মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা: অর্থনৈতিক সুযোগ, নাকি পরিবেশগত ঝুঁকি?

পড়তে 20 মিনিট
মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা: অর্থনৈতিক সুযোগ, নাকি পরিবেশগত ঝুঁকি?

বিরল মৃত্তিকা নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়

বৈশ্বিক বিরল মৃত্তিকা উপাদান (REE) বাজারে মালয়েশিয়া নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এসব অপরিহার্য খনিজ নিয়ে তীব্রতর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রতিফলন এই কৌশলগত পদক্ষেপে দেখা যায়। আনুমানিক ১৬.২ মিলিয়ন টন বিরল মৃত্তিকার মজুত, যার মূল্য প্রায় RM747 billion ($160 billion), নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি পূর্ণাঙ্গ বিরল মৃত্তিকা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলে অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েছে। বিরল মৃত্তিকা উপাদান—১৭টি ধাতব উপাদানের একটি গোষ্ঠী, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু টারবাইন, স্মার্টফোন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও উন্নত ইলেকট্রনিকস তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এর বৈশ্বিক চাহিদা ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস, নিট-শূন্য নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা তিন গুণ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চার গুণ হবে।

সূচিপত্র
  1. বিরল মৃত্তিকা নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়
  2. ভূরাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ: প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব
  3. পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: পেরাক নদীর ঘটনা
  4. বন সংরক্ষিত এলাকা ঝুঁকিতে: জীববৈচিত্র্যের দ্বিধা
  5. ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার: বুকিত মেরাহর অভিজ্ঞতা
  6. প্রযুক্তি ও পদ্ধতি: আয়ন-শোষণকারী কাদামাটি খনন
  7. নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ: ফেডারেল ও রাজ্য পর্যায়ের টানাপোড়েন
  8. শিল্পসংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গি: টেকসই খননের সম্ভাবনা
  9. আন্তর্জাতিক তুলনা: বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
  10. সামনের পথ: অর্থনীতি ও পরিবেশের অগ্রাধিকারের ভারসাম্য
  11. বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ চিত্র
  12. মূল বিষয়গুলো

মালয়েশিয়া বিরল মৃত্তিকা শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো জরুরিভিত্তিতে চীনের বিকল্প খুঁজছে। বর্তমানে বৈশ্বিক বিরল মৃত্তিকা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণে চীনের আধিপত্য রয়েছে। বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার প্রায় ৭০% এবং পরিশোধিত ভারী বিরল মৃত্তিকা উপাদানের ১০০% চীনের নিয়ন্ত্রণে। এই প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য উল্লেখযোগ্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের বাণিজ্য বিরোধের সময় জাপানে বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি সাময়িকভাবে সীমিত করে এবং ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে সাতটি বিরল মৃত্তিকা উপাদানে আবার বিধিনিষেধ আরোপ করে চীন।

মালয়েশিয়ার কৌশলগত গুরুত্বের প্রমাণ দেশটির পাহাংয়ের গেবেংয়ে অবস্থিত Lynas Advanced Materials Plant (LAMP)—চীনের বাইরে একমাত্র শিল্প-পর্যায়ের বিরল মৃত্তিকা পৃথকীকরণ কারখানা। এই কারখানায় অস্ট্রেলিয়ার খনি থেকে আসা বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণ করে নিওডিমিয়াম-প্রাসিওডিমিয়াম (NdPr) ধাতব সংকর তৈরি করা হয়, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ু টারবাইনে ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করায় এবং পশ্চিমা দেশগুলো বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়তে তৎপর হওয়ায়, মালয়েশিয়া চীনা ও মার্কিন—উভয় অংশীদারের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থের সংযোগস্থলে এসে দাঁড়িয়েছে।

মালয়েশিয়া তার বিরল মৃত্তিকা শিল্প গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত বিরল মৃত্তিকা খনিজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, যাতে দেশে প্রক্রিয়াকরণ উৎসাহিত হয়। কাঁচামাল শুধু রপ্তানি না করে, মালয়েশিয়ার ভেতরে মূল্য সংযোজনমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলাই এ নীতির লক্ষ্য। দেশটির নতুন শিল্প মহাপরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩০,০০০ টন বিরল মৃত্তিকা উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ধারণা, শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া বছরে ৭০,০০০ টন পর্যন্ত বিরল মৃত্তিকা কার্বনেট উৎপাদন করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ভূরাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ: প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব

সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী বৈশ্বিক শক্তিগুলোর নজর কেড়েছে মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুয়ালালামপুর সফরের সময় মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তি সই করে। চুক্তিতে মালয়েশিয়ার অঙ্গীকার রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বা কোটা আরোপ করা হবে না এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছে বিরল মৃত্তিকার চুম্বক বিক্রিতেও কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। প্রতিরক্ষা ও উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদনে অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ এই চুক্তি।

