বাকুতে প্যারিস ও মিকেলসের ঐতিহাসিক জয়
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর বাকু অলিম্পিক স্টেডিয়ামে স্লাভিয়া প্রাগকে ২-০ গোলে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে প্রথম জয় পেয়েছে সাবাহ। ৪৯ মিনিটে কাহিম প্যারিস এবং ৮৮ মিনিটে জয়-ল্যান্স মিকেলস গোল করেন। অভিযানের প্রথম ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে ৪-০ গোলে হারের পর আজারবাইজানের চ্যাম্পিয়নরা প্রথম তিন পয়েন্ট পেল।
সূচিপত্র
- বাকুতে প্যারিস ও মিকেলসের ঐতিহাসিক জয়
- দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে নির্ধারিত ম্যাচ
- বিরতিতে পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিলেন দামব্রাউসকাস
- মাঝমাঠে বল হারানো ও ব্যয়বহুল ভুলের কথা বলল স্লাভিয়া
- সাবাহর শুরুর একাদশের অবদানের সঙ্গে মিকেলসের পুরস্কার
- টানা ১২ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর প্রথম জয়
- দলীয় মানসিকতার প্রশংসা, তবে পয়েন্টের নিশ্চয়তা নয়
- ডর্টমুন্ডের আগে গাবালা
- মূল বিষয়গুলো
এই ফলে একসঙ্গে কয়েকটি প্রথমের দেখা মিলেছে: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের অভিযানে সাবাহর প্রথম ঘরের মাঠের ম্যাচ, প্রথম গোল, প্রথম ক্লিন শিট এবং প্রথম জয়। দ্বিতীয় গোল করা জার্মান ফরোয়ার্ড মিকেলস ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
এই জয়ে আরও দীর্ঘ একটি ধারারও অবসান হয়েছে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আগের ১২ ম্যাচে চেক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিততে পারেনি আজারবাইজানের কোনো ক্লাব। ১৩তম ম্যাচে এসে সাবাহ প্রথম জয়টি তুলে নিল, ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ রাতটিতে যোগ হলো দেশের জন্যও একটি মাইলফলক।
স্লাভিয়ার জন্য এই হার তাদের প্রথম ম্যাচে লঁসের কাছে ৩-২ গোলে হারের পর এল। দুই ম্যাচ শেষে তারা এখনো পয়েন্ট পায়নি। অন্যদিকে, পরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রাউন্ডে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে আতিথ্য দেওয়ার আগে ঘরোয়া লিগে গাবালার মাঠে খেলবে সাবাহ।
দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে নির্ধারিত ম্যাচ
প্রথমার্ধ শেষে দুই দলই ছিল ০-০ গোলে সমতায়। বিরতির চার মিনিট পর প্যারিস গোল করে সাবাহকে এগিয়ে দেন। স্বাভাবিক সময় শেষ হওয়ার কাছাকাছি মিকেলস ব্যবধান দ্বিগুণ করার আগপর্যন্ত সেই লিড ধরে রাখে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহে গোলের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা সময় এগিয়ে ছিল সাবাহ, তবে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ১-০। মিকেলসের গোলে স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত এক গোলের বেশি ব্যবধান পায় এবং স্লাভিয়ার জবাব দেওয়ার সময়ও কমে আসে।
ম্যাচ পরিচালনা করেন অস্ট্রিয়ার রেফারি সেবাস্তিয়ান গিশামার। বাকু সময় রাত ২০:৪৫ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো:
- প্রথম রাউন্ড: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে সাবাহ ৪-০ গোলে হারে, আর লঁসের কাছে স্লাভিয়া হারে ৩-২ গোলে।
- ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: দ্বিতীয় রাউন্ডে বাকু অলিম্পিক স্টেডিয়ামে স্লাভিয়াকে আতিথ্য দেয় সাবাহ।
- বিরতিতে: স্কোর ছিল ০-০।
- ৪৯ মিনিটে: কাহিম প্যারিস সাবাহকে এগিয়ে দেন।
- ৮৮ মিনিটে: সাবাহর দ্বিতীয় গোলটি করেন জয়-ল্যান্স মিকেলস।
- ম্যাচ শেষে: মিকেলস ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
বিরতিতে পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিলেন দামব্রাউসকাস
সাবাহর প্রধান কোচ ভালদাস দামব্রাউসকাস বলেন, প্রস্তুতি, স্লাভিয়ার বল দখলে চাপ সৃষ্টি এবং বিরতির সময় আক্রমণপদ্ধতিতে পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে দল এই পারফরম্যান্স গড়েছে। লিথুয়ানিয়ার এই কোচের ভাষ্য, প্রতিপক্ষের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা কৌশলগত বিন্যাস বদলেছিলেন।
দামব্রাউসকাসের হিসাবে, প্রথম ২০ থেকে ২৫ মিনিটে সাবাহর বল দখলে ছিল প্রায় ৬৮ শতাংশ। এটি ছিল শুরুর দিকের খেলা নিয়ে তাঁর অনুমান, পুরো ম্যাচের পরিসংখ্যান নয়। তিনি বলেন, শুরুতে স্লাভিয়া পেছন থেকে আক্রমণ গড়তে সমস্যায় পড়ে, ফলে সাবাহ বল পুনরুদ্ধার করে নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছিল।
পরে খেলায় আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে স্লাভিয়া এবং বল দখলের ভারসাম্য কাছাকাছি চলে আসে। দামব্রাউসকাসের বর্ণনায়, চেক দলটি শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল, আর তাদের খেলোয়াড়েরা মাঠজুড়ে প্রতিপক্ষকে অনুসরণ করছিলেন। এতে সাবাহর জন্য ফাঁকা জায়গা বের করা ও আক্রমণ গড়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দামব্রাউসকাস জানান, এর জবাবে কোচিং স্টাফ দলকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আরও সরাসরি আক্রমণের নির্দেশ দেয়। ম্যাচের পর তাঁর বক্তব্য অনুবাদ করে বলা হয়েছে:
বিরতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, কিছু এলাকায় আরও সরাসরি খেলব; তাতেই সঙ্গে সঙ্গে ফল আসে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আমরা গোল করি।
আরও সরাসরি খেলার অর্থ, দীর্ঘ পাসের ধারার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত বল আক্রমণভাগের দিকে এগিয়ে নেওয়া। বিরতির কিছুক্ষণ পরই প্যারিসের গোল আসে, যা কোচের বর্ণিত কৌশলগত পরিবর্তনের সময়ের সঙ্গে মেলে। তবে প্রতিবেদনগুলোতে পুরো পাসের ধারাবাহিকতা বা অ্যাসিস্টদাতার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
মাঝমাঠে বল হারানো ও ব্যয়বহুল ভুলের কথা বলল স্লাভিয়া
স্লাভিয়ার প্রধান কোচ জিন্দ্রিখ ত্রপিশভস্কি দলের পারফরম্যান্সের কড়া মূল্যায়ন দিয়েছেন। ফল ও দলের সামগ্রিক খেলায় অসন্তুষ্ট তিনি দুর্বল প্রথমার্ধ, বারবার বলের দখল হারানো এবং দুই গোলেই গুরুতর ভুলের কথা তুলে ধরেন।
শুরুর দিকের চাপ নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা মোটের ওপর দামব্রাউসকাসের বর্ণনার সঙ্গে মেলে। ত্রপিশভস্কি বলেন, স্লাভিয়ার বল হারানোর কারণে দল চাপের মুখে পড়ে এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগানোর মতো সমন্বিত খেলা হয়নি।
দুই দলের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট পার্থক্য হিসেবে মাঠের মাঝের অংশকে চিহ্নিত করেন স্লাভিয়া কোচ। তাঁর বক্তব্য অনুবাদ করে বলা হয়েছে:
আজ প্রতিপক্ষ বিশেষ করে মাঝমাঠে আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। ম্যাচের একটি দিক বেছে বলতে হলে, আমি এটাই তুলে ধরব।
ত্রপিশভস্কি আরও বলেন, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ভালো করলেও পরে নিয়ন্ত্রণ হারায় স্লাভিয়া। বিশেষ করে বাঁ প্রান্তে সাবাহ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছিল। তাঁর বিশ্বাস, অন্তত দুইবার গোল করার মতো সুযোগ দল পেয়েছিল, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।
এটি স্লাভিয়ার সুযোগ নিয়ে কোচের মূল্যায়ন, সুযোগের মান সম্পর্কে প্রকাশিত কোনো পরিমাপ নয়। ম্যাচের প্রতিবেদনগুলোতে শটের সংখ্যা বা প্রত্যাশিত গোলের পরিসংখ্যান নেই। অন্যদিকে দামব্রাউসকাস স্বীকার করেছেন, কয়েকটি মুহূর্তে সাবাহ ভাগ্যবান ছিল। তাই ক্লিন শিটকে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয় যে স্লাভিয়া কোনো হুমকিই তৈরি করতে পারেনি।
সাবাহর শুরুর একাদশের অবদানের সঙ্গে মিকেলসের পুরস্কার
দেরিতে করা গোল ও ম্যাচসেরার পুরস্কার মিকেলসকে জয়ের অন্যতম প্রধান চরিত্রে পরিণত করেছে। প্যারিস প্রথম গোলটি করেন। সাবাহর ঘোষিত শুরুর একাদশে দুই গোলদাতাই ছিলেন।
অধিনায়ক ও গোলরক্ষক স্তাস পোকাতিলভের সঙ্গে শুরু করেন তিমোথেউস পুচাচ, স্টিভ সলভে, এইডেন ম্যাকার্থি, আকিম জেদাদকা, উমারালি রাখমনালিয়েভ, ইভান লেপিনিৎসা, দু কুইরোজ, ভেলকো সিমিচ, প্যারিস ও মিকেলস। খেলোয়াড়দের কয়েকজনের নামের বানানে পার্থক্য থাকলেও একাদশ ঘোষণার তালিকা ও ম্যাচের তালিকায় একই শুরুর দল উল্লেখ করা হয়েছে।
স্লাভিয়ার হয়ে শুরু করেন ইয়াকুব মার্কোভিচ, দাভিদ জিমা, আঙ্গে এনগেসান, অধিনায়ক তোমাশ হলেশ, দানিয়েল শ্তুর্ম, মিখাল সাদিলেক, দাভিদ মোসেস, তোমাশ ভ্লচেক, এমানুয়েল আয়াওসি, লুকাশ প্রোভোদ ও তোমাশ খোরি।
সাবাহর তালিকাভুক্ত বদলি খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন আলেক্সেই ইসায়েভ, ক্রিশ্চিয়ান এনওয়াচুকু, জ্যান্ডার সেভেরিনা ও অর্ফে এমবিনা। স্লাভিয়ার হয়ে ছিলেন ময়মির শিতিল, স্যামুয়েল ইসিফে ও তুমানি দিয়াকিতে। বদলি খেলোয়াড়দের মধ্যে কারা মাঠে নেমেছেন বা কখন নেমেছেন, তা প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি। শুধু শুরুর একাদশের তালিকা থেকেও ব্যবহৃত সুনির্দিষ্ট ফরমেশন জানা যায় না।
টানা ১২ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর প্রথম জয়
সাবাহর এই ফলে ১৯৯৭/১৯৯৮ মৌসুম থেকে চলে আসা একটি রেকর্ড বদলে গেছে। এই ম্যাচের আগে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় চেক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কারাবাগ, শামকির ও কারভান সম্মিলিতভাবে ১২ বার খেলেও জিততে পারেনি।
আগের ফলগুলো ছিল পাঁচটি ড্র ও সাতটি হার। ফলে সাবাহর জয়ে ১৩ ম্যাচে রেকর্ড দাঁড়াল এক জয়, পাঁচ ড্র ও সাত হার। এই ইতিহাসে বাছাইপর্ব ও অন্যান্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাও রয়েছে, তাই এটি শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের ফলের চেয়ে বিস্তৃত রেকর্ড।
ধারাটির শুরু ১৯৯৭/১৯৯৮ মৌসুমে, যখন উয়েফা কাপের বাছাইপর্বে ইয়াবলোনেৎসের কাছে কারাবাগ ৩-০ ও ৫-০ গোলে হারে। এরপর ২০০০/২০০১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বাছাইপর্বে স্লাভিয়ার কাছে শামকির ১-০ ও ৪-১ গোলে হারে। ২০০৬ সালে স্লাভিয়ার মুখোমুখি হয়ে কারভান ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হারে, এরপর প্রতিপক্ষের মাঠে ০-০ গোলে ড্র করে।
২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বাছাইপর্বে ভিক্টোরিয়া প্লজেনের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই ড্র করে কারাবাগ; স্কোর ছিল ০-০ ও ১-১। তবে তখনকার অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে তারা বিদায় নেয়। দুই লেগ মিলিয়ে সমতা থাকলে যে দল প্রতিপক্ষের মাঠে বেশি গোল করত, সেই দলকে এগিয়ে রাখত নিয়মটি।
একই মৌসুমে ইউরোপা লিগের গ্রুপ পর্বে স্লোভান লিবেরেকের সঙ্গে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে কারাবাগ এবং প্রতিপক্ষের মাঠে ৩-০ গোলে হারে। ধারাটির শেষ দুটি ম্যাচ ছিল ২০২২/২০২৩ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ পর্বে ভিক্টোরিয়া প্লজেনের বিপক্ষে: প্রথমে ০-০ গোলে ড্র, এরপর ২-১ গোলে হার।
এই রেকর্ডের প্রেক্ষাপটে সাবাহর ২-০ গোলের জয় শুধু প্রথম ম্যাচের হার কাটিয়ে ওঠার ঘটনাই নয়। আগের ম্যাচগুলোতে অংশ নেওয়া আজারবাইজানের তিন ক্লাবের কেউই যে ফল পায়নি, সেটিই এনে দিয়েছে সাবাহ।
