অ্যাপলের পরবর্তী স্ক্রিনে বদলে যেতে পারে কোরীয় ডিসপ্লের অর্ডার
দক্ষিণ কোরিয়ার আসানে OLED উৎপাদন লাইন স্থাপনে স্যামসাং ডিসপ্লের প্রায় ৪.১ ট্রিলিয়ন ওনের বিনিয়োগ শিগগিরই বড় নতুন চাহিদার মুখে পড়তে পারে: OLED টাচস্ক্রিনসহ অ্যাপলের প্রথম ম্যাকবুক প্রো এবং একই ডিসপ্লে প্রযুক্তির আইপ্যাড মিনি।
সূচিপত্র
- অ্যাপলের পরবর্তী স্ক্রিনে বদলে যেতে পারে কোরীয় ডিসপ্লের অর্ডার
- অক্টোবর ও নভেম্বরে ক্রেতারা কী দেখতে পারেন
- ম্যাকবুকে OLED কী পরিবর্তন আনতে পারে
- আসানে স্যামসাংয়ের বিনিয়োগে এগিয়ে থাকার সুযোগ
- দ্বিতীয় কারখানার পরিকল্পনা ২০২৯ পর্যন্ত বিস্তৃত
- ভিন্ন উৎপাদনপথে এগোচ্ছে এলজি ডিসপ্লে
- iMac-এ প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন
- ল্যাপটপের বাজার দুর্বল থাকলেও OLED বাড়তে পারে
- অর্ডার এখনো দাম ও গ্রাহক চাহিদার ওপর নির্ভরশীল
- মূল বিষয়গুলো
অ্যাপল ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর বা এর কাছাকাছি সময়ে ডিভাইসগুলো ঘোষণা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিক্রি শুরু হতে পারে নভেম্বরের শুরুতে। দুই পণ্যের প্রাথমিক সব OLED প্যানেল স্যামসাং ডিসপ্লে সরবরাহ করছে বলে খবর রয়েছে। এর কিছু চালান কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর চতুর্থ প্রান্তিকে সরবরাহ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই সুযোগ দুটি পণ্য বাজারে আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। UBI Research-এর পূর্বাভাস, ২০৩০ সালে অ্যাপলের বার্ষিক OLED প্যানেলের চাহিদার ১২.৫ শতাংশ আসবে কম্পিউটার ও ট্যাবলেট থেকে; ২০২৬ সালে যা ছিল ৪.১ শতাংশ। স্যামসাং ডিসপ্লে আরও উৎপাদন সক্ষমতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, এলজি ডিসপ্লে ভিন্ন একটি উৎপাদনপ্রক্রিয়া তৈরি করছে, যা বড় পর্দার বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সহায়তা করতে পারে।
ঘোষণা ও খুচরা বিক্রির সম্ভাব্য তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। পণ্য উন্মোচনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রসেসরের স্পেসিফিকেশন নিয়েও পরস্পরবিরোধী তথ্য আছে। আর এলজি ডিসপ্লে স্পষ্ট করে বলেছে, তাদের নতুন প্রক্রিয়া বাণিজ্যিকভাবে চালুর কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি নেই। এসব অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তৈরি ডিভাইস দোকানে পৌঁছানোর অনেক আগেই কারখানায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হয়।
অক্টোবর ও নভেম্বরে ক্রেতারা কী দেখতে পারেন
প্রত্যাশিত ম্যাকবুক প্রোতে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আসতে পারে: OLED পর্দা ও টাচ ইনপুট। ২০০৬ সালে ম্যাকবুক পরিবারের যাত্রা শুরুর পর এটিই হবে OLED টাচস্ক্রিনসহ প্রথম ম্যাকবুক। ২০২৪ সালে আইপ্যাড প্রোতে OLED আসার পর এবার আইপ্যাড মিনিতেও এ প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘোষণা হতে পারে ২৭ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে এবং খুচরা বিক্রি শুরু হতে পারে নভেম্বরের শুরুতে। সম্ভাব্য মুক্তির তারিখ হিসেবে ৬ নভেম্বরের কথা বলা হয়েছে। ঘোষণায় পণ্য পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়; আর মুক্তির তারিখ থেকে গ্রাহকেরা সেটি কিনতে পারেন। দুটি তারিখ পণ্য বাজারে আনার ভিন্ন ধাপ নির্দেশ করে।
