ছোট পরিসরে শুরু, কন্নড় সিনেমায় বড় সাফল্য
কন্নড় পারিবারিক নাটক ‘প্রেমাদা উরালি’ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মাত্র ৬০টি প্রদর্শনী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বক্স অফিস ট্র্যাকার জেরিন জর্জকুট্টির হিসাবে, ১৯ দিনে কর্ণাটকে ছবিটির মোট আয় আনুমানিক ৭৫.৫৭ কোটি রুপি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর দেওয়া তাঁর হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, তৃতীয় মঙ্গলবার ছবিটি আয় করেছে ৬.৪২ কোটি রুপি। বড় বিজ্ঞাপন প্রচারের বদলে দর্শকের মুখে মুখে ছড়ানো সুপারিশের ওপর ভর করেই প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রদর্শনী অব্যাহত রয়েছে।
সূচিপত্র
- ছোট পরিসরে শুরু, কন্নড় সিনেমায় বড় সাফল্য
- ২৫ সেপ্টেম্বরের পর দর্শক কীভাবে বাড়ল
- ছোট পরিসরে মুক্তি থেকে তৃতীয় সপ্তাহের যাত্রা
- আয়ের হিসাবগুলোর অর্থ
- বাবা, ছেলে ও বদলে যাওয়া পরিবার
- ছবিটির অর্থসংকট
- বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র আর শিশুদের গাওয়ার মতো গান
- প্রেক্ষাগৃহের কর্মীর টর্চ থেকে উপেন্দ্রর প্রশংসা
- টিকিট বিক্রিতে দর্শকের আকার স্পষ্ট
- মূল তথ্য
পরিচালক মনোজ কুমার ছবিটি নির্মাণ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রঙ্গায়ণ রঘু এবং তরুণ অভিনয়শিল্পী শ্রী রাম, থাপস্বিনী পুনাচা ও রামিকা শিবুকে নিয়ে। গল্পে গ্রামীণ পরিবারের বাবা ও ছেলেকে দেখা যায়; পুত্রবধূ পরিবারে আসার পর তাদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। ছবিটি তেলুগু ভাষায় ‘প্রেমানে উরিলো’ নামেও মুক্তি পেয়েছে।
ছবিটির নির্মাণ ব্যয় সাধারণত ২.৫ কোটি রুপি বলা হয়, যদিও অন্য হিসাবে তা ২ কোটি বা ৩ কোটি রুপি। এই হিসাবগুলোর সর্বোচ্চ অঙ্ক ধরলেও টিকিট বিক্রির পরিমাণ চোখে পড়ার মতো। স্যাকনিল্কের বরাত দিয়ে এক হিসাবে বলা হয়েছে, ১৬ দিনে ভারতে ছবিটির মোট আয় হয়েছে ৪৩.৪৫ কোটি রুপি, যা বহুল প্রচারিত ২.৫ কোটি রুপির বাজেটের ১৭ গুণেরও বেশি।
অর্থের দিক থেকে ছবিটির যাত্রার শুরুটা এতটা স্বস্তির ছিল না। নির্মাণকাজের সময় অর্থসংকট মেটাতে মায়ের মঙ্গলসূত্র বন্ধক রাখার কথা ভেবেছিলেন মনোজ। বিয়ের সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে জড়িত এই হার বন্ধক রেখে অর্থ জোগাড়ের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। মুক্তির আগে বাসে অপরিচিত যাত্রীদের হাতে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের মতো দেখতে কার্ড তুলে দিয়ে ছবিটিকে একটা সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায় দলটি।
তৃতীয় সপ্তাহে এসে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দর্শক খোঁজার বদলে তাঁদের জায়গা করে দেওয়া। প্রদর্শনী বাড়ানো, সহজে মনে থাকার মতো গান এবং পারিবারিক অভিনয় মিলে দেখায়, কীভাবে ছোট পরিসরে মুক্তি পাওয়া একটি ছবি গতি পেয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বরের পর দর্শক কীভাবে বাড়ল
৬০টি প্রদর্শনীতে ‘প্রেমাদা উরালি’র শুরুতে আয় ছিল প্রায় ৯ লাখ রুপি। জর্জকুট্টির হিসাবে কর্ণাটকে উদ্বোধনী আয় ১০ লাখ রুপি, অন্য একটি হিসাবে তা ৮ থেকে ৯ লাখ রুপি। সব হিসাবেই দেখা যায়, শুরুটা ছিল ছোট; পরে দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় প্রেক্ষাগৃহে আরও মানুষ আসেন।
