তিনটি সেট পয়েন্ট বাঁচিয়ে বেইজিং ফাইনাল জয়, নতুন মাইলফলক
রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, বেইজিংয়ে মিরা আন্দ্রেয়েভার বিপক্ষে তিনটি সেট পয়েন্ট বাঁচিয়ে ৭-৫, ৬-৪ ব্যবধানে জেতেন ঝেং চিনওয়েন। এর মধ্য দিয়ে চায়না ওপেনের একক শিরোপা জয়ী প্রথম চীনা নারী হন তিনি। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিটে ফাইনাল শেষ করেন। নিজের প্রথম ম্যাচ পয়েন্টেই এস মেরে প্রথম ডব্লিউটিএ ১০০০ ট্রফি নিশ্চিত করেন তিনি।
সূচিপত্র
- তিনটি সেট পয়েন্ট বাঁচিয়ে বেইজিং ফাইনাল জয়, নতুন মাইলফলক
- উদ্বোধনী সেটে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন ঝেং
- শেষ দিকে ব্রেক ও এসেই শিরোপা নিশ্চিত
- ওয়াইল্ড কার্ড থেকে চ্যাম্পিয়ন: কঠিন পথ পেরিয়ে
- কনুইয়ের অস্ত্রোপচারে বদলে যায় ক্যারিয়ারের গতিপথ
- ফিরে আসার প্রমাণ দিয়েছিল ইউএস ওপেন
- প্রত্যাবর্তনের পেছনের মাইলফলকগুলো
- ঘরের সমর্থনে চোখের জল, সঙ্গে গান
- ফাইনালে হার, তবে র্যাঙ্কিংয়ে মাইলফলক আন্দ্রেয়েভার
- মূল তথ্য
এই জয় এমন এক খেলোয়াড়ের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের চিহ্ন, যার ডান কনুইয়ে অস্ত্রোপচারের পর জুনে র্যাঙ্কিং নেমে ১৬০ নম্বরে দাঁড়িয়েছিল। ওয়াইল্ড কার্ডে—অর্থাৎ ড্রয়ে বিশেষ আমন্ত্রণে—নিজের ঘরের টুর্নামেন্টে ৫৪ নম্বর র্যাঙ্কিং নিয়ে খেলতে নামেন ঝেং। শেষ করেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ট্যুর শিরোপা জিতে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরে টোকিওর পর তাঁর প্রথম শিরোপা।
উইমেন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশন তাদের অফিশিয়াল ম্যাচ সারাংশে নিশ্চিত করেছে, ঝেং চতুর্থ বাছাইকে হারিয়ে আন্দ্রেয়েভার বিপক্ষে জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ২-০ করেছেন। ডব্লিউটিএ আরও নিশ্চিত করেছে, টুর্নামেন্টটির নারী এককের প্রথম চীনা চ্যাম্পিয়ন ঝেং।
এই জয়ে তিনি পেয়েছেন ১,০০০ র্যাঙ্কিং পয়েন্ট ও ১,১৫১,৩৮০ ডলার পুরস্কার। সোমবার, ১২ অক্টোবর র্যাঙ্কিং হালনাগাদের পর ঝেংয়ের ৩১ ধাপ উঠে ২৩ নম্বরে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। টুর্নামেন্টে পঞ্চম র্যাঙ্কিং নিয়ে আসা আন্দ্রেয়েভা ফাইনালে হারলেও ক্যারিয়ার-সেরা ৩ নম্বরে ওঠার কথা ছিল।
এই পরিসংখ্যানগুলো তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর কেবল একাংশ তুলে ধরে। শুরুতে পিছিয়ে পড়া সামলাতে হয়েছে ঝেংকে, উদ্বোধনী সেট জেতার জন্য আন্দ্রেয়েভার তিনটি সুযোগ ঠেকাতে হয়েছে এবং উদ্দীপ্ত স্বদেশি দর্শকদের সামনে কঠিন টুর্নামেন্ট শেষ করার মতো শক্তি জোগাড় করতে হয়েছে।
উদ্বোধনী সেটে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন ঝেং
শুরুর দিকে ঝেংয়ের সার্ভিস ভেঙে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান আন্দ্রেয়েভা। ঝেং ব্রেক ফিরিয়ে আনলেও ম্যাচে টিকে ছিলেন রুশ খেলোয়াড়। ঝেংয়ের সার্ভিসে ৫-৪ এগিয়ে থেকে তিনি তিনটি সেট পয়েন্ট পান। যেকোনো একটিতে জিতলেই উদ্বোধনী সেটটি পেতেন আন্দ্রেয়েভা।
