২৩৯ বিলিয়ন ডলারের উত্থান: ইটিএফ বাজারের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের পথে সিউল
দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) বাজার এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে। ছয় বছর তাইওয়ানের পেছনে থাকার পর কোরীয় ইটিএফের সম্পদ বেড়ে ২৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছে বাজারটি। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রযুক্তিনির্ভর এশীয় দুই বাজারের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলারে।
সূচিপত্র
- ২৩৯ বিলিয়ন ডলারের উত্থান: ইটিএফ বাজারের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের পথে সিউল
- সরকারি নীতি ও করপোরেট সংস্কারে জোরালো উত্থান
- সেমিকন্ডাক্টরের সুপারসাইকেল ও এআইয়ের চাহিদা
- সক্রিয় ব্যবস্থাপনা ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে কোরিয়ার বাজার
- তাইওয়ানের উচ্চ লভ্যাংশনির্ভরতার চ্যালেঞ্জ
- বদলে যাচ্ছে এশিয়া প্যাসিফিকের ইটিএফ বাজারচিত্র
- মূল কথা
এই উত্থানের গতি বাজার পর্যবেক্ষকদের বিস্মিত করেছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে কোরীয় ইটিএফে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। তাইওয়ানের সাপ্তাহিক গড় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় এ পরিমাণ প্রায় চার গুণ। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক রেবেকা সিনের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর কোরীয় ইটিএফের সম্পদে যোগ হওয়া প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ এসেছে নতুন বিনিয়োগ থেকে, বাজারদর বৃদ্ধির কারণে নয়। এর বিপরীতে, তাইওয়ানের বাজারে সম্পদ বৃদ্ধির মাত্র ৪১ শতাংশ এসেছে নতুন অর্থ থেকে। অর্থাৎ, সেখানে দাম বাড়ার ওপর নির্ভরতা বেশি।
ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক রেবেকা সিন এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য সময়সীমা জানিয়েছেন। এ পূর্বাভাসের গুরুত্ব নিছক পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি, কারণ ইটিএফের সম্পদ খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি নির্দেশক।
মে মাসের মধ্যে ইটিএফের সম্পদের হিসাবে দক্ষিণ কোরিয়া তাইওয়ানকে ছাড়িয়ে যাবে, যা কোরিয়া ডিসকাউন্ট আরও কমার ইঙ্গিত দেবে।
এই পূর্বাভাসের পেছনে সাময়িক লেনদেনের প্রবণতার চেয়ে কোরিয়ার পুঁজিবাজারে কাঠামোগত উন্নতিই প্রতিফলিত হয়েছে।
সরকারি নীতি ও করপোরেট সংস্কারে জোরালো উত্থান
কোরীয় ইটিএফের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে শুধু অনুকূল বাজার পরিস্থিতি কাজ করছে না। দেশীয় পুঁজিবাজার চাঙা করতে এবং দীর্ঘদিনের মূল্যায়ন-সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে সিউল সরকারনেতৃত্বাধীন জোরালো নীতি বাস্তবায়ন করেছে। বিশ্ববাজারের সমতুল্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রক স্বচ্ছতার অভাব ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে কোরীয় শেয়ারের কম মূল্যায়নকে "কোরিয়া ডিসকাউন্ট" বলা হয়। এসব কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক সংস্কার আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে।
স্যামসাং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের পণ্য কৌশল ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান জেসন ইউ এই পরিবর্তনে খুচরা বিনিয়োগকারীদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন।
ইটিএফে খুচরা বিনিয়োগকারীদের জোরালো বিনিয়োগ বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে। আগে যেসব পণ্যের অনুমতি ছিল না, সেগুলো চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা কোরিয়া ডিসকাউন্ট আরও কমাতে সহায়তা করবে।
ইউ বলেন, আগে নিষিদ্ধ পণ্য অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করা নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন বাজারের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিশন শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার জোরদার, করপোরেট স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কোরীয় অর্থনীতিতে প্রভাবশালী অস্বচ্ছ "চেবোল" গোষ্ঠীগুলোর কাঠামো নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কয়েক দশকের অভিযোগের জবাব দিচ্ছে এসব পদক্ষেপ। সংস্কারগুলো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোরীয় শেয়ার ও বৈশ্বিক সমতুল্য শেয়ারের মূল্যায়নের ব্যবধান কমতে শুরু করেছে। এতে একটি ইতিবাচক চক্র তৈরি হয়েছে: দাম বাড়লে ইটিএফে আরও বিনিয়োগ আসছে।
সেমিকন্ডাক্টরের সুপারসাইকেল ও এআইয়ের চাহিদা
কাঠামোগত সংস্কার ভিত্তি জোগালেও কোরিয়ার ইটিএফ উত্থানের তাৎক্ষণিক চালিকা শক্তি বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লব। ডেটা সেন্টার শিল্পে চলমান মেমোরি চিপের সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে দেশটি। এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য অপরিহার্য উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) ও উন্নত ডিআরএএম প্রযুক্তিতে প্রভাবশালী অবস্থানে আছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স।
গত এক বছরে এই সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্টগুলোর শেয়ার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির তুলনায় অনেক ভালো করেছে, যার ফলে মূল সূচক কসপি উল্লেখযোগ্য উচ্চতায় উঠেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বে অন্যতম সেরা ৭৬ শতাংশ উত্থানের পর ২০২৬ সালের শুরুতে সূচকটি আরও ২২ শতাংশ বেড়েছে। এই পারফরম্যান্সের ফলে গত মাসে মোট বাজারমূল্যে কোরিয়ার শেয়ারবাজার জার্মানিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ দশ বাজারের একটিতে পরিণত হয়েছে। তুলনায়, তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৯.৮ শতাংশ বেড়ে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে।
এআই-চালিত চাহিদা এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাজন তৈরি করেছে। তাইওয়ানের টিএসএমসি লজিক চিপ উৎপাদন ও ফাউন্ড্রি সেবায় এগিয়ে থাকলেও, মেমোরি খাতে প্রভাবশালী কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এ খাতেই সংকট সবচেয়ে তীব্র হয়েছে। এ অবস্থান বিনিয়োগকারীদের এআই হার্ডওয়্যার অবকাঠামো সম্প্রসারণে সরাসরি অংশ নিতে কোরীয় ইক্যুইটি ইটিএফে অর্থ ঢালতে উৎসাহিত করেছে। তবে অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। শুধু এ মাসেই দুইবার কসপি এক দিনের মধ্যে ৪ শতাংশের বেশি পড়েছে। এআই খাতে মূলধন ব্যয় কতটা টেকসই এবং মেমোরি খাতে অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি আছে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
সক্রিয় ব্যবস্থাপনা ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে কোরিয়ার বাজার
সক্রিয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ইটিএফ ব্যবস্থা বৈশ্বিক সমতুল্য বাজারগুলো থেকে আলাদা হয়ে উঠেছে। জে.পি. মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, কোরিয়ায় সক্রিয়ভাবে পরিচালিত ইটিএফ মোট ইটিএফ সম্পদের প্রায় ৩১ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে মোট বিনিয়োগ প্রবাহের ৩৩ শতাংশ এসব পণ্যে এসেছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এ হার কমেছে; সে বছর সক্রিয় কৌশলে ৮০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ এসেছিল।
জে.পি. মরগানের এশিয়া প্যাসিফিক ইটিএফ বিশেষজ্ঞ নিক কিম বলেন, ২০২২ সালের পর কোরিয়ায় সক্রিয় ইটিএফের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
আমরা দেখছি, অনেক কোরীয় ইটিএফ ইস্যুকারী বিদেশি সম্পদ ও সক্রিয় ব্যবস্থাপনাভিত্তিক কৌশলে আরও বেশি ইটিএফ চালু করছেন।
কিমের ব্যাখ্যা, সক্রিয় ইটিএফে এখন প্রায় ৮০.৪ ট্রিলিয়ন ওন (৫৭.২ বিলিয়ন ডলার) সম্পদ রয়েছে, যা মোট ইটিএফ সম্পদের ৩৪.৭ শতাংশ। তাইওয়ানের বিনিয়োগকারীদের তুলনায় কোরিয়ার খুচরা বিনিয়োগকারীদের আচরণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তারা কৌশলগতভাবে লিভারেজড ও ইনভার্স ইটিএফ ব্যবহার করেন বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে। এ পণ্যগুলো মোট ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের (এইউএম) ৯ শতাংশ। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং সোনার মতো পণ্যের দাম অনুসরণকারী থিমভিত্তিক ইটিএফ জনপ্রিয় হয়েছে।
সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে থিমভিত্তিক বিনিয়োগের ভূমিকা তুলে ধরেছেন নিক কিম।
থিমভিত্তিক এবং বিদেশি বাজারকেন্দ্রিক ইটিএফ এই প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। এআই ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয় বিনিয়োগের থিম হয়ে উঠেছে, আর লভ্যাংশভিত্তিক থিমের আবেদন কখনো কমে না।
খুচরা বিনিয়োগকারীদের নেতৃত্বে এই সম্প্রসারণ কোরিয়ার বৃহত্তর সম্পদ ব্যবস্থাপনা শিল্পে কাঠামোগত প্রভাব ফেলেছে। গত দুই বছরে মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে ইটিএফের অংশ ৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫.৫ শতাংশ হয়েছে, ফলে প্রচলিত বিনিয়োগ ট্রাস্টের প্রাধান্য ক্রমে কমছে। শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, সামগ্রিকভাবে কম ফি এবং তরুণ বিনিয়োগকারীদের পছন্দের ডিজিটাল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে ইটিএফ সহজে যুক্ত করার সুবিধা এ পরিবর্তনের কারণ।
তাইওয়ানের উচ্চ লভ্যাংশনির্ভরতার চ্যালেঞ্জ
বৈচিত্র্যময় সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে কোরিয়ার উত্থান ঘটলেও, আয়কেন্দ্রিক বিনিয়োগে অতিরিক্ত মনোযোগের কারণে তাইওয়ানের ইটিএফ বাজার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মুখে। এশিয়ার বৃহত্তম বন্ড ইটিএফ বাজার হয়ে উঠেছে তাইওয়ান। ২০২৪ সালের শেষ দিকে স্থির-আয়ের পণ্যের সম্পদ দাঁড়ায় ৩.০৯ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলার (৯৬ বিলিয়ন ডলার), যা মোট ইটিএফ সম্পদের ৪৮ শতাংশ। উচ্চ লভ্যাংশ এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের খোঁজে থাকা খুচরা বিনিয়োগকারীরা এ বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করেছেন।
স্টেট স্ট্রিট গ্লোবাল অ্যাডভাইজরসের এশিয়া প্যাসিফিক ইটিএফ সমাধান বিভাগের প্রধান আহমেদ ইব্রাহিম খুচরা বিনিয়োগকারীদের নেতৃত্বে বাজারের সম্প্রসারণের বর্ণনা দিয়েছেন।
খুচরা বিনিয়োগকারীরা বাজারকে দারুণভাবে চাঙা করে রেখেছেন। মোট বিনিয়োগকারীর ক্রমবর্ধমান অংশ সম্পদ সঞ্চয় ও আয় তৈরিতে এ বিনিয়োগমাধ্যম ব্যবহার করায় ইটিএফের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে আমাদের ধারণা।
এই কেন্দ্রীভবন বাজারটির শক্তি যেমন, তেমনি দুর্বলতাও। গত বছর তাইওয়ানের ইটিএফ সম্পদ ৫৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৯৬.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার হয়েছে, অর্থাৎ নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ৫৪ লাখ ২০ হাজার বিনিয়োগকারী। তবে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগে বাজারের অতিরিক্ত ঝোঁকের কারণে সুদের হারের ওঠানামা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের রেবেকা সিনের ভাষ্য, বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়া উচ্চ লভ্যাংশের বিনিয়োগের বাইরে বিকল্প খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে তাইওয়ান। পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে তাইওয়ানের ফিন্যান্সিয়াল সুপারভাইজরি কমিশন সক্রিয় ইটিএফ ও প্যাসিভ মাল্টি-অ্যাসেট ইটিএফ অনুমোদন করেছে। বাজারের অংশীজনদের ধারণা, ২০২৫ সালে তাইওয়ানে অন্তত পাঁচটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সক্রিয় ইটিএফ চালু করবে। এতে প্যাসিভ পণ্যের কাছে হারানো বাজারের অংশ কিছুটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রবৃদ্ধির গঠনে দুই বাজারের পার্থক্য তাৎপর্যপূর্ণ। কোরিয়ার প্রবৃদ্ধির ৫৭ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ থেকে আসা বাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের টেকসই অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দেয়। তাইওয়ানে এ হার ৪১ শতাংশ, যা সম্মানজনক হলেও নতুন অর্থের চেয়ে মূল্যায়ন বৃদ্ধির ওপর বেশি নির্ভরতার আভাস দেয়। এআই বাণিজ্য ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়লে, সংশোধনের সময় কোন বাজার বেশি স্থিতিস্থাপক থাকবে তা এ পার্থক্যই নির্ধারণ করতে পারে।
