ডম্বিভলির বাথরুমের খাঁচা থেকে সুমাত্রায় পরিচর্যায়
২০২৪ সালের নভেম্বরে মহারাষ্ট্রের একটি বাড়ির বাথরুমের খাঁচা থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণ পুরুষ ওরাংওটান রকি প্রায় দুই বছর ধরে পশুচিকিৎসা সেবা ও তাকে ফিরিয়ে নেওয়া নিয়ে আলোচনার পর ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। তার পরবর্তী গন্তব্য কোয়ারেন্টিন; এরপর উত্তর সুমাত্রায় পুনর্বাসন চলবে। সংরক্ষণকর্মীরা আশা করছেন, সেখানে তাকে বনজীবনের জন্য প্রস্তুত করা যাবে।
সূচিপত্র
- ডম্বিভলির বাথরুমের খাঁচা থেকে সুমাত্রায় পরিচর্যায়
- মহারাষ্ট্রে উদ্ধারকারীরা যা পেয়েছিলেন
- অসুস্থতা ও কাগজপত্রে ফিরতে দেরি
- উদ্ধার থেকে প্রত্যাবাসন
- সীমান্ত পেরোতে শুধু বিমানযাত্রাই যথেষ্ট ছিল না
- মুক্তির আগে বনের পাঠশালা
- ওড়িশায় পাঁচটি শাবকের সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
- প্রাণী ফিরিয়ে নিতে পুনরুদ্ধারের জন্য জায়গাও দরকার
- মূল বিষয়গুলো
ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, গুজরাট থেকে প্রত্যাবাসনের পর প্রাণীটি মেদানের কুয়ালানামু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সংবর্ধনায় মেদানে ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যাত্রার বিবরণে জাকার্তাকেও পৌঁছানোর শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তবে দূতাবাসের বিবৃতিতে নির্দিষ্টভাবে কুয়ালানামুর নাম বলা হয়েছে।
ধারণা করা হয়, রকির বয়স প্রায় তিন বছর এবং সে সুমাত্রার আদি বাসিন্দা। ভারতের বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগের কর্মী, ভানতারা কর্মী এবং ইন্দোনেশিয়া সরকারের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ভাড়া করা বিমানে সে যাত্রা করে। তার সঙ্গে থাকা ভারতীয় কর্মকর্তাদের কোয়ারেন্টিনে হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারক করার কথা ছিল।
মুম্বাইয়ে বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশনের (সিআইটিইএস) সহকারী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যোগেশ নীলকান্ত ওয়ারকাড এই অভিযানকে জব্দ করা কোনো সিআইটিইএস-ভুক্ত প্রাণীকে ভারতে সফলভাবে প্রত্যাবাসনের প্রথম ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন। প্রত্যাবাসনের ভারতীয় দিকটি তার দপ্তর তদারক করেছে।
মহারাষ্ট্রে উদ্ধারকারীরা যা পেয়েছিলেন
মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ডম্বিভলির পালাভা সিটি আবাসন কমপ্লেক্সে বন্যপ্রাণী পাচারের সন্দেহভাজন চালানে অভিযান চালিয়ে থানে বন বিভাগ রকিকে খুঁজে পায়। বাথরুমের ভেতরে রাখা একটি ছোট খাঁচায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল; ওরাংওটান সাধারণত যে বনে বেড়ে ওঠে, সেখান থেকে সে ছিল বহু দূরে।
জব্দের সময় রকির বয়স আনুমানিক এক বছর ছিল। কর্মকর্তারা অ্যাপার্টমেন্টে থাকা সরীসৃপের কথাও জানিয়েছিলেন: একটি বিবরণে অজগর ও ইগুয়ানাসহ ১৫টি সরীসৃপের কথা বলা হয়েছিল, অন্যটিতে ছিল ছয়টি অজগর ও একটি তারকাচিহ্নিত কচ্ছপ।
একটি গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে মহারাষ্ট্রের বন কর্মকর্তারা অ্যাপার্টমেন্টটিতে যান। পরে রকিকে নাগপুরের বালাসাহেব ঠাকরে গোড়েওয়াড়া আন্তর্জাতিক চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। এরপর তাকে গুজরাটে ভানতারা পরিচালিত গ্রিনস জুলজিক্যাল রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।
এই প্রত্যাবর্তন বিমানবন্দরে আটক কোনো প্রাণীকে ফেরত পাঠানোর মতো ছিল না। রকিকে এরই মধ্যে ভারতের একটি ব্যক্তিগত বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর কর্তৃপক্ষকে তার পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে, ইন্দোনেশিয়ায় তাকে গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হয়েছে।
অসুস্থতা ও কাগজপত্রে ফিরতে দেরি