একই সময়ে, আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যৌথ উদ্যোগে একটি শোধনাগার প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করছে মালয়েশিয়া। চীনের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল Khazanah Nasional একটি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা নির্মাণে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এই সম্ভাব্য অংশীদারত্ব চীনের নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে। শিল্পে আধিপত্য ধরে রাখতে চীন ঐতিহাসিকভাবে তার বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি রপ্তানি নিষিদ্ধ রেখেছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিনিময়ে চীন মালয়েশিয়ার অনাবিষ্কৃত বিরল মৃত্তিকা মজুতে প্রবেশাধিকার পাবে, যা অস্ট্রেলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী Lynas Rare Earths-এর প্রতিযোগিতা সীমিত করতে পারে।

দুই পক্ষের সঙ্গেই এই সম্পৃক্ততা মালয়েশিয়ার নিরপেক্ষ ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক বিরল মৃত্তিকা বাজারে এই অবস্থান দেশটির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বিরল মৃত্তিকা উৎপাদনের জন্য মালয়েশিয়ার উন্নত স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল ও দক্ষ কর্মীবাহিনীর কথা উল্লেখ করেন; ভারী বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণের ৯০%-এর বেশি সরঞ্জাম দেশেই তৈরি হয়। তবে নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতা বজায় রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তর্জাতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা মালয়েশিয়ার জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

অর্থনৈতিক স্বার্থও যথেষ্ট বড়। বিরল মৃত্তিকা উপাদান শুধু পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির জন্যই নয়, সোনার, নির্দেশনা ব্যবস্থা, বিকিরণ শনাক্তকরণ ও সংকেত বিবর্ধনসহ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি নজরদারি, নেভিগেশন ও হুমকি শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ায়। বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব খনিজে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রধান শক্তিগুলোর জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবর্তনশীল বিরল মৃত্তিকা ভূচিত্রে মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ: পেরাক নদীর ঘটনা

২০২৫ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় পরিবেশগত ধাক্কা লাগে। পশ্চিমাঞ্চলীয় পেরাক রাজ্যে বিরল মৃত্তিকা খনির একটি স্থান এবং দুটি টিনের খনির কার্যক্রম স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ওঠে, মালয়েশীয় উপদ্বীপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী পেরাকের একটি অংশ উজ্জ্বল নীল হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশমন্ত্রী জোহারি আবদুল ঘানি জানান, প্রাথমিক তদন্তে MCRE Resources Sdn Bhd পরিচালিত বিরল মৃত্তিকা খনিস্থলে এমন নিঃসরণের প্রমাণ মিলেছে, যার রং দূষিত নদীর পানির রঙের সঙ্গে মিলে যায়।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওই স্থানে বিকিরণের মাত্রা ১৩ বেকেরেলে পৌঁছেছিল। প্রকল্পের প্রাথমিক পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে অনুমোদিত সীমা ছিল ১ বেকেরেল—অর্থাৎ নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমার চেয়ে ১,২০০% বেশি। এই লঙ্ঘনের পর মালয়েশিয়ার দ্বিস্তরীয় নিয়মপালন ব্যবস্থার আওতায় তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ করা হয়; এ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা অতিক্রম করলেই অতিরিক্ত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ছাড়াই কার্যক্রম স্থগিত হয়। ঘটনাটি MCRE Resources-এর ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগ করে খনিজ আহরণের পদ্ধতির পরিবেশগত ঝুঁকি সামনে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনা বিরল মৃত্তিকা কোম্পানির সঙ্গে ভাগাভাগি করা প্রযুক্তি ব্যবহার করছিল।

“খনন প্রক্রিয়ায় কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা কর্তৃপক্ষকে জানানো তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তদন্ত এখন সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছে,” সংসদে বলেন জোহারি আবদুল ঘানি।

ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগ পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়াম সালফেট বা পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিডযুক্ত দ্রবণ আকরিকসমৃদ্ধ স্তরে সরাসরি প্রবেশ করানো হয়, যাতে বিরল মৃত্তিকা উপাদান দ্রবীভূত হয়; পরে তা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। উন্মুক্ত খনির তুলনায় এ পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠে ব্যাঘাত কম হলেও ভূগর্ভস্থ পানিদূষণ নিয়ে বড় উদ্বেগ রয়েছে। পেরাক নদীর ঘটনা দেখিয়েছে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও শোধন ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে, কিংবা কার্যক্রম নির্ধারিত পরিবেশগত মান না মানলে, পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি থাকে।

মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। বিরল মৃত্তিকা খনির কাছাকাছি এলাকার স্থানীয় জেলেরা পানির গুণমান ও মাছের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করার কথা জানিয়েছেন, যা উজানে দূষণের ইঙ্গিত দেয়। পরিবেশবাদীরা ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত হওয়া ও বন সংরক্ষিত এলাকার ওপর প্রভাবের আশঙ্কা তুলে ধরেছেন। MCRE-এর কার্যক্রম স্থগিত করা হয় বৃহত্তর নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ অভিযানের অংশ হিসেবে। এ অভিযানে বর্জ্যপানি নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত ক্ষয় ও পলি নিয়ন্ত্রণ এবং রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে দুটি টিন খনি কোম্পানিকেও লক্ষ্য করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বন সংরক্ষিত এলাকা ঝুঁকিতে: জীববৈচিত্র্যের দ্বিধা

মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা উন্নয়ন কৌশলে একটি বড় দ্বন্দ্ব হলো, সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মজুতগুলো কোথায় অবস্থিত। বিরল মৃত্তিকার সন্ধানের সম্ভাবনা বেশি—এমন শীর্ষ পাঁচ রাজ্য তেরেঙ্গানু, কেলান্তান, পেরাক, কেদাহ ও পাহাংয়ের মজুতের ৮০% পর্যন্ত স্থায়ী বন সংরক্ষিত এলাকার (PFRs) মধ্যে, যেখানে বর্তমানে খনন নিষিদ্ধ। তেরেঙ্গানুতে সবচেয়ে বেশি, ৭.১৯ মিলিয়ন টন (জাতীয় মোটের ৪৪.৪%) মজুত রয়েছে, যার ৭০% বন সংরক্ষিত এলাকায়। কেলান্তানে ২.৫৬ মিলিয়ন টন বিরল মৃত্তিকার (জাতীয় মোটের ১৫.৮%) বেশির ভাগই বন সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত বলে জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার ১৯৮৪ সালের জাতীয় বন আইনের আওতায় স্থায়ী বন সংরক্ষিত এলাকা সংরক্ষণ ও টেকসই বনায়নের জন্য নির্ধারিত। তবে আইনে বন সংরক্ষিত এলাকার কোনো অংশ থেকে সাময়িকভাবে সুরক্ষিত মর্যাদা প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে, যদি সেখানে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত খনিজ মজুত থাকে। শর্ত হলো, মালয়েশিয়ার ৫০% বনভূমি বজায় রাখার অঙ্গীকার রক্ষায় অন্য কোথাও সমপরিমাণ এলাকা বন হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। এ বিধান পরিবেশবাদীদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাঁদের যুক্তি, সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের জায়গায় অন্য কিছু বসালেই তা প্রতিস্থাপন হয় না; সুরক্ষিত এলাকা কমানোর বদলে তা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

Sahabat Alam Malaysia (Friends of the Earth Malaysia)-এর সভাপতি মীনাক্ষী রামন পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন: “পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা ও বাস্তুতন্ত্রের জায়গায় অন্য কিছু বসালেই তা প্রতিস্থাপন হয় না। সুরক্ষিত এলাকা কমানোর নয়, বরং বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।” তাঁর সংগঠন এমন একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে, যা ফেডারেল পর্যায়ে বাধ্যতামূলক হবে এবং আইনগতভাবে কার্যকর করা যাবে। এতে স্থায়ী বন সংরক্ষিত এলাকা, পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা, পানি সংগ্রহ এলাকা, জলাধার, জীববৈচিত্র্যের মূল অঞ্চল এবং আদিবাসীদের প্রথাগত ভূখণ্ডে বিরল মৃত্তিকা খনন স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

ফেডারেল সরকার সতর্কভাবে এগোচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশগত স্থায়িত্ববিষয়ক মন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আবদুল ঘানি আগস্টে বলেন, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর ফেডারেল পর্যায়ের চলমান গবেষণা শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী বন সংরক্ষিত এলাকায় বিরল মৃত্তিকা খননের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাঁচ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এ গবেষণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে খননের পূর্ববর্তী (২০২৪-২০২৫), খননকালীন (২০২৬-২০২৭) এবং খনন-পরবর্তী (২০২৮-২০২৯) পর্যায় অন্তর্ভুক্ত। এসব সুরক্ষা সত্ত্বেও অবৈধ খননের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হুলু পেরাকের বিংতাং হিজাউ বন সংরক্ষিত এলাকায় খনন কার্যক্রম রয়েছে, যেখানে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালায়।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার: বুকিত মেরাহর অভিজ্ঞতা

মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে রয়েছে পরিবেশবিষয়ক এক বেদনাদায়ক উত্তরাধিকার। থোরিয়ামযুক্ত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য অবৈধভাবে ফেলার কারণে ১৯৯৪ সালে পেরাকের বুকিত মেরাহয় বিরল মৃত্তিকা খনন বন্ধ করে দেওয়া হয়। থোরিয়ামের অর্ধায়ু প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। Mitsubishi Chemical ও একটি মালয়েশীয় কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ Asian Rare Earth (ARE) পরিচালিত কারখানাটি এশিয়ার বৃহত্তম তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পরিষ্কারকরণ প্রকল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়। স্থানীয় চিকিৎসকেরা জানান, কারখানা থেকে থোরিয়াম দূষণের ফলে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে লিউকেমিয়া, ফুসফুসের ক্যানসার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারসহ নানা রোগের ঘটনা বেড়েছিল।

