স্কুটার থেকে বৈদ্যুতিক ট্যাক্সি: চলমান এক দেশ
হো চি মিন সিটিকে এখন আর শুধু একসময়কার রাস্তাজুড়ে মোটরসাইকেলের স্রোত দিয়ে চেনা যায় না। আজ কাচঘেরা কফিশপ, বিলাসবহুল হোটেল ও নামী ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের পাশ দিয়ে ছুটে চলে সায়ান রঙের বৈদ্যুতিক ট্যাক্সি। এসব স্থাপনার একেবারে গা ঘেঁষেই রয়েছে প্লাস্টিকের টুলে বসে কয়েক ডলারে দুপুরের খাবার খাওয়া শ্রমিকদের খাবারের দোকান। এই পরিবর্তন কেবল বাহ্যিক নয়। এটি দ্রুত বর্ধনশীল ও দ্রুত বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠা অর্থনীতির ইঙ্গিত দেয়।
সূচিপত্র
- স্কুটার থেকে বৈদ্যুতিক ট্যাক্সি: চলমান এক দেশ
- বড় লক্ষ্য, আরও বড় ব্যয়: ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য
- ভিয়েতনাম যেভাবে এখানে পৌঁছাল: দই মই ও ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ সুবিধা
- ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের সরু পথে
- ট্রিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন: ভিয়েতনাম কি এর ব্যয় মেটাতে পারবে?
- সরবরাহের সীমাবদ্ধতা: শ্রমিক, বিদ্যুৎ ও দক্ষ কর্মী
- ভোক্তা: উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সতর্ক ও ডিজিটালমুখী
- উত্থান কি টেকসই হবে? প্রবৃদ্ধি বনাম স্থিতিশীলতার দ্বন্দ্ব
- মূল বিষয়গুলো
এশিয়ার সবচেয়ে আলোচিত উদীয়মান বাজারগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে বছরওয়ারি ৭.৮৩ শতাংশে পৌঁছায়, যার পেছনে ছিল শিল্প, নির্মাণ ও সেবা খাত। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২৪.২ শতাংশ বেড়ে ৩৩.৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর মোট রপ্তানি হয়েছে ১২২.৯৩ বিলিয়ন ডলারের। অর্থনীতি একটি প্রতীকী মাইলফলকও পেরিয়েছে: ২০২৪ সালের ৪,৪৯০ ডলার থেকে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় বেড়ে ৪,৯৭০ ডলার হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক ভিয়েতনামকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পুনঃশ্রেণিভুক্ত করেছে।
ইন্দোচায়না ক্যাপিটালের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং শিল্প-সম্পত্তি খাতের বিনিয়োগকারী মাইকেল পিরো কাছ থেকে এই রূপান্তর দেখেছেন।
আপনি ছয় মাসে একটি প্রকল্পের লাইসেন্স পান, ১২ মাসে সেটি নির্মাণ করেন। সবকিছু এত সহজ। ২০ বছরের কর্মজীবনে আমি এমন সুযোগ কখনো দেখিনি।
আর্থিক বাজারেও ছড়িয়েছে এই আশাবাদ। ভিএন-ইনডেক্স দ্রুত বেড়েছে, আর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এফটিএসই রাসেল ভিয়েতনামকে দ্বিতীয় সারির উদীয়মান বাজারের মর্যাদায় উন্নীত করবে। এতে প্যাসিভ তহবিলের কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক আয়ের মর্যাদা উন্নীত করার দিনই এমএসসিআই ভিয়েতনামকে উন্নীতকরণের পর্যবেক্ষণ তালিকায় রাখেনি। এতে বোঝা যায়, পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কাজ এখনো চলছে।
বড় লক্ষ্য, আরও বড় ব্যয়: ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য
৮ শতাংশে সন্তুষ্ট নয় হ্যানয়। ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করতে চায় সরকার। সে জন্য মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়কে প্রায় ৪,৫০০ ডলার থেকে প্রায় তিন গুণ বাড়িয়ে ১৪,০০০ ডলারে নিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ১৯৯০ সালের পর মাত্র ২৭টি অর্থনীতি এমন উল্লম্ফন ঘটাতে পেরেছে।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই লক্ষ্যকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক, দুই ধরনের অপরিহার্যতা হিসেবে তুলে ধরেছে। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সংস্কার প্যাকেজ রেজোলিউশন ৬৮-তে বেসরকারি খাতকে কেবল "গুরুত্বপূর্ণ" নয়, অর্থনীতির "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের "অর্থনৈতিক ফ্রন্টের নতুন যোদ্ধা" হিসেবে সম্মান জানিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানের দ্বিগুণ, অর্থাৎ ২০ লাখে উন্নীত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার চেবলের আদলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম ২০টি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