উদ্ধার ও প্রত্যাবাসনের মধ্যে প্রায় দুই বছরের ব্যবধানের কারণ হিসেবে ওয়ারকাড প্রশাসনিক জটিলতা এবং রকির শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর বয়সে ওরাংওটানটির শ্বাসকষ্ট হয়েছিল; পরে ভানতারায় সে সুস্থ হয়ে ওঠে।
প্রাথমিকভাবে রকিকে গোড়েওয়াড়ায় স্থানান্তর নিয়ে আলোচনায় মহারাষ্ট্রের তৎকালীন প্রধান বন্যপ্রাণী রক্ষক বিবেক খান্ডেকর যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ তারিখে, তৎকালীন প্রধান বন্যপ্রাণী রক্ষক এম শ্রীনিবাস রাওয়ের একটি নির্দেশে প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত প্রাণীটিকে গুজরাটের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে গোড়েওয়াড়াকে বলা হয়।
সরকারি নথিতে সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মতামত উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল স্থানীয় চিড়িয়াখানায় ওরাংওটানটিকে রাখা উপযুক্ত নাও হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক ভার্মার নেতৃত্বাধীন কমিটি তাকে ভানতারায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
ইন্দোনেশিয়া এরই মধ্যে আমদানি অনুমতি দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালেই রকিকে ফেরত পাঠানোর সমন্বয় শুরু হয়। তা সত্ত্বেও তার যাত্রার আগে পরিচর্যার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যগত চাহিদা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—সবকিছু সম্পন্ন হওয়া জরুরি ছিল।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধারের পর বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ রকিকে পশুচিকিৎসা সেবা ও উপযুক্ত আবাসস্থলের ব্যবস্থা দিয়েছিল। প্রত্যাবাসনের আগে তার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের সব পুরোনো খরচও ভারত মওকুফ করেছে। তবে কোনো অর্থের পরিমাণ জানানো হয়নি।
উদ্ধার থেকে প্রত্যাবাসন
রকির যাত্রায় দুই দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। মহারাষ্ট্রে অভিযানের পর ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানো পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর তারিখ নিচে দেওয়া হলো:
- নভেম্বর ২০২৪: মহারাষ্ট্রের বন কর্মকর্তারা ডম্বিভলির একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তরুণ ওরাংওটানটিকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে নাগপুরের গোড়েওয়াড়া চিড়িয়াখানায় রাখা হয়।
- ১ মার্চ ২০২৫: মহারাষ্ট্রের তৎকালীন প্রধান বন্যপ্রাণী রক্ষক তাকে গুজরাটের ভানতারা পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ও ২০২৫ সালেই শুরু হয়েছিল।
- ১৯ অক্টোবর ২০২৬: গুজরাট থেকে তত্ত্বাবধানে বিমানে যাত্রার পর রকি ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছায়। ভারতীয় দূতাবাস জানায়, তার পৌঁছানোর স্থান মেদানের কুয়ালানামু বিমানবন্দর।
- পৌঁছানোর পর: উত্তর সুমাত্রায় কোয়ারেন্টিন ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হয়। এরপর বনে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের জন্য তাকে প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সিআইটিইএস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রত্যাবাসনের সমন্বয় করে। আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত প্রাণী ও উদ্ভিদের চলাচলের ক্ষেত্রে চুক্তির অনুমতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এই জাতীয় সংস্থাগুলো।
ভারতে অভিযানটির তদারককারী সিআইটিইএস কর্মকর্তা ওয়ারকাড ফলাফলটি এভাবে বর্ণনা করেছেন:
ভারত থেকে জব্দ করা কোনো সিআইটিইএস-ভুক্ত প্রাণীকে সফলভাবে প্রত্যাবাসনের এটাই প্রথম ঘটনা। এটি বাস্তবায়নে আমার দপ্তর (সিআইটিইএসের সহকারী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ) আমাদের সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করেছে,
সীমান্ত পেরোতে শুধু বিমানযাত্রাই যথেষ্ট ছিল না
