অল্প ব্যবধানে হার, শেষ হলো টানা জয়ের দুর্দান্ত ধারা
২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর সিডনির রয়্যাল র্যান্ডউইকে ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের দ্য এভারেস্টে হংকংয়ের চ্যাম্পিয়ন কা ইং রাইজিংকে হারিয়েছে টেম্পটেড। গত বছরের আসরের ফল উল্টে দিয়ে ২১টি টানা জয়ের ধারারও অবসান ঘটিয়েছে সে।
সূচিপত্র
- অল্প ব্যবধানে হার, শেষ হলো টানা জয়ের দুর্দান্ত ধারা
- যেভাবে এক নম্বর গেট জয়ের সুবিধা হয়ে উঠল
- যে চাল ফেভারিটকে পেছন থেকে ধাওয়া করতে বাধ্য করল
- হেইসের মতে, সমস্যা গেটে; ট্র্যাকের অবস্থায় নয়
- গত বছরের হারকে জয়ে বদলে দিল টেম্পটেড
- প্রবল ফেভারিটের মুখোমুখি প্রস্তুত প্রতিদ্বন্দ্বী
- একটি স্প্রিন্টে কেন ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের পুরস্কার
- মঙ্গলবারের গেট বরাদ্দ থেকে হংকংয়ে ফেরার প্রস্তুতি
- মূল বিষয়গুলো
চ্যাড স্কোফিল্ডের চড়ে এক নম্বর গেট কাজে লাগিয়ে ভেতরের দিকে কম দূরত্বে দৌড়ানোর সুযোগ পায় গডলফিনের এই মাদি ঘোড়া। এরপর শেষ সোজা পথে গতি বাড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে দেয় সে। জ্যাক পার্টনের চড়ে ১১ নম্বর গেট থেকে দৌড়ানো কা ইং রাইজিং বাইরের দিক দিয়ে ছুটে জোরালোভাবে শেষ করার চেষ্টা করলেও ফিনিশিং লাইনে পৌঁছায় দেরিতে। ক্রিস ওয়ালারের প্রশিক্ষণে এবং জেমস ম্যাকডোনাল্ডের চড়ে জোলিয়েস্টার তৃতীয় হয়।
বিজয়ের ব্যবধানকে ‘লং নেক’ বলা হয়েছে, যদিও অন্য বিবরণে এক নেক, আধা নেক বা প্রায় এক মাথা ব্যবধানের কথা বলা হয়েছে। শেষের ব্যবধান ছিল সামান্য, তবে কৌশলগতভাবে দুই ঘোড়ার মধ্যে দূরত্ব ছিল অনেক বেশি: টেম্পটেড ভেতরের দিকে জায়গা পেয়েছিল, আর ফেভারিটকে বাঁক ঘুরে অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল।
১,২০০ মিটার দৌড়ে ১ মিনিট ৮.২১ সেকেন্ড সময় নিয়ে জেতায় টেম্পটেড পেয়েছে ৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার, যা প্রায় ৪.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালের এভারেস্টে ইয়েস ইয়েস ইয়েসের গড়া ট্র্যাক রেকর্ডের চেয়ে সময়টি এক সেকেন্ডের সামান্য কম বেশি। প্রশিক্ষক ডেভিড হেইসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ বারের দৌড়ে কা ইং রাইজিংয়ের এটি মাত্র তৃতীয় হার; গ্রুপ ১ জয়ের সংখ্যা নয়টিতেই রয়ে গেল। গ্রুপ ১ হলো থরোবার্ড ঘোড়দৌড়ের সর্বোচ্চ শ্রেণি।
হেইস বাইরের দিকের শুরুর অবস্থান এবং এর ফলে তৈরি হওয়া কঠিন দৌড়কে হারের কারণ বলেছেন। বৃষ্টি ও নরম ট্র্যাক নিয়ে দৌড়ের আগে উদ্বেগ থাকলেও তাঁর মতে, ট্র্যাকের অবস্থা ছিল আদর্শ।
