দুটি বড় উদ্যাপনের ভেন্যু হারিয়েছে
হংকংয়ের সবচেয়ে বড় এলজিবিটিকিউ কার্নিভাল পিংক ডট টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বাতিল হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জনসমাগমে আয়োজিত উদ্যাপন থেকে সরে আসার ধারা আরও দীর্ঘ হলো। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ আয়োজনে ১৩ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন। ২০২৬ সালের ১৪ জুন স্ট্যানলি প্লাজা ও মারে হাউসে কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। লাইসেন্স নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভেন্যু পরিচালনাকারীর জায়গাটি ভাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর আয়োজনটি আর হয়নি।
সূচিপত্র
- দুটি বড় উদ্যাপনের ভেন্যু হারিয়েছে
- জুনের পিংক ডট কার্নিভালে কী ঘটেছিল?
- কার্নিভাল না হওয়ায় হংকং কী হারাচ্ছে
- নিশ্চিত বুকিংয়ের পরও ভেন্যু হারাল রেইনবো মার্কেট
- আগের ভেন্যু-সংক্রান্ত ব্যাখ্যাও প্রশ্নের মুখে
- সড়ক থেকে ছোট পরিসরের জায়গায় প্রাইডের স্থানান্তর
- রাজনৈতিক চাপ ও বাণিজ্যিক সতর্কতা
- জনসমর্থন ও আইনি স্বীকৃতি এগোচ্ছে ভিন্ন পথে
- অন্যভাবে চলছে উদ্যাপন
- মূল বিষয়গুলো
শহরটির প্রাইড আয়োজকদের জন্য এরপর আরেকটি ধাক্কা আসে। ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বর সেন্ট্রাল মার্কেটে হওয়ার কথা ছিল তাদের রেইনবো মার্কেট। পরিচালনাকারী চিনাচেম গ্রুপ জানায়, প্রশাসনিক ভুলে একই সময়ে দুটি বুকিং হয়ে যাওয়ায় আয়োজনটি বাতিল করা হয়েছে। জুনে ভেন্যুর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার এবং জুলাইয়ে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার পর আয়োজকেরা ১৫ অক্টোবর বাতিলের ঘোষণা দেন।
দুটি আয়োজনের পেছনে রয়েছে আলাদা আয়োজক দল। তবে তাদের সমস্যাগুলো একই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে: হংকংয়ের এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করার ক্ষেত্রে ভেন্যু খুঁজে পাওয়া এখন বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভেন্যু ব্যবহারে সমস্যার কারণে অন্তত চারটি পরিকল্পিত কমিউনিটি আয়োজন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিংক ডটের দুটি আসর এবং প্রাইড উৎসব বা বাজারের দুটি আয়োজন।
এর প্রভাব কোনো কনসার্ট বা বাজারের একটি দিন হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পিংক ডটে একত্র হতেন পরিবার, শিল্পী, দাতব্য সংস্থা এবং প্রকাশ্যে উদ্যাপন করার জায়গা খুঁজছিলেন এমন মানুষ। ২০১৮ সালে শহরের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ প্রাইড সড়ক শোভাযাত্রার পর ইনডোর বাজারগুলো হয়ে উঠেছিল মানুষের মিলিত হওয়ার আরেকটি জায়গা। এখন সেই বিকল্পগুলোরও কিছু ভেন্যু হারিয়েছে।
জুনের পিংক ডট কার্নিভালে কী ঘটেছিল?
এপ্রিলের মাঝামাঝি ২০২৬ সালের কার্নিভালের ঘোষণা দেয় পিংক ডট। প্রাইড মাসে ১৪ জুনের উদ্যাপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল স্ট্যানলি প্লাজা ও মারে হাউস। আয়োজনের ঘোষণার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর ১৮ মে আয়োজকেরা জানান, এটি আর হবে না।
আয়োজকেরা বলেন, প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য তারা নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাননি। এরপর পরিকল্পিত ভেন্যুটির পরিচালনাকারী লিংক আরইআইটি তাদের জানায়, লাইসেন্স-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে জায়গাটি ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।
এ ধরনের জনসমাগমের আয়োজনের জন্য খাদ্য ও পরিবেশ স্বাস্থ্য বিভাগ (এফইএইচডি) থেকে অস্থায়ী জনবিনোদনস্থল লাইসেন্স নিতে হয়। জনসাধারণের বিনোদনের জন্য কোনো স্থান ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি এটি। ভেন্যু ব্যবহারের সুযোগ ও লাইসেন্সের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল: লিংক আরইআইটি বলেছিল, আয়োজক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স পেলেই কেবল জায়গাটি ব্যবহার করতে পারবেন।
পিংক ডট হংকংয়ের সহপরিচালক ব্রায়ান লিউং বলেন, আবেদন নিয়ে সমস্যা হয়েছে বলে লিংক আরইআইটি আয়োজকদের জানিয়েছিল। লিউং বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো সমস্যার কথা জানতেন না এবং পরিচালনাকারী কীভাবে সেই তথ্য পেয়েছিল, তাও তাঁর জানা ছিল না।
কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে লিউং বলেন:
এখন পর্যন্ত আমি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাইনি।
এফইএইচডি ২১ মে জানায়, তারা এপ্রিলের শেষ দিকে আবেদনটি পেয়েছিল। বিভাগটির তথ্যমতে, ১৮ মে আয়োজকেরা তাদের জানান যে অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়েছে এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন প্রত্যাহার করবেন। এ কারণে বিভাগটি আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানায়। আবেদনে নির্দিষ্ট কী ত্রুটি ছিল, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
কার্নিভাল না হওয়ায় হংকং কী হারাচ্ছে
হংকংয়ে পিংক ডটের দশম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আর্ট পার্কে। পরিবেশনা, কর্মশালা ও কমিউনিটির নানা কার্যক্রমের এই আয়োজনে ১৩ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন।
মঞ্চে গান পরিবেশন করে একটি সমকামীদের কয়ার দল, এক ড্র্যাগ কুইন শিশুদের জন্য গল্প বলার আয়োজন পরিচালনা করেন, আর বিভিন্ন সংগঠন সেবা সম্পর্কে জানাতে ও খেলার আয়োজন করতে ডজনখানেক তাঁবু বসায়। ভিড়ের মধ্যে ছোট শিশুদের নিয়ে আসা পরিবারও ছিল। গান শোনা, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা এবং একসঙ্গে বাইরে দিন কাটানোর মতো সাধারণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসব আয়োজন এলজিবিটিকিউ মানুষকে দৃশ্যমান করে তুলেছিল।
সিঙ্গাপুরে পিংক ডট শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পর, ২০১৪ সালে হংকংয়ে এটি নিয়ে আসেন লিউং। হংকংয়ে প্রথম দুটি আয়োজন হয়েছিল অ্যাডমিরাল্টির তামার পার্কে। পরে উদ্যাপন সরিয়ে নেওয়া হয় আর্ট পার্কে। ২০১৯ সালের বিক্ষোভ এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মহামারি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের সময় আয়োজন বন্ধ ছিল।
লিউং বলেন, আইনি সমতার দাবিতে আয়োজিত মিছিল থেকে আলাদা কিছু দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি পিংক ডট শুরু করেছিলেন। নিজের ভাবনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:
প্রাইড মিছিলগুলোর রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল, আর পিংক ডট তুলনামূলকভাবে কোমল, এর কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য নেই।
সিঙ্গাপুরে প্রতি বছর আয়োজনটি হয়ে আসছে। ২০২৬ সালের ২৭ জুন সেখানে অষ্টাদশ আসর হওয়ার কথা। হংকংয়ে বারবার আয়োজন বাতিল হওয়ায় ২০১৪ সালে শুরু করা এই প্রকাশ্য উদ্যাপন চালিয়ে যাওয়ার অন্য পথ খুঁজতে হচ্ছে আয়োজকদের।
নিশ্চিত বুকিংয়ের পরও ভেন্যু হারাল রেইনবো মার্কেট
সেন্ট্রাল মার্কেটে ভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ে হংকং প্রাইড প্যারেড আয়োজন কমিটি। ২০২৬ সালের জুনে তারা ভেন্যুটির সঙ্গে যোগাযোগ করে, ১৪ নভেম্বর জায়গাটি খালি আছে বলে নিশ্চিত হয় এবং জুলাইয়ে অগ্রিম অর্থ দেয়। ৩১ আগস্ট বাজারের তারিখ ও স্থান ঘোষণা করে কমিটি।
পরে কমিটিকে জানানো হয়, আয়োজনের জন্য জায়গাটি আর ভাড়া দেওয়া যাবে না। আয়োজকদের ভাষ্য, ভেন্যুর কর্মীরা ভুল করে একই দিনে দুটি আয়োজনের বুকিং করেছিলেন।
চিনাচেম বুকিংয়ের সময়ের সংঘাতের কথা নিশ্চিত করে জানায়, তারা পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, বুকিং ও ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একই ঘটনা ঠেকাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নভেম্বর মাসে তাদের পরিচালিত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিকল্প জায়গা ছিল না।
বাতিলের ঘোষণা যেদিন দেওয়া হয়, সেদিন সন্ধ্যায় দেখা যায় সেন্ট্রাল মার্কেটের সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত অনুষ্ঠানসূচিতে ১৪ নভেম্বরের কোনো আয়োজনের উল্লেখ নেই। অন্য বুকিংটি কেন বহাল রাখা হয়েছিল, তা চিনাচেম ব্যাখ্যা করেনি।
আয়োজক কমিটিতে রয়েছে লেস কর্নার এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, রেইনবো অব হংকং, অ্যাসোসিয়েশন ফর ট্রান্সজেন্ডার রাইটস এবং মেড ইন জেন্ডার। কমিটি জানায়, বাজার আয়োজনের চেষ্টা তারা চালিয়ে যাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ব্যবস্থার কথা জানাবে।
সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আরেকটি আয়োজন, ৭ নভেম্বরের জেন্ডার-অন্তর্ভুক্তিমূলক ফিটনেস পারফরম্যান্স প্রতিযোগিতা, এতে প্রভাবিত হয়নি এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হওয়ার কথা ছিল। তবে বাজার বাতিল হওয়ায় আগে থেকেই ছুটি নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।
আগের ভেন্যু-সংক্রান্ত ব্যাখ্যাও প্রশ্নের মুখে
প্রতিষ্ঠিত ভেন্যু আর্ট পার্ক নিশ্চিত করতে না পারায় ২০২৫ সালের পিংক ডট কার্নিভাল বাতিল হয়। আয়োজকেরা বলেন, কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই ওয়েস্ট কাউলুন কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট অথরিটি ভাড়া নিয়ে আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ায়। পরিকল্পিত আয়োজনের প্রায় তিন মাস আগে, জুলাইয়ে বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে কুন টং প্রমেনেডে হওয়ার কথা থাকা একটি আউটডোর উৎসব বাতিল করে হংকং প্রাইড কমিটি। ভেন্যু পরিচালনাকারী অ্যাকুয়াবিট জানায়, সরকারি নির্মাণকাজের কারণে জায়গাটি ব্যবহার করা যাবে না। পরে ভবন বিভাগ জানায়, ওই তারিখে সেখানে এ ধরনের কোনো কাজের পরিকল্পনা ছিল না।
এলজিবিটিকিউ বিষয়ক একটি নাটকও দর্শকেরা দেখতে পারেননি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়েস্ট কাউলুন কালচারাল ডিস্ট্রিক্ট অথরিটি ক্যান্ডেস চংয়ের লেখা নাটক উই আর গে বাতিল করে। শি ছু সেন্টারে মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল নাটকটি, উদ্বোধনের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে বাতিল করা হয়। টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এই সিদ্ধান্ত আসে। এর আগে প্রতিষ্ঠিতপন্থী গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহল থেকে চাপ ও অভিযোগ এসেছিল।
ব্যাখ্যাগুলো ভিন্ন ছিল: ২০২৬ সালে পিংক ডটের ক্ষেত্রে লাইসেন্স-সংক্রান্ত সমস্যা, ২০২৫ সালে ভেন্যু নিয়ে আলোচনা থেকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সরে যাওয়া, কুন টংয়ে নির্মাণকাজের কথা বলা এবং সেন্ট্রাল মার্কেটে একই সময়ে দুটি বুকিং। আয়োজকদের ক্ষেত্রে প্রতিবারই ঘোষিত আয়োজন নতুন করে দাঁড় করানোর একই বাস্তব কাজ সামনে এসেছে, তাও অল্প সময়ে এবং নিশ্চিত ভেন্যু ছাড়া।
সড়ক থেকে ছোট পরিসরের জায়গায় প্রাইডের স্থানান্তর
হংকংয়ের প্রাইড আয়োজকেরা ২০০৮ সালে শহরের প্রথম শোভাযাত্রা আয়োজন করেন। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সড়ক শোভাযাত্রা হয় ২০১৮ সালের নভেম্বরে। প্রত্যর্পণ বিলবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১৯ সালের প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর বদলে আয়োজকেরা স্থির সমাবেশ করেন।
মহামারি এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও এই পরিবর্তন অব্যাহত ছিল:
- ২০২০: কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের মধ্যে প্রাইডের কার্যক্রম অনলাইনে চলে যায়।
- ২০২১ সাল থেকে: হংকংয়ের সামাজিক পরিবেশে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রাইড আয়োজকেরা ইনডোর রেইনবো মার্কেটের আয়োজন শুরু করেন।
- সেপ্টেম্বর ২০২৪: পিংক ডট আর্ট পার্কে দশম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করে; এতে ১৩ হাজারের বেশি দর্শনার্থী আসেন।
- ২০২৫: আর্ট পার্কে পরিকল্পিত আয়োজনের ভেন্যু হারায় পিংক ডট, আর প্রাইড কমিটি কুন টং প্রমেনেডে নভেম্বরের উৎসব বাতিল করে।
- ১৮ মে ২০২৬: স্ট্যানলি প্লাজা ও মারে হাউসে ১৪ জুনের কার্নিভাল বাতিলের ঘোষণা দেয় পিংক ডট।
- ১৫ অক্টোবর ২০২৬: সেন্ট্রাল মার্কেটে ১৪ নভেম্বরের রেইনবো মার্কেটের ভেন্যু হারানোর কথা জানায় প্রাইড আয়োজকেরা।
সড়কে মিছিল করা কঠিন হয়ে ওঠার পর মিলিত হওয়ার সুযোগ ধরে রাখতেই আয়োজনগুলো ইনডোরে নেওয়া হয়েছিল। সেন্ট্রাল মার্কেটের ঘটনা দেখায়, অগ্রিম অর্থ দেওয়ার পরও ইনডোর আয়োজনের জন্য ভেন্যু-সংক্রান্ত চুক্তি করা এবং তা বহাল রাখা জরুরি।
রাজনৈতিক চাপ ও বাণিজ্যিক সতর্কতা
২০১৯ সালের গণবিক্ষোভের পর ২০২০ সালে বেইজিং হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারি করলে শহরের জনসমাগম অনেক কমে যায়। শ্রমিক অধিকার ও নারীর অধিকার নিয়ে মিছিলও প্রায় পুরোপুরি রাজপথ থেকে হারিয়ে গেছে।
এই আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাত, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশকে অপরাধ করা হয়েছে। এসব অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি জানায়, আইনের অস্পষ্ট ধারাগুলো মতপ্রকাশ ও সমাবেশসহ "বিস্তৃত পরিসরের অধিকার ও স্বাধীনতা খর্ব" করেছে।
সরকারের উপদেষ্টা নির্বাহী পরিষদের আহ্বায়ক রেজিনা ইপ বলেন, পুলিশ সাধারণত আউটডোর আয়োজনকে "বিশৃঙ্খলার বড় ঝুঁকি" হিসেবে দেখে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২৩ সালের গে গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কথা বলেন, যা কুইন এলিজাবেথ স্টেডিয়ামের ভেতরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও জনপ্রশাসন বিভাগের সম্মানসূচক অধ্যাপক জন বার্নস বলেন, এলজিবিটিকিউ সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে, বা কেন্দ্রীয় সরকারের এমন কোনো নির্দেশনা আছে বলে তিনি জানেন না। আউটডোর আয়োজন নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ থাকলে কর্মকর্তাদের তা ব্যাখ্যা করা উচিত বলে তিনি মত দেন।
ভেন্যু পরিচালনাকারীদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিউনিটির অন্য ব্যক্তিরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কর্মী জেরোম ইয়াউ বলেন, লিংক আরইআইটিকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি। নিক লির ধারণা, সতর্কতার কারণেই পরিচালনাকারী সরে গিয়ে থাকতে পারে। ভেন্যু-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণ অস্পষ্ট থাকলে আয়োজকদের যে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়, তাদের এই মূল্যায়ন তা তুলে ধরে।
কুইয়ার গণমাধ্যম নিয়ে গবেষণাকারী হংকং সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জেমি ঝাও এলজিবিটিকিউ মানুষের প্রকাশ্য উপস্থিতির সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকির যোগসূত্র দেখান। ঝাও বলেন, জনপরিসরে বিঘ্ন ঘটানো বা অধিকারের দাবি জানানো হয় এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে মূল ভূখণ্ডের কর্তৃপক্ষ কম সহনশীল। তবে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কুইয়ার সংস্কৃতির জন্য জায়গা পাওয়া যেতে পারে। ফলে কমিউনিটির সমাবেশের সুযোগ নির্ভর করছে সরকারি সংস্থা এবং বাণিজ্যিক পরিচালনাকারী, উভয়ের সিদ্ধান্তের ওপর।
জনসমর্থন ও আইনি স্বীকৃতি এগোচ্ছে ভিন্ন পথে
হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, উত্তরদাতাদের ৬০ শতাংশ সমলিঙ্গের দম্পতিদের বিয়ের অনুমতি দেওয়ার পক্ষে, আর ১৭ শতাংশ এর বিপক্ষে। ২০১৩ সালে সমর্থনের হার ছিল ৩৮ শতাংশ। এক দশকে তা ২২ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
ভিসা, আবাসন ও উত্তরাধিকারের মতো ক্ষেত্রে হংকংয়ের আদালত সমলিঙ্গের দম্পতিদের কিছু অধিকার বাড়িয়েছেন। ২০২৩ সালে চূড়ান্ত আপিল আদালত সরকারকে সমলিঙ্গের অংশীদারত্বের স্বীকৃতির জন্য কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেন। রায়ে সমলিঙ্গের বিয়ের স্বীকৃতির বদলে বিকল্প কোনো আইনি স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে বলা হয়।
কর্মী জিমি শামের করা একটি মামলার সূত্রে আসা রায়ের জবাবে ২০২৫ সালে সরকার অংশীদারত্ব নিবন্ধনের একটি কাঠামোর প্রস্তাব দেয়। সেপ্টেম্বরে আইনপ্রণেতারা বিলটি নাকচ করেন। তাঁদের অনেকে ঐতিহ্যবাহী চীনা পারিবারিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেন।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে পিংক ডট বাতিল হওয়ার পর শাম প্রথমে ভেবেছিলেন, চার সপ্তাহ আগে প্রকাশিত সরকারি প্রস্তাবটি নিয়ে সংবেদনশীলতার সঙ্গে এর কোনো যোগ আছে কি না। ২০২৬ সালে আবার কার্নিভাল বাতিল হওয়ার পর তিনি বলেন, মানুষ এখনো জানে না কেন এমন হয়েছে।
এখন এলজিবিটিকিউ বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে জনসমর্থন, আইনি অধিকার এবং একত্র হওয়ার সুযোগ এগোচ্ছে আলাদা পথে। জরিপে সমর্থন বেড়েছে, আদালত আরও স্বীকৃতির নির্দেশ দিয়েছেন, আর কমিউনিটি প্রকাশ্যে মিলিত হতে পারে এমন জায়গা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।
অন্যভাবে চলছে উদ্যাপন
২০২৫ সালে বাতিল হওয়া কার্নিভালের বদলে পিংক ডট অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত কনসার্ট, কর্মীদের আলোচনা এবং ফ্যাশন শোর আয়োজন করে। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ক্যান্টোপপ গায়ক মার্ফ ইয়াউ ইয়িন-তুং, যিনি কলার সদস্য, এবং অন চ্যান।
২০২৬ সালের আয়োজন বাতিলের পর লিউং বলেন, আয়োজকেরা আরেকটি ব্যক্তিগত ইনডোর অনুষ্ঠানের কথা ভাবছেন, যা সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে জনসাধারণ দেখতে পারবেন। বাতিলের ঘোষণাগুলোতে বিকল্প আয়োজনটির কোনো নিশ্চিত তারিখ বা ভেন্যুর কথা জানানো হয়নি।
অন্য জনসমাগমের আয়োজন অবশ্য চলেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে হোমোফোবিয়া, বাইফোবিয়া ও ট্রান্সফোবিয়াবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ঘিরে এলজিবিটিকিউ সংগঠনগুলো কজওয়ে বে এলাকায় সড়কের পাশে স্টল বসায়। সেখানে নানা কার্যক্রম এবং কর্মীদের আলোচনা হয়। বড় আয়োজন হারালেও ড্র্যাগ শিল্পী ও কমিউনিটির সদস্যরা উদ্যাপনের পথ খুঁজে নিচ্ছেন।
অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার ঘরে বসে পরিবেশনা দেখার সুযোগ করে দিতে পারে, আর ছোট পরিসরের জমায়েত ব্যক্তিগত যোগাযোগ বজায় রাখে। তবে বড় কার্নিভাল দেয় ভিন্ন কিছু: এমন একটি যৌথ জনপরিসর, যেখানে পরিবার, দাতব্য সংস্থা, শিল্পী ও অপরিচিত মানুষ এক জায়গায় মিলিত হতে পারেন। সেই সুযোগ ফিরিয়ে আনা এখন নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পাশাপাশি উদ্বোধনের দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে এমন ভেন্যু নিশ্চিত করার ওপর।
মূল বিষয়গুলো
- লাইসেন্স নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং স্ট্যানলির ভেন্যু হারানোর পর ২০২৬ সালের ১৪ জুনের কার্নিভাল বাতিল করে পিংক ডট।
- ২০২৫ সালেও কার্নিভালটি বাতিল হয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ আয়োজনে ১৩ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন।
- প্রশাসনিক ভুলে একই সময়ে দুটি বুকিং হয়েছিল বলে চিনাচেম জানানোর পর ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বরের রেইনবো মার্কেট সেন্ট্রাল মার্কেটের ভেন্যু হারায়।
- আগের বাতিলের মধ্যে ছিল কুন টং প্রমেনেডের প্রাইড উৎসব এবং উই আর গে নাটক।
- প্রাইড আয়োজকেরা নতুন ব্যবস্থা খুঁজছেন। তবে সদস্যদের জন্য আলাদা ৭ নভেম্বরের আয়োজনটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হওয়ার কথা ছিল।
- হংকংয়ে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ প্রাইড সড়ক শোভাযাত্রা হয়েছিল ২০১৮ সালে; এরপর উদ্যাপন ক্রমশ ইনডোরে বা অনলাইনে সরে গেছে।