সিআইটিইএসের পরিশিষ্ট ১-এ ওরাংওটান অন্তর্ভুক্ত, যা চুক্তিটির সবচেয়ে কঠোর বাণিজ্য সুরক্ষার শ্রেণি। সাধারণভাবে বাণিজ্যিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ; তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা সংরক্ষণকাজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্থানান্তরের মতো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি নিতে হয়।
প্রত্যাবাসন অর্থ কোনো প্রাণীকে তার আদি দেশে ফিরিয়ে দেওয়া। সম্ভব হলে সিআইটিইএস এ ধরনের প্রত্যাবর্তনে উৎসাহ দেয়। ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনেও সম্ভাব্য আদি দেশ বা রপ্তানিকারক দেশের সঙ্গে পরামর্শের পর প্রাণী ফিরিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
রকির ক্ষেত্রে বাস্তব কাজের মধ্যে ছিল ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে তাকে গ্রহণের সম্মতি নেওয়া, পরিবহনের ব্যবস্থা করা এবং পৌঁছানোর পর পরিচর্যার স্থান নির্ধারণ। যাত্রাসঙ্গী বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা ও প্রাণী পরিচর্যাকারীরা পুরো যাত্রায় এসব ব্যবস্থার সমন্বয় করেছেন।
রকির আগের পরিচর্যার খরচ মওকুফ করার সিদ্ধান্তে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থাপনা থেকে সেই ব্যয় বাদ পড়ে। প্রযোজ্য প্রক্রিয়া ও শর্ত মেনে দুই দেশের সরকারি সিআইটিইএস কর্তৃপক্ষ তার স্থানান্তরের সমন্বয় করেছে।
মুক্তির আগে বনের পাঠশালা
রকিকে উত্তর সুমাত্রার লাংকাত রিজেন্সির বুকিত মাসে সুমাত্রান রেসকিউ অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রে পুনর্বাসন দেওয়ার কথা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় তার পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে পরিচর্যার আরেকটি পর্যায় শুরু হচ্ছে। পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে তাকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।
অল্পবয়সী ওরাংওটান সাধারণত মায়ের কাছ থেকে বনে টিকে থাকার জরুরি দক্ষতা শেখে। পুনর্বাসন কেন্দ্রে বনের পাঠশালায় উদ্ধার করা প্রাণীদের গাছে ওঠা, খাবার খুঁজে বের করা ও প্রক্রিয়াজাত করা, বাসা তৈরি এবং বনের মধ্যে চলাচলের অনুশীলন করানো হয়। অন্য ওরাংওটানদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগও রকির দরকার হবে।
ওরাংওটান ইনফরমেশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পানুত হাদিসিসওয়ো বলেছেন, প্রাণীটিকে গ্রহণের প্রস্তুতি দুই বছর ধরে চলছিল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে পুনর্বাসনের পর একসময় তাকে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
নিশ্চয়ই তাকে বনে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। প্রায় পূর্ণবয়স্ক ওরাংওটানদেরও পুনর্বাসন দিয়ে বনে ছেড়ে দেওয়া যায়। অতীতেও আমরা সফলভাবে তা করেছি,
কুয়ালালামপুরভিত্তিক সংরক্ষণবিজ্ঞানী এবং ইয়ায়াসান ওরাংউতান সুমাত্রা লেস্তারি-ওরাংওটান ইনফরমেশন সেন্টারের উপদেষ্টা সিনান সেরহাদলি বলেছেন, কোয়ারেন্টিনের পর রকি জঙ্গল স্কুলে যোগ দেবে। তার হিসাবে, কয়েক বছর পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনামতো চললে, প্রায় চার বছর পর তাকে বনে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে,
এই সময়সীমা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুনর্বাসনে রকির অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে সে কখন প্রস্তুত হবে; ছেড়ে দেওয়ার কোনো তারিখ বা বনের স্থান এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
ওড়িশায় পাঁচটি শাবকের সিদ্ধান্ত এখনো বাকি
২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ওড়িশার বালেশ্বর বিভাগের বাদাপালি গ্রামের কাছে খুঁজে পাওয়া আরও পাঁচটি তরুণ ওরাংওটান ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় রয়েছে। তাদের সন্ধান পাওয়ার পর আদি উৎস ও সন্দেহভাজন পাচার নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
ওরাংওটান ভারতীয় প্রাণী নয়; এদের আদি নিবাস বোর্নিও ও সুমাত্রা। পাঁচটি প্রাণীর প্রজাতি ও আদি উৎস নিশ্চিত করতে এবং তাদের ফেরত পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।