যেভাবে এক নম্বর গেট জয়ের সুবিধা হয়ে উঠল
মঙ্গলবার গেট বরাদ্দের পর থেকেই টেম্পটেডের ভেতরের দিকের অবস্থান কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে শুরু করেন স্কোফিল্ড। এ নিয়ে তিনি তাঁর বাবা, সাবেক চ্যাম্পিয়ন জকি গ্লিন স্কোফিল্ডের সঙ্গে আলোচনা করেন। গ্লিনের মতে, ভেতরের রেলিংয়ের সবচেয়ে কাছের অবস্থানটাই ছিল তাঁদের সবচেয়ে বড় সুবিধা।
গেট হলো ঘোড়ার শুরুর খোপ। বাঁক আছে এমন ট্র্যাকে রেলিংয়ের কাছের ঘোড়া কম দূরত্ব পাড়ি দিতে পারে, যদি জকি জায়গা বের করতে পারেন। মাঠের বাইরের দিকে থাকা ঘোড়াকে বেশি পথ পাড়ি দিতে হতে পারে, অথবা দৌড়ের উপযুক্ত অবস্থান খুঁজতে পিছিয়ে যেতে হতে পারে।
প্রথম ২০০ মিটারের দৌড় দুই ঘোড়ারই রেসের গতিপথ ঠিক করে দেয়। স্কোফিল্ড শুরুতে টেম্পটেডকে এগিয়ে যেতে বলেন, নিজের অবস্থান ধরে রাখেন, তারপর সামনের ঘোড়াগুলোর পেছনে আশ্রয় নেন। কা ইং রাইজিং বাইরের দিকে থাকায় পার্টন তাকে সংযত করেন; এতে ফেভারিট তার দলের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেছনে চলে যায়।
প্রথমবারের মতো দ্য এভারেস্টে অংশ নেওয়া স্কোফিল্ড জানান, প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তির কথা বিবেচনা করে টেম্পটেডকে নিয়ে তাঁর স্বাভাবিক কৌশল বদলেছিলেন।
"সাধারণত আমি ওকে শান্তভাবে দৌড়াতে দিই এবং বিশ্বাস করি, শেষ দিকে ও সবার চেয়ে অনেক ভালো করবে," তিনি বলেন।
স্কোফিল্ড বলেন, তিনি কা ইং রাইজিংয়ের অবস্থানের ওপর নজর রেখেছিলেন এবং নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন, যাতে ফেভারিট বাইরের দিকে থাকে। টেম্পটেড সামনের ঘোড়াগুলোর পেছনে স্থির হওয়ার পর সে তাঁর কাঙ্ক্ষিত আশ্রয়যুক্ত দৌড় পায়।
যে চাল ফেভারিটকে পেছন থেকে ধাওয়া করতে বাধ্য করল
প্রায় ৩০০ মিটার বাকি থাকতে টেম্পটেডকে এগিয়ে দেন স্কোফিল্ড। তাঁর ভাষ্য, সে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তিন দৈর্ঘ্যের ব্যবধান তৈরি করেছিল, যা শেষ পর্যায় পর্যন্ত তাকে এগিয়ে রাখে।
দৌড়ের প্রায় অর্ধেক পথ পেরোনোর সময় কা ইং রাইজিং ছিল ষষ্ঠ স্থানে; তাকে পুরো মাঠ ঘুরে আসতে হয়। হেইসের বর্ণনায়, ছয়টি ঘোড়ার বাইরের দিকে কোনো আশ্রয় ছাড়াই দৌড়াতে হয়েছে তাকে। ঘোড়দৌড়ে ‘কভার’ বলতে সামনে আরেকটি ঘোড়া থাকা বোঝায়, যা বাতাস থেকে আড়াল দেয় এবং দৌড়ের সময় ঘোড়াকে স্থির থাকতে সাহায্য করে। কোনো ঘোড়া বাইরে থেকে কভার ছাড়া দৌড়ালে তাকে একদিকে বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়, অন্যদিকে সে বেশি উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে।
প্রায় ২০০ মিটার বাকি থাকতেও টেম্পটেড প্রায় দুই দৈর্ঘ্যে এগিয়ে ছিল। কা ইং রাইজিং ও হেডওয়াল বাইরের দিক দিয়ে এগিয়ে আসে, আর জোলিয়েস্টার রেলিংয়ের কাছ দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানায়। টেম্পটেডের ব্যবধান দ্রুত কমে গেলেও সে জয় ধরে রাখে।
রেকর্ড করা প্রথম ও শেষ ভাগের সময় ছিল যথাক্রমে ৩৩.৯৩ ও ৩৪.২৮ সেকেন্ড; মোট সময় ৬৮.২১ সেকেন্ড। কাছাকাছি এই সময়গুলো দেখায়, দৌড় শেষের দিকে পৌঁছালেও গতি খুব একটা কমেনি।
স্কোফিল্ড বলেন, শুরুতে টেম্পটেড যেভাবে গতি বাড়িয়েছিল, তাতে তাঁর মনে হয়েছিল তাকে ধরা কঠিন হবে। তবে র্যান্ডউইকের দীর্ঘ সোজা পথ কা ইং রাইজিংকে জবাব দেওয়ার যথেষ্ট সময় দিয়েছিল।
হেইসের মতে, সমস্যা গেটে; ট্র্যাকের অবস্থায় নয়
কফিল্ড থেকে দৌড় দেখেন হেইস। তিনি বলেন, কা ইং রাইজিং পরিকল্পনার চেয়ে বেশি পেছনে ছিল। তাঁর ব্যাখ্যায় আবহাওয়ার চেয়ে ১১ নম্বর গেট এবং ঘোড়াটির পাড়ি দেওয়া অতিরিক্ত পথই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রশিক্ষক বলেন, বাইরের দিকের গেটটি প্রথমে তাঁর ঘোড়ার সহায়ক হবে বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু দৌড় অন্যভাবে এগোয়। টেম্পটেড ও জোলিয়েস্টার ভেতরের দিকে কম দূরত্বে দৌড়ায়, আর কা ইং রাইজিংকে পুরো মাঠ ঘুরে আসতে হয়।
"প্রথম ও তৃতীয় হওয়া ঘোড়া দুটো ভেতরের দিক দিয়ে বাঁক কেটে দারুণ দৌড়েছে। আর আমাদের কোনো কভার ছাড়াই ছয় ঘোড়া বাইরে থেকে ভয়াবহ দৌড় দিতে হয়েছে," বলেন হেইস।
দৌড়ের পর র্যান্ডউইকের ট্র্যাকের অবস্থা নিয়ে হেইসের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট।
"ট্র্যাকের অবস্থা একেবারে নিখুঁত ছিল," তিনি বলেন।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি উদ্বেগ তৈরি করেছিল, কারণ হংকংয়ের শা টিনে কা ইং রাইজিংয়ের বেশির ভাগ দৌড়ই হয়েছে তুলনামূলক শক্ত মাটিতে। শুরুর কিছুক্ষণ আগে ট্র্যাকের অবস্থার মান উন্নীত করার পর তাকে ‘সফট’ বলা হয়েছিল; আরেক বিবরণে দৌড়ের আগে রোদ থাকলেও ট্র্যাককে ‘গুড’ ও ‘সফট’-এর মাঝামাঝি বলা হয়। ঘোড়দৌড়ে ট্র্যাকের পৃষ্ঠের অবস্থা বোঝাতে ‘গোয়িং’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
পার্টন ভেন্যু সম্পর্কে ভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। জকি বলেন, এক বছর আগে সেখানে দ্য এভারেস্ট জিতলেও কা ইং রাইজিংকে র্যান্ডউইকে অস্বস্তিতে মনে হয়েছে।
এই ট্র্যাকটা নিয়ে কী সমস্যা জানি না, তবে কোনো কারণে এখানে ওর কষ্ট হয়," বলেন পার্টন। "৩০০ মিটার বাকি থাকতেই ওর গতি ফুরিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু মনোবল ও শ্রেণির জোরেই এতটা কাছে আসতে পেরেছে।