এই লক্ষ্যগুলোর পেছনে রয়েছে এমন এক অবকাঠামো প্রকল্পের তালিকা, যার ব্যয় আরও ধনী দেশগুলোর জন্যও বড় চাপ হতো। ৬৭ বিলিয়ন ডলারের একটি উচ্চগতির রেলপথে হ্যানয় থেকে হো চি মিন সিটির যাত্রা ৩০ ঘণ্টা থেকে কমে পাঁচ ঘণ্টা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিমানবন্দর খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ভিড়ে জর্জরিত তান সন নাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বদলে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন টেলিযোগাযোগ গোষ্ঠী ভিয়েতেল জানুয়ারিতে ভিয়েতনামের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কারখানার নির্মাণকাজ শুরু করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ৩২ ন্যানোমিটারের চিপ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। হো চি মিন সিটি ও দা নাং—দুই শহরেই একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক পুঁজিতে প্রবেশের জন্য একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রক কাঠামো পাবেন।
এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অস্বাভাবিক মনোযোগ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হওয়া সাধারণ সম্পাদক তো লাম এখন ভিয়েতনামের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দুই পদই ধারণ করছেন। উত্তরের একটি লজিস্টিকস হাব ভিয়েতনাম সুপারপোর্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াপ কুয়ং ওয়েং বলেন, নীতির এই স্পষ্টতা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করে।
আমরা এমন এক পরিবর্তন দেখছি, যেখানে নেতাদের আরও স্থায়ী পদ দেওয়া হচ্ছে। এতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আরও নির্ভরযোগ্য হয়। আমাদের মতো ব্যবসার জন্য, বিশেষ করে বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকভাবে নীতি বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিয়েতনাম যেভাবে এখানে পৌঁছাল: দই মই ও ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ সুবিধা
আধুনিক ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক কাহিনির শুরু এক সংকটের মধ্য দিয়ে। ১৯৭৬ সালে পুনঃএকত্রীকরণের পর কমিউনিস্ট পার্টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সমবায় খামারনির্ভর কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত অর্থনীতি গড়ে তোলে। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে অতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সোভিয়েত সহায়তা কমে যাওয়ায় নতুন করে ভাবতে হয়। ১৯৮৬ সালে সাধারণ সম্পাদক নগুয়েন ভ্যান লিন ‘দই মই’ বা সংস্কার কর্মসূচি চালু করেন। এতে ব্যক্তিমালিকানা, বিদেশি বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের সুযোগ তৈরি হয়। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য অবরোধ তুলে নেয় এবং ২০০৭ সালে ভিয়েতনাম বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেয়।
মেকং ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস ফ্রয়েন্ডের স্মৃতিতে শুরুর দিনগুলো ছিল সবদিক থেকেই এক অজানা সীমান্তের মতো। তিনি বলেন, "তখন বেসরকারি খাতে আসলে বিনিয়োগ করা যেত না। যাদের সঙ্গে অংশীদার হতেন, ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না।" ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি বদলে যায়। পিরো স্মরণ করেন, "বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদান ঘিরে তখন সর্বত্র আশাবাদ ছিল। সে সময় পুরো বাজারই শৈশবাবস্থায় ছিল।"
এরপর থেকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশলের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছে ভিয়েতনাম। শুল্ক এড়াতে বা সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে কোম্পানিগুলো তাদের সরবরাহশৃঙ্খলের একটি অংশ চীন থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। স্যামসাং, অ্যাপল, নিনটেনডোসহ আরও বহু বিদেশি কোম্পানি ভিয়েতনামের কারখানায় ল্যাপটপ, টেলিভিশন, হেডফোন ও গেম কনসোল তৈরিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এখন ভিয়েতনামের রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ থেকে।
