স্ট্রবেরির খামারের প্রেমকাহিনি ছুঁয়েছে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের
জি চ্যাং-উক ও মিও ইমাদা অভিনীত জাপানি-কোরীয় রোমান্টিক কমেডি ‘মেরি বেরি লাভ’ মাত্র দুটি পর্ব প্রকাশের পর ফ্লিক্সপ্যাট্রলের বিশ্বব্যাপী ডিজনি+ টেলিভিশন তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সিরিজটি ফ্রান্স, স্পেন, পোল্যান্ড ও মেক্সিকোসহ ৭২টি দেশ ও অঞ্চলে প্ল্যাটফর্মটির টেলিভিশন শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিয়েছে।
সূচিপত্র
- স্ট্রবেরির খামারের প্রেমকাহিনি ছুঁয়েছে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের
- দর্শকসংখ্যার রেকর্ডে কী মাপা হয়েছে
- প্রথম দুই সপ্তাহের ঘটনাপঞ্জি
- জমি বিক্রির পরিকল্পনা থেকে খামারের কাজে
- কঠোর পরিশ্রমে কাছাকাছি আসে চরিত্রগুলো
- পারিবারিক ইতিহাস ও অসুস্থতা প্রেমকাহিনিকে জটিল করে
- সহায়ক প্রেমকাহিনিতে প্রতিফলিত বৃহত্তর সহযোগিতা
- সিরিজটি কারা তৈরি করেছেন, আর কখন দেখবেন
- মূল বিষয়গুলো
ডিজনি+ আরও নির্দিষ্ট একটি দর্শকসংখ্যার রেকর্ডের কথা জানিয়েছে: ২০২৬ সালে পরিষেবাটিতে মুক্তি পাওয়া জাপানি লাইভ-অ্যাকশন প্রযোজনাগুলোর মধ্যে প্রথম পাঁচ দিনে বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা পেয়েছে ‘মেরি বেরি লাভ’। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং জাপানে একই সময়ে মুক্তি পাওয়া জাপানি চিত্রনাট্যনির্ভর প্রযোজনাগুলোর মধ্যে সিরিজটি শীর্ষে ছিল।
নাটকটির প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় ৭ অক্টোবর, আর দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হয় ১৪ অক্টোবর। শুরুতেই সাফল্য এনে দিয়েছে দুই ধরনের দর্শক: যারা প্রতি সপ্তাহে জাপানি টেলিভিশন নাটক দেখেন এবং যারা কোরীয় এক ডিজাইনার ও জাপানি এক স্ট্রবেরিচাষিকে ঘিরে প্রেমের গল্পটি নতুন করে আবিষ্কার করছেন।
জির চরিত্র লি ইউ-বিন একজন সফল পেশাজীবী, যার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার পর ক্যারিয়ার ও আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। ইমাদা অভিনয় করেছেন শিরাহামা কারিনের ভূমিকায়। জাপানের চারো দ্বীপে তার স্ট্রবেরির খামারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে অর্থ ফিরে পাওয়ার ইউ-বিনের পরিকল্পনার সঙ্গে সংঘাত বাধে কর্মস্থলটি রক্ষায় কারিনের দৃঢ় সংকল্পের।
প্রেমকাহিনিটির পেছনে রয়েছে নিপ্পন টিভি, কোরীয় বিনোদন প্রতিষ্ঠান সিজে এনএম এবং ডিজনির যৌথ উদ্যোগ। প্রযোজনাটিতে কোরীয় সৃজনশীল কর্মী, জাপানি সম্প্রচার ও ডিজনি+–এর মাধ্যমে পরিবেশনা একত্র হয়েছে। গল্পে কাজ, সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্পর্কই কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রকে একে অপরের কাছ থেকে সহজে দূরে সরে যেতে দেয় না।
দর্শকসংখ্যার রেকর্ডে কী মাপা হয়েছে
ফ্লিক্সপ্যাট্রলের তালিকায় অবস্থান আর ডিজনি+–এর দর্শকসংক্রান্ত ঘোষণা সিরিজটির সাফল্যের ভিন্ন দিক তুলে ধরে। বিভিন্ন বাজারে স্ট্রিমিংয়ের অবস্থান অনুসরণ করে ফ্লিক্সপ্যাট্রল। আর নির্দিষ্ট শ্রেণির অন্য প্রযোজনার সঙ্গে নির্ধারিত শুরুর সময়সীমায় দর্শকসংখ্যার তুলনা করে ডিজনি+।
বিশ্বব্যাপী তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানটি প্রথম নথিভুক্ত হয় ৯ অক্টোবর, প্রথম পর্ব প্রচারের দুই দিন পর। তখন ব্রাজিল, জাপান ও হংকংয়ে ‘মেরি বেরি লাভ’ ছিল প্রথম স্থানে। শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তাইওয়ান, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও এস্তোনিয়াতেও সিরিজটি শীর্ষ ১০-এ ছিল।
ডিজনি+–এর রেকর্ডে তুলনার সময়সীমা হিসেবে মুক্তির পর প্রথম পাঁচ দিন ধরা হয়েছে। বৈশ্বিক শ্রেণিতে রয়েছে ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া জাপানি লাইভ-অ্যাকশন প্রযোজনা। আঞ্চলিক শ্রেণিতে রয়েছে ওই বছর মুক্তি পাওয়া জাপানি চিত্রনাট্যনির্ভর প্রযোজনা, যেগুলোর হিসাব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ও জাপানের জন্য আলাদাভাবে করা হয়েছে। চিত্রনাট্যনির্ভর প্রযোজনায় লিখিত কাহিনি থাকে, যা রিয়েলিটি বা প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান থেকে আলাদা।
জাপানি দর্শকেরা টিভারেও অনুষ্ঠানটি দেখেছেন। এই পরিষেবায় টেলিভিশন অনুষ্ঠান অনলাইনে দেখা যায়। টিভার ডেটা মার্কেটিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবরের মধ্যে প্রথম পর্বটি টিভারে ২০ লাখের বেশি বার চালানো হয়েছিল। এই সংখ্যা শুধু টিভারের প্লে গণনা করে; ডিজনি+–এর ঘোষণা তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের দর্শকসংক্রান্ত।
শুরুর দিকের দর্শক-রেটিংও আগ্রহের আরেকটি ইঙ্গিত দিয়েছে: ৯ অক্টোবর আইএমডিবিতে সিরিজটির রেটিং ছিল ১০-এর মধ্যে ৯.৫। তালিকার অবস্থান, প্ল্যাটফর্মে দর্শকসংখ্যার তুলনা এবং দর্শক-রেটিং—প্রতিটি ভিন্ন ধরনের সাড়া তুলে ধরে; কোনো অনুষ্ঠান কোথায় অবস্থান করছে, থেকে শুরু করে অংশ নেওয়া দর্শকেরা সেটিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম দুই সপ্তাহের ঘটনাপঞ্জি
প্রথম পর্ব প্রচার ও দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশের মধ্যবর্তী অল্প সময়েই ‘মেরি বেরি লাভ’ তার প্রাথমিক দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলে। শুরুর দিকের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো:
- ৭ অক্টোবর: ডিজনি+–এ সিরিজটির প্রথম পর্ব প্রচারিত হয় এবং প্রতি বুধবার নতুন পর্ব প্রকাশের সূচনা হয়।
- ৮ অক্টোবর: মুক্তির এক দিনের মধ্যেই এটি ফ্লিক্সপ্যাট্রলের বিশ্বব্যাপী ডিজনি+ শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নেয়।
- ৯ অক্টোবর: বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থানে ওঠে এবং ব্রাজিল, জাপান ও হংকংয়ে প্রথম স্থানে থাকে।
- ১৩ অক্টোবর: প্রথম পর্বটি টিভারে ২০ লাখের বেশি বার চালানো হয়।
- ১৪ অক্টোবর: দ্বিতীয় পর্ব প্রচারিত হয় এবং প্রথম পাঁচ দিনের দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ঘোষণা করা হয়।
- ১৫ অক্টোবর: বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় স্থানে তালিকাভুক্ত হয়; ৭২টি দেশ ও অঞ্চলে শীর্ষ ১০-এ ছিল সিরিজটি।
বুধবারের সূচি অনুযায়ী, পুরো গল্প একসঙ্গে প্রকাশের বদলে প্রতি সপ্তাহে একটি নতুন পর্ব আসে। জাপানে নিপ্পন টিভিতে রাত ১০টায় নাটকটি সম্প্রচারিত হয়, আর সাপ্তাহিক স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে ডিজনি+–এ।
জমি বিক্রির পরিকল্পনা থেকে খামারের কাজে
