কূটনৈতিক উত্তেজনায় পর্যটনে ধাক্কা, জাপানে চীনা পর্যটক কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ

পড়তে 13 মিনিট
কূটনৈতিক উত্তেজনায় পর্যটনে ধাক্কা, জাপানে চীনা পর্যটক কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ

পর্যটকের সংখ্যায় বড় পতন

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাপানে চীনা পর্যটকের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে। জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ডিসেম্বরে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার পর্যটক জাপান সফর করেন। ঐতিহ্যগতভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত দেশটির জন্য এটি উল্লেখযোগ্য পতন। তাইওয়ান আক্রমণের চেষ্টা করলে জাপান সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দেওয়ার পর বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দেয়। এই পতন তারই পরবর্তী ঘটনা।

সূচিপত্র
  1. পর্যটকের সংখ্যায় বড় পতন
  2. কূটনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত
  3. চীনের পাল্টা ব্যবস্থা
  4. অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়া প্রভাব
  5. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব
  6. তাইওয়ান প্রশ্ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
  7. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
  8. তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক প্রভাব
  9. সামনে কী: সমাধানের সম্ভাব্য পথ
  10. মূল কথা

চীনা পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও জাপানের সামগ্রিক পর্যটনশিল্পের স্থিতিস্থাপকতা চোখে পড়ার মতো। ২০২৫ সালে দেশটি রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানায়, যা ২০২৪ সালে গড়া আগের ৩ কোটি ৭০ লাখের রেকর্ডকে অনায়াসে ছাড়িয়ে যায়। চীনা পর্যটক কমে যাওয়ার প্রভাবকে খাটো করে দেখিয়ে জাপানের পরিবহনমন্ত্রী ইয়াসুশি কানেকো বলেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বার্ষিক পর্যটকের সংখ্যা ৪ কোটি ছাড়ানোই বড় অর্জন।

ডিসেম্বরে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে, তবে সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিতে অন্যান্য দেশ ও অঞ্চল থেকে যথেষ্টসংখ্যক মানুষ এসেছেন," বলেন কানেকো। "চীনা পর্যটকেরা যত দ্রুত সম্ভব আবার আমাদের কাছে ফিরে আসবেন, সেটি আমরা আশা করি এবং নিশ্চিত করতে চাই।

চীনা পর্যটকেরা জাপানের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখেন বলে এ পতন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে প্রায় ৭৫ লাখ চীনা পর্যটক জাপানে যান, যা মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। চীনা পর্যটকেরা বেশি খরচও করেন। শুধু ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকেই তারা সম্মিলিতভাবে ৩৭০ কোটি ডলার খরচ করেন; গড়ে একজন চীনা পর্যটকের ব্যয় অন্য দেশের পর্যটকদের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন

কূটনৈতিক বিরোধের সূত্রপাত

বর্তমান সংকটের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বরের সংসদ অধিবেশনে। চীনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত কট্টরপন্থী রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, চীন তাইওয়ানে হামলা চালালে জাপান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। তার জবাব তাইওয়ান বিষয়ে জাপানের প্রচলিত কৌশলগত অস্পষ্টতার অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

সংসদে তাকাইচি বলেন, "যদি যুদ্ধজাহাজ আসে এবং শক্তি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে যেভাবেই বিবেচনা করা হোক, সেটি জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি হতে পারে।" বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ "অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি" জাপানের ২০১৫ সালের নিরাপত্তা আইনের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি পরিভাষা। কোনো মিত্রের ওপর সশস্ত্র হামলা দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে এই আইন জাপানকে সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অনুমতি দেয়।

তাকাইচির মন্তব্যের কয়েক সপ্তাহ আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় এপেক সম্মেলনে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। দুই নেতা সেখানে "গঠনমূলক ও স্থিতিশীল" সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই কূটনৈতিক সৌজন্যের সঙ্গে তাকাইচির পরবর্তী সংসদীয় মন্তব্যের তীব্র বৈপরীত্য বেইজিংয়ের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়।

চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও কঠোর। বেইজিং জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তাকাইচির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে চীন জাপানের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক খাতকে লক্ষ্য করে একের পর এক পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করে।

চীনের ওসাকায় কনসাল জেনারেল শুয়ে জিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তাকাইচির মন্তব্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন পুনরায় শেয়ার করেন। সঙ্গে তিনি লেখেন, "যে নোংরা মাথা নিজে থেকে ঢুকে পড়ে, সেটিকে কেটে ফেলতে হবে।" পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও জাপানি কর্মকর্তারা তীব্র সমালোচনা করেন এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানান।

বিজ্ঞাপন

চীনের পাল্টা ব্যবস্থা

তাকাইচির মন্তব্যের জবাবে বেইজিংয়ের পদক্ষেপ ছিল বহুমুখী। চীনের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন খাতকে লক্ষ্য করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে পর্যটনে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের জাপান সফর না করার সতর্কতা জারি করে। দূতাবাসের বিবৃতিতে তাইওয়ান নিয়ে "প্রকাশ্যে উসকানিমূলক মন্তব্যের" কথা বলা হয়। এতে "জনগণের মধ্যে বিনিময়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে" এবং "জাপানে চীনা নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও জীবনের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে" বলে দাবি করা হয়।

পর্যটনবিষয়ক সতর্কতার পাশাপাশি চীনা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জাপানে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি থাকা ১ লাখেরও বেশি চীনা শিক্ষার্থী এতে প্রভাবিত হন। জাপানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখতে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাবিনিময় নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ে সাংস্কৃতিক বিনিময়েও। জনপ্রিয় অন্তত দুটি জাপানি চলচ্চিত্র—"ক্রেয়ন শিনচ্যান দ্য মুভি: সুপার হট! দ্য স্পাইসি কাসুকাবে ড্যান্সার্স" এবং "সেলস অ্যাট ওয়ার্ক!"—চীনে মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পরিবেশকেরা এই বিলম্বের কারণ হিসেবে "দেশীয় দর্শকদের মনোভাবের" কথা বলেছেন। একই সঙ্গে জাপানি অ্যানিমেশন হিট "ডেমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি ক্যাসল"-এর টিকিট বিক্রি কমার কথাও জানানো হয়।

এয়ার চায়না, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না ইস্টার্নসহ চীনের বড় বিমান সংস্থাগুলো জাপানগামী ফ্লাইটের টিকিটের পুরো অর্থ ফেরতের সুযোগ দেয়, যা পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরে। বিমান চলাচল খাতের বিশ্লেষকেরা জানান, ভ্রমণ সতর্কতা জারির পর চীন থেকে জাপানগামী প্রায় ৫ লাখ টিকিট বাতিল হয়। এতে বিমান সংস্থা, হোটেল এবং বৃহত্তর পর্যটন খাত বড় ধাক্কা খায়।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়া প্রভাব

কূটনৈতিক উত্তেজনার দ্রুত প্রভাব পড়ে আর্থিক বাজারে। ভ্রমণ সতর্কতার পর পর্যটন ও খুচরা ব্যবসাসংশ্লিষ্ট জাপানি শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মিতসুকোশি ও ইসেতান ডিপার্টমেন্ট স্টোর চেইনের মূল প্রতিষ্ঠানের শেয়ার প্রায় ১২ শতাংশ পড়ে যায়। প্রসাধনসামগ্রীর বৃহৎ প্রতিষ্ঠান শিসেইদোসহ অন্যান্য খুচরা ব্র্যান্ডের শেয়ারের দরও দ্রুত কমে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক কার্যক্রম রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানও এর প্রভাব এড়াতে পারেনি। বৈশ্বিক ফ্যাশন চেইন ইউনিকলোর মালিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ৫ শতাংশের বেশি কমে বন্ধ হয়। জাপান এয়ারলাইনস ও এএনএ হোল্ডিংসের শেয়ারদরও কমে। টোকিও ডিজনি রিসোর্ট পরিচালনাকারী ওরিয়েন্টাল ল্যান্ডের শেয়ারদর দিন শেষে ৫.৮ শতাংশ কমে যায়, যা চীনা পর্যটকদের ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রতিফলিত করে।

পর্যটনের বাইরেও অর্থনৈতিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রক্রিয়াজাত তেজস্ক্রিয় পানি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে চীন জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানি স্থগিত করে। আনুষ্ঠানিকভাবে একে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বলা হলেও অনেকের ধারণা, এটি জাপানের বিরুদ্ধে চীনের বৃহত্তর পাল্টা পদক্ষেপের অংশ। আগের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পর সবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করা জাপানের মৎস্য খাতের জন্য এ স্থগিতাদেশ বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

জাপানের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত, তবে দৃঢ়। চীনে বসবাসরত প্রায় ১ লাখ জাপানি নাগরিককে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন, জনাকীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় রীতিনীতি মেনে চলার বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয় জাপানি কর্তৃপক্ষ। চীনে জাপানের দূতাবাস নাগরিকদের উদ্দেশে নির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করে: "আশপাশের বিষয়ে সতর্ক থাকুন এবং যতটা সম্ভব এমন চত্বর এড়িয়ে চলুন যেখানে অনেক মানুষ জড়ো হন, কিংবা এমন জায়গা যেখানে বহু জাপানি নাগরিকের যাতায়াত আছে বলে শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"

জাপানি কর্মকর্তারা দেশটিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে চীনের বর্ণনারও বিরোধিতা করেন। চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জাপানের প্রতিনিধিরা ভ্রমণ সতর্কতা জারির যৌক্তিকতা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, "জাপানের অভ্যন্তরে জনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি ঘটেনি" এবং পরিস্থিতির উত্তেজনা কমাতে চীনকে "উপযুক্ত পদক্ষেপ" নিতে আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব

চীন-জাপান সম্পর্কের বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান উত্তেজনা বুঝতে হবে। দুই দেশের ইতিহাস জটিল; তাতে সহযোগিতা ও সংঘাত, দুই পর্বই রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনে জাপানের নৃশংস সামরিক অভিযান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এখনো স্পর্শকাতর বিষয়। কূটনৈতিক বিরোধের সময় ঐতিহাসিক ক্ষোভ প্রায়ই সামনে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, জাপান ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে এবং বেপরোয়া ঝুঁকি নিলে তাকে "চূর্ণবিচূর্ণ পরাজয়ের" মুখে পড়তে হবে।

তাইওয়ান দুই দেশের সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের জায়গা। জাপানের সবচেয়ে পশ্চিমের দ্বীপ ইয়োনাগুনি থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তাইওয়ান দেশটির নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাইওয়ান প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ; জাপানের সম্পদনির্ভর অর্থনীতির জন্য জরুরি নৌপথও এর অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া তাইওয়ানে প্রায় ২০ হাজার জাপানি নাগরিক বসবাস করেন, যা দ্বীপটির ভবিষ্যতের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।

তাইওয়ান বিষয়ে জাপানের সরকারি অবস্থান ঐতিহ্যগতভাবে "কৌশলগত অস্পষ্টতার"। তাইপের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক হলেও উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক বজায় রেখে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের এক চীন নীতিকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। এ পদ্ধতিতে বেইজিংয়ের ভূখণ্ডগত দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করেই জাপান তাইওয়ানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করতে পেরেছে। তাকাইচির পরামর্শদাতা শিনজো আবেসহ আগের প্রধানমন্ত্রীরা জাপান তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে—এ কথা সরাসরি বলা এড়িয়ে গেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাকাইচির মন্তব্য এ পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। জাপানের কান্দা ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষ প্রভাষক জেফরি জে. হল বলেন, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই মনে করে আসছেন, তাইওয়ান সংঘাতে জাপান ভূমিকা রাখবে; তবে এত দিন দেশটির নেতারা তা সরাসরি বলা এড়িয়ে গেছেন। তার মতে, কৌশলগত অস্পষ্টতা "চীনকে মুখরক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে, যদিও চীন সরকার সম্ভবত আগেই আশা করেছিল যে তাইওয়ান সংঘাতে জাপান এমন অবস্থানই নেবে।"