তবে এই উত্থানের একটি আড়াল থাকা দুর্বলতা রয়েছে। উৎপাদন খাতের বড় অংশ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন, আর অনেক সরবরাহকারী চীনা অর্থায়নে পরিচালিত। অ্যাসেনটিয়ামের আসিয়ান অঞ্চলের শীর্ষ নির্বাহী আলবার্তো ভেত্তোরেত্তি জানান, প্রকল্পের সংখ্যার হিসাবে হংকং, মূল ভূখণ্ড চীন ও তাইওয়ানের বিনিয়োগকারীরাই শীর্ষে। ইন্দোচায়না ক্যাপিটালের শিল্প পার্কগুলোর ভাড়াটে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ শতাংশ মূল ভূখণ্ড চীনের উৎপাদক, আর আরও ২০ শতাংশ তাইওয়ানের।
অর্থাৎ রপ্তানির সাফল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশের মানুষের ব্যাপক সম্পদে রূপ নেয় না। পিরো স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
এর বড় অংশ ভিয়েতনামের মানুষের সম্পদ তৈরি করছে না। এগুলো বিদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা, যারা বিদেশি ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই সাধারণ ভিয়েতনামির সম্পদ বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি এটি নয়।
দেশীয় বেসরকারি খাতও এখনো ছোট। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষুদ্র বা ছোট উদ্যোগ; মাঝারি আকারের কোম্পানি বিরল। বিশ্লেষকেরা এই ঘাটতিকে বলেন "অনুপস্থিত মধ্যবর্তী স্তর"। শক্তিশালী দেশীয় করপোরেট ভিত্তি না থাকলে ভিয়েতনাম উচ্চমূল্যের পণ্য উদ্ভাবনের বদলে শুধু সংযোজনের কেন্দ্র হয়ে থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের সরু পথে
ভিয়েতনাম দীর্ঘদিন ধরে "বাঁশ কূটনীতি" নিয়ে গর্ব করে এসেছে। সাবেক সাধারণ সম্পাদক নগুয়েন ফু চং চালু করা এই কথাটিতে এমন এক পররাষ্ট্রনীতির রূপক তুলে ধরা হয়েছে, যার শিকড় মজবুত, কাণ্ড শক্ত এবং শাখা নমনীয়। একই সময়ে ওয়াশিংটন, বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার হ্যানয়ের সক্ষমতাই এই রূপকে ধরা পড়ে।
২০২৬ সালের মার্চে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলপথে সহায়তা নিশ্চিত করতে মস্কো সফর করেন। এক মাস পর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে চীন যান তো লাম; সেখান থেকে রেল ও উড়োজাহাজসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে ফেরেন। ভিয়েতনামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা এখনো যুক্তরাষ্ট্র; দেশটি প্রতি বছর ভিয়েতনামের ১৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য কেনে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওয়াশিংটন ভিয়েতনামের পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপে সম্মত হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ‘মুক্তি দিবসে’ হুমকি দেওয়া ৪৬ শতাংশের চেয়ে এই হার অনেক কম এবং আসিয়ানের অন্য অর্থনীতিগুলোর হারের কাছাকাছি।
এই সমঝোতা নাজুক। এরই অংশ হিসেবে চীন থেকে অন্য দেশে পাঠানো হয়েছে বলে বিবেচিত পণ্যে ৪০ শতাংশ শুল্কের বিধান রয়েছে। চীনা উপকরণ দিয়ে ভিয়েতনামে সংযোজিত পণ্য এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে সেকশন ৩০১-এর তদন্তও শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, দেশটিতে শিল্প উৎপাদনের অতিরিক্ত সক্ষমতা রয়েছে এবং মেধাস্বত্বের সুরক্ষা দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি আরও গভীর বিচ্ছিন্নতার পথে দেশগুলোকে পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য করে, তবে চাপের মুখে বাঁশ ভেঙেও যেতে পারে।
যেভাবেই দেখুন, ভিয়েতনাম অনেক কিছুই ঠিকঠাক করেছে," বলেন আলবার্তো ভেত্তোরেত্তি। "প্রশ্ন হলো, ভূরাজনৈতিক উত্তাপ বাড়লে দেশটি কি সব পক্ষকে সন্তুষ্ট রাখতে পারবে?
ট্রিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন: ভিয়েতনাম কি এর ব্যয় মেটাতে পারবে?
উচ্চাভিলাষী অবকাঠামো পরিকল্পনার জন্য দরকার উচ্চাভিলাষী অর্থায়ন। অধিকাংশ বিদেশি বিশ্লেষকের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে অবকাঠামো খাতে ভিয়েতনামের ১৬০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার। দেশটির বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি টেককমব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়েন্স লটনারের হিসাবে, মোট ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজনের পাশাপাশি অর্থায়নের ঘাটতি ২০০ বিলিয়ন ডলার।
দেশটির ব্যাংকব্যবস্থা একা এই দায় সামলাতে পারবে না। লটনার বলেন, "স্থানীয় ব্যাংকব্যবস্থার পক্ষে এসব অবকাঠামো বিনিয়োগের পুরো অর্থায়ন করা সম্ভব নয়। ভিয়েতনামের আমানত সংগ্রহের সক্ষমতা যথেষ্ট বড় নয়।" বিদেশি পুঁজি দরকার হবে, কিন্তু পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসার সীমিত সুযোগ এবং এখনো বিকাশমান আর্থিক অবকাঠামোর কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সতর্ক।
উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রস্তুতির মধ্যকার ব্যবধান সবচেয়ে স্পষ্ট পুঁজিবাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে। বিশ্বব্যাংকের শ্রেণি উন্নীতকরণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বীকৃতি দিলেও এমএসসিআই এখনো ভিয়েতনামকে উদীয়মান নয়, সীমান্তবর্তী বাজার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। ২০২৬ সালের জুনের পর্যালোচনায় এমএসসিআই বিদেশি মালিকানার সীমা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অসম অধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার নিয়ম, লেনদেন নিষ্পত্তি ও ক্লিয়ারিং পদ্ধতি, তথ্য প্রকাশ, সিকিউরিটিজ ঋণ এবং শেয়ার বিক্রির সীমাবদ্ধতাকে অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে। গত ১২ মাসে ভিএন-ইনডেক্স ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, তবে এই উত্থান কয়েকটি বড় মূলধনী শেয়ারে, যার মধ্যে ভিনগ্রুপ-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিও রয়েছে। ভিনগ্রুপ-সংশ্লিষ্ট চারটি শেয়ার বাদ দিলে সূচক ২০২৫ সালের শেষের অবস্থানের চেয়েও নিচে থাকত।
হো চি মিন সিটি ও দা নাংয়ে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রের লক্ষ্য এসব সীমাবদ্ধতার কিছু সমাধান করা। তবে প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি কীভাবে কাজ করবে, তা খুব কম নির্বাহীরই পুরোপুরি জানা আছে। সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপরও নির্ভর করছে। ২০২৬-২০৩০ পরিকল্পনায় আগের পাঁচ বছরের তুলনায় সরকারি বিনিয়োগ প্রায় তিন গুণ করার কথা বলা হয়েছে; পাশাপাশি বেসরকারি অর্থায়ন আনতে অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্য রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা, শুধু সরকারি সম্পদ যথেষ্ট হবে না। দ্রুত অর্থছাড়ের বদলে উন্নত প্রকল্প বাছাই, শক্তিশালী প্রস্তুতি ও দক্ষ ক্রয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেশি প্রভাব নিশ্চিত করতে হবে।
পিরো বলেন, "ভিয়েতনামে অর্থ আনা কঠিন নয়। কঠিন হলো সেই অর্থ বের করে নেওয়া।"
সরবরাহের সীমাবদ্ধতা: শ্রমিক, বিদ্যুৎ ও দক্ষ কর্মী
অর্থের জোগান মিললেও তা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ভিয়েতনামের যথেষ্ট নাও থাকতে পারে। নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের উত্থানে ইতিমধ্যেই শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং সারা দেশে মজুরি বাড়ছে। পোশাকের মতো কম মূল্য সংযোজনকারী উৎপাদন খাত কম খরচের কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশের মতো দেশে সরে যাচ্ছে। স্যামসাংয়ের কাছাকাছি কারখানা সরাতে চাওয়া ইলেকট্রনিকস সরবরাহকারীরা কখনো দেখছেন, শ্রমের ব্যয় তাদের সাধ্যের বাইরে কিংবা পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
জনসংখ্যার প্রবণতা সমস্যাটিকে আরও কঠিন করছে। ২০১৫ সালে ভিয়েতনাম বার্ধক্যজনিত সমাজে পরিণত হয়। জাতিসংঘের পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে, যা আজকের জার্মানি বা হংকংয়ের কাছাকাছি। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার আগে সম্পদ গড়ে তোলার জন্য হ্যানয়ের হাতে তাই সময়ের জানালা সংকীর্ণ।
লটনার বলেন, "সময়ই সত্যিই আমাদের সবচেয়ে দুর্লভ সম্পদ।" জনসংখ্যা বয়স্ক হয়ে গেলে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অনেক কঠিন হয়।
জ্বালানিও আরেকটি বাধা। ভিয়েতনামের বিদ্যুৎ গ্রিডে ইতিমধ্যে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, বিশেষত উত্তরাঞ্চলে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর দেশের ভেতরে জ্বালানির দাম বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ৫.৮ শতাংশে পৌঁছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে। এতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে। বিদ্যুতের বেশির ভাগ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে; নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে কয়েক বছর লাগবে। চিপ নির্মাতা, ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী ও উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদকদের কাছে ভিয়েতনামকে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টার জন্য এটি হুমকি। এসব প্রতিষ্ঠানের সবারই নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক দামে বিদ্যুৎ দরকার।
এরপর রয়েছে দক্ষ কর্মীর প্রশ্ন। উৎপাদন দক্ষতায় ভিয়েতনামের কারখানাগুলো প্রায়ই চীনা বা কোরীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পিছিয়ে থাকে। ফ্রয়েন্ডের মতে, ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। তিনি বলেন, "অসাধারণ ব্যবস্থাপনা-দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের এখনো ঘাটতি রয়েছে। ভালো প্রতিষ্ঠান কর্মী আকর্ষণ ও ধরে রাখতে পারে। কিন্তু একটি গড়পড়তা প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ।" বৈশ্বিক পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এমন নির্বাহীদের সংখ্যা না বাড়লে মূল্য সংযোজনের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা কঠিনই থাকবে।
ভেত্তোরেত্তি বলেন, "ভিয়েতনামের কারখানায় চীনা বা কোরীয় কারখানার তুলনায় কী মাত্রার দক্ষতা পাওয়া যায়, তা গ্রাহকদের কাছে জানতে চাইলে দেখা যায়, কিছু ব্যতিক্রম বাদে ভিয়েতনাম এখনো পিছিয়ে। তাই প্রশ্ন হলো: কীভাবে দক্ষতা বাড়ানো যায়? সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কীভাবে দেওয়া যায়?"
ভোক্তা: উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সতর্ক ও ডিজিটালমুখী
ভিয়েতনামের সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা। ২০২৩ সালের ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মধ্যে মধ্যবিত্তের অংশ জনসংখ্যার ২৬ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বাড়তি ব্যবহারযোগ্য আয়ের ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি নতুন ভোক্তা যুক্ত হবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে খুচরা বিক্রি বছরওয়ারি ১২.১ শতাংশ বেড়েছে; শহরের আয় বাড়ছে গ্রামের তুলনায় দ্রুত। ভিয়েতনামের ভোক্তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনে প্রচুর ব্যয় করেন, পাশাপাশি ভ্রমণ ও উন্নত ব্র্যান্ডের পণ্যে ব্যয়ও বাড়ছে।
তবে মানুষের মনোভাব পুরোপুরি উচ্ছ্বসিত নয়। মূল্যস্ফীতি, পারিবারিক ঋণ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের আরও সতর্ক করেছে। ভোক্তারা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমাচ্ছেন, বেশি সঞ্চয় করছেন এবং অনলাইনে সাশ্রয়ী পণ্যের খোঁজ করছেন। নিলসেনআইকিউর তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ৭২ শতাংশ ভোক্তা অনলাইনে কেনাকাটা পছন্দ করেন, আর ২৬ শতাংশ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাচ্ছেন। ই-কমার্সের উত্থানে খুচরা বিক্রির ধরন বদলে যাচ্ছে, তবে এটি পরিবারের বাজেটের ওপর চাপেরও প্রতিফলন।
ভোক্তা গবেষণা বিশ্লেষক মেলিসা সিরিলের মতে, ভোক্তা বাজার দ্রুত পরিণত হচ্ছে।
২০৫০ সালের মধ্যে উন্নত অর্থনীতির মর্যাদা অর্জনের ভিয়েতনামের প্রচেষ্টা দেশটির ভোক্তা বাজারকে নতুন রূপ দিচ্ছে। দ্রুত সম্প্রসারিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি ব্যয় করার অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নতুনভাবে নির্ধারণ করছে। এতে পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চমানের পণ্য ও সেবা সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর জন্য বিপুল সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভিয়েতনামের চ্যালেঞ্জ হলো ঋণনির্ভর ব্যয়ের ওপর নির্ভর না করে ভোক্তাদের আস্থাকে টেকসই অভ্যন্তরীণ চাহিদায় রূপ দেওয়া, যা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
উত্থান কি টেকসই হবে? প্রবৃদ্ধি বনাম স্থিতিশীলতার দ্বন্দ্ব
সরকারি উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীন পূর্বাভাসের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালে ৬.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, ওইসিডির পূর্বাভাস ৬.২ শতাংশ এবং এইচএসবিসির ৬.৫ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং আসিয়ান প্লাস থ্রি ম্যাক্রোইকোনমিক রিসার্চ অফিস তুলনামূলক বেশি আশাবাদী; তাদের পূর্বাভাস প্রায় ৭ শতাংশ। দেশীয় প্রতিষ্ঠান ড্রাগন ক্যাপিটালের মতো সংস্থার পূর্বাভাস আরও আশাবাদী, ১০ শতাংশ। তবে তাদের হিসাবেও ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৬ থেকে ২০ শতাংশ, জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি এবং বছরে ১২ শতাংশের বেশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দরকার।
এই সমীকরণে একটি দ্বিধা তৈরি হয়। ঋণ, ব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়াতে গিয়ে অর্থনীতি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হতে পারে, সম্পদের বুদ্বুদ তৈরি হতে পারে এবং খেলাপি ঋণ আবার বেড়ে যেতে পারে। ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ব্যাংকঋণ বছরে ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল; ২০০৭ সালে তা ৫০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে ২০০৮ ও ২০১১ সালে মূল্যস্ফীতি ১৮ শতাংশ ছাড়ায় এবং বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ জমে। ২০২৫ সালে ১৯ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে ১৫ শতাংশে তা সীমিত রেখে এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে চাইছে ভিয়েতনামের স্টেট ব্যাংক, যদিও সরকার আরও দ্রুত সম্প্রসারণ চাইছে।
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক মরিয়ম জে. শেরম্যান বলেন, প্রবৃদ্ধির পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারিত হবে প্রবৃদ্ধির গতি দিয়ে নয়, এর গুণগত মান দিয়ে।
ভিয়েতনামকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সহায়ক চালিকাশক্তিগুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ক্রমেই নির্ভর করবে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন, শক্তিশালী দেশীয় প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে আরও বেশি মূল্য সংযোজনের সক্ষমতার ওপর।
তিনি বিদেশি বিনিয়োগপ্রাপ্ত ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, ব্যাংকনির্ভর আর্থিক খাত এবং সরকারি বাজেটের বাইরে অবকাঠামো অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ২০৪৫ সালের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, তবে এর জন্য সরকারের প্রতিটি স্তরে সমন্বিত সংস্কার এবং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অবিচল অঙ্গীকার দরকার।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৫ সালে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৭.৮৩ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিশ্বব্যাংক দেশটিকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পুনঃশ্রেণিভুক্ত করে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য হ্যানয়ের। রেজোলিউশন ৬৮-তে বেসরকারি উদ্যোগ ও বিপুল অবকাঠামো ব্যয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- বিশেষত ইলেকট্রনিকস খাতে রপ্তানিতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রাধান্য রয়েছে। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট এবং মাঝারি আকারের কোম্পানির ঘাটতি রয়ে গেছে।
- যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ শুল্কে সম্মত হলেও চীন থেকে পণ্য অন্য দেশে পাঠানোর অভিযোগে ৪০ শতাংশ শুল্কের বিধান এবং সেকশন ৩০১-এর তদন্ত ভিয়েতনামকে বাণিজ্যনীতির ধাক্কার মুখে ফেলেছে।
- ২০৩০ সালের মধ্যে অবকাঠামো অর্থায়নে ভিয়েতনামের আনুমানিক ১৬০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার দরকার। তবে পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণ, সীমিত পুঁজিবাজার এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রবেশাধিকারের বাধা অর্থায়নকে জটিল করছে।
- শ্রমিকের ঘাটতি, দ্রুত বার্ধক্যমুখী জনসংখ্যা, জ্বালানি সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনা-দক্ষ কর্মীর অভাব মূল্য সংযোজনের সিঁড়ি বেয়ে ভিয়েতনামের ওপরে ওঠার পথে হুমকি।
- দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্তের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়ও বাড়ছে, যদিও মূল্যস্ফীতি ও পারিবারিক ঋণের কারণে ভোক্তারা আরও সতর্ক হচ্ছেন।
- ২০২৬ সালের স্বাধীন পূর্বাভাসগুলো ৬.২ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে, যা সরকারি ১০ শতাংশ লক্ষ্যের অনেক নিচে। এতে প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যকার টানাপোড়েন স্পষ্ট।






