ছদ্মবেশী সেবার বিজ্ঞাপনের বাইরেও গড়াচ্ছে অভিযোগ
আলিবাবার পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম জিয়ানইউর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্রেতারা সাধারণ সেবার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে গ্রাহকদের অবৈধ যৌন লেনদেনের দিকে পরিচালিত করেছেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে কোম্পানিটির আইন প্রয়োগের রেকর্ড যাচাইয়ের মুখে পড়েছে: জিয়ানইউ বলছে, পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের দিকে ব্যবহারকারীদের পরিচালিত করার সন্দেহে তারা ৯৮,৩৫৮টি অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে এবং ১৫টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানেও সহায়তা করেছে।
সূচিপত্র
- ছদ্মবেশী সেবার বিজ্ঞাপনের বাইরেও গড়াচ্ছে অভিযোগ
- সাঁতারের বিজ্ঞাপন থেকে ব্যক্তিগত গ্রুপে
- অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে বিক্রেতাদের কথিত দাবি
- প্রমাণ কোথায় পাওয়া গেছে, তা নিয়ে জিয়ানইউর আপত্তি
- ১০টি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের তিন ধরনের পদক্ষেপ
- প্রায় এক লাখ অ্যাকাউন্ট স্থগিতের সংখ্যা অপরাধের হিসাব নয়
- তারিখগুলোতে এখনো নির্দিষ্ট ঘটনাক্রম নেই
- স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সীমা ও অ্যাকাউন্ট নিষেধাজ্ঞা
- আইনি দায়িত্ব ও বারবার ফিরে আসা আইন প্রয়োগের সমস্যা
- মূল বিষয়গুলো
অভিযোগে এমন একটি ধারাবাহিকতার কথা বলা হয়েছে, যা সাঁতারের পাঠ, ফটোগ্রাফি, ম্যাসাজ বা ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণের বিজ্ঞাপন দিয়ে শুরু হয়ে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের সেবায় গিয়ে পৌঁছায়। নথিভুক্ত একটি ঘটনাক্রমে, ৯৯ ইউয়ান জমা দেওয়ার পর যৌন সেবার মূল্যতালিকা পাওয়া যায়। অন্য বিক্রেতারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জড়িত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ইউয়ান চেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জিয়ানইউ ক্ষমা চেয়েছে, বিশেষজ্ঞ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ জোরদার ও ম্যানুয়াল পর্যালোচনা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্তের কিছু অংশ নিয়েও তারা আপত্তি তুলেছে। কোম্পানির বক্তব্য, অভিযোগের পক্ষে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ জিয়ানইউতে নয়, টেনসেন্টের ব্যবসায়িক বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ উইকমে প্রকাশিত হয়েছিল; আর কিছু সাধারণ সেবাকে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মূল পার্থক্যটি হলো, প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহক টানার প্রমাণ, আইন প্রয়োগ নিয়ে কোম্পানির বিবরণ এবং পুলিশ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা তথ্য এক বিষয় নয়। অভিযোগগুলো গুরুতর, কিন্তু রিপোর্টে উল্লেখিত অ্যাকাউন্ট স্থগিতের সংখ্যা থেকে কতটি অপরাধ ঘটেছে, কত শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা চিহ্নিত প্রতিটি অ্যাকাউন্টে অবৈধ কার্যকলাপ ছিল কি না, তা প্রমাণ হয় না।
সাঁতারের বিজ্ঞাপন থেকে ব্যক্তিগত গ্রুপে
তদন্তে বলা হয়েছে, বিক্রেতারা এমন সেবার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থাপন করেছিলেন, যেগুলোর সম্পূর্ণ বৈধ ব্যবহার থাকতে পারে। নারীদের ছবি ও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের মার্কেটপ্লেসের বাইরে কথোপকথনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাঁতারের প্রশিক্ষণের বিজ্ঞাপন দেওয়া একটি তালিকা তদন্তকারীদের একটি ব্যক্তিগত উইকম গ্রুপে নিয়ে যায়। সেখানে ৯৯ ইউয়ান জমা দিলে একটি মূল্যতালিকায় প্রবেশাধিকার পাওয়া যেত। ওই অর্থ ছিল প্রবেশমূল্য, পরে প্রস্তাব করা সেবাগুলোর মোট মূল্য নয়।