বিজ্ঞাপন

তাইওয়ান প্রশ্ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

১৯৪৯ সাল থেকে তাইওয়ান স্বশাসিত। তবে বেইজিং একে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রদেশ মনে করে, যা শেষ পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগ করেও চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণ করতে হবে। পুনরেকত্রীকরণে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা চীন কখনো নাকচ করেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে; এর মধ্যে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে নিয়মিত অনুপ্রবেশ রয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর এ প্রশ্ন নতুন করে জরুরি হয়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের অনেকেই ঘটনাটিকে ছোট প্রতিবেশীর ভূখণ্ড দখলে বড় শক্তির চেষ্টা হিসেবে দেখেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আঞ্চলিক মিত্রদের নিজেদের নিরাপত্তা অবস্থান নতুন করে বিবেচনায় নিতে বাধ্য করেছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার জবাবে জাপান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে এবং পূর্ব চীন সাগরের জনবসতিহীন সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে প্রান্তিক দ্বীপগুলো রক্ষায় ব্যবস্থা জোরদার করেছে দেশটি। দ্বীপগুলো জাপানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে, তবে চীনও এগুলোর দাবি করে এবং দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জ নামে ডাকে। ফলে দ্বীপগুলো দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার স্থায়ী উৎস হয়ে আছে।

এ কৌশলগত স্বার্থ ভূখণ্ডগত বিরোধের চেয়েও বিস্তৃত। ১৯৬০ সালের যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা চুক্তি অনুযায়ী, জাপানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী পূর্ব এশিয়াজুড়ে কার্যক্রম চালাতে পারে। এর অর্থ, তাইওয়ান প্রণালিতে কোনো সংঘাত হলে জাপানের ভূখণ্ডে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীও তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কারণে তাইওয়ান বিষয়ে জাপানের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির জোট এবং নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অন এশিয়ার গবেষক জন লিম বলেন, বড় ধরনের চীন-জাপান কূটনৈতিক সংকটে এবারই প্রথম তাইওয়ান স্পষ্টভাবে কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগের বিরোধগুলো সাধারণত ইতিহাস বা ভূখণ্ডগত বিষয় ঘিরে আবর্তিত হতো। তিনি তাকাইচির মন্তব্যকে "সংঘাত প্রতিরোধে স্পষ্ট অবস্থান" বলে বর্ণনা করেন, যার লক্ষ্য ছিল পূর্ণমাত্রার সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করে জাপানের সীমারেখা জানানো।

বিজ্ঞাপন

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

তাকাইচির মন্তব্যের সময়টি জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং প্রভাবশালী প্রয়াত নেতা শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তাকাইচি রক্ষণশীল কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ও রয়েছে। এসব অবস্থান বেইজিংকে উদ্বিগ্ন করেছে, তবে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন জাপানি ভোটারদের একাংশের সমর্থন পেয়েছে।

তাইওয়ান প্রশ্নে জাপানের জনমত বিভক্ত বলে মনে হচ্ছে। কূটনৈতিক বিরোধ শুরুর পর কিয়োদো সংবাদ সংস্থার এক জরিপে দেখা যায়, বেইজিং তাইওয়ানে হামলা চালালে জাপানের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের পক্ষে ৪৮.৮ শতাংশ উত্তরদাতা, বিপক্ষে ৪৪.২ শতাংশ। একই জরিপে ৬০.৪ শতাংশ তাকাইচির প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। এতে কূটনৈতিক মূল্য দিতে হলেও সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার পক্ষে ব্যাপক সমর্থনের ইঙ্গিত মেলে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংকটটি বিশ্লেষণ করেছেন। সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অব পাবলিক পলিসির সহকারী অধ্যাপক রিউ ইয়ংউক বলেন, এই বিরোধ "দেখিয়ে দেয় যে বেইজিং তাইওয়ান ইস্যু ছাড়তে পারে না, কারণ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক বৈধতা তাইওয়ান প্রশ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।" তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে বাইরের পক্ষের মন্তব্যে চীনের বিশেষভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ এটি ব্যাখ্যা করে।

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক কেই কোগা ব্যাখ্যা করেন, "তাইওয়ান নিয়ে বাইরের কোনো পক্ষের বক্তব্য চীনের কাছে প্রতিকূল মনে হলেই, বিশেষ করে উত্তেজনা বা সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে হলে, ওই পক্ষ কী কূটনৈতিক বার্তা দিতে চায় তা বিবেচনা না করেই চীন দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।" এ ধরনের আচরণ থেকে বোঝা যায়, চীনের প্রতিক্রিয়া শুধু লোকদেখানো ছিল না। তাইওয়ান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোন ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য, তার সীমা নির্ধারণ নিয়ে চীনের প্রকৃত কৌশলগত উদ্বেগও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই চীন তাকাইচিকে পরীক্ষা করে দেখছে। নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির ডিলান লো বলেন, "তার দায়িত্বকালের শুরুতে এবং তার অবস্থান এখনো বেশ স্থিতিশীল না হওয়ায় চীন মনে করছে যে সীমারেখা আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ তার রয়েছে।" এই দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্তমান বিরোধকে দুই আঞ্চলিক শক্তির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

বিজ্ঞাপন

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক প্রভাব

পরিস্থিতি নিয়ে অনেক প্রতিবেদনে তাইওয়ানের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া তেমন আলোচনায় আসেনি। কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা জাপানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ বাড়াতে এবং প্রতিবেশী দেশটির সমর্থনে আরও বেশি জাপানি পণ্য কিনতে আহ্বান জানান।

এক আইনসভা অধিবেশনে লিন বলেন, "চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বারবার অর্থনৈতিক ও সামরিক জবরদস্তি ব্যবহার করে অন্য দেশকে ভয় দেখিয়েছে।" তিনি চীনের পদক্ষেপকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটন ব্যবহারের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি এ আচরণকে "অসভ্য ও অগণতান্ত্রিক" বলে বর্ণনা করেন এবং তার ভাষায় "সংকটময় সময়ে" জাপানের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

তাইওয়ানের অবস্থান এ অঞ্চলের জটিল সমীকরণ তুলে ধরে। প্রভাব বিস্তারে চীন ও জাপান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাইওয়ান একদিকে বিরোধের বিষয়, অন্যদিকে জাপানের সম্ভাব্য অংশীদার। কয়েক দশকের বিনিময়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাপান ও তাইওয়ানের দৃঢ় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেও সহযোগিতার ভিত্তি জোগায়।

কূটনৈতিক সংকটটি অন্য আঞ্চলিক পক্ষ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও মনোযোগ কেড়েছে। জাপানের প্রধান নিরাপত্তা মিত্র যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান বিষয়ে নিজস্ব কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতি বজায় রেখেছে, যদিও জাপান ও তাইওয়ান—উভয়ের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশ তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের কাছে স্থিতাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক রিও সাহাশি বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে জাপানের মৌলিক অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও "প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে আলাদা করে তার স্পষ্টভাবে তাইওয়ানকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা এবং সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সম্ভাবনার জোরালো ইঙ্গিত দেওয়া।" তার মতে, এই সরাসরি পদ্ধতিতে বিদেশি পক্ষের সংবেদনশীলতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং জাপানের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধরনে নতুন সমন্বয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।

বিজ্ঞাপন

সামনে কী: সমাধানের সম্ভাব্য পথ

বর্তমান উত্তেজনা তীব্র হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন বা জাপান—কোনো দেশই সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়ুক তা চায় না। দুই দেশের অর্থনীতিই অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে, আর বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে উভয়ের জন্য লাভজনক করেছে। অতীতের অভিজ্ঞতাও বলছে, চীন-জাপান সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত সংলাপ আবার শুরু হয়।

জন লিম বলেন, "চীন-জাপান সম্পর্কের দোলক সব সময় সমঝোতা ও সংঘাতের মধ্যে দুলছে" এবং "ইতিহাস দেখায়, সবচেয়ে খারাপ সময়েও সংলাপ আবার শুরু হয়।" এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আশা করা যায়, বর্তমান সংকট একসময় কেটে যাবে, যদিও এর পর দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ বদলে যেতে পারে।

