বকেয়া জরিমানায় লাংগাক দুতায় স্থানান্তর আটকে আছে
নাজিব রাজাকের প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বের নিয়ম চূড়ান্ত করছে মালয়েশিয়ার কারা বিভাগ। তবে স্থানান্তরের জন্য নির্ধারিত ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ না করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজাং কারাগারেই রয়েছেন। রাজা সুলতান ইব্রাহিম শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করার এক মাস পর, ১৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল এই দুই বিষয় নিশ্চিত করেন।
সূচিপত্র
- বকেয়া জরিমানায় লাংগাক দুতায় স্থানান্তর আটকে আছে
- গৃহবন্দিত্বের শর্ত কে নির্ধারণ করছে?
- ৫ কোটি রিঙ্গিত কোথায় জমা দিতে হবে?
- অর্থে হাত দিতে পারছেন না কেন, নাজিবের বক্তব্য
- অর্থ সংগ্রহ কতদূর এগিয়েছে?
- এসআরসি মামলার সাজা এ পর্যায়ে এল যেভাবে
- আগের রাজকীয় সংযোজনীটির কী হয়েছিল?
- দৈনন্দিন গৃহবন্দিত্বে কী থাকবে?
- পৃথক ১৫ বছরের সাজা ও রাজনৈতিক মতভেদ
- মূল বিষয়গুলো
এই ব্যবস্থায় এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল মামলায় বাকি সাজা ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িতে কাটাতে পারবেন নাজিব। তাঁর প্রধান আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, নির্ধারিত স্থানটি কুয়ালালামপুরের লাংগাক দুতায় নাজিবের বাসভবন, যেখানে তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকবেন।
স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এখন দুটি বাস্তব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: জরিমানা পরিশোধ এবং কারাগারের বাইরে বন্দিত্বের নিয়ম চূড়ান্ত করা। নাজিবের আইনজীবীরা বলছেন, তাঁর সম্পদের ওপর সরকারি বিধিনিষেধের কারণে অর্থ জোগাড়ের সক্ষমতা সীমিত। সাইফুদ্দিনের ভাষায়, মালয়েশিয়ায় এমন ব্যবস্থা নতুন হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ এর শর্ত প্রস্তুত করছে।
সামনে আরও একটি পৃথক সাজা রয়েছে। ১৪ অক্টোবর হাইকোর্ট 1Malaysia Development Berhad বা 1MDB-সংক্রান্ত আরেক মামলায় নাজিবের ১৫ বছরের কারাদণ্ড স্থগিত করার আবেদন নাকচ করেন। বর্তমান এসআরসি মামলার সাজা ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হলে ওই সাজা শুরু হওয়ার কথা।
গৃহবন্দিত্বের শর্ত কে নির্ধারণ করছে?
সাইফুদ্দিন বলেন, শর্ত আরোপের অনুমতি দিয়ে ক্ষমা বোর্ডের সচিবালয়ের পাঠানো চিঠি অনুযায়ী কাজ করছে কারা বিভাগ। জেরতিহের ফেলদা তেনাংয়ে জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থার একটি অনুষ্ঠানের পর তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভাগের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চিঠিতে দেওয়া ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন:
ক্ষমা বোর্ডের সচিবালয় থেকে কারা বিভাগে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভাগ যেকোনো শর্ত আরোপ করতে পারে।
সাইফুদ্দিন বলেন, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করাই বিভাগের কাজ। নিয়ম চূড়ান্ত বা স্থানান্তরের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল মোহদ দুকি মোকতার ১৯ সেপ্টেম্বর বলেন, দর্শনার্থী, নিরাপত্তা এবং নাজিবের চলাচল পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো এসওপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারাগারের বদলে ব্যক্তিগত বাসভবনে সাজা কাটানোর ক্ষেত্রে তদারকির বাস্তব নির্দেশনাই এসব এসওপি।
শাফি বলেন, নাজিব ইতিমধ্যে রাজকীয় আদেশ ও এর শর্তাবলিসংবলিত একটি পরিশিষ্ট পেয়েছেন। তবে ১৮ অক্টোবরও কারা বিভাগ বাস্তবায়নের নিয়ম চূড়ান্ত করছিল। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আইনবিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক জামরি মিসমানও বলেন, প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে বিভাগ নাজিবকে আরও ব্যাখ্যা দিয়েছে।
৫ কোটি রিঙ্গিত কোথায় জমা দিতে হবে?