বুকিত মেরাহর অভিজ্ঞতা বিরল মৃত্তিকা খনন সম্পর্কে মালয়েশিয়ার জনসচেতনতায় দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে ১৯৯২ সালে বন্ধ হওয়া পর্যন্ত চলা ওই প্রকল্পের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর পরিণতি নতুন বিরল মৃত্তিকা উদ্যোগ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে। এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিরল মৃত্তিকা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমান উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে, বিশেষ করে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে।

বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণের বিরোধী আমরা নই,” Lynas কারখানার বিরোধিতা করা নাগরিক গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তান বুন তিত বলেন। “আমরা শুধু অনুপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং বর্জ্য রাখার পদ্ধতির বিরোধিতা করছি।

তানের সংগঠন “Save Malaysia, Stop Lynas!” গেবেংয়ের Lynas Advanced Materials Plant-এর বিরোধিতায় সরব। তাদের উদ্বেগ, বিষাক্ত বর্জ্যপানি চুঁইয়ে ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশতে পারে এবং প্রতি শরতে জলাভূমিময় উপকূলে আছড়ে পড়া মৌসুমি বৃষ্টিতে বর্জ্য সংরক্ষণ পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারখানাটি কুয়ান্তান শহর থেকে মাত্র ১২ মাইল দূরে, ভরাট করা জলাভূমির ওপর একটি শিল্প এলাকায় অবস্থিত। শহরটির জনসংখ্যা ৬০০,০০০, ফলে জনবসতিপূর্ণ এলাকার নৈকট্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনা তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা বর্জ্য-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ে মালয়েশিয়ার জনসাধারণের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই পরিবেশসচেতনতা তেজস্ক্রিয় উপজাত তৈরি করে এমন যেকোনো বিরল মৃত্তিকা প্রকল্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তা থেকে যত অর্থনৈতিক সুবিধাই আসুক না কেন। অতীতের ভুল এড়িয়ে দায়িত্বশীল বিরল মৃত্তিকা শিল্প গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতির এই উত্তরাধিকার সামাল দিতে হবে মালয়েশিয়া সরকারকে।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তি ও পদ্ধতি: আয়ন-শোষণকারী কাদামাটি খনন

মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দেশটিতে কী ধরনের মজুত রয়েছে। মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্য আয়ন-শোষণকারী কাদামাটির (IAC) মজুত রয়েছে, যাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তির জন্য বিশেষভাবে মূল্যবান ভারী বিরল মৃত্তিকা উপাদান থাকে। খনিজভিত্তিক বিরল মৃত্তিকার শক্ত পাথরের খননে সাধারণত যথেষ্ট পরিমাণ তেজস্ক্রিয় থোরিয়াম থাকে; এর বিপরীতে আয়ন-শোষণকারী কাদামাটির মজুতে সাধারণত তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা কম। এই বৈশিষ্ট্য মালয়েশিয়াকে অন্য খনন পদ্ধতির তুলনায় সম্ভাব্যভাবে কম পরিবেশগত ঝুঁকিতে বিরল মৃত্তিকা শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ দেয়।

আয়ন-শোষণকারী কাদামাটি থেকে খনিজ আহরণে সাধারণত ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এতে কাদামাটিসমৃদ্ধ মাটিতে দ্রবণ প্রবেশ করিয়ে বিরল মৃত্তিকা উপাদান দ্রবীভূত করা হয়; পরে তা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। শিল্পসংশ্লিষ্টদের যুক্তি, ঐতিহ্যবাহী উন্মুক্ত খনির তুলনায় এ পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠে ব্যাঘাত কম হয় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর খনন পদ্ধতির প্রয়োজন এড়ানো যায়। রাজ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, কেরেনিংয়ের পেরাক পাইলট প্রকল্পে জলধাতুবিদ্যাভিত্তিক কারখানা নির্মাণের জন্য নির্ধারিত প্রকল্প এলাকার মাত্র ৪% পরিষ্কার করতে হয়েছিল।

কেরেনিং পাইলট প্রকল্পে ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া ও ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার গবেষণায় ১৯৮৪ সালের পারমাণবিক শক্তি লাইসেন্সিং আইনের আওতায় বিকিরণজনিত ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। তেজস্ক্রিয় পদার্থ-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে এই আইন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির গুণমান জাতীয় মানের মধ্যে রয়েছে এবং রাসায়নিক চুঁইয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ নেই। তবে এসব ফল পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। পরিবেশের ক্ষতি ঠেকাতে যথাযথ নিয়ম প্রয়োগ ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ হিসেবে তাঁরা সাম্প্রতিক পেরাক নদীর ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন।

খনিজবিদ্যা ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণায় বিশেষজ্ঞ ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া কেলান্তানের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল হাফিজ ইউসুফ বলেন, গবেষকেরা এমন পর্যবেক্ষণ পরীক্ষা তৈরি করছেন, যার মাধ্যমে প্রবেশ করানো রাসায়নিক নির্ধারিত এলাকার বাইরে চুঁইয়ে পড়ছে কি না, তা শনাক্ত করা যাবে। ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগ করে বিরল মৃত্তিকা খননের ক্ষেত্রে এটিই প্রধান পরিবেশগত উদ্বেগ: মাটিতে প্রবেশ করানো রাসায়নিক ভূগর্ভের পানির উৎসে চুঁইয়ে পড়ে ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করতে পারে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করবে। মালয়েশিয়া টেকসইভাবে বিরল মৃত্তিকা শিল্প গড়ে তুলতে পারবে কি না, তা নির্ধারণে এ ধরনের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিজ্ঞাপন

নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ: ফেডারেল ও রাজ্য পর্যায়ের টানাপোড়েন

মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা উন্নয়নে জটিল নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশটির ফেডারেল কাঠামোয় খনন কার্যক্রমের জন্য সাধারণত রাজ্য ও ফেডারেল—উভয় সরকারের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রক দায়িত্বের এই বিভাজনের ফলে বিভিন্ন রাজ্যে পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। রাজ্য সরকারগুলো রাজস্ব আয়ের চাপে সংরক্ষণের জন্য জমি ও বনকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে কম আগ্রহী হতে পারে, যা ফেডারেল পরিবেশগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।

Rural Consumers and Ecology of Malaysia-এর মহাসচিব এম. এস. আনুয়ার মাহমুদ পরিবেশগত আইন জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব, সুরক্ষিত এলাকায় বিরল মৃত্তিকা খনন নিষিদ্ধ করতে স্পষ্ট সংশোধনী আনতে হবে এবং ব্যতিক্রমের সুযোগ দেওয়া ফাঁকগুলো বন্ধ করতে হবে। সুরক্ষিত এলাকায় বিরল মৃত্তিকা খনন ও অনুসন্ধানে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞাকে আইনে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি Environmental Quality Act 1974, National Forestry Act এবং Town and Country Planning Act 1976 সংশোধনের পক্ষে। পাশাপাশি, ফেডারেল পর্যায়ে সমন্বিত এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ডিজিটাল মানচিত্রসহ একটি জাতীয় “নিষিদ্ধ এলাকা” তালিকা তৈরির সুপারিশ করেছেন তিনি।

বিভিন্ন রাজ্যে বিধি প্রয়োগের ভিন্নতা এই অসামঞ্জস্যের প্রতিফলন। কিছু রাজ্য পাইলট প্রকল্প ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও অন্যরা কঠোর পরিবেশ সুরক্ষা বজায় রেখেছে। এ নিয়ন্ত্রক খণ্ডিত ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারী ও পরিচালনাকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, পাশাপাশি দুর্বল প্রয়োগব্যবস্থার এলাকায় পরিবেশের অবনতি চলতে পারে। পেরাক নদীর ঘটনা যেমন অপর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রক নজরদারির পরিবেশগত ঝুঁকি দেখিয়েছে, তেমনি লঙ্ঘন হলে ফেডারেল সরকারের হস্তক্ষেপের সদিচ্ছাও প্রমাণ করেছে।

নিয়ন্ত্রক জটিলতা আরও বেড়েছে অপরিশোধিত বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি নিষিদ্ধ রাখার পাশাপাশি জাতীয় পরিচালনা ও লাইসেন্সিং নির্দেশিকা তৈরির লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পের জন্য ব্যতিক্রম রাখার নীতিতে। এতে সম্পদ সংরক্ষণ ও শিল্প উন্নয়নের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি তেংকু জাফরুল আবদুল আজিজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তি সইয়ের পরও দেশের সম্পদ সুরক্ষায় মালয়েশিয়া এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে। তবে বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা বিরল মৃত্তিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান।

বিজ্ঞাপন

শিল্পসংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিভঙ্গি: টেকসই খননের সম্ভাবনা

পরিবেশগত উদ্বেগ সত্ত্বেও শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রক নজরদারি থাকলে বন সংরক্ষিত এলাকার ভেতরেও নিরাপদ ও টেকসইভাবে খনন করা সম্ভব। তাঁদের মতে, সিদ্ধান্তহীনতা দীর্ঘায়িত হলে অগ্রগতি থেমে যাবে এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। পেশাদার ভূতত্ত্ববিদ এবং Malaysian Chamber of Mines-এর কারিগরি উপদেষ্টা তেও লে হক জোর দিয়ে বলেন, সব বনাঞ্চলের পরিবেশগত সংবেদনশীলতা সমান নয়। তাঁর মতে, কম পরিবেশগত মূল্যের এলাকায় ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগ ও কঠোর মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি ব্যবহার করে দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত খনন সংরক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি চলতে পারে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, বছরে ৭,০০০ টন বিরল মৃত্তিকা কার্বনেট উৎপাদনকারী একটি সাধারণ ভূগর্ভস্থ দ্রবণ-প্রয়োগ খনি প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমি জুড়ে থাকে, তবে ভূদৃশ্যে ভৌত ব্যাঘাত ন্যূনতম রাখে। থিতানোর ট্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর জন্য জমির ছোট ছোট অংশই শুধু পরিষ্কার করতে হয়। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৭০,০০০ টন বিরল মৃত্তিকা কার্বনেট উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন করলে দেশজুড়ে এ ধরনের প্রায় ১০টি খনি দরকার হবে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, কার্যক্রম যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুদ্ধার করা হলে এই হারে ২০ বছর উৎপাদনের পরও স্থায়ী বন সংরক্ষিত এলাকার মাত্র ০.০০৩% ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