জাপান "দ্বিমুখী যোগাযোগের" পথ অনুসরণ করছে বলে মনে হচ্ছে। বেইজিংয়ে জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পাঠানোর পাশাপাশি মূল নিরাপত্তা ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখছে দেশটি। এ কৌশলের লক্ষ্য, নিজেদের নিরাপত্তাস্বার্থ ও সীমারেখা তুলে ধরার পাশাপাশি চীনকে আশ্বস্ত করা যে জাপান মৌলিকভাবে স্থিতাবস্থা বদলাতে চাইছে না।

চীনের পাল্টা ব্যবস্থার মেয়াদ ও তীব্রতা এখনো অনিশ্চিত। জেফরি জে. হলের মতে, "চীন সরকার মনে করবে যে জাপানকে যথেষ্ট শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তত দিন এটি চলতে পারে।" এতে বোঝা যায়, বেইজিং অর্থনৈতিক চাপকে অসন্তোষ জানানোর একটি হিসাবি হাতিয়ার হিসেবে দেখছে, নিজের লক্ষ্য হিসেবে নয়। এ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, চীনের প্রতিক্রিয়া এমন সীমার মধ্যেই থাকবে যাতে দেশটির নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ বা বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে না পড়ে।

জাপানের পর্যটনশিল্পের তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে পর্যটকের উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং চীনা পর্যটকেরা ফিরে এলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। সামগ্রিক পর্যটকের রেকর্ডসংখ্যা ইঙ্গিত দেয়, অন্য বাজার থেকে পর্যটক আকর্ষণে জাপান অগ্রগতি করেছে। ফলে কোনো একটি উৎসদেশে বিঘ্ন ঘটলে ঝুঁকি কমতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বৃহত্তর প্রভাবও তাৎপর্যপূর্ণ। চীন সামরিক আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে জাপান কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হলেও নিরাপত্তার সীমারেখা স্পষ্ট করার ওপর জোর দেওয়া তাকাইচির পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মূল কথা

  • তাইওয়ান নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধের কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাপানে চীনা পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজারে দাঁড়ায়।
  • পতন সত্ত্বেও ২০২৫ সালে জাপানে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ বিদেশি পর্যটক যান, যা ২০২৪ সালে গড়া ৩ কোটি ৭০ লাখের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
  • চীন তাইওয়ানে হামলা চালালে তা "অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি" হতে পারে এবং সামরিক জবাবের ন্যায্যতা তৈরি করতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করার পর কূটনৈতিক সংকট শুরু হয়।
  • চীন ভ্রমণ সতর্কতা জারি, শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা, জাপানি চলচ্চিত্রের মুক্তি স্থগিত, বিমান টিকিটের অর্থ ফেরত এবং জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানি বন্ধসহ বিভিন্ন পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।
  • ঘোষণাগুলোর পর জাপানের পর্যটন ও খুচরা ব্যবসার শেয়ারের দর দ্রুত কমে যায়; কিছু ডিপার্টমেন্ট স্টোর চেইনের মূল্য প্রায় ১২ শতাংশ পড়ে।
  • জাপানের বিদেশি পর্যটকের প্রায় ২৫ শতাংশ সাধারণত চীন থেকে আসেন এবং অন্য দেশের পর্যটকদের তুলনায় গড়ে ২২ শতাংশ বেশি খরচ করেন।
  • উত্তেজনা বাড়ায় দুই দেশই অন্য দেশের ভূখণ্ডে বসবাসরত নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।
  • সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাকাইচির স্পষ্টতর বক্তব্য সত্ত্বেও জাপান জানায়, তাইওয়ান বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষোভ ও ভূখণ্ডগত বিরোধসহ চীন ও জাপানের ঐতিহাসিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে চলেছে।
  • তাইওয়ান জাপানের প্রতি সংহতি জানায় এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপানি পর্যটন ও ব্যবসায় সহায়তা করতে উৎসাহিত করে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে