বাজেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় চাল সহায়তা, প্রস্তুতি নিচ্ছে সমবায়গুলো
ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৮টি উপকারভোগী পরিবারকে প্রায় ১০ লাখ টন চাল সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেখানে মেরাহ পুতিহ গ্রাম সমবায় চালু রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে এবং অন্য এলাকায় বিদ্যমান স্থানীয় বিতরণব্যবস্থার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির জন্য ১৭.৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার বাজেট বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। তবে বিতরণ শুরুর আগে প্রাপকদের তথ্য যাচাই এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
সূচিপত্র
- বাজেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় চাল সহায়তা, প্রস্তুতি নিচ্ছে সমবায়গুলো
- কারা যোগ্য, আর কত চাল দেওয়ার পরিকল্পনা?
- বাসিন্দারা কোথা থেকে সহায়তা সংগ্রহ করবেন
- বিতরণ শুরুর আগে কী কী করতে হবে?
- একই নেটওয়ার্কে বিক্রি হবে SPHP চাল
- বর্তমান অর্ডার মজুতের লক্ষ্যের চেয়ে কম
- ৮,০০০টি সমবায়ে সরঞ্জাম যাচাই
- নির্মাণের লক্ষ্যের চেয়ে কার্যক্রম চালুর কাজ এগিয়ে
- চাল বিতরণের বাইরেও সমবায়গুলোর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা
- মূল বিষয়গুলো
খাদ্যবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ১৪ অক্টোবর জাকার্তায় প্রস্তুতির কথা জানান। সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য আরও ১০ লাখ টন চালের আলাদা বরাদ্দের ব্যবস্থাও করছে। খাদ্য সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলকরণ কর্মসূচি—যা SPHP নামে পরিচিত—এর আওতায় ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত চাল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে বাসিন্দারা ভিন্নভাবে সহায়তা পাবেন। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে যোগ্য উপকারভোগীদের চাল দেওয়া হয়। SPHP-তে ভর্তুকি মূল্যে চাল কেনার সুযোগ থাকে; ঘোষিত দাম প্রতি কেজি ১২,৫০০ রুপিয়া। সার, রান্নার তেল, চিনি ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা LPG বিক্রির পাশাপাশি দুই কর্মসূচিতেই গ্রামের সমবায়গুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
হাসান সহায়তার লক্ষ্য হিসেবে ৩ কোটি ৩২ লাখ প্রাপকের কথা বলেছেন, আর কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণায় উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৮ বলা হয়েছে। পরিকল্পিত আওতা সম্পর্কে পরিবারের সংখ্যাটিই বেশি নির্ভুল হিসাব দেয়।
সহায়তার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক বিষয়গুলো বাস্তব ও নির্দিষ্ট: যাচাই শেষে তাদের নাম তালিকায় উঠেছে কি না, স্থানীয় সমবায়টি চালু আছে কি না এবং রাষ্ট্রীয় সরবরাহ সংস্থা বুলোগ কবে বিতরণের দায়িত্ব পাবে। ১৫ অক্টোবর থেকে সমবায়গুলোর কার্যক্রম একযোগে শুরুর পরিকল্পনা প্রস্তুতির একটি ধাপ। তবে চাল সহায়তা দিতে এখনো বাজেটের অনুমোদন ও বিতরণের আদেশ প্রয়োজন।
কারা যোগ্য, আর কত চাল দেওয়ার পরিকল্পনা?
জাতীয় একক আর্থসামাজিক তথ্যব্যবস্থা—ইন্দোনেশীয় সংক্ষিপ্ত নাম DTSEN—এর প্রথম থেকে চতুর্থ দশমাংশে থাকা পরিবারগুলো এ সহায়তার লক্ষ্য। দশমাংশ বলতে কোনো ক্রমতালিকার দশটি ভাগের একেকটিকে বোঝায়। এখানে প্রথম চারটি ভাগে আর্থসামাজিক অবস্থানের নিম্নের দিকে থাকা পরিবারগুলো অন্তর্ভুক্ত।
সহায়তা দেওয়ার আগে কর্মকর্তারা প্রাপকদের তথ্য আবার যাচাই করছেন। প্রস্তাবিত তালিকায় ৩ কোটির বেশি পরিবার থাকায় এই যাচাইয়ের ভিত্তিতেই ঠিক হবে, কারা আমন্ত্রণপত্র পাবেন এবং কোন স্থান থেকে চাল সংগ্রহ করবেন।
কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণায় ১০ কেজি চালের প্যাকেটের কথা বলা হয়েছে। বুলোগপ্রধান আহমাদ রিজাল রামধানির নামে উদ্ধৃত আরেকটি বিতরণ বিবরণে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ লিটার চাল পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেজি ও লিটার যথাক্রমে ওজন ও আয়তনের একক। তাই পরিবারগুলো কত পরিমাণ চাল পাবে এবং তা কোন এককে হিসাব করা হবে, সংগ্রহের চূড়ান্ত নির্দেশনায় তা স্পষ্ট করা দরকার।
২০২৬ সালের শেষ তিন মাসের জন্য প্রায় ১০ লাখ টন চাল বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুলোগ বলেছে, ওই সময়ে লক্ষ্যভুক্ত উপকারভোগীদের সহায়তা দিতে ১০ লাখ টনের কম চালই যথেষ্ট হবে।
বাসিন্দারা কোথা থেকে সহায়তা সংগ্রহ করবেন
যেসব জায়গায় মেরাহ পুতিহ গ্রাম ও নগর ওয়ার্ড সমবায় প্রতিষ্ঠিত এবং চালু হয়েছে, সেখানে সেগুলোর মাধ্যমে সহায়তা বিতরণের পরিকল্পনা বুলোগের। এসব সমবায়কে সম্মিলিতভাবে KDKMP বলা হয়। সমবায়ের গুদামের ভেতরে বা প্রাঙ্গণে তাঁবু টানিয়ে চাল সংগ্রহের ব্যবস্থা হতে পারে।
যেসব গ্রামে চালু সমবায় নেই, সেখানে আগের স্থানীয় বিতরণব্যবস্থাই চলবে। রিজাল সুলাওয়েসি, কালিমান্তান এবং বিশেষ করে পাপুয়ার কিছু এলাকার উদাহরণ দিয়েছেন, যেখানে সমবায়ের প্রাপ্যতা এখনো সীমিত এবং আগের মাধ্যমগুলোই ব্যবহার করতে হতে পারে।
প্রাপকদের স্থানীয় সমাজকল্যাণ দপ্তরের দেওয়া বারকোডযুক্ত আমন্ত্রণপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র—KTP—নিয়ে যেতে হবে। চাল দেওয়ার আগে বুলোগের কর্মীরা বারকোড স্ক্যান করে প্রাপকের পরিচয় যাচাই করবেন। ফলে কিছু বাসিন্দার জন্য সংগ্রহের স্থান বদলালেও পরিচয় যাচাইয়ের বিদ্যমান পদ্ধতি বহাল থাকছে।
বিতরণ শুরুর আগে কী কী করতে হবে?
সহায়তার প্রশাসনিক শর্ত এবং বাজেটের নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট মহাপরিদপ্তর। এ কাজ শেষ হলে কাগজপত্র যাবে জাতীয় খাদ্য সংস্থার কাছে, যা Bapanas নামে পরিচিত। এরপর সংস্থাটি বুলোগকে চাল বিতরণের দায়িত্ব দেবে।
হাসান বলেছেন, অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া ও প্রাপকদের যাচাইও সম্পন্ন করা হচ্ছে। ১৪ অক্টোবর তিনি ইঙ্গিত দেন, পরের সপ্তাহে প্রস্তুতি শেষ হতে পারে। তবে চাল সংগ্রহের প্রথম দিনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
সময়সূচিতে পাশাপাশি চলা একাধিক কাজ রয়েছে: পরিবারগুলোর তথ্য যাচাই, ব্যয়ের অনুমোদন, সমবায়ে চাল মজুত এবং তাদের সরঞ্জাম সচল আছে কি না তা নিশ্চিত করা। প্রধান তারিখ ও লক্ষ্যগুলো হলো:
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬: মধ্য জাভার সুকোহরজোতে কর্মকর্তারা ১০৭টি সমবায়ের কার্যক্রম তদারক করেন। সেখানে SPHP চালের মোট অর্ডার ছিল ৫৩.৫ টন।
- ১৪ অক্টোবর: হাসান বিতরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রাথমিকভাবে ৮,০০০টি সমবায়ের কার্যক্রম যাচাইয়ের ঘোষণা দেন।
- ১৫ অক্টোবর: সমবায়গুলোর কার্যক্রম একযোগে শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়; একই সঙ্গে আট দিনের তদারকি কার্যক্রমও শুরু হওয়ার কথা।
- অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর: চাল সহায়তা কর্মসূচির পরিকল্পিত সময়কাল।
- অক্টোবরের শেষ নাগাদ: অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রায় ৮,০০০টি সমবায়ে চাল মজুত ও কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা সম্পন্ন করার লক্ষ্য হাসানের।
- ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত: অতিরিক্ত ১০ লাখ টন SPHP চাল সরবরাহের পরিকল্পিত সময়কাল।
প্রশাসনিক কাজ ও সমবায়ের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে স্থানীয় বিতরণ চলবে। আগের মাধ্যম ব্যবহার করা এলাকাগুলোর বাসিন্দারা সেই ব্যবস্থাতেই চাল সংগ্রহ করবেন।
একই নেটওয়ার্কে বিক্রি হবে SPHP চাল
প্রতিটি সমবায়ের জন্য অন্তত ২ টন SPHP চাল প্রস্তুত রাখতে বুলোগকে বলা হয়েছে। PT Agrinas Pangan Nusantara-এর মাধ্যমে পাঠানো ক্রয়াদেশ অনুযায়ী চাল পৌঁছাবে। প্রতিটি স্থানে কত চাল যাবে, তা নির্ভর করবে সেখানে কতটা অর্ডার করা হয়েছে তার ওপর।
রিজাল বলেছেন, Agrinas Pangan-এর অর্ডারে কোনো পরিমাণসীমা না রেখে সেগুলো পূরণ করবে বুলোগ। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১,২৫০টি সমবায় অর্ডার দিয়েছিল। চাল গ্রহণে প্রস্তুত স্থানগুলোতে সরবরাহ শুরু হচ্ছিল।
প্রতি কেজি ১২,৫০০ রুপিয়া দরে ১০ কেজি SPHP চালের দাম হবে ১,২৫,০০০ রুপিয়া। যোগ্য পরিবারগুলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে চাল পাবে, আর SPHP চাল কিনতে হলে বাসিন্দাদের ভর্তুকিযুক্ত বিক্রয়মূল্য দিতে হবে।
শুষ্ক মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধির চাপ কমাতে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশের সঙ্গে অতিরিক্ত চাল সরবরাহের বিষয়টি যুক্ত করেছেন হাসান। রিজাল আরও বলেন, অতিরিক্ত SPHP বরাদ্দ এল নিনো এবং ভরা মৌসুমের মধ্যবর্তী সময়ে সরবরাহ কমে আসার আশঙ্কা থাকা মন্দা মৌসুমের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।
বর্তমান অর্ডার মজুতের লক্ষ্যের চেয়ে কম
সমবায় নেটওয়ার্কের অগ্রগতির চিত্র আরও স্পষ্ট করে বুলোগের কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বিবৃতিতে ১,৯৮৫টি সমবায়ে সেবার আওতার কথা বলা হয়েছে: ৭৩৬টি সমবায় SPHP চাল পেয়েছে, আর ১,২৪৯টি তখনো সেবা কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় ছিল।
ওই ১,২৪৯টি সমবায় মোট ৬ লাখ ২৪ হাজার কেজি বা ৬২৪ টন চালের অর্ডার দিয়েছিল। অর্থাৎ গড়ে প্রতি সমবায়ে প্রায় আধা টন। অথচ প্রতিটি স্থানে অন্তত ২ টন মজুত রাখাই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য।
সুকোহরজোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে তদারক করা ১০৭টি সমবায়ের মোট অর্ডার ছিল ৫৩ হাজার ৫০০ কেজি বা ৫৩.৫ টন, অর্থাৎ প্রতি স্থানে গড়ে ৫০০ কেজি। ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এসব স্থানে চাল পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
অমীমাংসিত অর্ডার থাকা ১,২৪৯টি সমবায়ে প্রতিটিতে ২ টন করে মজুত করতে সরকারের ঘোষিত মানদণ্ড অনুযায়ী ২,৪৯৮ টন চাল লাগবে। তাদের নথিভুক্ত ৬২৪ টনের অর্ডার ওই পরিমাণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। নিয়মিত বিক্রির প্রস্তুতি নিতে নেটওয়ার্কটির এখনো কতটা মজুত দরকার, তা এই হিসাব থেকে বোঝা যায়।
বুলোগ আলাদাভাবে জানিয়েছে, তাদের কাছে ৪৫ লাখ টন চাল রয়েছে এবং সহায়তা কর্মসূচি শেষ হলেও ৩০ লাখ টনের বেশি চাল থাকবে বলে তারা আশা করছে। গ্রামের পর্যায়ে কাজ হলো কেন্দ্রীয় মজুতকে অর্ডার, চালান এবং স্থানীয় সংগ্রহ বা বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া চালের রূপ দেওয়া।
৮,০০০টি সমবায়ে সরঞ্জাম যাচাই
১৫ অক্টোবর থেকে আট দিনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৮,০০০টি সমবায়ের কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন হাসান। সমন্বয় সভায় আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডার ও গভর্নরসহ ১০৭ জন অংশ নেন। স্থানীয় কর্মকর্তা, গ্রামপ্রধান ও সমবায় ব্যবস্থাপকেরাও পরবর্তী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
পরিদর্শকেরা শুধু ভবন দেখছেন না। তাঁরা ভর্তুকিযুক্ত সার, চিনি, রান্নার তেল, LPG ও SPHP চালের মজুতের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ এবং মোটরচালিত রিকশাসহ তিন চাকার যানবাহনও পরীক্ষা করছেন।
হাসান বলেছেন, যানবাহনে সত্যিই ইঞ্জিন আছে কি না এবং সেগুলো চলতে পারে কি না, কর্মকর্তাদের তা পরীক্ষা করতে হবে। বিতরণব্যবস্থায় কোনো ট্রাকের নাম তালিকায় থাকলেই হবে না; গুদাম, সমবায় ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে পণ্য পরিবহনে সেটিকে সচল থাকতে হবে।
প্রথম ৮,০০০টি স্থানের সময়সূচিতে নিবিড় পরিদর্শন এবং বৃহত্তর পরিসরে মজুত গড়ার লক্ষ্য একসঙ্গে রয়েছে। খাদ্যবিষয়ক দায়িত্বে থাকা সমন্বয়মন্ত্রী হাসান অক্টোবরের শেষ নাগাদ কাজ শেষ করার লক্ষ্য জানিয়ে বলেন:
আমরা মাসের শেষ নাগাদ এটি শেষ করব। আশা করি, ৮,০০০টি সমবায়ের কাজ সম্পন্ন হবে,
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অসমতার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। কিছু সমবায়ে ইতিমধ্যে পণ্য ও সরঞ্জাম রয়েছে, আবার কোথাও ঘাটতি পূরণের কাজ চলছে। প্রতিটি স্থানে কী আছে এবং আর কী সরবরাহ করা দরকার, কর্মকর্তাদের তা শনাক্ত করতে বলা হয়েছে।
নির্মাণের লক্ষ্যের চেয়ে কার্যক্রম চালুর কাজ এগিয়ে
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৩৫,০০০টি সমবায় ভবন নির্মাণের মধ্যম পর্যায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন হাসান। জমি নিশ্চিত হওয়ায় সংখ্যা ৪০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ৮০,০০০টি ভবন নির্মাণের বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রায় ২৯,০০০টি সমবায়ের কথা প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে বলা হয়েছে। হাসানের প্রাথমিক বক্তব্যে সেগুলোকে প্রস্তুত বলা হয়েছিল; নির্মাণসংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণে প্রায় ২৯,০০০টিকে নির্মাণের জন্য প্রস্তুত পর্যায়ে বলা হয়েছে। আর মজুতসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে তিনি বলেন, প্রায় ২৮,০০০ থেকে ২৯,০০০টিতে এখনো পণ্য সরবরাহ করা দরকার। অগ্রাধিকার তালিকার ৮,০০০টি স্থানে কার্যক্রম চালুর সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
কর্মসূচিতে প্রথমে সমবায়ের আইনি প্রতিষ্ঠা, এরপর নির্মাণ, তারপর মজুত ও কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পর্যায়ে আলাদা কাজ রয়েছে: সমবায় নিবন্ধন, প্রাঙ্গণ নির্মাণ শেষ করা, পণ্য সংগ্রহ এবং বাসিন্দাদের সেবা দিতে কর্মী ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা।
আগের এক পরিকল্পনা ঘোষণায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ৩৫,৮৭২টি স্থাপনা সম্পন্ন এবং বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৪০,০০০টি সমবায় চালুর আশা করা হয়েছিল। অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে ৩৫,০০০টি ভবন নির্মাণের মধ্যম পর্যায়ের লক্ষ্য জানানো হয়েছে, আর তাৎক্ষণিক কার্যক্রম যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রথম ৮,০০০টিতে।
নির্মাণকাজ দ্রুত করতে সরকার ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী—TNI—কে যুক্ত করেছে। মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক প্রশাসন এবং গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত কর্মকর্তারাও এ কাজে অংশ নিচ্ছেন।
চাল বিতরণের বাইরেও সমবায়গুলোর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা
সমবায় কর্মসূচির আওতায় ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা দিতে একটি প্রেসিডেন্টের বিধিমালা খসড়া করছে সরকার। সমবায় মন্ত্রণালয় এবং গ্রাম ও অনগ্রসর অঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এ কাজে যুক্ত। খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া ঘোষণার এক মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন হাসান।
পরিকল্পনায় রয়েছে কল্যাণ সহায়তা বিতরণ, ভর্তুকিযুক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি এবং স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের কাছ থেকে পণ্য কেনা। ক্রেতার ভূমিকা নিয়ে সমবায় উৎপাদকদের পণ্য বিক্রির কাছাকাছি একটি জায়গা দিতে পারে; একই সঙ্গে পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের কাজও করতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বুদি সান্তোসো বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়াতে এবং সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করতে এ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। হাসানও সমবায়গুলোর সঙ্গে গ্রামের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং বাসিন্দাদের কাছাকাছি খাদ্য বিতরণের সম্পর্ক দেখিয়েছেন।
ব্যবসা পরিচালনায় অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় ব্যবস্থাপকদের অন্তত দুই বছর দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দিতে হবে বলে হাসান জানিয়েছেন। চাল সরবরাহ, সরঞ্জাম যাচাই এবং ভবন নির্মাণ শেষ করার তাৎক্ষণিক সময়সীমার পাশাপাশি এই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাসিন্দাদের জন্য পরিকল্পিত সুবিধা হলো—সহায়তা সংগ্রহ, ভর্তুকিযুক্ত চাল কেনা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার জন্য কাছেই একটি স্থান থাকবে। ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে কোনো গ্রামে এই ব্যবস্থা চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সেখানকার সমবায় কতটা প্রস্তুত তার ওপর। চালু সমবায় নেই এমন জনগোষ্ঠীকে আগের বিতরণব্যবস্থার মাধ্যমেই সেবা দেওয়া হবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৮টি উপকারভোগী পরিবারকে চাল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে; এ জন্য ১৭.৫ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বাজেট বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজ, প্রাপকদের তথ্য যাচাই এবং Bapanas-এর কাছ থেকে বুলোগের বিতরণাদেশ পাওয়ার পর চাল বিতরণ শুরু হবে।
- চালু গ্রামের সমবায়ের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হবে; অন্য এলাকায় আগের স্থানীয় ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
- প্রাপকদের বারকোডযুক্ত সমাজকল্যাণ দপ্তরের আমন্ত্রণপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিতে হবে।
- আলাদা বরাদ্দে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ১০ লাখ টন SPHP চাল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে; ঘোষিত বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ১২,৫০০ রুপিয়া।
- অক্টোবরের শেষ নাগাদ কার্যক্রম যাচাই ও মজুতের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অগ্রাধিকার প্রায় ৮,০০০টি সমবায়।
- ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৩৫,০০০টি সমবায় ভবন নির্মাণের মধ্যম পর্যায়ের লক্ষ্য রয়েছে; ৪০,০০০টি নির্মাণও সম্ভব বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।