আর্থিক সংকট থেকে বেরোনোর পথ খুঁজতে ইউ-বিন চারো দ্বীপে আসে। একসময় সিউলের সফল স্পেশাল ডিজাইনার ছিল সে। কাছের একজনের বিশ্বাসঘাতকতায় চাকরি ও সম্পদ হারায়। স্পেশাল ডিজাইনারের কাজ হলো ভৌত পরিসর কীভাবে সাজানো ও ব্যবহার করা হবে, তা পরিকল্পনা করা—স্ট্রবেরির পরিচর্যার কাজ থেকে যা একেবারেই আলাদা।
তার হাতে থাকা শেষ সুযোগটি হলো প্রয়াত বাবার রেখে যাওয়া জমি। ইউ-বিন সেটি বিক্রি করতে চায়, কিন্তু কারিনের খামার ও জমিটির সঙ্গে তার সম্পর্ক পরিকল্পনাটিকে জটিল করে তোলে। প্রয়াত দাদার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কারিন, আর তিনি যা রেখে গেছেন তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রথম পর্বে তাদের দেখা থেকে শুরু হয় তর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝির পরম্পরা। নৌযাত্রার টিকিট নিয়ে বিরোধ থেকেই মনোমালিন্য শুরু হয়। পরে কারিন ভুল করে ইউ-বিনকে স্ট্রবেরি চুরি বা ক্ষেত নষ্ট করতে আসা কেউ বলে মনে করে। একে অপরের সম্পর্কে কিছুটা বুঝে ওঠার সময়ে, কারওই অন্যজনকে বিশ্বাস করার মতো তেমন কারণ থাকে না।
দ্বিতীয় পর্বে একটি তাৎক্ষণিক বাস্তব সমস্যা তাদের সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেয়: কারিনকে সাহায্য করার মতো কোনো কর্মী নেই। ইউ-বিন খামারের শ্রমিক হতে রাজি হয়। ফলে শহুরে জীবনে অভ্যস্ত সাবেক পেশাজীবীকে সেই নারীর অধীনে কাজ করতে হয়, যার জমি নিয়ে সমস্যা মেটানোর পরিকল্পনা সে করছিল।
কারিন তাকে কঠিন কাজ দিয়ে পরীক্ষা করে। ইউ-বিন হিমশিম খায়, তবু হাল ছাড়ে না। মালিক ও কর্মী হিসেবে তাদের নতুন অবস্থান প্রেমকাহিনিতে বাস্তব টানাপোড়েন যোগ করে: খামার সম্পর্কে কারিনের জানাশোনা আছে, কাজও তিনিই ঠিক করেন; আর ইউ-বিনকে এমন এক জায়গায় কাজের উপযোগী হয়ে উঠতে হয়, যেখানে তার আগের পরিচিতির বিশেষ কোনো মূল্য নেই।
কঠোর পরিশ্রমে কাছাকাছি আসে চরিত্রগুলো
ইউ-বিনের আত্মবিশ্বাস আর কৃষিকাজে তার স্পষ্ট অনভিজ্ঞতার মধ্যে সাবলীলভাবে রূপ বদলেছে জির অভিনয়। কী সামলাতে পারবে বলে সে ভাবে, আর কাজটি আসলে যতটা কঠিন—এই ফারাক থেকেই হাস্যরসের জন্ম। প্রচারণার শুরুর ছবিগুলোতেও সেই বৈপরীত্য ছিল: একদিকে তার হাসিমুখে আগমন, অন্যদিকে ভারী ব্যাকপ্যাকের নিচে পরে তার ক্লান্তি।
প্রযোজনা দল দ্বিতীয় পর্বকে প্রধান দুই চরিত্রের সম্পর্কের নতুন সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে; হঠাৎ বেকার হয়ে পড়ে ইউ-বিনের অচেনা জীবনে পা রাখার মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তন আসে।
দ্বিতীয় পর্বে দর্শকেরা দেখবেন, রাতারাতি হঠাৎ বেকার হয়ে পড়ার পর ইউ-বিন কীভাবে নতুন জীবন শুরু করে। ভুল-বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইউ-বিন ও কারিনের সম্পর্কও নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে।
ইউ-বিনের চেষ্টা ধীরে ধীরে কারিনের মনোভাব বদলে দেয়। সে স্ট্রবেরির ক্ষেতের যত্ন নেয়, আর ফসলের জন্য পুষ্টি জোগাড়ের চেষ্টায় কাদাময় চরেও ঝিনুক খুঁজতে যায়। চরাঞ্চলের দৃশ্যে তার আড়ষ্টতা যেমন ধরা পড়ে, তেমনি কারিনের জন্য কঠিন কাজ করতে তার ক্রমবর্ধমান আগ্রহও ফুটে ওঠে।
ইউ-বিনের কাজকর্ম নিজের চোখে দেখে কারিন ধীরে ধীরে আড়ষ্টতা কাটিয়ে ওঠে। যৌথ কাজ ও ছোটখাটো যত্নের মধ্য দিয়ে তাদের আকর্ষণ গড়ে ওঠে; ফলে তাদের তর্ক প্রথম সাক্ষাতের শত্রুতার চেয়ে ভিন্ন অর্থ পায়।
পারিবারিক ইতিহাস ও অসুস্থতা প্রেমকাহিনিকে জটিল করে
ইউ-বিন যখন জানতে পারে, তার বাবা একসময় কারিনের বাড়িতে ছিলেন, তখন উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির বিষয়টি আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। দ্বীপটির সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক কারিনের প্রয়াত দাদার কাজের সঙ্গেও জড়িত। প্রথমে যে সম্পত্তিকে সে টাকা জোগাড়ের উপায় বলে ভাবছিল, তা আসলে এমন এক পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে বাঁধা, যা সে কেবল বুঝতে শুরু করেছে।
দ্বিতীয় পর্বে তাদের সম্পর্কে দুর্বলতার মুহূর্তও আসে। বজ্রধ্বনি ইউ-বিনের মানসিক আঘাতজনিত প্রতিক্রিয়া জাগিয়ে তোলে, আর কারিন তার পাশে থাকে। তার উপস্থিতি আবারও তাদের সম্পর্কের ভারসাম্য বদলে দেয়: কঠোর নিয়োগকর্তাই হয়ে ওঠে বিপর্যয়ের সময় ইউ-বিনের ভরসার মানুষ।
কারিনেরও একটি স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে। মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনা তার পরিস্থিতিকে আরও জরুরি করে তুলেছে। তার অসুস্থতার ধরন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কর্মীর অভাবের পাশাপাশি খামার সামলানোর সমস্যা তার ব্যক্তিগত বোঝাও হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়াসুনোরি দান্তা অভিনীত মাসাতো কুরোকাওয়া ও গ্রিন নোভা কর্পকে ঘিরে করপোরেট কাহিনি তাদের দৈনন্দিন কাজের বাইরের আরেকটি দিক তুলে ধরে। পারিবারিক সংযোগ, কারিনের স্বাস্থ্য এবং করপোরেট কাহিনি—সব মিলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মীমাংসার অপেক্ষায় সিরিজটিতে তৈরি হয়েছে নানা টানাপোড়েন।
সহায়ক প্রেমকাহিনিতে প্রতিফলিত বৃহত্তর সহযোগিতা
নাম ইউন-সু অভিনয় করেছেন পার্ক গু-নামের চরিত্রে। কাজের ছুটিতে জাপানে আসা এই তরুণ কোরীয় চারো দ্বীপের আসাহি স্টোর সুপারমার্কেটে চাকরি নেয়। তার আগমন আরেকটি সহায়ক প্রেমকাহিনির সূচনা করে; এতে মিজুনো মারির ভূমিকায় রয়েছেন রিঙ্কা কুমাদা।
১৪ অক্টোবর সিউলের সামচেওং-দংয়ে এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রযোজনাটি নিয়ে কথা বলেন। নাটকটির বৈশ্বিক সাফল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কিম সু-জং ও নো ইয়ং-সপকে কৃতিত্ব দেন। দুই দেশের অভিনেতাদের নিয়ে কঠিন সময়সূচি সামলানোর কাজটি করেছেন এই দুই পরিচালক।
এত মানুষ এটি পছন্দ করবেন, তা আমি জানতাম না। প্রথমেই, অনেক পরিশ্রম করা দুই পরিচালকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
নাম জানান, শুটিংয়ের সময় তিনি জাপানে তিন থেকে চার মাস ছিলেন। জাপানি পিচ অ্যাকসেন্ট—শব্দ স্বাভাবিক শোনাতে সাহায্য করা কণ্ঠস্বরের ওঠানামা—ছিল বিশেষ চ্যালেঞ্জ। কয়েক দশক ধরে স্থানীয়ভাবে থাকা এক বন্ধু তাকে অনুশীলনে সাহায্য করেন।
তিনি জাপানি কলাকুশলীদেরও ধন্যবাদ জানান। তার ভাষ্য, অল্প কয়েকজন কর্মীকে কঠিন কাজের চাপ সামলাতে হয়েছিল। তার অভিজ্ঞতা সহযোগিতার বাস্তব দিকটি তুলে ধরে: দুই দেশের তারকাদের একসঙ্গে অভিনয় করানোর বাইরেও প্রযোজনাটিতে ভাষার প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং ভিন্ন কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দলের মধ্যে পরিচালনার প্রয়োজন হয়েছে।