কিন্তু ৫-৫ করেন ঝেং, এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। বেশির ভাগ বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়েছে, সেটের শেষ ১১ পয়েন্ট জেতেন তিনি। তাতে এক সেটে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকে ৭-৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান ঝেং। আরেকটি বিবরণে শেষ দিকের এই জয়ের ধারাকে আট পয়েন্টের বলা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তমূলক তথ্যগুলোতে প্রতিবেদনগুলোর ঐকমত্য রয়েছে: তিনটি সেট পয়েন্টই বাঁচিয়ে পরের তিনটি গেম জেতেন ঝেং।
সেট থেকে কীভাবে ফিরে এসেছিলেন, পরে তা বর্ণনা করেন আন্দ্রেয়েভা। প্রথম সেট পয়েন্টে ঝেং মাঝ বরাবর সার্ভ করেন, পরের শটের পর আক্রমণে এগিয়ে যান এবং স্ম্যাশে পয়েন্ট শেষ করেন। আন্দ্রেয়েভার মতে, দ্বিতীয় সুযোগে তিনি আরও ঝুঁকি নিতে পারতেন; তৃতীয় সেট পয়েন্টে ভলিতে পয়েন্ট শেষ করেন ঝেং।
শুধু চূড়ান্ত স্কোর দেখলে বোঝা যায় না, ওই মুহূর্তের গুরুত্ব কতটা ছিল। সরাসরি সেটে জয়কে স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে, কিন্তু ম্যাচটি তাড়া করতে হওয়ার মাত্র এক পয়েন্ট দূরে ছিলেন ঝেং। চাপের মধ্যে শক্তিশালী সার্ভিসের পাশাপাশি সামনে এগিয়ে গিয়ে র্যালি শেষ করার মানসিকতাই তাঁকে জিতিয়েছে।
শেষ দিকে ব্রেক ও এসেই শিরোপা নিশ্চিত
দ্বিতীয় সেটেও শুরুতে দুজনের সার্ভিস ভাঙে। এরপর স্কোর দাঁড়ায় ৪-৪। নবম গেমে আন্দ্রেয়েভার সার্ভিস ভেঙে ৫-৪ ব্যবধানে শিরোপার জন্য সার্ভ করেন ঝেং। একটি বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়েছে, প্রথম তিনটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচানোর পর ওই গেমে চতুর্থ ব্রেক পয়েন্টে সফল হন তিনি।
ব্রেকের সুযোগগুলো নিয়ে বিবরণে ভিন্নতা রয়েছে। একটি সারাংশে বলা হয়েছে, ৪-৪ অবস্থায় ঝেং তিনটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান; অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ম্যাচ বিবরণে বলা হয়েছে, ঝেং ব্রেক নিশ্চিত করার আগে আন্দ্রেয়েভা সেগুলো বাঁচান। তবে মূল ক্রমটি নিয়ে একমত: আন্দ্রেয়েভার সার্ভিসে নবম গেম জেতেন ঝেং, এরপর সার্ভিস ধরে রেখে ৬-৪ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করেন।
শেষ দিকে একটি ডাবল ফল্টে ঝেংয়ের অগ্রযাত্রা সাময়িক থমকে যায়। তবে আন্দ্রেয়েভার ব্যাকহ্যান্ডের দিকে পাঠানো এস দিয়ে ম্যাচ শেষ করেন তিনি। এরপর কোর্টে লুটিয়ে পড়ে কাঁদেন, আর দর্শকেরা উদ্যাপনে মেতে ওঠেন।
আক্রমণাত্মক ফোরহ্যান্ড ও কোণাকুণি উইনারে র্যালির নিয়ন্ত্রণ নেন ঝেং; শেষ সার্ভিসটি এনে দেয় জয়। শীর্ষ ১০-এ থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ১৪তম জয় এবং চলতি মৌসুমে এমন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে তৃতীয় জয়।
ওয়াইল্ড কার্ড থেকে চ্যাম্পিয়ন: কঠিন পথ পেরিয়ে
প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসার দিক থেকে ঝেংয়ের টুর্নামেন্টটি ছিল উল্লেখযোগ্য। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি জায়গা পাওয়ার বদলে ওয়াইল্ড কার্ডে খেলেন তিনি। এরপর আন্দ্রেয়েভাকে হারানোর আগে একের পর এক বাছাই খেলোয়াড়কে পরাজিত করেন।
তাঁর পথচলার সুনির্দিষ্ট বিবরণে ভিন্নতা রয়েছে। এক বিবরণে বলা হয়েছে, ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন, পাঁচটি বাছাই খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন এবং তিনটি ম্যাচ গড়িয়েছে নির্ধারক সেটে। অন্য বিবরণে সাতটি ম্যাচের কথা বলা হয়েছে, যার প্রথম চারটি তিন সেটে হয়েছে এবং শেষ তিনটি সরাসরি সেটে শেষ হয়েছে। আরেকটি বিবরণে বলা হয়েছে, ফাইনালের আগে চারজন বাছাই খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন তিনি; আন্দ্রেয়েভাসহ সংখ্যাটি হবে পাঁচ।
টুর্নামেন্টে ৭৮টি গেম হারানোর হিসাব তাঁর পরিশ্রমের একটি কার্যকর মাপকাঠি। ১৯৯০ সালে এই শ্রেণি চালুর পর টিয়ার I বা ডব্লিউটিএ ১০০০ পর্যায়ে কোনো চ্যাম্পিয়নের জন্য এটিকে রেকর্ড বলা হয়েছে। ২০১৫ সালে টরন্টো জিতে বেলিন্ডা বেনচিচ যে ৬৬টি গেম হেরেছিলেন, তার চেয়ে ১২টি বেশি।
নিয়মিত ট্যুরের শীর্ষ পর্যায়টির আগের নাম ছিল টিয়ার I; বর্তমানে সেটির প্রতিনিধিত্ব করে ডব্লিউটিএ ১০০০ টুর্নামেন্ট। ১,০০০ সংখ্যাটি এককের চ্যাম্পিয়নকে দেওয়া র্যাঙ্কিং পয়েন্ট বোঝায়। গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট এই স্তরের ওপরে। ফলে বেইজিংয়ে ঝেং এমন একটি পর্যায়ে বড় ট্যুর শিরোপা জিতলেন, যেখানে এর আগে তিনি কখনো চ্যাম্পিয়ন হননি।
কনুইয়ের অস্ত্রোপচারে বদলে যায় ক্যারিয়ারের গতিপথ
চোটের কারণে অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রভাবশালী ডান কনুইয়ে অস্ত্রোপচার করান ঝেং। একটি বিবরণে বলা হয়েছে, পরবর্তী সাত মাসে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি; অন্য বিবরণে প্রায় ছয় মাসের বিরতির কথা বলা হয়েছে। দুটিতেই স্বল্প সময়ের বিরতি নয়, দীর্ঘ বিরতির ইঙ্গিত রয়েছে।
২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি র্যাঙ্কিংয়ে তাঁর অবস্থান নেমে ১৬০ নম্বরে দাঁড়ায়। চায়না ওপেন শুরুর আগে তা উঠে আসে ৫৪ নম্বরে। ২৩ নম্বরে ওঠার পূর্বাভাস সত্যি হলে জুনের সর্বনিম্ন অবস্থানের চেয়ে ১৩৭ ধাপ ওপরে উঠবেন তিনি এবং মার্চের পর প্রথমবারের মতো শীর্ষ ৩০-এ ফিরবেন।
ঝেংয়ের ক্যারিয়ার-সেরা র্যাঙ্কিং ছিল ৪ নম্বর, এ বিষয়ে প্রতিবেদনগুলো একমত। তবে তিনি ২০২৪ না ২০২৫ সালে ওই অবস্থানে পৌঁছেছিলেন, তা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। তাঁর বয়স নিয়েও প্রতিবেদনে অসংগতি আছে। তবে মূল অগ্রগতির ধারায় এর কোনো প্রভাব পড়ে না: অস্ত্রোপচার, র্যাঙ্কিংয়ে বড় পতন, প্রতিযোগিতায় ফেরা এবং বেইজিংয়ে নতুন শিরোপা।
নতুন চায়না ওপেন চ্যাম্পিয়ন ঝেং ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁর দলকে ধন্যবাদ জানান এবং পুনর্বাসন কতটা কঠিন ছিল তা তুলে ধরেন।
এই যাত্রায় পাশে থাকার জন্য আমার দলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বছরটা খুব কঠিন গেছে, তোমাদের ছাড়া এটা করতে পারতাম না।
ফিরে আসার প্রমাণ দিয়েছিল ইউএস ওপেন
অন্য টুর্নামেন্টেও উন্নতির লক্ষণ দেখানোর পর বেইজিংয়ে আসেন ঝেং। এথেন্সে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছান তিনি, এরপর বাছাইপর্ব পেরিয়ে ২০২৬ ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন। মূল ড্রয়ে জায়গা নিশ্চিত করার পর সরাসরি সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলতে হয়েছিল তাঁকে।