বদলে যাচ্ছে এশিয়া প্যাসিফিকের ইটিএফ বাজারচিত্র
কোরিয়া-তাইওয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এশিয়া প্যাসিফিকের ইটিএফ বাজারে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পটভূমিতে চলছে। স্টেট স্ট্রিটের পূর্বাভাস, ২০২৫ সালে এ অঞ্চলে সম্পদ ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে, যা ২.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করবে। অঞ্চলটির বৃহত্তম ইটিএফ বাজার হিসেবে জাপানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে চীন। রাষ্ট্র-সমর্থিত ক্রয় এবং মিউচুয়াল ফান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরে ১০ শতাংশ করে শেয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর নিয়ন্ত্রক নির্দেশনার কারণে সেখানে সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা।
কোরিয়ার উত্থান ইতিমধ্যে আঞ্চলিক অবস্থানক্রম বদলে দিয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে এশিয়া প্যাসিফিকের চতুর্থ বৃহত্তম বাজার হয়েছে কোরিয়া; এর ওপরে আছে শুধু জাপান, চীন ও তাইওয়ান। সক্রিয় ইটিএফের উদ্ভাবন অব্যাহত থাকায় এবং বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায়, বছর শেষ হওয়ার আগেই তৃতীয় স্থানের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে দেশটি।
বৈশ্বিক প্রবণতাও এ আঞ্চলিক সম্প্রসারণকে সমর্থন করছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ইটিএফ শিল্পে রেকর্ড ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে, আর মোট সম্পদ পৌঁছেছে ১৪.৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। মোট এইউএমের মাত্র ৯ শতাংশ হলেও সক্রিয় কৌশলে এসেছে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহের ২৭ শতাংশ। এতে ইটিএফ কাঠামোর মধ্যে কৌশলগত ব্যবস্থাপনার দিকে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সক্রিয় ব্যবস্থাপনার এই বৈশ্বিক চাহিদা কোরিয়ার বিদ্যমান বাজার-শক্তির সঙ্গে সরাসরি মেলে।
তবে সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিতরণ ফি কাঠামোর সম্ভাব্য পরিবর্তনে ইটিএফের ব্যয় অনুপাতের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তি শেয়ারের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা খুচরা বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যেরও পরীক্ষা নেবে। বাজার পর্যবেক্ষকদের সতর্কবার্তা, মূলধন ব্যয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় বাড়ায় এআই-নির্ভর বাণিজ্য চাপের মুখে পড়েছে। কসপিতে সাম্প্রতিক এক দিনের বড় ওঠানামা সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোরিয়ার করপোরেট সুশাসনে কাঠামোগত উন্নতি এবং এ অঞ্চলে ইটিএফ গ্রহণের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির কারণে, চক্রাকার সংশোধনও প্রবণতা উল্টে দেওয়ার বদলে সাময়িক ধাক্কা হতে পারে।
মূল কথা
- দক্ষিণ কোরিয়ার ইটিএফ সম্পদ ২৩৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তাইওয়ানের সঙ্গে ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে কোরিয়া তাইওয়ানকে ছাড়িয়ে যাবে।
- কোরীয় ইটিএফে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসছে, যা তাইওয়ানের ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের চার গুণ। কোরিয়ার সম্পদ বৃদ্ধির ৫৭ শতাংশ এসেছে নতুন বিনিয়োগ থেকে, তাইওয়ানে এ হার ৪১ শতাংশ।
- "কোরিয়া ডিসকাউন্ট" দূর করতে সরকারনেতৃত্বাধীন বাজার সংস্কার এবং এআইয়ের চাহিদায় সেমিকন্ডাক্টরের সুপারসাইকেল থেকে আসা মুনাফা এই উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।
- মোট সম্পদের ৩১ শতাংশ সক্রিয় ইটিএফ হওয়ায় সক্রিয় ইটিএফ গ্রহণে কোরিয়া বিশ্বে শীর্ষে। খুচরা বিনিয়োগকারীরা নজিরবিহীন হারে লিভারেজড পণ্য ব্যবহার করছেন।
- তাইওয়ানের বাজারে উচ্চ লভ্যাংশ ও বন্ড ইটিএফের প্রাধান্য রয়েছে। পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সক্রিয় কৌশল অনুমোদন করেছে।
- ২০২৫ সালে এশিয়া প্যাসিফিকের ইটিএফ বাজার ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এ অঞ্চলের বৃহত্তম বাজার হিসেবে চীন জাপানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।






