয় শিল্পগোষ্ঠী বেরজায়া করপোর প্রকল্প খতিয়ে দেখছে, আর এক ডজনের বেশি মার্কিন কোম্পানি এ খাতের সুযোগ যাচাই করছে। তাদের আগ্রহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায় বিস্তৃত: লাইন্যাসের চালু কারখানা রয়েছে, কেয়ারস্টার ও মালাকোর একটি পরিকল্পিত কারখানা রয়েছে, আর অন্য কোম্পানিগুলো সম্ভাব্য প্রকল্প যাচাই করছে।
পেরাকের জন্য প্রস্তাবিত পৃথকীকরণ কারখানাটি আগের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের পাশাপাশি আরেকটি কার্যক্রম যোগ করবে। বিনিয়োগের অগ্রাধিকারগুলো বাস্তব অগ্রগতির মাপকাঠি স্পষ্ট করে: পরিকল্পনা বাস্তবে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত কারখানা, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ-জ্ঞান তৈরি করছে কি না।
সম্পদের বড় হিসাব ও কারিগরি গবেষণা
মালয়েশিয়ায় অনুমান করা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত বিরল মৃত্তিকার মজুতের পরিমাণ ১ কোটি ৬১ লাখ টন। সরকার এর আগে এর মূল্য ধরেছিল ৯৭০ বিলিয়ন রিঙ্গিত। "প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত" বলতে বোঝায়, সীমিত ভূতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে; সম্পদের বিস্তার ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
৯৭০ বিলিয়ন রিঙ্গিতের অঙ্কটি আনুমানিক সম্পদের মূল্যায়ন। এর উন্নয়ন থেকে আয় নির্ভর করবে কতটা উত্তোলন করা সম্ভব, উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ এবং তৈরি পণ্যের জন্য ক্রেতারা কত দাম দিচ্ছেন তার ওপর।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির সঙ্গে দুই বছর মেয়াদি একটি গবেষণা চলছে। ফরাসি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পাশাপাশি এটিও মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা শিল্প গড়ার কারিগরি ভিত্তি তৈরির প্রচেষ্টার অংশ।
এই বৃহত্তর প্রচেষ্টার মধ্যে রপ্তানির অনুমোদনটি গবেষণার একটি বাস্তব পথ তৈরি করেছে। পরীক্ষার মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাব্য পদ্ধতি চিহ্নিত করা যেতে পারে, আর বিনিয়োগের শর্তগুলোর উদ্দেশ্য হলো বিদেশে করা কাজকে মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা।
একচেটিয়া ক্রেতা ছাড়াই বিদেশি অংশগ্রহণ
একাধিক গন্তব্যের জন্য বিরল মৃত্তিকার বাজার উন্মুক্ত রেখেই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইছে মালয়েশিয়া। ৫ ফেব্রুয়ারি প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্বমন্ত্রী আর্থার জোসেফ কুরুপ দেওয়ান রাকিয়াতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা রপ্তানির জন্য একচেটিয়া অঙ্গীকার, সরবরাহের বাধ্যবাধকতা বা বাজারে কোনো পক্ষকে বাধ্যতামূলক অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্ত নেই।
কুরুপ বলেন, দেশের নীতিতে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উৎপাদনশৃঙ্খলের আরও পরের ধাপের পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ, ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন এবং দায়িত্বশীল শিল্পোন্নয়নের বিষয়গুলোও নীতিতে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এক ডজনের বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের আগ্রহের পাশাপাশি রয়েছে অস্ট্রেলীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম, ফরাসি ও মালয়েশীয় অংশীদারত্বে পরিকল্পিত একটি প্রকল্প এবং জাপানের সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা। দেশে আরও সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টায় মালয়েশিয়া একাধিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে।
তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হলো, গবেষণার একটি অনুমোদিত আবেদনের জন্য ব্যবহারযোগ্য শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি পথ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের ঘোষিত অগ্রগতির মাপকাঠি ওই চালানের বাইরেও বিস্তৃত: বিনিয়োগ, কারিগরি জ্ঞানের আদান-প্রদান এবং মালয়েশিয়ায় আরও মূল্যবান শিল্পকার্যক্রম।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের অক্টোবরে চালু নির্দেশিকার আওতায় গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য রপ্তানির একটি আবেদন অনুমোদন করেছে মালয়েশিয়া।
- এ কাঠামোয় গবেষণা ও উন্নয়ন অথবা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য শর্তসাপেক্ষ রপ্তানির অনুমতি রয়েছে; যোগ্য বিদেশি কোম্পানিও আবেদন করতে পারে।
- সংসদীয় জবাবে বলা হয়েছে, শর্তের মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মূল্য সংযোজনকারী অন্যান্য কার্যক্রম গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
- নতুন কাঠামোর আগেই কেরেনিংয়ের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বিশেষ রপ্তানি অনুমতি পেয়েছিল।
- প্রযুক্তি হস্তান্তরসংবলিত অংশীদারত্বের আওতায় কেয়ারস্টার ও মালাকো পেরাকে পৃথকীকরণ কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে।
- রপ্তানি অনুমতিপত্রের সংখ্যার চেয়ে বিনিয়োগের গুণমান ও স্থানীয় সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।