টেকসই খনন প্রযুক্তির একটি পাইলট প্রকল্পে পেরাক সরকারের সঙ্গে কাজ করা Malaco Mining Sdn Bhd-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান দাতুক সিয়া হক কিয়াং যেকোনো কার্যক্রম শুরুর আগে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এমন পরিবেশগত বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পণ্য ও জমির অর্থনৈতিক ব্যবহারে ব্যাঘাত, ঢালের স্থিতিশীলতা, মাটির গুণমান, ভূগর্ভস্থ পানির গুণমান এবং উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল। গাছ না কেটে, ভূপৃষ্ঠ পরিষ্কার সীমিত রেখে এবং অ্যামোনিয়াম সালফেটের বদলে আরও পরিবেশবান্ধব দ্রবণকারী পদার্থ ব্যবহার করে বন বাস্তুতন্ত্রে ব্যাঘাত কমানোর প্রযুক্তি তৈরি করছে Malaco।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের গুরুত্বও তুলে ধরেন—অর্থাৎ কার্যক্রম চলাকালে বা শেষে উদ্ভিদ আচ্ছাদন ও পরিবেশগত কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা। পাশাপাশি, পানি, মাটি ও জীববৈচিত্র্যের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নজরে রাখতে পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন ও যাচাই ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধারাবাহিক নজরদারি চালানোর ওপর জোর দেন তাঁরা। তাঁদের মতে, তথ্য থেকে নতুন সমস্যা দেখা দিলে পরিচালনাকারীদের অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে, প্রয়োজনে কার্যক্রম বন্ধও করতে হবে, যাতে ক্ষতি ঠেকানো যায়। তাঁদের দাবি, যথাযথ প্রশমন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে পানি সংগ্রহের বনাঞ্চলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় খনন কার্যক্রম ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলেও সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক তুলনা: বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

বিরল মৃত্তিকা উন্নয়নে মালয়েশিয়ার পদ্ধতি ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে উপকৃত হতে পারে। বিরল মৃত্তিকা উৎপাদনে চীনের আধিপত্যের পেছনে রয়েছে বিপুল পরিবেশগত মূল্য। চীনের পানি সম্পদের ওপর বিরল মৃত্তিকা খনন ও পরিশোধনের প্রভাব নিয়ে ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ চীনের বিরল মৃত্তিকা পরিশোধন শিল্পের কেন্দ্রস্থল ডংজিয়াং নদী অববাহিকার একটি ছোট অংশে (<10%) দূষণ পরিষ্কারের ব্যয় আনুমানিক $314 million বলা হয়। ২০১৯ সালে চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে অবৈধ খনিস্থল পরিষ্কারে $5.5 billion ব্যয়ের হিসাব দেয়।

চীনের বৃহত্তম বিরল মৃত্তিকা প্রকল্প বায়ান ওবোতে পরিবেশের ব্যাপক ধ্বংস এক সতর্কবার্তা। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চলার পর সেখানে এখন ১১ বর্গকিলোমিটারের বর্জ্য পুকুর রয়েছে—নিউইয়র্ক শহরের সেন্ট্রাল পার্কের প্রায় তিন গুণ—যেখানে থোরিয়ামের ঘনত্ব বেশি এমন বিষাক্ত কাদা জমা আছে। চীনের স্টেট কাউন্সিল জানিয়েছে, বিরল মৃত্তিকা কার্যক্রমের কারণে পরিবেশগত সমস্যা “ক্রমেই গুরুতর” হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূপৃষ্ঠের উদ্ভিদে ব্যাপক ক্ষতি, মাটির ক্ষয়, দূষণ, অম্লতা বৃদ্ধি এবং খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া।

পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন এক মডেল দেখায়। খনি অস্ট্রেলিয়ায় হলেও কর সুবিধা পাওয়ায় Lynas Rare Earths সেখানে প্রক্রিয়াকরণ না করে মালয়েশিয়ায় করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশগত মান অনেক কঠোর। দেশটি এখন উন্নত পরিবেশ সুরক্ষাসহ নিজস্ব বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা গড়ছে। Iluka Resources পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় দেশের প্রথম বিরল মৃত্তিকা শোধনাগার নির্মাণ করছে, যা শূন্য তরল নিঃসরণ সুবিধা হিসেবে পরিচালিত হবে; অর্থাৎ কোনো পর্যায়েই পানি পরিবেশে ছাড়া হবে না।

