নভেম্বরের একটি বিক্রিতে বড় পরিবর্তনের আভাস
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভুটান Binance-এর মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার মূল্যের ৩৬৭ বিটকয়েন বিক্রি করে। এরপরও দেশটির হাতে ছিল ১২,২০৬ BTC, যার মূল্য আনুমানিক ১১১ কোটি ডলার। এর আগে আরও ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি বিক্রির খবর এসেছিল। দুই লেনদেন মিলিয়ে মূল্য দাঁড়ায় ৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এসব পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাজার চড়ার সময় সরকার কিছু অর্থ তুলে নিলেও অনেক বড় অঙ্কের ক্রিপ্টোকারেন্সি ধরে রেখেছিল।
সূচিপত্র
- নভেম্বরের একটি বিক্রিতে বড় পরিবর্তনের আভাস
- ৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের লেনদেনে কী ঘটেছিল?
- সময়রেখায় রিজার্ভের দুই ভিন্ন চিত্র
- পরের দফার অর্থ স্থানান্তরে রিজার্ভ আরও কমার ইঙ্গিত
- কয়েনের তুলনায় ডলারে মূল্য বেশি কমার কারণ
- জলবিদ্যুৎ ভুটানের কৌশলকে আলাদা করেছিল
- খনি কার্যক্রম বন্ধ, নাকি কম দৃশ্যমান?
- সব দেশের বিটকয়েন কৌশল এক নয়
- মূল বিষয়গুলো
পরবর্তী এক প্রতিবেদনে রিজার্ভে বড় ধরনের পতনের কথা বলা হয়েছে: বিটকয়েনের পরিমাণ ৩,৯৫৪ BTC, যার মূল্য প্রায় ২৮ কোটি ৬ লাখ ডলার; ২০২৪ সালের অক্টোবরে তা ছিল আনুমানিক ১৩,০০০ BTC। প্রতিবেদনে ২২৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার মূল্যের ৩১৯.৭ BTC-এর আরেকটি স্থানান্তরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ১৮ মাসে রিজার্ভ কমার হিসাব দেওয়া হলেও প্রতিবেদনটি প্রকাশের তারিখ জানানো হয়নি। তাই এটিকে নভেম্বরের বিক্রির দিনের রিজার্ভ নিয়ে ভিন্ন কোনো হিসাব হিসেবে নয়, বরং পরবর্তী সময়ের একটি চিত্র হিসেবে দেখা উচিত।
এই পার্থক্যেই গল্পের দিক বদলে যায়। শুধু নভেম্বরের লেনদেন দেখলে মনে হয়েছিল, দর বাড়ার সময় সীমিত পরিমাণে বিক্রি করেছিল ভুটান। কিন্তু পরের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, দেশটির প্রকাশ্যে শনাক্তযোগ্য বিটকয়েনের পরিমাণ আরও ব্যাপকভাবে কমেছে। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে দেশটির বিটকয়েন খনির কার্যক্রম রিজার্ভে নতুন কয়েন যোগ করছে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি।
দুই সময়ের হিসাবই ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান Arkham Intelligence-এর ওয়ালেট ট্র্যাকিং তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। ভুটানের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ পরিচালনাকারী রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান Druk Holding & Investments পরবর্তী স্থানান্তর বা খনির কার্যক্রমের অবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। লেনদেনের রেকর্ডে এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় কয়েন যাওয়া দেখা যায়; কিন্তু শুধু এ তথ্য থেকে সব কয়েন বিক্রি হয়েছে কি না, কত দামে বিক্রি হয়েছে বা বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না।
৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের লেনদেনে কী ঘটেছিল?
নভেম্বরের প্রতিবেদনগুলোতে প্রায় ৩৬৭ BTC Binance-এ পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেনদেনটি বৃহস্পতিবার সকালে হয়েছিল, অর্থাৎ ১৪ নভেম্বর। ১৫ নভেম্বরের আরেকটি প্রতিবেদনে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে হালনাগাদ করা হয়েছিল, একই পরিমাণ কয়েন ও এক্সচেঞ্জে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।
বিটকয়েনের দামের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর বর্ণনায় পার্থক্য আছে। একটিতে বলা হয়, লেনদেনের সময় দিনের মধ্যে বিটকয়েনের দাম ৯০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়, পরে কমে প্রায় ৮৭ হাজার ডলারে নামে। অন্যটিতে বলা হয়, বিটকয়েনের দাম ৯০ হাজার ডলারের নিচে নামার সময় প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কয়েন বিক্রি করা হয়। দুই বিবরণেই দ্রুত দরবৃদ্ধি ও পরবর্তী পতনের সময় স্থানান্তরের একটি সাধারণ চিত্র পাওয়া যায়, তবে সুনির্দিষ্ট লেনদেনমূল্য নিশ্চিত হয় না।
প্রতিবেদনে দেওয়া ৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলারকে ৩৬৭ BTC দিয়ে ভাগ করলে প্রতি কয়েনের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৯১,২৮১ ডলার। তবে এটি গোল করা পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া আনুমানিক মূল্য, যাচাইকৃত লেনদেনমূল্য নয়। এক্সচেঞ্জে কয়েন জমা দেওয়ার পর তা বিক্রি করা হতে পারে; কিন্তু ব্লকচেইনের রেকর্ডে এক্সচেঞ্জের ভেতরে কোনো অর্ডার ঠিক কত দামে সম্পন্ন হয়েছে, তা দেখা যায় না।
এর আগে বিটকয়েনের দাম প্রায় ৭০ হাজার ডলার থাকার সময় ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বিক্রির খবর এসেছিল। দুই লেনদেন মিলিয়ে অঙ্কটি প্রায় ১০ কোটি ডলার। তবে এই অর্থকে মুনাফা বলা যাবে না, কারণ মুনাফা হিসাব করতে কয়েন কেনা বা খনির খরচ জানতে হয়; এর মধ্যে বিদ্যুৎ, যন্ত্রপাতি ও পরিচালন ব্যয়ও রয়েছে।
৩৬৭ BTC-এর লেনদেনটি বিক্রির পর অবশিষ্ট বলে জানানো ১২,২০৬ BTC-এর প্রায় ৩ শতাংশের সমান। নভেম্বরের ওই হিসাব অনুযায়ী, স্থানান্তরের পরও ভুটানের হাতে থাকা বিটকয়েনের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। ফলে বাজারদরের বড় ওঠানামায় দেশটির সম্পদের মূল্যও ব্যাপকভাবে বদলাতে পারত।
সময়রেখায় রিজার্ভের দুই ভিন্ন চিত্র
সময়ের ক্রমটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিরোনামে উল্লেখিত মূল্যায়নগুলো ভিন্ন সময়ের। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে আরও অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার কথা থাকলে ২০২৪ সালের নভেম্বরের রিজার্ভকে ভুটানের সর্বশেষ মজুত হিসেবে ধরা যায় না।
- ২০২৪ সালের অক্টোবর: জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিটকয়েন খনির মাধ্যমে ভুটানের রিজার্ভে আনুমানিক ১৩,০০০ BTC জমেছিল বলে খবর আসে।
- নভেম্বরের লেনদেনের আগে: বিটকয়েনের দাম প্রায় ৭০ হাজার ডলার থাকার সময় আরও একটি বিক্রি থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাওয়ার খবর আসে।
- ১৪ নভেম্বর ২০২৪: আনুমানিক ৩৬৭ BTC Binance-এ পাঠানো হয়; লেনদেনটির মূল্য বলা হয় ৩ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
- ১৫ ও ১৭ নভেম্বর ২০২৪: ওই লেনদেন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুটানের হাতে তখন ছিল ১২,২০৬ BTC, যার মূল্য প্রায় ১১১ কোটি ডলার।