অ্যাটর্নি জেনারেল দুকি বলেন, এসআরসি মামলাটি কুয়ালালামপুর হাইকোর্টে দায়ের ও শুনানি হওয়ায় জরিমানাটি ওই আদালতের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর তিনি নিশ্চিত করেন, নাজিবের পরিবার অর্থটি পরিশোধ করেনি।
দুকি আরও বলেন, জরিমানা পরিশোধের পর স্থানান্তরের আগে প্রশাসনিক কাজ বাকি থাকবে। সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন:
অর্থ পরিশোধের পর দাতুক সেরি নাজিবকে ঠিক কবে বাড়িতে নেওয়া হবে, তা আমি বলতে পারছি না; প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
নাজিবের আইনজীবী হাসনাল রেজুয়া মেরিকান বলেন, জরিমানা দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। নাজিব যেকোনো সময় শর্তটি পূরণ করতে পারবেন, তবে অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজাং কারাগারেই সাজা কাটাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আইনবিষয়ক বিভাগ বলেছে, শর্তসাপেক্ষ ক্ষমার ক্ষেত্রে আরোপিত সব শর্ত মানতে হবে। কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে ক্ষমা বাতিল হবে এবং বাকি সাজা কাটাতে নাজিবকে অবিলম্বে কারাগারে ফিরতে হবে।
অর্থে হাত দিতে পারছেন না কেন, নাজিবের বক্তব্য
নাজিবের আইনজীবী দল ২০ সেপ্টেম্বরের এক বিবৃতিতে বলেছে, তাঁর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো সরকারি জব্দাদেশ ও আইনি কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। আইনজীবীদের ভাষ্য, এসব বিধিনিষেধের কারণে সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের বিষয়টি তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে নেই।
জব্দাদেশের মাধ্যমে কোনো সম্পদের লেনদেন সীমিত করা হয়। নাজিবের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভাষ্য, এখনই মূল সমস্যা হলো সম্পত্তি বা অন্যান্য সম্পদকে আদালতে জমা দেওয়ার মতো অর্থে রূপান্তর করা।
নাজিবের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাফি অ্যান্ড কোং জানিয়েছে, তিনি কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন:
এই পরিস্থিতিতে, শর্তটি কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের মক্কেল বর্তমানে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং বিকল্পগুলো বিবেচনা করছেন,
হাসনাল বলেন, অর্থ পরিশোধের শর্ত পূরণে সহায়তার জন্য কিছু সম্পদ ছাড় করাতে আইনজীবী দল চেষ্টা করছে। প্রয়োজন হলে আদালতের মাধ্যমে আবেদন করা যেতে পারে। অর্থ জোগাড়ের প্রচেষ্টায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও লাগবে বলে তিনি জানান।
নাজিবের আইনজীবী দল বলেছে, সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ, বিশেষ করে উপপ্রধানমন্ত্রী ও ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন বা ইউএমএনওর নেতা আহমদ জাহিদ হামিদির প্রতি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দলের সদস্য বা সাধারণ মানুষ যেন অনুদান দিতে বাধ্য বোধ না করেন, তা চান না নাজিব।
অর্থ সংগ্রহ কতদূর এগিয়েছে?