দলীয় মানসিকতার প্রশংসা, তবে পয়েন্টের নিশ্চয়তা নয়
পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানান দামব্রাউসকাস। জয়ের পেছনে তাঁদের মানসিকতা ও দৃঢ়তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি, তবে পরের ম্যাচগুলো নিয়ে প্রত্যাশা বাড়াননি।
গ্যালারিতে আরও বেশি সমর্থক থাকারও আহ্বান জানান সাবাহ কোচ। তাঁর ভাষ্য, আজারবাইজান ও বাকু উভয়ের প্রতিনিধিত্ব করা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে তিনি আরও বেশি দর্শক আশা করেছিলেন। দর্শকসংখ্যা জানানো হয়নি, তাই তাঁর মন্তব্য থেকে সংখ্যাগতভাবে গ্যালারির উপস্থিতি মূল্যায়ন করা যায় না।
দলের কাছ থেকে সমর্থকেরা কী আশা করতে পারেন, তা ব্যাখ্যা করে অনুবাদ করা বক্তব্যে দামব্রাউসকাস বলেন:
আমি ফল বা পয়েন্টের প্রতিশ্রুতি দেব না। তবে প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব, মনপ্রাণ দিয়ে খেলব এবং শেষ পর্যন্ত লড়ব, সেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি।
কারাবাগ নিয়ে স্লাভিয়ার এক খেলোয়াড়ের মন্তব্য অতিরিক্ত প্রেরণা জুগিয়েছিল কি না, এমন ধারণা নাকচ করেন তিনি। দামব্রাউসকাস বলেন, ম্যাচের আগে সাবাহ ওই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা করেনি এবং তাতে অপমানিতও বোধ করেনি। অন্য ক্লাব সম্পর্কে মন্তব্যের জবাব দেওয়ার বদলে নিজের দলের মান তুলে ধরাই ছিল তাঁর মনোযোগ।
ডর্টমুন্ডের আগে গাবালা
দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে সাবাহর পয়েন্ট তিন, গোল করেছে দুটি এবং হজম করেছে চারটি। ফলে গোল ব্যবধান মাইনাস দুই। স্লাভিয়ার পয়েন্ট নেই; গোল করেছে দুটি, হজম করেছে পাঁচটি এবং গোল ব্যবধান মাইনাস তিন।
এই পরিসংখ্যান বাকুর ম্যাচে কী বদলেছে তা দেখায়, তবে পুরো লিগ টেবিলে কোনো দলের অবস্থান নির্ধারণ করে না। বড় ব্যবধানে প্রথম ম্যাচে হারের পর সাবাহ জয় ও ক্লিন শিট পেয়েছে। অন্যদিকে, দুই গোল করা প্রথম ম্যাচে অল্প ব্যবধানে হারের পর এবার গোল না করেই হেরেছে স্লাভিয়া।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাবাহর পরের প্রতিপক্ষ বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, ম্যাচটিও হবে বাকু অলিম্পিক স্টেডিয়ামে। ম্যাচের প্রতিবেদনগুলোতে এই খেলার তারিখ বা শুরুর সময় জানানো হয়নি।
দামব্রাউসকাস বলেন, আপাতত তাঁর মনোযোগ থাকবে ঘরোয়া লিগে গাবালার মাঠে ম্যাচটির দিকে, যা কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন। অগ্রাধিকারের ক্রমটি স্পষ্ট করে কোচ বলেন, আগে গাবালার প্রস্তুতি, তারপর ডর্টমুন্ড নিয়ে ভাবনা। পরের ইউরোপীয় ম্যাচে সাবাহ ঘরের মাঠে আরেকটি সুযোগ পাবে, তবে প্রথম জয়েই লিগ পর্ব থেকে পরবর্তী ধাপে ওঠার সম্ভাবনা নিশ্চিত হয় না।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর বাকুতে স্লাভিয়া প্রাগকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে সাবাহ।
- ৪৯ মিনিটে কাহিম প্যারিস এবং ৮৮ মিনিটে জয়-ল্যান্স মিকেলস গোল করেন।
- ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মিকেলস।
- এই জয়ে চেক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আজারবাইজানের ক্লাবগুলোর টানা ১২ ম্যাচের জয়হীন ধারার অবসান হয়েছে।
- প্রস্তুতি, বিরতির সময় কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের দৃঢ়তাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন দামব্রাউসকাস।
- স্লাভিয়ার হারে মাঝমাঠের সমস্যা, ব্যয়বহুল ভুল ও সুযোগ নষ্ট করার কথা বলেছেন ত্রপিশভস্কি।
- ঘরোয়া লিগে গাবালার বিপক্ষে খেলার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে আতিথ্য দেবে সাবাহ।