পণ্য ও কারখানার প্রতিবেদিত মাইলফলকগুলো শরৎকালের বাজার উদ্বোধনের পরও কয়েক বছর পর্যন্ত বিস্তৃত:
- ২০২৪: অ্যাপলের আইপ্যাড প্রোতে OLED যুক্ত হয়; প্যানেল সরবরাহ করে স্যামসাং ডিসপ্লে ও এলজি ডিসপ্লে।
- ২০২৬: আসানে নতুন ৮.৬-প্রজন্মের আইটি OLED লাইনে ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে স্যামসাং ডিসপ্লে।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৬: OLED টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো ও OLED আইপ্যাড মিনি ঘোষণার কথা অ্যাপলের।
- নভেম্বর ২০২৬-এর শুরু: ৬ নভেম্বরও সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে উল্লেখ করে খুচরা বিক্রি শুরুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
- ২০২৭-এর প্রথমার্ধ: স্যামসাং ডিসপ্লের প্রস্তাবিত A7 লাইনে বিনিয়োগ শুরু হওয়ার কথা।
- ২০২৯: A7 লাইনে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা। Sigmaintell-ও FLiPP-এর ব্যাপক উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে, যদিও এলজি ডিসপ্লে সময়সূচি চূড়ান্ত করেনি।
- ২০২৯ থেকে ২০৩০: প্রতিবেদিত উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী OLED iMac প্রত্যাশিত।
অক্টোবরে M6 চিপের ১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো ও M6 iMac ঘোষণারও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে পণ্য নিয়ে আরেকটি পূর্বাভাসে নতুন নকশার টাচস্ক্রিন ল্যাপটপে M5 Pro ও M5 Max চিপ এবং পরের বসন্তে M7-সহ একটি সম্ভাব্য বেস সংস্করণের কথা বলা হয়েছে। ফলে OLED-এ পরিবর্তনের তুলনায় প্রসেসর ও মডেলের বিন্যাস নিয়ে ক্রেতাদের কাছে এখনো কম নিশ্চিত তথ্য রয়েছে।
ম্যাকবুকে OLED কী পরিবর্তন আনতে পারে
OLED-এর পূর্ণরূপ অর্গানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড। ছবির ক্ষুদ্র বিন্দু প্রতিটি পিক্সেল নিজেই আলো তৈরি করে। LCD পর্দায় আলাদা আলোর উৎস পর্দার পেছনে থাকে। এই ব্যাকলাইট সরিয়ে দিলে নির্মাতারা আরও পাতলা ডিসপ্লে তৈরি করতে পারেন।
OLED পিক্সেল আলাদাভাবে নিভে গিয়ে কালো অংশ তৈরি করতে পারে, ফলে ছবির অন্ধকার ও উজ্জ্বল অংশের মধ্যে জোরালো বৈপরীত্য তৈরি হয়। এ প্রযুক্তিতে সাড়া দেওয়ার সময়ও দ্রুত, তাই পর্দায় দ্রুত বদলে যাওয়া ছবি দেখানো সহজ হয়। প্যানেলের বেশি দামের কারণে প্রযুক্তিটি এখনো মূলত প্রিমিয়াম ল্যাপটপ ও অন্যান্য দামি ডিভাইসেই সীমিত।
নতুন নকশার ম্যাকবুক প্রোতে Tandem OLED ব্যবহারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে আলো উৎপাদনকারী OLED স্তরগুলো একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়ানো হয়। আইপ্যাড প্রোতে ইতিমধ্যে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা অন্যান্য নকশাগত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ছোট Dynamic Island এলাকা, Face ID না থাকা এবং অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীর আরও পাতলা ও হালকা করা।
