এশিয়া সফরের সমাপ্তি পর্বের কেন্দ্রস্থলে রাজামঙ্গলা স্টেডিয়ামে তিন রাত
দ্য উইকেন্ড ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর ব্যাংককের রাজামঙ্গলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টানা তিনটি শোর প্রথমটি করেছেন। আফটার আওয়ার্স টিল ডন স্টেডিয়াম ট্যুরের শেষদিকের একটি গন্তব্যে সঙ্গে ছিল জাপানি জুটি ক্রিপি নাটস এবং প্রায় ১২ মিটার উঁচু সোনালি রোবটের ভাস্কর্য। ব্যাংককে শো চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এশিয়া সফরের সূচিতে শক্তিশালী টিকিট চাহিদার পর পরিবেশনার সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে ১৭ হয়েছে।
সূচিপত্র
- এশিয়া সফরের সমাপ্তি পর্বের কেন্দ্রস্থলে রাজামঙ্গলা স্টেডিয়ামে তিন রাত
- আঞ্চলিক সূচিতে ব্যাংককের অবস্থান
- সোনালি রোবটে ভাস্কর্য ও যন্ত্রের সমন্বয়
- জাপানি নকশায় শিল্পী ও মঞ্চের রূপায়ণ
- তিনটি অ্যালবাম সংগীতের কাঠামো গড়েছে
- অতিথি পরিবেশনার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত শ্রোতার কাছে ক্রিপি নাটস
- নতুন সংগীত নিয়ে কাজের মধ্যেই সফরে ক্রিপি নাটস
- আয়ের হিসাব ভিন্ন, তবে চাহিদা উল্লেখযোগ্য
- টিকিট ও আগমনের তথ্য যাচাই করে নেওয়া দরকার
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিযোগ যাচাই হয়নি
- মূল তথ্য
লাইভ নেশন টেরোর ব্যাংকক ইভেন্টের তালিকায় রাজামঙ্গলা স্টেডিয়ামে ১১, ১২ ও ১৩ অক্টোবরের শোর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধান শিল্পী দ্য উইকেন্ড, আর সহশিল্পী ক্রিপি নাটস। প্রথমে ১১ অক্টোবরের একটি কনসার্ট ঘোষণা করা হয়েছিল, পরে তা টানা তিন রাতের স্টেডিয়াম শোতে রূপ নেয়।
এই আয়োজনে আফটার আওয়ার্স, ডন এফএম ও হারি আপ টুমরো অ্যালবামের গান মিলেছে জাপানি ভাস্কর্য, পোশাক নকশা ও স্বয়ংক্রিয় মঞ্চযন্ত্রের সঙ্গে। ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও শো ডিরেক্টর লা মার সি টেলর পুরো উপস্থাপনার তত্ত্বাবধান করেছেন। এর কেন্দ্রীয় দৃশ্যশিল্পী হাজিমে সোরায়ামার নকশা করা সুউচ্চ অবয়ব।
ব্যাংককের শোগুলো সফরের ব্যাপ্তি নিয়ে দুটি বিষয়ও সামনে এনেছে: স্টেডিয়ামে দ্য উইকেন্ডের পরিবেশনার প্রতি অব্যাহত চাহিদা এবং ক্রিপি নাটসের জন্য জাপানি ও অ্যানিমে সংগীতের পরিচিত শ্রোতাদের বাইরেও পৌঁছানোর সুযোগ। প্রতিবেদনগুলোতে বৈশ্বিক সফরের টিকিট বিক্রির আয় ১.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলা হয়েছে, যদিও এই অঙ্কে কতটি পরিবেশনা অন্তর্ভুক্ত, তা নিয়ে প্রকাশিত হিসাব এক নয়।
আঞ্চলিক সূচিতে ব্যাংককের অবস্থান
এশিয়া পর্বে সাতটি শহরে যাচ্ছে সফরটি: টোকিও, জাকার্তা, সিঙ্গাপুর, সিউল, ব্যাংকক, হংকং ও কুয়ালালামপুর। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই সফর উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, লাতিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়ও গেছে।
ব্যাংকককে ঘিরে প্রধান তারিখগুলো দেখায়, থাইল্যান্ডের কনসার্টগুলো সফরের শেষ পর্যায়ে পড়েছে, তবে এগুলো সফরের শেষ শো নয়:
- ১৮ থেকে ২১ মে, ২০২৬: ব্যাংককের টিকিটের প্রি-সেল ও সাধারণ বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হয়।