১৮ সেপ্টেম্বরের ক্ষমার সিদ্ধান্তের পর ইউএমএনও সংহতি তহবিল চালু করে। দলের মহাসচিব আসরাফ ওয়াজদি দুকি বলেন, প্রথম তিন ঘণ্টায় তহবিলে ৬ লাখ ৩৪ হাজার রিঙ্গিতের বেশি জমা পড়ে এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে তা ১০ লাখ রিঙ্গিতে পৌঁছায়।
আসরাফ বলেন, অনেক সমর্থক ১০ বা ৫০ রিঙ্গিত করে দিয়েছেন। শুরুতে দ্রুত সাড়া মিললেও আদালতে পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্কটি ছিল অনেক বেশি।
১০ লাখ রিঙ্গিত ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানার ২ শতাংশ। প্রাথমিক সংগ্রহের অঙ্কের তুলনায় শুধু অনুদান দিয়ে পুরো জরিমানা মেটাতে আরও ৪ কোটি ৯০ লাখ রিঙ্গিত প্রয়োজন হতো।
১৮ অক্টোবর সাইফুদ্দিনের বক্তব্যে নিশ্চিত হয়, আদালতে জরিমানা পরিশোধ এখনো বাকি। তহবিল সংগ্রহের অঙ্কটি আগের এক সময় পর্যন্ত দলের সংগৃহীত অর্থের হিসাব; অন্যদিকে স্থানান্তরের শর্ত পূরণে জরিমানাটি আদালতে জমা দিতে হবে।
এসআরসি মামলার সাজা এ পর্যায়ে এল যেভাবে
নাজিবের এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরিত ৪ কোটি ২০ লাখ রিঙ্গিতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসআরসি আগে 1MDB-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল। 1MDB হলো রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল, যা বৃহত্তর আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত।
২০২০ সালের জুলাইয়ে নাজিবকে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ২১ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের তিনটি অভিযোগ, অর্থ পাচারের তিনটি অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। চূড়ান্ত আপিল ফেডারেল কোর্ট খারিজ করার পর ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট তিনি কাজাং কারাগারে যান।
২০২৪ সালের আংশিক ক্ষমার মাধ্যমে ক্ষমা বোর্ড তাঁর কারাদণ্ড কমিয়ে ছয় বছর এবং জরিমানা কমিয়ে ৫ কোটি রিঙ্গিত করে। সাজা অর্ধেক করা হয়, আর জরিমানা ১৬ কোটি রিঙ্গিত বা মূল অঙ্কের প্রায় ৭৬ শতাংশ কমানো হয়।
বর্তমান ব্যবস্থার দিকে নিয়ে আসা প্রধান ঘটনাগুলো হলো:
- জুলাই ২০২০: এসআরসি মামলায় নাজিবকে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ২১ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়।
- ২৩ আগস্ট ২০২২: চূড়ান্ত আপিলে হেরে তিনি সাজা ভোগ শুরু করেন।
- ২০২৪: আংশিক ক্ষমায় কারাদণ্ড কমে ছয় বছর এবং জরিমানা কমে ৫ কোটি রিঙ্গিত হয়।
- ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: নতুন করে ক্ষমার আবেদন বিবেচনা স্থগিত করে ক্ষমা বোর্ড।
- ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বোর্ডের ৬৪তম বৈঠকের পর সুলতান ইব্রাহিম শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা মঞ্জুর করেন।
- ১৪ অক্টোবর ২০২৬: পৃথক 1MDB মামলার ১৫ বছরের সাজা স্থগিত করার আবেদন হাইকোর্ট নাকচ করেন।
- ১৮ অক্টোবর ২০২৬: সাইফুদ্দিন বলেন, গৃহবন্দিত্বের নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার পথে এবং ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা এখনো বকেয়া।
আগের রাজকীয় সংযোজনীটির কী হয়েছিল?
সাবেক রাজা সুলতান আবদুল্লাহর নামে প্রচারিত একটি সংযোজনীর মাধ্যমে নাজিব আগে গৃহবন্দিত্ব চেয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ২০২৪ সালের আংশিক ক্ষমার পর অতিরিক্ত রাজকীয় নথিটি তাঁকে এসআরসি মামলার বাকি সাজা বাড়িতে কাটানোর অনুমতি দেয়।
সরকার প্রথমে নথিটির অস্তিত্ব ও বৈধতা নিয়ে আপত্তি তোলে। পরে পাহাং রাজপ্রাসাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে। নাজিব সেটি কার্যকর করার জন্য বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেন। বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ আইন মেনে হয়েছে কি না, তা আদালত পরীক্ষা করতে পারে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট ওই আবেদন খারিজ করেন। আদালত বলেন, ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি ক্ষমা বোর্ডের বৈঠকে সংযোজনীটি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং রাজকীয় ক্ষমাসংক্রান্ত ফেডারেল সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
নাজিব আপিল করলেও ২০২৬ সালে তা প্রত্যাহার করেন। এরপর তিনি নতুন আবেদন করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ সেপ্টেম্বর সুলতান ইব্রাহিম সিদ্ধান্ত দেন। ফলে আগের আদালত-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর নতুন ক্ষমা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান ব্যবস্থা এসেছে।
দৈনন্দিন গৃহবন্দিত্বে কী থাকবে?