টাচ ইনপুট আনতে শুধু প্যানেলেই নয়, এর বাইরেও পরিবর্তন দরকার হবে। প্রত্যাশিত সফটওয়্যার পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে স্পর্শ করলে বড় হয়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণ এবং আঙুলের আশপাশে দেখা দেওয়া মেনু। ব্যবহারকারীরা কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড রেখেই পর্দায় সরাসরি কিছু নিয়ন্ত্রণ বেছে নিতে পারবেন।
আসানে স্যামসাংয়ের বিনিয়োগে এগিয়ে থাকার সুযোগ
দক্ষিণ চুংচং প্রদেশের আসানে ৮.৬-প্রজন্মের আইটি OLED উৎপাদন লাইনে প্রায় ৪.১ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ করেছে স্যামসাং ডিসপ্লে। ২০২৬ সালে এ লাইনে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়েছে। ফলে অ্যাপলের OLED পণ্যের পরিসর বাড়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন উৎপাদন সক্ষমতাও তৈরি হয়েছে।
প্রজন্মের সংখ্যা দিয়ে ডিসপ্লে তৈরিতে ব্যবহৃত কাচের পাতের আকার বোঝানো হয়। স্যামসাংয়ের ৮.৬-প্রজন্মের সাবস্ট্রেটের ক্ষেত্রফল ষষ্ঠ-প্রজন্মের লাইনে ব্যবহৃত সাবস্ট্রেটের প্রায় দ্বিগুণ। বড় পাত ব্যবহার করে প্রতিটিতে আরও বেশি পর্দা সাজানো যায়, যা ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের প্যানেল উৎপাদনে দক্ষতা বাড়াতে পারে।
তবে প্রকৃত উৎপাদন নির্ভর করে তৈরি করা পর্দার আকার এবং মানের শর্ত পূরণ করা প্যানেলের সংখ্যার ওপর। স্যামসাং ডিসপ্লের ক্ষেত্রে বড় ফরম্যাটটি ফোনের ছোট প্যানেলের বাইরেও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটারের পর্দা আরও দক্ষতার সঙ্গে তৈরির একটি উপায়।
OLED ল্যাপটপের বাজারে স্যামসাংয়ের অবস্থান আগে থেকেই শক্তিশালী। Sigmaintell-এর হিসাবে, প্রধান বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর ব্যবহৃত OLED ল্যাপটপ প্যানেলের ৭০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে কোম্পানিটি; Acer-এর ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। Lenovo ও Dell-কেও প্যানেল সরবরাহ করে তারা। অ্যাপলের সম্ভাব্য অর্ডার বিদ্যমান ব্যবসায় আরেকটি বড় ক্রেতা যোগ করবে।
দ্বিতীয় কারখানার পরিকল্পনা ২০২৯ পর্যন্ত বিস্তৃত
আসানের দ্বিতীয় কমপ্লেক্সে নতুন A7 উৎপাদন লাইন তৈরির প্রস্তুতিও নিচ্ছে স্যামসাং ডিসপ্লে। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বিনিয়োগ শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রথমার্ধে যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শেষ হতে পারে এবং ২০২৯ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে।
প্রস্তাবিত কারখানায় স্মার্টফোন, ভাঁজযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের জন্য OLED প্যানেল তৈরি হবে। এই পরিসরের কারণে গ্রাহকের চাহিদা বদলালে স্যামসাং ডিসপ্লে একাধিক পণ্যশ্রেণিতে সরবরাহ করতে পারবে।
