টয়োটার বৈশ্বিক পরিসরে সফটওয়্যারের বড় পরিবর্তন
টয়োটা ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ৫০টি মডেল ও ১ কোটি নতুন গাড়িতে তাদের অ্যারেন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। নতুনভাবে নকশা করা RAV4-এ প্রথম চালু হওয়া এই প্রযুক্তি তারা বিশ্বজুড়ে গাড়ির বহরে ছড়িয়ে দিতে চায়। গাড়ি কেনার পরও গ্রাহকেরা যেসব সেবার জন্য অর্থ দিতে থাকেন, সেখান থেকে আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটি এ পরিকল্পনার কথা জানায়।
সূচিপত্র
- টয়োটার বৈশ্বিক পরিসরে সফটওয়্যারের বড় পরিবর্তন
- গাড়ি সফটওয়্যার-নির্ভর হলে কী বদলায়?
- টয়োটার সফটওয়্যার তৈরির পদ্ধতি দিয়েই অ্যারেনের যাত্রা
- RAV4 ইতিমধ্যে যা দেখাচ্ছে
- নিয়মিত অর্থ পরিশোধ টয়োটার কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ
- সাবস্ক্রিপশনে চালকের কত খরচ হতে পারে
- প্রতিযোগিতা ড্যাশবোর্ডের বাইরেও
- মালিকানার অভিজ্ঞতা ফিচারের পাশাপাশি সহায়তার ওপরও নির্ভর করবে
- মূল বিষয়গুলো
এতে অ্যারেন ব্যবহারকারী মডেলের সংখ্যা এখনকার দুটি থেকে ২০৩০ সালে প্রায় ৫০-এ পৌঁছাবে, অর্থাৎ ২৫ গুণ বাড়বে। টয়োটা বছরে প্রায় ১ কোটি গাড়ি উৎপাদন করে; ফলে সফটওয়্যার ব্যবহারের লক্ষ্যটি তাদের বর্তমান উৎপাদনের পরিসরের কাছাকাছি।
টয়োটার একজন মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহে ব্রাসেলসে বিনিয়োগকারীদের এক ব্রিফিংয়ে প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিরোকি নাকাজিমা এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কোম্পানিটি ২০৩৫ সাল পর্যন্ত অ্যারেনের ব্যবহার আরও বাড়াতে চায়; এর মধ্যে জোটের অংশীদারদের তৈরি গাড়িও রয়েছে।
চালকদের জন্য এর অর্থ, সফটওয়্যারের মাধ্যমে কেনার পরও যেসব গাড়ির ফিচার উন্নত করা যাবে, সেসব গাড়ির সংখ্যা বাড়বে। টয়োটার জন্য এটি একটি আর্থিক লক্ষ্যেও সহায়তা করবে: নতুন গাড়ি বিক্রির বাইরের ব্যবসা থেকে ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে পরিচালন মুনাফা ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করা, যা ২০২৫ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি।
গাড়ি সফটওয়্যার-নির্ভর হলে কী বদলায়?
