দুর্যোগ তহবিল নিয়ে তদন্ত
ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতি নির্মূল কমিশন (কেপিকে) মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, পণ্য ও সেবা ক্রয়ে কথিত দুর্নীতির অভিযোগে এক অভিযানে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (বিএনপিবি) প্রধান সচিব রুস্তিয়ানসহ ১৪ জনকে আটক করেছে। তদন্তকারীরা নগদ অর্থ ও সোনাও জব্দ করেছেন। প্রাথমিক হিসাবে নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি রুপিয়াহ।
সূচিপত্র
- দুর্যোগ তহবিল নিয়ে তদন্ত
- কাদের আটক করা হয়েছে?
- নগদ অর্থ ও সোনা থেকে কী জানা যায়
- দুর্যোগ তহবিলের সংশ্লিষ্টতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- আইনি অবস্থান নির্ধারণে মঙ্গলবার রাতের পর্যালোচনা
- বিএনপিবির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও নথি সুরক্ষার নির্দেশ
- ঘোষণাগুলো যেভাবে এসেছে
- বছরের ২২তম অভিযান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো বাকি
- মূল বিষয়গুলো
কেপিকের মুখপাত্র বুদি প্রসেতিয়ো বলেন, তদন্তাধীন ক্রয়ের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার তহবিল ব্যবহার করে কেনাকাটাও রয়েছে। এই তহবিল dana siap pakai নামে পরিচিত, যার অর্থ তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত অর্থ। কোন চুক্তি, সরবরাহকারী বা দুর্যোগের সঙ্গে বিষয়টি জড়িত, তা কমিশন জানায়নি। বুদি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
১৪ জনকেই জাকার্তায় কেপিকের মেরাহ পুতিহ সদর দপ্তরে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তাঁদের আইনি অবস্থান নির্ধারণ এবং কথিত ঘটনাপ্রবাহ ও প্রত্যেকের ভূমিকা জানার জন্য মঙ্গলবার রাতে কমিশনের নেতৃত্বের পর্যালোচনা হওয়ার কথা ছিল।
কেপিকে চেয়ারম্যান সেতিয়ো বুদিয়ান্তো নিশ্চিত করেছেন, এটি ২০২৬ সালে কমিশনের ২২তম অভিযান। বিএনপিবি বলেছে, তারা সহযোগিতা করবে, নথিপত্র ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ দেবে এবং তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না। সংস্থাটির নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা এবং নথিপত্র সুরক্ষিত রাখারও নির্দেশ দিয়েছে।
এই পর্যায়ে আটক করা ও আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন ঘোষণা করার পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কেপিকে কতজনকে আটক করা হয়েছে তা জানিয়েছে এবং তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা দিয়েছে, কিন্তু কাকে বা কাদের সন্দেহভাজন ঘোষণা করা হবে, তা জানায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
কাদের আটক করা হয়েছে?
কেপিকের মুখপাত্রের বিস্তারিত বিবরণে নাম উল্লেখ করা একমাত্র আটক ব্যক্তি হলেন বিএনপিবির প্রধান সচিব রুস্তিয়ান। বুদি বলেন, বাকি ১৩ জনের মধ্যে বিএনপিবির প্রতিশ্রুতি-সৃষ্টিকারী কর্মকর্তা—ইন্দোনেশীয় সংক্ষিপ্ত নাম পিপিকে—এবং বেসরকারি খাতের লোকজন রয়েছেন।
ক্রয়-সংক্রান্ত অঙ্গীকার ও চুক্তির বিষয়ে পিপিকে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব রয়েছে। তাঁদের অন্তর্ভুক্তির ফলে ক্রয় ব্যবস্থাপনা তদন্তের একটি নির্দিষ্ট অংশ হয়ে উঠেছে, যদিও কেপিকে কোন সিদ্ধান্ত বা লেনদেন খতিয়ে দেখছে তা ব্যাখ্যা করেনি। বাকি আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সংস্থার কর্মকর্তা কতজন এবং বেসরকারি পক্ষের কতজন, তাও কমিশন জানায়নি।
কেপিকের মুখপাত্র হিসেবে যোগকার্তায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বুদি প্রসেতিয়ো আটক ব্যক্তির সংখ্যা জানান এবং তাঁদের মধ্যে কোন জ্যেষ্ঠ পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন, তা উল্লেখ করেন:
এই ঘটনায় কেপিকের দল ১৪ জনকে আটক করেছে, তাঁদের মধ্যে প্রধান সচিব বা সেস্তামাও রয়েছেন,
তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, দলটি প্রধান সচিবসহ ১৪ জনকে আটক করেছে; প্রধান সচিবকে সেস্তামা নামেও উল্লেখ করা হয়। বুদি বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে বিএনপিবির কর্মী ও বেসরকারি পক্ষের লোকজন—উভয়কেই জাকার্তায় নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।