- ৩ জুন: ক্রিপি নাটস এশিয়া পর্বে অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
- ১৯ সেপ্টেম্বর: টোকিওতে এশিয়া পর্ব শুরু হয়।
- ২ ও ৩ অক্টোবর: সিঙ্গাপুরের কনসার্টে ক্রিপি নাটস পরিবেশনা করে।
- ৭ ও ৮ অক্টোবর: দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াং স্পোর্টস কমপ্লেক্সে দুটি কনসার্ট হয়।
- ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর: ব্যাংককে স্টেডিয়ামে টানা তিন রাতের শো।
- ৪ ও ৫ নভেম্বর: কুয়ালালামপুরে কনসার্ট; ৫ নভেম্বরকে এশিয়া পর্বের সমাপনী তারিখ বলা হয়েছে।
ব্যাংকক নিয়ে একটি আগাম নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, অক্টোবরে সফর শেষ হবে। তবে আঞ্চলিক সূচি অনুযায়ী ৫ নভেম্বর কুয়ালালামপুরে সফর শেষ হবে। ক্রিপি নাটসের অংশগ্রহণের ঘোষণাতেও নভেম্বরের তারিখ রয়েছে। তাই ব্যাংকককে সফরের সমাপ্তি বলার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পর্বের শেষ আর প্রকৃত শেষ শোর মধ্যে পার্থক্য করা দরকার।
সোনালি রোবটে ভাস্কর্য ও যন্ত্রের সমন্বয়
মঞ্চের ওপর সোরায়ামার ভাস্কর্যটির উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট, অর্থাৎ ১২ মিটার। জাপানের তোয়ামায় কারিগরেরা হাতে পলিস্টাইরিন ফোমের কাঠামোটি তৈরি করেছেন। সোনালি রঙের অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ হালকা কাঠামোটিকে ধাতব চেহারা দিয়েছে। চোখে লেজার আলো আর হাত থেকে ধোঁয়া বেরোনোর বিশেষ প্রভাব এটিকে শোর সক্রিয় অংশে পরিণত করেছে।
এই রোবট ২০২৩ সালে ব্যবহৃত আগের ক্রোম রঙের রোবটটির পরবর্তী সংস্করণ; সেটির উচ্চতা ছিল প্রায় সাত মিটার। নতুন ভাস্কর্যটি ১২ মিটার উঁচু, অর্থাৎ প্রায় পাঁচ মিটার বেশি, যা উচ্চতায় প্রায় ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এটি ঘুরতেও পারে। স্বয়ংক্রিয় প্রকৌশলব্যবস্থা সরবরাহ করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টেইট।
ভাস্কর্যটি তৈরির বিবরণে কিছু পার্থক্য রয়েছে। একটি বিবরণে বলা হয়েছে, ফোমের ওপর সোনালি রঙের অ্যালুমিনিয়াম প্রলেপ দেওয়া হয়েছে; অন্যটিতে বলা হয়েছে, হাতে খোদাই করা ফোমের পর ঢালাই করে সোনার কয়েকটি প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় বিবরণেই এটিকে মঞ্চের জন্য তৈরি ভাস্কর্য বলা হয়েছে, খাঁটি সোনার বস্তু নয়।
রোবটটিকে যন্ত্র, প্রাচীন নিদর্শন ও পূজার বস্তুর মিশ্রণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে; এর সোনালি পৃষ্ঠতল মূর্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। এই পাঠে স্মরণীয় বিশাল অবয়বের নিচে দাঁড়ানো ক্ষুদ্র মানব পরিবেশকের সঙ্গে তারকাপূজার ঝুঁকির যোগসূত্র দেখা হয়। তবে এটি দৃশ্যশিল্পের একটি ব্যাখ্যা, সোরায়ামা বা দ্য উইকেন্ডের দেওয়া নথিভুক্ত ব্যাখ্যা নয়।
এই সহযোগিতা শুধু এই সফরেই সীমাবদ্ধ নয়। জানা গেছে, দ্য উইকেন্ড ও সোরায়ামার কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে, ইকোজ অব সাইলেন্স নামে চিহ্নিত একটি মিউজিক ভিডিও দিয়ে; প্রকল্পটি তৈরি করতে দুই বছর লেগেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের যৌথ কাজের মধ্যে এক্সও মার্চেন্ডাইজ ও সংগ্রহযোগ্য খেলনাও রয়েছে।
জাপানি নকশায় শিল্পী ও মঞ্চের রূপায়ণ