A7-এর সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম OLED ম্যাকবুক বাজারে আসার প্রত্যাশিত সময়ের কয়েক বছর পর পরবর্তী বড় উৎপাদন সম্প্রসারণ হবে। তাই এ প্রকল্পের ব্যবসায়িক যুক্তি নির্ভর করবে প্রাথমিক অর্ডারের পাশাপাশি অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের ডিভাইস ও অন্য নির্মাতাদের কাছ থেকে টেকসই চাহিদার ওপর।
নতুন ম্যাকবুক প্রো ও আইপ্যাড মিনিতে স্যামসাং ডিসপ্লের সম্ভাব্য ভূমিকা অ্যাপলের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান ব্যবসার ওপরও দাঁড়িয়ে আছে। iPhone 18 Pro ও Pro Max-এর OLED প্যানেল সরবরাহ করে স্যামসাং ডিসপ্লে ও এলজি ডিসপ্লে। iPhone Duo নামে পরিচিত অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের একমাত্র প্যানেল সরবরাহকারী স্যামসাং ডিসপ্লে বলে খবর রয়েছে। আর অ্যাপল ওয়াচের প্যানেল সরবরাহ করে এলজি ডিসপ্লে।
ভিন্ন উৎপাদনপথে এগোচ্ছে এলজি ডিসপ্লে
এলজি ডিসপ্লের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে FLiPP, উন্নয়নাধীন একটি উৎপাদন প্রযুক্তি। এতে ফটোলিথোগ্রাফি ব্যবহার করে লাল, সবুজ ও নীল সাবপিক্সেল তৈরি করা হয়। সাবপিক্সেল হলো ক্ষুদ্র রঙিন উপাদান, যেগুলো মিলে দর্শকেরা যে রং দেখেন তা তৈরি করে।
প্রচলিত OLED উৎপাদনে ফাইন মেটাল মাস্ক ব্যবহার করা হতে পারে। ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত এই পাত আলো উৎপাদনকারী উপাদান সঠিক অবস্থানে বসাতে সহায়তা করে। FLiPP প্রক্রিয়া থেকে এই মাস্ক বাদ দিয়ে এর পরিবর্তে আলোভিত্তিক নকশা তৈরির পদ্ধতি ব্যবহার করে। উৎপাদনে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে এবং সরবরাহযোগ্য OLED প্যানেলের আকার বাড়াতে প্রযুক্তিটি তৈরি করছে এলজি ডিসপ্লে।
পাজুতে বিদ্যমান ৮.৫-প্রজন্মের OLED লাইন উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে এলজি ডিসপ্লে এবং যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীদের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেছে। বিদ্যমান বৃহৎ OLED উৎপাদন অবকাঠামো ব্যবহার করলে সম্পূর্ণ নতুন কারখানার ওপর কৌশল নির্ভর না করেই কম্পিউটারের আরও বেশি পর্দার বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে কোম্পানিটি।
Sigmaintell ২০২৯ সালে FLiPP-এর ব্যাপক উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে। এলজি ডিসপ্লের বক্তব্য, প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়নাধীন এবং বাণিজ্যিকভাবে চালুর সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। তাই কোম্পানির পরবর্তী পদক্ষেপে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি উৎপাদন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও রয়েছে।
আগস্টে ২৭ ইঞ্চির FLiPP প্যানেল দেখিয়েছে এলজি ডিসপ্লে। অ্যাপলের ২৭ ইঞ্চির Studio Display-কে এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের বাইরেও প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যবহার তৈরি হয়েছে।