কর্মকর্তা ও বেসরকারি পক্ষের লোকজনের উপস্থিতি থেকে তাঁদের ভূমিকা একই ছিল বলে প্রমাণ হয় না। জড়িত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম, কোনো নির্দিষ্ট সরবরাহকারী কিংবা ঠিকাদার ও কর্মকর্তার মধ্যে কথিত কোনো সমঝোতার বিবরণ কেপিকে দেয়নি। মামলার পর্যালোচনায় এসব বিষয়ের মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল।
নগদ অর্থ ও সোনা থেকে কী জানা যায়
অভিযানের সময় তদন্তকারীরা নগদ অর্থ ও সোনা জব্দ করেছেন। বুদির দেওয়া প্রাথমিক হিসাবে নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি রুপিয়াহ, যা এ পর্যন্ত প্রকাশিত সবচেয়ে স্পষ্ট আর্থিক পরিমাণ।
কেপিকের মুখপাত্র বুদি প্রসেতিয়ো ওই অঙ্ককে দলের প্রাথমিক হিসাব হিসেবে উল্লেখ করেন:
নগদ অর্থের ক্ষেত্রে দলের প্রাথমিক হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ১.৪ বিলিয়ন রুপিয়াহ,
সোনার পরিমাণ, ওজন বা মূল্য জানানো হয়নি। তাই ১.৪ বিলিয়ন রুপিয়াহর অঙ্কটি শুধু নগদ অর্থের, জব্দ করা সবকিছুর সম্মিলিত মূল্য নয়।
সম্পদগুলোর মালিক কে বা সেগুলো কার হেফাজতে ছিল, কোথায় পাওয়া গেছে কিংবা কথিত ক্রয় লেনদেনের সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক কী—কমিশন তা-ও জানায়নি। তদন্তের সময় কোনো সম্পদ জব্দ করলেই তা ঘুষ, অপরাধলব্ধ অর্থ বা অন্য কোনো ধরনের প্রমাণ বলে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
রাষ্ট্রের ক্ষতির কোনো হিসাব প্রকাশ করা হয়নি, আর তদন্তাধীন চুক্তিগুলোর মোট মূল্যও জানানো হয়নি। তাই পাঠকদের তিনটি পৃথক অঙ্কের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত: জব্দ করা নগদ অর্থ, তদন্তাধীন ক্রয়ের মূল্য এবং কথিত সরকারি আর্থিক ক্ষতি। কেবল প্রথমটির পরিমাণ জানানো হয়েছে, সেটিও প্রাথমিক হিসাব।
দুর্যোগ তহবিলের সংশ্লিষ্টতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বুদি পণ্য ও সেবা ক্রয়ের সঙ্গে এই অভিযানকে যুক্ত করেছেন। এর মধ্যে dana siap pakai থেকে অর্থায়ন করা ক্রয়ও রয়েছে। সহজ ভাষায়, এই শব্দটি তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত দুর্যোগ তহবিলকে বোঝায়। এখানে এর গুরুত্ব হলো, দুর্যোগের প্রয়োজনে নির্ধারিত সম্পদ ব্যবহার করে করা ক্রয় খতিয়ে দেখছে কেপিকে।
এই তথ্য থেকে প্রমাণ হয় না যে তদন্তাধীন সব ক্রয়েই ওই তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থাটির পুরো দুর্যোগ তহবিল প্রভাবিত হয়েছে, এমনটিও প্রমাণিত হয় না। তহবিল থেকে কত অর্থ নেওয়া হয়েছে, কোন বাজেট সময়কাল বা ভৌগোলিক এলাকা সংশ্লিষ্ট—কেপিকে তা জানায়নি।
মামলার পরিধি বুঝতে এসব অনুপস্থিত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো চুক্তির মূল্য, অর্থের উৎস এবং কেনা পণ্য বা সেবার বিবরণ জানলে কথিত লেনদেনটিকে বৃহত্তর দুর্যোগ মোকাবিলা বাজেট থেকে আলাদা করে বোঝা যাবে। সংশ্লিষ্ট দুর্যোগটি শনাক্ত হলে কোন জরুরি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ওই ক্রয় করা হয়েছিল, তাও স্পষ্ট হবে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছায়নি বা জরুরি মোকাবিলা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তদন্তটি ক্রয়ে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে; সরবরাহ, সেবা বা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো ব্যাখ্যা করা হয়নি।
আইনি অবস্থান নির্ধারণে মঙ্গলবার রাতের পর্যালোচনা
কেপিকের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন বিভাগের উপপ্রধান আসেপ গুনতুর রাহায়ু অভিযানটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত, ১৩ অক্টোবর, মামলার একটি পর্যালোচনা হওয়ার কথা। ইন্দোনেশীয় ভাষায় একে ekspose বা gelar perkara বলা হয়। এই পর্যালোচনায় তদন্তের ফলাফল কমিশনের নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরা হয়, যাতে মামলাটি এবং জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান মূল্যায়ন করা যায়।
আসেপ গুনতুর রাহায়ু বলেন, পর্যালোচনায় কথিত মামলার কাঠামো নির্ধারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে:
পর্যালোচনায় মামলার কাঠামো কী রকম, তা নির্ধারণ করা হবে। এরপর এতে কারা জড়িত, তা-ও নির্ধারণ করা হবে,