সফটওয়্যার-নির্ধারিত যান বা সংক্ষেপে SDV-তে গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ ফাংশনগুলো সফটওয়্যার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও উন্নত করা হয়, গাড়িটির কার্যকালজুড়েই। স্মার্টফোনে যেমন আপডেট আসে, তেমনি গাড়িতেও ওয়্যারলেস সংযোগের মাধ্যমে নতুন ফিচার বা ত্রুটি সংশোধনের আপডেট পৌঁছাতে পারে।
ওভার-দ্য-এয়ার বা OTA আপডেটের মাধ্যমে বিনোদনব্যবস্থা, নেভিগেশন ও চালক-সহায়তা ফিচার বদলানো যায়; প্রতিটি পরিবর্তনের জন্য ডিলারশিপে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এর ব্যবহারিক সুবিধা হলো, কারখানা ছাড়ার পরও গাড়ির কিছু ফাংশন উন্নত হতে পারে।
টয়োটা অ্যারেনকে ঘিরে এই পদ্ধতি গড়ে তুলছে। প্রতিটি মডেলকে আলাদা সফটওয়্যার প্রকল্প হিসেবে তৈরি করার বদলে, কোম্পানিটি তাদের গাড়ির বহরে একটি অভিন্ন ভিত্তি ব্যবহার করতে চায়। অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপারদের এমন সরঞ্জাম দেয়, যা বিভিন্ন গাড়ির জন্য ফাংশন মানিয়ে নিয়ে বারবার ব্যবহার করা যায়।
টয়োটার সফটওয়্যার তৈরির পদ্ধতি দিয়েই অ্যারেনের যাত্রা
অ্যারেনের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে উইভেন বাই টয়োটা। এই প্ল্যাটফর্ম সফটওয়্যার তৈরি, পরীক্ষা এবং গাড়ির ডেটা ব্যবহারের কাজকে একত্র করে। এর ভূমিকা শুধু ড্যাশবোর্ডের পর্দায় চালক যা দেখেন, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; গাড়ির ফাংশন তৈরি ও যাচাইয়ের জন্য প্রকৌশলীরা যে প্রক্রিয়া ব্যবহার করেন, তাতেও এটি সহায়তা করে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাজারে আসা নতুনভাবে নকশা করা RAV4 ছিল অ্যারেন ব্যবহারকারী টয়োটার প্রথম গাড়ি। মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম এবং টয়োটা সেফটি সেন্স তৈরিতে টয়োটা এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে। টয়োটা সেফটি সেন্স হলো চালক-সহায়তা ও সংঘর্ষ এড়ানোর ফাংশনগুলোর সমষ্টি।
এই সূচনাই পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপ্তি বুঝতে সাহায্য করে। দুটি মডেল থেকে প্রায় ৫০টিতে যেতে হলে, নির্বাচিত কয়েকটি ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ভিত্তিটিকে বিভিন্ন নকশা, সরঞ্জাম ও গ্রাহকের চাহিদাসম্পন্ন গাড়িতে ছড়িয়ে দিতে হবে টয়োটাকে।
এই দশকজুড়ে প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ডিসেম্বর ২০২৫: নতুনভাবে নকশা করা RAV4 বাজারে আসে; টয়োটার গাড়িতে অ্যারেনের প্রথম ব্যবহার।
- অক্টোবর ২০২৬: ব্রাসেলসে বিনিয়োগকারীদের এক ব্রিফিংয়ে টয়োটা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যবহারের লক্ষ্য জানায়।
- ২০৩০: অ্যারেন ব্যবহারকারী প্রায় ৫০টি মডেল এবং বছরে ১ কোটি নতুন গাড়ির লক্ষ্য টয়োটার।
- ২০৩০ অর্থবছর: নতুন গাড়ি বিক্রির বাইরের ব্যবসা থেকে পরিচালন মুনাফা ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করার লক্ষ্য।
- ২০৩৫ সাল পর্যন্ত: টয়োটা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে; এর মধ্যে জোটের অংশীদারদের গাড়িতে ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।
RAV4 ইতিমধ্যে যা দেখাচ্ছে
টয়োটা কোথা থেকে শুরু করেছে, তার একটি বাস্তব উদাহরণ নতুন RAV4। এর মাল্টিমিডিয়া ব্যবস্থায় রয়েছে ভয়েস-ইন্টারঅ্যাকশন সেবায় দ্রুত সাড়া এবং চালকের নিজের মতো সাজিয়ে নেওয়ার উপযোগী হোম স্ক্রিন। এগুলো গাড়ির কাঠামোগত পরিবর্তন নয়; বরং মানুষ প্রতিদিন গাড়িটি যেভাবে ব্যবহার করেন, সেই অভিজ্ঞতার উন্নতি।
নিরাপত্তা ফাংশনও উন্নত হয়েছে। চালক গাড়ি চালিয়ে যেতে অক্ষম হলে যে ব্যবস্থা সাড়া দেয়, সেটি গাড়িকে রাস্তার পাশে নিয়ে যেতে পারে এবং উপযুক্ত আশ্রয়স্থল থাকলে সেখানে থামাতে পারে। প্রি-কলিশন সেফটি সিস্টেমের শনাক্তকরণ পরিসরও বাড়ানো হয়েছে।
চালক-সহায়তা বলতে বোঝায়, নির্দিষ্ট ড্রাইভিং কাজে গাড়ির সহায়তা করা বা নির্দিষ্ট বিপদের ক্ষেত্রে সাড়া দেওয়া। প্রতিটি ফাংশন ব্যবহারের শর্ত ও দায়িত্ব সম্পর্কে চালকের সচেতন থাকা জরুরি।
অ্যারেনের প্রাথমিক ব্যবহার মাল্টিমিডিয়া ও নিরাপত্তা-সহায়তা ফাংশনে সীমিত রেখেছে টয়োটা। গাড়ির বডি নিয়ন্ত্রণ ও পাওয়ারট্রেন সিস্টেমে এর ব্যবহার বাড়ানোর বিস্তারিত সময়সূচি, কিংবা ২০৩০ সাল পর্যন্ত মডেলভিত্তিক চালুর ক্যালেন্ডার কোম্পানিটি প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন টয়োটা গাড়ির মালিকানার অভিজ্ঞতা প্ল্যাটফর্মটি কতটা বদলাবে, তা নির্ধারণ করবে এই তথ্যগুলো।
নিয়মিত অর্থ পরিশোধ টয়োটার কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ
গ্রাহক যত বছর গাড়ির মালিক থাকেন, সেই সময়জুড়ে আরও বেশি আয় করতে চায় টয়োটা। গাড়ি কেনার সময় বিক্রি থেকে আয় হয়; আর সাবস্ক্রিপশনে সক্রিয় থাকা কোনো সেবার জন্য বারবার অর্থ পাওয়া যায়। সংযুক্ত নেভিগেশন, দূর থেকে গাড়ি চালানোর ফাংশন এবং ইন্টারনেট সংযোগ এ ধরনের সেবার উদাহরণ।
নতুন গাড়ি বিক্রির বাইরের ব্যবসা থেকে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যটি শুধু সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশনের চেয়ে বিস্তৃত একগুচ্ছ ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করে। পরিচালন মুনাফা হলো ওই ব্যবসাগুলো চালানোর খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ; এতে সুদ ও করের মতো খাত ধরা হয় না।
পরিচালন মুনাফা ৪০% বাড়িয়ে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনে নেওয়ার লক্ষ্য থেকে বোঝা যায়, ২০২৫ অর্থবছরে এর ভিত্তি ছিল আনুমানিক ২.১৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন। এই গোল করা অঙ্ক ধরে হিসাব করলে, ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে ওই বিস্তৃত ব্যবসা-শ্রেণি থেকে বছরে প্রায় ৮৬০ বিলিয়ন ইয়েন অতিরিক্ত পরিচালন মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য টয়োটার।
অ্যারেনের মাধ্যমে আরও বেশি গাড়িকে সেবা ও আপডেট পাওয়ার উপযোগী করে এই পরিবর্তনে অবদান রাখার কথা টয়োটার। এর বাণিজ্যিক যুক্তি সরল: প্রতিবছর লাখ লাখ নতুন গাড়িতে অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে, মালিকানার পুরো সময়জুড়ে সেবা বিক্রির সুযোগ বাড়ে।
গ্রাহকেরা নিজেদের প্রয়োজন এবং গাড়ির জন্য পাওয়া শর্ত অনুযায়ী সেবা বেছে নেবেন। প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও চালকেরা যেন অর্থ দিতে থাকেন, সে জন্য যথেষ্ট মূল্য দিতে পারাই টয়োটার চ্যালেঞ্জ।
সাবস্ক্রিপশনে চালকের কত খরচ হতে পারে
জাপানে নতুন RAV4-এর সংযুক্ত নেভিগেশনের মাসিক খরচ প্রায় ৮৮০ ইয়েন। নতুন গাড়ির অর্ডারের সময় তিন বা পাঁচ বছরের প্যাকেজও পাওয়া যায়। দূর থেকে গাড়ি চালানোর ফাংশন ও গাড়ির ভেতরে ওয়াই-ফাই অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়।
মাসে ৮৮০ ইয়েন হিসাবে শুধু নেভিগেশনের খরচ ১২ মাসে ১০,৫৬০ ইয়েন, আর মাসিক মূল্য অপরিবর্তিত থাকলে পাঁচ বছরে ৫২,৮০০ ইয়েন হবে। এই হিসাব মাসিক মূল্য ধরে করা; প্যাকেজের মূল্য হলে মোট অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে।
গাড়ির মূল্যের মধ্যে মৌলিক ড্রাইভিং ফাংশন ও স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা-সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকে; অতিরিক্ত খরচ মূলত নির্বাচিত সুবিধাজনক ও সংযুক্ত সেবাগুলোর জন্য। ক্রেতার জন্য গাড়ির মোট খরচের সঙ্গে যেসব সেবা ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে, সেগুলোর খরচ মিলিয়ে দেখা জরুরি।
জাপানের অন্য নির্মাতারাও ইতিমধ্যে সংযুক্ত সেবার জন্য অর্থ নেয়। হোন্ডা টোটাল কেয়ার প্রিমিয়ামের মাসিক মূল্য ৫৫০ ইয়েন, অর্থাৎ বছরে ৬,৬০০ ইয়েন। নিসানকানেক্ট সেবার বার্ষিক খরচ কয়েক হাজার ইয়েন বলে জানানো হয়েছে। এসব সেবায় বিভিন্ন ফাংশন রয়েছে, তাই মূল্য তুলনার পাশাপাশি প্রতিটি অর্থ পরিশোধে কী পাওয়া যায়, তা ক্রেতাদের মিলিয়ে দেখা দরকার।
বাজার ও গাড়িভেদে মূল্য ও প্যাকেজ ভিন্ন হতে পারে। জাপানের RAV4-এর উদাহরণে মালিকানার বাজেটে নিয়মিত চার্জ কীভাবে যুক্ত হয়, তা দেখা যায়। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন দেশের উপযোগী সেবার বিকল্প দিতে হবে টয়োটাকে।
প্রতিযোগিতা ড্যাশবোর্ডের বাইরেও
গাড়ি কেনার পর বড় ধরনের সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার ক্ষেত্রে টেসলা ও চীনা নির্মাতারা আগেই এগিয়েছে। ২০১০-এর দশক থেকে টেসলা ব্যাপকভাবে OTA আপডেট ব্যবহার করে আসছে; অন্যদিকে BYD, NIO ও XPeng উৎপাদিত গাড়িতে একই ধরনের পদ্ধতি চালু করেছে।
টয়োটার পাল্টা কৌশলের বড় ভরসা তার উৎপাদনের ব্যাপ্তি। অ্যারেন ব্যবহারকারী মডেলের সংখ্যা দুটি থেকে প্রায় ৫০-এ বাড়লে, অনেক বেশি ক্রেতার কাছে অভিন্ন সফটওয়্যার উন্নয়ন-ভিত্তি পৌঁছাবে। বছরে ১ কোটি নতুন গাড়ির লক্ষ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতি বছরের বিক্রি সংযুক্ত সেবা পাওয়ার সম্ভাবনাসম্পন্ন গ্রাহকের বড় একটি নতুন দল যোগ করবে।
জোটের অংশীদারেরা এই পরিসর আরও বাড়াতে পারে। নাকাজিমার পরিকল্পনায় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ব্যাপকতর ব্যবহারের ইঙ্গিত রয়েছে, আর অন্য নির্মাতাদের অ্যারেন দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে টয়োটা। অংশীদারদের গাড়িতে ব্যবহার ২০৩০ সালের লক্ষ্যের পরের, দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা।
অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিক গাড়ি ও কোম্পানির জন্য উন্নয়নকাজ পুনর্ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চালকেরা বাস্তবে কী সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে প্রতিটি নির্মাতা এর মাধ্যমে কোন ফাংশন তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর।
মালিকানার অভিজ্ঞতা ফিচারের পাশাপাশি সহায়তার ওপরও নির্ভর করবে
ওয়্যারলেস আপডেটে কিছু ত্রুটি সংশোধন ও উন্নতি সহজ হতে পারে; সফটওয়্যার-সংক্রান্ত কাজের জন্য গাড়ি ডিলারশিপে নেওয়ার দরকারও কমে। একই গাড়ি ব্যবহার করেই মালিকেরা উন্নত নেভিগেশন, বদলে যাওয়া বিনোদন ফাংশন বা চালক-সহায়তা ব্যবস্থার উন্নতি পেতে পারেন।
সফটওয়্যারের সঙ্গে কিছু দায়িত্বও আসে। গাড়ির ফাংশনে প্রভাব ফেলে এমন আপডেটের নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা দরকার, আর সংযুক্ত সেবাকে অননুমোদিত প্রবেশ থেকে সুরক্ষিত রাখতে হয়। কোনো আপডেটে কী বদলায় এবং কোনো সেবা কী তথ্য সংগ্রহ করে, তা চালকদের স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি।
মেরামতের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আরও বেশি ফাংশন সফটওয়্যারনির্ভর হলে মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকা সরঞ্জাম ও প্রবেশাধিকার মালিকানার বাস্তব অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠবে। গাড়ি তুলনা করার সময় ক্রেতাদের জ্বালানি, বিমা ও সার্ভিসিংয়ের মতো পরিচিত খরচের পাশাপাশি সফটওয়্যার সহায়তাও বিবেচনা করতে হবে।
টয়োটার লক্ষ্য ২০৩০ সাল, তবে তার আগেই বিভিন্ন মডেল বাজারে আসা এবং সেবা-চুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের অভিজ্ঞতা গড়ে উঠবে। RAV4 সূচনাবিন্দু স্থাপন করেছে। পরবর্তী কাজ হলো প্রায় ৫০টি মডেলে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়া এবং ক্রেতাদের কাছে এর সুবিধা ও চলমান খরচ স্পষ্ট করা।
মূল বিষয়গুলো
- ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০টি মডেল এবং বছরে ১ কোটি নতুন গাড়িতে অ্যারেন ব্যবহারের লক্ষ্য টয়োটার।
- ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুনভাবে নকশা করা RAV4-এ চালুর পর বর্তমানে দুটি মডেলে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।
- অ্যারেন সফটওয়্যার তৈরি, পরীক্ষা ও ডেটা ব্যবহারে সহায়তা করে; প্রাথমিক ব্যবহার মাল্টিমিডিয়া ও টয়োটা সেফটি সেন্সে।
- নতুন গাড়ি বিক্রির বাইরের ব্যবসা থেকে ২০৩০ অর্থবছরে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন পরিচালন মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য টয়োটার, যা ২০২৫ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৪০% বেশি।
- জাপানে RAV4-এর সংযুক্ত নেভিগেশনের মাসিক মূল্য প্রায় ৮৮০ ইয়েন; অন্য সংযুক্ত ফাংশনগুলো অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যায়।
- ২০৩৫ সাল পর্যন্ত আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে টয়োটা; এর মধ্যে জোটের অংশীদারদের গাড়িতে ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।