১৫তম দিনে ছবিটি ১ হাজার ১৭৮টি প্রদর্শনীতে চলছিল; দর্শক উপস্থিতি ছিল ৫৭ শতাংশ। দর্শক উপস্থিতি বলতে উপলভ্য আসনের যে অংশে টিকিট বিক্রি হয়েছে, তা বোঝায়। উদ্বোধনী দিনের ৬০টি প্রদর্শনীর তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২০ গুণ। ফলে প্রতিটি প্রদর্শনীতে দর্শকসংখ্যার পরিবর্তন হিসাবের আগেই টিকিট বিক্রির সুযোগ অনেক বেড়ে যায়।
১৫তম দিনে ভারতে ছবিটির নিট আয় ছিল ৪.৫ কোটি রুপি। প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার পর টিকিট বিক্রির যে আয় থাকে, সেটিই নিট আয়। ১৬তম দিনের হালনাগাদ তথ্যে ৮৩১টি প্রদর্শনীর কথা বলা হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভারতে মোট নিট আয় আনুমানিক ৩৭.২০ কোটি রুপি বলে জানানো হয়। প্রদর্শনীর সংখ্যা বদলাতে থাকায় বোঝা যায়, ছবিটির যাত্রাপথে প্রেক্ষাগৃহের সময়সূচিও ক্রমাগত বদলেছে।
এই প্রবৃদ্ধিতে পারিবারিক দর্শকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৃতীয় সপ্তাহে ১ হাজার ১০০টির বেশি প্রদর্শনী হাউসফুল ছিল বলে জানা যায়। এতে শুরুতে সীমিত পরিচিতি পাওয়া ছবিটি কর্ণাটকের একক প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সসহ অনেক বেশি সিনেমা হলে জায়গা করে নেয়।
ছোট পরিসরে মুক্তি থেকে তৃতীয় সপ্তাহের যাত্রা
২৫ সেপ্টেম্বর ছিল ছবিটির ভাগ্য দ্রুত বদলে যাওয়ার শুরু। দ্বিতীয় সপ্তাহে কীভাবে দর্শক বেড়েছে এবং তৃতীয় সপ্তাহেও কীভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় থেকেছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাইলফলকে স্পষ্ট হয়।
- ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রথম দিন: ৬০টি প্রদর্শনীতে মুক্তি পেয়ে আয় করে প্রায় ৯ লাখ রুপি।
- ৯ অক্টোবর, ১৫তম দিন: প্রদর্শনী বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৭৮টিতে; দর্শক উপস্থিতি ছিল ৫৭ শতাংশ এবং সেদিন ভারতে নিট আয় ৪.৫ কোটি রুপি।
- ১১ অক্টোবর, ১৭তম দিন: ভারতে সেদিন নিট আয় হয় ৮ কোটি রুপি, যা প্রকাশিত জাতীয় হিসাবের মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ আয়।
- ১২ অক্টোবর, ১৮তম দিন: কর্ণাটকে মোট আয় আনুমানিক ৬৯.১৫ কোটি রুপি বলে জানান জর্জকুট্টি।
- ১৩ অক্টোবর, ১৯তম দিন: কর্ণাটকে তাঁর হিসাবে মোট আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫.৫৭ কোটি রুপিতে; জাতীয় হিসাব অনুযায়ী ভারতে মোট নিট আয় ছিল ৫৭.৭২ কোটি রুপি।
- ১৪ অক্টোবর, ২০তম দিন: ট্র্যাকারের পূর্বাভাস, কর্ণাটকে মোট আয় ৮০ কোটি রুপি ছাড়াতে পারে।
জাতীয় পর্যায়ের সাপ্তাহিক আয় থেকে প্রবৃদ্ধির গতি বিশেষভাবে বোঝা যায়: প্রথম সপ্তাহে নিট আয় ছিল ৫.৩২ কোটি রুপি, দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৩.৬৫ কোটি। অর্থাৎ দ্বিতীয় সপ্তাহে আয় প্রথম সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪.৪ গুণ হয়েছে।
আয়ের হিসাবগুলোর অর্থ
জর্জকুট্টির হিসাবে কর্ণাটকে ৭৫.৫৭ কোটি রুপির মোট আয় এবং ভারতে ৫৭.৭২ কোটি রুপির নিট আয় দুটি আলাদা বিষয়। প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার আগের টিকিট বিক্রির অর্থকে মোট আয় বলা হয়। কর বাদ দিলে থাকে নিট আয়। কর্ণাটকের হিসাব একটি রাজ্যের, আর ভারতের হিসাব সারা দেশের বাজারের।