iMac-এ প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন
গণ-উৎপাদন কারখানা ব্যবহার করে iMac-এর উপযোগী OLED নমুনা তৈরির জন্য স্যামসাং ডিসপ্লে ও এলজি ডিসপ্লেকে অনুরোধ করেছে বলে খবর রয়েছে। এ অনুরোধে উন্নয়ন এমন পর্যায়ে এগোবে, যেখানে বাণিজ্যিক উৎপাদনের কাছাকাছি পরিস্থিতিতে তৈরি পর্দা পরীক্ষা করা যাবে।
বাজারে আসার প্রত্যাশিত সময় ২০২৯ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে। অ্যাপলের প্রতিবেদিত স্পেসিফিকেশনে প্রতি ইঞ্চিতে ২২০ পিক্সেল (PPI)-এর QD-OLED চাওয়া হয়েছে। এ ধরনের বর্তমান প্যানেলের সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে ১৬০ PPI উল্লেখ করা হয়েছে। QD-OLED-এ কোয়ান্টাম ডট আলোকে রঙে রূপান্তর করে।
প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল বা PPI দিয়ে পিক্সেল কত ঘনভাবে সাজানো হয়েছে তা মাপা হয়। অ্যাপলের চাওয়া ২২০ PPI, ১৬০ PPI-এর চেয়ে ৩৭.৫ শতাংশ বেশি। এই ঘনত্ব অর্জনে ছবির উপাদানগুলো আরও ছোট ও কাছাকাছি রাখতে হবে। কাছ থেকে দেখা ডেস্কটপ পর্দার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।
প্রথম OLED iMac-এর পর্দা ২৪ বা ২৭ ইঞ্চি হতে পারে। QD-OLED উৎপাদনে স্যামসাং ডিসপ্লে এগিয়ে আছে বলে জানানো হয়েছে; উদ্বোধনের সময় তারা প্রধান বা একমাত্র সরবরাহকারী হতে পারে। নমুনা তৈরির অনুরোধে এলজি ডিসপ্লের অংশগ্রহণ কোম্পানিটিকে উন্নয়নের সুযোগ দিচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে সরবরাহ করবে, তা পণ্যটির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রয়েছে।
OLED iMac এবং সম্ভাব্য OLED Studio Display দুটি পৃথক সুযোগ। iMac-এ কম্পিউটার ও পর্দা একই পণ্যে থাকে; Studio Display হলো অন্য কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত একটি মনিটর। এদের চাহিদা অনুযায়ী অ্যাপল ভিন্ন উৎপাদন প্রযুক্তি ও সরবরাহকারী বেছে নিতে পারে।
ল্যাপটপের বাজার দুর্বল থাকলেও OLED বাড়তে পারে
Counterpoint Research-এর পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে OLED ল্যাপটপ প্যানেলের চালান ৫০ শতাংশ বাড়বে এবং ২০২৭ সালে বাড়বে আরও ২৪ শতাংশ। এই বৃদ্ধির আগে চালানের সূচক ১০০ ধরলে, প্রথম বছরে তা হবে ১৫০ এবং দ্বিতীয় বছরে ১৮৬; দুই বছরে মোট বৃদ্ধি ৮৬ শতাংশ।
মেমোরির দাম বৃদ্ধি ও ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের দুর্বল চাহিদার চাপে বৃহত্তর ল্যাপটপ ডিসপ্লে বাজার যখন কঠিন সময় পার করছে, তখনই এ পূর্বাভাস এসেছে। মোট ল্যাপটপের চাহিদা চাপে থাকলেও নির্মাতারা বিদ্যমান পণ্যশ্রেণিতে LCD প্যানেলের বদলে OLED ব্যবহার করলে OLED সরবরাহকারীদের চালান বাড়তে পারে।
Omdia-এর প্রত্যাশা, কোরীয় নির্মাতারা টিভি প্যানেলের পাশাপাশি মনিটর প্যানেল উৎপাদনেও ৮.৫-প্রজন্মের OLED সক্ষমতার ব্যবহার বাড়াবে। এতে OLED মনিটর ও ল্যাপটপ ডিসপ্লের চালান বাড়বে। স্যামসাংয়ের বড় সাবস্ট্রেট এবং এলজি ডিসপ্লের বিদ্যমান উৎপাদন লাইন নিয়ে কাজ এই সুযোগ কাজে লাগানোর দুটি ভিন্ন পদ্ধতি।
