রেড জোনের সতর্কতা
টোকিও — জাপানের বেসরকারি স্কুলগুলোর জন্য প্রমোশন অ্যান্ড মিউচুয়াল এইড করপোরেশনের (PMAC) ১৩ এপ্রিল প্রকাশিত উদ্বেগজনক নতুন হিসাব অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৩০% বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আর্থিকভাবে নাজুক অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে করা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সারা দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জুনিয়র কলেজ ও অন্যান্য স্কুল পরিচালনাকারী ২০৭টি শিক্ষা করপোরেশন আর্থিক সংকটে রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৩৩টি বেশি।
সূচিপত্র
PMAC সাধারণ সরকারি ভর্তুকি পাওয়া শিক্ষা করপোরেশনগুলোর আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট আয়-ব্যয়, বাহ্যিক ঋণ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ আটটি সূচকের ভিত্তিতে। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্যকে চারটি স্তরে ভাগ করে। আর্থিকভাবে কঠিন (ইয়েলো জোন) শ্রেণিতে থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৬টি বেড়ে ১৮১ হয়েছে, আর গুরুতর সংকটে (রেড জোন) থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাতটি বেড়ে ২৬ হয়েছে। এক দশকের মধ্যে এই দুই সংখ্যাই সর্বোচ্চ। আরও ১৭৬টি প্রতিষ্ঠান আগাম সতর্কতার পর্যায়ে রয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ছয়টি কম; স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ২৭৯টি, যা ২৬টি কম।
PMAC-এর এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান আর্থিক চাপের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া নয়, বরং ব্যয় বৃদ্ধির চাপ।
জাপানে ১৮ বছর বয়সীদের সংখ্যা ‘সাময়িকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে’, যা ইঙ্গিত করে যে জনমিতিক পরিবর্তনের চেয়ে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ই পরিস্থিতির অবনতির কারণ। ইউটিলিটি ও শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাকে আরও খারাপ করছে।
জনমিতিক ক্ষণগণনা
বর্তমানে আর্থিক চাপের প্রধান কারণ ব্যয় বৃদ্ধি হলেও পটভূমিতে জনমিতিক সংকট ঘনিয়ে আসছে। ২০৩৫ সালে ১৮ বছর বয়সীদের সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ক্লিফ’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়াবে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৩০% কম।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে প্যানেলটি কঠোর মূল্যায়ন দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে অনিবার্যভাবেই কার্যক্রম সংকুচিত করতে হবে অথবা (এই খাত থেকে) সরে যেতে হবে।
এই পূর্বাভাসে বর্তমান পরিচালন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮ বছর বয়সীদের সংখ্যা সাময়িকভাবে স্থিতিশীল হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে, কিন্তু সংস্কারের সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। আর্থিক চাপ শিগগিরই শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। PMAC-এর তথ্য ইঙ্গিত দেয়, উল্লেখযোগ্য হস্তক্ষেপ ছাড়া রেড জোনের প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
বৈশ্বিক ঢেউয়ের অংশ
জাপানের সংকট উচ্চশিক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থার বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রবণতার প্রতিফলন। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা হ্রাসের মুখে থাকা দেশগুলো বিশেষভাবে গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, ফলে শিক্ষার্থীসংখ্যার ওঠানামায় এ খাত বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। গত কয়েক বছরে জাপানে ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে এবং আরও ২৯টি অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। জনমিতিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের উচ্চশিক্ষা খাতে বর্তমানে এক বৈপরীত্যপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীসংখ্যা বেড়ে ২৫ কোটি ৪০ লাখ ছাড়ালেও অনেক উন্নত দেশে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও একীভূত হওয়ার প্রবণতা জোরালো হচ্ছে। এর পেছনে শুধু জনমিতিক কারণ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিতে বিনিয়োগের সুফল নিয়ে সংশয়, উচ্চশিক্ষা থেকে সরকারের অর্থায়ন অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অভিঘাত এবং অনলাইন শিক্ষার প্রসারও রয়েছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সাধারণত ভর্তি কমে যাওয়া, বিভিন্ন প্রোগ্রাম বন্ধ হওয়া এবং শাসনব্যবস্থার নানা সমস্যার মতো সতর্কসংকেত এসব প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় একই ধরনের চাপে এমন ‘জম্বি বিশ্ববিদ্যালয়’ তৈরি হয়েছে, যেগুলো পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতে না পারলেও সরকারি অর্থায়নে টিকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে গত পাঁচ বছরে আনুমানিক ৭৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে, আর অন্তত আরও ৮০টি প্রতিষ্ঠান আসন্ন বিপদের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসব বন্ধের অধিকাংশই জনসংখ্যা কমতে থাকা গ্রামীণ এলাকার বেসরকারি স্কুল।
টিউশন ফি নিয়ে দ্বিধা
আর্থিক সীমাবদ্ধতা পূর্ব এশিয়াজুড়ে টিউশন ফি নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে। জাপানে টিউশন ফি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করায় টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেছেন। ২০০৪ সালের সংস্কারের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করপোরেশনে রূপান্তরের পর মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব টিউশন ফি নির্ধারণ করে। জাপানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফি বাড়ানো হলে একই ধরনের ব্যয়চাপের মুখে থাকা অন্যান্য জাতীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও প্রভাবিত হতে পারে।
দীর্ঘদিন টিউশন ফি স্থগিত রাখার পরিণতি সম্পর্কে সতর্কতামূলক উদাহরণ দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ২০০৯ সালে ফি স্থগিত করার পর জাতীয় ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানই ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটে পড়ে। নিয়ম না মানলে আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে সরকার কার্যত ফি স্থগিত রাখতে বাধ্য করে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারি অর্থায়নের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রির প্রকৃত টিউশন ফি ২০০৮ সালের তুলনায় ২৩% কমে যায়, যার ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় ঘাটতি ২.১ ট্রিলিয়ন ওন পর্যন্ত পৌঁছায়।
সমালোচকদের যুক্তি, ফি বাড়ালে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার সীমিত হতে পারে। সমর্থকেরা বলেন, শিক্ষার মান ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বজায় রাখতে ফি বাড়ানো প্রয়োজন। এই বিতর্কে শিক্ষার সুযোগ সহজলভ্য রাখা ও প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার মধ্যে কঠিন ভারসাম্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। জাপানে শিক্ষাকর্মীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশের পর জনবল ব্যয় বৃদ্ধি বাজেটে আরও চাপ তৈরি করেছে। বৃহত্তর মূল্যস্ফীতির মধ্যে ইউটিলিটি ও উপকরণের ব্যয়ও বেড়েছে।
কাঠামোগত অনমনীয়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক জড়তা
বর্তমান সংকটে জাপানের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৯০-এর দশকের আর্থিক সংকটের সময়কার প্রবণতার প্রতিধ্বনি রয়েছে। ওই সময় নিয়ে গবেষণায় দেখা যায়, নতুন নীতিগত সমস্যার মুখে প্রতিষ্ঠানগুলো অনমনীয় হয়ে পড়ে এবং সংস্কার বিলম্বিত করে। অর্থ মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিকভাবে বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জটিল সম্পর্কের নেটওয়ার্ক বজায় রেখেছে, যার ফলে প্রয়োজনীয় সমন্বয় পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
এই কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা আজ উচ্চশিক্ষা খাতের জনমিতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর অসুবিধায় প্রকাশ পাচ্ছে। বর্তমান উচ্চশিক্ষা খাত একাডেমিক শিক্ষার মূল্য নিয়ে জনতুষ্টিবাদী সংশয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভিঘাত এবং পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। ঐকমত্য ও ধীরগতির পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া জাপানের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে প্রয়োজনীয় দ্রুত একীভবনের উপযোগী নাও হতে পারে।
একই ধরনের অনমনীয়তা সমান্তরাল সংকটে থাকা জাপানের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও দেখা যায়। আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবার শেষ ভরসা সরকারি হাসপাতালগুলো বর্তমানে শিক্ষা খাতের মতোই আর্থিক সংকটে রয়েছে। ২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ৯০% সরকারি হাসপাতাল লোকসানে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ২০২২ অর্থবছরে এই হার ছিল ৩০%-এর কম। উভয় খাতই সরকারি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশের ফলে জনবল ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জাতীয় ফি-তালিকার সীমাবদ্ধতায় আয় সংকোচনের সমস্যায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আংশিক স্বস্তি