এক তদন্তকারী একটি অর্ডার দেন এবং ঠিকানা জানান। পরে এক নারী সেখানে এসে বলেন, তিনি ফ্লার্ট করা, চুম্বন ও গোসল করানোর সেবা দেন। একটি বিবরণে বলা হয়েছে, অর্ডার দেওয়ার আগে তদন্তকারীরা জননিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। এই ঘটনাক্রম থেকে অভিযোগটি সমর্থন পায় যে অন্তত একটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ বিজ্ঞাপন ভিন্ন ধরনের লেনদেনে প্রবেশের পথ হিসেবে কাজ করেছিল।
এতে প্রমাণ হয় না যে সাঁতারের প্রশিক্ষণ বা অন্য সেবার বিভাগগুলো স্বভাবতই সন্দেহজনক। জিয়ানইউর বক্তব্য, তদন্তে দেখানো ফটোগ্রাফি ও ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণের কিছু বিজ্ঞাপন বৈধ ছিল। তাই প্রকৃত সেবা আর ছদ্মবেশে দেওয়া প্রলোভনমূলক প্রস্তাবের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ও বিরোধের অংশ; শুধু বিভাগের নাম দেখে তা মীমাংসা করা যায় না।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে বিক্রেতাদের কথিত দাবি
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো এমন বিক্রেতাদের ঘিরে, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন বলে দাবি করেছিলেন। একজনের কথিত দাবি, অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য পাওয়া মেয়েদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সীটির বয়স ১৪ বছর। তিনি ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ইউয়ান মূল্যও চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরেক বিক্রেতা কথিতভাবে ১৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বলে দাবি করা পরিচয়পত্রের ছবি দেন, ভিডিও কলের প্রস্তাব করেন এবং বলেন, গ্রাহকেরা বিমানভাড়া দিলে মেয়েরা বিমানে যাতায়াত করতে পারবে। একটি বিবরণে যাচাইয়ের ভিডিওর কথাও বলা হয়েছে, যেখানে এক মেয়ে জানায়, তার জন্ম ২০১১ সালে।
এই বিবরণগুলো তদন্তকারীদের কাছে বিক্রেতারা কী দাবি করেছিলেন, তার প্রমাণ। তবে এগুলো একা ছবিতে দেখা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিচয়, বয়স বা পরিস্থিতির স্বতন্ত্র নিশ্চিতকরণ নয়। পরিচয়পত্র, ভিডিও এবং চিকিৎসা পরীক্ষাসংক্রান্ত দাবি প্রমাণ হিসেবে মেনে নেওয়ার বদলে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এই পার্থক্য অভিযোগ করা আচরণের গুরুতরতা কমায় না। বিক্রেতারা অর্থ আদায়ের জন্য মিথ্যা দাবি করলেও যৌন উদ্দেশ্যে শিশুদের কাছে যাওয়ার প্রস্তাব তদন্তের দাবি রাখে। রিপোর্টে বর্ণিত কোনো প্রকাশ্য অনুসন্ধান-ফলেই কতজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে শনাক্ত করা হয়েছে, পুলিশ কাউকে খুঁজে পেয়েছে কি না বা তারা কী সহায়তা পেয়েছে, তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
প্রমাণ কোথায় পাওয়া গেছে, তা নিয়ে জিয়ানইউর আপত্তি
জিয়ানইউর জবাবে তাদের মার্কেটপ্লেসে প্রাথমিক যোগাযোগ এবং পরে অন্যত্র হওয়া কথোপকথনের মধ্যে সীমারেখা টানা হয়েছে। কোম্পানির বক্তব্য, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে যাওয়ার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি সাংকেতিক বাক্য একজনের উইকম প্রোফাইলে ছিল; জিয়ানইউর কোনো পেজ, পণ্যের বিবরণ বা অ্যাপের ভেতরের ব্যক্তিগত কথোপকথনে নয়।
প্ল্যাটফর্মটি বলেছে, তারা ১০ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপন ও যোগাযোগ পর্যালোচনা করেছে। এর মধ্যে ছিল ম্যাসাজ ভাউচার, নারীদের পোশাক, বাড়িতে চুলে রং করা এবং স্মারক মুদ্রার মতো বিভাগ। কোম্পানির বিবরণ অনুযায়ী, পর্যালোচনা করা মার্কেটপ্লেসের তথ্য, কথোপকথন বা লেনদেনে ওই বাক্যটি ছিল না।
জিয়ানইউর বক্তব্য, ক্রেতারা ব্যক্তিগত চ্যাটে বাইরের যোগাযোগের তথ্য পেয়ে পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উইকমে যুক্ত করেছিলেন। তারা আরও দাবি করেছে, ফটোগ্রাফি ও ফিটনেসের কিছু সেবাকে ভুলভাবে অবৈধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল অ্যানিমেশনধর্মী শৈলীতে ছবি তৈরি করা একটি কাস্টমাইজেশন সেবা।
এই পাল্টা বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রমাণ কোথায় ছিল, তার ওপর নির্ভর করে প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি কী দেখতে পেরেছে। তবে জিয়ানইউতে স্পষ্ট যৌন ইঙ্গিতের কোনো বাক্য না থাকলেই, অন্য কোথাও অবৈধ কার্যকলাপের জন্য গ্রাহক টানতে কোনো বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা মীমাংসিত হয় না। তদন্তে এই দুই পর্যায়ের যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে; আর তা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত প্রমাণের কিছু অংশ নিয়ে কোম্পানির আপত্তি রয়েছে।
১০টি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের তিন ধরনের পদক্ষেপ
তদন্তে স্ক্রিনশট থেকে শনাক্ত করা ১০টি পণ্যের পর্যালোচনা নিয়ে জিয়ানইউ বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকাশের আগে ও পরে নেওয়া পদক্ষেপ ছিল আলাদা:
- নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম যাচাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তদন্ত প্রকাশের আগেই ছয়টি বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
- প্ল্যাটফর্মের বাইরে ব্যবহারকারীদের পরিচালিত করার সন্দেহে প্রকাশের পর তিনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
- জিয়ানইউর মতে, একটিতে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হয়নি; তবে শব্দচয়ন অনুপযুক্ত হওয়ায় সেটি জনসাধারণের কাছ থেকে আড়াল করা হয়।
কোম্পানির বক্তব্য, পরে যে তিনটি বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোতে জিয়ানইউর ভেতরে পর্নোগ্রাফিক তথ্য ছিল না। তবু বাইরের যোগাযোগে লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় পণ্য ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বাকি বিজ্ঞাপনটি নিয়ে জিয়ানইউ বলেছে, সেখানে যৌন কনটেন্ট নয়, অ্যানিমেশনধর্মী শৈলীতে ছবি কাস্টমাইজ করার সেবা দেওয়া হয়েছিল। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ লেনদেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে নয়, বরং বিবরণটি ভুল বোঝার আশঙ্কা থাকায় সেটির প্রকাশ্য প্রদর্শন বন্ধ করা হয়।
বিতর্কিত সব বিজ্ঞাপনকে অবৈধ বা নিরীহ বলে একক দাবি করার চেয়ে এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতির আরও কার্যকর চিত্র দেয়। এতে হস্তক্ষেপের ভিন্ন কারণ ও সময় দেখানো হয়েছে। তবে এগুলো কোম্পানির নিজস্ব পর্যালোচনার বিবরণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনভাবে প্রকাশিত সিদ্ধান্ত নয়।
প্রায় এক লাখ অ্যাকাউন্ট স্থগিতের সংখ্যা অপরাধের হিসাব নয়
জিয়ানইউর দেওয়া নির্দিষ্ট সংখ্যা, ৯৮,৩৫৮টি অ্যাকাউন্ট, থেকেই প্রায় এক লাখ অ্যাকাউন্ট স্থগিতের বৃত্তাকার হিসাব এসেছে। কয়েকটি বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই মোট সংখ্যা জমেছে। প্ল্যাটফর্মটি আরও বলেছে, তারা এক কোটির বেশি পণ্য যাচাই করেছে, যার বেশির ভাগই ছিল সাধারণ পণ্য, এবং জননিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্যসূত্র পাঠিয়েছে।
পুলিশের সঙ্গে মিলে ১৫টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাজ করার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। বিবরণে পার্থক্য আছে: কোথাও এগুলোকে পতিতাবৃত্তির গোষ্ঠী বলা হয়েছে, কোথাও আরও বিস্তৃত অর্থে পর্নোগ্রাফি-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী বলা হয়েছে। এসব অভিযানের বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়নি, তাই সব ঘটনাকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জড়িত বলে নিশ্চিত মামলা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
জিয়ানইউ আরও বলেছে, বছরের শুরু থেকে তারা ৩২টি বিশেষ অভিযানের হালনাগাদ প্রকাশ করেছে। এসব অভিযানে প্রতারণা, কারসাজি এবং মার্কেটপ্লেসের বাইরে প্রলোভন দেখানোর মতো বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সংখ্যা শুধু শিশু সুরক্ষায় নিবেদিত অভিযানের সংখ্যা নয়।
অ্যাকাউন্ট স্থগিতের সংখ্যা একটি প্ল্যাটফর্মের নেওয়া পদক্ষেপের হিসাব; এটি দণ্ডাদেশ, শনাক্ত ভুক্তভোগী বা পৃথক অপরাধী চক্রের সংখ্যা নয়। পুনরায় নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট, নিশ্চিত লঙ্ঘন এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের পরিসংখ্যান ছাড়া এই মোট সংখ্যা থেকে অবৈধ কার্যকলাপ কতটা ঠেকানো হয়েছে, বা পদক্ষেপের পরও কতটা চলেছে, তা বোঝা যায় না।
তারিখগুলোতে এখনো নির্দিষ্ট ঘটনাক্রম নেই
তদন্ত কবে প্রকাশিত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। একটি বিবরণে প্রকাশের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর বলা হয়েছে, একই সঙ্গে জিয়ানইউর আইন প্রয়োগসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের কথাও রয়েছে। অন্যটিতে টেলিভিশন তদন্তের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর এবং কোম্পানির ক্ষমা চাওয়া ও বিস্তারিত জবাবের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর বলা হয়েছে।
কয়েকটি বিবরণে আইন প্রয়োগের পরিসংখ্যান ও সেপ্টেম্বরের জবাবকে স্পষ্টভাবে ২০২৬ সালের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য বিবরণে বছর না জানিয়ে তারিখ বা বার বলা হয়েছে। এই পার্থক্যের কারণে পূর্ণাঙ্গভাবে মিলিয়ে নেওয়া ঘটনাক্রম তৈরি করা যায় না। প্রধান তারিখযুক্ত ঘটনাগুলো এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:
- জানুয়ারি থেকে: জিয়ানইউ বলেছে, এ সময়ে অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের মোট সংখ্যা জমেছে এবং পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছে; কয়েকটি বিবরণে ২০২৬ সালের জানুয়ারি বলা হয়েছে।
- ১০ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর: বিতর্কিত সাংকেতিক বাক্য ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ পর্যালোচনার সময়কাল বলে জিয়ানইউ জানিয়েছে।
- ১৫ বা ১৮ সেপ্টেম্বর: তদন্ত প্রকাশের তারিখ নিয়ে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন।
- ১৮ সেপ্টেম্বর: ৯৮,৩৫৮টি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং ১৫টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহযোগিতার তথ্য প্রকাশের প্রতিবেদন রয়েছে।
- ২১ সেপ্টেম্বর: ক্ষমা চাওয়া, বিজ্ঞাপনগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং বিশেষজ্ঞ দল গঠনের ঘোষণার প্রতিবেদন রয়েছে; কয়েকটি বিবরণে তারিখটি ২০২৬ সালের বলা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে বুধবার চালানো এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাড়িতে মডেলিং ফটোশুট খুঁজলে আর ফল আসছিল না; তবে ফটোগ্রাফি, ফিটনেস ও সাঁতারসংক্রান্ত আরও বিস্তৃত বিজ্ঞাপন রয়ে গিয়েছিল। এই ফল থেকে প্রমাণ হয় না যে অবশিষ্ট সেবাগুলো অবৈধ ছিল, বা সরানো বিজ্ঞাপনগুলো অন্য শব্দ ব্যবহার করে আবার প্রকাশিত হয়েছিল কি না।
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সীমা ও অ্যাকাউন্ট নিষেধাজ্ঞা
গ্রাহকসেবা কর্মীরা জানিয়েছেন, বিজ্ঞাপন পর্যালোচনার প্রধান মাধ্যম স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা; সাধারণত আপিলের সময় মানব পর্যালোচকেরা যুক্ত হন। পরে জিয়ানইউ উন্নত কীওয়ার্ড ফিল্টার, ছবি শনাক্তকরণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন ও অ্যাকাউন্টের ম্যানুয়াল পর্যালোচনা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
কোম্পানির বক্তব্য, শনাক্তকরণ এড়াতে অপরাধীরা পরিবর্তনশীল সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে। এতে বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়: ফিল্টারকে সন্দেহজনক ধরন শনাক্ত করতে হবে, কিন্তু সাধারণ ছবি, সেবার বিবরণ বা পণ্যের নামকে অন্যায়ের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা চলবে না। ছবি কাস্টমাইজেশনের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিরোধটি ভুলভাবে শ্রেণিবদ্ধ করার ঝুঁকি তুলে ধরে।
সাংহাই দ্রোয়া অ্যান্ড এলিট ল ফার্মের অংশীদার চাং দংইউয়ে বারবার অবৈধ বিজ্ঞাপন আসার পেছনে কম প্রবেশবাধা, ট্রাফিক ও লেনদেনের পরিমাণের ওপর নির্ভরতা এবং নিয়ন্ত্রণের খরচ কম রাখার চাপকে দায়ী করেছেন। তাঁর মূল্যায়ন প্রণোদনা ও আইন প্রয়োগের কাঠামো নিয়ে, জিয়ানইউর ব্যয়সংক্রান্ত প্রকাশিত নিরীক্ষা নয়।
সেবাগুলোর মধ্যে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্ল্যাটফর্মটি যে বক্তব্য দিয়েছিল, তার জবাবে চাং ব্যাখ্যা করেন, একটি মার্কেটপ্লেসের অ্যাকাউন্ট সরালেও কেন বৃহত্তর কার্যক্রম অক্ষত থাকতে পারে।
একেকটি প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করলে শৃঙ্খলের একটি সংযোগই শুধু বিচ্ছিন্ন হয়," তিনি বলেন। "প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে প্রকৃত সহযোগিতা না থাকলে আইন প্রয়োগ কম কার্যকর হবে।
জিয়ানইউ আরও বলেছে, কোনো বিক্রেতার অ্যাকাউন্ট এখনো দৃশ্যমান থাকলেই যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নয়; কারণ নিশ্চিত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও সব সময় তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় না। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জনসাধারণের কাছে অ্যাকাউন্ট দৃশ্যমান থাকা পদক্ষেপের অসম্পূর্ণ সূচক। তবে কী ধরনের কম কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলো আরও প্রলোভন দেখানো বন্ধ করতে পেরেছিল কি না, তা অজানা রয়ে গেছে।
আইনি দায়িত্ব ও বারবার ফিরে আসা আইন প্রয়োগের সমস্যা
চীনের সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত তথ্য পরিচালনা ও নিষিদ্ধ কনটেন্ট সরানোর দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মের। অপ্রাপ্তবয়স্কদের উদ্দেশে প্রচারিত অবৈধ কনটেন্ট মুছে ফেলা, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং কর্তৃপক্ষকে জানানোর দায়িত্বও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা আইন প্ল্যাটফর্মের ওপর দিয়েছে। এগুলো পৃথক কাজ: উপকরণ সরালে তার আরও বিস্তার কমে, আর প্রমাণ সংরক্ষণ তদন্তে সহায়তা করে।
হেবেই সানহে টাইমস ল ফার্মের অংশীদার শু নান বলেছেন, কনটেন্ট নিরাপত্তা পর্যালোচনার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্ল্যাটফর্মকে সতর্কতা, জরিমানা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতিতে ফৌজদারি দায়ও তৈরি হতে পারে। এটি সম্ভাব্য দায় নিয়ে মূল্যায়ন, জিয়ানইউ ওই শাস্তির মুখে পড়েছে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
আগেও এ নিয়ে যাচাই-বাছাই হয়েছে। ২০১৯ সালে বিক্রেতারা যৌন সেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত চ্যাটে তরুণীদের টানতে এক ইউয়ান দামের পোশাকের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জিয়াংসু প্রদেশের ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ অবৈধ লেনদেনের প্রলোভন দেখানোসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জিয়ানইউ ও আরও ১১টি পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মের কাছে ব্যাখ্যা চায়।
২০২২ সালে ছদ্মবেশী সেবা এবং ২০২৪ সালে সাংকেতিক পণ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ে আরও অভিযোগ ওঠে। আইন প্রয়োগের সময়কাল ২০২৬ বলে চিহ্নিত করা বিবরণগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা নগ্ন ছবি বিক্রি নিয়ে জুন মাসের একটি বিতর্কের কথাও বলা হয়েছে। এসব ঘটনা বারবার উদ্বেগের কারণ দেখায়, তবে প্রতিবার একই বিক্রেতা বা গোষ্ঠী জড়িত ছিল, তা প্রমাণ করে না।
প্রতিবেদনে বর্ণিত সময় পর্যন্ত এই তদন্তের জন্য আলাদা কোনো নিয়ন্ত্রক জরিমানা বা প্রকাশ্য মামলা ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি। জিয়ানইউ জানিয়েছে, তাদের তদন্ত চলছিল; তবে তা শেষ করার সময়সীমা, নির্ধারিত শুনানি বা পুলিশের প্রকাশ্য হালনাগাদের তারিখ জানানো হয়নি।
প্ল্যাটফর্মটির ব্যাপক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তদন্তের অমীমাংসিত ফলকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। জিয়ানইউর নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৬০ কোটির বেশি; একটি বিবরণে মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে বেশি দেখা ওয়েইবো হ্যাশট্যাগটি বুধবার পর্যন্ত ৪৯ কোটি ভিউ পেয়েছে বলে জানা গেছে; এটি ভিউয়ের হিসাব, স্বতন্ত্র মানুষের সংখ্যা নয়। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের নিশ্চিত সংখ্যা, তদন্ত থেকে হওয়া ফৌজদারি মামলা এবং বিজ্ঞাপনের তালিকা থেকে ব্যক্তিগত যোগাযোগ পর্যন্ত পুরো ধারাটি প্রতিশ্রুত পরিবর্তনগুলো থামাতে পেরেছে কি না, তার নির্ভরযোগ্য বিবরণ এখনো নেই।
মূল বিষয়গুলো
- বিক্রেতারা কথিতভাবে জিয়ানইউর সাধারণ সেবার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে অবৈধ যৌন লেনদেনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন; এর মধ্যে ১৪ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের জড়িত করার প্রস্তাবও ছিল।
- জিয়ানইউ ৯৮,৩৫৮টি অ্যাকাউন্ট স্থগিত, এক কোটির বেশি পণ্য যাচাই এবং ১৫টি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।
- কোম্পানি তদন্তের কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে এবং বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংকেতিক বাক্য জিয়ানইউতে নয়, উইকমে ছিল।
- পর্যালোচনা করা ১০টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে জিয়ানইউর বক্তব্য অনুযায়ী, ছয়টি প্রকাশের আগেই সরানো হয়, তিনটির বিরুদ্ধে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং লঙ্ঘন পাওয়া না গেলেও একটিকে আড়াল করা হয়।
- প্রকাশের তারিখ নিয়ে প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে; কয়েকটি প্রতিবেদনে আইন প্রয়োগের সময়কাল ও জবাবের সাল স্পষ্টভাবে ২০২৬ বলা হয়েছে।
- প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্তদের নিশ্চিত সংখ্যা, আলাদা কোনো নিয়ন্ত্রক জরিমানা বা তদন্ত শেষ করার সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।