দ্য উইকেন্ডের মুখোশ, অনুষঙ্গ ও পোশাকের মাধ্যমেও জাপানি সৃজনশীল অবদান অব্যাহত রয়েছে। তেতসুয়া নাকামুরা মুখোশ ও মঞ্চের অনুষঙ্গ নকশা করেছেন। পরে ২০২৬ সালের সফরের জন্য তিনি সোরায়ামার সঙ্গে মুখোশ ও বর্ম তৈরি করেন। শিল্পীর জন্য বিশেষ পোশাক তৈরি করেছে ইয়োহজি ইয়ামামোতো পুর হোম।
এই বিশেষ নকশাগুলো ভাস্কর্যের ধাতব অবয়বের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তনশীল চেহারাকে মিলিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও শো ডিরেক্টর হিসেবে টেলরের ভূমিকা সংগীত, আলো, নৃত্যশিল্পী ও মঞ্চপ্রভাবের বৃহত্তর ধারার সঙ্গে দৃশ্যনকশাকে যুক্ত করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিক আগের কনসার্টগুলোতে এই মঞ্চায়নের একটি নথিভুক্ত উদাহরণ দেখা গেছে। গোয়াং স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মুখোশ পরা নৃত্যশিল্পীরা মঞ্চের সারিতে দাঁড়িয়েছিলেন; এরপর ক্রুশের আদলে তৈরি বর্ধিত মঞ্চে দ্য উইকেন্ড হাজির হন। একই ১২ মিটার উঁচু সোনালি রোবটটি ছিল কেন্দ্রে। পরিবেশনার সঙ্গে ছিল লেজার, আগুনের বিশেষ প্রভাব ও দর্শকদের হাতে আলোকিত রিস্টব্যান্ড।
তিনটি অ্যালবাম সংগীতের কাঠামো গড়েছে
সফরটির সংগীতের ভিত্তি আফটার আওয়ার্স (২০২০), ডন এফএম (২০২২) ও হারি আপ টুমরো (২০২৫)। পাশাপাশি দ্য উইকেন্ডের আগের সময়ের গানও রয়েছে। ব্যাংককের পরিবেশনা নিয়ে বিবরণে স্টারবয়, সাও পাওলো, স্যাক্রিফাইস, আই ফিল ইট কামিং, সেভ ইয়োর টিয়ার্স ও ডাই ফর ইউ গানগুলোর কথা বলা হয়েছে।
একটি আগাম নির্দেশিকায় রাজামঙ্গলা স্টেডিয়ামের আগের একটি পরিবেশনা ও কনসার্টের গানের তালিকার ডেটাবেসের সূত্রে ৩৮টি গানের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে ছিল ব্যাপটাইজড ইন ফিয়ার, ওপেন হার্টস ও ওয়েক মি আপ; তালিকায় ছিল আফটার আওয়ার্স, হার্টলেস, দ্য হিলস, আউট অব টাইম ও ব্লাইন্ডিং লাইটস। শেষের দিকে ছিল হাউস অব বেলুনস ও মথ টু আ ফ্লেম।
এই তালিকা সম্ভাব্য গানের ভাণ্ডার সম্পর্কে ধারণা দেয়, তবে ২০২৬ সালের অক্টোবরে ব্যাংককের তিনটি শোর কোনোটিরই যাচাইকৃত নথি নয়। এতে আরও দাবি করা হয়েছিল, সফরটি ব্যাংককে দ্বিতীয়বার এসেছে। অন্যদিকে, কিছু বিবরণে এশিয়া পর্বকে এই অঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনাসহ সফরটির প্রথম আগমন বলা হয়েছে। আগের ব্যাংকক শো কবে হয়েছিল বা তার প্রযোজনার বিবরণ কী ছিল, এসব বিবরণ থেকে তা নিশ্চিত হয় না।
দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবেশনাটি সাম্প্রতিক তুলনার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য। শুরু হয়েছিল ব্যাপটাইজড ইন ফিয়ার দিয়ে; এতে ছিল ওপেন হার্টস, ওয়েক মি আপ, আফটার আওয়ার্স, হার্টলেস ও ব্লাইন্ডিং লাইটস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ঘণ্টার পরিবেশনায় প্রায় ৪০টি গান ছিল। তাতে ছিল আরঅ্যান্ডবি, সিনথেসাইজারনির্ভর পপ, ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক এবং সাও পাওলো গানের ব্রাজিলিয়ান ফাঙ্কের ছন্দ।
অতিথি পরিবেশনার মাধ্যমে আরও বিস্তৃত শ্রোতার কাছে ক্রিপি নাটস