দেশীয় শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে কিছু প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি ওসাকা প্রিফেকচারে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদনের ঢল বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উচ্চবিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এ বসন্তে আবেদন দ্বিগুণ হয়েছে, ফলে ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর ভর্তির আসন হয়নি।
ওসাকার বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নির্ধারিত আটটি স্কুলে জাপানি ভাষা শেখানোর বিস্তৃত ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ব্যবস্থাটি এখন সক্ষমতার সীমায় পৌঁছেছে। ওসাকা ওয়াকাবা হাইস্কুলে ২০টি আসনের জন্য ৪৩ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। অধ্যক্ষ শোইচি তাকাশিনা চাপের কথা তুলে ধরেন।
প্রতি বছর আসনের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আসে, আর জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের মতো ব্যবস্থা করে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন।
ঘাটতি পূরণে বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়গুলোও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করেছে। ওসাকা কুনেই জোগাকুইন সিনিয়র হাইস্কুল এ বসন্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ভর্তি বিভাগ চালু করেছে, যেখানে চীনের ১৬ জন আবেদনকারীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ওয়াইএমসিএ গাকুইন হাইস্কুল ছয় বছর আগে বহুভাষিক একটি কোর্স চালু করে। শিক্ষক রিকা শিবাহারা আর্থিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন।
নতুন কর্মী নিয়োগ ও বহুভাষিক শিক্ষাসামগ্রী তৈরি ব্যয়বহুল, আর বাস্তবতা হলো, টিউশন ফির মধ্যে এই ব্যয় যোগ করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।
এই উদ্যোগগুলো সম্ভাব্য আয়ের উৎসের ইঙ্গিত দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় পরিসরে এমন মডেল চালু করতে চাইলে ভাষা সহায়তার অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
১৯৯০-এর দশকের আর্থিক সংকট থেকে শিক্ষা
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে জাপানের আর্থিক সংকটের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য মডেল তুলে ধরে। ওই সময় সরকার অর্থনীতিতে নগদ অর্থ জুগিয়েছিল এবং সাময়িকভাবে সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে, লং-টার্ম ক্রেডিট ব্যাংককে জাতীয়করণ করা হয় এবং পরে বিক্রি করা হয়; প্রতিষ্ঠানটি আজকের শিনসেই ব্যাংকে পরিণত হয়। মূল পদ্ধতিতে তারল্য জোগানো, কার্যক্রমের দায়িত্ব নেওয়া এবং পুনরুদ্ধার বা অবসান নিয়ন্ত্রণ করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পুঁজিবাজার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আকিহিরো ওয়ানি বলেন, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপেও এই ব্যবস্থার প্রভাব ছিল।
মূল ধারণাটি ছিল, আর্থিক সংকটে সরকার তারল্য জোগাবে, কোম্পানির দায়িত্ব নেবে, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং প্রয়োজন হলে অবসান ঘটাবে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বা জাতীয় স্বার্থের জন্য অপরিহার্য বিবেচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই দর্শন প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বর্তমান শিক্ষা সংকটের পরিসর ১৯৯০-এর দশকের ব্যাংকিং খাতের ব্যর্থতার চেয়ে ভিন্ন। শত শত প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সর্বাত্মক সহায়তার বদলে আঞ্চলিক গুরুত্ব বা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতার ভিত্তিতে বাছাই করে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাই বেশি।
আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সাদৃশ্য
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গ্রাস করা আর্থিক সংকট জাপানের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার সমান্তরাল অবনতির প্রতিফলন, যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তুলনা টানা যায়। জাতীয় জনবল কর্তৃপক্ষের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশের পর উভয় খাতেই জনবল ব্যয় বেড়েছে; পাশাপাশি সরঞ্জাম, ইউটিলিটি ও চুক্তিভিত্তিক পরিষেবার ব্যয়ও মূল্যস্ফীতির কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় খাতই জাতীয় সরকারের নির্ধারিত ফি-তালিকা অনুযায়ী চলে, ফলে নিজেরা আয় সমন্বয়ের সুযোগ সীমিত।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো সরকারি হাসপাতালও অতিরিক্ত কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রায়ই স্থানীয় পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়, যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করে। জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক বেতনব্যবস্থা জনবল ব্যয় বাড়িয়ে তোলে। আর্থিক ফলাফলের দিকে মনোযোগ কমিয়ে দেয় নীতিনির্ভর অলাভজনক পরিষেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।
উভয় খাতেই একীভূতকরণ প্রধান কৌশল হিসেবে উঠে এসেছে। ছোট ও মাঝারি আকারের সরকারি হাসপাতালগুলো আংশিকভাবে শয্যা বন্ধ, শয্যাসংখ্যা কমানো এবং শুধু বহির্বিভাগভিত্তিক ক্লিনিকে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশজুড়ে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ামানাশি, আকিতা, ফুকুইসহ অন্যান্য প্রিফেকচারের পৌর হাসপাতালগুলো এমন ব্যবস্থা নিয়েছে। একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একীভবনের প্রত্যাশা করছে, বিশেষ করে প্রাদেশিক এলাকায় যেখানে জনসংখ্যা হ্রাস সবচেয়ে স্পষ্ট। এসব একীভবনের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ ও কর্মসংস্থান নিয়ে জটিল অংশীজন-আলোচনা সামাল দিতে স্থানীয় নেতৃত্বের অঙ্গীকারের ওপর।
আগেভাগে পদক্ষেপের আহ্বান মন্ত্রণালয়ের
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেল কঠোর সুপারিশ দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে, দেরি হলে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য পরিণতি আরও খারাপ হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পারবে না, তাদের ২০৩৫ সালে জনমিতিক সংকটের চূড়ান্ত পর্যায় আসা পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা না করে আগেভাগে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত। এতে সুশৃঙ্খলভাবে পরিবর্তন আনার সুযোগ হবে, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া যাবে এবং টেকসই নয় এমন ঋণ জমে ওঠা ঠেকানো সম্ভব হবে।
জাপানের প্রায় ৮০% কলেজশিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এসব প্রতিষ্ঠান শিশুযত্ন, কল্যাণসহ বয়স্ক জনসংখ্যার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নানা ক্ষেত্রে অপরিহার্য প্রশিক্ষণ দেয়। সামগ্রিক শিক্ষার্থীসংখ্যা কমলেও এসব প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেলে আঞ্চলিক পর্যায়ে দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে। প্যানেলের সুপারিশে বাস্তববাদী এই উপলব্ধি প্রতিফলিত হয়েছে যে শিক্ষার মান বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ধরে রাখা শিক্ষার্থী বা বৃহত্তর অর্থনীতি, কারও জন্যই উপকারী নয়।
আগামী বছরগুলোতে নতুন জনমিতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার পরীক্ষা হবে। ইতিমধ্যে ২৬টি করপোরেশন রেড জোনে রয়েছে এবং নিজেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না; আরও ১৮১টি রয়েছে ইয়েলো জোনে। স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। সরকারি ভর্তুকি কিছু প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, তবে কলেজশিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০% কমে যাওয়ার ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির সঙ্গে কাঠামোগত সংস্কার অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে।
এক নজরে
- জাপানের ৬৬২টি বেসরকারি শিক্ষা করপোরেশনের প্রায় ৩০% আর্থিক সংকটে রয়েছে; এর মধ্যে ২৬টি গুরুতর সংকটে এবং ১৮১টি আর্থিকভাবে কঠিন অবস্থায় রয়েছে
- জনবল ও ইউটিলিটি ব্যয় বৃদ্ধি সংকটের প্রধান কারণ; তবে ১৮ বছর বয়সীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ২০৩৫ সাল থেকে চাপ আরও বাড়বে
- কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০৪০ সালের মধ্যে কমে ৪ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩০% কম
- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে এবং ২৯টি একীভূত হয়েছে; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করা বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ এটি
- যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে পারবে না, সেগুলোকে আগেভাগে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্যানেল
- আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি জনমিতিক চাপ কিছুটা কমাতে পারে, তবে এর জন্য অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন
- জাপানের সরকারি হাসপাতাল সংকটের সঙ্গে সাদৃশ্য থেকে বোঝা যায়, একীভূতকরণ ও পরিষেবা হ্রাস ক্রমে আরও সাধারণ হয়ে উঠবে