ইউএস ওপেনে জেতা দুটি ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ান তিনি। প্রতিপক্ষ ছিলেন ম্যাডিসন কিজ ও ইগা শিয়ন্তেক। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন এলেনা রিবাকিনার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ হয় তাঁর। ওই দুই প্রত্যাবর্তন বেইজিংয়ে আন্দ্রেয়েভার তিনটি সেট পয়েন্টের বিপক্ষে ঝেংয়ের দৃঢ়তার সাম্প্রতিক নজির হয়ে ওঠে।
মৌসুমে রোলাঁ গারোঁ ও উইম্বলডনে প্রথম রাউন্ডে বিদায়ও নিয়েছিলেন তিনি। এই বৈপরীত্যে চায়না ওপেনের জয়টি এক সপ্তাহের সাফল্যের চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ: দুটি বড় টুর্নামেন্টে প্রথম দিকেই বিদায়ের পর গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং এরপর ডব্লিউটিএ ১০০০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন ঝেং।
এর আগে তাঁর অর্জনগুলো ছিল উচ্চ মানদণ্ড। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠেন, প্যারিসে রোলাঁ গারোঁর কোর্টে এককের অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতেন এবং অক্টোবরে সোফিয়া কেনিনকে হারিয়ে টোকিও শিরোপা জেতেন। বেইজিংয়ে সেই শিরোপার খরা কাটল।
প্রত্যাবর্তনের পেছনের মাইলফলকগুলো
অস্ত্রোপচার থেকে চায়না ওপেনের ফাইনাল পর্যন্ত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝেংয়ের প্রত্যাবর্তন এগিয়েছে কয়েকটি স্বতন্ত্র ধাপে।
- ২০২৪: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠেন, প্যারিসে এককের অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতেন এবং অক্টোবরে টোকিও শিরোপা জেতেন।
- জুলাই ২০২৫: ডান কনুইয়ে অস্ত্রোপচার করান।
- জুন ২০২৬-এর মাঝামাঝি: র্যাঙ্কিংয়ে নেমে ১৬০ নম্বরে যান।
- ২০২৬ ইউএস ওপেন: বাছাইপর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন।
- ১১ অক্টোবর ২০২৬: আন্দ্রেয়েভাকে ৭-৫, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে চায়না ওপেন জেতেন।
- ১২ অক্টোবর ২০২৬: ২৩ নম্বরে ওঠার পূর্বাভাসসহ শীর্ষ ৩০-এ ফেরার কথা।
সময়রেখা দেখায়, অস্ত্রোপচারের পর বেইজিংয়ে প্রথম সফল ফল পাননি ঝেং, তবে এটিই তাঁর প্রথম শিরোপা। আগের সেরা মৌসুমে যা ছিল না, সেটিও যোগ হয়েছে: ডব্লিউটিএ ১০০০ এককের ট্রফি।
ঘরের সমর্থনে চোখের জল, সঙ্গে গান
ক্লান্ত বোধ করার সময়ও খেলা চালিয়ে যেতে ঘরের দর্শকদের সমর্থন তাঁকে সাহায্য করেছে বলে জানান ঝেং। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পয়েন্ট শেষ হওয়ার আগেই কখনো কখনো দর্শকেরা উল্লাস করছিলেন এবং সার্ভিসের সময় চিৎকার করছিলেন। সমর্থন ছিল প্রবল, যদিও কখনো কখনো তা দুই খেলোয়াড়ের জন্যই বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচ শেষে বক্তব্যে বেইজিংয়ে জয়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন ঝেং।
অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। এখানে বেইজিংয়ে, আমার ঘরের দর্শকদের সামনে জেতা সব সময়ই আমার স্বপ্নগুলোর একটি ছিল।
ফাইনালের শারীরিক ও মানসিক চাহিদার কথাও বলেন তিনি। জানান, শুরুতে আন্দ্রেয়েভা তাঁর সার্ভিস ভেঙে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে একবারে একটি পয়েন্টে মনোযোগ দিতে হয়েছিল।
