এক মিনিটের মধ্যেই বারিয়োসের গোল, শুরুর একাদশে ফিরলেন লি
১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২-০ গোলের জয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের শুরুর একাদশে ফিরেছেন লি কাং-ইন। ম্যাচের শুরুর মিনিটেই গোল করেন পাবলো বারিয়োস, আর শেষ দিকে দ্বিতীয় গোলটি করেন আদেমোলা লুকম্যান। মেত্রোপলিতানোতে এই জয়ে ২০২৬/২৭ মৌসুমের লিগ পর্বে প্রথম পয়েন্ট পেল আতলেতিকো; এর আগে লিভারপুলের কাছে তারা ২-১ গোলে হেরেছিল।
সূচিপত্র
- এক মিনিটের মধ্যেই বারিয়োসের গোল, শুরুর একাদশে ফিরলেন লি
- আলাভেস ম্যাচের পর কেন একাদশে ফিরলেন লি
- প্রথম গোল নিয়ে যা নিশ্চিতভাবে বলা যায়
- বদলিরা ম্যাচের নিষ্পত্তি করার আগে হুমকি দিয়েছিল ইউনাইটেড
- পরিসংখ্যান বলছে, ওবলাকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ
- লির প্রথম ইউনাইটেড ম্যাচ, আতলেতিকোর জন্য মাইলফলক
- লি নিজের পরিচয় গড়ে তুলবেন, আশা পার্ক জি-সুংয়ের
- মূল বিষয়গুলো
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অফিশিয়াল ম্যাচ রেকর্ডে বারিয়োসের গোলটি প্রথম মিনিটে, লুকম্যানেরটি ৭৯তম মিনিটে এবং লেনি ইয়োরোর লাল কার্ড ৭৪তম মিনিটে দেখানো হয়েছে। আতলেতিকোর গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকের কয়েকটি সেভের দরকার হয়েছিল, এমন একাধিক সুযোগ তৈরি করেও ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করে ইউনাইটেড।
লির জন্য এই ম্যাচটি ছিল প্রত্যাশিতভাবে দলে ফেরার পর ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় শুরুর একাদশে খেলার নিশ্চয়তা। জুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে আক্রমণভাগে ছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম গোলের আক্রমণ শুরুতে দক্ষিণ কোরীয় এই খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল; তবে সুনির্দিষ্ট পাসের ক্রম এবং শেষ পাসটি কে দিয়েছেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ঘণ্টাখানেকের মাথায় তার বদলি হন জোনাথন ডেভিড।
আতলেতিকোর জন্য ম্যাচটিতে ব্যক্তিগত আবেগেরও অনুষঙ্গ ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর অনুপস্থিত ছিলেন অধিনায়ক কোকে, আর বারিয়োস তার উদ্দেশে প্রথম গোলটি উৎসর্গ করেন। ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং আতলেতিকোর খেলোয়াড়েরা কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামেন।
মাদ্রিদে ১৩ অক্টোবর রাত ৯টায় শুরু হয় ম্যাচটি; দক্ষিণ কোরিয়ায় তখন ১৪ অক্টোবর ভোর ৪টা। উয়েফার ম্যাচের তথ্য পাতায় ভেন্যু হিসেবে এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আবহাওয়া পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর্দ্রতা ৪৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার বলে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মাঠের অবস্থা ছিল চমৎকার বলেও জানিয়েছে উয়েফা।
আলাভেস ম্যাচের পর কেন একাদশে ফিরলেন লি
আলাভেসের বিপক্ষে আগের লিগ ম্যাচে বেঞ্চে শুরু করা লি, আলভারেস ও আলেক্স বায়েনাকে আবার শুরুর একাদশে ফেরান দিয়েগো সিমিওনে। আতলেতিকো সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিল। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো গোল করেন। আক্রমণভাগের এই তিন খেলোয়াড়ের কম খেলার সময়কে ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক দায়িত্বের চাপও সামলাচ্ছিলেন লি। প্রাক-ম্যাচ প্রতিবেদনে উল্লিখিত সময়কালে দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের তিনটিতে খেলেন তিনি। গোড়ালিতে অস্বস্তির কারণে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন শুধু প্রথমার্ধে। সমস্যাটি গুরুতর চোট বলে জানানো হয়নি; পরে আলাভেস ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ১২তম মিনিটে মাঠে নামেন তিনি।
তাই ইউনাইটেডের বিপক্ষে তার ফেরা হয়েছিল ক্লাবের হয়ে তুলনামূলক কম খেলার সময় এবং গোড়ালির উদ্বেগের পর। ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে রাখার অর্থ, সিমিওনে তাকে খেলার উপযোগী মনে করেছিলেন; তবে গোড়ালির সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত চিকিৎসাগত মূল্যায়ন বা আরও ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
আতলেতিকো ৪-৪-২ ছকে শুরু করে। লি ও আলভারেস ছিলেন আক্রমণভাগে, আর মাঝমাঠ থেকে সহায়তা করেন বায়েনা ও হুলিয়ানো সিমিওনে। কোকের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠের কেন্দ্রে ছিলেন বারিয়োস ও জনি কারদোসো। রক্ষণভাগে রোমেরোর সঙ্গে ছিলেন ডেভিড হানৎসকো; শুরু থেকে খেলেন মার্কোস ইয়োরেন্তে ও গ্রিমালদোও। তবে মার্ক পুবিল ছিলেন বদলি তালিকায়।
এই একাদশ লির সামনে থাকা প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে। মাঝমাঠের সামনের আক্রমণাত্মক পজিশনে বিকল্প ছিলেন ডেভিড ও আলেক্সান্ডার সোরলথ, আর বেঞ্চ থেকে নামানোর আরেকটি বিকল্প ছিলেন লুকম্যান। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া ছিল নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ; আক্রমণভাগের পছন্দের ক্রম চূড়ান্ত হয়ে গেছে, এমন প্রমাণ নয়।
প্রথম গোল নিয়ে যা নিশ্চিতভাবে বলা যায়
বারিয়োসের দ্রুত গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, তবে গোলটির সুনির্দিষ্ট সময় ও আক্রমণের ধরন নিয়ে প্রতিবেদনে মতভেদ রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে গোলটি ৫০, ৫১ বা ৫৩ সেকেন্ডে হয়েছে। ইউনাইটেডের অফিশিয়াল রেকর্ডে গোলটি প্রথম মিনিটে দেখানো হয়েছে, যা তিনটি বর্ণনার সঙ্গেই মেলে।
একাধিক প্রতিবেদনে আক্রমণের শুরুতে লির পাসকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিপক্ষের চাপ এড়িয়ে তিনি হুলিয়ানো সিমিওনের জন্য ফাঁকা জায়গায় পাস দেন; তবে সহায়তার কৃতিত্ব দেওয়া হয় আলভারেসকে। অন্য কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়েনা আক্রমণমুখী পাসটি পেয়ে বারিয়োসকে বল দেন; এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বায়েনাকে বলটি দিয়েছিলেন লি।
লির অবদান মূল্যায়নে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। গোলের আক্রমণ শুরু করা পাস মূল্যবান হতে পারে, কিন্তু সেটি সাধারণত গোলদাতাকে দেওয়া শেষ পাসের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য সহায়তা নয়। প্রমাণ থেকে বলা যায়, আক্রমণ গড়ে তোলায় লির ভূমিকা ছিল; তবে তার সহায়তার কৃতিত্ব নিয়ে একমত হওয়ার মতো তথ্য নেই।
মাঝমাঠ থেকে ছুটে এসে বারিয়োসের ফিনিশিং আতলেতিকোকে শুরুতেই এগিয়ে দেয়। এরপরও আক্রমণে হুমকি তৈরি করে তারা: ফ্রি-কিকে গ্রিমালদোর শট পোস্টে লাগে, আর বিরতির কিছুক্ষণ আগে বল জালে পাঠান কারদোসো। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের আগে ইয়োরেন্তের হাতে বল লেগেছিল; ফলে সেই দ্বিতীয় গোল বাতিল হয়।
কারদোসোর বাতিল হওয়া গোলের সময় কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪৩তম, কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৪৪তম মিনিট বলা হয়েছে। সিদ্ধান্তের পরও বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল আতলেতিকো। প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের বল দখল ৬৬ শতাংশ এবং মোট শটে ৬-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার হিসাব দিয়েছে একটি প্রতিবেদন।
বদলিরা ম্যাচের নিষ্পত্তি করার আগে হুমকি দিয়েছিল ইউনাইটেড
ইউনাইটেডের পাল্টা আক্রমণে শেষ স্কোরলাইনের চেয়ে ম্যাচটি কঠিন হয়ে উঠেছিল। বিরতির আগে ব্রায়ান এমবেউমোর কয়েকটি সুযোগ ছিল। এর মধ্যে রোমেরোর ভুলের পর একটি শটও ছিল, যা ওবলাক ঠেকান। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের আশাপ্রদ পাসেও পা ছোঁয়াতে পারেননি মার্কাস রাশফোর্ড।
বিরতির পর ইউরি টিলেমানসের পাস থেকে পাওয়া সুযোগ নষ্ট করেন ব্রুনো ফের্নান্দেস, পরে তার শট ক্রসবারে লাগে। আলভারেসের শট পোস্টে লাগলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট হয় আতলেতিকোরও। ব্যবধান এক গোল থাকায় এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ম্যাচের ফল অনিশ্চিতই ছিল।
লি ও বারিয়োসকে একসঙ্গে তুলে নেন কোচ; তাদের জায়গায় নামেন ডেভিড ও পুবিল। কোনো কোনো প্রতিবেদনে পরিবর্তনটি ৬০তম, আবার কোনো কোনো প্রতিবেদনে ৬১তম মিনিটে হয়েছে বলা হয়েছে। লিকে তুলে নেওয়ার নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি; তাই এটিকে নতুন করে চোটের সমস্যার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ডেভিড। বদলি এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে একটি ঘটনার পর ভিএআর পর্যালোচনা করে ইয়োরোকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ইউনাইটেডের অফিশিয়াল রেকর্ডে বিদায়ের সময় ৭৪তম মিনিট; অন্য প্রতিবেদনে ৭৩তম বা ৭৫তম মিনিট বলা হয়েছে। জানানো কারণ ছিল গোল করার সুযোগ নষ্ট করা; অর্থাৎ রেফারিরা মনে করেছিলেন, ফাউলের কারণে গোলের যথেষ্ট স্পষ্ট একটি সুযোগ আটকে গেছে।
৭১তম মিনিটে মর্টেন হিউলমান্দের সঙ্গে মাঠে নেমে ৭৯তম মিনিটে ২-০ করেন লুকম্যান। ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেনে ল্যামেনস ডেভিডের শট ঠেকানোর পর ফিরতি বলে গোল করেন তিনি। শেষ দিকে সাবেক আতলেতিকো ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনিয়ার শট ঠেকিয়ে ক্লিন শিট ধরে রাখতে ওবলাককে আরও একবার পরীক্ষা দিতে হয়।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো:
- ১৩ অক্টোবর, প্রথম মিনিট: বারিয়োস আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন; পাসের সুনির্দিষ্ট ক্রম নিয়ে প্রতিবেদনে মতভেদ রয়েছে।
- বিরতির আগে: আক্রমণের সময় ইয়োরেন্তের হাতে বল লাগায় কারদোসোর গোল বাতিল হয়।
- ঘণ্টাখানেকের মাথায়: লির বদলে ডেভিড এবং বারিয়োসের বদলে পুবিল মাঠে নামেন।
- ইউনাইটেডের অফিশিয়াল রেকর্ডে ৭৪তম মিনিট: ভিএআর পর্যালোচনার পর ইয়োরোকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
- ৭৯তম মিনিট: আতলেতিকোর দ্বিতীয় গোল করেন লুকম্যান।
- খেলা শেষ: আতলেতিকো ২-০ গোলে জেতে এবং লিগ পর্বে প্রথম পয়েন্ট পায়।
পরিসংখ্যান বলছে, ওবলাকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ
ইউনাইটেডের অফিশিয়াল পরিসংখ্যানে পুরো ম্যাচে আতলেতিকোর বল দখল ৫৮ শতাংশ, ইউনাইটেডের ৪২ শতাংশ। প্রথমার্ধে আতলেতিকোর বল দখল ৬৬ শতাংশ ছিল বলে যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে এটি কম। বিরতির পর ইউনাইটেডের বল দখল বেড়েছিল বলেই এই পার্থক্য, পরিসংখ্যান দুটির মধ্যে সরাসরি বিরোধ নেই।
আতলেতিকোর লক্ষ্যে ছিল পাঁচটি শট, ইউনাইটেডের চারটি। অফিশিয়াল তালিকায় লক্ষ্যে থাকা শট, লক্ষ্যের বাইরে শট ও ব্লক হওয়া শট যোগ করলে আতলেতিকোর মোট প্রচেষ্টা ১১টি, ইউনাইটেডের ৯টি। এগুলো পুরো ম্যাচের হিসাব; প্রথমার্ধে ৬-৪ শটের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
বল দখল ও পাসে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকেরা। আতলেতিকো ৬৫২টি পাসের মধ্যে ৫৭৮টি সম্পন্ন করে, যা প্রায় ৮৯ শতাংশ। ইউনাইটেড ৪৬৬টির মধ্যে ৩৯৮টি পাস সম্পন্ন করে, যা প্রায় ৮৫ শতাংশ। খেলোয়াড়দের আলাদা মূল্যায়নে কারদোসোর পাসের নির্ভুলতা ৯২ শতাংশ বলা হয়েছে, যা মাঝমাঠে বল ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবু ইউনাইটেডের বড় সুযোগ ছিল চারটি, আতলেতিকোর একটি। বড় সুযোগ বলতে পরিসংখ্যানে গোল হওয়ার বিশেষ অনুকূল সম্ভাবনাযুক্ত সুযোগ বোঝায়; এটি প্রতিটি শটের আরেক নাম নয়। ওবলাকের সেভসহ এই হিসাব দেখায়, শুধু আতলেতিকোর বল দখল দিয়ে ম্যাচের ফল ব্যাখ্যা করা যায় না।
কর্নারেও ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড। আতলেতিকোর সাফল্য ছিল প্রথম সুযোগটি কাজে লাগানো, ইউনাইটেডের হুমকির মুখেও এগিয়ে থাকা রক্ষা করা এবং লাল কার্ডের পর বদলিদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানো।
লির প্রথম ইউনাইটেড ম্যাচ, আতলেতিকোর জন্য মাইলফলক
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে এটি ছিল লির প্রথম ম্যাচ। ২০১৮ সালে ভ্যালেন্সিয়ায় থাকার সময় স্প্যানিশ ক্লাবটি ইউনাইটেডের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একই গ্রুপে ছিল, তবে সেই দুই ম্যাচে খেলেননি তিনি। কোরীয় প্রাক-ম্যাচ প্রতিবেদনে তাকে ২০১৩ সালে বায়ার লেভারকুজেনের হয়ে সন হিউং-মিনের খেলার পর প্রতিযোগিতাটিতে ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলা প্রথম দক্ষিণ কোরীয় খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
আতলেতিকোর প্রথম ইউরোপীয় ম্যাচে লিভারপুলের চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়ার পর এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল লির সামনে। প্রথম গোলের আক্রমণে তার সম্পৃক্ততা ছিল ইতিবাচক অবদান। তবে পুরো খেলায় তিনি দাপুটে ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট নয়: এক খেলোয়াড়ের মূল্যায়নে ওই পাসের প্রশংসা করা হলেও এরপর খেলায় তার প্রভাব সীমিত ছিল বলে বলা হয়েছে।
আতলেতিকোর জন্য এই জয়ে ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ বা লিগ পর্বের ম্যাচে টানা চার ড্র ও সাত হারের ধারার অবসান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাদের আগের সাফল্য এসেছিল নকআউট পর্বে, যার মধ্যে ২০২১/২২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোও ছিল।
অফিশিয়াল প্রতিযোগিতায় ইউনাইটেডের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার ধারাও পাঁচ ম্যাচে বাড়িয়েছে আতলেতিকো। এই ম্যাচের আগে দুই দল ১৯৯১/৯২ সালের ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ এবং ২০২১/২২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুটি করে ম্যাচ খেলেছিল; আতলেতিকো জিতেছিল দুটিতে, ড্র করেছিল দুটিতে।
লিগ পর্বে দুই ম্যাচ শেষে উভয় দলেরই পয়েন্ট তিন। লিভারপুলের কাছে হারের পর এই জয় পেল আতলেতিকো; আর সাবাহর বিপক্ষে ৪-০ জয়ের পর মাদ্রিদে হারল ইউনাইটেড। ওই স্কোর থেকে হিসাব করলে আতলেতিকোর গোল ব্যবধান প্লাস এক, ইউনাইটেডের প্লাস দুই। তবে শুধু এই ফলগুলো থেকে রাউন্ড শেষে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।
লি নিজের পরিচয় গড়ে তুলবেন, আশা পার্ক জি-সুংয়ের
ম্যাচের আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক মিডফিল্ডার পার্ক জি-সুং লির সামর্থ্য নিয়ে জোরালো মূল্যায়ন করেন। ইউনাইটেডে সাত বছরে ১২টি ট্রফি জয়ী এবং ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী প্রথম এশীয় খেলোয়াড় হওয়া পার্ক, লিকে অসাধারণ কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভা হিসেবে বর্ণনা করেন।
আমি মনে করি, দক্ষিণ কোরিয়া এখন পর্যন্ত যে খেলোয়াড় তৈরি করেছে, তাদের মধ্যে লি কাং-ইনের কারিগরি দক্ষতাই সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক মঞ্চে সে কত দূর যেতে পারে, তা দেখতে আমি কৌতূহলী।
ম্যানচেস্টারে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে লির বয়স যখন ছয়, তখন প্রথম তার সঙ্গে দেখা হয় পার্কের। ২০০২ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে পার্কের বিখ্যাত গোলটি পুনরায় অভিনয় করেছিলেন লি; আর কোচ গুস হিডিঙ্কের ভূমিকায় ছিলেন পার্ক। টেলিভিশনে দেখা প্রতিভার চেয়েও সামনাসামনি শিশুটিকে বেশি প্রতিভাবান মনে হয়েছিল বলে স্মরণ করেন তিনি।
পার্কের এই মূল্যায়ন ছিল সম্ভাবনা নিয়ে; আতলেতিকো কিংবদন্তি আঁতোয়ান গ্রিজমানের অর্জনের সমকক্ষ লি ইতিমধ্যে হয়ে গেছেন, এমন দাবি নয়। এত বড় ব্যবধান দ্রুত পেরোনো অত্যন্ত কঠিন হবে বলে জানান পার্ক; তবে মাঠে নিজেকে প্রমাণ করে লি ক্লাব কিংবদন্তি হয়ে উঠতে পারেন বলে তার বিশ্বাস।
খেলার ধরন এবং এশীয় খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতার মিলের মধ্যেও পার্থক্য তুলে ধরেন পার্ক। উত্তরসূরি হিসেবে শুধু বিবেচিত না হয়ে, লি যেন নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন, তা চান তিনি। ম্যাচ শুরুর আগে স্বদেশি খেলোয়াড় ও সাবেক ক্লাবের প্রতি সমর্থনের মধ্যে দ্বিধায় ছিলেন পার্ক।
অধিকাংশ কোরীয়ই আতলেতিকোর জয় চাইবেন। লি কাং-ইন যেন তার সব সামর্থ্য দেখাতে পারে, আমি তার জন্য উল্লাস করব; তবে আমি চাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জিতুক।
এর বদলে টানা পঞ্চম ম্যাচে জয়হীন থেকে মাদ্রিদ ছাড়ে ইউনাইটেড। শুরুর একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন এনেছিলেন মাইকেল ক্যারিক, কিন্তু খেলার কিছু ভালো মুহূর্ত থেকেও গোল আসেনি। তাদের পরের ঘোষিত ম্যাচ ছিল রোববার এলল্যান্ড রোডে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ। আতলেতিকোর পরবর্তী ম্যাচ বা লির পরেরবার শুরুর একাদশে থাকা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বারিয়োস ও লুকম্যানের গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-০ গোলে হারায় আতলেতিকো।
- আলভারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশে ছিলেন লি; ঘণ্টাখানেকের মাথায় তার বদলে নামেন ডেভিড।
- প্রথম গোলের আক্রমণে লির সম্পৃক্ততার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে পাসের সুনির্দিষ্ট ক্রম নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
- ইউনাইটেডের অফিশিয়াল রেকর্ডে ইয়োরোর বিদায়ের সময় ৭৪তম মিনিট।
- ইউনাইটেডের বড় সুযোগের সংখ্যা চার হলেও ওবলাকের সেভ আতলেতিকোকে ক্লিন শিট পেতে সাহায্য করে।
- চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে দুটি ম্যাচ শেষে দুই দলেরই পয়েন্ট তিন।
- আতলেতিকোর অধিনায়ক কোকের মায়ের মৃত্যুর পর বারিয়োস তার উদ্দেশে গোলটি উৎসর্গ করেন।