ইন্দোনেশিয়া সরকার, পশুচিকিৎসক ও ওরাংওটান বিশেষজ্ঞসহ সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও আদি উৎস মূল্যায়ন করাই এ সফরের উদ্দেশ্য। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সফরে সম্মতি দিয়েছে; ২০২৬ সালের নভেম্বরের জন্য আয়োজনের সমন্বয় চলছে। সফরটি আয়োজনে জাকার্তায় ভারতীয় দূতাবাস সহায়তা করছে।
ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চলছে:
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালেশ্বর জেলার বনাঞ্চলে পাঁচটি ওরাংওটান শাবক পাওয়ার বিষয়টি বন মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করছে। তাদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা, আদি উৎস যাচাই করা এবং ইন্দোনেশিয়ায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকার ভারতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দেশের অভ্যন্তরে সমন্বয় করে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে,
হাদিসিসওয়ো বলেছেন, ওড়িশায় প্রাণীগুলো পাওয়ার পর রকির ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরেক দফা যোগাযোগ হয়। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হলে পাঁচটি শাবকও রকির মতো ইন্দোনেশিয়ায় যেতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।
প্রাণী ফিরিয়ে নিতে পুনরুদ্ধারের জন্য জায়গাও দরকার
এই ঘটনাগুলোর আগেও ভারতে তরুণ ওরাংওটান পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে আসাম ও মিজোরামের সীমান্তের কাছে একটি তল্লাশিচৌকিতে দুটি শাবকের সন্ধান মেলে। কর্মকর্তাদের সন্দেহ ছিল, তাদের মিয়ানমার থেকে আনা হয়েছিল। মহারাষ্ট্র ও ওড়িশার ঘটনায় উদ্ধার করা বনমানুষদের পরিচর্যা ও ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এখন আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ হুমকির কারণেও ইন্দোনেশিয়ার পুনর্বাসন নেটওয়ার্কের ওপর চাপ রয়েছে। কালিমান্তানে সাম্প্রতিক দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ওরাংওটান উদ্ধার অভিযানে দগ্ধ, ধোঁয়ায় আক্রান্ত ও পানিশূন্য প্রাণীদের পরিচর্যার জন্য নেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৯৬টি বোর্নিওর ওরাংওটানকে সরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ওই উদ্ধার অভিযানে ছিল বোর্নিওর প্রাণীরা, আর রকি যাচ্ছে সুমাত্রায়। একসঙ্গে এই ঘটনাগুলো দেখায়, ওরাংওটানকে আবার বনে ফেরাতে কত ধরনের কাজ করতে হয়: আঘাত ও অসুস্থতার চিকিৎসা, টিকে থাকার দক্ষতা শেখানো এবং ছেড়ে দেওয়া সম্ভব এমন আবাসস্থল খুঁজে বের করা।
রকির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনটি স্পষ্ট। যে দেশ থেকে তাকে জব্দ করা হয়েছিল, সে দেশ ছেড়ে এখন সে ইন্দোনেশিয়ার পরিচর্যা ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। ওড়িশার পাঁচটি শাবকের জন্য পরবর্তী পরিকল্পিত পদক্ষেপ হলো নভেম্বরে ইন্দোনেশীয় বিশেষজ্ঞদের সফর; তখন শনাক্তকরণ ও প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডম্বিভলিতে উদ্ধার হওয়া পুরুষ ওরাংওটান রকি ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় ফিরেছে।
- ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সে মেদানের কুয়ালানামু বিমানবন্দরে পৌঁছেছে।
- প্রত্যাবাসনের আগে সে গোড়েওয়াড়া চিড়িয়াখানা এবং পরে ভানতারায় পরিচর্যা পেয়েছে।
- তার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের পুরোনো খরচ ভারত মওকুফ করেছে।
- বনে ছেড়ে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনার আগে উত্তর সুমাত্রায় কোয়ারেন্টিন ও পুনর্বাসন চলবে।
- ওড়িশায় উদ্ধার হওয়া পাঁচটি তরুণ ওরাংওটান এখনো নন্দনকানন চিড়িয়াখানায় রয়েছে; ২০২৬ সালের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার একটি মূল্যায়ন সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।