- পরবর্তী প্রতিবেদনে, ১৮ মাসের পতনের হিসাব দিতে গিয়ে বলা হয়: আরও স্থানান্তরের পর রিজার্ভে ছিল ৩,৯৫৪ BTC, যার মূল্য আনুমানিক ২৮ কোটি ৬ লাখ ডলার।
পরবর্তী প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার ৩১৯.৭ BTC স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি কবে প্রকাশিত হয়েছে তা জানা না থাকায় ওই বৃহস্পতিবারের নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বছরজুড়ে অর্থ স্থানান্তর এবং মার্চে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার উল্লেখের ক্ষেত্রেও একই সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পরের দফার অর্থ স্থানান্তরে রিজার্ভ আরও কমার ইঙ্গিত
পরবর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৩১৯.৭ BTC-এর মধ্যে প্রায় ২৫০ BTC এমন একটি ওয়ালেটে পাঠানো হয়, যা আগে Galaxy Digital ও OKX-এর মাধ্যমে বিক্রির জন্য তহবিল পাঠাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। বাকি ৬৯.৭ BTC যায় নতুন, পরিচয়-চিহ্নহীন একটি ঠিকানায়। আগের লেনদেনের সঙ্গে ওই ঠিকানার সম্পর্ক দেখে বড় স্থানান্তরটি বিক্রির প্রস্তুতির অংশ বলে মনে হতে পারে, তবে পুরো পরিমাণ নগদে রূপান্তর করা হয়েছিল—এটি নিশ্চিত হয় না।
প্রায় ১৩,০০০ BTC থেকে কমে ৩,৯৫৪ BTC হওয়ার অর্থ ৯,০৪৬ BTC হ্রাস, বা প্রায় ৬৯.৬ শতাংশ। ১৮ মাসে প্রায় ৭০ শতাংশ কমার বর্ণনাকে এই হিসাব সমর্থন করে। শুধু নভেম্বরের লেনদেন বিবেচনা করলে যে পরিবর্তন দেখা যায়, তার চেয়ে এটি অনেক বড়।
নভেম্বরের ১২,২০৬ BTC-এর সঙ্গে তুলনা করলে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ ৮,২৫২ BTC কমেছে, অর্থাৎ প্রায় ৬৭.৬ শতাংশ। এই হিসাবগুলো প্রতিবেদনে জানানো রিজার্ভের পরিবর্তন দেখায়। তবে এতে প্রমাণ হয় না যে হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি কয়েন বিক্রি করা হয়েছে; সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য ওয়ালেটে স্থানান্তর হলেও ট্র্যাক করা রিজার্ভ কমে যেতে পারে।
পরবর্তী প্রতিবেদনে উদ্ধৃত Arkham-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনের বছরজুড়ে ভুটানের হোল্ডিং ওয়ালেটগুলো থেকে ২১ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বেরিয়ে যায়; এর মধ্যে ১৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার পাঠানো হয় লেবেলবিহীন ওয়ালেটে। মোট বহির্গমনের প্রায় ৭৫.৪ শতাংশ ছিল এই লেবেলবিহীন অংশ। অর্থের শেষ গন্তব্য সম্পর্কে যেকোনো দাবির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সীমাবদ্ধতা।
লেবেলবিহীন ওয়ালেট হলো এমন ঠিকানা, যার মালিক বা উদ্দেশ্য ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে শনাক্ত করা যায়নি। এটি অন্য কোনো সম্পদ সংরক্ষণকারীর, মধ্যস্থতাকারীর, এমনকি একই মালিকেরও হতে পারে। অতিরিক্ত নথি ছাড়া এমন ঠিকানায় অর্থ যাওয়াকে স্থানান্তরের প্রমাণ বলা যায়, তবে তা যে সম্পদ বিক্রির প্রমাণই, তা নয়।
কয়েনের তুলনায় ডলারে মূল্য বেশি কমার কারণ
ভুটানের রিজার্ভের ঘোষিত মূল্য ২০২৪ সালের নভেম্বরে আনুমানিক ১১১ কোটি ডলার থেকে পরবর্তী প্রতিবেদনে ২৮ কোটি ৬ লাখ ডলারে নেমেছে। গোল করা মূল্য ধরে হিসাব করলে হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ৮২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, বা ৭৪.৭ শতাংশ।
বিটকয়েনের পরিমাণ যতটা কমেছে, ডলারে মূল্য তার চেয়ে বেশি কমেছে, কারণ পরবর্তী হিসাবের সময় বাজারদরও কম ছিল। নভেম্বরের রিজার্ভ মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রতি BTC-এর দাম ছিল প্রায় ৯০,৯৩৯ ডলার। পরবর্তী মূল্যায়নে তা প্রায় ৭০,৯৬৬ ডলার, যা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রায় ৭১ হাজার ডলারের দামের সঙ্গে মেলে।
এতে দুটি আলাদা প্রভাব স্পষ্ট হয়, যা গুলিয়ে যেতে পারে: ভুটানের হাতে কয়েনের পরিমাণ কমেছে, আর অবশিষ্ট প্রতিটি কয়েনের মূল্যও কমেছে। রিজার্ভের দুই মূল্যায়নের পার্থক্য থেকে বাস্তবায়িত লেনদেনজনিত ক্ষতির পরিমাণ জানা যায় না; বিক্রি করে ভুটান কত নগদ পেয়েছে, সেটিও বোঝা যায় না।
রিজার্ভ কমার পরও দামের ওঠানামার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ছিল। ৩,৯৫৪ BTC অপরিবর্তিত থাকলে বিটকয়েনের দামে ১০ হাজার ডলারের পরিবর্তনে রিজার্ভের বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার বদলাত। ১২,২০৬ BTC থাকলে একই দামের পরিবর্তনে মূল্যায়ন ১২ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার ডলার বদলাত।
জলবিদ্যুৎ ভুটানের কৌশলকে আলাদা করেছিল
Druk Holding & Investments-এর অধীনে জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে খনির মাধ্যমে ভুটান বিটকয়েনের মজুত গড়ে তোলে। বিভিন্ন দেশের সরকারের ক্রিপ্টোকারেন্সি মজুতের যেসব খবর আসে, সেগুলোর অনেকটির পেছনে রয়েছে জব্দ করা সম্পদ; ভুটানের কৌশল ছিল তার থেকে আলাদা। নভেম্বরের একটি প্রতিবেদন কৌশলগত কেনাকাটার কথাও বলেছিল, তবে তাতে পরিমাণ বা তারিখ দেওয়া হয়নি, ফলে ওই কেনাকাটার অবদান হিসাব করা যায় না।
বিটকয়েন খনিতে বিশেষায়িত কম্পিউটার নেটওয়ার্কে লেনদেনের ব্লক যুক্ত করার প্রতিযোগিতা করে। সফল খনিরা নতুন ইস্যু করা বিটকয়েন ও লেনদেন ফি পান। ভুটানের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক যুক্তিটি ছিল, নদী থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে এমন একটি ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তর করা, যা ধরে রাখা বা বিক্রি করা যায়।
কম দামের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে বিদ্যুৎই একমাত্র ব্যয় নয়। যন্ত্রপাতি কিনে চালাতে হয়, আর প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো থেকে আয়ের সক্ষমতাও বদলে যায়। ব্লকে লেনদেন যুক্ত হওয়ার ব্যবধান মোটামুটি নিয়মিত রাখতে বিটকয়েনের খনির জটিলতা সমন্বয় করা হয়। জটিলতা বাড়লে অন্য সব কিছু অপরিবর্তিত থাকলে নির্দিষ্ট পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা থেকে সাধারণত পুরস্কারের ছোট অংশ পাওয়া যায়।
পরবর্তী প্রতিবেদনে খনির ওপর তিনটি চাপের কথা বলা হয়েছে: বিটকয়েনের দাম প্রায় ৭১ হাজার ডলার, নেটওয়ার্কের জটিলতা রেকর্ড উচ্চতায় এবং ব্লক ভর্তুকি অর্ধেক হওয়ার পর ৩.১২৫ BTC। ব্লক ভর্তুকি হলো একটি ব্লক খনির পুরস্কার হিসেবে দেওয়া নতুন বিটকয়েন; লেনদেন ফি এর বাইরে। হালভিংয়ে এই ভর্তুকি অর্ধেক হয়ে যায়। অন্য পরিস্থিতি থেকে ক্ষতিপূরণ না এলে এতে আয়ের একটি উৎস কমে যায়।
এসব চাপ কৌশল বদলের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিতে পারে, তবে ভুটানের পরিচালন ব্যয়, যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা ও বিদ্যুতের প্রকৃত মূল্য এসব প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। রিজার্ভের দুই সময়ের কোনো একটিতেই দেশটির খনি কার্যক্রম লাভজনক ছিল কি না, তা হিসাব করার জন্য তথ্যগুলো যথেষ্ট নয়।
খনি কার্যক্রম বন্ধ, নাকি কম দৃশ্যমান?
পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুটানের ঠিকানাগুলোতে সর্বশেষ ১ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বিটকয়েন জমা পড়ার রেকর্ড ছিল এক বছরেরও বেশি আগের। এ থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন ওঠে: ট্র্যাক করা ঠিকানাগুলো থেকে চলে যাওয়া কয়েনের জায়গায় নতুন খনি-উৎপাদন যোগ হচ্ছে কি না।
এ তথ্য থেকে খনি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ১ লাখ ডলারের সীমার নিচের জমা এতে ধরা পড়ে না, আর ট্র্যাক করা ঠিকানায় কোনো কার্যক্রমের সব অর্থপ্রদানের পথ বা ওয়ালেট নাও থাকতে পারে। তাই বড় অঙ্কের জমা দৃশ্যমান না হওয়া প্রকাশ্য তথ্যের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সতর্কসংকেত, যন্ত্রপাতি বন্ধ করে দেওয়ার প্রমাণ নয়।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবিদ্যুৎ দিয়ে বিটকয়েন খনির চেয়ে প্রতিবেশী ভারতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে এখন বেশি আয় হতে পারে। এটি বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবহারের তুলনা। কোনটি বেশি লাভজনক তা নির্ধারণে বিদ্যুৎ রপ্তানির দাম, খনির খরচ, যন্ত্রপাতির দক্ষতা এবং অন্যান্য পরিচালন তথ্য জানা দরকার, যা প্রকাশ করা হয়নি।
Druk Holding & Investments স্থানান্তর বা খনির অবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি এবং পরবর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি। কার্যক্রমের হালনাগাদ, আর্থিক তথ্য প্রকাশ বা খনি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি। স্থানান্তরের উদ্দেশ্য, সম্পন্ন বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
সব দেশের বিটকয়েন কৌশল এক নয়
নভেম্বরের প্রতিবেদনে সরকারি বিটকয়েন মজুতের দিক থেকে ভুটানকে পঞ্চম স্থানে রাখা হয়েছিল; এর ওপরে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেন। এই ক্রমটি আগের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, পরবর্তী রিজার্ভ কমার পরের যাচাইকৃত অবস্থান নয়। কোন ওয়ালেট কার মালিকানাধীন এবং জব্দ করা সম্পদ কীভাবে হিসাব করা হয়, তা ভিন্ন হওয়ায় সরকারি মজুতগুলোর তুলনাও কঠিন।
প্রতিবেদনগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে অন্য দেশের কৌশলের কথাও আছে। এর মধ্যে রয়েছে এল সালভাদরের বিটকয়েনকে বৈধ মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ এবং ঋণ কমানো ও পরিকল্পিত Bitcoin City নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তবে বাস্তবে বিটকয়েন বিক্রি করে লাভের মাধ্যমে এসব লক্ষ্যের কতটা অর্থায়ন হয়েছে, তা প্রমাণ করার মতো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে নভেম্বরের প্রতিবেদনে সিনেটর Cynthia Lummis-এর ফেডারেল রিজার্ভের সোনার মজুত ও বিটকয়েন নিয়ে প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পেনসিলভানিয়ায় মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে রাজ্য তহবিলের ১০ শতাংশ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব পর্যালোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এগুলো ছিল প্রস্তাব, কেনাকাটা বাস্তবায়নের প্রমাণ নয়। কোনোটিই ভুটানের লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে না।
পরবর্তী প্রতিবেদনে ভুটানের কমতে থাকা মজুতের সঙ্গে অন্যদের কেনাকাটার তুলনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, Strategy এক সপ্তাহান্তে ৩৩ কোটি ডলারে ৪,৮৭১ BTC কিনে তাদের মোট মজুত ৭৬৬,৯৭০ BTC-তে উন্নীত করে। আরও বলা হয়েছে, মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের স্পট বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলো আনুমানিক ৫০,০০০ BTC কিনেছিল। এসব তহবিলের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জে লেনদেন করা শেয়ারের মাধ্যমে বিটকয়েনে বিনিয়োগের সুযোগ পান।
Strategy-র ঘোষিত ৪,৮৭১ BTC কেনার পরিমাণ ভুটানের পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো অবশিষ্ট ৩,৯৫৪ BTC-এর চেয়ে ৯১৭ BTC বেশি। এই তুলনা দুই অবস্থানের আপেক্ষিক আকার দেখায়, কিন্তু করপোরেট কোষাগার, বিনিয়োগ তহবিল ও সরকারের খনি কার্যক্রমের উদ্দেশ্য এক নয়। এ থেকে ভুটানের বিক্রি ভুল ছিল বা সব সরকারি মজুতদার একইভাবে কাজ করেছে, এমন সিদ্ধান্তও আসে না।
সবচেয়ে জোরালো সিদ্ধান্তটি তুলনামূলকভাবে সীমিত: তখনকার হিসাবে রিজার্ভের তুলনায় নভেম্বরের বিক্রি ছিল ছোট লেনদেন, আর পরবর্তী ওয়ালেট-তথ্য অনেক বড় সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। এই হ্রাস পরিকল্পিতভাবে নগদ সংগ্রহ, খনির অর্থনীতিতে পরিবর্তন, নাকি ট্র্যাক করা ঠিকানার বাইরে সম্পদ স্থানান্তরের ফল—তা জানতে ভুটানের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
মূল বিষয়গুলো
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভুটান Binance-এ ৩৬৭ BTC পাঠায়; লেনদেনটির মূল্য ছিল আনুমানিক ৩ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
- দুই বিক্রির মোট মূল্য ছিল প্রায় ৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। নভেম্বরে রিজার্ভ ছিল ১২,২০৬ BTC, যার মূল্য আনুমানিক ১১১ কোটি ডলার।
- পরবর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজার্ভ কমে ৩,৯৫৪ BTC হয়েছে; ২০২৪ সালের অক্টোবরের ১৩,০০০ BTC-এর তুলনায় যা প্রায় ৭০ শতাংশ কম।
- পরবর্তী ৩১৯.৭ BTC স্থানান্তরের মধ্যে প্রায় ২৫০ BTC বিক্রির সঙ্গে আগে সম্পর্কিত একটি পথে পাঠানো হয় এবং ৬৯.৭ BTC যায় পরিচয়-চিহ্নহীন একটি ঠিকানায়।
- ওয়ালেট থেকে কয়েন স্থানান্তর হলেই সব কয়েন বিক্রি হয়েছে বা বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা প্রমাণ হয় না।
- ভুটানের খনি কার্যক্রমের অবস্থা নিশ্চিত নয়, আর সরকারি হালনাগাদের কোনো তারিখও জানানো হয়নি।