ক্রিপি নাটস গঠিত র্যাপার ও গীতিকার আর-শিতেই এবং ডিজে ও সুরকার ডিজে মাতসুনাগাকে নিয়ে। জুটিটি ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশ করে এবং ২০১৭ সালের এপ্রিলে সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট জাপানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। কল অব দ্য নাইট, ড্যান দা ড্যান এবং মাশলে: ম্যাজিক অ্যান্ড মাসলস-এ তাদের গান ব্যবহৃত হয়েছে; অনেক শ্রোতা অ্যানিমের থিম সংয়ের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন।
২ ও ৩ অক্টোবর দ্য উইকেন্ডের সিঙ্গাপুর কনসার্টে তারা প্রায় ৪০ মিনিটের সেট পরিবেশন করে। গানগুলোর মধ্যে ছিল বিরিকেন, ব্লিং-ব্যাং-ব্যাং-বর্ন, ইয়োফুকাশি নো উতা, মিরাজ ও ওতোনোকে। এসব পরিবেশনা তাদের সাম্প্রতিক লাইভ গানের ভাণ্ডার সম্পর্কে ধারণা দেয়, তবে ব্যাংককের নিশ্চিত পরিবেশনা-সূচি নয়।
৫ অক্টোবরের এক সাক্ষাৎকারে আর-শিতেই ব্যাখ্যা করেন, জাপানে দ্য উইকেন্ডের সঙ্গে অল্প সময়ের একটি সাক্ষাৎ কীভাবে আমন্ত্রণে রূপ নেয়:
"এই বছরের শুরুতে জাপানে তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। সাক্ষাৎটা খুব সংক্ষিপ্ত ছিল, কিছুক্ষণ কথা বলেছিলাম। শুরুতে ব্যাপারটা শুধু এতটুকুই ছিল," বলেন আর-শিতেই।
এর কয়েক মাস পর তিনি জিজ্ঞেস করেন, আমরা তার এশিয়া সফরের অংশ হতে চাই কি না। আমরা অবাক হয়েছিলাম।
আর-শিতেই বলেন, তিনি ভেবেছিলেন অনেকে হয়তো এই জুটিকে চিনবেন না এবং ভাষার পার্থক্যের কারণে শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগ কঠিন হবে। সিঙ্গাপুরের পর তিনি বলেন, দর্শকেরা তাদের স্বাগত জানিয়েছেন। ব্যাংককে তিন রাতেই তাদের পরিবেশনা রয়েছে; কুয়ালালামপুরেও অতিথি শিল্পী হিসেবে আরও শো নির্ধারিত।
নতুন সংগীত নিয়ে কাজের মধ্যেই সফরে ক্রিপি নাটস
ক্রিপি নাটসের জন্য এই সহশিল্পীর পর্বটি নিজেদের ভবিষ্যৎ শোর শ্রোতা গড়ারও সুযোগ। আর-শিতেই বলেন, স্টেডিয়ামের পরিবেশনাগুলো এমন মানুষদের কাছে পৌঁছানোর পথ, যারা আগে কখনও তাদের গান শোনেননি; পাশাপাশি এমন শ্রোতাদের কাছেও, যারা গান চেনেন কিন্তু তাদের পরিবেশনা দেখেননি।
জুটিটি আগস্টে রানিং হুইল প্রকাশ করেছে। আর-শিতেই একে ফ্রাইটের ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিদেশে পরিবেশনা নিয়ে উদ্বেগ থেকে শুরু করে অপরিচিত শ্রোতাদের কাছে নিজেদের সংগীত পৌঁছে দিতে পারার তৃপ্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্প এতে উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে তারা দুটি গানের কাজ এগিয়ে নিয়েছিলেন এবং অ্যালবামের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ৫ অক্টোবরের সাক্ষাৎকারে এ প্রক্রিয়া বর্ণনা করে র্যাপার বলেন:
এই মুহূর্তে সারাক্ষণ নতুন সংগীতের কথাই ভাবছি। সিঙ্গাপুরে ঘুরে বেড়ানোর সময়ও গানের কথা ভাবছি। অ্যালবামের কাজ এখন সত্যিই চলছে।
অ্যালবাম প্রকাশের কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তাই স্টেডিয়াম সফরটি জুটির সক্রিয়ভাবে গান লেখার সময়ে হচ্ছে, ঘোষিত অ্যালবাম প্রকাশ উপলক্ষে নয়।
আয়ের হিসাব ভিন্ন, তবে চাহিদা উল্লেখযোগ্য
থাই টিকিট মেজরের সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ১৫৩টি পরিবেশনায় সফরটির ৭৫ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং আয় হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ঘোষণায় আফটার আওয়ার্স টিল ডনকে কোনো একক পুরুষ শিল্পীর সর্বোচ্চ আয়কারী সফর বলা হয়েছে।
ব্যাংককের উদ্বোধনী শো ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বেশি আয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে: ১৭৬টি শো থেকে ১.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, টিকিট বিক্রি সেখানেও ৭৫ লাখের বেশি। হিসাবগুলো ভিন্ন সময়ের হতে পারে, তবে তারিখ উল্লেখ করে কোনো সমন্বিত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। পরিবেশনার সংখ্যায় পার্থক্য ২৩টি, কিন্তু প্রকাশিত টিকিট বিক্রির সংখ্যা একই গোলাকার সীমার ওপরে।
২০২৬ সালে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে ৪২টি স্টেডিয়াম শো থেকে ৩৪৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় এবং ২৩ লাখের বেশি দর্শক পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সর্বনিম্ন হিসাব ধরে ৪২ দিয়ে ভাগ করলে প্রতি শোতে গড় আয় ৮.২ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দর্শকসংখ্যা ৫৪,৭০০-এর বেশি দাঁড়ায়।
দক্ষিণ কোরিয়াতেও আঞ্চলিক চাহিদার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৭ ও ৮ অক্টোবরের শোর ১ লাখ ৮ হাজার টিকিটই বিক্রি হয়ে যায়; প্রতি রাতে ছিল ৫৪ হাজার টিকিট। মে মাসে সাধারণ বিক্রি শুরুর ৩৫ মিনিটের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে যায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। একই সময়ে সর্বোচ্চ ১৩ লাখ ব্যবহারকারী একসঙ্গে টিকিট কেনার চেষ্টা করেন। প্রতিটি শোর টিকিট বরাদ্দ ছিল ২০১৮ সালে কোরিয়ায় দ্য উইকেন্ডের কনসার্টে উপস্থিত প্রায় ২৪ হাজার দর্শকের ২.২৫ গুণ।
থাই টিকিট মেজর আরও জানিয়েছে, এক্সও হিউম্যানিটারিয়ান ফান্ড ও গ্লোবাল সিটিজেনকে অনুদানের পরিমাণ ৮.৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ঘোষণায় সফরটির পুরস্কারের মধ্যে ২০২৬ আইহার্টরেডিও অ্যাওয়ার্ডসে ট্যুর অব দ্য ইয়ার এবং পোলস্টার অ্যাওয়ার্ডসে বেস্ট আরঅ্যান্ডবি ট্যুরের কথা উল্লেখ রয়েছে।
টিকিট ও আগমনের তথ্য যাচাই করে নেওয়া দরকার
ব্যাংককে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মতভেদ রয়েছে। একটি আগাম নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, ১১ ও ১২ অক্টোবরের টিকিট শেষ, তবে ১৩ অক্টোবরের টিকিট তখনও পাওয়া যাচ্ছিল। উদ্বোধনী শো নিয়ে আরেক বিবরণেও বলা হয়, শেষ রাতের টিকিট থাই টিকিট মেজর ও ভেন্যুর বক্স অফিসে তখনও পাওয়া যাচ্ছিল। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি শোর সব টিকিট শেষ। প্রকাশের সময় এক নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিটের মজুত হালনাগাদের তথ্যও নেই, তাই দাবিগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা যায় না।
সাধারণ টিকিটের নির্ধারিত দাম ছিল ২,৮৩৫ থেকে ৫,২২৫ থাই বাত। ভিআইপি জোনের দাম ছিল ১১,৯৩৫ থেকে ২১,৯৩৫ বাত। বাকি তারিখে গেট বিকেল ৫টায় খোলার কথা ছিল; দ্য উইকেন্ডের রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে মঞ্চে ওঠার এবং রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে শো শেষ হওয়ার আনুমানিক সময় দেওয়া হয়েছিল। এগুলো ছিল পরিকল্পনার হিসাব, নিশ্চিত পরিবেশনা-সময় নয়।