ট্র্যাকার জানিয়েছে, তাঁর হিসাব অনলাইনে টিকিট বিক্রির তথ্যের পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহের কাউন্টার থেকে পাওয়া অনুমানের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত টিকিট বিক্রির তথ্য নেই, এমন কিছু সিনেমা হলও রয়েছে। কর্ণাটকে তাঁর হিসাবে ১৫তম দিনে মোট আয় ছিল ৫.৯৪ কোটি রুপি, ১৬তম দিনে ৮.৭৪ কোটি এবং ১৭তম দিনে ১০.২৪ কোটি। ১৮ ও ১৯তম দিনে তা ছিল যথাক্রমে ৬.৭৪ কোটি ও ৬.৪২ কোটি রুপি।
জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, ১৭তম দিনে নিট আয় ছিল ৮ কোটি রুপি এবং ১৮ ও ১৯তম দিন—প্রতিদিন ৪.৭৫ কোটি রুপি। এর আগে জাতীয় পর্যায়ের এক হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছিল, ১৭তম দিন শেষে ভারতে মোট নিট আয় ৪৮.২২ কোটি রুপি এবং মোট আয় ৫৬.৩৯ কোটি রুপির বেশি।
প্রযোজকেরা ট্র্যাকারের হিসাব নিশ্চিত করেননি, আর ২০তম দিনের চূড়ান্ত মোট আয়ও জানানো হয়নি। কর্ণাটকে ৮০ কোটি রুপি ছাড়ানো ছিল পরবর্তী পূর্বাভাসের মাইলফলক; ১৯তম দিনের হিসাবের চেয়ে আরও ৪.৪৩ কোটি রুপি আয় করতে হতো।
পরিবেশকের অংশ আরেকটি হিসাব: প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে চুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহের আয় থেকে পরিবেশকের হাতে যে অংশ যায়। জর্জকুট্টির হিসাবে ১৮তম দিন পর্যন্ত এ অংশ ছিল আনুমানিক ৩০.১১ কোটি রুপি। শেষ পর্যন্ত প্রযোজকেরা কত আয় করবেন, তা নিরূপণে নির্মাণ ব্যয়ের পাশাপাশি ছবির পরিবেশনা চুক্তি, প্রচার ব্যয় ও অন্যান্য খরচও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাবা, ছেলে ও বদলে যাওয়া পরিবার
গ্রামীণ পরিবারের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বাবা নাগান্নার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রঙ্গায়ণ রঘু। তাঁর ছেলে সান্থুর চরিত্রে শ্রী রাম, রুক্মিণীর চরিত্রে থাপস্বিনী পুনাচা এবং বসন্তার চরিত্রে রামিকা শিবু অভিনয় করেছেন। প্রেম এবং পুত্রবধূর আগমনে পরিবারের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়।
দলীয় অভিনয়ে অভিজ্ঞতার ছাপ রেখেছেন রঘু। শ্রী রাম বলেছেন, তরুণ অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে এবং তাঁদের দলে মিশে যেতে তিনি চেষ্টা করেছেন। পারিবারিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েন ছবিটির আকর্ষণের একটি অংশ; হাস্যরস ও স্নেহের জায়গা নেয় আরও গভীর আবেগের দৃশ্য।
এর আগে শহুরে কলেজজীবনকেন্দ্রিক চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়া শ্রী রাম সান্থু চরিত্রের প্রস্তুতিতে কৃষিকাজ অনুশীলন করেছেন এবং গবাদিপশুর আশপাশে সময় কাটিয়েছেন। চরিত্রটির চলাফেরা ও অভ্যাস যেন গ্রামে কাজ করা মানুষের মতো হয়, সেটিই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
গল্প যত আবেগঘন হয়েছে, তাঁর অভিনয়ে কথার চেয়ে অভিব্যক্তির গুরুত্বও তত বেড়েছে বলে জানান থাপস্বিনী। রুক্মিণীর চরিত্রে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:
ছবিটি যত আবেগঘন হয়েছে, চোখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে আমাকে তত বেশি অনুভূতি প্রকাশ করতে হয়েছে। আমার সংলাপ ছিল খুবই কম। ভালো লাগছে যে দর্শকেরা আমার চরিত্রের সঙ্গে আবেগের জায়গা থেকে যুক্ত হতে পেরেছেন।
এই সিদ্ধান্তগুলো ছবির বিস্তৃত পারিবারিক গল্পের সঙ্গে নির্দিষ্ট অভিনয়কে যুক্ত করেছে: কৃষকের শারীরিক পরিশ্রম, বাবার আচরণ এবং সীমিত সংলাপের মধ্যে এক নারীর অনুভূতি প্রকাশ।
ছবিটির অর্থসংকট