একজন গ্রাহকের কেনাকাটার মধ্যেও একই রকম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে UBI Research-এর অ্যাপলসংক্রান্ত পূর্বাভাস। ২০২৬ সালের ৪.১ শতাংশ থেকে ২০৩০ সালে ১২.৫ শতাংশে পৌঁছালে অ্যাপলের OLED চাহিদায় কম্পিউটার ও ট্যাবলেটের অংশ ৮.৪ শতাংশ পয়েন্ট বাড়বে, অর্থাৎ শুরুর তুলনায় প্রায় তিন গুণ হবে।
এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে অ্যাপলের কেনা প্রতি আটটি OLED প্যানেলের একটি হবে কম্পিউটার ও ট্যাবলেটের জন্য। অন্য পণ্যশ্রেণিতে প্যানেলের চাহিদা বেশির ভাগ থাকলেও ব্যবসায় এদের অংশ আরও বড় হবে।
অর্ডার এখনো দাম ও গ্রাহক চাহিদার ওপর নির্ভরশীল
সেমিকন্ডাক্টরের বাড়তি খরচ ও ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের মন্থর বিক্রি প্যানেল নির্মাতাদের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি। চিপ ও মেমোরির দাম বাড়লে তৈরি ডিভাইসের খরচ বাড়তে পারে; OLED-এর দামও সাধারণত LCD-এর চেয়ে বেশি। এ বাড়তি খরচের কতটা গ্রাহকেরা মেনে নেবেন, তা নির্মাতাদের বিবেচনা করতে হবে।
প্রত্যাশিত বাজার উদ্বোধনের আগে স্যামসাং ডিসপ্লের OLED ল্যাপটপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত এবং নতুন উৎপাদন সক্ষমতাও রয়েছে। এলজি ডিসপ্লের সুযোগ মূলত FLiPP বাণিজ্যিক উৎপাদনে নেওয়া এবং বড় পর্দার অর্ডার পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। কয়েক বছর ধরে আসা ক্রয়ের সঙ্গে দুই কোম্পানিকেই বিনিয়োগের ব্যয় সামঞ্জস্য করতে হবে।
পণ্যের বিস্তারিত জানার পরবর্তী মাইলফলক হবে অক্টোবরে অ্যাপলের প্রত্যাশিত ঘোষণা। এরপর নভেম্বরের শুরুতে খুচরা বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলে সেটিই হবে সময়সূচির পরীক্ষা। দশকের শেষ নাগাদ কারখানা ও ডেস্কটপ পণ্যের পরিকল্পনা আরও বিনিয়োগ, উৎপাদনের অগ্রগতি এবং গ্রাহকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২৭ অক্টোবরের কাছাকাছি OLED টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো ও OLED আইপ্যাড মিনি ঘোষণার কথা অ্যাপলের; বিক্রি শুরু হতে পারে নভেম্বরের শুরুতে।
- দুটি ডিভাইসের প্রাথমিক সব OLED প্যানেল স্যামসাং ডিসপ্লে সরবরাহ করছে বলে খবর রয়েছে।
- আসানে স্যামসাংয়ের ৪.১ ট্রিলিয়ন ওনের লাইনে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়েছে; প্রস্তাবিত A7 লাইনে ২০২৯ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে।
- এলজি ডিসপ্লে FLiPP তৈরি করছে এবং পাজুর উৎপাদন লাইন উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে; বাণিজ্যিকভাবে চালুর কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি নেই।
- ২০২৯ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে OLED iMac প্রত্যাশিত; অ্যাপল ২২০ PPI-এর QD-OLED প্যানেল চেয়েছে বলে খবর রয়েছে।
- UBI Research-এর পূর্বাভাস, ২০২৬ সালের ৪.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩০ সালে অ্যাপলের OLED প্যানেলের চাহিদার ১২.৫ শতাংশ আসবে কম্পিউটার ও ট্যাবলেট থেকে।