কেপংয়ের সংসদ সদস্য লিম লিপ ইং মৌলিক শর্তগুলো প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে, কারা নাজিবের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন, তিনি টেলিফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন কি না এবং কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির এই আইনপ্রণেতা বলেন, এ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে গৃহবন্দিত্বের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার প্রয়োজন হতে পারে—এ কথা স্বীকার করেও তিনি বিধিনিষেধ সম্পর্কে জনসাধারণকে স্পষ্টভাবে জানানোর আহ্বান জানান।
নাজিবের চলমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে লিম সরাসরি বলেন:
নাজিব এখনো বন্দি, মুক্তি পাওয়া ব্যক্তি নন,
শাফি বলেন, জল্পনা এড়াতে নাজিবকে আদেশের বিষয়বস্তু প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। দর্শনার্থী, যোগাযোগ, বিনোদন এবং সম্ভাব্য ইলেকট্রনিক নজরদারি নিয়ে বিস্তারিত নিয়ম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
নাজিব ও তাঁর পরিবারের জন্য প্রস্তাবিত স্থানান্তরের ফলে এসআরসি মামলার সাজা ভোগের স্থান বদলাবে এবং তাঁরা একসঙ্গে থাকতে পারবেন। কারা বিভাগের জন্য এর অর্থ হলো, ব্যক্তিগত বাসভবনে বন্দিত্ব তদারক করতে হবে; শর্ত ভঙ্গ হলে তাঁকে কারাগারে ফিরতে হবে।
পৃথক ১৫ বছরের সাজা ও রাজনৈতিক মতভেদ
1MDB-সংক্রান্ত পৃথক মামলায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ২০০ কোটির বেশি রিঙ্গিতের সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে নাজিব দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ১ হাজার ১৩৮ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করছেন।
১৪ অক্টোবর বিচারক নূর রুয়েনা এমডি নর্ডিন তাঁর সাজা স্থগিতের আবেদন নাকচ করেন। অর্থাৎ আপিল চলাকালে সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে না। নাজিবের আইনজীবীরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং আর্থিক দণ্ডের বিশাল অঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন।
সাজা স্থগিত করার মতো বিশেষ পরিস্থিতি নেই বলে জানান বিচারক। জনস্বার্থ বিবেচনার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন:
অপরাধের গুরুত্ব জনস্বার্থের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়, যা এই আদালতকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে,
শাফি বলেন, সাজা স্থগিতের আবেদন সরাসরি আপিল আদালতে করা হবে। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত এসআরসি মামলার সাজাসংক্রান্ত রাজকীয় আদেশে প্রভাব ফেলে না। এসআরসি মামলার সাজা ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হলে পৃথক ১৫ বছরের সাজা শুরু হওয়ার কথা।
ক্ষমার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের শাসক জোটের ভেতরের মতভেদও প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিবাদে পরিবহনমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডিএপি নেতা অ্যান্থনি লোকে। পরে তিনি বলেন, নাজিবের গৃহবন্দিত্ব শুরু না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় থাকবেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিএপির অন্য মন্ত্রীরাও সরকারে থেকে যান।
আনোয়ার বলেন, ক্ষমার সিদ্ধান্ত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান দুর্বল করেনি এবং চলমান মামলাগুলো আদালতের মাধ্যমে এগোতে হবে। ইউএমএনও সভাপতি জাহিদ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তাৎক্ষণিক পরবর্তী পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট: ৫ কোটি রিঙ্গিত পরিশোধ, কারা বিভাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং আপিল আদালতে প্রতিরক্ষা দলের পরিকল্পিত আবেদন।
মূল বিষয়গুলো
- গৃহবন্দিত্বের জন্য নির্ধারিত ৫ কোটি রিঙ্গিত জরিমানা বকেয়া থাকায় নাজিব কাজাং কারাগারে রয়েছেন।
- ক্ষমা বোর্ডের সচিবালয়ের দেওয়া ক্ষমতাবলে কারা বিভাগ নিয়ম চূড়ান্ত করছে।
- প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত নাজিব লাংগাক দুতার বাসভবনে বন্দি থাকবেন।
- আইনজীবীদের দাবি, জব্দ সম্পদ পরিশোধের সক্ষমতা সীমিত করেছে; কিছু সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি পেতে তাঁরা চেষ্টা করছেন।
- ইউএমএনওর তহবিল সংগ্রহের প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ লাখ রিঙ্গিত জমা পড়ে, যা জরিমানার ২ শতাংশ।
- এসআরসি মামলার সাজা শেষে পৃথক ১৫ বছরের সাজা শুরু হওয়ার কথা; নাজিব আপিল করছেন এবং সাজা স্থগিতের আবেদন জানাচ্ছেন।
- গৃহবন্দিত্বের শর্ত ভঙ্গ হলে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা বাতিল হবে এবং তাঁকে অবিলম্বে কারাগারে ফিরতে হবে।