নির্মাণকাজে মনোজের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল মায়ের মঙ্গলসূত্র বন্ধক রাখার কথা ভাবা। অভিনয়শিল্পীরা স্মরণ করেন, টাকা ফুরিয়ে গেলে তিনি মাকে ফোন করে অর্থ জোগাড়ের জন্য গয়নাটি ধার চান।
পরিস্থিতিটি তাঁদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল বলে জানান অভিনয়শিল্পীরা। তখন যে দৃশ্যটির শুটিং চলছিল, সেটি তাঁরা এক টেকেই শেষ করেন। এরপর মনোজ অভিনয়শিল্পীদের জড়িয়ে ধরেন। পরে মাকে আবার ফোন করে জানান, হারটি আর বন্ধক রাখতে হবে না।
ছবিটির সহ-চিত্রনাট্যকার ও সহ-প্রযোজক দেবেন্দ্র মেদারামেতলা নিজের সঞ্চয় দিয়ে প্রকল্পটিকে সহায়তা করেন। তাঁর অবদান জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও কাজের সুযোগ পেতে সমস্যায় থাকা একজন পরিচালকের পাশে দাঁড়ায়।
প্রযোজনার কৃতিত্বের তালিকায় মামাথা দেবেন্দ্র এম ও সুরেশ কোন্ডেতির নাম রয়েছে; ব্যানার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ভ্যানিলা এন্টারটেইনমেন্টস ও জানকাম্মা প্রোডাকশন্সের নাম। চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন দেবেন্দ্র, চিত্রগ্রহণ করেছেন রাজকান্ত এসকে এবং সম্পাদনা করেছেন হর্ষিত প্রভু। প্রচলিত প্রচারণার আর্থিক সীমাবদ্ধতা মুক্তির প্রচারেও ছিল, আর এই কাজগুলো সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই ছবিটি নির্মাণে সহায়তা করেছে।
বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র আর শিশুদের গাওয়ার মতো গান
মুক্তির এক দিন আগে বাসে নিমন্ত্রণপত্রের মতো দেখতে কার্ড বিলি শুরু করে ছবির দল। বিয়ের কার্ডের আদলে তৈরি সেসব কার্ড প্রচারণাকে পরিচিত ও ব্যক্তিগত আবেদনময় করে তোলে। অটোরিকশাচালকেরাও পোস্টারের মাধ্যমে ছবিটির প্রচারে সহায়তা করেন।
সুরকার সুনাদ গৌতম ছবিটিকে প্রাথমিক প্রদর্শনীর গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আরেকটি উপায় তৈরি করেন। শুরু থেকেই একটি জনপ্রিয় গান তৈরির ইচ্ছা ছিল মনোজের; শিরোনামসংগীতটি ছবির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
সুনাদ বলেন, শিশুদের কথা ভেবে তিনি সুরটি তৈরি করেছেন। সুরকার গানটির সরলতার পেছনের ভাবনা ব্যাখ্যা করে বলেন:
আমরা চেয়েছিলাম শিশুরা গানটি গাইুক।
টেলিভিশন ধারাবাহিকের জন্য সুর করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন সুনাদ। সেখানে শিরোনামসংগীতকে শুরুতেই দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে হয় এবং বারবার শোনার পরও মনে রাখতে হয়। ধারাবাহিকের শিরোনামকে সুরের আকর্ষণীয় অংশে গেঁথে দেওয়ার অভিজ্ঞতা হিসেবে তিনি ‘জোথে জোথেয়ালি’তে কাজের কথা উল্লেখ করেন।
নিমন্ত্রণপত্র মানুষকে ছবিটি দেখতে আসার অনুরোধ জানিয়েছে, পোস্টার ছবিটিকে মানুষের চোখের সামনে রেখেছে, আর গানটি সহজে মনে রাখার মতো কিছু দিয়েছে। এরপর দর্শকের সুপারিশ ছবিটিকে আরও বেশি প্রদর্শনীতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে। এই বিষয়গুলোই দেখায়, প্রচলিত প্রচারণার মতো পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলেও ছবিটির প্রচার কীভাবে কাজ করেছে।
প্রেক্ষাগৃহের কর্মীর টর্চ থেকে উপেন্দ্রর প্রশংসা
একসময় সান্থোষ থিয়েটারে প্রেক্ষাগৃহের কর্মীর টর্চ হাতে নিয়ে ছবি দেখতেন মনোজ। চোখ দানের ওপর তাঁর আগের ছবি ‘অক্ষি’ ২০২১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। এই স্বীকৃতি মর্যাদা এনে দিলেও, একই ধরনের আরও কাজের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
সেই প্রত্যাশার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে ‘প্রেমাদা উরালি’কে দেখেন মনোজ। সমান্তরাল ধারার সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরুর পরের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে পরিচালক বলেন:
শৈল্পিক বা সমান্তরাল ধারার ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু করলে একজন পরিচালকের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, তাঁকে নির্দিষ্ট এক ধরনের ছবির নির্মাতা হিসেবে বেঁধে ফেলা হয়। মানুষ আমার কাছ থেকে একই ধরনের গল্প আশা করত। নিজের ছক ভেঙে পুরোপুরি বিনোদনধর্মী একটি ছবি দিতে পেরেছি বলে আমি খুশি।
অভিনেতা ও পরিচালক উপেন্দ্র পরে মনোজকে ভয়েস নোট পাঠিয়ে ছবিটির প্রশংসা করেন। অভিনয়, লেখা, চিত্রনাট্য, সংলাপ বলার ধরন ও সংগীতের প্রশংসা করে তিনি নির্মাতার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা জানান।
ছবিটি দেখে নিজের অনুভূতির কথাও জানান উপেন্দ্র:
আমি সত্যিই আপনার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে, শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে এবং আমার প্রশংসার কথা জানাতে চাই।
টিকিট বিক্রিতে দর্শকের আকার স্পষ্ট
১৯তম দিন পর্যন্ত ‘প্রেমাদা উরালি’র ২৭.০৮ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে অনুমান করা হয়; ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ২১.৬ লাখ। প্রকাশিত তুলনায় ‘প্রেমাদা উরালি’ এগিয়ে ৫.৪৮ লাখ টিকিটে, অর্থাৎ প্রায় ২৫ শতাংশ।
আয়ের পাশাপাশি টিকিট বিক্রির হিসাব ছবিটির দর্শকসংখ্যা বুঝতে সাহায্য করে। জানানো হয়েছে, ছবিটির টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২৫০ রুপি ছিল। কম দামের টিকিটে বেশি মানুষ প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারেন, অথচ বেশি দামের ছবির তুলনায় আয় কমও হতে পারে। তাই দর্শক উপস্থিতি ও আয় ছবির সাফল্য সম্পর্কে ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়।
‘টক্সিক’-এর সঙ্গে পার্থক্য শুধু টিকিট বিক্রিতেই নয়, নির্মাণ ব্যয়েও। ‘টক্সিক’-এর বাজেট ৫০০ কোটি রুপির বেশি বলে জানানো হয়েছে; সেখানে ‘প্রেমাদা উরালি’র বহুল প্রচারিত বাজেট ২.৫ কোটি রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে আয় বৃদ্ধি এবং তৃতীয় সপ্তাহেও দর্শকের উপস্থিতি দেখায়, দর্শকের সুপারিশ ছড়াতে শুরু করলে ছোট বাজেটের ছবিও কত দূর যেতে পারে।
মূল তথ্য
- ‘প্রেমাদা উরালি’ ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ৬০টি প্রদর্শনীতে মুক্তি পায়; ১৫তম দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৭৮টিতে।
- জেরিন জর্জকুট্টির হিসাবে, ১৯ দিনে কর্ণাটকে ছবিটির মোট আয় ৭৫.৫৭ কোটি রুপি।
- একই সময়ে ভারতে মোট নিট আয় দাঁড়ায় ৫৭.৭২ কোটি রুপিতে।
- ছবিটির বহুল প্রচারিত নির্মাণ বাজেট ২.৫ কোটি রুপি; অন্য হিসাবে তা ২ কোটি থেকে ৩ কোটি রুপির মধ্যে।
- গ্রামীণ পারিবারিক নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রঙ্গায়ণ রঘু, শ্রী রাম, থাপস্বিনী পুনাচা ও রামিকা শিবু।
- দর্শকের সুপারিশ, নিমন্ত্রণপত্রের মতো কার্ড, পোস্টার এবং সুনাদ গৌতমের শিরোনামসংগীত ছবিটিকে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
- ট্র্যাকারের পূর্বাভাস ছিল, ২০তম দিনে কর্ণাটকে আয় ৮০ কোটি রুপি ছাড়াবে; পরবর্তী হিসাবেই জানা যাবে, ছবিটি সেই মাইলফলকে পৌঁছেছে কি না।