তিনি বলেন, পর্যালোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে বিস্তারিত প্রকাশ না করার বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন, কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রাথমিক তথ্য থেকে ভিন্ন হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধি, যা কুহাপ নামে পরিচিত, অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের আইনি অবস্থান নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা বলে জানানো হয়। আটকের সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি, তাই জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য থেকে প্রত্যেকের সময়সীমা হিসাব করা সম্ভব নয়।
তাই পরবর্তী ঘোষিত পদক্ষেপ ছিল মঙ্গলবার রাতের পর্যালোচনা, এরপর তার ফলাফলের আনুষ্ঠানিক বিবরণ। সংবাদ সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট সময়, আদালতে শুনানির তারিখ বা অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত কিছুই জানানো হয়নি।
বিএনপিবির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও নথি সুরক্ষার নির্দেশ
বিএনপিবির প্রতিক্রিয়া ছিল সহযোগিতার সাধারণ অঙ্গীকারের চেয়েও বিস্তৃত। সংস্থাটির নেতৃত্ব প্রধান পরিদপ্তরকে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাতে এবং নথিপত্র সুরক্ষিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। এসব পদক্ষেপে ক্রয় তদন্তের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষিত থাকতে পারে।
বিএনপিবির দুর্যোগ তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বের্তন এসপি পাঞ্জাইতান মঙ্গলবার রাতে সংস্থাটির অবস্থান জানান। তিনি বলেন, বিএনপিবি কেপিকের আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান করে, নির্দোষ বলে ধরে নেওয়ার নীতি সমুন্নত রাখে এবং আইন অনুযায়ী তথ্য ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ দেবে।
বের্তন এসপি পাঞ্জাইতান বিএনপিবির নেতৃত্বের জারি করা নির্দেশনার কথা জানান:
সংশ্লিষ্ট তদারকির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও নথিপত্র সুরক্ষিত রাখার জন্য বিএনপিবির নেতৃত্ব প্রধান পরিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে,
বিবৃতিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও নথি সুরক্ষার পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। এতে কোনো অসদাচরণের অনুসন্ধানলব্ধ ফল জানানো হয়নি বা কোন নথি সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে তাও উল্লেখ করা হয়নি। সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা এবং অপরাধের দায় নির্ধারণে কেপিকের প্রক্রিয়া আলাদা।
বিএনপিবি আরও বলেছে, তারা তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না এবং কর্মীরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক দায়িত্বে মনোযোগ দেবেন। অনুমাননির্ভর আলোচনা না করে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি সুশাসন, সততা ও অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদারের অঙ্গীকার করেছে।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর উদ্ধৃত বক্তব্যে বের্তন হস্তক্ষেপ না করা এবং নথিপত্রে প্রবেশাধিকার দেওয়া বিষয়ে বিএনপিবির অঙ্গীকারও জানান:
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার (এপিএইচ) পরিচালিত তদন্ত ও অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় বিএনপিবি কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না,"
"আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত এবং তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ দিয়ে সহযোগিতার অঙ্গীকার করছে বিএনপিবি,
এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি অপরাধ করেছেন তার প্রমাণ নয়। এসব অঙ্গীকারের বাস্তব গুরুত্ব নির্ভর করবে সরবরাহ করা নথি, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার ফল এবং তদন্তকারীদের ঘোষিত সিদ্ধান্তের ওপর।
ঘোষণাগুলো যেভাবে এসেছে
একই দিনে কয়েকটি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জনসমক্ষে তথ্য এসেছে। প্রাথমিক ঘোষণায় অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়; পরবর্তী তথ্যগুলোতে আটক ব্যক্তির সংখ্যা, রুস্তিয়ানের পরিচয়, জব্দ করা সম্পদ এবং বিএনপিবির প্রতিক্রিয়া যোগ হয়।
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬: কেপিকে চেয়ারম্যান সেতিয়ো বুদিয়ান্তো বিএনপিবিকে ঘিরে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
- ১৩ অক্টোবর: মুখপাত্র বুদি প্রসেতিয়ো জানান, রুস্তিয়ানসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে এবং জাকার্তায় তাঁদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
- ১৩ অক্টোবর: কেপিকে নগদ অর্থ ও সোনা জব্দের কথা জানায়। নগদ অর্থের প্রাথমিক হিসাব প্রায় ১৪০ কোটি রুপিয়াহ।
- ১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাতে: আইনি অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথিত ভূমিকা নির্ধারণে নেতৃত্ব পর্যায়ে মামলার পর্যালোচনার কথা ছিল।
- মঙ্গলবার রাতে: বিএনপিবি সহযোগিতা, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা এবং নথি সুরক্ষার পদক্ষেপের কথা জানায়।
ঘটনার এই ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করে কেন প্রাথমিক ঘোষণায় নাম বা বিস্তারিত অভিযোগ ছিল না। পরবর্তী ঘোষণাগুলোতে তথ্য যোগ হলেও পর্যালোচনা ও পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া স্থগিত রেখেছিল কমিশন।
বছরের ২২তম অভিযান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো বাকি
সেতিয়ো বিএনপিবিকে ঘিরে অভিযানটিকে ২০২৬ সালে কেপিকের ২২তম অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন। বছরের প্রথম অভিযান হয় ৯ ও ১০ জানুয়ারি। উত্তর জাকার্তা মধ্যম কর কার্যালয়ে কর নিরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘুষের সন্দেহে আটজনকে আটক করা হয়েছিল। বিএনপিবির অভিযানে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ১৪, যা প্রথম অভিযানের চেয়ে ছয়জন বেশি। এই তুলনা শুধু আটকের সংখ্যার, কথিত অপরাধের ব্যাপ্তি বা গুরুত্বের নয়।
বছরের অন্য অভিযানগুলো কর প্রশাসন, শুল্ক, আদালত, আঞ্চলিক সরকার, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভূমি প্রশাসন-সংক্রান্ত ছিল। এ পর্যন্ত অভিযানের মোট সংখ্যা কেপিকের আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের প্রেক্ষাপট দেয়, তবে ওই তদন্তগুলোর সঙ্গে বিএনপিবির ক্রয় মামলার কোনো যোগসূত্র প্রমাণ করে না।
এই তদন্তে এখনো যেসব নির্দিষ্ট তথ্যের অপেক্ষা, সেগুলো হলো: বাকি ব্যক্তিদের নাম ও আইনি অবস্থান, কথিত কর্মকাণ্ড, সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও দুর্যোগ এবং জব্দ করা সম্পদের সঙ্গে ক্রয়মূল্য পরিশোধের সম্পর্ক।
ঘোষিত পর্যালোচনায় এসব বিষয় স্পষ্ট হতে পারে। ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্যগুলো হলো: ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে, নগদ অর্থ ও সোনা জব্দ করা হয়েছে, কেপিকে ক্রয় ও দুর্যোগ তহবিলের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে এবং নির্দোষ বলে ধরে নেওয়ার নীতি বজায় রেখে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে বিএনপিবি।
মূল বিষয়গুলো
- ১৩ অক্টোবর ২০২৬ বিএনপিবিকে ঘিরে অভিযানে কেপিকে ১৪ জনকে আটক করেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান সচিব রুস্তিয়ান।
- তদন্তে ক্রয়ে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে; এর মধ্যে dana siap pakai দুর্যোগ তহবিল ব্যবহার করে করা কেনাকাটাও অন্তর্ভুক্ত।
- তদন্তকারীরা প্রায় ১৪০ কোটি রুপিয়াহ নগদ অর্থ এবং অপ্রকাশিত পরিমাণ সোনা জব্দ করেছেন।
- আইনি অবস্থান ও ব্যক্তিবিশেষের কথিত ভূমিকা নির্ধারণে মঙ্গলবার রাতে নেতৃত্ব পর্যায়ের পর্যালোচনার কথা ছিল।
- বিএনপিবি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও নথি সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছে এবং হস্তক্ষেপ না করে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে।
- কেপিকে অভিযানটিকে ২০২৬ সালের ২২তম অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করেছে; বিস্তারিত অভিযোগ ও সন্দেহভাজন ঘোষণার কথা তখনো জানানো হয়নি।