ব্যাংককে ১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত মার্চেন্ডাইজের একটি পপ-আপ দোকানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তবে নির্দেশিকাটিতে এর অবস্থান জানানো হয়নি। রাজামঙ্গলা স্টেডিয়ামে মার্চেন্ডাইজের স্টল এবং সংগ্রহসেবার কথাও উল্লেখ ছিল।
প্রকাশিত ভেন্যু-নিয়ম অনুযায়ী ছোট হাতব্যাগ, পাউচ ও কাপড়ের টোট ব্যাগ নেওয়া যাবে। তবে আনুমানিক এ৪ আকারের চেয়ে বড় ব্যাগ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। বাইরে থেকে খাবার ও পানীয়, পেশাদার ক্যামেরা, খুলে নেওয়া যায় এমন লেন্স, ট্যাবলেট, রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম, ড্রোন, ছাতা, অস্ত্র এবং কাচ বা ধাতব পাত্র নিষিদ্ধ ছিল। বড় সাইন ও শব্দ তৈরির সরঞ্জামও নিষিদ্ধ ছিল। নির্দেশিকায় সতর্ক করা হয়, থাইল্যান্ডে ভেপ ও ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং এগুলোর কারণে আইনি ঝুঁকি হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিযোগ যাচাই হয়নি
রোববারের উদ্বোধনী শোর পর সংগীত ও প্রযোজনার আলোচনা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মঞ্চের কাছের স্ট্যান্ডিং এলাকায় মানুষের মল পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়। দাবিগুলো ব্যাপকভাবে ছড়ালেও এর জন্য কে দায়ী বা কীভাবে ওই বস্তু সেখানে এসেছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্টেডিয়ামের ভেতরে সিগারেট ও গাঁজা সেবনের অভিযোগও কিছু পোস্টে করা হয়। কয়েকটি পোস্টে এ আচরণের জন্য বিদেশি দর্শকদের দায়ী করা হলেও অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও জাতীয়তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। নির্দিষ্ট কোনো কনসার্ট দর্শক সম্পর্কে এসব দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
অভিযোগগুলোর সঙ্গে আয়োজকদের কোনো নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া, নিরাপত্তা-তদন্তের ফল বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। নিশ্চিত তারিখ, শিল্পী তালিকা ও প্রযোজনার তথ্য থেকে এগুলো আলাদা বিষয়। পুরো স্টেডিয়াম বা তিনটি পরিবেশনার অবস্থা সম্পর্কে এসব অভিযোগ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না।
মূল তথ্য
- দ্য উইকেন্ডের ব্যাংকক শো ২০২৬ সালের ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর রাজামঙ্গলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনটি শোতেই সহশিল্পী হিসেবে থাকছে ক্রিপি নাটস।
- সাতটি শহরজুড়ে এশিয়া পর্বে শোর সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে ১৭ হয়েছে; ৫ নভেম্বর কুয়ালালামপুরে এটি শেষ হওয়ার কথা।
- হাজিমে সোরায়ামার প্রায় ১২ মিটার উঁচু সোনালি রোবটটি লা মার সি টেলরের পরিচালিত প্রযোজনার কেন্দ্রীয় আকর্ষণ।
- থাই টিকিট মেজরের হিসাবে ১৫৩টি পরিবেশনায় আয় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি; ব্যাংককের উদ্বোধনী শো ঘিরে প্রতিবেদনে ১৭৬টি তারিখে ১.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের কথা বলা হয়েছে।
- ১৩ অক্টোবরের টিকিট তখনও পাওয়া যাচ্ছিল কি না, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোর তথ্য পরস্পরবিরোধী।
- ভেন্যুর ভেতরে বর্জ্য ও ধূমপান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।