হেইস বলেন, পার্টনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পার্টনও বাইরের দিক দিয়ে কঠিন দৌড় এবং বিজয়ী ঘোড়ার অনুকূল অবস্থানের কথা বলেছেন। হেইসের মনে হয়েছে, ফিনিশিং পোস্ট পেরিয়ে এক পা এগিয়ে গিয়েছিল কা ইং রাইজিং; শেষ মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ কত অল্পের জন্য ব্যর্থ হয়েছে, তা বোঝাতে এই কথাই যথেষ্ট।
"জ্যাকের (পার্টন) সঙ্গে কথা বলেছি। তার মনে হয়েছে, গেটের কারণে আমাদের এত বাইরে পড়তে হয়েছে, আর বিজয়ী ঘোড়াটি দারুণ দৌড় পেয়েছে। বিজয়ীকে অভিনন্দন। ওর বসন্তকালীন মৌসুমটা দারুণ কেটেছে," বলেন হেইস।
গত বছরের হারকে জয়ে বদলে দিল টেম্পটেড
নিজেরও টানা সাফল্যের ধারা নিয়ে এ দৌড়ে এসেছিল টেম্পটেড। ২০২৫ সালের এভারেস্টে কা ইং রাইজিংয়ের কাছে দ্বিতীয় হওয়ার পর চার বছর বয়সী মাদি ঘোড়াটি টানা পাঁচটি দৌড়েই জিতেছিল। সেই আসরে কা ইং রাইজিং তাকে এক ও এক-চতুর্থাংশ দৈর্ঘ্যে হারায়।
শনিবারের ফল সেই ক্রম উল্টে দেয় এবং টেম্পটেডকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয় এনে দেয়। আগের সাক্ষাতের পর তার উন্নতিই স্কোফিল্ডের আত্মবিশ্বাসের মূল ভিত্তি ছিল, যদিও প্রতিযোগীদের মধ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিংধারী ঘোড়াও ছিল।
স্কোফিল্ড বলেন, তিনি জানতেন তাঁর চড় নিখুঁত হতে হবে, তবে টেম্পটেড জিততে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস ছিল। তাঁর বাবা বলেন, ছেলের এই সাফল্য দেখা তাঁর নিজের জেতা যেকোনো বড় দৌড়ের চেয়েও ভালো লাগার।
প্রশিক্ষক সিয়ারন মাহের আশা করেছিলেন, টেম্পটেড তার সেরা পারফরম্যান্স দেবে। দৌড়ের পর তিনি মাদি ঘোড়াটির চেষ্টা এবং স্কোফিল্ডের বিচারবুদ্ধির প্রশংসা করেন।
"অসাধারণ। আমার মনে হয়েছিল, ও নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেবে। আমি দারুণ খুশি," বলেন মাহের।
মাহের বলেন, জকি তাঁর নিচে থাকা ঘোড়াটির সামর্থ্য বুঝেছিলেন এবং জয়ের জন্য টেম্পটেডের অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি প্রস্তুতি পর্বের সঙ্গে টেম্পটেডের উন্নতি হয়েছে এবং সামনে আরও উন্নতির সম্ভাবনা আছে।
প্রবল ফেভারিটের মুখোমুখি প্রস্তুত প্রতিদ্বন্দ্বী
কা ইং রাইজিংয়ের জয়ের দশমিক অডস ছিল ১.৩৫ অস্ট্রেলীয় ডলার, আর বাজির বাজারে পরের পছন্দ ছিল টেম্পটেড, যার অডস ৭ অস্ট্রেলীয় ডলার। এই অডসে ১ অস্ট্রেলীয় ডলার বাজি জিতলে মূল বাজিসহ যথাক্রমে ১.৩৫ বা ৭ অস্ট্রেলীয় ডলার ফেরত মিলত।
বাজির অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশই কা ইং রাইজিংয়ের ওপর পড়ে, যা দ্য এভারেস্টের ইতিহাসে তাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া ফেভারিটে পরিণত করে। সহজভাবে বললে, বাজি ধরা প্রতি ১০ ডলারের মধ্যে প্রায় ৭ ডলারই গিয়েছিল হংকংয়ের চ্যাম্পিয়নের পক্ষে।
তার রেকর্ড থেকেই এই আত্মবিশ্বাসের ব্যাখ্যা মেলে। ছয় বছর বয়সী এই খোজা ঘোড়াটি এসেছিল টানা ২২তম জয়ের লক্ষ্যে; এর আগে নয়টি গ্রুপ ১ জয় এবং যে মাদি ঘোড়াকে সে আগে হারিয়েছিল, তার বিপক্ষে এভারেস্ট জয়ের অভিজ্ঞতাও ছিল।
তবে বাজির বাজারে টেম্পটেড ছিল দ্বিতীয় পছন্দ। আগের সাক্ষাতের পর তার টানা পাঁচ জয় স্কোফিল্ডের বিশ্বাসকে জোরালো ভিত্তি দিয়েছিল। ফলাফলে মুখোমুখি হয়েছিল দুটি শক্তিশালী রেকর্ড; শুরুর অবস্থান এবং জকিদের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তই তাদের আলাদা করে দেয়।
একটি স্প্রিন্টে কেন ২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের পুরস্কার
দ্য এভারেস্টে ১২টি স্প্রিন্টার ১,২০০ মিটারে দৌড়ায়, যা ছয় ফারলং বা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মাইলের সমান। সিডনি স্প্রিং কার্নিভালের প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি এই দৌড়; ঘাসের ট্র্যাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পুরস্কারের ঘোড়দৌড়ও এটি।
২০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের মোট পুরস্কারমূল্য থরোবার্ড ঘোড়দৌড়ের মধ্যে সৌদি কাপের পরে, যেটি মাটির ট্র্যাকে অনুষ্ঠিত হয়। টেম্পটেডের ৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের জয়ী পুরস্কার দ্য এভারেস্টের মোট পুরস্কারের ৩৫ শতাংশ। এমনকি সর্বশেষ হওয়া ঘোড়াটিও পেয়েছে ৭০০,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার।
বিজয়ীর পুরস্কার ছিল সর্বশেষ স্থানে থাকা ঘোড়ার প্রাপ্ত অর্থের দশ গুণ। এই অঙ্কগুলো দেখায়, এক মিনিটের কিছু বেশি সময়ের দৌড়ে ঘোড়ার মালিক এবং মাঠে জায়গা নিশ্চিত করা ব্যক্তিদের জন্য কেন এত বড় ক্রীড়া ও আর্থিক stakes জড়িয়ে থাকে।
এই দৌড়ে স্লট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একটি স্লটের জন্য ক্রেতারা ৭০০,০০০ অস্ট্রেলীয় ডলার দেন, এরপর ঘোড়াকে দৌড়ে আনার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন এবং পুরস্কারের অর্থ ভাগ করে নেন। ওই দামে ১২টি স্লটের মোট মূল্য ৮.৪ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার।
এই ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেগাসাস ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে, যে দৌড় হয় ১,৮০০ মিটারে। দ্য এভারেস্টে ‘ওয়েট-ফর-এজ’ নিয়মে ঘোড়ার পিঠে বহন করা ওজন বয়স ও লিঙ্গসহ বিভিন্ন বিষয় অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। হ্যান্ডিক্যাপে ব্যক্তিগত দৌড়ের রেকর্ড অনুযায়ী ওজন সমন্বয় করা হয়।
মঙ্গলবারের গেট বরাদ্দ থেকে হংকংয়ে ফেরার প্রস্তুতি
গেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে নির্ধারিত ফিনিশ পর্যন্ত ঘটনাগুলোই দৌড়ের ভাগ্য ঠিক করে দেয়। একই সঙ্গে দেখা যায়, টেম্পটেডের দল কীভাবে অনুকূল গেটকে কার্যকর রেস পরিকল্পনায় রূপ দিয়েছিল।
- ২০২৫ সালের এভারেস্ট: কা ইং রাইজিং টেম্পটেডকে এক ও এক-চতুর্থাংশ দৈর্ঘ্যে হারায়।
- দুই এভারেস্টের মধ্যবর্তী সময়ে: টেম্পটেড টানা পাঁচটি দৌড়ে জেতে।
- ২০২৬ সালের দৌড়ের আগের মঙ্গলবার: টেম্পটেড এক নম্বর গেট পায়, আর কা ইং রাইজিং পায় ১১ নম্বর। ভেতরের অবস্থান কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে চ্যাড ও গ্লিন স্কোফিল্ড আলোচনা করেন।
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৬: রয়্যাল র্যান্ডউইকে টেম্পটেড জেতে; কা ইং রাইজিং দ্বিতীয় এবং জোলিয়েস্টার তৃতীয় হয়।
- দৌড়ের পর: হেইস জানান, কা ইং রাইজিং হংকংয়ে ফিরবে। লক্ষ্য থাকবে লংজিনস হংকং ইন্টারন্যাশনাল রেসেস, এরপর চ্যাম্পিয়নস ডে।
হেইস বলেন, হংকংয়ের মৌসুম সবে শুরু হয়েছে এবং কা ইং রাইজিং আগামী বছর দ্য এভারেস্টে ফিরতে পারবে বলে তিনি আশা করেন। অস্ট্রেলিয়ায় আবার দৌড়ানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
"লংজিনস ডেতে সে অংশ নেবে, তারপর চ্যাম্পিয়নস ডে। মৌসুম সবে শুরু হয়েছে, তাই আশা করি আগামী বছর আমরা ফিরতে পারব," বলেন হেইস।
টেম্পটেডের জন্য তাৎক্ষণিক অর্জন হলো গত বছরের ফল উল্টে দিয়ে এমন এক চ্যাম্পিয়নকে হারানো, যে টানা ২১ দৌড়ে অপরাজিত ছিল। কা ইং রাইজিংয়ের সামনে এখন হংকংয়ে মৌসুম আবার শুরু করার কাজ। অল্প ব্যবধানে হারের পর নিজের ঘোড়ার শেষের লড়াইয়ে গর্বিত হলেও ফলাফলে হতাশ হেইস।
মূল বিষয়গুলো
- ১৭ অক্টোবর রয়্যাল র্যান্ডউইকে ২০২৬ সালের দ্য এভারেস্ট জিতে ৭ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার পেয়েছে টেম্পটেড।
- চ্যাড স্কোফিল্ড এক নম্বর গেট কাজে লাগিয়ে কম দূরত্বে দৌড়ান, এরপর ফিনিশের প্রায় ৩০০ মিটার আগে এগিয়ে যান।
- ১১ নম্বর গেট থেকে দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছে কা ইং রাইজিং; তাতে তার টানা ২১ জয়ের ধারা থেমেছে।
- প্রশিক্ষক ডেভিড হেইস বাইরের দিক দিয়ে কঠিন দৌড়কে হারের কারণ বলেছেন এবং জানিয়েছেন, ট্র্যাকের অবস্থা ছিল আদর্শ।
- প্রশিক্ষক ক্রিস ওয়ালার ও জকি জেমস ম্যাকডোনাল্ডের জোলিয়েস্টার হয়েছে তৃতীয়।
- আন্তর্জাতিক রেসেস ও চ্যাম্পিয়নস ডেতে অংশ নিতে কা ইং রাইজিংয়ের হংকংয়ে ফেরার কথা রয়েছে।