এই ভিন্ন অভিজ্ঞতাগুলো টেকসই বিরল মৃত্তিকা উন্নয়নে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও প্রয়োগব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে। চীনের সাম্প্রতিক পরিবেশগত বিধিনিষেধ কঠোর করা এবং দূষণকারী কিছু পরিশোধন পদ্ধতি মিয়ানমারের মতো প্রতিবেশী দেশে সরিয়ে নেওয়া দেখায়, যথাযথ মান বজায় না থাকলে পরিবেশগত উদ্বেগ শিল্পকে অন্যত্র সরিয়ে দিতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রেখেও পরিবেশ রক্ষা করে এমন নিয়ন্ত্রক পদ্ধতি তৈরি করাই মালয়েশিয়ার চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

সামনের পথ: অর্থনীতি ও পরিবেশের অগ্রাধিকারের ভারসাম্য

বিরল মৃত্তিকা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এগোতে গিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া মালয়েশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। স্থানীয় বিরল মৃত্তিকা খনিজ কাজে লাগিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক কৌশল তৈরির পথে দেশটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আয়ন-শোষণকারী কাদামাটির মজুতে, যেখানে শক্ত পাথরের খনির তুলনায় তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের সমস্যা কম। ২০৩০ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ “খনি থেকে চুম্বক” মূল্য সংযোজন শৃঙ্খল গড়ে তোলার লক্ষ্য সরকারের। এটি অর্জিত হলে চীনের বাইরে সম্পূর্ণ বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতাসম্পন্ন অল্প কয়েকটি দেশের একটি হবে মালয়েশিয়া।

এই কৌশলে পরিবেশবাদী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী গোষ্ঠীর উদ্বেগের সমাধান করা জরুরি। পাহাংয়ে পস লানাইয়ের ওরাং আসলি পরিবারগুলো ২০১৯ সাল থেকে একটি বিরল মৃত্তিকা খনন প্রকল্পের বিরুদ্ধে লড়ছে। তাদের আশঙ্কা, প্রকল্পটি পানির প্রধান উৎস দূষিত করবে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্থানচ্যুত করা এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা বড় সামাজিক ঝুঁকি। অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শ এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে হবে।

বৃত্তাকার অর্থনীতির পদ্ধতি কিছু পরিবেশগত উদ্বেগ কমাতে পারে। বিরল মৃত্তিকা ও খনিজ প্রক্রিয়াকরণের অনেক উপজাত পুনর্ব্যবহার করে কৃষি ও নির্মাণসামগ্রীতে কাজে লাগানো যায়। এতে বর্জ্য কমে এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহার বাড়ে। পেরাকে Malaco Mining-এর ধারণার কার্যকারিতা প্রদর্শনের জন্য তৈরি পৃথকীকরণ কারখানায় ভিন্ন রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিরল মৃত্তিকা পৃথক করা হয়, যাতে কোনো কঠিন অবশিষ্টাংশ তৈরি হয় না। একমাত্র বর্জ্য হলো সার-দ্রবণ, যা মূল্যবান উপজাত হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এ ধরনের উদ্ভাবন আরও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির সম্ভাবনা দেখায়।

খনিস্থল থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত বিরল মৃত্তিকা উপাদানের গতিপথ অনুসরণ করার ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখছে মালয়েশিয়া। এতে যাচাই করা যাবে, উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণ আইনগত, নৈতিক এবং পরিবেশগত মান পূরণ করছে কি না। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জন্য তৈরি করা ব্যবস্থার অনুরূপ এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিক টেকসইতার প্রত্যাশা পূরণে মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা শিল্পকে সহায়তা করতে পারে। দায়িত্বশীল উৎস সংগ্রহ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোক্তা ও সরকারকে স্বচ্ছতাও দেবে এটি।

পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী বন সংরক্ষিত এলাকায় খনন নিষিদ্ধ রাখার ফেডারেল সরকারের সতর্ক অবস্থান পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতার প্রতিফলন। খননের পূর্ববর্তী, খননকালীন ও পরবর্তী পর্যায় অন্তর্ভুক্ত পাঁচ বছরব্যাপী গবেষণা নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের জন্য মূল্যবান তথ্য দেবে। এ পরিমিত গতিতে কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে দেরি হতে পারে, তবে এতে অপূরণীয় পরিবেশগত ক্ষতি এবং অন্যান্য সম্পদ উত্তোলন প্রকল্পে দেখা দেওয়া সামাজিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ চিত্র

মালয়েশিয়ার বিরল মৃত্তিকা উন্নয়নের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সামরিক ও উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যের পশ্চিমা উৎপাদন সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ অবস্থায় চীনের বাইরে প্রক্রিয়াজাত বিরল মৃত্তিকার কয়েকটি সম্ভাব্য বিকল্প উৎসের একটি মালয়েশিয়া। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খনন করা বিরল মৃত্তিকার ৯৫%-এর বেশি প্রক্রিয়াকরণের জন্য এশিয়ায় রপ্তানি হয়, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনার জরুরি প্রয়োজন তুলে ধরে।