কোর্টের আবেগঘন মুহূর্তের পর ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে হালকা মেজাজে উদ্যাপন করেন ঝেং। ১৫ হাজার দর্শকের সামনে অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘শেনবিং কিডস’-এর একটি গান গেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৪ সালে টুর্নামেন্টটি নতুন করে চালুর পর নারী এককে প্রথম চীনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জয়ের পর ছিল এই পরিবেশনা। এ সময়ে তিনি টুর্নামেন্টটির প্রথম ওয়াইল্ড কার্ড চ্যাম্পিয়ন এবং সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংধারী বিজয়ীও বলে জানানো হয়েছে।
ফাইনালে হার, তবে র্যাঙ্কিংয়ে মাইলফলক আন্দ্রেয়েভার
চতুর্থ বাছাই ও বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৫ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে টুর্নামেন্টে এসেছিলেন আন্দ্রেয়েভা। তাঁর ৩ নম্বরে ওঠার পূর্বাভাস সত্যি হলে, মারিয়া শারাপোভা ও কিম ক্লাইস্টার্সের পর এই শতকে প্রথমবার শীর্ষ তিনে ওঠা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হবেন তিনি।
বেশ কয়েকটি বিবরণে তাঁকে ২০২৬ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন বলা হয়েছে। অন্য একটিতে বলা হয়েছে, ওই বছরের রোলাঁ গারোঁর ফাইনালে ওঠার জন্য আন্দ্রেয়েভাকে অভিনন্দন জানান ঝেং, তবে শিরোপা জয়ের কথা নির্দিষ্ট করা হয়নি। একাধিক প্রতিবেদনে টুর্নামেন্ট জয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তবে ঝেংয়ের অভিনন্দনবার্তার বিবরণে পার্থক্য রয়েছে।
খেলোয়াড় দুজনের আগের মুখোমুখি লড়াই নিয়েও অসংগতি রয়েছে। একটি বিবরণে বেইজিংকে তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিএর অফিশিয়াল সারাংশে ঝেংয়ের বিপক্ষে ২-০ রেকর্ড নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের চায়না ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে তিন সেটে ঝেং জিতেছিলেন বলে যেসব প্রতিবেদন রয়েছে, তার সঙ্গেও এই হিসাব মেলে।
বেইজিংয়ে রানার-আপ হওয়া আন্দ্রেয়েভা নিজের রিটার্নে ছন্দ খুঁজে পেতে অসুবিধার কথা বলার পাশাপাশি ঝেংয়ের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন।
নিশ্চয়ই আজ সে দারুণ খেলেছে। তাকে আরও ভালো খেলতে এবং ফিরে আসতে দেখাটাও খুব ভালো লাগছে।
দুই খেলোয়াড়ের পরবর্তী নিশ্চিত মাইলফলক ছিল সোমবারের র্যাঙ্কিং হালনাগাদ। ফাইনালের পর ২৩ ও ৩ নম্বরে ওঠার অবস্থান দুটি ছিল পূর্বাভাস, উদ্যাপনের সময় পর্যন্ত প্রকাশিত র্যাঙ্কিং নয়।
মূল তথ্য
- ১১ অক্টোবর ২০২৬ চায়না ওপেনের ফাইনালে ঝেং চিনওয়েন মিরা আন্দ্রেয়েভাকে ৭-৫, ৬-৪ ব্যবধানে হারান।
- টুর্নামেন্টটির একক শিরোপা জয়ী প্রথম চীনা নারী হন তিনি এবং নিজের প্রথম ডব্লিউটিএ ১০০০ ট্রফি জেতেন।
- প্রথম সেটে তিনটি সেট পয়েন্ট বাঁচান ঝেং এবং নিজের প্রথম ম্যাচ পয়েন্টে এস মেরে ম্যাচ শেষ করেন।
- এটি ছিল ট্যুরে তাঁর ষষ্ঠ শিরোপা এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে টোকিও জয়ের পর প্রথম শিরোপা।
- তিনি ১,০০০ র্যাঙ্কিং পয়েন্ট ও ১,১৫১,৩৮০ ডলার পান; ৫৪ থেকে ২৩ নম্বরে ওঠার পূর্বাভাস ছিল।
- আন্দ্রেয়েভার ৫ থেকে ক্যারিয়ার-সেরা ৩ নম্বরে ওঠার কথা ছিল।
- ডব্লিউটিএ নিশ্চিত করেছে, মুখোমুখি লড়াইয়ে ঝেং এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।