নামের প্রচারসূচিতে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘কিলিং টাইম’-ও ছিল, যেটি ২১ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। ‘মেরি বেরি লাভ’-এ সুপারমার্কেটের কর্মী তার চরিত্রটি দ্বীপের কমিউনিটিতে নিজের জায়গা খুঁজে নেওয়া এক কোরীয় নবাগতকে ঘিরে আরেকটি দৃষ্টিকোণ দেয়।
সিরিজটি কারা তৈরি করেছেন, আর কখন দেখবেন
‘মেরি বেরি লাভ’কে নিপ্পন টিভি ও সিজে এনএমের প্রথম যৌথ প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রযোজনার কৃতিত্বে রয়েছে সিজে এনএম জাপান ও নিপ্পন টিভি; উন্নয়ন ও প্রযোজনায় ডিজনিও যুক্ত ছিল। জাপানে টেলিভিশনে সম্প্রচার করছে নিপ্পন টিভি, আর আন্তর্জাতিকভাবে স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে ডিজনি+–এ।
পরিচালক কিম সু-জং ও নো ইয়ং-সপ কাজ করেছেন লি জে-ইউনের চিত্রনাট্য নিয়ে। প্রধান দুই চরিত্রে রয়েছেন জি, যিনি ‘দ্য ওয়ার্স্ট অব ইভিল’ ও ‘দ্য ম্যানিপুলেটেড’–এর জন্য পরিচিত, এবং ইমাদা, যার পর্দার কাজের মধ্যে রয়েছে ‘টোকিও রিভেঞ্জার্স’।
সংগীতের ক্ষেত্রেও জাপানি শিল্পীরা প্রযোজনাটিতে যুক্ত হয়েছেন। মূল থিম ‘সুপারমার্কেট’ গেয়েছে সেকাই নো ওয়ারি, আর ইনসার্ট গান ‘টোকি গা তোমাত্তা হি’ গেয়েছেন লিলাস ইকুতা। গানটির অর্থ ‘যেদিন সময় থেমে গিয়েছিল’।
ডিজনি+–এ প্রতি বুধবার নতুন পর্ব আসে, আর জাপানে রাত ১০টায় নাটকটি সম্প্রচার করে নিপ্পন টিভি। টিভারে জাপানি সম্প্রচার সরাসরি দেখা যায়, পাশাপাশি সীমিত সময়ের জন্য পরে দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের টেলিভিশন সম্প্রচারের ঠিক আগে ১৪ অক্টোবর রাত ৯টা ৫৯ মিনিটে প্রথম পর্বটি টিভারে দেখার সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল।
প্রকাশিত সিরিজ-তালিকা অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর থেকে ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নাটকটির ১০টি পর্ব প্রচারিত হবে। প্রথম দুটি পর্ব প্রকাশিত হওয়ার পর গল্পের মূল দ্বন্দ্বটি স্পষ্ট হয়েছে: ইউ-বিন জমি বিক্রি করে আগের জীবন ফিরে পেতে এসেছিল, কিন্তু কারিনের পাশে কাজ করতে গিয়ে দ্বীপটি নিয়ে তার চাওয়া-পাওয়া নতুন করে ভাবার কারণ পাচ্ছে সে।
মূল বিষয়গুলো
- ফ্লিক্সপ্যাট্রলের বিশ্বব্যাপী ডিজনি+ টেলিভিশন তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে ‘মেরি বেরি লাভ’।
- ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭২টি দেশ ও অঞ্চলে টেলিভিশন শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিয়েছে সিরিজটি।
- ডিজনি+ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া জাপানি লাইভ-অ্যাকশন প্রযোজনাগুলোর মধ্যে প্রথম পাঁচ দিনের বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যায় এটি শীর্ষে ছিল।
- ১৩ অক্টোবরের মধ্যে প্রথম পর্বটি টিভারে ২০ লাখের বেশি বার চালানো হয়েছে।
- জি চ্যাং-উক ও মিও ইমাদা অভিনয় করেছেন এক কোরীয় ডিজাইনার ও জাপানি স্ট্রবেরিচাষির ভূমিকায়; উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমিকে ঘিরে জড়িয়ে পড়ে তাদের জীবন।
- ডিজনি+–এ প্রতি বুধবার নতুন পর্ব প্রকাশিত হয়; জাপানে রাত ১০টায় সম্প্রচার করে নিপ্পন টিভি।