তবে পূর্ণাঙ্গ বিরল মৃত্তিকা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে যথেষ্ট সময় লাগে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন খনি উন্নয়নে গড়ে ২৯ বছর সময় লাগে, আর গলন ও পরিশোধন প্রকল্পের অনুমতি ও লাইসেন্স পেতে গড়ে ৭-১০ বছর লাগে। সময়সীমা কমানো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব থাকলেও বৈশ্বিক বিরল মৃত্তিকা সরবরাহের গতিপ্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে মালয়েশিয়ার কয়েক বছর লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০,০০০ টন বিরল মৃত্তিকা উৎপাদনের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী, কারণ বর্তমান উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছাতে চীন ও Lynas-এর কয়েক দশক লেগেছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের অংশীদারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার মধ্যে সুযোগ ও ঝুঁকি, দুটোই রয়েছে। চীনা প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার মালয়েশিয়ার পরবর্তী ধাপের সক্ষমতা দ্রুত গড়ে তুলতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব পশ্চিমা বাজার ও বিনিয়োগমূলধনে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জড়িয়ে না পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থ সামলাতে কূটনৈতিক দক্ষতা ও স্পষ্ট কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি দরকার হবে।

মালয়েশিয়ার সাফল্যে পরিবেশগত কার্যক্রমের মান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি অংশীদারেরা সহযোগিতার পূর্বশর্ত হিসেবে পরিবেশগত কার্যক্রমের প্রমাণ ক্রমেই বেশি চাইছে। পেরাকে খনন কার্যক্রম সম্প্রতি স্থগিত করার ঘটনা দেখায়, প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব যা-ই হোক না কেন, নিয়ন্ত্রক বিধি প্রয়োগ তাৎক্ষণিক পরিচালনাগত ঝুঁকি তৈরি করে। এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ উন্নয়ন ধীর করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনকেন্দ্রিক (ESG) বিনিয়োগ কৌশলের জন্য মালয়েশিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পারে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ও উন্নত ইলেকট্রনিকসের চাহিদা বাড়ায় বৈশ্বিক বিরল মৃত্তিকা বাজারের প্রসার অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাব, বৈশ্বিক কার্বনমুক্তকরণ প্রচেষ্টার কারণে ২০৪০ সালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা চার গুণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ও সামাজিক মান পূরণ করে টেকসই বিরল মৃত্তিকা শিল্প গড়ে তুলতে পারা দেশগুলোর জন্য এই প্রবৃদ্ধি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে। এ উদ্যোগে মালয়েশিয়ার সাফল্য নির্ভর করবে অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সঙ্গে জাতীয় অগ্রাধিকারের ভারসাম্য রক্ষার ওপর।

মূল বিষয়গুলো

  • মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ১৬.২ মিলিয়ন টন বিরল মৃত্তিকার মজুত রয়েছে, যার মূল্য প্রায় RM747 billion; এর ৮০% পর্যন্ত স্থায়ী বন সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত
  • দেশটি দেশে প্রক্রিয়াকরণ উৎসাহিত করতে অপরিশোধিত বিরল মৃত্তিকা রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩০,০০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে
  • মালয়েশিয়ায় রয়েছে Lynas Advanced Materials Plant, যা চীনের বাইরে একমাত্র শিল্প-পর্যায়ের বিরল মৃত্তিকা পৃথকীকরণ কারখানা; ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনতে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে
  • ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিকিরণের মাত্রা নিরাপত্তা সীমার চেয়ে ১,২০০% বেশি হওয়া এবং দূষণে পেরাক নদীর পানি নীল হয়ে যাওয়ার পর মালয়েশিয়া বিরল মৃত্তিকা ও টিন খনির কার্যক্রম স্থগিত করে
  • ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আয়ন-শোষণকারী কাদামাটি খননে শক্ত পাথরের খনির তুলনায় পরিবেশগত ঝুঁকি কম হতে পারে, তবে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের উদ্বেগ রয়েছে
  • মহাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে নিরপেক্ষ ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন ঘটিয়ে মালয়েশিয়া একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল মৃত্তিকা অংশীদারত্বে যুক্ত রয়েছে
  • ১৯৯০-এর দশকে বুকিত মেরাহয় তেজস্ক্রিয় দূষণের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পরিবেশবাদীরা বন সংরক্ষিত এলাকা ও সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রে খননের বিরোধিতা করছেন
  • শিল্পসংশ্লিষ্টদের যুক্তি, যথাযথ প্রযুক্তি, নজরদারি ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে টেকসই খনন সম্ভব; ভূগর্ভস্থ স্থানে দ্রবণ প্রয়োগে ভূপৃষ্ঠে ব্যাঘাতও কম হয়
  • মালয়েশিয়ার ফেডারেল ও রাজ্য পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক কাঠামো বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে; বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষার বিধি প্রয়োগে অসামঞ্জস্য রয়েছে
  • বৈশ্বিক বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার প্রায় ৭০% বর্তমানে চীনের নিয়ন্ত্রণে, যা বাজারে আধিপত্যের পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি করছে; পশ্চিমা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজছে
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে